শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
HomeBusinessTechnologyসৃজনশীলতার নতুন দিগন্তে AI: প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন,...

সৃজনশীলতার নতুন দিগন্তে AI: প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন, এবার বিজয়ীদের অপেক্ষা!

ধরুন, রাত দুটো। ঢাকার কোনো একটা ফ্ল্যাটে এক তরুণ ল্যাপটপের সামনে বসে আছে। স্ক্রিনে একই দৃশ্য সে বিশ বার বদলেছে। আলো ঠিক হচ্ছে না, গল্পটা যেন কোথাও আটকে যাচ্ছে। পরিবার ভাবছে সে “কম্পিউটারে সময় নষ্ট করছে”। কিন্তু সে জানে, সে একটা গল্প বলছে।

প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এই মানুষগুলোর জন্যই। আর এখন চূড়ান্ত বিচার শেষ। এবার অপেক্ষা বিজয়ীদের নাম শোনার।

শুরুটা যেভাবে

১২ আগস্ট ঢাকার বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সদর দপ্তরে প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধন হয়। এটি এআই-নির্ভর কনটেন্ট নির্মাতাদের জাতীয় প্রতিযোগিতা, স্পনসর করেছে প্রাণ-আরএফএল, আয়োজনে স্পাইকস্টোরি লিমিটেড। লক্ষ্য ছিল তরুণদের এমন একটা মঞ্চ দেওয়া, যেখানে তারা এই প্রযুক্তি দিয়ে সৃজনশীলতা ও গল্প বলার দক্ষতা গড়তে পারে।

প্রতিযোগিতা ছিল চারটি ক্যাটাগরিতে: এআই বিজ্ঞাপন, ফিল্ম, মিউজিক ভিডিও ও ফ্যাশন। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন করে, মোট ৪৮ জন ফাইনালিস্ট উঠে এসেছেন। তাঁরা দুই দিনের প্রিজম এআই বুটক্যাম্পে এআই টুলস, ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি, গল্প বলা ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। অর্থাৎ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, শেখারও একটা যাত্রা।

এআই কি সৃজনশীলতা কেড়ে নিচ্ছে?

এই প্রশ্ন আজ সবার মুখে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে পুরস্কারের মাপকাঠি দেখলে উত্তরটা আলাদা দেখায়। ২০২৬-এ কান লায়ন্সে বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে: প্রশ্নটা এখন আর “এআই ব্যবহার হয়েছে কি না” নয়, বরং এআই কতটা অবিচ্ছেদ্য ছিল তার প্রমাণ। জেনারেটিভ এআই মূল্যায়ন হয় মানুষের ক্রিয়েটিভ ডিরেকশনের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে, নতুনত্বের চমকে নয়। টোকিওর একটি এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডও একই কথা বলছে। সেখানে দেখা হয় এআই-এর হঠাৎ পাওয়া ফলাফল নয়, নির্মাতার ইচ্ছা ও সচেতন শ্রম।

মানে যন্ত্র ছবি বানায়, কিন্তু কোন ছবি বলার যোগ্য, সেটা ঠিক করে মানুষ। রুচি, দৃষ্টিভঙ্গি আর সিদ্ধান্তের জায়গাটা এখনো আমাদের হাতে। প্রিজম-এর ফাইনালিস্টরা ঠিক এই কাজটাই করেছেন।

চূড়ান্ত বিচারের দিন

[জুরি প্যানেলের পরিচয়, বিচারের তারিখ ও স্থান এখানে বসান।] চারটি ক্যাটাগরির সেরা কাজগুলো পাশাপাশি রেখে বিচার করা সহজ ছিল না। [বিচারকদের কোনো মন্তব্য থাকলে এখানে যোগ করুন।] বিচারকদের সামনে প্রশ্ন ছিল একটাই: কোন কাজটা শুধু প্রযুক্তির দক্ষতা দেখায়, আর কোনটা সত্যিই কিছু অনুভব করায়?

এখন শুধু অপেক্ষা

প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ সামিট ও অ্যাওয়ার্ড সেরেমনিতে ঘোষণা হবে বিজয়ীদের নাম। [অনুষ্ঠানের তারিখ ও ভেন্যু এখানে বসান।] সেখানে থাকবেন এআই, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের মানুষেরা।

৪৮ জনের মধ্যে ট্রফি হয়তো কয়েকজনই পাবেন। কিন্তু প্রতিটা ফাইনালিস্ট ইতিমধ্যে এমন কিছু করেছেন, যা কয়েক বছর আগে এই দেশে অকল্পনীয় ছিল। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, গল্প বলার জন্য বড় স্টুডিও লাগে না, লাগে একটা সাহসী ভাবনা। সেই রাত দুটোর তরুণটা এখন আর একা নয়। পুরস্কার যার হাতেই উঠুক, আমরা একটা নতুন প্রজন্মকে সৃষ্টি করতে দেখছি। আর সেটাই আসল বিজয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular