back to top
বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
HomeBusinessEntrepreneurshipফেলে দেওয়া জিনিসেই লুকিয়ে আছে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা

ফেলে দেওয়া জিনিসেই লুকিয়ে আছে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা

ভোরের ঢাকা। ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আপনি, নাকে রুমাল চেপে। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন মানুষ সেই ডাস্টবিন থেকেই বোতল, কাগজ, টিন আলাদা করছেন। আপনার কাছে ওটা আবর্জনা। তাঁর কাছে ওটা সকালের রুটি।

একই জিনিস, দুজনের চোখে দুই রকম। আর ব্যবসার দুনিয়ায় সব বড় সুযোগ জন্ম নেয় ঠিক এই দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক থেকে।

সমস্যাটা কত বড়?

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ২০১ কোটি টন পৌর বর্জ্য তৈরি হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৩৪০ কোটি টনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) বলছে, বিশ্বে উৎপাদিত খাবারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট বা অপচয় হয়। অথচ একই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ রাতে ক্ষুধার্ত ঘুমোতে যায়।

আমাদের গার্মেন্টস খাতেও ছবিটা একই। কাপড় কাটার পর পড়ে থাকা টুকরো, যাকে বলে কাট-অফ, বছরে লাখ লাখ টন জমে। একটি প্রতিবেদনের হিসাবে এর পরিমাণ পাঁচ লাখের বেশি টন। এই পরিমাণ আমাদের চোখের সামনেই পড়ে থাকে।

যারা সমস্যাকে পণ্যে বদলে ফেলল

ইউকের Bio-bean ক্যাফে থেকে ফেলে দেওয়া কফির গুঁড়া সংগ্রহ করে তা থেকে জ্বালানি ও বায়োফুয়েল বানায়। আপনি যে কফি খেয়ে কাপ ফেলে দেন, তার তলানিতেও একটা শিল্প দাঁড়িয়ে গেছে।

Parley for the Oceans সমুদ্রে ভেসে আসা প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। Adidas সেই প্লাস্টিক দিয়ে জুতা বানিয়েছে, যা এখন একটি পরিচিত পণ্যধারা। এখানে বর্জ্যই ব্র্যান্ডের গল্প।

আমাদের নিজেদের Waste Concern ঢাকার জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির কমিউনিটি-ভিত্তিক মডেল দেখিয়েছে। শহরের জঞ্জাল কমেছে, কৃষক পেয়েছেন সার, আর কিছু মানুষের জন্য কর্মসংস্থান হয়েছে। একসঙ্গে তিনটি সমস্যার সমাধান।

বড় চিত্রটা কী বলছে?

Accenture-এর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী সার্কুলার ইকোনমি ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ বর্জ্যকে সম্পদ ভাবার এই প্রবণতা এখন একটি বিশাল বাজার।

এই গল্পগুলো আমাদের কী শেখায়?

১. সমস্যা মানেই অপূর্ণ চাহিদা। যেখানে মানুষ বিরক্ত, সেখানেই বাজার অপেক্ষা করছে।

২. ইমপ্যাক্ট আর প্রফিট বিপরীত নয়। যে ব্যবসা সমাজের সমস্যা সমাধান করে, তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রাহকের আনুগত্য দুটোই বেশি হয়।

৩. শুরু করতে বড় পুঁজি লাগে না, লাগে বড় প্রশ্ন। “এটা ফেলে দিচ্ছি কেন?” আর “এটা দিয়ে কার কী কাজ হতে পারে?” এই দুটো প্রশ্ন অনেক উদ্যোক্তার যাত্রার শুরু।

পৃথিবীর কোনো সমস্যাই চিরস্থায়ী অভিশাপ নয়। কারও জন্য সেটা বোঝা, কারও জন্য সুযোগ। পার্থক্যটা গড়ে দেয় একজন মানুষের দেখার চোখ।

পরের বার ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে গেলে একবার থামুন। ভাবুন, ওখানে কী পড়ে আছে, আর কে সেটাকে মূল্য দিতে শিখেছে। হয়তো আপনার পরের বড় আইডিয়াটা ওখানেই অপেক্ষা করছে। আপনি যদি আজ থেকে একটা সমস্যা বেছে নিতেন, সেটা কোনটা হতো?

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular