back to top
রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
HomeWellbeingNutritionসকালের নাশতা এড়িয়ে যাওয়া কেন হজমের জন্য ক্ষতিকর!

সকালের নাশতা এড়িয়ে যাওয়া কেন হজমের জন্য ক্ষতিকর!

অনেকেই ব্যস্ততার কারণে কিংবা দ্রুত ওজন কমানোর আশায় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবলাটি—সকালের নাশতা—এড়িয়ে চলেন। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও হজমবিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য মোটেও উপকারী নয়। বরং নিয়মিত নাশতা বাদ দেওয়ার ফলে শরীরে এমন কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যা দীর্ঘমেয়াদে হজমব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

কেন নাশতা জরুরি এবং কীভাবে এটা হজমের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে:

১. বিপাকক্রিয়া (Metabolism) ধীর হয়ে যায়

সকালের নাশতা শরীরকে দিনের প্রথম “ফুয়েল” দেয়। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার জন্য খাবারের প্রয়োজন হয়।
নাশতা বাদ দিলে মেটাবলিজম স্লো হয়ে যায়, ফলে:

  • শরীর ক্যালরি পোড়াতে কম সক্ষম হয়

  • এনার্জির ঘাটতি তৈরি হয়

  • ওজন কমাতে চাইলেও বিপরীত ফল দেখা যায়

নিউট্রিশন জার্নালের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত নাশতা খাওয়া মানুষের মেটাবলিজম ১০–১৫% বেশি সক্রিয় থাকে।

২. পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয়

রাতে দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকার পর সকালে পাকস্থলী খাবারের অপেক্ষায় থাকে।
যখন খাবার পাওয়া যায় না, তখন অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয়ে অস্বস্তি, গ্যাস, বুকজ্বালা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

দীর্ঘমেয়াদে এটি:

  • গ্যাস্ট্রাইটিস

  • অ্যাসিড রিফ্লাক্স

  • আলসার

এর ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. অন্ত্রের স্বাস্থ্য খারাপ হয়

আমাদের অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া খাবার থেকে ফাইবার ও পুষ্টি গ্রহণ করে সক্রিয় থাকে। নাশতা বাদ দিলে:

  • গাট মাইক্রোবায়োটা ভারসাম্য নষ্ট হয়

  • হজম ধীর হয়ে যায়

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে

এছাড়া নিয়মিত খাবার না পেলে অন্ত্রের গতিবিধি (গাট মোটিলিটি) কমে যায়, যা হজমকে আরও জটিল করে তোলে।

৪. দিনের পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে

নাশতা না করলে শরীর দুপুরে “এনার্জি ক্রাইসিসে” পড়ে এবং মস্তিষ্ক দ্রুত ক্যালরি নেওয়ার সংকেত দেয়। ফলে দুপুরের খাবারে আপনি:

  • বেশি ভাত

  • বেশি তেল

  • বেশি পরিমাণে খাবার

খেয়ে ফেলেন।

এতে শুধু ওজন বাড়ে না, বরং হজমব্যবস্থার উপর হঠাৎ চাপ পড়ে, যা ফাঁপা ভাব, বদহজম ও ক্লান্তি বাড়ায়।

৫. এনার্জি, মনোযোগ ও মুড — সবখানেই প্রভাব পড়ে

খালি পেটে অফিস বা ক্লাসে গেলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত গ্লুকোজ পৌঁছায় না।
ফলে দেখা যায়:

  • মনোযোগ কমে যায়

  • ঝিমুনি আসে

  • মুড খারাপ থাকে

  • স্ট্রেস বাড়ে

হজম এবং মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আছে (gut-brain axis), তাই দুই জায়গাতেই প্রভাব পড়ে।

৬. ওজন কমানোর চেষ্টা উল্টো ক্ষতি করতে পারে

অনেকে ওজন কমানোর ইচ্ছায় নাশতা বাদ দেন। গবেষণা দেখায়:

  • নাশতা বাদ দিলে শরীর “স্টারভেশন মোড”-এ যায়

  • ক্যালরি বার্ন কমে

  • ফ্যাট স্টোরেজ বাড়ে

  • বিকেলে ও রাতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়

ফলে ওজন কমানোর বদলে ওজন বাড়তে শুরু করে।

তাহলে সকালের নাশতা কেমন হওয়া উচিত?

পাকস্থলী বন্ধ না করে বরং সকালের নাশতা হওয়া উচিত হালকা, পুষ্টিকর এবং ব্যালান্সড।

সেরা নাশতা আইডিয়া 

  • ওটস + কলা + দই

  • ডিম + সবজি + ১–২ স্লাইস ব্রাউন ব্রেড

  • ডাল + ভেজিটেবল উপমা

  • মুড়ি + দুধ + বাদাম

  • খিচুড়ি + ডিম

  • সেমাই + ডিম

নাশতা করার উপকারিতা 

  • হজম শক্তিশালী হয়

  • গ্যাস/অ্যাসিডিটি কমে

  • মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে

  • সারাদিন মনোযোগ ভালো থাকে

  • ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়

  • শরীর ও মস্তিষ্কে এনার্জি বজায় থাকে

সকালের নাশতা শুধু একটি খাবার নয়—এটি আমাদের হজমস্বাস্থ্য, এনার্জি লেভেল, মানসিক স্থিতি এবং সারাদিনের কর্মক্ষমতার ভিত্তি।
ব্যস্ততা যতই থাকুক, নাশতা বাদ দেওয়া আসলে নিজের শরীরকে দিনের শুরুতেই দুর্বল করে দেওয়া।

দিনটা ভালোভাবে শুরু করতে চাইলে—নিজেকে ১০ মিনিট দিন, একটি পুষ্টিকর নাশতা খান।
আপনার শরীর ও মন—দুটোই ভালো থাকবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular