এআই এখন শুধু প্রযুক্তির খবর নয়, এটা এখন সৃজনশীলতারও নতুন ভাষা। বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে মিউজিক ভিডিও, ফ্যাশন থেকে ফিল্ম—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই বদলে দিচ্ছে গল্প বলার ধরন। আর এই বদলের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করতেই শুরু হলো দেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের এআই ক্রিয়েটিভ প্রতিযোগিতা—‘প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’।
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল। বুধবার রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

কেন এই আয়োজন
অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত সৃজনশীল শিল্পের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। বিজ্ঞাপন, অ্যানিমেশন, মিউজিক ভিডিও থেকে ফ্যাশন—সৃজনশীলতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন এআই সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণদের এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা এবং দেশের সম্ভাবনাময় এআই ক্রিয়েটরদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।
স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হোসাইন আল ফারাবী বলেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা এমন তরুণদের খুঁজে বের করতে চান যারা এআই ব্যবহার করে নতুন ও সৃজনশীল কিছু তৈরি করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তরুণ ক্রিয়েটর, পেশাজীবী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে গড়ে উঠবে একটি এআই ক্রিয়েটর কমিউনিটি।

কীভাবে অংশ নেবেন
আগ্রহীদের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে prismaicreativeawards.com ওয়েবসাইটে। প্রতিযোগিতায় চারটি বিভাগে কাজ জমা দেওয়া যাবে:
- এআই বিজ্ঞাপন
- শর্টফিল্ম
- মিউজিক ভিডিও
- ফ্যাশন
শুধু প্রতিযোগিতা নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে বিশেষ কর্মশালা, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্টোরিটেলিংসহ এআইভিত্তিক সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাণে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পাবেন।
ফাইনাল পর্যন্ত যাত্রা
প্রাথমিক বাছাই শেষে প্রতিটি বিভাগ থেকে বাছাই করা হবে ১২ জন করে ফাইনালিস্ট। তাদের জন্য থাকবে দুই দিনের বিশেষ ‘প্রিজম এআই বুটক্যাম্প’, যেখানে এআই টুলস, ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি, স্টোরিটেলিং ও প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন ফাইনালিস্টরা।
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ সামিট’ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, যেখানে একই মঞ্চে যুক্ত হবেন এআই, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের বিভিন্ন অংশীজন। প্রতিটি বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীসহ বিজয়ীদের জন্য থাকছে সর্বমোট ১০ লাখ টাকা নগদ পুরস্কারসহ আকর্ষণীয় সব পুরস্কার।
যারা পাশে আছেন
প্রতিযোগিতার সহযোগিতায় রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার, সিবস সল্যুশন, আস্থা আইটি, টেন মিনিট স্কুল, মেরুন ইনকরপোরেশন, এলেফ গ্রুপ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, এআই ভার্সিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই সেন্টার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পাইকস্টোরি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইমুম হোসেন; আস্থা আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনাইন রিজভী রহমান; সিবস সল্যুশনের প্রতিষ্ঠাতা হাসিব হাসান চৌধুরীসহ এলেফ গ্রুপ ও মেরুন ইনকরপোরেশনের প্রতিনিধিরা।

এআই এখন আর শুধু বড় বড় স্টুডিও বা কোম্পানির হাতিয়ার নয়—এটা এখন যে কারো হাতের মুঠোয় থাকা একটা গল্প বলার নতুন কলম। প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড সেই কলম তুলে দিতে চায় বাংলাদেশের তরুণদের হাতে, যাতে তারা নিজেদের চিন্তা আর কল্পনাকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে পারেন।

