জেনে নাও অন্যদের থেকে এগিয়ে যেতে তোমার করণীয়

আমরা সবাই আমাদের জীবনে সফলতা কামনা করি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষেই সফলতার শর্টকাট খুঁজে যা তাদেরকে কখনই সফলতম করে না। আজ আমি তোমাদের সামনে এমন কিছু দিক তুলে ধরবো যেগুলো যদি তুমি নিজের অভ্যাসে পরিণত করতে পারো তাহলে সফলতম হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারো।

 

(১) অধ্যয়ন করো যখন অন্যেরা ঘুমাচ্ছে :

 

তুমি ভবিষ্যতে কি করবে এটি তোমার বর্তমানের অধ্যয়নের উপর নির্ভর করবে। যত বেশি অধ্যয়ন করবে ততো বেশি জানবে, আর এই জানার বিষয় বস্তু গুলো তোমার সাফল্যের এক একটি সিড়িঁ হিসেবে কাজ করবে। তোমার অধ্যয়নের পরিমান তোমাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে তুলবে। আর এই অধ্যয়নের সময় যদি তোমাকে তোমার আলস্য গ্রাস করে তাহলে জীবন যুদ্ধে তুমি নিজেই নিজের পায়ে শিকল দিয়ে দিলে। নিজেকে যদি সফলতম ব্যক্তি বর্গের কাতারে দেখতে চাও তাহলে অন্যেদের চেয়ে তোমাকে একটু বেশি প্রয়াস করতে হবে। যখন অন্যেরা সময় নষ্ট করছে বা ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে তখন তোমাকে তোমার মূল্যবান সময় গুলোকে কাজে লাগাতে হবে। দেখবে কাজে লাগানো সময় গুলোই তোমাকে তোমার স্বপ্নের দ্বার প্রান্তে পৌঁছায় দিবে।

 

 

 

() সিদ্ধান্ত নাও যখন অন্যেরা দেরি করছে : 

 

I don’t believe in taking the right decisions,  I take decisions and then make them right – Ratan Tata

 

এই উক্তিটি থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। বেশিরভাগ মানুষই সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে। কারন তাদের নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস নাই। তারা তাদের আশে পাশের মানুষ জনের থেকে মতামত জানতে চায়। আর মতামত অনেক সস্তা একটি জিনিস। খুব সহজেই অন্যের মতামত পাওয়া যায়। তোমার সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে। এর জন্য সময় ব্যয় করা যাবে না। কারন যখন তুমি সিদ্ধান্ত নিতে সময় ব্যয় করবে, এক সময় দেখবে সময়ের সাথে আরও অন্য কাজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতে করে আগের কাজটি সিদ্ধান্তহীনতার কারনে করাই হবে না। তাই যা ভাবছো সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে চর্চা শুরু করে দাও। পরে নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক করতে দিন-রাত লেগে পরো।

 

 

 

() নিজেকে প্রস্তুত করো যখন অন্যেরা দিবা স্বপ্ন দেখছে :

যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো সেটি তোমার স্বপ্ন নয়,  স্বপ্ন সেটিই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না। – এ.পি.জে আব্দুল কালাম

স্বপ্ন তো সবাই দেখে কিন্তু অনেকেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারেনা। কারন তারা জানে না একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পিছনে কত ত্যাগ, বিসর্জন, পরিশ্রম থাকে। তুমি আগে মনস্থির করো তুমি ভবিষ্যতে কি করতে চাও। তারপর নিজেকে নিজের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলো। তোমার প্রস্তুতি তোমার কাছেই। নিজের দৈনিক কাজগুলোর একটি লিস্ট করো এবং দিন শেষে দেখো কাজগুলো সময় মতো শেষ করেছো কিনা। যদি কোন কাজ বাদ পরে তাহলে আফসোস হবে এবং সেই আফসোস এই তোমাকে পরবর্তি কাজ সময়মত  শেষ করার প্রেরণা  জোগাবে। আর কোনো কাজ ফেলে রাখবা না। যদি মনে করো সেই কাজ কাল থেকে করবে, তবে বলে রাখছি সেই ‘কাল’ আর কখনও আসবে না।

 

 

() শুরু করো যখন অন্যেরা সম্ভব কিনা চিন্তা করছে : 

 

একটি কাজ শুরু করার সময় অনেকেই দ্বিধায় ভূগে যে কাজটি করব কি করব না। এই ধরনের মন মানসিকতা থেকে তোমাকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারন ‘দ্বিধা’ তোমাকে কখনই ভালো ফলাফল দিবে না। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করো এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে তথ্য সংগ্রহ করো এবং সেই অনুযায়ী প্রয়াস চালিয়ে যাও। প্রত্যেকটি কাজই তোমাকে অভিজ্ঞতা ও বিপুল পরিমাণ জ্ঞানের জোগান দিবে। এই শুরু করার মন মানসিকতার অভাবে কত জনের যে কত গঠনমূলক কাজ ধামা চাপা পরে যাচ্ছে। কাজটি সম্ভব কি সম্ভব না এই চিন্তা করলে আজকের এই আধুনিক জীবন-যাপন আমাদের দেখতে হতো না। তাই নিজের আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের পরিশ্রমকে একি সুতোয় বেঁধে কাজ শুরু করে দাও।

 

 

 

() কাজ করো যখন অন্যেরা ইচ্ছা পোষণ করছে :

 

তোমার কাজেই তোমার পরিচয়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখো এবং নিজের কাজকে ভালোবাসো। সেটি যে ধরনের ভালো কাজেই হোক না কেনো। কোনো কাজই ছোট নয়। তুমি যদি নিজের কাজকে ভালোবাসতে পারো এবং কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে পারো তাহলে সফলতা তোমাকে ধরা দিবেই! অনেকেই কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে কিন্তু কাজ শুরু করতে পারে না, কারন তারা অলসতার বেড়ি জালে আবদ্ধ। তোমার কাজই তোমাকে সাধারনের থেকে পৃথক করে তুলবে। আর সফলতার কোনো গোপন মন্ত্র নেই। সফলতা হচ্ছে নিজেকে প্রস্তুত করা এবং কঠোর পরিশ্রমের সন্নিবেশন।

      

Success is not an accident. It is hard work, perseverance, learning, studying, sacrifice and most of all, love of what you are doing or learning to do. – Pele

 

তাই নিজেকে সাহস জুগিয়ে কাজ করে যাও এবং অন্যদের থেকে নিজেকে ভিন্ন করে তুলো।

 

 

 

() বাঁচিয়ে রাখো যখন অন্যেরা নষ্ট করছে :

 

তোমার বর্তমান এই তোমার ভবিষ্যত। অর্থাৎ তুমি এখন যা করবে তাই তোমার পরবর্তি সময়ে কাজে লাগবে। আর পরবর্তি সময়টিতে তোমার সঞ্চয় এই পারবে তোমাকে সামনে এগিয়ে নিতে। হয়তো তোমার ভবিষ্যতে কিছু করার পরিকল্পনা আছে আর তোমার পরিকল্পনার জন্যে যদি তুমি এখন থেকেই কিছু সঞ্চয় করে রাখো তাহলে তুমি তোমার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের জন্য এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। আর তোমার বিপদের সময়ও তোমার সঞ্চয় তোমাকে সাহায্য করবে। সঞ্চয় গুলো একসময় তোমার মূলধন এ পরিণত হবে যা তোমার সামনের চলার পথে তোমাকে অনেক সাহস জুগাবে। আমরা পিঁপড়াদের কাছেই শিক্ষা নিতে পারি। তারা কিন্তু শীতের জন্য আগে থেকেই কিছু খাবার বাঁচিয়ে রাখে। তাই যাই উপার্জন করছো তার কিছু অংশ বাঁচিয়ে রাখো।

 

 

 

() মন দিয়ে শোনো যখন অন্যেরা কথা বলছে :

 

একজন ভালো শ্রোতা হওয়াও বিশেষ একটি স্কিল। যখন কারো সাথে কথোপকথন হবে মন দিয়ে শুনতে হবে তার কথা। এতে করে শুধু যে তোমার সাথে ঐ ব্যক্তির ভালো সম্পর্ক হবে তা না বরং তোমার মধ্যে একটি ভালো গুণের বিকাশ ও ঘটবে। ক্লাশ, সেমিনার, মিটিং যেখানেই যাও তুমি যদি একজন ভালো শ্রোতা হও তাহলে তোমার সময় বাঁচবে এবং কথোপকথনের প্রয়োজনীয় পয়েন্ট গুলো তুমি তোমার কাজে প্রয়োগ করতে পারবে। “Listen more than you speak” আগে ভালোভাবে শুনো বক্তা তোমাকে কি বলছে। তার কথার মাঝে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। তারপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এই গুনটি তোমাকে একজন ভালো ব্যক্তিত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

 

 

() হাসো যখন অন্যেরা বিরক্ত হচ্ছে :

We shall never know all the good that a simple smile can do – Mother Teresa

 

যারা হাসতে জানে তারা বাঁচতেও জানে। তোমার হাসি যে শুধু তোমাকে ভালো রাখবে তা না, তোমার আশেপাশের মানুষদের কেও ভালো রাখবে। তুমি যখন কারো সাথে পরিচিত হবার সময় তার দিকে তাকিয়ে একটি মৃদু হাসি দাও তাহলে তার মনে তোমার প্রতি ইতিবাচক ধারনা আসবে। তোমার হাসি তোমার কাজ করার স্পৃহা বাড়াবে। তোমার মনের পাশাপাশি তোমার স্বাস্থ্য ও ভালো রাখবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা জীবনে বেশি হাসি-খুশি থাকে তারা বাকিদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে। দুশ্চিন্তা, চাপ, হতাশা এইসবও কমে যাবে যদি তুমি বেশিরভাগ  সময় হাসি-খুশি থাকো। হাসলে মন ভালো থাকবে আর মন ভালো থাকলে কাজেও মন দেওয়া যাবে।

 

 

() ধৈর্য ধরো যখন অন্যেরা ছেড়ে দিচ্ছে : 

 

শুধু কাজ করে গেলে হবে না। তোমাকে ধৈর্য ও ধরতে হবে। হয়তো তুমি কোনো কাজে প্রথম কয়েকবার সাফল্য পাবে না। তারমানে এই না যে  তুমি হেরে গেলে। হেরে যাওয়ার চিন্তা করে যদি কাজ ছেড়ে দাও তাহলে সব পরিশ্রম বিফলে যাবে। প্রতিটি কাজে তোমাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। সফলতার দেখা পেতে হলে তোমাকে ধৈর্যের পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। “Patience is bitter, but its fruit is sweet.” – এর অর্থ ধৈর্যের ফল হয় মিষ্টি। কথাটি একদম সঠিক। কোনো কাজে তাড়াহুড়া করা যাবে না। কারন তাড়াহুড়ার ফল কখনও ভালো হয় না। সব কাজেই তোমাকে ধৈর্যের সন্নিবেশন ঘটাতে হবে। তাহলেই তুমি তোমার সাফল্যের কামনা করতে পারো।

 

 

তুমি যদি নিজেকে বদলাতে চাও, অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যেতে চাও তাহলে এই অভ্যাস গুলোরপ্ত করে ফেলো। নিজের সাথেই প্রতিযোগিতা করো, তাহলেই আস্তে আস্তে নিজের উন্নতি করতে পারবে। মনে রাখবে তোমার ভাগ্যের লিখন তোমার কপালে নয় বরং তোমার নিজ কর্মে।

 

https://www.facebook.com/spikestoryOfficial/videos/561753910830081/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *