Connect with us

Productivity

প্রযুক্তি আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার আগে আপনি প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করুন

Published

on

আপনি যদি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করে থাকেন, তাহলে এই ব্লগটি আপনার জন্য। প্রযুক্তিতে আসক্ত হওয়ার ব্যাপারটা আসলে আমরা কেউই স্বীকার করতে চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আপনি প্রযুক্তিতে আসক্ত। আমাদের সবার জীবনই কম বেশি প্রযুক্তি নির্ভর। প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনকে অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে এটা সত্যি। কিন্তু কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়, সেটা যত ভালো জিনিসই হোক না কেন।

 

প্রযুক্তি নির্ভরশীলতা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, আমাদের সামাজিক জীবনের জন্যও তেমন খুব একটা উপকারী নয়। ফেসবুক ব্যবহারের কারনে আপনার স্কুলের বন্ধুটির খোঁজ  খবর আপনি আজও রাখতে পারছেন, কিন্তু আপনার পাশের বাসার প্রতিবেশীর সম্পর্কে হয়তো আপনি কিছুই জানেন না।

 

২০১৫ সালের Deloitte এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, বিশ্বের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মানুষ ঘুম ভাঙ্গার পাঁচ মিনিটের মাঝে তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং প্রায় অর্ধেক মানুষ দিনে অন্তত পঁচিশবার তাদের ফোন ব্যবহার করেন। সম্প্রতি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিমান এভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তা অনেক রকম নৈতিক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারি যে প্রযুক্তির মাধ্যমে কেউ আমাদের ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করছে না? আমাদের কী আরেকটু বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত না? আমরা কী সত্যি জানি প্রযুক্তি আমাদের ঠিক কতটুকু ক্ষতি করছে?

 

আমরা সবাই চাই নিজের জীবনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণটুকু ধরে রাখতে। আপনার জীবনে প্রযুক্তির অতিরিক্ত প্রভাবটুকু কমাতে যে কাজগুলো করতে পারেন সেগুলোই এই ব্লগে তুলে ধরবো।

 

স্বাস্থ্যকর নিয়ম গড়ে তুলুন

 

যে কোনো অভ্যাস পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে একটি উপযুক্ত নিয়ম বা রুটিন গড়ে তোলা। মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করার আগে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে হাঁটতে যাওয়া বা যেকোনো স্বাস্থ্যকর কাজ করাকে আপনার দৈনন্দিন নিয়মে পরিণত করুন। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রকৃতির সাথে কিছু সময় কাটানো আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। ডিজিটাল স্ক্রিনের নীল আলোর পরিবর্তে সূর্যের আলোর সাথে দিন শুরু করলে সারাদিন আপনি অনেক বেশি প্রাণবন্ত অনুভব করবেন এবং ভালো থাকার পেছনে নিয়মিত ব্যায়ামের ভূমিকা তো আমরা সবাই জানি। বলা হয়ে থাকে ‘Morning shows the day.’ সকালটা নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকলে, বাকি দিনটাও কাটবে সুন্দর। তাই দিনের শুরুটা প্রযুক্তির হাতে ছেড়ে না দেওয়াই ভালো।

 

নিজেকে সারাক্ষণ প্রযুক্তি দিয়ে ঘিরে রাখবেন না

 

মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি বা আর যেই প্রযুক্তিই আপনি বেশি ব্যবহার করেন না কেন, সেগুলো ব্যবহার করা যেন খুব সহজ না হয়। আপনার ড্রয়িং রুমের আসবাবপত্র এমনভাবে সাজিয়ে রাখুন যাতে আপনি সোফায় বসে খুব সহজে টিভি দেখতে না পারেন। তার পরিবর্তে ঘরের বড় জানালার দিকটা সামনে রেখে বসার ব্যবস্থা করুন। কম্পিউটার ব্যবহার করার পর তা পুরোপুরি আনপ্লাগ করে ফেলুন যাতে পরের বার আপনাকে পুরো কাজটা আবার করতে হয়। ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট সবসময় হাতের কাছে না রেখে আলমারি বা ড্রয়ারে তুলে রাখুন। মোবাইল বিছানায় নিয়ে না ঘুমানোই ভালো। অ্যালার্মের জন্য ঘড়ি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

 

আমাদের প্রয়োজনীয় কাজের অনেকটাই মোবাইল বা কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল। কাজে অমনোযোগ কমাতে মোবাইল এবং ব্রাউজারের নো ডিস্টার্ব ফাংশনটি ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া আপনার কাজের জন্য প্রয়োজন নেই এমন সব অ্যাপলিকেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া মোবাইল থেকে ডিলিট করে ফেলাও অনেকটা সাহায্য করতে পারে। ফোনের হোম পেইজে সারাক্ষণ ফেসবুকের লোগো দেখা গেলে বার বার ফেসবুকে ঢোকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। 

 

অ্যাপ ডিলিট করতে না চাইলে আপনি শিডিউল নোটিফিকেশনও ব্যবহার করতে পারেন যাতে আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে সারাদিনের নোটিফিকেশনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে এবং বার বার আপনাকে মোবাইল চেক করা থেকে বিরত রাখবে।

 

উদ্দেশ্য গড়ে তুলুন

 

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের একটি রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন এবং সেই সময়কে একটি উদ্দেশ্য দিন। আপনি যে বিষয়গুলো জানতে চান, যা যা দেখতে চান সেগুলো নোট করে রাখুন। উদ্দেশ্যহীনভাবে ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম স্ক্রল করা শুধুমাত্র সময়ের অপচয়। 

 

অন্য মাধ্যম বেছে নিন

 

এমন একটি শখ বেছে নিন যার সাথে প্রযুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। হতে পারে ছবি আঁকা বা রান্না করা – অথবা যা আপনার ভালো লাগে। পিডিএফ-এর বদলে সত্যিকার বই পড়ার অভ্যাস করুন। গান শোনার জন্য মোবাইলের পরিবর্তে অন্য কোনো মিউজিক প্লেয়ার ব্যবহার করতে পারেন। বিভিন্ন রকম অ্যাপ ব্যবহার না করে নোট করার জন্য কাগজ-কলম ব্যবহার করুন। হয়তো আপনি কোনো প্রোডাক্টিভ কাজের জন্যই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তারপরও ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে অতিরিক্ত সময় কাটানো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

 

প্রতিদিন আপনার পছন্দের কোনো বই থেকে কিছু অংশ পড়ার গোল তৈরি করুন। শীগ্রই দেখবেন প্রযুক্তির বাইরেও এমন কিছু আপনি পেয়ে গেছেন যার মাধ্যমে আপনি সুন্দর সময় কাটাতে পারছেন। এবং কাজের সময় এই অভ্যাসটা আপনাকে অমনোযোগীও করছে না!

 

নিজেকে সময় দিন

 

আমরা সবাই সামাজিক প্রাণী এটা তো সত্যি। কিন্তু কখনো কখনো আমাদের কিছুটা সময় একাও কাটানো উচিত। নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য কিছু সময় ব্যয় করা উচিত। প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য সামাজিক জগত থেকে নিজেকে দূরে রেখে নিজের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করুন। সেই যত্নটা হতে পারে মেডিটেশন, কোনো শখের কাজ করা, বাইরে হাঁটতে যাওয়া, নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়া অথবা যেকোনো কিছু। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আপনি যতই ভালোবাসেন না কেন, দেখবেন কিছু দিনের মাঝে এই সময়টা আপনার দিনের সেরা সময়ে পরিণত হবে।  

 

নিজেকে ‘প্রজেক্ট’ দিন

 

হয়তো আপনি অনেক দিন ধরেই ভাবছেন আপনার আলমারিটা গোছাতে হবে। অথবা হয়তো কোনো একটা বই পড়তে চেয়েও এখনও পড়া হচ্ছে না। সময়ের অভাবে যে কাজগুলো করা হয়ে উঠছিলো না, এখনই সুযোগ সেগুলো করে ফেলার। আপনার সেই হয়ে না ওঠা কাজগুলোর একটি তালিকা বানিয়ে ফেলুন এবং প্রতিদিন টিভি দেখে যে সময়টা কাটাতেন সে সময়ে একটু একটু করে সেগুলো করতে থাকুন।

 

প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করুন

 

অনেক অ্যাপ এবং ব্রাউজার অ্যাড অন আছে যা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওয়েবসাইট ব্লক করতে সাহায্য করবে। কাজ করার সময় এধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি নিজের প্রোডাক্টিভিটি অনেকটাই বাড়াতে পারেন।

 

এই অ্যাপগুলো আপনার প্রতিদিন ইন্টারনেটে কাটানো সময়ও হিসাব করতে পারে এবং আপনার বেছে নেওয়া লিমিট পাড় হয়ে গেলে আপনাকে তা জানিয়েও দেয়। এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি সহজেই আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অথবা গেমিং এর সময় কমিয়ে আনতে পারেন।

 

একদিনে কোনো অভ্যাসই বদলানো সম্ভব না। তাই ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন এবং আপনার জন্য কোন পদ্ধতিটি কাজে লাগবে তা খুঁজে বের করুন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Productivity

কোয়ারান্টাইন সময়কাল প্রোডাক্টিভ রাখতে করণীয়

Published

on

কোয়ারান্টাইনের  এই সময়টাতে আপনি কি বাসায় বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত? কি করবেন সেটা ভেবে পাচ্ছেন না? আপনি কি চান প্রোডাক্টিভ কিছু করে আপনার এই সময়টার সদ্ব্যবহার করতে? এইসব গুলো প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আজকের ব্লগটি আপনার জন্য।

চলুন দেখি, কোয়ারান্টাইনে ঘরে বসে কিভাবে আপনি আপনার সময়কে কাজে লাগাতে পারেন।

১. প্রার্থনা বা ইবাদাতঃ

প্রার্থনা বা ইবাদাত আমাদের সকলের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে প্রার্থনা করায় একদিকে যেমন পূণ্য লাভ করা যায় অন্যদিকে সময়ের ও সদ্ব্যবহার করা সম্ভব। যেহেতু, এটি মাহে রামাদানের মাস মুসলিমদের জন্য ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের একটা সুবর্ণ সুযোগ। প্রার্থনা কিংবা ইবাদাত ইহকাল এবং পরকাল উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

২. পরিবারকে সময় দেয়াঃ

আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হলো পরিবার। পরিবার আমাদের সবাইকে মায়ার একটি বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকার কারণে উদাহরণস্বরূপঃ চাকরি বা পড়ালেখার দরুন আমরা পরিবার থেকে দূরে থাকি তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক সময় পরিবারকে সময় দিত পারি না। সুতরাং, পরিবারকে সময় দেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার সময়কে কাজে লাগাতে পারেন এবং একইসাথে একটি সৌহার্দপূর্ণ গড়ে তুলতে পারেন।

৩. বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগঃ

আমাদের জীবনের সাথে আরেকটি বিষয় ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। হ্যাঁ, অনেকে হয়তো বুঝে গিয়েছেন। আর সেটি হলো- আমাদের বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয় স্বজন। আমাদের জীবনে এদের প্রভাবে একেবারেই অনস্বীকার্য। দুর্যোগের এই সময়ে বন্ধু বা আত্নীয় স্বজনের কাছে  আপনার একটি ফোন কল বা টেক্সট আনন্দের কারণ হতে পারে। আপনি চাইলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও সহজে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজ নিতে পারেন। এতে আপনার সমপর্ক আরো অনেক সুদৃঢ় হবে।

৪. অন্যদের সাহায্য করাঃ

আমরা জানি, মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ অন্যের সাহায্য ছাড়া কখনো চলতে পারে না। তাই সাহায্য নেয়ার পাশাপাশি অন্যকে সাহায্য করাটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনি বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে সহায়তা করতে পারেন। যেমনঃ সঠিক তথ্য দিয়ে, ভালো পরামর্শ দিয়ে, ভালো কাজে সমর্থন দিয়ে, আর্থিকভাবে ইত্যাদি।

৫. নতুন অভ্যাস তৈরীঃ

এই কথা আমরা সকলেই জানি, মানুষ হলো অভ্যাসের দাস। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ভালো অভ্যাস তৈরি হতে প্রায় ২১ দিন সময় লাগে। তাই খুব সহজে কোয়ারান্টাইনের এই সময়টাতে আপনি একটি হেভিট চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলতে পারেন। উদাহরণস্বরূপঃ আপনি রাতে দেরীতে ঘুমাতে অভ্যস্ত আপনি বিশ্বাস এবং সংকল্প করলেন যে আপনি আজকে থেকে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করবেন।

আরও পড়ুনঃ কাজে মনোযোগ ধরে রাখার উপায়।

৬.স্কিল ডেভেলপমেন্টঃ

একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে স্কিল খুব দরকারি একটি বিষয়। এই বাড়তি সময়টাকে কাজে লাগিয়ে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, গ্রাফিক্স, ভিডিও ইডিং প্রভৃতি শিখে ফেলতে পারেন। 

৭. কুকিং স্কিলঃ

কুকিং আমাদের সবার জীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কিল। বলা যায় সব ধরণের মানুষের জন্য এই স্কিল প্রয়োজনীয়। এটি বিদেশ ভ্রমণ এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার সময়ে বিশেষকরে হোস্টেল বা হলে থাকার ক্ষেত্রে খুবই দরকারি একটি বিষয়।

৮.শরীরচর্চা বা ব্যায়ামঃ

বলা হয়ে থাকে- সুস্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়ামের গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনি প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করে বাসায় বসে বিভিন্ন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন।

৯.অনলাইন কোর্সঃ

এই সময়ের একটি জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে অনলাইনে কোর্স করা। ঘরে বসেই ইন্টারনেট এবং আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন অথবা ডেক্সটপ/ ল্যাপটপ ব্যবহার করে Muktopaathbd, BYLCX, Bohubrihi, Udemy, Coursera ইত্যাদি সাইট থেকে আপনার প্রয়োজন এবং পছন্দসই কোর্স করে নিজের দক্ষতাকে ঝালাই করে নিতে পারেন। প্রায় বেশিরভাগ কোর্স ফ্রি এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। অনলাইন কোর্স করার জন্য যা লাগে তা হলো- ১. ডিভাইস (স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ)  ২. ইন্টারনেট ও ৩. আপনার সময়।

১০. বই পড়াঃ

একজন বিখ্যাত ব্যাক্তি বলেছেন-There are worse crimes than burning books. One of them is not reading them. বই পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার সময়কে আরো বেশি উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের নতুন বিষয় জানা এবং অভিজ্ঞতার  পরিধি টা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। শুরু করতে হবে ছোট ছোট বই দিয়ে। কারণ শুরু করতেই হয় ছোট দিয়ে, আস্তে আস্তে বড় হতে হয়।

১১. মুভি দেখাঃ

সময় উপভোগ করার অন্যতম একটি পদ্ধতি। একটি ভালো মুভির শিক্ষা আপনার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপবি হলিউড, বলিউড, ডালিউড, টালিউড থেকে আপনার রুচি অনুযায়ী মুভি বাছাই করতে পারেন।

১২. শখের কাজঃ

আমাদের সবার জীবনে শখ থাকে কিন্তু সময় এবং সুযোগের অভাবে আমাদের তা করা হয় না। এটি হতে পারে ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, ব্লগ লিখা, ভিডিও বানানো ইত্যাদি। যেমনঃ ব্লগ লিখা আমার একটি শখ। তাই আমি ব্লগ লিখি।

১৩. ইংরেজি শব্দভাণ্ডারঃ

বর্তমান যুগে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন ইংরেজি শব্দ শেখা আপনাকে অনেকটুকু এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আজকে থেকে  আপনি প্রতিদিন অন্তন ৫ টি নতুন  শব্দ শেখার একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলুন।

১৪. স্পিকিং ইংলিশঃ

আমরা অনেকেই ইংরেজিতে কথা বলতে চাই কিন্তু সময়ের অভাবে তা করা হয় না। তাই আজকে থেকে আপনি ইংরেজিতে কথা বলার ৭ দিনের একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলুন। আপনি নিজের কথা মোবাইলে রেকর্ড বা ভিডিও করুন। প্রত্যেক দিন অন্তুত ২-৩ বার করুন। দেখবেন ৭ম দিনে গিয়ে আপনার কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। এছাড়াও ম্যাসেঞ্জারে বন্ধুদের নিয়ে খুলে ফেলতে পারেন একটি “ইংলিশ ক্লাব”

১৫. নতুন ভাষা শেখাঃ

এই যুগের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আপনি নতুন ভাষা জানেন মানে অন্যদের থেকে একধাপ এগিয়ে গেলেন। এজন্য বিভিন্ন ভাষার মুভি সাবটাইটেল সহ দেখতে পারেন। 

 এছাড়াও আপনি ” Duolingo APP”

ব্যবহার করে শিখতে পারেন নতুন ভাষা।

APP Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.duolingo

পরিশেষে একটা কথা বলে শেষ করতে চাই আপনি একদিনে হয়তো সব সাজেশন বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। কিন্তু, সঠিক পরিকল্পনা এবং সংকল্পের মাধ্যমে বেশিরভাগ সাজেশন বাস্তবায়ন করবেন। তাই দেরী না করে আজকে থেকে প্লান করে কাজ শুরু করে দিন।

ব্লগটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।          

ধন্যবাদ 🌺

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Productivity

মিতব্যয়ী হবার সহজ উপায়

Published

on

‘অর্থ’ যার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে ‘অর্থ’ ছাড়া এক মুহূর্ত পথচলা প্রায় অসম্ভব। এটি এমন একটি জিনিস এবং এর ক্ষমতা এতোটাই যে, প্রচলিত যাবতীয় সব ধরনের সমস্যার সমাধান আপনি এটি দ্বারা করতে পারবেন। যদিও এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করতে পারে না। তাইতো কেউ লক্ষ্যাধিক আয় করেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন পরিচালনা করতে পারে না, এর কারণ হলো ‘অপব্যয়’। অপরদিকে কেউবা ত্রিশ হাজার টাকা আয় করেও সপরিবারে খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই জীবন পরিচালনা করছে, সাথে মাস শেষে কিছু অর্থ সঞ্চয়ও করতে পারছে যা শুধু মিতব্যয়ীদের দ্বারাই সম্ভব।

‘মিতব্যয়ীতা’ দৈনন্দিন জীবনে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকেই বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্পণ্য না করে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার করাই ‘মিতব্যয়ীতা’।

 

“Those who when they expend, are neither extravagant nor sparing, and it is a medium in-between.” – Al-Qurân

 

‘মিতব্যয়ীতা’ সফলতা অর্জনেরও একটি অন্যতম মাধ্যম। শুধু অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সবক্ষেত্রেই অতিরিক্ত বিলাসিতা ত্যাগ করে ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই জীবনে সফল হবার প্রথম ও প্রধান শর্ত। “মিতব্যয়ীতা” যা ধনী-গরিব সব শ্রেনীর মানুষের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো মিতব্যয়ীতায় সকলকে আরও উৎসাহিত করতে বিশ্বজুড়ে ৩১ অক্টোবর বিশ্ব মিতব্যয়ীতা দিবস পালন করা হয়। আসুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে সহজেই মিতব্যয়ী হওয়া যায়।  

 

সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ

মিতব্যয়ী হওয়ার মানে এই নয় যে, আপনি একেবারেই খরচ করা কমিয়ে দিবেন। বরং আপনার যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকু অবশ্যই ব্যয় করবেন তবে তা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং পরিকল্পনাটি অবশ্যই হতে হবে পূর্ববর্তী। কারণ, তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা অনুযায়ী যেকোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হবার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

 

“If we command our wealth, we shall be rich and free. If our wealth commands us, we are poor indeed.” ~ Edmund Burke

 

জীবন পরিচালনার জন্য ‘অর্থ’ যেহেতু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস, যা অনেক কষ্টে উপার্জন করতে হয়, তাই অর্থ সম্পর্কিত যেকোনো কাজই সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার অর্থ অপচয় অনেকাংশেই কমে আসবে। আর হ্যাঁ, শুধু অর্থনৈতিক নয়, জীবনের প্রতিটিক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা আপনার পথচলাকে সহজ করে দিবে।

 

পরিবারের সুস্থতা নিশ্চিতকরণ

“সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল” অতএব পরিবারের প্রত্যেকের সুস্থতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের কৃপণতা নয়। আমাদের দেশের গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা হলো- আমরা অসুস্থ হলে অল্পতেই সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করি না। এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে বা ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকা লাগবে ভেবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যেকোনো ফার্মেসি থেকে ঔষধ এনে সেবন করি। হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সুস্থতা অনুভব করি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সঠিক চিকিৎসার অভাবে সেই রোগটি আমাদের শরীরে সুপ্ত অবস্থায় রয়ে যায় যা ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করে।  

একটা সময় তা ভালোভাবেই প্রকাশ পায়, যখন তা সাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন আমাদের কাজ করার শক্তি অকেজো হয়ে পড়ে, ফলে উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি এবং চিকিৎসা খরচও হয়ে পড়ে অনেক ব্যয়বহুল। ভুগতে হয় পুরো পরিবারকে। এরকম হাজারো পরিবার আছে, যারা পরিবারের কোনো একজন সদস্যের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একটা সময় নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাই পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো অবহেলা নয়।

 

পরিকল্পিত বাজেট নির্ধারণ

ছোটবেলায় বাংলা বইয়ের এক কথায় প্রকাশে পড়েছিলাম, “আয় বুঝে ব্যয় করে যে= মিতব্যয়ী”। ঠিক তাই! আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই মিতব্যয়ী হতে হবে। আপনার ব্যয়ের পরিমাণ কখনো যেন আয়ের চেয়ে বেশি না হয় বরং কম করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে  চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন। সেই বাজেটই আপনাকে অপ্রয়োজনে অর্থ ব্যয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে।

 

“Don’t tell me what you value, show me your budget and I will tell you value.” ~ Joe Biden

 

বাজেট অনুযায়ী চলার সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো- বিভিন্ন খাতে আপনার বাজেটকৃত টাকাগুলো আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করে রাখুন। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা, বিনোদন ও অন্যান্য ব্যয় অনুযায়ী বাজেট করা যেতে পারে। এমনকি আপনি প্রতিটি বাজেটের অর্থ আলাদা খামে রেখে লিখে রাখুন, কোন অর্থটা কিসের জন্য আপনি ব্যয় করতে চান। ভুলেও এক বাজেটের অর্থ অন্য বাজেটে ব্যয় করবেন না। একটু কষ্ট করে হলেও চালিয়ে যাবেন, দেখবেন বাজেটকৃত মাসটি ঠিকই ভালোভাবে কেটে যাবে।

 

অবসর সময়কে কাজে লাগান

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা তাদের জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় অকারণ ও অবহেলায় নষ্ট করে থাকে। অথচ গড়ে ৬৫-৭০ বছরের ক্ষুদ্র জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য অতুলনীয়। তাই তো, বিখ্যাত সব সফল ব্যক্তিদের জীবনী লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তারা প্রতিদিন ১২-১৪ ঘন্টা নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন।

 

“Everyday is a bank account, and time is our currency. No one is rich, no one is poor, we’ve got 24 hours each.”  ~ Christopher Rice

 

মিতব্যয়ীতা শুধু অর্থের জন্যই নয় বরং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আপনাকে মিতব্যয়ী হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার কাজ, খাওয়া, ঘুম, বিনোদন ও অন্যান্য কাজ সম্পাদনের পরেও যদি কিছু অবসর সময় পেয়ে থাকেন তাহলে সে সময়টুকুও বাড়তি আয়ের জন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করুন। পরিমাণে অল্প হলেও সমস্যা নেই। ঐ অর্থগুলো আপনার সন্তানের ঐচ্ছিক চাহিদা, বাড়তি খরচ ও সঞ্চয় বৃদ্ধিতে কাজে দিবে।

 

মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন

মাদক সেবনের কোনো ইতিবাচক দিক নেই, যা আছে পুরোটাই নেতিবাচক। এটি আপনার অর্থ, শারীরিক, মানসিক ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে এটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন আগে এক প্রেস কনফারেন্সে ‘জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর’ এর সদস্য ডা. অরুপ রতন চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে প্রায় ৭০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে, আর প্রতিবছর মাদকের পেছনে তারা ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।’   

অতএব মাদক আপনাকে দিন দিন শুধু ব্যর্থতার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে, সফলতার দিকে নয়। এবং মাদক গ্রহণের ফলে সৃষ্ট রোগসমূহও জীবননাশক। যা আপনাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিবে। তাই  আপনি যদি ন্যূনতম কোনো প্রকার মাকদের সাথেও জড়িত থাকেন, তাহলে আজ হতেই এ পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার চেষ্টা করুন। এতে আপনি শারীরিকভাবে যেমন সুস্থ থাকবেন, তেমনি প্রতিদিন মাদকের পেছনে নষ্ট হতে যাওয়া অর্থগুলোও বেঁচে যাবে। এই মিতব্যয়ীতাই একদিন আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়

মনে রাখবেন, জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে বিপদ আসাটা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং সেই যুদ্ধক্ষেত্রের বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনাকেই লড়তে হবে। এখানে কেউ আপনাকে সাহায্য করতে আসবে না, কারণ তারাও ঠিক আপনার মতোই তাদের জীবনযুদ্ধে লড়ছে জীবনযুদ্ধের বিপদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করতে পারে আপনারই গড়া সঞ্চয়। তাই আপনার আয়-ব্যয় যাই হোক না কেন, সঞ্চয়ের জন্য আলাদা একটি বাজেট রেখে দিবেন।  

 

“Small amounts saved daily add up to huge investments in the end” ~ Margo Vader

 

আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় সাধন করে প্রতি মাসে নিদির্ষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয় হিসেবে রেখে আপনি আনুপাতিক বাজেট নির্ধারণ করতে পারেন। এই বাজেট পদ্ধতিকে অনেকেই ৫০-৩০-২০ বাজেটও বলে থাকে। এই পদ্ধতিতে আপনার অর্জিত টাকা আনুপাতিক হারে ব্যয় করতে হবে। যেমন- ৫০ শতাংশ অর্থ আপনি এমন কাজে ব্যয় করবেন যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং কোনোভাবেই অবহেলা করা সম্ভব না। ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করবেন আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনে এবং বাকি ২০ শতাংশ অর্থ আপনি সঞ্চয় করবেন ও প্রয়োজন ছাড়া সঞ্চয়ের অর্থ ব্যয় করা থেকে বিরত থাকবেন।

 

নিজের কাছে অতিরিক্ত নগদ অর্থ রাখবেন না

আপনি অনেক ভালো একটি চাকরি করেন কিংবা বড় একজন ব্যবসায়ী। আপনার কাছে সবসময় অতিরিক্ত অর্থ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে বর্তমান সময়ে নিজের কাছে নগদ অর্থ রাখাটা কি আদৌ নিরাপদ? মোটেও না! এটি যেমন আপনাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাবে, ঠিক তেমনি নগদ অর্থ থাকার ফলে আপনার অতিরিক্ত খরচের পরিমাণও বেড়ে যাবে। কেননা হাতে নগদ টাকা থাকলে তা আমরা অনায়াশেই শেষ করে ফেলি।

মাসের শুরুতেই আপনার বাজেট অনুযায়ী অর্থগুলো আলাদা করে রাখার পর অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় হিসেবে রেখে দিন। বাইরে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই লিস্ট করে রাখুন এবং সেই খরচ অনুযায়ী টাকা সাথে নিন। অতিরিক্ত অর্থ সাথে নিলে প্রয়োজনের বাইরেও বিভিন্ন পণ্য কেনার প্রবণতা এসে যায়, যা আপনাকে মিতব্যয়ী হতে বাধা প্রদান করে।

সুতরাং, আপনি মানুন আর না মানুন, বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ‘অর্থ’। আর এই অর্থ উপার্জন করা কতোটা কঠিন সেটা ভালো করেই জানেন। তাই আপনার কষ্টার্জিত অর্থ কখন এবং কীভাবে সঠিক জায়গায় ব্যয় করবেন তার পরিকল্পনা আপনাকেই করতে হবে। মূল্যবান জিনিস মূল্যবান কাজেই ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনি, আপনার পরিবার ও আপনার আশেপাশের মানুষগুলোকে নিয়ে খুব ভালো থাকতে পারবেন।

Please follow and like us:
error0

Tweet
20
fb-share-icon20

Continue Reading

Productivity

কাজ আর জীবনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবো?

Published

on

ব্যস্ততাই জীবন নাকি জীবন মানেই ব্যস্ততা? এই ‘ব্যস্ততা’ শব্দটা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক ব্যস্ততা, পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আরো কত শত ব্যস্ততা আমাদের! এতো ব্যস্ততা আমাদের একটা জীবনকে দুইভাগ করে ফেলেছে। এর একটা যদি হয় ব্যক্তিগত জীবন, অপরটা পেশাগত জীবন এবং অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বিষয়টা খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই যখন পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। তখনই শুরু হয় হতাশা, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ইত্যাদি ইত্যাদি… এই সাংঘর্ষিক অবস্থা এড়াতে দরকার দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিকল্পনা আর একাগ্রতা। তাহলে কি কি করতে হবে চলুন জেনে নেই-

 

ভয়কে ঝেড়ে ফেলা

 

ভয় মানুষের জীবনের খুব সহজাত একটা বিষয়। আমার মনে হয় না এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে যার ভেতরে কোনো কিছুর ভয় নেই। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ভয় আছে যা একদম অমূলক। যেমন, আমার কিছু পরিচিত মানুষ আছে যারা কাজের মধ্যে থাকতে থাকতে এমন ভাবতে থাকে যেন একটু এদিক-ওদিক হলেই অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে! কিন্তু যখন প্রশ্ন করি কি সমস্যা? উত্তরে প্রায়ই শুনতে হয়, এই হবে, কিছু একটা! মানে ফলাফল অনিশ্চিত। আচ্ছা ভাবুন, আপনি যখন কাজ করছেন তখন যদি আপনার সেরাটা দিয়েই করেন, তাহলে অতিরিক্ত কাজের লুপে অযথাই কেন নিজেকে আটকাবেন? পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা এই লুপ। কাজের বাইরে অন্যকিছু মাথাই আসে না। কোনোভাবে এর বলয় থেকে বের হতে না পারলে পুরো জীবনটাই এর মধ্যে আটকে যায়। বরং এমন করে কেন ভাবছেন না, সেই সময়টা নিজের জন্য ব্যয় করাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সাথে সেই ব্যক্তিগত সময়টুকু আপনাকে পরের কাজটা করতে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আর এই আত্মবিশ্বাস অন্য কোনো কিছু থেকেই পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে আপনার সেই কল্পনীয় কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে কেন গুঁটিয়ে রাখবেন? নিজের ইচ্ছাটাকে কেন দমিয়ে রাখবেন? এবার নিজেই ভাবুন, কোনটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

 

“If you want it, go for it. Don’t always play it safe or you’ll die wondering” -Tony Robbins

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট তৈরি করা

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া পথ চলা অনেকটা সমুদ্রে সাঁতরানোর মতো, যার কোনো শেষ নেই এবং নেই কোনো সন্তুষ্টি। কোনো কাজ করার শুরুতেই ঠিক করে নিন আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী মাসে অথবা আগামী কোয়ার্টারে আপনার টার্গেট কতোখানি হবে। কেবল তখনই আপনি সময়কে কাজের গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়ে নিতে পারবেন।

 

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট আগের রাতেই বানিয়ে ফেলা। প্রতিদিন অনেক কিছু করতে চেয়ে না পারার থেকে নিয়মিত ৩-৫টি কাজের অভ্যাস করা বেশি কার্যকরী। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য সময়কে একটা সুবিধামতো ছকে আবদ্ধ করা, অবশ্যই লিষ্টটাকে টেনে লম্বা করা নয়। তাছাড়া অসম্পূর্ণ টু-ডু লিষ্ট আপনার হতাশার কারণ এবং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

 

কাজের গুরুত্ব বাছাই করা

 

টু-ডু লিষ্ট তো হলো, কিন্তু লিষ্টের সবগুলো কাজ কি আপনি একইসাথে করতে পারবেন? না, সম্ভব নয়। প্রতিটি দিনের যেমন আলাদা গুরুত্ব থাকে, তেমনি প্রতিদিনের কাজগুলোরও আলাদা গুরুত্ব থাকা উচিত। তাই আজকের দিনে কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি একটু কম গুরুত্বপূর্ণ সেটি ঠিক করে নিতে হবে। কারণ, একই কাজ বিভিন্ন দিনে বিভিন্নভাবে বিবেচিত হতেই পারে। যেমন ধরুন পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এইসব দিনে অন্য কিছু গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়, তেমনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, প্রোজেক্ট তৈরি, ডেডলাইন এইসব ইস্যুতে অবশ্যই আপনার গুরুত্ব সেইদিকেই থাকা উচিত। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বিষয় চলে আসলেই সমস্যার শুরু। তখন আপনাকে নিজের সাথে মধ্যস্থতা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, গুরুত্ব বুঝে কাজ করা আপনার টু-ডু লিষ্ট কমপ্লিট করার থেকে বেশি জরুরি।  

 

“Managing your time without setting priorities is like shooting randomly and calling whatever you hit the target.” -Peter Turla

 

না বলতে শেখা

 

”না” শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, তাই না? সবাই শুধু “হ্যাঁ” শুনতে চায়, সেটা যাই হোক না কেন! কিন্তু বিষয়টা অবাক করার মতো হলেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা কাউকে “না” বলতে পারে না এবং এই শ্রেণীর মানুষ সকলের খুব পছন্দের হয়। কিন্তু একই সাথে এই স্বভাব নিজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনি কী পেতে চান, কোন ধরণের সম্পর্কে জড়াতে চান, কোথায় সময় দেয়া বেশি জরুরী এই সিদ্ধান্তগুলো খুব জরুরি। কারণ, খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি এমন অনেক অনুরোধ ও সুযোগ পাবেন, যেগুলো হয়তো আপনি চাইছেন না কিন্তু আবার “না” বলে ছেড়েও দিতে পারছেন না। ঠিক এই সময় নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকাটা খুব দরকার। ‘হ্যাঁ’ শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই বলবেন, যে কাজটি আপনার জীবনে কোনো ভ্যালু এড করতে পারে। আর বাকি সব ক্ষেত্রে ‘না’ বলার চেষ্টা করুন। কারণ, সবার জন্যই সময় খুব সীমিত। কোনো কিছুতে ‘না’ করা মানে সেই সময়টা আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে ব্যয় করা। তাই ‘না’ বলতে শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  

 

“It’s only by saying NO that you can concentrate on the things that are really important.” -Steve Jobs

 

নিজের জন্য প্রতিদিন এক ঘন্টা এবং একটি পছন্দের কাজ

 

আপনি শেষ কবে গলা ছেড়ে গান গেয়েছেন? কিংবা শেষ কবে বন্ধুদের সাথে জমপেশ আড্ডা, মুভি অথবা মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং খেলেছেন? অনেকদিন হয় না, তাই না! ভেবে দেখুন তো নিজের ইচ্ছা, ভালোলাগা গুলোই যখন অপূর্ণ থেকে যায়, তখন এতো কাজ করা কিসের জন্য তাহলে! তাই সারাদিন যতো কাজই থাকুক না কেন একঘন্টা নিজের জন্য রাখবেন। আর এই এক ঘন্টার জন্য কোনো টু-ডু লিষ্টেরও দরকার নেই। বই পড়তে মন চাইলে বই পড়বেন, লিখতে ইচ্ছা হলে লিখতে বসে যাবেন, বিশ্রাম দরকার হলে বিশ্রাম কিংবা ব্যায়াম, মেডিটেশন অথবা আপনার পছন্দের যেকোনো কিছু করতে পারেন। এইটা কোনো কাজ নয়, বরং আপনার প্রাপ্য। তাই সময়টাকে মূল্যবান করে তুলুন।

 

“The time you enjoy wasting is not wasted time because it’s your personal time.” -Bertrand Russel

 

পারিবারিক সময় বাড়িয়ে দিন

 

পরিবার শব্দটাই প্রত্যেকের জন্যই বাড়াবাড়ি রকম আবেগের একটা বিষয় এবং এটাই মনে হয় একমাত্র জায়গা যা কিনা কোনো রকম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই সবসময় আপনার পাশে থাকে। আপনার হাসিতে সব থেকে উচ্চস্বরে হাসবে আবার আপনার কান্নায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে। তাই কাজের বাইরের সময়ের বেশিরভাগটাই পরিবারের প্রাপ্য। যাদের পরিবার নেই কিংবা দূরে থাকেন তারা বুঝে এর গুরুত্ব কতোটুকু। তাই নিয়মিত বাবা-মার খোঁজ খবর নিন, একসাথে ডিনারের অভ্যাস করুন, একসাথে শপিংয়ে যান, অথবা পারিবারিক পিকনিক। সব মিলে যে পারিবারিক আবহ কিংবা অনুভূতি পাওয়া যায় সেটা কোনোভাবেই অন্য কিছু থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এরপর যখনই আপনি কাজের মধ্যে থাকবেন আপনার মানসিক পরিবর্তনটা ঠিক বুঝতে পারবেন। কারণ, পারিবারিক সুখ না থাকলে নিজে সুখী হওয়া যায় না।

 

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করা

 

বর্তমান সময়ে ব্যায়াম শুনলেই যেন  gym, weight lifting, dumbbells, treadmill এইসব নাম মাথায় আসে। কিন্তু নিয়মিত হাঁটাহাটি করা, সকালে ঘুম থেকে উঠা, পরিমিত খাবার খাওয়া এইসবও ব্যায়ামেরই অংশ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিকতার পরিবর্তন ঘটায়। আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা, মানসিক স্থিতিশীলতা, সময়ানুবর্তী, একাগ্রতা বেড়ে যায় নিয়মিত ব্যায়ামের দ্বারা। আর শারীরিক সুস্থতা তো রয়েছেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময় বের করে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। দেখবেন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও স্থিতিশীল হয়ে যাবেন।  

 

“Physical fitness is not only one of the most important keys to a healthy body, but it is also the basis of dynamic and creative intellectual activity.” -John F. Kennedy

 

সবশেষে যেটা বলা জরুরী সেই শব্দটা হল ‘অভ্যাস’। উপরের প্রতিটি জিনিসের সার্থকতা অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। দু’একবার করেই আপনি ফলাফল আশা করতে পারেন না। কিন্তু একবার অভ্যাস করে ফেললেই ব্যক্তিগত, পেশাগত, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে খুব সহজেই মানিয়ে যাবেন।    

Please follow and like us:
error0

Tweet
20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial