মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
HomeWellbeingMental Healthঅতিরিক্ত ভাবনা কেন থামে না? মনোবিজ্ঞান যা বলছে

অতিরিক্ত ভাবনা কেন থামে না? মনোবিজ্ঞান যা বলছে

একটা ছোট মেসেজ পাঠিয়েছ, রিপ্লাই আসছে না। মাথায় শুরু হয়ে গেছে হাজারো সম্ভাবনা, রাগ করলো নাকি, ভুল কিছু বললাম নাকি, সম্পর্কটা ঠিক আছে তো। অথচ আসল কারণ হয়তো, ওপাশের মানুষটা শুধু ব্যস্ত ছিল। তুমি জানো এটা অতিরিক্ত ভাবনা, তবুও থামাতে পারো না। কেন?

কারণ মস্তিষ্ক তোমাকে ইচ্ছা করে কষ্ট দিচ্ছে না, ও শুধু তার পুরনো একটা কাজ করছে, বিপদ খুঁজে বের করা। সমস্যা হলো, সেই সিস্টেমটা তৈরি হয়েছিল বাঘ থেকে বাঁচার জন্য, একটা না-পড়া মেসেজ থেকে বাঁচার জন্য না। তবুও মস্তিষ্ক দুটোকেই প্রায় একইভাবে ট্রিট করে।

Psychologist Susan Nolen-Hoeksema, যিনি overthinking নিয়ে বছরের পর বছর গবেষণা করেছেন, দেখিয়েছেন rumination আসলে মস্তিষ্কের একটা ভুল বোঝা প্রচেষ্টা, সমস্যাটাকে বারবার চিন্তা করলে সমাধান পাওয়া যাবে, এই ভুল বিশ্বাস থেকেই এটা তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবে বারবার একই চিন্তা ঘোরানো সমাধান আনে না, বরং উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। চলো দেখি, মস্তিষ্ক ঠিক কীভাবে আমাদের এই ফাঁদে ফেলে, আর সেখান থেকে বের হওয়ার উপায় কী।

Threat Detection সিস্টেম সবসময় সজাগ

মস্তিষ্কের amygdala নামের অংশটা বিপদ খুঁজে বের করার কাজ করে, আর এটা সত্যি বিপদ আর কল্পিত বিপদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য করে না। একটা কঠিন ইমেইল লেখার চিন্তাও, শারীরিক বিপদের মতোই প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তাই অতিরিক্ত ভাবনা আসলে দুর্বলতা না, এটা একটা বেশি সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

অনিশ্চয়তা মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় শত্রু

মস্তিষ্ক নিশ্চয়তা পছন্দ করে, অনিশ্চয়তা তার কাছে বিপজ্জনক মনে হয়। তাই যখন কোনো পরিস্থিতির ফলাফল অজানা থাকে, মস্তিষ্ক বারবার সম্ভাব্য সবগুলো দৃশ্য কল্পনা করে, যেন একটাতে গিয়ে হলেও প্রস্তুতি নেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়াটাই বাইরে থেকে দেখতে লাগে “অতিরিক্ত ভাবনা”।

চিন্তাকে সমাধান ভেবে ভুল করা

Overthinking-এর সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো, মনে হয় যেন চিন্তা করাটাই কিছু একটা করা। কিন্তু গবেষণা বলছে, চিন্তা আর কাজ, এই দুইয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। একটা সমস্যা নিয়ে একবার পরিকল্পনা করা useful, কিন্তু সেই একই চিন্তা বিশবার ঘোরানো শুধু ক্লান্তি বাড়ায়, সমাধান আনে না।

শরীর প্রথমে প্রতিক্রিয়া দেখায়, মন পরে গল্প বানায়

অনেক সময় শরীরে প্রথমে টেনশনের অনুভূতি আসে, আর তারপর মন সেই অনুভূতির একটা ব্যাখ্যা খুঁজে বের করে, যেটা প্রায়ই negative হয়। তাই যখন উদ্বেগ লাগে, প্রশ্ন করা দরকার, এটা কি সত্যিই পরিস্থিতির কারণে, নাকি শরীর শুধু ক্লান্ত বা ঘুম কম হয়েছে।

এখানে যা করা যায়

চিন্তাটাকে কাগজে লিখে ফেলা, মাথায় ঘোরানোর বদলে, মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে বিষয়টা সামলানো হচ্ছে। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া, “এই বিষয়ে ৫ মিনিট ভাবব, তারপর থামব”, rumination-এর চক্র ভেঙে দিতে সাহায্য করে। আর শরীরকে শান্ত করা, গভীর শ্বাস, ছোট হাঁটা, মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় যে আপাতত কোনো real বিপদ নেই।

তুমি অতিরিক্ত ভাবো না কারণ তুমি দুর্বল, ভাবো কারণ তোমার মস্তিষ্ক তোমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, শুধু ভুল পদ্ধতিতে। পরের বার যখন একই চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকবে, নিজেকে বলো, এটা বিপদ না, এটা শুধু একটা পুরনো সিস্টেম, যেটা এখনো শিখছে কখন থামতে হয়। আর সেই থামাটা শেখানোর দায়িত্ব, তোমার হাতেই।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular