সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ খেয়াল করলেন, গালটা টান ধরেছে, ঠোঁটের কোণে ফাটা দাগ, হাতের চামড়া খসখসে। অথচ গতকালও সব ঠিকই ছিল। শীত এভাবেই আসে, নিঃশব্দে, আর প্রথম আঘাতটা করে আমাদের ত্বকেই।
এর পেছনে আছে সহজ বিজ্ঞান। শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে ত্বকের ভেতর থেকে পানি দ্রুত উবে যায়। ত্বকের ওপরের স্তর, অর্থাৎ স্কিন ব্যারিয়ার, দুর্বল হয়ে পড়ে। তখনই শুরু হয় শুষ্কতা, চুলকানি আর জ্বালা। সুখবর হলো, কয়েকটা ছোট অভ্যাসেই এই লড়াই জেতা যায়।
১. গোসলের পানি হোক হালকা গরম
শীতের সকালে গরম পানির লোভ সামলানো কঠিন। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে নিয়ে যায়। ত্বকবিজ্ঞানীরা তাই কুসুম গরম পানি আর ১০ মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করার পরামর্শ দেন।
২. গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার
ত্বক যখন সামান্য ভেজা থাকে, তখনই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা সবচেয়ে ভালো আটকে থাকে। কেনার সময় লেবেলে গ্লিসারিন, সিরামাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড আছে কি না দেখে নিন। পাতলা লোশনের চেয়ে ঘন ক্রিম শীতে বেশি কাজ করে।
৩. মুখ ধোয়ায় কোমল হোন
কড়া ফেসওয়াশ আর ঘন ঘন স্ক্রাব শীতের ত্বকের শত্রু। মুখ পরিষ্কার করুন মৃদু, সুগন্ধিহীন ক্লেনজারে। এক্সফোলিয়েশন করলে সপ্তাহে একবার বা দুবারের বেশি নয়।
৪. শীতেও সানস্ক্রিন ভুলবেন না
রোদ কম মানে ক্ষতি কম, ব্যাপারটা এমন নয়। UVA রশ্মি মেঘ ভেদ করেও ত্বকে পৌঁছায় এবং ধীরে ধীরে বয়সের ছাপ ফেলে। তাই দিনের শুরুতে SPF ৩০ বা তার বেশি মানের সানস্ক্রিন লাগান।
৫. ভেতর ও বাইরে, দুদিক থেকেই যত্ন নিন
ঘরের বাতাস খুব শুকনো হলে হিউমিডিফায়ার সাহায্য করতে পারে। ঠোঁটে লিপ বাম, হাতে ক্রিম রাখুন। প্রচুর পানি আর পুষ্টিকর খাবার সামগ্রিক সুস্থতার জন্য জরুরি, যদিও শুধু পানি পান করলেই ত্বকের শুষ্কতা কমে, এই প্রমাণ তুলনামূলক সীমিত। বাইরের যত্নটাই মূল কাজ।
আমরা অনেকেই ত্বকের যত্ন নিই তখন, যখন সমস্যা চোখে পড়ে। কিন্তু ত্বক কখনো আমাদের কাছে বিলাসিতা চায়নি, চেয়েছে একটু মনোযোগ। এই শীতে নিজের জন্য দিনে মাত্র পাঁচ মিনিট রাখুন। আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে বলুন, “আমি তোমার খেয়াল রাখছি।” যদি শুষ্কতা অসহ্য চুলকানি, লালচে ভাব বা ফাটা ঘায়ে রূপ নেয়, তাহলে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

