প্রথম বেতনের টাকাটা হাতে পাওয়ার অনুভূতি অন্যরকম। মনে হয় জীবনটা এখন থেকেই নিজের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ঠিক এই সময়টাতেই এমন কিছু আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেগুলোর প্রভাব বছরের পর বছর ধরে থেকে যায়। বিশের ঘরে থাকার সময়টা শেখার সবচেয়ে সস্তা সময়, কারণ এই বয়সে করা ভুলের মূল্য এখনো তুলনামূলক কম। চলো দেখি, এই বয়সে সবচেয়ে বেশি যেই আর্থিক ভুলগুলো হয়, সেগুলো কী কী।
নিজের আয়ের চেয়ে বেশি জীবনযাপন করা
বেতন বাড়লেই খরচও বাড়িয়ে ফেলার প্রবণতাকে বলা হয় lifestyle inflation। নতুন ফোন, দামি রেস্তোরাঁ, বন্ধুদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার তাগিদ, এসবের পেছনে ছুটতে গিয়ে সঞ্চয়ের জায়গাটা ফাঁকাই থেকে যায়। আয় বাড়ার সাথে সাথে সঞ্চয়ের হারও বাড়ানো গেলে তবেই প্রকৃত আর্থিক অগ্রগতি সম্ভব, শুধু খরচের ধরন বদলালে না।
জরুরি তহবিল ছাড়া চলা
হঠাৎ চাকরি হারানো, একটা মেডিকেল খরচ, বা কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা, জীবনে এসব হবেই। হাতের কাছে অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমান জরুরি তহবিল না থাকলে, যেকোনো ছোট সংকটও ঠেলে দেয় ধারের দিকে, প্রায়ই উচ্চ সুদের ঋণের দিকে। শূন্য থেকে শুরু করলেও প্রতি মাসে সামান্য কিছু আলাদা করে রাখাই এই তহবিল গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।
বিনিয়োগ শুরু করতে দেরি করা
কম্পাউন্ড ইন্টারেস্টের আসল শক্তি সময়ের ওপর নির্ভর করে। বিশের ঘরে সামান্য পরিমাণেও নিয়মিত বিনিয়োগ শুরু করলে, ত্রিশ বা চল্লিশের ঘরে গিয়ে অনেক বড় অংক দিয়ে শুরু করার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি ফল পাওয়া যায়। “আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে শুরু করব” ভাবাটাই সবচেয়ে দামি ভুলগুলোর একটা, কারণ এখানে হারানো সময়টা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
বাজেট ছাড়া খরচ করা
খাবার ডেলিভারি, সাবস্ক্রিপশন, ছোট ছোট কেনাকাটা, এই খরচগুলো আলাদাভাবে সামান্য মনে হলেও মাস শেষে মিলিয়ে দেখলে বড় একটা অংক দাঁড়িয়ে যায়। আয়ের একটা অংশ প্রয়োজনীয় খরচে, একটা অংশ ইচ্ছার জিনিসে, আর একটা অংশ সঞ্চয়ে ভাগ করে রাখার মতো সহজ একটা নিয়ম মেনে চললেই টাকাটা কোথায় যাচ্ছে সেটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ক্রেডিট কার্ড অসতর্কভাবে ব্যবহার করা
দায়িত্বের সাথে ব্যবহার করলে ক্রেডিট কার্ড ক্রেডিট স্কোর গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু শুধু মিনিমাম পেমেন্ট দেওয়া, বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কার্ড ব্যবহার করা, ধীরে ধীরে ঋণের একটা চক্রে ফেলে দিতে পারে। প্রতি মাসে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করার অভ্যাসটাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
বিশের ঘরে করা আর্থিক ভুল জীবন থামিয়ে দেয় না, কিন্তু সময় নষ্ট করে দেয়, আর সময়ই এখানে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। নিখুঁত পরিকল্পনার দরকার নেই, দরকার শুধু সচেতন কিছু ছোট অভ্যাস, যেগুলো আজ শুরু করলে দশ বছর পর নিজের কাছেই কৃতজ্ঞ মনে হবে।

