মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
HomeBusinessInnovationবিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জয়যাত্রা: NASA HERC 2027-এ নির্বাচিত BIRT, ইতিহাস গড়ার পথে তরুণ...

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জয়যাত্রা: NASA HERC 2027-এ নির্বাচিত BIRT, ইতিহাস গড়ার পথে তরুণ প্রকৌশলীরা

ভাবুন তো, রাত তিনটা। ল্যাবের টেবিলে ছড়ানো তার, নাট-বল্টু আর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা। কয়েকজন তরুণ একটা রোভারের চাকা নিয়ে তর্ক করছে। বাইরে ঢাকা ঘুমিয়ে, কিন্তু তাদের চোখ জেগে আছে হাজার মাইল দূরের একটা মাঠের দিকে, যেখানে চাঁদের মাটির আদলে বানানো এক বন্ধুর পথ তাদের অপেক্ষায়।

এই গল্প এখন আর শুধু কল্পনা নয়। NASA-র Human Exploration Rover Challenge (HERC) 2027-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে BIRT। আর এই খবরের ওজন বুঝতে হলে জানতে হবে HERC আসলে কী।

HERC আসলে কী?

HERC কোনো এক দিনের প্রতিযোগিতা নয়। এটা নয় মাস ধরে চলা একটা চ্যালেঞ্জ, যেখানে শিক্ষার্থীরা চাঁদের কঠিন ভূখণ্ড পাড়ি দিতে পারে এমন মানুষচালিত বা রিমোট-কন্ট্রোলড রোভার ডিজাইন ও তৈরি করে। শেষ পর্বটা হয় আমেরিকার আলাবামার হান্টসভিলে। ২০২৭ সালের আয়োজনের তারিখ ২১ থেকে ২৪ এপ্রিল, ভেন্যু U.S. Space & Rocket Center।

শুধু রোভার বানালেই হয় না। দলগুলোকে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তারপর NASA-র প্রকৌশলীদের সামনে একের পর এক ডিজাইন রিভিউ ও অপারেশনাল রেডিনেস রিভিউ পার করতে হয়। অর্থাৎ ওরা শুধু একটা গাড়ি বানায় না, NASA-র আসল মিশনের কাজের ধাঁচটাই হাতে-কলমে শেখে। আর রোভার তৈরি ও যাতায়াতের খরচ দলগুলোকে নিজেদেরই জোগাড় করতে হয়। তাই নির্বাচিত হওয়াটা যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বেরও।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতি

এই মঞ্চ বাংলাদেশের জন্য একদম নতুন নয়, আর সেটাই আশার জায়গা। ২০২৫ সালের ৩১তম আসরে ৩৫টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, ৩৮টি হাই স্কুল ও দুটি মিডল স্কুলের দল অংশ নিয়েছিল, এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো এবং আরও ১৬টি দেশ থেকে। সেখানে হিউম্যান-পাওয়ার্ড হাই স্কুল বিভাগে ইনজেনুইটি অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ঢাকার উত্তরার International Hope School Bangladesh। আর ২০২৬-২৭ মৌসুমেও রিমোট-কন্ট্রোল বিভাগে মোহাম্মদপুর, ঢাকার সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের তরুণরা এখন আর শুধু দর্শক নন। তাঁরা প্রতিযোগী, আর কখনো কখনো বিজয়ীও।

কেন এটা শুধু একটা প্রতিযোগিতা নয়

NASA নিজেই বলছে, এই চ্যালেঞ্জের উদ্দেশ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত নিয়ে পড়ার এবং ক্যারিয়ার গড়ার দিকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া। একটা দেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে তার তরুণেরা কী স্বপ্ন দেখতে সাহস পায় তার ওপর। আজ যে ছাত্রটি রোভারের ওয়েল্ডিং শিখছে, কাল সে হয়তো দেশের প্রথম মহাকাশ-প্রযুক্তি স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা। আজ যে মেয়েটি NASA-র প্যানেলের সামনে নিজের ডিজাইন বোঝাচ্ছে, কাল সে হয়তো পুরো একটা প্রজন্মের আদর্শ।

হান্টসভিলের মাঠে যেদিন BIRT-এর রোভার নামবে, সেদিন চাকার নিচের মাটি হবে আমেরিকার, কিন্তু পতাকাটা হবে লাল-সবুজের। জয়-পরাজয় তো পরের কথা। একসময় যারা ভাবত “আমাদের দিয়ে কি এসব হয়?”, এই দলটা তাদের সবার প্রশ্নের জবাব হয়ে দাঁড়াবে। চাঁদ অনেক দূরে, এ কথা সত্যি। কিন্তু প্রতিটা বড় যাত্রা শুরু হয় একটা ছোট চাকার ঘূর্ণি দিয়েই। বাংলাদেশের সেই চাকা ঘুরতে শুরু করেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular