back to top
রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
HomeProductivityCareer Developmentক্যারিয়ার পরিবর্তন: কেন ২০২৬-এ চাকরির পুরনো সিঁড়ি ভাঙছে

ক্যারিয়ার পরিবর্তন: কেন ২০২৬-এ চাকরির পুরনো সিঁড়ি ভাঙছে

স্কুল শেষ করো, ভালো একটা চাকরি নাও, বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে থেকে ধাপে ধাপে ওপরে ওঠো, অবসরে যাও। এই গল্পটা একটা সময় প্রায় সবার জন্যই সাফল্যের একমাত্র সংজ্ঞা ছিল। বাবা-মায়ের প্রজন্ম এই একই সিঁড়ি বেয়ে উঠেছে, আর সেই সিঁড়িটাই ধরিয়ে দিয়েছে পরের প্রজন্মকে। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই সিঁড়িটার দিকে তাকালে বোঝা যায়, এটা আর আগের মতো নেই, বরং ভেঙে পড়ছে দ্রুত।

Randstad-এর 2026 Workmonitor জরিপে ২৭ হাজারের বেশি কর্মী আর ১২০০-র বেশি নিয়োগকর্তার মতামত নেওয়া হয়েছে, আর ফলাফলটা চমকে দেওয়ার মতো, মাত্র ৪১ শতাংশ কর্মী এখনো ঐতিহ্যবাহী, সরলরৈখিক ক্যারিয়ার পথ অনুসরণ করতে চায়, আর ৭২ শতাংশ নিয়োগকর্তা নিজেরাই বলছেন, প্রচলিত ক্যারিয়ার সিঁড়ি এখন সেকেলে। চলো দেখি, ঠিক কী কারণে এই পরিবর্তনটা ঘটছে, আর এর জায়গায় কী উঠে আসছে।

কেন সিঁড়িটা ভেঙে পড়ছে

এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক শক্তি একসাথে কাজ করছে। Challenger, Gray & Christmas-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার চাকরি ছাঁটাই হয়েছে, ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বেশি। Gartner-এর একটা পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতি পাঁচটা প্রতিষ্ঠানের একটা AI ব্যবহার করে তাদের কাঠামো সমতল করে ফেলবে, বর্তমান মিড-ম্যানেজমেন্ট পদের অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত করে দেবে। সিঁড়ির ঠিক মাঝখানের ধাপগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

এর পাশাপাশি skills-based hiring-এর দিকে ঝোঁক বাড়ছে দ্রুত, ২০২২ সাল থেকে এই হার ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বিজ্ঞাপনে ডিগ্রি চাওয়ার হারও ধীরে ধীরে কমছে, আর অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ঐতিহ্যবাহী ইন্টারভিউয়ের বদলে সরাসরি কাজের ট্রায়াল নিচ্ছে।

যেই জায়গায় সিঁড়ির বদলে আসছে জাল

লেখক ব্রায়ান স্টলজফ ব্যাখ্যা করেছেন, আমরা এখন প্রবেশ করছি নন-লিনিয়ার ক্যারিয়ারের যুগে, যেখানে ক্যারিয়ার আর একটা সোজা সিঁড়ির মতো দেখায় না, বরং দেখতে অনেকটা একটা জালের মতো, বিস্তৃত, পরস্পর সংযুক্ত, আর প্রায়ই অনিশ্চিত। এই ধরনের ক্যারিয়ারে থাকে পাশাপাশি সরে যাওয়া, শিল্প বদলানো, আর নিজেকে বারবার নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ।

এই পরিবর্তনটা শুধু বাধ্যবাধকতা থেকে আসছে না, অনেকেই সচেতনভাবে এটা বেছে নিচ্ছেন। বিজনেস গ্রোথ স্ট্র্যাটেজিস্ট জেসন ট্যাসি বলেছেন, স্ট্যাটাসের সংজ্ঞাটাই বদলে যাচ্ছে, পদবি থেকে সরে গিয়ে মানুষ এখন খুঁজছে স্বাধীনতা, নমনীয়তা, আর মানসিক সুস্থতা। ২০২৫ সালের Accounting Talent Index-এ দেখা গেছে, প্রায় ৭১ শতাংশ অ্যাকাউন্টিং ফার্ম তাদের মূল কর্মীদের হারানোর ঝুঁকিতে আছে, শুধু ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ আর মানসিক ক্লান্তির কারণে।

Portfolio Career, নতুন বাস্তবতার নাম

সবচেয়ে বেশি আলোচিত ধারণাগুলোর একটা হলো portfolio career, একই সময়ে একাধিক আয়ের উৎস বা একাধিক ভূমিকা ধরে রাখা। Randstad-এর জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী এখন একটার বেশি ভূমিকায় কাজ করছেন, আর ৩৮ শতাংশ চান ক্যারিয়ারজুড়ে ভিন্ন ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা। এটাকে চাকরি বদলে বদলে ফেলার অস্থিরতা মনে করাটা ভুল, এখানকার মূল পার্থক্যটা হলো ইচ্ছাকৃততা। প্রতিটা পদক্ষেপ পরিকল্পিত, প্রতিক্রিয়াশীল হলেও সিদ্ধান্তটা নিজের।

AI এই পরিবর্তনকে দুই দিক থেকেই ত্বরান্বিত করছে। একদিকে এন্ট্রি-লেভেল পজিশন কমে যাওয়ার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে AI নিজেই নতুন স্কিল শেখা, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং, আর ফ্রিল্যান্সিং সহজ করে দিয়ে এই পরিবর্তনকে আরও সহজ করে তুলছে।

অনিশ্চয়তা সহ্য করার ক্ষমতাই এখন সবচেয়ে বড় দক্ষতা

Big Think-এর একটা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিজের পেশাগত পরিচয় বারবার নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষমতা, যেটা আগে ফোকাসের অভাব হিসেবে দেখা হতো, সেটাই এখন হয়ে উঠতে পারে আগামী দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার দক্ষতা। নন-লিনিয়ার পথে হাঁটতে গেলে ঠিক কোথায় যাচ্ছি সেটা না জেনেও এগিয়ে যাওয়ার সাথে সহজ থাকতে শিখতে হয়। এটাকেই বলা হয় uncertainty tolerance, আর এই সক্ষমতাই একটা প্রচলিত ক্যারিয়ারের চেয়ে অনেক বেশি পেশাগত পরিতৃপ্তি এনে দিতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

তাহলে এখন কী করণীয়

স্থিতিশীল একটা চাকরি মানেই সেটা কারো দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য বা সামর্থ্যের সাথে সবসময় মেলে না। ক্রমাগত অসন্তুষ্টি, ক্লান্তি, বা নিজের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে না লাগতে পারা, এই লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে হয়তো নিজের আর পথের মধ্যে একটা অমিল তৈরি হয়েছে। ক্যারিয়ার বদল মানেই পিছিয়ে যাওয়া না, এটা প্রায়ই একটা দিক পরিবর্তন মাত্র, শিল্প বদলানো, ভূমিকা বদলানো, বা অগ্রাধিকার বদলানো।

সিঁড়িটা ভেঙে পড়ছে, আর এটা খারাপ খবর না। প্রতিটা স্কুলজীবনে সাফল্যের একটা স্পষ্ট পথ ছিল, ভালো নম্বর, পরের ক্লাস, তারপর তার পরের ক্লাস। কিন্তু বাস্তব জীবন কখনোই এত সরলরৈখিক ছিল না, শুধু সেভাবে বিক্রি করা হতো। এখন সেই পুরনো গল্পটা সরে গিয়ে জায়গা করে দিচ্ছে এমন একটা বাস্তবতাকে, যেখানে ক্যারিয়ার একটা পোর্টফোলিও, একটা সিঁড়ি না। প্রশ্নটা তাই এখন আর “কীভাবে পদোন্নতি পাব” না, বরং “কীভাবে মূল্য তৈরি করব”, আর এই পরিবর্তনটাই হয়তো সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা এনে দিচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular