back to top
সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬
HomeProductivityPersonal Developmentসোশ্যাল মিডিয়া কি সত্যিই আমাদের সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

সোশ্যাল মিডিয়া কি সত্যিই আমাদের সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

শেষ কবে তুমি নিজের একটা আইডিয়া নিয়ে বসেছিলে, ফোন হাতের কাছে না রেখে? মনে করার চেষ্টা করো তো। বেশিরভাগ মানুষই এখন এই প্রশ্নের সামনে থমকে যায়। কারণ চিন্তা করার মাঝখানে হাত নিজে থেকেই ফোনের দিকে চলে যায়, স্ক্রল শুরু হয়, আর যে আইডিয়াটা মাথায় সবে জন্ম নিচ্ছিল, সেটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।

আমরা প্রতিদিন হাজারো মানুষের ছবি, ভিডিও, মতামত দেখি। মনে হতে পারে এত এত ইনপুট পেলে মাথায় নতুন আইডিয়া আরও বেশি আসার কথা। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো দিকেও যেতে পারে। প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়া কি সত্যিই আমাদের সৃজনশীলতা কেড়ে নিচ্ছে?

গবেষণা যা বলছে, উত্তরটা এত সোজা না

ইনফরমেশন সিস্টেমস রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় হাইলব্র্যান্ড ও তার সহকর্মীরা দেখেছেন, মানুষ যখন নিজের ডিজাইন করা পণ্য নিয়ে কমিউনিটির কাছ থেকে ফিডব্যাক পায়, তখন তাদের সৃজনশীলতা কমে যায়। কারণটা সহজ, অন্যরা কী পছন্দ করবে সেটা মাথায় রাখতে গিয়ে মানুষ নিজের অরিজিনাল চিন্তা থেকে সরে আসে, সবার পছন্দমতো নিরাপদ কিছু বানানোর দিকে ঝুঁকে পড়ে।

তবে পুরো ছবিটা এত একরঙা না। রচেস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখেছেন, মানুষ সাধারণত এমন মানুষদের ফলো করে যাদের আইডিয়া তার নিজের মতোই। ফলাফল, একই ধরনের চিন্তা বারবার ঘুরেফিরে আসে, নতুন কিছু ঢোকার জায়গা কমে যায়। গবেষকদের মতে, যদি প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের নিজের মতের কাছাকাছি মানুষের বদলে ভিন্ন চিন্তার মানুষদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিত, সৃজনশীলতা আসলে বাড়তেই পারত।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়, যেখানে দেখা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে সময় কাটানো হচ্ছে সেটাই আসল ফ্যাক্টর। শুধু স্ক্রল করা, মানে অন্যের কনটেন্ট দেখে যাওয়া, মনোযোগ আর নমনীয় চিন্তাভাবনাকে দুর্বল করে দেয়। কিন্তু যখন মানুষ নিজে কনটেন্ট বানায় বা অর্থপূর্ণভাবে আলাপে জড়ায়, তখন উল্টো ফল দেখা যায়, চিন্তাভাবনা আরও খোলে।

তাহলে সমস্যাটা আসলে কোথায়

সমস্যাটা সোশ্যাল মিডিয়া নিজে না। সমস্যা হলো আমরা কীভাবে সেটা ব্যবহার করছি। একটানা স্ক্রলিং মস্তিষ্ককে একটা প্যাসিভ মোডে ফেলে দেয়, যেখানে নিজের চিন্তা করার জায়গাটাই তৈরি হয় না। জেন জি জনগোষ্ঠীর ওপর করা একটা গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রলিং থেকে তৈরি হওয়া mind wandering বা মনোযোগ হারিয়ে ফেলার প্রবণতা, আসলে সৃজনশীল আউটপুটকে দুর্বল করে দিতে পারে।

আবার এটাও সত্যি, ধারণার বৈচিত্র্য যত বেশি হয়, সৃজনশীলতার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। ২০১৯ সালে আকার এবং তার সহকর্মীদের একটা গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটানো সময় সৃজনশীল কাজের মান বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যদিও পরিমাণের ওপর তেমন প্রভাব পড়ে না। অর্থাৎ, বেশি সময় কাটানোই সমস্যা না, কীভাবে সেই সময়টা কাজে লাগানো হচ্ছে সেটাই আসল বিষয়।

কী করলে সৃজনশীলতা বাঁচে

প্যাসিভ স্ক্রলিং কমিয়ে সক্রিয়ভাবে কিছু তৈরি করার চেষ্টা করা, নিজের মতের বাইরের মানুষদের ফলো করা, আর প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় ফোন ছাড়া একা চিন্তা করার জন্য রাখা, এই ছোট অভ্যাসগুলোই আসলে পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়া নিজে শত্রু না, বন্ধুও না। এটা একটা টুল, আর টুলের ফলাফল নির্ভর করে কে সেটা কীভাবে ব্যবহার করছে তার ওপর। তুমি যদি শুধু স্ক্রল করে যাও, তোমার মাথা একদিন খালি হয়ে যাবে। কিন্তু যদি নিজে থেকে কিছু তৈরি করো, নতুন চিন্তার মানুষের সাথে কথা বলো, আর মাঝে মাঝে ফোনটা রেখে একা বসে ভাবো, তাহলে এই একই প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে তোমার সৃজনশীলতার সবচেয়ে বড় সঙ্গী। পার্থক্যটা প্ল্যাটফর্মে না, তোমার অভ্যাসে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular