এইচএসসির রিজাল্টের পর স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। আশা ছিল জাহাঙ্গীরনগর কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল এলো নিষ্ঠুর বাস্তবতা নিয়ে—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোথাও সুযোগ নেই।
বাংলাদেশে যেখানে “পাবলিক ভার্সিটি” মানেই সফলতার সিলমোহর, সেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানে অনেকের চোখে “কম্প্রোমাইজ”। আত্মীয়-স্বজনদের প্রশ্ন, বন্ধুদের সহানুভূতি, নিজের মনে হাজারো প্রশ্ন—”আমি কি পারব?”
কিন্তু রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া সেই হতাশার মুহূর্তে নিজেকে একটা প্রতিজ্ঞা করলেন: “স্নাতক পর্যায়ে যা হয়নি, মাস্টার্সে তার উল্টোটা করব। আবেদন করব বিশ্বের শীর্ষ ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে।”
আজ সেই রাকিবুল পড়ছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে—ব্যাচেলর অব সিভিল ল (বিসিএল) প্রোগ্রামে। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ উইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ। এবং সবচেয়ে গর্বের বিষয়: বাংলাদেশ থেকে তিনিই প্রথম এই বৃত্তি পেয়েছেন অক্সফোর্ডের বিসিএল প্রোগ্রামে।
কীভাবে? কোন পথে? কোন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এক অসাধারণ যাত্রার গল্প—যা প্রমাণ করে, প্রথম ব্যর্থতাই জীবনের শেষ অধ্যায় নয়, বরং সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়ের শুরু হতে পারে।
হতাশা থেকে সংকল্প: যখন ব্যর্থতা হলো প্রেরণা
“এইচএসসি পরীক্ষার পর যখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চান্স পেলাম না, আইন বিষয়ে ভর্তি হলাম ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে,” স্মৃতিচারণা করছিলেন রাকিবুল। “তখন থেকেই ভেতরে-ভেতরে একটা দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম, মাস্টার্সের জন্য বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করব। প্রয়োজনে আবেদন করে রিজেক্টেড হব, কিন্তু চেষ্টা না করার আফসোস নিয়ে আমি থাকতে চাইনি।”
এই একটা সিদ্ধান্তই বদলে দিল সবকিছু। অনেকে হয়তো ভেবে বসতেন, “পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাইনি, এখন কী আর হবে?” কিন্তু রাকিবুল সেই হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করলেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে না পাওয়াটা তার কাছে হয়ে উঠল একটা চ্যালেঞ্জ—নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে নতুন অধ্যায়
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে রাকিবুল শুধু পড়াশোনাই করেননি—নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন এক অসাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে। প্রতিটি ক্লাস, প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট, প্রতিটি পরীক্ষায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—অক্সফোর্ড।
ফলাফল? ব্র্যাক আইন বিভাগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ একাডেমিক রেকর্ড। ১৫তম কনভোকেশনে ভাইস চ্যান্সেলরের স্বর্ণপদক। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—স্বপ্ন দেখার সাহস।
“পাবলিক ভার্সিটিতে না পেয়ে যে ব্যর্থতাবোধ ছিল, সেটাই আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করেছে,” বলছিলেন রাকিবুল। “আমি বুঝেছিলাম, পথটা হয়তো আলাদা, কিন্তু গন্তব্য অসম্ভব নয়।”
মহান দুই ব্যক্তিত্বের পদাঙ্ক অনুসরণ
আইন পড়ার পেছনে রাকিবুলের দুজন অনুপ্রেরণা—যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করাই ছিল তার স্বপ্ন।
প্রথমজন: বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন—যিনি অক্সফোর্ড থেকে ব্যাচেলর অব সিভিল ল ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং আমাদের সংবিধান রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
দ্বিতীয়জন: উপমহাদেশের কিংবদন্তি রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী—যিনি আইনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা করেছিলেন।
“তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করাটা একসময় কেবলই স্বপ্নের মতো ছিল,” স্বীকার করেন রাকিবুল। কিন্তু ব্র্যাক থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ও স্বর্ণপদক পাওয়ার পর সেই স্বপ্ন আর অলীক মনে হলো না—বরং ধরা দিল বাস্তবের কাছাকাছি।
এবং তখন শুরু হলো অক্সফোর্ডের পথে দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রা।
অক্সফোর্ডের পথ: যেখানে প্রতিটি ধাপ ছিল এক একটি পরীক্ষা
অক্সফোর্ডে আবেদন মানে শুধু একটা ফর্ম পূরণ নয়। এটা একটা দীর্ঘ, জটিল এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর প্রক্রিয়া। আইইএলটিএস স্কোর, রেফারেন্স লেটার, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করতে হয় নিখুঁতভাবে।
রাকিবুলের মতে, সবচেয়ে কঠিন ছিল এসওপি লেখা। এবং এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এখানেই আপনি বলেন “আমি কে” এবং “কেন আপনি আমাকে নেবেন”।
“অক্সফোর্ডে যে প্রোগ্রামে আমি ভর্তি হয়েছি, সেটির জন্য যেই এসওপি লিখতে হয়, তার সর্বোচ্চ শব্দসংখ্যা ৩০০,” বললেন রাকিবুল। “এই ৩০০ শব্দের ভেতর আপনার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সব গুছিয়ে লিখতে হবে। মাত্র ৩০০ শব্দে সাত বছরের অভিজ্ঞতা কনভিন্সিং গল্প হিসেবে দাঁড় করানোটা প্রচণ্ড কঠিন একটা কাজ।”
কল্পনা করুন—একটা পুরো উপন্যাসকে তিন পৃষ্ঠায় সংক্ষিপ্ত করতে হবে, কিন্তু মূল বার্তা, আবেগ, গল্প—সবকিছু থাকতে হবে অক্ষত। এসওপি লেখাও ঠিক তেমনই।
রাকিবুল রাত জেগে একের পর এক খসড়া লিখেছেন। বারবার শিক্ষকদের কাছে নিয়ে গেছেন, পরামর্শ নিয়েছেন, সংশোধন করেছেন। প্রতিটি শব্দ ওজন করেছেন, প্রতিটি বাক্য ঝালিয়ে নিয়েছেন। কারণ তিনি জানতেন—এই ৩০০ শব্দই নির্ধারণ করবে তার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না।
এবং সেই কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণে—অক্সফোর্ড থেকে অ্যাক্সেপটেন্স লেটার।
কিন্তু নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিল: অক্সফোর্ডে পড়ার খরচ কীভাবে জোগাড় করবেন?
উইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ: শুধু বৃত্তি নয়, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ
অক্সফোর্ডে পড়ার খরচ প্রায় কয়েক কোটি টাকা—টিউশন ফি, আবাসন, জীবনযাত্রার খরচ, ভিসা, বিমান টিকিট সব মিলিয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এটা প্রায় অসম্ভব।
এবং এখানেই আসে উইডেনফেল্ড-হফম্যান স্কলারশিপ অ্যান্ড লিডারশিপ প্রোগ্রামের গুরুত্ব। এটি শুধু একটা সাধারণ বৃত্তি নয়—এটি একটি সম্পূর্ণ নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
এই স্কলারশিপ কী দেয়?
আর্থিক সহায়তা: সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ, বইপত্র, গবেষণা—সবকিছু।
নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ: প্রায় এক বছরব্যাপী কঠোর নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রোগ্রাম। কীভাবে নৈতিক নেতৃত্ব দিতে হয়, কীভাবে সমাজ পরিবর্তন করতে হয়, কীভাবে উদ্যোক্তা হতে হয়—সবকিছু শেখানো হয়।
নেটওয়ার্কিং: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভবিষ্যত নেতাদের সাথে যোগাযোগ। এই নেটওয়ার্ক সারাজীবন কাজে লাগে।
রাকিবুল বলেন, “এই স্কলারশিপ মূলত ‘ভবিষ্যতের নেতৃত্ব’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর মেয়াদি কঠোর একটি প্রশিক্ষণ দেয়। স্কলারশিপ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে বাংলাদেশ থেকে আমিই প্রথম অক্সফোর্ডের বিসিএল প্রোগ্রামে এই বৃত্তি পেয়েছি।”
এটা শুধু একটা স্কলারশিপ নয়—এটা একটা স্বীকৃতি, একটা সম্মান, একটা দায়িত্ব।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাকিবুলের অমূল্য পরামর্শ
রাকিবুলের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। তার মতে, আমাদের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় বাধা দুটি:
১. আত্মবিশ্বাসের অভাব
“আমরা অনেক সময় ভয় পাই, চান্স পাব না বা স্কলারশিপ পাব না। এই ভয়ই আমাদের আবেদন করা থেকে বিরত রাখে,” বলেন রাকিবুল। “কিন্তু সত্য হলো—আবেদন না করলে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা ০%। আবেদন করলে অন্তত একটা সম্ভাবনা থাকে।”
২. সঠিক মেন্টরশিপ ও তথ্যের অভাব
রাকিবুল নির্ভর করেছিলেন অনলাইন রিসোর্স ও নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর। ইউটিউব, লিংকড-ইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট—এসব থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, পরামর্শ নিয়েছেন।
রাকিবুলের ৫টি মূল পরামর্শ:
- ভয়কে জয় করুন। “হবে না” ভেবে আবেদন না করার চেয়ে আবেদন করে রিজেক্ট হওয়া ভালো। অন্তত আফসোস থাকবে না।
- অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করুন। সবকিছু ফ্রি এবং সহজলভ্য—ইউটিউব, লিংকড-ইন, ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইট। শুধু দরকার খোঁজার ইচ্ছা।
- মেন্টরশিপ খুঁজুন। যারা আগে এই পথে হেঁটেছেন, তাদের কাছে পরামর্শ নিন। তারা আপনার সময় ও শক্তি বাঁচাতে পারেন।
- এসওপিতে সময় দিন। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। রাত জেগে হলেও নিখুঁত করুন। একের পর এক খসড়া লিখুন।
- প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়লে হতাশ হবেন না। সেখান থেকেও বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার একাডেমিক রেকর্ড ও প্রস্তুতি।
অক্সফোর্ডে জীবন: প্রতিদিন নতুন শেখা
অক্সফোর্ডে পৌঁছানোর পর রাকিবুলের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। “এখানে ক্লাস হয় সেমিনার স্টাইলে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী একসঙ্গে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন। শিক্ষকেরা প্রত্যেকের মতামতকে গুরুত্ব দেন,” বলছিলেন তিনি।
“সহপাঠীরা আসেন বিশ্বের নানা দেশ থেকে। তাঁদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রতিদিনের মেলামেশা আমার শেখার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করছে।”
বাংলাদেশে যেখানে অনেক সময় শিক্ষা হয় একমুখী—শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থী শোনে—সেখানে অক্সফোর্ডের শিক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে প্রশ্ন করা উৎসাহিত করা হয়, ভিন্নমত প্রকাশ করা সম্মানিত হয়, চ্যালেঞ্জ করা শেখার অংশ।
রাকিবুল প্রতিদিন পড়ছেন বিশ্বের সেরা আইন অধ্যাপকদের কাছে, আলোচনা করছেন আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, সাংবিধানিক আইন নিয়ে। এবং প্রতিটি ক্লাসে তিনি মনে রাখেন—এই জ্ঞান তাকে ফিরে যেতে হবে বাংলাদেশে, কাজে লাগাতে হবে দেশের মানুষের জন্য।
রাকিবুলের গল্প থেকে যে শিক্ষা পাই
- প্রথম ব্যর্থতাই শেষ কথা নয়
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়া রাকিবুলের জন্য শেষ ছিল না—বরং নতুন শুরু। আপনার প্রথম চেষ্টা যদি সফল না হয়, তার মানে এই নয় যে আপনি ব্যর্থ। হয়তো আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।
- স্বপ্ন দেখতে ভয় পাবেন না
বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার স্বপ্ন কতজন দেখেন? আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কতজন সাহস করেন? রাকিবুল দেখিয়েছেন, বড় স্বপ্ন দেখলে এবং সেই অনুযায়ী পরিশ্রম করলে অসম্ভবও সম্ভব।
- পথটা আলাদা, কিন্তু গন্তব্য এক
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন মানে এই নয় যে আপনি “কম”। রাকিবুল প্রমাণ করেছেন, পথটা আলাদা হতে পারে, কিন্তু সঠিক পরিশ্রম ও প্রস্তুতি থাকলে যেকোনো শিখর জয় করা সম্ভব।
- সঠিক রিসোর্স ও মেন্টরশিপ খুঁজুন
একা হাঁটতে গেলে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যারা আগে এই পথে হেঁটেছেন, তাদের কাছে পরামর্শ নিন। অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করুন। সাহায্য চাইতে লজ্জা নেই—বরং এটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
- দেশের জন্য ভাবুন
রাকিবুল অক্সফোর্ডে পড়ছেন শুধু নিজের জন্য নয়—দেশের জন্য, মানুষের জন্য। এবং এটাই একজন সত্যিকারের নেতার লক্ষণ। আমরা যা শিখি, যা অর্জন করি—তা যদি সমাজের, দেশের কাজে না লাগে, তাহলে সেই শিক্ষার প্রকৃত মূল্য কী?
রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার গল্প আমাদের একটা জিনিস শেখায়: ব্যর্থতা একটা দরজা বন্ধ করে, কিন্তু আরও ভালো একটা জানালা খুলে দেয়।
আজ থেকে কয়েক বছর আগে রাকিবুল ছিলেন একজন হতাশ তরুণ—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাননি, স্বপ্ন ভেঙে গেছে মনে হচ্ছিল। আজ তিনি অক্সফোর্ডে, পৃথিবীর সেরা আইন শিক্ষা নিচ্ছেন, পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি।
এই পরিবর্তন হয়েছে কীভাবে? জাদুতে নয়, ভাগ্যে নয়—বরং দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্নের প্রতি অটুট বিশ্বাসে।
হয়তো আপনিও এখন হতাশায় আছেন—পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি, চাকরিতে রিজেক্ট হয়েছেন, স্কলারশিপ হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এটা শেষ নয়, এটা শুরু।
রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া আজ অক্সফোর্ডে। আগামীকাল হয়তো আপনার নাম শোনা যাবে হার্ভার্ড থেকে, ক্যামব্রিজ থেকে, এমআইটি থেকে। এবং তখন কেউ জিজ্ঞেস করবে, “কীভাবে সম্ভব হলো?”
আর আপনি হয়তো হেসে বলবেন, “পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়াটাই ছিল আমার টার্নিং পয়েন্ট।”
মনে রাখবেন রাকিবুলের এই কথা: “প্রয়োজনে আবেদন করে রিজেক্টেড হব, কিন্তু চেষ্টা না করার আফসোস নিয়ে আমি থাকতে চাইনি।”
এখন আপনার পালা। স্বপ্ন দেখুন। পরিকল্পনা করুন। আবেদন করুন। এবং একদিন, আপনার গল্পও অনুপ্রাণিত করবে হাজারো তরুণকে।
কারণ ব্যর্থতা শেষ নয়—এটা শুধু শুরু। আর প্রতিটি মহান সাফল্যের গল্প শুরু হয় একটা ব্যর্থতা থেকে।

