back to top
শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
HomeInspirationYouth Achieverমাত্র ১৪ বছরেই AI উদ্যোক্তা, বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় অফিস জয়নাম জৈনের!

মাত্র ১৪ বছরেই AI উদ্যোক্তা, বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় অফিস জয়নাম জৈনের!

কল্পনা করুন, সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার প্রথম চিন্তা হলো স্কুলের হোমওয়ার্ক। আর ঠিক একই সময়ে আরেকজন ১৪ বছরের কিশোর লিফটে উঠছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবনের ১৪১তম তলায়, নিজের অফিসে যাওয়ার জন্য। গল্পটা শুনতে সিনেমার মতো। কিন্তু এটা সিনেমা নয়।

কে এই জয়নাম?

জয়নাম জৈনের বয়স ১৪। তিনি মূলত পুনের ছেলে, পাঁচ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে পরিবারসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। আজ তিনি দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলার একটি অফিস থেকে নিজের AI স্টার্টআপ Mengo Engine চালান। এই প্রতিষ্ঠান ব্যবসাগুলোকে AI ব্যবহার করে মার্কেটিং করতে, বেশি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে এবং বড় হতে সাহায্য করে।

আমাদের অনেকের কাছে “উদ্যোক্তা” শব্দটা বড়দের শব্দ। আগে পড়াশোনা শেষ হবে, তারপর চাকরি, তারপর অভিজ্ঞতা, তারপর হয়তো একদিন নিজের কিছু। জয়নাম এই লাইনটাকেই উল্টে দিয়েছেন।

শুরুটা হয়েছিল ছয় বছর বয়সে

প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে একটি বিজনেস মিটিংয়ে গিয়েই তিনি প্রথম উদ্যোক্তাজীবনের স্বাদ পান। এরপর বোনকে নিয়ে শুরু করেন একটি ইউটিউব চ্যানেল, JJFuntime। সেই চ্যানেলের ফলোয়ার এখন দেড় লাখের কাছাকাছি।

একটু থামুন। ছয় বছরের একটা শিশু যখন মিটিং রুমে বসে সবকিছু অবাক হয়ে দেখছে, তখন সে হয়তো বুঝতেও পারেনি যে সে আসলে নিজের ভবিষ্যৎ দেখছে।

যে সংখ্যাগুলো থামিয়ে দেয়

গবেষণা করতে গিয়ে কয়েকটা তথ্য চোখে পড়ার মতো:

– তিনি দশম শ্রেণির পড়া শেষ করেছেন মাত্র ১০৫ দিনে।

– তাঁর দুটি পেটেন্ট আছে এবং আরও তিনটি আসছে বলে জানা যায়।

– তিনি TEDx-এ বক্তব্য দিয়েছেন এবং একটি বইও লিখেছেন।

– নিজেকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি ভারতজুড়ে ঘুরে মানুষের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়েছেন, ৫০টি বই পড়েছেন এবং ৫০টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন।

– ২০২৪ সালে পেয়েছেন জৈন বাল রত্ন, ২০২৫ সালে ন্যাশনাল ইয়াং অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড।

এখানে একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার। এই তথ্যগুলোর বেশিরভাগই মিডিয়া সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদনভিত্তিক। তবু প্রতিটি প্রতিবেদনেই একটা জিনিস বারবার ফিরে আসে, সেটা হলো ধারাবাহিকতা।

আসল গল্প অফিস নয়

বুর্জ খলিফার ঠিকানা চোখ ধাঁধায়। কিন্তু যারা জয়নামের গল্প শেয়ার করছেন, তাঁদের অনেকেই একই কথা বলছেন। অফিসের চেয়ে বড় ব্যাপার হলো তাঁর অভ্যাস: বই পড়া, মানুষের সঙ্গে দেখা করা, নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া।

আর এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছেন। এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় শিক্ষা। স্বপ্ন দেখা মানে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া নয়। স্বপ্ন আর শেখা একসঙ্গেই হাঁটে।

আপনার জন্য প্রশ্ন

আমরা প্রায়ই বলি, “আমি এখনো প্রস্তুত নই।” আরেকটু অভিজ্ঞতা হোক, আরেকটা ডিগ্রি হোক, আরেকটু টাকা জমুক, তারপর শুরু করব। জয়নাম সেই অপেক্ষা করেননি। যিনি তাঁর গল্প শেয়ার করেছিলেন, তিনিও লিখেছিলেন যে সবচেয়ে বড় সুবিধা বয়স নয়, শুরু করা।

সবাই বুর্জ খলিফায় অফিস নেবে না, সেটা জরুরিও নয়। কিন্তু প্রত্যেকের একটা “১৪১তম তলা” আছে। সেটা একটা ব্যবসা হতে পারে, একটা দক্ষতা হতে পারে, কিংবা এমন একটা কাজ যা আপনি এতদিন “পরে করব” বলে সরিয়ে রেখেছেন। সিঁড়ির প্রথম ধাপটা যে ১৪ বছরের একজন কিশোরও পেরোতে পারে, সেটা জানার পর আপনার বাহানা কি এখনো টিকবে? আজ কোন কাজটা আপনি শুরু করবেন?

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular