back to top
রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
HomeWellbeingFitnessশরীরে কিডনি ভালোভাবে কাজ করছে কি না—ডাক্তাররা কোন লক্ষণ দেখে বুঝতে বলেন?

শরীরে কিডনি ভালোভাবে কাজ করছে কি না—ডাক্তাররা কোন লক্ষণ দেখে বুঝতে বলেন?

আমাদের শরীরে কিডনি হলো একটি অত্যাধুনিক “ফিল্টার সিস্টেম”। রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে পানি-ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স, এমনকি হরমোন নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই কিডনির ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কিডনি নষ্ট হতে থাকে একদম নিঃশব্দে। অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না।

ডাক্তাররা তাই কিছু বিশেষ “সিগন্যাল” দেখে বুঝতে পারেন—কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। চলুন জেনে নিই সেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে।

ডাক্তাররা প্রথম যে ৬টি সাধারণ লক্ষণ খুঁজে দেখেন

১. প্রস্রাবের পরিমাণ ও রঙ—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক

প্রস্রাব আসলে কিডনির স্বাস্থ্যের “রিপোর্ট কার্ড”। হালকা ফ্যাকাশে হলুদ রঙ বলে দেয় যে আপনার হাইড্রেশন ঠিক আছে। কিন্তু খুব গাঢ় হলুদ মানে পানির ঘাটতি। প্রস্রাবে যদি অস্বাভাবিক ফেনা দেখা যায়, তাহলে সেটি প্রোটিন লসের (প্রোটিনিউরিয়া) লক্ষণ হতে পারে। আর রাতে বারবার প্রস্রাব হলে বুঝতে হবে কিডনির উপর চাপ পড়ছে।

২. শরীরের ফোলা আছে কি না

চোখের নিচে, গোড়ালি ও পায়ের পাতায়, এমনকি হাত ও মুখে যদি ফোলা দেখা যায়, তাহলে সতর্ক হতে হবে। ডাক্তারদের মতে, শরীরে পানি জমে যাওয়া (ওয়াটার রিটেনশন) কিডনির অকার্যকারিতার একটি প্রধান ইঙ্গিত।

৩. রক্তচাপ (Blood Pressure)

রক্তচাপ এবং কিডনি একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। উচ্চ রক্তচাপ কিডনি নষ্ট করতে পারে, আবার কিডনি নষ্ট হলে রক্তচাপও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের ভাষায় বলতে গেলে, “Hypertension is both a cause and effect of kidney disease.”

৪. ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে রক্তে টক্সিন জমা হতে থাকে। এর ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনোযোগ কমে যায়। Hemoglobin কমে গেলে অ্যানিমিয়ার লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

৫. কোমরের নিচে কিডনি অঞ্চলে ব্যথা

সব ধরনের কোমর ব্যথা কিডনির সমস্যা নয়। কিন্তু যদি ধারাবাহিকভাবে ম্যাড়ম্যাড়ে ব্যথা (dull pain) থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিডনিতে পাথর হলে তীব্র ব্যথাও হতে পারে।

৬. মুখে ধাতব গন্ধ বা খাবারে অস্বাভাবিক স্বাদ

রক্তে টক্সিন জমলে মুখে এক ধরনের ধাতব গন্ধ (Uremic smell) তৈরি হতে পারে। এটি কিডনি ফাংশন কমে যাওয়ার একটি “রেড ফ্ল্যাগ”।

→ আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগের সতর্কবার্তা: এই ৮টি সংকেত অবহেলা করবেন না

ল্যাব টেস্ট—ডাক্তাররা যেগুলো ব্যবহার করে নিশ্চিত হন

১. Serum Creatinine

কিডনি কম কাজ করলে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। নরমাল রেঞ্জের উপরে গেলেই চিকিৎসকের বিশেষ নজর প্রয়োজন।

২. eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate)

এটি মাপে যে কিডনি কত দ্রুত রক্ত ফিল্টার করছে। ৯০ বা তার বেশি হলে স্বাভাবিক, ৬০ এর নিচে গেলে কিডনি সমস্যা শুরু হয়েছে বলে ধরে নিতে হয়।

৩. Urine R/E Test

প্রস্রাব পরীক্ষায় প্রোটিন, রক্ত, কিটোন, লবণ—সবকিছুই কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

৪. ACR (Albumin/Creatinine Ratio)

কিডনির ক্ষতি একদম শুরুর দিকে শনাক্ত করার জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর টেস্ট। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।

খাদ্য ও পানির অভ্যাস—ডাক্তাররা যেগুলো দিয়ে আরও নিশ্চিত হন

১. পানি খাওয়ার ধরন

অতিরিক্ত পানি খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি কম খাওয়াও সমস্যা। মৃদু হলুদ প্রস্রাব থাকাই সঠিক হাইড্রেশনের লক্ষণ।

২. লবণ ও প্রসেসড ফুড

বেশি লবণ খেলে কিডনিতে চাপ পড়ে। তাই ডাক্তাররা খাবার অভ্যাস সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে চান।

৩. প্রোটিন ও সাপ্লিমেন্ট

অতিরিক্ত প্রোটিন মানেই কিডনিতে অতিরিক্ত চাপ। যারা জিমে যান এবং প্রোটিন শেক বেশি খান, তাদের কিডনি strain-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কারা সবচেয়ে আগে কিডনি টেস্ট করাবেন?

নিচের যেকোনো একটি বিষয় যদি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তাহলে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত:

  • ডায়াবেটিস রোগী
  • উচ্চ রক্তচাপ রোগী
  • পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে
  • অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন

ডাক্তারদের পরামর্শ হলো—বছরে অন্তত একবার চেকআপ করানো।

কিডনি অসুস্থ হলে শরীর তা নীরবে সহ্য করতে থাকে—কিন্তু ডাক্তাররা শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তন দেখেই বুঝে নিতে পারেন কিডনির অবস্থা। বেশিরভাগ মানুষ যখন নিজে লক্ষণ বুঝতে পারে, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়।

তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট সংকেতগুলোকেই গুরুত্ব দিন। বছরে অন্তত একবার রুটিন চেকআপ করান। মনে রাখবেন—স্বাস্থ্যই সম্পদ, আর কিডনি হলো সেই সম্পদের অদৃশ্য রক্ষক।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular