রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
HomeInspirationSuccess Storyবিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ ইফতেখার সাফিনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ ইফতেখার সাফিনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প

কুয়ালালামপুরের World Trade Centre-এর মঞ্চে যখন বিচারকরা ঘোষণা করলেন চ্যাম্পিয়নের নাম, তখন হলভর্তি হাজারো মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি — একা, নিজের প্রজেক্ট নিয়ে, নিজের বিশ্বাস নিয়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়া ছাড়াই, কোনো সংগঠনের ব্যানার ছাড়াই। শুধু একটা আইডিয়া আর সেটা বাস্তবায়নের জেদ।

তিনি ইফতেখার সাফিন — জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত University Research & Innovation Investment Summit (URIIS) 2026-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত Student Biz Innov Challenge-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। মালয়েশিয়ার Ministry of Higher Education এবং Department of Higher Education-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সামিটে অংশ নিয়েছিল ২০টির বেশি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, আর মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল হাজারেরও বেশি — গবেষক, উদ্যোক্তা, ইনভেস্টর, ইন্ডাস্ট্রি লিডার, নীতিনির্ধারক, সবাই এক ছাদের নিচে।

এত বড় প্ল্যাটফর্মে বহু ধাপ পেরিয়ে সাফিন জায়গা করে নেন এশিয়ার সেরা তিন ফাইনালিস্টের একজন হিসেবে, এবং তার ভিত্তিতে পান fully funded অংশগ্রহণের সুযোগ। এরপর মঞ্চে একা দাঁড়িয়ে উপস্থাপন করেন নিজের প্রজেক্ট — আর জিতে নেন শিরোপা।

কী নিয়ে এই জয়?

তার প্রজেক্টের নাম “SkillBridge ISA” — একটি Income Share Architecture মডেল, যা শিক্ষা আর কর্মসংস্থানের মাঝের একটা পুরনো, প্রায় সব দেশেই দগদগে সমস্যাকে ছুঁয়েছে: প্রচলিত পড়াশোনা আর চাকরির বাজারে চাহিদা থাকা স্কিলের মধ্যেকার ফারাক, এবং মানসম্মত ট্রেনিং নেওয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকা আর্থিক বাধা।

মডেলটার সারকথা সহজ কিন্তু চিন্তাটা গভীর — শিক্ষার্থীকে আগে কোনো টাকা দিতে হবে না। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রয়োজনমতো ট্রেনিংয়ে ফান্ড দেবে, শিক্ষার্থী স্কিল শিখবে, চাকরি পাবে, আর তারপর সেই চাকরির আয় থেকে ধীরে ধীরে, সাধ্যমতো কিস্তিতে খরচ পরিশোধ করবে। আগে শেখা, তারপর চাকরি, তারপর আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পরিশোধ — এই তিন ধাপের চক্র। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটা এমনভাবে সাজানো যাতে বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়েই কম খরচে বড় পরিসরে চালানো যায় — ব্যয়বহুল কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ছাড়াই।

একজন শিক্ষার্থীর চোখে ধরা পড়া সমস্যা, যেটা আসলে লাখো তরুণের বাস্তবতা।

কেন এই গল্পটা গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য মেধাবী তরুণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সুযোগ খোঁজে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব, তথ্যের ঘাটতি বা আর্থিক জটিলতা। সাফিনের গল্পটা আলাদা এই জায়গায় — তিনি প্রমাণ করেছেন, সঠিক আইডিয়া আর সাহস থাকলে একা লড়েও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

একটা দেশের গল্প কখনো শুধু বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা নীতির মধ্য দিয়ে লেখা হয় না — লেখা হয় এমন কিছু তরুণের হাত ধরে, যারা নিজের চারপাশের সমস্যাকে সমাধানের ভাষায় রূপান্তরিত করতে সাহস করে। ইফতেখার সাফিন তেমনই একজন — যিনি কুয়ালালামপুরের মঞ্চে একা দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু ফিরেছেন লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে। আর তার হাতে ধরা ট্রফিটা শুধু তার একার অর্জন নয় — এটা একটা বার্তা, বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের জন্য: তোমার আইডিয়াটা যতই ছোট মনে হোক, বিশ্বমঞ্চে সেটার জায়গা থাকতে পারে, যদি তুমি সেটা নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস রাখো।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular