Connect with us

Productivity

জেনে নাও অন্যদের থেকে এগিয়ে যেতে তোমার করণীয়

Published

on

আমরা সবাই আমাদের জীবনে সফলতা কামনা করি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষেই সফলতার শর্টকাট খুঁজে যা তাদেরকে কখনই সফলতম করে না। আজ আমি তোমাদের সামনে এমন কিছু দিক তুলে ধরবো যেগুলো যদি তুমি নিজের অভ্যাসে পরিণত করতে পারো তাহলে সফলতম হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারো।

 

(১) অধ্যয়ন করো যখন অন্যেরা ঘুমাচ্ছে :

 

তুমি ভবিষ্যতে কি করবে এটি তোমার বর্তমানের অধ্যয়নের উপর নির্ভর করবে। যত বেশি অধ্যয়ন করবে ততো বেশি জানবে, আর এই জানার বিষয় বস্তু গুলো তোমার সাফল্যের এক একটি সিড়িঁ হিসেবে কাজ করবে। তোমার অধ্যয়নের পরিমান তোমাকে বাকিদের থেকে আলাদা করে তুলবে। আর এই অধ্যয়নের সময় যদি তোমাকে তোমার আলস্য গ্রাস করে তাহলে জীবন যুদ্ধে তুমি নিজেই নিজের পায়ে শিকল দিয়ে দিলে। নিজেকে যদি সফলতম ব্যক্তি বর্গের কাতারে দেখতে চাও তাহলে অন্যেদের চেয়ে তোমাকে একটু বেশি প্রয়াস করতে হবে। যখন অন্যেরা সময় নষ্ট করছে বা ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে তখন তোমাকে তোমার মূল্যবান সময় গুলোকে কাজে লাগাতে হবে। দেখবে কাজে লাগানো সময় গুলোই তোমাকে তোমার স্বপ্নের দ্বার প্রান্তে পৌঁছায় দিবে।

 

 

 

() সিদ্ধান্ত নাও যখন অন্যেরা দেরি করছে : 

 

I don’t believe in taking the right decisions,  I take decisions and then make them right – Ratan Tata

 

এই উক্তিটি থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। বেশিরভাগ মানুষই সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে। কারন তাদের নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস নাই। তারা তাদের আশে পাশের মানুষ জনের থেকে মতামত জানতে চায়। আর মতামত অনেক সস্তা একটি জিনিস। খুব সহজেই অন্যের মতামত পাওয়া যায়। তোমার সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে। এর জন্য সময় ব্যয় করা যাবে না। কারন যখন তুমি সিদ্ধান্ত নিতে সময় ব্যয় করবে, এক সময় দেখবে সময়ের সাথে আরও অন্য কাজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতে করে আগের কাজটি সিদ্ধান্তহীনতার কারনে করাই হবে না। তাই যা ভাবছো সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে চর্চা শুরু করে দাও। পরে নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক করতে দিন-রাত লেগে পরো।

 

 

 

() নিজেকে প্রস্তুত করো যখন অন্যেরা দিবা স্বপ্ন দেখছে :

যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো সেটি তোমার স্বপ্ন নয়,  স্বপ্ন সেটিই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না। – এ.পি.জে আব্দুল কালাম

স্বপ্ন তো সবাই দেখে কিন্তু অনেকেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারেনা। কারন তারা জানে না একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পিছনে কত ত্যাগ, বিসর্জন, পরিশ্রম থাকে। তুমি আগে মনস্থির করো তুমি ভবিষ্যতে কি করতে চাও। তারপর নিজেকে নিজের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলো। তোমার প্রস্তুতি তোমার কাছেই। নিজের দৈনিক কাজগুলোর একটি লিস্ট করো এবং দিন শেষে দেখো কাজগুলো সময় মতো শেষ করেছো কিনা। যদি কোন কাজ বাদ পরে তাহলে আফসোস হবে এবং সেই আফসোস এই তোমাকে পরবর্তি কাজ সময়মত  শেষ করার প্রেরণা  জোগাবে। আর কোনো কাজ ফেলে রাখবা না। যদি মনে করো সেই কাজ কাল থেকে করবে, তবে বলে রাখছি সেই ‘কাল’ আর কখনও আসবে না।

 

 

() শুরু করো যখন অন্যেরা সম্ভব কিনা চিন্তা করছে : 

 

একটি কাজ শুরু করার সময় অনেকেই দ্বিধায় ভূগে যে কাজটি করব কি করব না। এই ধরনের মন মানসিকতা থেকে তোমাকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারন ‘দ্বিধা’ তোমাকে কখনই ভালো ফলাফল দিবে না। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা করো এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে তথ্য সংগ্রহ করো এবং সেই অনুযায়ী প্রয়াস চালিয়ে যাও। প্রত্যেকটি কাজই তোমাকে অভিজ্ঞতা ও বিপুল পরিমাণ জ্ঞানের জোগান দিবে। এই শুরু করার মন মানসিকতার অভাবে কত জনের যে কত গঠনমূলক কাজ ধামা চাপা পরে যাচ্ছে। কাজটি সম্ভব কি সম্ভব না এই চিন্তা করলে আজকের এই আধুনিক জীবন-যাপন আমাদের দেখতে হতো না। তাই নিজের আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের পরিশ্রমকে একি সুতোয় বেঁধে কাজ শুরু করে দাও।

 

 

 

() কাজ করো যখন অন্যেরা ইচ্ছা পোষণ করছে :

 

তোমার কাজেই তোমার পরিচয়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখো এবং নিজের কাজকে ভালোবাসো। সেটি যে ধরনের ভালো কাজেই হোক না কেনো। কোনো কাজই ছোট নয়। তুমি যদি নিজের কাজকে ভালোবাসতে পারো এবং কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে পারো তাহলে সফলতা তোমাকে ধরা দিবেই! অনেকেই কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে কিন্তু কাজ শুরু করতে পারে না, কারন তারা অলসতার বেড়ি জালে আবদ্ধ। তোমার কাজই তোমাকে সাধারনের থেকে পৃথক করে তুলবে। আর সফলতার কোনো গোপন মন্ত্র নেই। সফলতা হচ্ছে নিজেকে প্রস্তুত করা এবং কঠোর পরিশ্রমের সন্নিবেশন।

      

Success is not an accident. It is hard work, perseverance, learning, studying, sacrifice and most of all, love of what you are doing or learning to do. – Pele

 

তাই নিজেকে সাহস জুগিয়ে কাজ করে যাও এবং অন্যদের থেকে নিজেকে ভিন্ন করে তুলো।

 

 

 

() বাঁচিয়ে রাখো যখন অন্যেরা নষ্ট করছে :

 

তোমার বর্তমান এই তোমার ভবিষ্যত। অর্থাৎ তুমি এখন যা করবে তাই তোমার পরবর্তি সময়ে কাজে লাগবে। আর পরবর্তি সময়টিতে তোমার সঞ্চয় এই পারবে তোমাকে সামনে এগিয়ে নিতে। হয়তো তোমার ভবিষ্যতে কিছু করার পরিকল্পনা আছে আর তোমার পরিকল্পনার জন্যে যদি তুমি এখন থেকেই কিছু সঞ্চয় করে রাখো তাহলে তুমি তোমার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের জন্য এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। আর তোমার বিপদের সময়ও তোমার সঞ্চয় তোমাকে সাহায্য করবে। সঞ্চয় গুলো একসময় তোমার মূলধন এ পরিণত হবে যা তোমার সামনের চলার পথে তোমাকে অনেক সাহস জুগাবে। আমরা পিঁপড়াদের কাছেই শিক্ষা নিতে পারি। তারা কিন্তু শীতের জন্য আগে থেকেই কিছু খাবার বাঁচিয়ে রাখে। তাই যাই উপার্জন করছো তার কিছু অংশ বাঁচিয়ে রাখো।

 

 

 

() মন দিয়ে শোনো যখন অন্যেরা কথা বলছে :

 

একজন ভালো শ্রোতা হওয়াও বিশেষ একটি স্কিল। যখন কারো সাথে কথোপকথন হবে মন দিয়ে শুনতে হবে তার কথা। এতে করে শুধু যে তোমার সাথে ঐ ব্যক্তির ভালো সম্পর্ক হবে তা না বরং তোমার মধ্যে একটি ভালো গুণের বিকাশ ও ঘটবে। ক্লাশ, সেমিনার, মিটিং যেখানেই যাও তুমি যদি একজন ভালো শ্রোতা হও তাহলে তোমার সময় বাঁচবে এবং কথোপকথনের প্রয়োজনীয় পয়েন্ট গুলো তুমি তোমার কাজে প্রয়োগ করতে পারবে। “Listen more than you speak” আগে ভালোভাবে শুনো বক্তা তোমাকে কি বলছে। তার কথার মাঝে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। তারপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এই গুনটি তোমাকে একজন ভালো ব্যক্তিত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

 

 

() হাসো যখন অন্যেরা বিরক্ত হচ্ছে :

We shall never know all the good that a simple smile can do – Mother Teresa

 

যারা হাসতে জানে তারা বাঁচতেও জানে। তোমার হাসি যে শুধু তোমাকে ভালো রাখবে তা না, তোমার আশেপাশের মানুষদের কেও ভালো রাখবে। তুমি যখন কারো সাথে পরিচিত হবার সময় তার দিকে তাকিয়ে একটি মৃদু হাসি দাও তাহলে তার মনে তোমার প্রতি ইতিবাচক ধারনা আসবে। তোমার হাসি তোমার কাজ করার স্পৃহা বাড়াবে। তোমার মনের পাশাপাশি তোমার স্বাস্থ্য ও ভালো রাখবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা জীবনে বেশি হাসি-খুশি থাকে তারা বাকিদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে। দুশ্চিন্তা, চাপ, হতাশা এইসবও কমে যাবে যদি তুমি বেশিরভাগ  সময় হাসি-খুশি থাকো। হাসলে মন ভালো থাকবে আর মন ভালো থাকলে কাজেও মন দেওয়া যাবে।

 

 

() ধৈর্য ধরো যখন অন্যেরা ছেড়ে দিচ্ছে : 

 

শুধু কাজ করে গেলে হবে না। তোমাকে ধৈর্য ও ধরতে হবে। হয়তো তুমি কোনো কাজে প্রথম কয়েকবার সাফল্য পাবে না। তারমানে এই না যে  তুমি হেরে গেলে। হেরে যাওয়ার চিন্তা করে যদি কাজ ছেড়ে দাও তাহলে সব পরিশ্রম বিফলে যাবে। প্রতিটি কাজে তোমাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। সফলতার দেখা পেতে হলে তোমাকে ধৈর্যের পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। “Patience is bitter, but its fruit is sweet.” – এর অর্থ ধৈর্যের ফল হয় মিষ্টি। কথাটি একদম সঠিক। কোনো কাজে তাড়াহুড়া করা যাবে না। কারন তাড়াহুড়ার ফল কখনও ভালো হয় না। সব কাজেই তোমাকে ধৈর্যের সন্নিবেশন ঘটাতে হবে। তাহলেই তুমি তোমার সাফল্যের কামনা করতে পারো।

 

 

তুমি যদি নিজেকে বদলাতে চাও, অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যেতে চাও তাহলে এই অভ্যাস গুলোরপ্ত করে ফেলো। নিজের সাথেই প্রতিযোগিতা করো, তাহলেই আস্তে আস্তে নিজের উন্নতি করতে পারবে। মনে রাখবে তোমার ভাগ্যের লিখন তোমার কপালে নয় বরং তোমার নিজ কর্মে।

 

এগিয়ে যেতে কি করতে হবে

জেনে নাও, অন্যদের থেকে এগিয়ে যেতে তোমাকে কি করতে হবে।

Posted by SpikeStory on Wednesday, 22 November 2017

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Productivity

মিতব্যয়ী হবার সহজ উপায়

Published

on

‘অর্থ’ যার প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনে ‘অর্থ’ ছাড়া এক মুহূর্ত পথচলা প্রায় অসম্ভব। এটি এমন একটি জিনিস এবং এর ক্ষমতা এতোটাই যে, প্রচলিত যাবতীয় সব ধরনের সমস্যার সমাধান আপনি এটি দ্বারা করতে পারবেন। যদিও এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করতে পারে না। তাইতো কেউ লক্ষ্যাধিক আয় করেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন পরিচালনা করতে পারে না, এর কারণ হলো ‘অপব্যয়’। অপরদিকে কেউবা ত্রিশ হাজার টাকা আয় করেও সপরিবারে খুব স্বাচ্ছন্দ্যেই জীবন পরিচালনা করছে, সাথে মাস শেষে কিছু অর্থ সঞ্চয়ও করতে পারছে যা শুধু মিতব্যয়ীদের দ্বারাই সম্ভব।

‘মিতব্যয়ীতা’ দৈনন্দিন জীবনে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বনকেই বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্পণ্য না করে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার করাই ‘মিতব্যয়ীতা’।

 

“Those who when they expend, are neither extravagant nor sparing, and it is a medium in-between.” – Al-Qurân

 

‘মিতব্যয়ীতা’ সফলতা অর্জনেরও একটি অন্যতম মাধ্যম। শুধু অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সবক্ষেত্রেই অতিরিক্ত বিলাসিতা ত্যাগ করে ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই জীবনে সফল হবার প্রথম ও প্রধান শর্ত। “মিতব্যয়ীতা” যা ধনী-গরিব সব শ্রেনীর মানুষের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো মিতব্যয়ীতায় সকলকে আরও উৎসাহিত করতে বিশ্বজুড়ে ৩১ অক্টোবর বিশ্ব মিতব্যয়ীতা দিবস পালন করা হয়। আসুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে সহজেই মিতব্যয়ী হওয়া যায়।  

 

সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ

মিতব্যয়ী হওয়ার মানে এই নয় যে, আপনি একেবারেই খরচ করা কমিয়ে দিবেন। বরং আপনার যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকু অবশ্যই ব্যয় করবেন তবে তা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং পরিকল্পনাটি অবশ্যই হতে হবে পূর্ববর্তী। কারণ, তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা অনুযায়ী যেকোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হবার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

 

“If we command our wealth, we shall be rich and free. If our wealth commands us, we are poor indeed.” ~ Edmund Burke

 

জীবন পরিচালনার জন্য ‘অর্থ’ যেহেতু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস, যা অনেক কষ্টে উপার্জন করতে হয়, তাই অর্থ সম্পর্কিত যেকোনো কাজই সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার অর্থ অপচয় অনেকাংশেই কমে আসবে। আর হ্যাঁ, শুধু অর্থনৈতিক নয়, জীবনের প্রতিটিক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা আপনার পথচলাকে সহজ করে দিবে।

 

পরিবারের সুস্থতা নিশ্চিতকরণ

“সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল” অতএব পরিবারের প্রত্যেকের সুস্থতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের কৃপণতা নয়। আমাদের দেশের গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা হলো- আমরা অসুস্থ হলে অল্পতেই সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করি না। এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে বা ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকা লাগবে ভেবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যেকোনো ফার্মেসি থেকে ঔষধ এনে সেবন করি। হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য সুস্থতা অনুভব করি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সঠিক চিকিৎসার অভাবে সেই রোগটি আমাদের শরীরে সুপ্ত অবস্থায় রয়ে যায় যা ধীরে ধীরে মারাত্মক আকার ধারণ করে।  

একটা সময় তা ভালোভাবেই প্রকাশ পায়, যখন তা সাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন আমাদের কাজ করার শক্তি অকেজো হয়ে পড়ে, ফলে উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি এবং চিকিৎসা খরচও হয়ে পড়ে অনেক ব্যয়বহুল। ভুগতে হয় পুরো পরিবারকে। এরকম হাজারো পরিবার আছে, যারা পরিবারের কোনো একজন সদস্যের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একটা সময় নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাই পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো অবহেলা নয়।

 

পরিকল্পিত বাজেট নির্ধারণ

ছোটবেলায় বাংলা বইয়ের এক কথায় প্রকাশে পড়েছিলাম, “আয় বুঝে ব্যয় করে যে= মিতব্যয়ী”। ঠিক তাই! আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই মিতব্যয়ী হতে হবে। আপনার ব্যয়ের পরিমাণ কখনো যেন আয়ের চেয়ে বেশি না হয় বরং কম করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে  চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন। সেই বাজেটই আপনাকে অপ্রয়োজনে অর্থ ব্যয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে।

 

“Don’t tell me what you value, show me your budget and I will tell you value.” ~ Joe Biden

 

বাজেট অনুযায়ী চলার সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদ্ধতি হলো- বিভিন্ন খাতে আপনার বাজেটকৃত টাকাগুলো আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করে রাখুন। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা, বিনোদন ও অন্যান্য ব্যয় অনুযায়ী বাজেট করা যেতে পারে। এমনকি আপনি প্রতিটি বাজেটের অর্থ আলাদা খামে রেখে লিখে রাখুন, কোন অর্থটা কিসের জন্য আপনি ব্যয় করতে চান। ভুলেও এক বাজেটের অর্থ অন্য বাজেটে ব্যয় করবেন না। একটু কষ্ট করে হলেও চালিয়ে যাবেন, দেখবেন বাজেটকৃত মাসটি ঠিকই ভালোভাবে কেটে যাবে।

 

অবসর সময়কে কাজে লাগান

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা তাদের জীবনের এক-তৃতীয়াংশ সময় অকারণ ও অবহেলায় নষ্ট করে থাকে। অথচ গড়ে ৬৫-৭০ বছরের ক্ষুদ্র জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য অতুলনীয়। তাই তো, বিখ্যাত সব সফল ব্যক্তিদের জীবনী লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তারা প্রতিদিন ১২-১৪ ঘন্টা নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন।

 

“Everyday is a bank account, and time is our currency. No one is rich, no one is poor, we’ve got 24 hours each.”  ~ Christopher Rice

 

মিতব্যয়ীতা শুধু অর্থের জন্যই নয় বরং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আপনাকে মিতব্যয়ী হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার কাজ, খাওয়া, ঘুম, বিনোদন ও অন্যান্য কাজ সম্পাদনের পরেও যদি কিছু অবসর সময় পেয়ে থাকেন তাহলে সে সময়টুকুও বাড়তি আয়ের জন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করুন। পরিমাণে অল্প হলেও সমস্যা নেই। ঐ অর্থগুলো আপনার সন্তানের ঐচ্ছিক চাহিদা, বাড়তি খরচ ও সঞ্চয় বৃদ্ধিতে কাজে দিবে।

 

মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকুন

মাদক সেবনের কোনো ইতিবাচক দিক নেই, যা আছে পুরোটাই নেতিবাচক। এটি আপনার অর্থ, শারীরিক, মানসিক ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে এটি মহামারী আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন আগে এক প্রেস কনফারেন্সে ‘জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর’ এর সদস্য ডা. অরুপ রতন চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে প্রায় ৭০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে, আর প্রতিবছর মাদকের পেছনে তারা ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে।’   

অতএব মাদক আপনাকে দিন দিন শুধু ব্যর্থতার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে, সফলতার দিকে নয়। এবং মাদক গ্রহণের ফলে সৃষ্ট রোগসমূহও জীবননাশক। যা আপনাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিবে। তাই  আপনি যদি ন্যূনতম কোনো প্রকার মাকদের সাথেও জড়িত থাকেন, তাহলে আজ হতেই এ পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার চেষ্টা করুন। এতে আপনি শারীরিকভাবে যেমন সুস্থ থাকবেন, তেমনি প্রতিদিন মাদকের পেছনে নষ্ট হতে যাওয়া অর্থগুলোও বেঁচে যাবে। এই মিতব্যয়ীতাই একদিন আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়

মনে রাখবেন, জীবন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে বিপদ আসাটা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং সেই যুদ্ধক্ষেত্রের বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনাকেই লড়তে হবে। এখানে কেউ আপনাকে সাহায্য করতে আসবে না, কারণ তারাও ঠিক আপনার মতোই তাদের জীবনযুদ্ধে লড়ছে জীবনযুদ্ধের বিপদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করতে পারে আপনারই গড়া সঞ্চয়। তাই আপনার আয়-ব্যয় যাই হোক না কেন, সঞ্চয়ের জন্য আলাদা একটি বাজেট রেখে দিবেন।  

 

“Small amounts saved daily add up to huge investments in the end” ~ Margo Vader

 

আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় সাধন করে প্রতি মাসে নিদির্ষ্ট পরিমাণ টাকা সঞ্চয় হিসেবে রেখে আপনি আনুপাতিক বাজেট নির্ধারণ করতে পারেন। এই বাজেট পদ্ধতিকে অনেকেই ৫০-৩০-২০ বাজেটও বলে থাকে। এই পদ্ধতিতে আপনার অর্জিত টাকা আনুপাতিক হারে ব্যয় করতে হবে। যেমন- ৫০ শতাংশ অর্থ আপনি এমন কাজে ব্যয় করবেন যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং কোনোভাবেই অবহেলা করা সম্ভব না। ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করবেন আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনে এবং বাকি ২০ শতাংশ অর্থ আপনি সঞ্চয় করবেন ও প্রয়োজন ছাড়া সঞ্চয়ের অর্থ ব্যয় করা থেকে বিরত থাকবেন।

 

নিজের কাছে অতিরিক্ত নগদ অর্থ রাখবেন না

আপনি অনেক ভালো একটি চাকরি করেন কিংবা বড় একজন ব্যবসায়ী। আপনার কাছে সবসময় অতিরিক্ত অর্থ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে বর্তমান সময়ে নিজের কাছে নগদ অর্থ রাখাটা কি আদৌ নিরাপদ? মোটেও না! এটি যেমন আপনাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগাবে, ঠিক তেমনি নগদ অর্থ থাকার ফলে আপনার অতিরিক্ত খরচের পরিমাণও বেড়ে যাবে। কেননা হাতে নগদ টাকা থাকলে তা আমরা অনায়াশেই শেষ করে ফেলি।

মাসের শুরুতেই আপনার বাজেট অনুযায়ী অর্থগুলো আলাদা করে রাখার পর অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় হিসেবে রেখে দিন। বাইরে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই লিস্ট করে রাখুন এবং সেই খরচ অনুযায়ী টাকা সাথে নিন। অতিরিক্ত অর্থ সাথে নিলে প্রয়োজনের বাইরেও বিভিন্ন পণ্য কেনার প্রবণতা এসে যায়, যা আপনাকে মিতব্যয়ী হতে বাধা প্রদান করে।

সুতরাং, আপনি মানুন আর না মানুন, বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ‘অর্থ’। আর এই অর্থ উপার্জন করা কতোটা কঠিন সেটা ভালো করেই জানেন। তাই আপনার কষ্টার্জিত অর্থ কখন এবং কীভাবে সঠিক জায়গায় ব্যয় করবেন তার পরিকল্পনা আপনাকেই করতে হবে। মূল্যবান জিনিস মূল্যবান কাজেই ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনি, আপনার পরিবার ও আপনার আশেপাশের মানুষগুলোকে নিয়ে খুব ভালো থাকতে পারবেন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Productivity

কাজ আর জীবনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবো?

Published

on

ব্যস্ততাই জীবন নাকি জীবন মানেই ব্যস্ততা? এই ‘ব্যস্ততা’ শব্দটা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক ব্যস্ততা, পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আরো কত শত ব্যস্ততা আমাদের! এতো ব্যস্ততা আমাদের একটা জীবনকে দুইভাগ করে ফেলেছে। এর একটা যদি হয় ব্যক্তিগত জীবন, অপরটা পেশাগত জীবন এবং অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বিষয়টা খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই যখন পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। তখনই শুরু হয় হতাশা, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ইত্যাদি ইত্যাদি… এই সাংঘর্ষিক অবস্থা এড়াতে দরকার দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিকল্পনা আর একাগ্রতা। তাহলে কি কি করতে হবে চলুন জেনে নেই-

 

ভয়কে ঝেড়ে ফেলা

 

ভয় মানুষের জীবনের খুব সহজাত একটা বিষয়। আমার মনে হয় না এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে যার ভেতরে কোনো কিছুর ভয় নেই। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ভয় আছে যা একদম অমূলক। যেমন, আমার কিছু পরিচিত মানুষ আছে যারা কাজের মধ্যে থাকতে থাকতে এমন ভাবতে থাকে যেন একটু এদিক-ওদিক হলেই অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে! কিন্তু যখন প্রশ্ন করি কি সমস্যা? উত্তরে প্রায়ই শুনতে হয়, এই হবে, কিছু একটা! মানে ফলাফল অনিশ্চিত। আচ্ছা ভাবুন, আপনি যখন কাজ করছেন তখন যদি আপনার সেরাটা দিয়েই করেন, তাহলে অতিরিক্ত কাজের লুপে অযথাই কেন নিজেকে আটকাবেন? পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা এই লুপ। কাজের বাইরে অন্যকিছু মাথাই আসে না। কোনোভাবে এর বলয় থেকে বের হতে না পারলে পুরো জীবনটাই এর মধ্যে আটকে যায়। বরং এমন করে কেন ভাবছেন না, সেই সময়টা নিজের জন্য ব্যয় করাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সাথে সেই ব্যক্তিগত সময়টুকু আপনাকে পরের কাজটা করতে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আর এই আত্মবিশ্বাস অন্য কোনো কিছু থেকেই পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে আপনার সেই কল্পনীয় কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে কেন গুঁটিয়ে রাখবেন? নিজের ইচ্ছাটাকে কেন দমিয়ে রাখবেন? এবার নিজেই ভাবুন, কোনটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

 

“If you want it, go for it. Don’t always play it safe or you’ll die wondering” -Tony Robbins

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট তৈরি করা

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া পথ চলা অনেকটা সমুদ্রে সাঁতরানোর মতো, যার কোনো শেষ নেই এবং নেই কোনো সন্তুষ্টি। কোনো কাজ করার শুরুতেই ঠিক করে নিন আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী মাসে অথবা আগামী কোয়ার্টারে আপনার টার্গেট কতোখানি হবে। কেবল তখনই আপনি সময়কে কাজের গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়ে নিতে পারবেন।

 

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট আগের রাতেই বানিয়ে ফেলা। প্রতিদিন অনেক কিছু করতে চেয়ে না পারার থেকে নিয়মিত ৩-৫টি কাজের অভ্যাস করা বেশি কার্যকরী। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য সময়কে একটা সুবিধামতো ছকে আবদ্ধ করা, অবশ্যই লিষ্টটাকে টেনে লম্বা করা নয়। তাছাড়া অসম্পূর্ণ টু-ডু লিষ্ট আপনার হতাশার কারণ এবং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

 

কাজের গুরুত্ব বাছাই করা

 

টু-ডু লিষ্ট তো হলো, কিন্তু লিষ্টের সবগুলো কাজ কি আপনি একইসাথে করতে পারবেন? না, সম্ভব নয়। প্রতিটি দিনের যেমন আলাদা গুরুত্ব থাকে, তেমনি প্রতিদিনের কাজগুলোরও আলাদা গুরুত্ব থাকা উচিত। তাই আজকের দিনে কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি একটু কম গুরুত্বপূর্ণ সেটি ঠিক করে নিতে হবে। কারণ, একই কাজ বিভিন্ন দিনে বিভিন্নভাবে বিবেচিত হতেই পারে। যেমন ধরুন পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এইসব দিনে অন্য কিছু গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়, তেমনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, প্রোজেক্ট তৈরি, ডেডলাইন এইসব ইস্যুতে অবশ্যই আপনার গুরুত্ব সেইদিকেই থাকা উচিত। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বিষয় চলে আসলেই সমস্যার শুরু। তখন আপনাকে নিজের সাথে মধ্যস্থতা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, গুরুত্ব বুঝে কাজ করা আপনার টু-ডু লিষ্ট কমপ্লিট করার থেকে বেশি জরুরি।  

 

“Managing your time without setting priorities is like shooting randomly and calling whatever you hit the target.” -Peter Turla

 

না বলতে শেখা

 

”না” শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, তাই না? সবাই শুধু “হ্যাঁ” শুনতে চায়, সেটা যাই হোক না কেন! কিন্তু বিষয়টা অবাক করার মতো হলেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা কাউকে “না” বলতে পারে না এবং এই শ্রেণীর মানুষ সকলের খুব পছন্দের হয়। কিন্তু একই সাথে এই স্বভাব নিজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনি কী পেতে চান, কোন ধরণের সম্পর্কে জড়াতে চান, কোথায় সময় দেয়া বেশি জরুরী এই সিদ্ধান্তগুলো খুব জরুরি। কারণ, খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি এমন অনেক অনুরোধ ও সুযোগ পাবেন, যেগুলো হয়তো আপনি চাইছেন না কিন্তু আবার “না” বলে ছেড়েও দিতে পারছেন না। ঠিক এই সময় নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকাটা খুব দরকার। ‘হ্যাঁ’ শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই বলবেন, যে কাজটি আপনার জীবনে কোনো ভ্যালু এড করতে পারে। আর বাকি সব ক্ষেত্রে ‘না’ বলার চেষ্টা করুন। কারণ, সবার জন্যই সময় খুব সীমিত। কোনো কিছুতে ‘না’ করা মানে সেই সময়টা আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে ব্যয় করা। তাই ‘না’ বলতে শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  

 

“It’s only by saying NO that you can concentrate on the things that are really important.” -Steve Jobs

 

নিজের জন্য প্রতিদিন এক ঘন্টা এবং একটি পছন্দের কাজ

 

আপনি শেষ কবে গলা ছেড়ে গান গেয়েছেন? কিংবা শেষ কবে বন্ধুদের সাথে জমপেশ আড্ডা, মুভি অথবা মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং খেলেছেন? অনেকদিন হয় না, তাই না! ভেবে দেখুন তো নিজের ইচ্ছা, ভালোলাগা গুলোই যখন অপূর্ণ থেকে যায়, তখন এতো কাজ করা কিসের জন্য তাহলে! তাই সারাদিন যতো কাজই থাকুক না কেন একঘন্টা নিজের জন্য রাখবেন। আর এই এক ঘন্টার জন্য কোনো টু-ডু লিষ্টেরও দরকার নেই। বই পড়তে মন চাইলে বই পড়বেন, লিখতে ইচ্ছা হলে লিখতে বসে যাবেন, বিশ্রাম দরকার হলে বিশ্রাম কিংবা ব্যায়াম, মেডিটেশন অথবা আপনার পছন্দের যেকোনো কিছু করতে পারেন। এইটা কোনো কাজ নয়, বরং আপনার প্রাপ্য। তাই সময়টাকে মূল্যবান করে তুলুন।

 

“The time you enjoy wasting is not wasted time because it’s your personal time.” -Bertrand Russel

 

পারিবারিক সময় বাড়িয়ে দিন

 

পরিবার শব্দটাই প্রত্যেকের জন্যই বাড়াবাড়ি রকম আবেগের একটা বিষয় এবং এটাই মনে হয় একমাত্র জায়গা যা কিনা কোনো রকম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই সবসময় আপনার পাশে থাকে। আপনার হাসিতে সব থেকে উচ্চস্বরে হাসবে আবার আপনার কান্নায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে। তাই কাজের বাইরের সময়ের বেশিরভাগটাই পরিবারের প্রাপ্য। যাদের পরিবার নেই কিংবা দূরে থাকেন তারা বুঝে এর গুরুত্ব কতোটুকু। তাই নিয়মিত বাবা-মার খোঁজ খবর নিন, একসাথে ডিনারের অভ্যাস করুন, একসাথে শপিংয়ে যান, অথবা পারিবারিক পিকনিক। সব মিলে যে পারিবারিক আবহ কিংবা অনুভূতি পাওয়া যায় সেটা কোনোভাবেই অন্য কিছু থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এরপর যখনই আপনি কাজের মধ্যে থাকবেন আপনার মানসিক পরিবর্তনটা ঠিক বুঝতে পারবেন। কারণ, পারিবারিক সুখ না থাকলে নিজে সুখী হওয়া যায় না।

 

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করা

 

বর্তমান সময়ে ব্যায়াম শুনলেই যেন  gym, weight lifting, dumbbells, treadmill এইসব নাম মাথায় আসে। কিন্তু নিয়মিত হাঁটাহাটি করা, সকালে ঘুম থেকে উঠা, পরিমিত খাবার খাওয়া এইসবও ব্যায়ামেরই অংশ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিকতার পরিবর্তন ঘটায়। আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা, মানসিক স্থিতিশীলতা, সময়ানুবর্তী, একাগ্রতা বেড়ে যায় নিয়মিত ব্যায়ামের দ্বারা। আর শারীরিক সুস্থতা তো রয়েছেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময় বের করে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। দেখবেন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও স্থিতিশীল হয়ে যাবেন।  

 

“Physical fitness is not only one of the most important keys to a healthy body, but it is also the basis of dynamic and creative intellectual activity.” -John F. Kennedy

 

সবশেষে যেটা বলা জরুরী সেই শব্দটা হল ‘অভ্যাস’। উপরের প্রতিটি জিনিসের সার্থকতা অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। দু’একবার করেই আপনি ফলাফল আশা করতে পারেন না। কিন্তু একবার অভ্যাস করে ফেললেই ব্যক্তিগত, পেশাগত, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে খুব সহজেই মানিয়ে যাবেন।    

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Productivity

যানজটে কাটবে সময় দারুণ ৩টি উপায়ে!

Published

on

কেবল ঢাকা শহরেই প্রতিদিন যানজটে নষ্ট হয় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা! যানজট আমাদের জীবনে নিত্যদিনের এক ভোগান্তির নাম। কিন্তু কিছু কৌশল কাজে লাগালে যানজটের এই সময়টিই চমৎকার গঠনমূলকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এমনই তিনটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।

 

অডিও বুক

যানজটে সময় পার করতে সচরাচর কী করি আমরা? গান শুনি! কেমন হয় যদি গান শোনার বদলে বই শুনি?

আগে আমিও যানজটে বসে বসে গান শুনতাম। কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা হলো – বিনোদন ছাড়া গান শোনার তেমন উপযোগিতা নেই। অথচ বই শোনায় বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জানার, শেখার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

বাংলার বদলে ইংরেজি অডিও বুক শোনার অভ্যাস করলে ভাল, শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও একবার অভ্যাস হয়ে গেলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে – বইটাও শোনা হয়ে গেল, ইংরেজির দক্ষতাও বৃদ্ধি পেল। বেশিরভাগ ইংরেজি বইয়ের অডিওবুক একটু গুগল করলেই পেয়ে যাবে। ইউটিউবেও মিলবে চমৎকার সব অডিও বুকের খোঁজ।

অডিও বুকের ব্যাপারে জানা হলো, কিন্তু কোন বই শুনবো সেটি কীভাবে ঠিক করবো? আমার পরামর্শ হচ্ছে অহেতুক গল্পের বই না শুনে গঠনমূলক কিছু শোনা। হতে পারে সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্পগাঁথা (Biography), অথবা সফল ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করেছে যেসব বই।

বিল গেটসের প্রিয় বই সম্পর্কে গুগল করলেই একসাথে দারুণ অনেকগুলো বইয়ের খোঁজ মিলবে। আমি নিজের পছন্দের কিছু বই, এবং যেগুলো পড়বো ঠিক করেছি এমন কিছু বইয়ের নাম তুলে ধরছি-

 

The Alchemist

The Art of War

Rich Dad Poor Dad

Drive

Think and Grow Rich

Eat that Frog!

The Power of habit

Blink

Tools of Titans

Long Walk to Freedom

Wings of fire

When Breath Becomes Air

এ তো গেল বইয়ের কথা। বই শোনার চেয়েও আমার বেশি পছন্দ পডকাস্ট শোনা। (পডকাস্ট মানে রেডিও বা অনলাইনে একরকম শো, যেখানে অনেকটা আড্ডার মতো করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।) হয়তো তোমার পছন্দ মুভি দেখা, সুতরাং গুগল করতে পারো তোমার প্রিয় পরিচালকের ইন্টারভিউ শোনার জন্য।

যেমন Eli Roth একজন হরর মুভি নির্মাতা, আমার বেশ পছন্দের মানুষ। আমাজন জঙ্গলের নরখাদকদের নিয়ে তাঁর একটি মুভি রয়েছে। সেটি বানাতে গিয়ে তাঁকে আমাজনে দুর্গম অঞ্চলে সভ্যতা বিবর্জিত আদিবাসীদের সাথে অনেকদিন কাটাতে হয়েছে – সেই রোমাঞ্চকর গল্প যেন কল্পনাকেও হার মানায়!

পডকাস্ট ছাড়াও আরেকটি চমৎকার জিনিস রয়েছে – বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল। তোমরা অনেকে নিশ্চয়ই Ted talk সম্পর্কে জানো। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা ইত্যাদি শেয়ার করে।

আমার মনে আছে একটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল রাউন্ডে আমার প্রেজেন্টেশন, আমি কিছুতেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল কেবল হাল ছেড়ে দেই! উপায়ান্তর না দেখে এক বন্ধুকে মেসেজ দিলাম। সে কিছু বললো না, শুধু একটা লিঙ্ক পাঠালো, একটি টেড টকের- “A dialogue to kill the fear of public speaking” by Animesh Gupta.

মাত্র বিশ মিনিটের সেই ভিডিওটি আমার মানসিকতার খোলনলচে বদলে দিলো! প্রেজেন্টেশনের ভয়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে জয় করার একটা প্রবল তাগিদ চেপে বসলো মনে। এরকম হাজার হাজার টেড টক রয়েছে ইউটিউবে, যেগুলোর যেকোন একটিই যথেষ্ট তোমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য।

Ted Talk ছাড়াও আমার খুব প্রিয় কিছু চ্যানেল- Impact Theory, Goalcast, Gary Vee, Be Inspired, Evan Carmichael। তোমরাও তোমাদের পছন্দের ইউটিউব চ্যানেলের কথা কমেন্টে লিখে শেয়ার করো সবার সাথে।

 

ভোক্যাবুলারি

বছরের শুরুতে আমরা সবাই কিছু না কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করি। অনেকেরই লক্ষ্যের তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে – “ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া”। দক্ষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ভোক্যাবুলারির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।

ডিকশনারি ধরে “প্রতিদিন ১০টা শব্দ শিখবো, তাহলে বছরে সাড়ে তিন হাজার শব্দ শেখা হবে!” – এভাবে আসলে বেশিদূর আগানো হয় না! আমাকে ভোক্যাবুলারি শেখায় সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে দুটো জিনিস।

Word Smart নামে দুই খণ্ডের একটি বই আছে। সেখানে প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ, অর্থ এবং ব্যবহার দেখিয়ে অসাধারণ হাস্যরস সম্বলিত একেকটি বাক্য রয়েছে। বইটি পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয়নি ভোক্যাবুলারি শিখছি, মনে হয়েছে যেন গল্পের বই পড়ছি!

বইটি মোটামুটি সবখানেই পাওয়া যায়, আরো সহজ হয় PDF ডাউনলোড করে নিলে।

Vocabulary Course নামে ইউটিউবে Farhad Hossain Masum ভাইয়ের অসাধারণ একটি ভিডিও সিরিজ রয়েছে (এটির কথা আমি সুযোগ পেলেই বলে থাকি!) উনি একদম সহজ করে, অনেক মজার মজার উদাহরণ দিয়ে অনেকটা গল্প করার মতো করে ভোক্যাবুলারি শিখিয়েছেন ভিডিও গুলোয়। এটি নিয়ে Vocabuilder নামে একটি বইও রয়েছে।

ভোক্যাবুলারি শেখার জন্য বই আর ভিডিওর খবর জানলাম, কিন্তু যতো শিখি ততোই যে ভুলে যাই তার সমাধান কী? ফ্ল্যাশকার্ড এক্ষেত্রে দারুণ কাজে দিতে পারে। একটি ছোট কাগজে একটি শব্দ লিখে কাগজের উল্টো পাশে সেটির অর্থ লিখতে পারো।

‘অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই?’

আমার এক বন্ধু এরকম শ’খানেক ফ্ল্যাশকার্ড সাথে নিয়ে ঘুরে সবসময়! আরো সহজ উপায় স্মার্টফোনের ডিকশনারি। আমি নতুন কোন শব্দ শিখলেই সেটি ডিকশনারিতে বুকমার্ক করে রাখি। সময় পেলেই বুকমার্কের শব্দগুলো দেখে নিই, যতোদিন না সেগুলো একদম অন্তরে গেঁথে যায়।

 

ফেসবুক

ফেসবুক ব্যবহার করো না এমন কেউ কি এখানে আছো? খুব সম্ভবত, এই লেখাটির খোঁজও তুমি ফেসবুক থেকেই পেয়েছো! ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয় – এটি নিয়ে সবারই কম-বেশি অনুযোগ আছে, আবার এটি ছাড়া চলেও না – মহা মুসিবত! কেমন হয় যদি ফেসবুক হয়ে উঠে তোমার শিক্ষক?

যেমন ধরো, আমি টুকটাক ব্লগ লিখি। অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই? ফেসবুকের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যে জিনিস সার্চ করবে, যেরকম পেইজে লাইক দেবে – ওরা ঘুরেফিরে সেরকম আরো কনটেন্ট তোমাকে সাজেস্ট করতে থাকবে।

আমি ঘুরে ঘুরে লেখালেখির কাজে আসে এমন অনেক পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছি, তাই ফেসবুকে ঢুকলেই দারুণ কিছু না কিছু টপিক পেয়ে যাই!

আরেকটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ – তোমার ফ্রেন্ডলিস্ট। ফেসবুকে সৃজনশীল যেই মানুষগুলো আছে, যারা ছবি আঁকে, গান গায়, লেখালেখি করে, বিতর্ক করে, ভিডিও বানায়, নিজেই ব্যবসা চালায়, নানারকম গঠনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করে – আমি খুব চেষ্টা করি এমন মানুষদের সাথে কানেক্টেড হতে।

সুতরাং ফেসবুক আমার জন্য সময় নষ্ট নয়, বরং চমৎকার শিক্ষামূলক একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি এতো এতো মেধাবী মানুষজন অসাধারণ সব কাজ করে চলেছে – সেগুলো শেখার পাশাপাশি অনুপ্রেরণা যোগায় অনবরত।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial