back to top
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৬, ২০২৬
HomeWellbeingPositive Thinkingনিজের জীবন নাকি অন্যের প্রত্যাশা? গবেষণা যা বলছে

নিজের জীবন নাকি অন্যের প্রত্যাশা? গবেষণা যা বলছে

একটা সহজ প্রশ্ন করি। তোমার এখনকার জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো, কোন সাবজেক্ট পড়বে, কোন চাকরি নেবে, কার সাথে সম্পর্কে যাবে, এগুলো কি সত্যিই তোমার নিজের চাওয়া থেকে এসেছে? নাকি কোথাও গিয়ে খেয়াল করলে দেখবে, এই সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে বাবা-মায়ের স্বপ্ন, সমাজের চোখ, বা বন্ধুদের তুলনার ছায়া লুকিয়ে আছে?

অনেকেই একটা সময় গিয়ে থমকে দাঁড়ায়, আর বুঝতে পারে, বছরের পর বছর তারা আসলে নিজের জীবন না, অন্য কারো লেখা স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করে এসেছে। ছোটবেলা থেকেই আমরা শিখি কোনটা ভালো, কোনটা গ্রহণযোগ্য, কোনটা প্রশংসার যোগ্য, পরিবার থেকে, সমাজ থেকে। এই শিক্ষাগুলো আমাদের আত্মমূল্যবোধ আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্যাটার্ন তৈরি করে দেয়, প্রায়ই আমরা টেরও পাই না।

সত্যিকারের নিজের মতো বাঁচা মানে কী

মনোবিজ্ঞানে এই বিষয়টাকে বলা হয় authenticity, যার মানে হলো নিজের কাজ, নিজের চিন্তা আর নিজের সত্যিকারের অনুভূতির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা। গবেষক ওয়েন্ডি উড এবং তার সহকর্মীদের তৈরি Authenticity Scale-এ এই ধারণাটাকে তিনটা অংশে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, নিজের অনুভূতি আর চিন্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা। দ্বিতীয়ত, সেই অনুভূতি অনুযায়ী আচরণ করা। আর তৃতীয়ত, অন্যের প্রত্যাশা মেনে চলার প্রবণতা কতটা, সেটা পরিমাপ করা।

২০২২ সালে Lutz এবং তার সহকর্মীদের একটা গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন নিয়মিত বাইরের প্রভাব মেনে নিতে বাধ্য বোধ করে, প্রতিদিনের ভিত্তিতে এবং দীর্ঘমেয়াদেও, তখন তার authenticity আর জীবন সন্তুষ্টি দুটোই কমে যায়। অর্থাৎ, বারবার নিজের সত্যিকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যের প্রত্যাশা মেনে চলাটা, ধীরে ধীরে ভেতর থেকে মানুষকে ফাঁপা করে দিতে পারে।

তবে পুরো গল্পটা এত সরল না

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা দরকার। Self-Determination Theory-র প্রবক্তা রায়ান ও ডেসির মতে, অন্যের প্রত্যাশা মেনে চলা মানেই তুমি নিজের সত্যিকার সত্তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছো, এমনটা সবসময় সত্যি না। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করা, সমাজে দায়বদ্ধ থাকা, এসবও একটা মানুষের মূল্যবোধের অংশ হতে পারে। পার্থক্যটা তৈরি হয় তখনই, যখন এই মেনে চলাটা আসে ভয় থেকে, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আতঙ্ক থেকে, নিজের সত্যিকার বিশ্বাস থেকে না।

তাহলে প্রশ্নটা এভাবে করাই ভালো, তুমি যা করছো সেটা কি সত্যিই তোমার মূল্যবোধের প্রতিফলন, নাকি শুধু অন্যকে খুশি রাখার একটা কৌশল?

নিজের দিকে ফিরে তাকানোর তিনটা উপায়

– নিজের সিদ্ধান্তগুলো একটু থেমে যাচাই করা, এটা কি আমি চাই, নাকি আমি চাই যে অন্যরা আমাকে নিয়ে গর্বিত হোক
– মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিন নেফের গবেষণা অনুযায়ী, নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, ভুল করলে নিজেকে দোষারোপ না করে বোঝার চেষ্টা করা
– ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা বিশ্বাসগুলোকে প্রশ্ন করা, যেগুলো এখনো নিজের মনে হলেও আসলে হয়তো অন্য কারো কণ্ঠস্বর

জীবনটা কার, সেই প্রশ্নের উত্তর একদিনে আসে না। এটা প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়। যে মুহূর্তে তুমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করো, এটা কি সত্যিই আমার চাওয়া, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই নিজের জীবনটা আবার নিজের হাতে ফিরে আসতে শুরু করে।বাকিটা শুধু সাহস আর সময়ের অপেক্ষা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular