back to top
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
HomeProductivityCareer Developmentডিগ্রি নয়, এই স্কিলগুলোই এখন চাকরি এনে দেয়

ডিগ্রি নয়, এই স্কিলগুলোই এখন চাকরি এনে দেয়

সাকিব ভার্সিটি থেকে পাস করেছে তিন বছর হলো। ভালো ডিগ্রি, ভালো সিজিপিএ। কিন্তু ইন্টারভিউয়ে যতবার গেছে, ততবার একই কথা শুনেছে—”আমরা একটু এক্সপেরিয়েন্সড কাউকে খুঁজছি।” অথবা “আপনার স্কিলসেট ম্যাচ করছে না।”

ডিগ্রি আছে, কিন্তু চাকরি নেই। এই গল্পটা শুধু সাকিবের নয়, আজকের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর। সমস্যা কোথায়? ডিগ্রিতে? না। সমস্যা হলো, চাকরির বাজার এখন ডিগ্রি নয়—স্কিল খোঁজে। আর আমরা অনেকেই এখনো এই বাস্তবতা মানতে পারছি না।

চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে “ফ্রেশার চাই”, কিন্তু পরের লাইনেই থাকে “MS Excel জানতে হবে”, “Communication skills থাকতে হবে”, “Team environment-এ কাজ করার অভিজ্ঞতা”। মানে, ফ্রেশার চাই ঠিকই, কিন্তু ফাঁকা খাতা নয়।

কেন ডিগ্রির গুরুত্ব কমছে (ডিগ্রি অপ্রয়োজনীয় নয়)

ভুল বুঝবেন না। ডিগ্রি অপ্রয়োজনীয় বলছি না। ডিগ্রি দরকার, কিন্তু সেটা এখন শুধু একটা baseline হয়ে গেছে। মানে, সবারই ডিগ্রি আছে। ডিগ্রি থাকলেই আর আপনি আলাদা হতে পারছেন না। চাকরিদাতারা এখন দেখে, আপনি আসলে কী করতে পারেন। তারা জানতে চায়, রিয়েল প্রবলেম আসলে আপনি কীভাবে সমাধান করবেন। বই পড়ে ভালো মার্কস পাওয়া আর অফিসে গিয়ে কাজ করা—এই দুইটা আলাদা জিনিস।

আরেকটা বড় সমস্যা হলো, বাজার খুব দ্রুত বদলাচ্ছে, কিন্তু ভার্সিটির সিলেবাস বদলাচ্ছে ধীরে। আমরা যেটা পড়ছি, সেটা হয়তো পাঁচ বছর আগের। কিন্তু যেখানে চাকরি করতে যাব, সেখানে লাগবে আজকের স্কিল। এই ফাঁকটাই skill gap তৈরি করছে।

আজকের চাকরির বাজার আসলে কী খুঁজছে

আজকের চাকরির বাজার মুখস্ত বিদ্যা চায় না। চায় problem-solvers, note-takers নয়। বস জানতে চায়, আপনি কত দ্রুত নতুন কিছু শিখতে পারেন। একটা নতুন সফটওয়্যার দিলে কতদিনে ধরতে পারবেন? একটা সমস্যা দিলে নিজে নিজে সমাধান বের করতে পারবেন, নাকি ধাপে ধাপে বলে দিতে হবে?

এছাড়াও চায় বাস্তব কাজের কিছু অভিজ্ঞতা। সেটা হতে পারে ছোট্ট একটা ইন্টার্নশিপ, একটা ফ্রিল্যান্স প্রজেক্ট, বা ভলান্টিয়ার কাজ। মানে, হাতে-কলমে কিছু করেছেন কিনা সেটা। আর সবচেয়ে বড় কথা—communication এবং adaptability। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারার ক্ষমতা। এই স্কিলগুলো কোনো বইয়ে লেখা নেই, কিন্তু চাকরি পেতে এগুলোই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।

Skill #1: Communication (যেটা সবাই underestimate করে)

সবচেয়ে underestimated স্কিল হলো communication। অনেকেই মনে করে, “আমি তো ঠিকমতো কথা বলতে পারি, আর কী লাগবে?” কিন্তু communication মানে শুধু কথা বলা নয়।

Communication মানে হলো:

  • আপনার চিন্তা পরিষ্কার করে অন্যকে বোঝাতে পারা
  • একটা মেইল লিখতে পারা যেটা পড়ে কেউ confused হবে না
  • মিটিংয়ে আপনার পয়েন্ট তুলে ধরতে পারা
  • অন্যের কথা শুনতে পারা এবং সেটা বুঝতে পারা

দেখবেন, যারা ভালো communicator, তারা খুব দ্রুত এগিয়ে যায়। কারণ তারা সবার সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তাদের কাজ সবাই বুঝতে পারে, আর তাদের ওপর আস্থা তৈরি হয়। একজন average স্কিলের মানুষ যদি ভালো communicator হয়, সে অনেক সময় brilliant কিন্তু লাজুক মানুষকে ছাড়িয়ে যায়। এটাই বাস্তবতা।

Skill #2: Digital & Tech Literacy (সবাই কোডার হবে না)

না, আপনাকে কোডিং শিখতে হবে এমন কথা বলছি না। কিন্তু একটা digital confidence থাকতে হবে। মানে, AI টুলগুলো ব্যবহার করতে জানা। ChatGPT, Canva, Notion—এইসব টুল ব্যবহার করে কাজ সহজ করতে পারা।

Excel বা Google Sheets-এ basic কাজ করতে পারা। Data বুঝতে পারা। একটা chart বানাতে পারা। সিম্পল calculation করতে পারা। আজকের চাকরিতে আপনি যে ডিপার্টমেন্টেই থাকেন না কেন, টেকনোলজি ছাড়া কাজ হয় না। যে digital confident, সে দ্রুত এগোয়। যে ভয় পায়, সে পিছিয়ে পড়ে।

Skill #3: Problem Solving & Critical Thinking

চাকরির বাজারে দুই ধরনের মানুষ আছে।

এক ধরন: বস বললে কাজ করে। ধাপে ধাপে বলে দিতে হয়। একটু আলাদা সমস্যা এলেই আটকে যায়।

আরেক ধরন: সমস্যাটা বুঝে নিজে নিজেই সমাধান খোঁজে। প্রয়োজনে গুগল করে, কাউকে জিজ্ঞেস করে, কিন্তু সমাধান বের করেই ছাড়ে।

দ্বিতীয় ধরনের মানুষই চাকরি পায় এবং টিকে থাকে।

উদাহরণ দিই। ধরুন, আপনাকে একটা রিপোর্ট বানাতে বলা হলো। প্রথম ধরনের মানুষ জিজ্ঞেস করবে, “স্যার, ফন্ট কী হবে? কালার কী হবে? কতটুকু লিখব?” দ্বিতীয় ধরনের মানুষ আগের রিপোর্টগুলো দেখবে, বুঝবে কী দরকার, তারপর নিজে থেকে একটা ভালো রিপোর্ট বানিয়ে দেবে।

এই problem-solving skill সব ইন্ডাস্ট্রিতেই দরকার। ব্যাংক হোক, কোম্পানি হোক, এনজিও হোক—সবখানে।

Skill #4: Learning Speed (সবচেয়ে underrated স্কিল)

এটা সবচেয়ে underrated কিন্তু সবচেয়ে powerful স্কিল। আপনি কত দ্রুত নতুন কিছু শিখতে পারেন? একটা নতুন টুল আসলে ভয় পান, নাকি খুলে দেখেন? Feedback পেলে defend করেন, নাকি শিখে নেন?

“আমি এটা পারি না” বনাম “আমি এটা শিখব”—এই দুই mindset-এর মধ্যে পুরো ক্যারিয়ারের পার্থক্য লুকিয়ে আছে। চাকরি পাওয়া মানে আপনি সব জানেন না। চাকরি টিকিয়ে রাখা মানে আপনি দ্রুত শিখতে পারেন। এটা মাথায় রাখবেন। যারা দ্রুত শেখে, তারাই দ্রুত promotion পায়। যারা শিখতে ভয় পায়, তারা একই জায়গায় আটকে থাকে।

Skill #5: Ownership & Reliability

বসেরা সবচেয়ে বেশি কী খোঁজে? Ownership আর reliability। Ownership মানে, “এটা আমার দায়িত্ব” বলতে পারা। শুধু assigned কাজ নয়, নিজে থেকে দায়িত্ব নেওয়া। Reliability মানে, সময় মেনে চলা। আজকে যা বলেছেন, কালকে সেটা করে দেওয়া। কাজ শেষ করার অভ্যাস থাকা।

এই স্কিল থাকলে আপনার ওপর আস্থা তৈরি হয়। আর trust তৈরি হলে, সুযোগও আসে। দেখবেন, অনেক brilliant মানুষ আছে, কিন্তু তারা কাজ সময়মতো শেষ করে না। deadline মিস করে। ফলে তাদের ওপর ভরসা করা যায় না। আবার অনেক average মানুষ আছে, কিন্তু তারা যা বলে তা করে। তাদেরকেই বস বেশি value দেয়।

Skill #6: Teamwork & Emotional Intelligence

শেষ কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্কিল—teamwork এবং emotional intelligence। আপনি একা কাজ করবেন না। টিমে কাজ করতে হবে। আর টিমে কাজ করতে গেলে ego manage করতে হয়। conflict handle করতে হয়। সবার সাথে মিলেমিশে চলতে হয়।

বাস্তবতা হলো, আপনি যতই smart হন না কেন, যদি টিমে কাজ করতে না পারেন, তাহলে কেউ আপনার সাথে কাজ করতে চাইবে না। আর যদি কেউ আপনার সাথে কাজ করতে না চায়, তাহলে ক্যারিয়ার এগোবে কীভাবে? Emotional intelligence মানে নিজের এবং অন্যের আবেগ বুঝতে পারা। কখন কী বলতে হবে, কীভাবে বলতে হবে—এটা জানা। মানুষ নিয়ে কাজ করাটাই ক্যারিয়ারের চাবিকাঠি।

তাহলে ডিগ্রির ভূমিকা কী?

এতক্ষণে হয়তো মনে হচ্ছে, ডিগ্রি লাগবে না তাহলে? না, ডিগ্রি লাগবে। কিন্তু balanced truth হলো:

  • ডিগ্রি আছে + স্কিল আছে = সুযোগ আসবে
  • ডিগ্রি আছে + স্কিল নেই = slow progress হবে
  • স্কিল আছে + ডিগ্রি নেই = limited ceiling থাকবে

মানে, ডিগ্রি দরজা খোলে। স্কিল আপনাকে ভেতরে ঢুকিয়ে রাখে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়। আদর্শ সমন্বয় হলো, ডিগ্রি করার পাশাপাশি স্কিল গড়া। তাহলে আপনি complete package হয়ে যাবেন।

কীভাবে এই স্কিলগুলো গড়বেন

এখন প্রশ্ন হলো, এই স্কিলগুলো গড়ব কীভাবে?

১. Selective online courses করুন। সব কোর্স করতে হবে না। যেটা আপনার লক্ষ্যের সাথে মিলবে, সেটাই করুন। Coursera, Udemy, YouTube—অনেক রিসোর্স আছে।

২. Internships, freelancing, বা volunteer work করুন। ছোট্ট হলেও সমস্যা নেই। কিছু করুন। Practical experience ছাড়া শেখা complete হয় না।

৩. Personal projects শুরু করুন। একটা ব্লগ লিখুন। একটা YouTube চ্যানেল খুলুন। একটা ছোট্ট ব্যবসা শুরু করুন। যেকোনো কিছু—যা থেকে আপনি শিখতে পারবেন।

৪. Feedback loop তৈরি করুন। মানুষের কাছ থেকে feedback নিন। নিজের কাজের উপর নিজেই চোখ রাখুন। কোথায় আটকে যাচ্ছেন, সেটা বুঝুন।

মনে রাখবেন, স্কিল একদিনে তৈরি হয় না। কিন্তু একটু একটু করে তৈরি হয়। ডিগ্রি আপনার দরজা খোলে। স্কিল আপনাকে ঘরে ঢুকিয়ে রাখে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে টিকে থাকবে সেই মানুষ, যে দ্রুত শিখে এবং কাজ করতে পারে। যে নিজেকে update রাখে। যে শুধু certificate জমায় না, real skill তৈরি করে।

আজকের চাকরির বাজারে প্রশ্নটা আর “আপনি কী পড়েছেন?” না—প্রশ্নটা “আপনি কী করতে পারেন?” এই প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার কাছে থাকে, তাহলে চাকরি আপনার কাছে এমনিতেই চলে আসবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular