Connect with us

Psychology

“আপনি কী করবেন?” বনাম “আপনার কী করা উচিত?”

Published

on

কিছুদিন আগেই আমি সর্বাধিক বিক্রিত লেখক ব্রুস ওয়েইনস্টাইনের একটি প্রবন্ধ পড়লাম। তিনি “Ethical Intelligence” “The Good Ones” এর মত বিখ্যাত বইয়ের রচয়িতা । তার প্রবন্ধ “Should vs Would” লেখাটি প্রথমে “নাইট রাইডার ট্রিবিউন” নিউজ সার্ভিসে এবং পরবর্তীতে “ক্যান্সেসিটি ডট কম”  এ প্রকাশিত হয়। ওয়েইনস্টাইনকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো যে “আপনি কী করবেন?” এবং “আপনার কী করা উচিত?” এর মধ্যে পার্থক্য কী?

 

আমার কাছে আলোচনাটি নীতিশাস্ত্র এবং নৈতিকতার মত কঠিন বিষয়ের উপর কৌতুহল উদ্রেককারী, কিন্তু সহজপাঠ্য বলে মনে হয়েছে। চলুন আমরা দেখে আসি, এ ব্যাপারে ওয়েইনস্টাইনের উত্তরটি কী ছিল। 

 

মানবিকতা বনাম নৈতিকতা 

 

ওয়েইনস্টাইন বলেন যে প্রশ্নটির প্রথম যে অংশ, “আপনি কী করবেন?” – একটি মানবিক প্রশ্ন। তিনি বোঝান যে, মনোবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করে আমরা যা করি তা কেন করি। প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশটি, “আপনার কী করা উচিত?” একটি নৈতিক প্রশ্ন। আর নৈতিকতা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি কিনা।

 

মানবিকতা মূলত সেই বৈশিষ্ট্যগুলো যা একজন মানুষকে “আশরাফুল মাখলুকাত” এর আসনে পর্যবসিত করে।অপরদিকে নৈতিকতা বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যাপার। নৈতিকতা হচ্ছে তাই যা আমাদের বিবেক বোধের জাগরণ ঘটায়, ন্যায় ও অন্যায়ের বিভেদ শেখায় ও সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে।

 

বাস্তব জীবনে প্রয়োগ

 

সমগ্র বিষয়টি বুঝতে কঠিন মনে হলে আসুন উদাহরণের সাহায্যে আমরা বোঝার চেষ্টা করি। চলুন দেখি ওয়েইনস্টাইন কোন উদাহরণে কিভাবে এটি ব্যবহার করেন।

 

“যদি আপনি একজন মা অথবা বাবা হন, তবে আপনার সন্তানকে জিজ্ঞাসা করুন যে, সে পরীক্ষায় একজনকে নকল করতে দেখলে কী করবে। আপনার সন্তান যদি বাকি দশটা বাচ্চার মত হয়, তাহলে তার উত্তর হবে যে তারা বিষয়টি নিজের কাছে রাখবে, টিচারকে জানাবে না।”

 

এইবার একই প্রশ্ন করার সময় শব্দ ব্যবহারে একটু পরিবর্তন প্রস্তাব করুন। যেমন, আমরা যদি জিজ্ঞেস করি “তোমার বন্ধুকে নকল করতে দেখলে তোমার কী করা উচিত?”। তাহলেই হয়তো উত্তরটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে। কারণ, এইবারের প্রশ্নটি তার মনে বিবেকবোধের জাগরণ ঘটাবে। হয়ত সে উত্তর দিবে যে, আমি সেই বন্ধুর সাথে কথা বলবো এবং প্রয়োজনে শিক্ষককেও ব্যাপারটা জানাবো। এইভাবেই একটিমাত্র শব্দের পরিবর্তন এনে দিতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রতিক্রিয়া।

 

এমন আরো অনেক উদাহরণ দিয়েই এই বিষয়টি তুলে ধরা যায়। তার মধ্যে শুধু এই একটি উদাহরণ দিয়েই ওয়েনস্টাইন আমাদের প্রকৃত আচরণ ও করণীয় আচরণের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরলেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে।

 

একটি সাধারণ শব্দ বদলে দেয় সবকিছু

 

ওয়েইনস্টাইনের পরামর্শমতে, আমরা যখন কোনো সমস্যা নিয়ে কোন বন্ধুর কাছে সাহায্য চাইতে যাবো, তখন যেন আমরা আমাদের বলা কথা ও বন্ধুর ব্যক্ত প্রতিক্রিয়ার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেই। উদাহরণস্বরূপ, আমরা হয়ত বললাম যে “এই কাজটা আমি করতে পারছি না, তুমি কি আমায় সাহায্য করবে?”। সে বলতে পারে যে সে ব্যস্ত বা দেখাতে পারে অন্য যেকোনো অজুহাত । কিন্তু, আমরা যদি একটু অন্যভাবে প্রশ্নটা করি, যেমন, “আমি তো এই কাজটা করতে পারছি না, তোমার কী মনে হয় আমার কী করা উচিত?” বা “তুমি কী করা ঠিক মনে করো?”।

 

তাহলে হয়তো তার সাহায্য করার বা করতে চাওয়ার সম্ভাবনা আরো বেশি থাকবে। কারণ, শুধুমাত্র এই উচিত শব্দটাই আমাদের কথা বলার ধরণটাই সম্পূর্ণ বদলে দেয়। ওয়েইনস্টানের মতে, বাক্যের সামান্য একটি গঠনগত পরিবর্তন  বন্ধুকে তার উত্তরের স্বপক্ষে ন্যায্যতা প্রকাশ করতে বাধ্য করবে। তাই আপনি কোন প্রশ্নে কোন শব্দ কিভাবে ব্যবহার করছেন এবং কেউ কিভাবে সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে সেই বিষয়ে মনোনিবেশ করুন। তাহলেই, নিজের জীবনেই ওয়েনস্টাইনের ব্যাখ্যার অসংখ্য বাস্তব উদাহরণ দেখতে পারবেন।

 

প্রশ্নেই প্রয়োজনীয় আপিল তৈরি

 

ওয়েনস্টাইনের ব্যাখ্যায় মূলত, “আপনি কী করবেন?” প্রশ্নটি মনোবিজ্ঞানের একটি আপিল; যেখানে “আপনার কী করা উচিত?” প্রশ্নটি নৈতিকতার একটি আপিল। সাধারণ একটি প্রশ্ন যার দুইটি রূপ, তবে উভয়েরই গভীর প্রভাব রয়েছে।

 

নিজেদের কথার মাধ্যমে আমাদের প্রয়োজনীয় আপিলটি অন্যের সামনে তৈরি করতে হবে। তবেই আমাদের কার্যোদ্ধার করার পথ সুগম হবে। কেননা বাক্যের গঠনগত সামান্য পরিবর্তন  যে কোনো কাহিনীর প্রেক্ষাপটের প্রতিক্রিয়াই বদলে দিতে সক্ষম। পাশাপাশি আমাদের নিজেদেরও উচিত আমাদের নৈতিক দায়িত্বগুলো পালন করা।

 

পরিশেষে, শব্দের ব্যবহার কোন বাক্যে কতটা প্রভাব ফেলে তা বুঝতে উইলিয়াম শেরউড ফক্সের নিম্নলিখিত উদ্ধৃতি দিয়ে এখানেই শেষ করবো, “আমরা একটি সহজ প্রশ্ন করবো এবং আমাদের ইচ্ছা শুধু তাই; জেলেরা কি সব মিথ্যাবাদী হয়? নাকি জেলে হয় শুধু মিথ্যাবাদীরাই ?” 

 

“We ask a simple question, and that is all we wish: Are fishermen all liars? Or do only liars fish?”

 

উনি কী বলতে চেয়েছেন বুঝতে পারলেন কি?

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Psychology

কীভাবে মোকাবিলা করবেন মানসিক চাপ

Published

on

দিন যতোই যাচ্ছে আমাদের ব্যস্ততা ততোই বেড়ে চলেছে। অবসরের যেন কোনো ফুরসতই নেই! সময়ের সাথে পাল্লা দিতে হলে এমন ব্যস্ততা থাকবেই এবং সেইসাথে বাস্তবতাকেও মেনে নিতে হবে। কিন্তু ব্যস্ততার সাথে সাথে আমাদের মানসিক চাপও বাড়ে। আমরা অনেকেই এটাকে সহজে মেনে নিতে পারিনা যার ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হই এবং কোনো কিছুই ঠিকমতো হয়ে উঠেনা। তাই বলাই বাহুল্য, শারীরিক সুস্থতায় মানসিক সুস্থতাও অনেকাংশে জড়িত। সেজন্যই মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে নানান কাজের মাঝেও থাকতে হবে চাপমুক্ত। তাহলে চলুন চাপমুক্ত থাকার কিছু উপায় জানা যাক:

 

টু-ডু লিস্টের ব্যবহার

প্রতিদিন আমরা কেমন যেন ম্যারাথন দৌড়ের মধ্যে আছি। ঘুম থেকে উঠেই নিজ নিজ কর্মব্যস্ততায় আটকে থাকি এবং দিনশেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে যদি এমন কাজের মধ্যেই ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে আগেরদিন রাতের বেলায় একটা কাজের লিস্ট করতে হবে। সেই লিস্টে তারপরের দিন কী কী কাজ করতে হবে তার একটা তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকাটিকে ’টু ডু লিস্ট’ বলে। আগের রাতে যদি এটা তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে সকালে উঠে প্রথমেই এই লিস্টটি বানিয়ে নিতে হবে। এ লিস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সবার প্রথমে রাখতে হবে। এভাবেই কাজের গুরুত্ব বিচার করে একটার পর একটা কাজ সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে কাজের পাশে নির্দিষ্ট সময়সীমা লিখে রাখতে পারলে ভালো হয়। এভাবে তালিকা তৈরি করলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো করা হয়ে যাবে। ফলে মানসিক চাপও কমবে এবং সময় না পেলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি না করলেও অতোটা সমস্যা হবেনা।

 

নিখুঁত হওয়া বন্ধ করুন

যারা সব সময় সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে, তারা সুখী হতে পারে না। সব সময়ই একটা চাপের মধ্যে থাকে। তারা যে কাজে যায়, সে কাজেই খুঁতখুঁতে ভাব তৈরি হয়। তাই সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চিন্তাভাবনা থেকে আজই বেরিয়ে আসুন। যে কাজটি করবেন সে কাজে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করুন। আকাশ কুসুম কল্পনা করবেন না। আত্মসমালোচনা  করুন এবং নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে কাজে লাগান। তাহলে এক সময় নিজেই অবাক হবেন কতোটা স্বাধীনভাবে আপনি আপনার কাজগুলো করতে পারছেন। তখন যেমন আনন্দ লাগবে, তেমনি অযথা চাপ থেকেও মুক্তি পাবেন।

 

দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলুন

মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষ, সহকর্মী বা বন্ধুর সাথে ঝগড়া অথবা মনোমালিন্য হওয়া। চাপমুক্ত থাকতে হলে যথাসম্ভব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। কারোর সাথে কোনো রকম ঝামেলা হলে তার সাথে নিজ থেকে সুন্দরভাবে কথা বলার মাধ্যমে তা সমাধান করুন। অনেকেই সুন্দরভাবে কথা না বলে উল্টো ইগো নিয়ে চুপচাপ থাকেন। কিন্তু এতে করে কেউ শান্তি পায় না বরং মানসিক চাপটাও আরো বেড়ে যায়।

 

প্রয়োজনে ‘না’ বলুন

প্রয়োজনের সময় ’না’ বলতে জানাটা একটা আর্ট। আমরা অনেকেই অন্যকে খুশি করার জন্য ‘না’ বলতে পারিনা। ফলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিপত্তিতে পড়ি। তাই প্রয়োজনের সময় ‘না’ বলতে শিখতে হবে। এমনকি আপনার বসও যদি আপনাকে অযথা বেশি কাজ চাপিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রেও না বলাটা শিখতে হবে। কেননা অযৌক্তিকভাবে বেশি কাজ করতে গেলে আপনি মানসিক চাপে থাকবেন ফলে কাজটা সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে না। তাই যথাসময়ে ‘না’ বলতে শিখুন।

 

গড়িমসি থেকে বিরত থাকুন

অলসতার কারণে আমরা অনেকেই কাজের ক্ষেত্রে গড়িমসি করি। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখি। অথচ আমরা ভুলে যাই যে, আগামীকালের জন্যও আমার কাজ বরাদ্দ রয়েছে। তাই আজকের কাজ আজই করতে হবে। গড়িমসি এবং অলসতাকে জীবন থেকে যতো তাড়াতাড়ি মুছে ফেলতে পারবেন, আপনার ভালো থাকার সময়গুলো ততোই বাড়বে। তাই আর নয় গড়িমসি, কাজের সময় কাজ সম্পন্ন করুন আর থাকুন চাপমুক্ত ।

 

নিজের জন্য ছুটি নিন

প্রতিদিন অজস্র কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন? তাহলে কিছুদিন পরপর ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিন। কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। খুব বেশি দূরে যেতে না পারলেও আপনার বাড়ির আশেপাশে অবকাশ যাপনের কিংবা দর্শনীয় বিভিন্ন জায়গা আছে সেখান থেকে ঘুরে আসুন। এতে করে চাপ অনেক কমে যাবে। আবার নতুন উদ্যমে কাজও শুরু করতে পারবেন। যদি কর্মব্যস্ততার মাঝে ছুটি নাও পান তবুও হতাশ হবেন না, প্রতিদিন নিজের জন্য অল্প কিছু সময় বের করুন- যে সময়টা শুধুমাত্র আপনার উপভোগ করার জন্যই কাটাবেন। নিজের পছন্দের কোনো বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা ভালো লাগার যেকোনো কাজ করতে পারেন। এতে করে যেমন আপনার মন সতেজ থাকবে, তেমনি হবেন চাপমুক্ত।

 

নিয়ম মাফিক চলাফেরা

সুস্থ এবং চাপমুক্ত থাকতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের এবং পরিমিত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বলা যেতে পারে- স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, চাপমুক্ত জীবন চালান। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং অবশ্যই গড়ে ৭-৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। কেননা, ঘুম আমাদের জীবনের অন্যতম বড় অনুষঙ্গ। পরিমিত ঘুম না হলে আমাদের মন ও দেহঘড়ি কোনোটাই ঠিকমতো কাজ করবে না। আর ঘুম কম হলে আমাদের মস্তিষ্কও কম কাজ করে। তাই সবসময় ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করার পাশাপাশি চাপমুক্ত থাকতে ঘুমও বেশ বিবেচ্য বিষয়।

 

শখের সাথে সখ্য

প্রত্যেক মানুষেরই কিছু শখ থাকে। আর সে শখের কাজ স্বেচ্ছায় করে আনন্দ লাভ করে। কোনো আর্থিক লাভ না আসলেও শখের কাজটি করে থাকে। এখন আপনি যদি মনে করেন যে আপনার কোনো শখ নেই, তাহলে আজই শখ আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। যে ভালো কাজটি করলে আপনাকে কেউ টাকা কিংবা বাহবা দিবেনা কিন্তু আপনি মন থেকে ভালোবেসে করবেন- এমন কোনো কাজই হতে পারে আপনার শখ। শখের কাজ চাপ কমায়। তাই চাপমুক্ত থাকতে হলে আজই শখের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন।

 

ভালোবাসুন নিজেকে

নিজেকে সঠিকভাবে ভালোবাসতে জানা মস্ত বড় একটা আর্ট। তাই এই আর্ট রপ্ত করুন। আপনি নিজেই যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে অন্যরা আপনাকে কীভাবে ভালোবাসবে? তাই নানা কাজের মাঝে শত ব্যস্ত থাকলেও নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের আবেগ, অনুভূতিকে ভালোবাসুন। নিজের পরিবর্তন এবং ব্যর্থতাকে ভালোবাসতে শিখুন। সেই সাথে অভ্যাস গড়ে তুলুন নিয়মিত প্রার্থনার এবং মেডিটেশনের, কেননা- ‘প্রার্থনায় আয়ু বাড়ে’। তাই প্রার্থনা ও মেডিটেশন করলে আপনার শরীর-মন দুটোই সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে।

সবশেষে সদয় হোন নিজের প্রতি। গুটিয়ে নয়, চুটিয়ে বাঁচুন। নিজের স্বার্থেই নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাই আর দেরি না করে উপরের উপায়গুলোকে কাজে লাগানো শুরু করুন এবং উপভোগ করুন মানসিক চাপমুক্ত সুন্দর একটি জীবন!

Continue Reading

Psychology

ফেসবুক যেভাবে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ

Published

on

অভ্র ভেবেছে আজ সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কিন্তু কিছুক্ষণ পড়েই সে ভাবলো, এখন একটু বিরতি নেওয়া দরকার, অনেকতো পড়েছি। তাই, ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে সে আবার পড়া শুরু করবে। ব্যস! বিরতির অজুহাতে সে চলে গেলো ফেসবুকের দুনিয়ায়। ওমা! কখন যে সময় ফুঁড়িয়ে মিনিটকে পিছনে ফেলে ঘন্টার কাটাকে ছুঁয়ে ফেলেছে, সে বিন্দুমাত্র টের পায়নি। আর এই গল্পটি শুধু অভ্রের নয়। আমার-আপনার মতো অনেকেরই প্রত্যেহ গল্পের একাংশ বলা চলে। আর  এভাবেই কাজের ফাঁকে, ট্রাফিক জ্যামে বা যেকোনো অবসরেই আমরা ফোনের টুং-টাং নোটিফিকেশনে সঙ্গী করে নেই ফেসবুককে।

লাইক, কমেন্ট, স্ট্যাটাস, শেয়ার এই শব্দ পুঞ্জিমালার প্রতি আকৃষ্ট নেই এমন ব্যক্তির সংখ্যা বর্তমান যুগে কমই মেলে। কারণ, আমরা মানসিক প্রশান্তি বা অবসরে বিনোদনের খোঁজেই হয়ে পড়ি ফেসবুকের নীল আকাশের সাদা গাঙচিল। কিন্তু, আমরা অনেকেই হয়তো জানি না ক্ষণিকের এই বিনোদন জগৎ আমাদের ‘মানসিক বিষণ্ণতার’ একটি উৎস। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, ফেসবুক কীভাবে আবার মানসিক বিষণ্ণতার কারণ হয়? ব্যাপারটা কিন্তু আসলেই তাই। তবে না হয় আপনি নিজেই দেখে নিন ফেসবুক যেভাবে হয়ে ওঠে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ:

 

ফেসবুক

উল্কার বেগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। তার পেছনে কারণেরও শেষ নেই। যেমন:  সুদূর বিদেশে আপনার কোনো আত্মীয় বা স্কুল বদলের কারণে হারিয়ে ফেলা কোনো বন্ধু এবং জানাশোনা পরিচিতজনদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে নিমিষেই। পোস্টকার্ডের আর কোনো খরচের দরকার হয় না। সেই বিদেশি আত্মীয়ের মেয়ে সকালে কী খেয়েছে বা সেই পুরানো বন্ধুর কুকুরটা নতুন কী কাণ্ড করল – একটি ক্লিকেই সব জানা যাচ্ছে।

আপনি লক্ষ্য করলেই দেখবেন আপনার পরিবারের ছোট্ট সদস্যটিও কিছুটা হলেও ফেসবুকের প্রতি আসক্ত। আর এভাবেই ফেসবুক জনপ্রিয়তায় আমরাও ফেসবুক আসক্ত হয়ে পড়ছি। তবে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের সুবিধা-উপকারের মতোই এক্ষেত্রেও দিতে হয় কিছু অদৃশ্য মানসিক মূল্য। একটি বিষদ গবেষণায় দেখা গেছে, খুব বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা আর বিচার ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়। শুধু তাই নয়, এর সাথে আরো কিছু মানসিক সমস্যাতো রয়েছেই।

 

ফেসবুক আসক্তি

চা, সিগারেট, মদ সমাজের মানুষের অন্যতম আসক্তি হিসেবে ধরা হলেও সম্প্রতি DSM-V (Diagnostic and Statistical Manual) বিতর্কিত এক নতুন আসক্তি তালিকায় যুক্ত হয়েছে- ‘ইন্টারনেট আসক্তি’। এর মধ্যে ফেসবুক আসক্তি মিডিয়া নিউজের কল্যাণে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গবেষক হফম্যান এবং তার সহকর্মীরা বাছাইহীনভাবে অনেককে ম্যাসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কোনটি ছাড়া একদিনও চলবে না?’ দেখা গেছে, সিগারেট বা কোনো মাদকদ্রব্যের চেয়ে যে উত্তরটি বেশি এসেছে তা হলো, ‘সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক’। আর এই অতিরিক্ত আসক্তির ফলে দেখা দেয় নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো। তাই নিজেকে লক্ষ্য করুন আর মিলিয়ে নিন উপসর্গগুলো। যদি আপনার সাথে মিলে যায়, তাহলে দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি আপনিও ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার (Facebook Addiction Disorder) বা “ ফেসবুক আসক্তি সংকটে”– আসক্ত হয়ে পড়েছেন। যেমন:

 

১। বিষণ্ণতা

২। অস্থিরতা

৩। নিজেকে হীনমন্য মনে করা

৪। চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাওয়া

৫। অল্পতে ভয় পাওয়া

৬। অল্পতে রেগে যাওয়া

৭। অহেতুক সন্দেহ করা

৮। ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় পরিবর্তন আসা

৯। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, ইত্যাদি।

এছাড়াও মন খারাপ হলে অনেকে ফেসবুকে গিয়ে সুখ খোঁজেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার করলে সুখ পাওয়া যায় না বরং বাড়ে আরো দুঃখ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহারে দুঃখ যেমন বাড়ে, তেমনি এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা, ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ নিয়ে গবেষণা করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ২০৮ জনের ওপর ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। যে দিকগুলো আরো বেশি প্রভাব ফেলছে তা হলো: 

 

আমার জীবন অন্যদের মতো ভাল নয়

সমাজ বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক লিওন ফেস্টিঞ্জার  দেখেছেন, সহজাতভাবেই অন্যের সাথে সামাজিক অবস্থানের তুলনার ঝোঁক রয়েছে মানুষের মধ্যে। ‘আমার গড়পড়তা অন্য সবার চেয়ে ভাল না খারাপ?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে দেখা গেছে মানুষ নিজেদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা শুরু করে দিচ্ছে। আর বিনা পরিশ্রমে এই তুলনার ভালো একটি  মাধ্যম ফেসবুক।

ফেসবুক নিউজফিডেই দেখা মেলে কোনো বন্ধুর বড় কোনো রেস্তোরাতে খাবার ছবি বা হয়তো পেশাগত পদক পাওয়ার ছবি বা চাকরিতে পদোন্নতি। নয়তো, নতুন গাড়ি কেনার খবর বা সেন্টমার্টিন অথবা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার খবর। মোবাইলের ঝলমলে স্ক্রিনে এসব দেখতে দেখতে তখন মনে হয় সবাই হয়তো ভালোভাবে জীবন পার করছে। আমার প্রতিই ভাগ্য এতোটা নিষ্ঠুর। ওরা এতো ভালো অবস্থানে আছে, এতো জায়গাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর ‘আমি’ কিছুই করতে পারছি না! এভাবেই মনের অজান্তে দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা গড়ে ওঠে। আর তখনই মনের গহীনে শুরু হয় বিষণ্ণতা-হতাশার আনাগোনা।

 

সঙ্গীর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতা

আমরা অনেক সময় বলে থাকি, ভালোবাসায় সবকিছুর মাঝে একটু ‘জেলাসি’ তো থাকবেই। আর এই একটু একটু থেকেই যখন বড় আকারে রূপ নেয় ঠিক তখনই দেখা দেয় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য। অতঃপর আরকি! শুরু হয় মানসিক বিষণ্ণতা। আবার, সঙ্গীর স্ট্যাটাস বা ছবিতে তার কোনো প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা বিপরীত লিঙ্গের অন্য কেউ মাঝে মাঝেই লাইক বা লাভ রিয়েক্ট দিচ্ছে বা কমেন্ট করছে। তার সঙ্গীও হয়তো আন্তরিকভাবেই প্রতিউত্তর করছে বা কারো সাথে বেশি যোগাযোগ করছে। এই বিষয়গুলো যে কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনে তার সঙ্গীর জন্য ঈর্ষাপরায়ণতার সৃষ্টি করে দিতে পারে। ‘ফেসবুক এন্ড ইওর ম্যারিজ’ এর লেখিকা ক্রাফস্কি  বলেন, দাম্পত্য জীবন বা প্রেমঘটিত সম্পর্কের অনেক সমস্যাই আজকাল কারণ হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকে বলা যায়।  

 

ব্যক্তিজীবনের অপ্রয়োজনীয় কিছু কার্যক্রম

বন্ধুদের সাথে চায়ের আড্ডা, পারিবারিক আড্ডা, বা হোক না সারাদিনের কর্ম-ব্যস্ততার পরে আপনার প্রিয় মানুষটির যখন প্রয়োজন ‘আপনাকে’; ঠিক সেই মুহূর্তগুলোতে আমরা অনেকেই পড়ে থাকি সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে। আর এভাবেই আমরা নষ্ট করে ফেলি আমাদের ভালো কিছু মূহুর্ত এবং সম্পর্ক। আবার অনেক ক্ষেত্রে, কোনো সম্পর্কের শেষ পরিণতি ঘটে একজন অপরজনের ব্লকের তালিকায়। পরক্ষণেই হাজারো প্রশ্নের সমাহারে, মানসিক উদগ্রীবতায় অনেকেই শরণাপন্ন হয়ে পড়ি ফেক-আইডির। আর এভাবেই শুধু শুধু বাড়ে মানসিক অশান্তি।  শুধু তাই নয় দেখা গেছে, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলার চেয়ে ফেসবুকে মাঝে মাঝে তার ওয়ালে যাওয়া, কারো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।

এভাবে যতো যাই বলা হোক না কেন বর্তমানে আমরা কেউ পারবো না প্রযুক্তির একটি উদ্ভাবনকে এড়িয়ে জীবন চালাতে। তাই ফেসবুকও ব্যবহার করতে হবে, তবে সেটা পর্যাপ্ত পরিমাণে। যেমন ধরুন, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি কম খাওয়াও। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বাস্তবতায় হয়ে পড়ছি অসামাজিক। তাই বিষণ্ণতা বা অবসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়, সময় দিন আপনার সামাজিক জীবনে আর গড়ে তুলুন বিষণ্ণতামুক্ত সুন্দর একটি জীবন।  

Continue Reading

Psychology

পড়ার চাপ? জেনে নিন এই মানসিক চাপ কমানোর উপায়

Published

on

পড়া কদ্দুর?

 

-ধুররররররর, কিচ্ছু মনে নাই। একদিক দিয়ে পড়ি, আরেকদিক দিয়ে ভুলে যাই। তোর কি অবস্থা?

 

-কি যে একটা অবস্থা আর বলিস না। টেবিলে বসে আছিই তো আছি, পড়া আগানোর বদলে পিছায়।

 

এইচএসসি পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর এই কথোপকথনের সাথে কোথাও কী নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন? কোথাও কী মনে হচ্ছে এই গল্পটা আপনার? ভুল ভাবছেন; গল্পটা আপনার একার নয়, আমাদের সবার। পরীক্ষার দুয়েকদিন আগে এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার আমাদের সবাইকে হতে হয়। যে যত ভালো স্টুডেন্টই হোক না কেন, যতোই সবকিছু কয়েকবার করে রিভাইস করা থাকুক, একেবারে ঠোঁটস্থ মুখস্থও যদি থাকে পরীক্ষার আগে সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। বার বার পড়া জিনিস দেখলেও মনে হয় ‘আরে, এইটাও আছে নাকি সিলেবাসে?’ পরীক্ষা ভীতি মস্তিষ্ক থেকেই তৈরি হয় মানসিক চাপ, আর ফলাফল হিসেবে- ‘ভুলে যাই’, ‘ঘুম আসে না’, ‘ক্ষুধা নাই’, ‘ভাল্লাগেনা’র মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

আজকে তাহলে পরীক্ষার আগের এই চাপ কমানোর উপায়গুলো একটু জেনে নিই-

 

পর্যাপ্ত ঘুম

 

পরীক্ষার টেনশনে ঘুম না হওয়াটা আজকালকার ট্রেন্ড বলা চলে। যেন, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি ফেললেই পাশ নিশ্চিত। কিন্তু এই সময় পর্যাপ্ত ঘুম যে কত জরুরি তা বলে বোঝানো যাবে না। পরীক্ষার আগের দিন রাত জেগে পড়লে পড়া কতটুকু আগাবে তা আমি জানি না, সেই প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবেই এমন নিশ্চয়তাও আপনাকে কেউ দিতে পারবে না। তবে ছয় থেকে আট ঘন্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম যে আপনার নরমাল ব্রেইন ফাংশন বজায় রাখতে খুবই দরকার এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমারই এক বন্ধু পরীক্ষা এলেই যেন অনিদ্রা রোগে পেয়ে বসে। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সেই ছেলের ঘুমটুম সব যে কোথায় পালায় কে জানে! এই সমস্যার বেশ বড়সড় একটা ইংরেজি নামও আছে, Pre exam anxiety syndrome. আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, হলে বসে ঘুমিয়ে পড়তে! তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম যেন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।  

 

পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খান

 

মা যতই খাবারের থালা নিয়ে আপনার পিছনে দৌড়াক, পরীক্ষার সময় একটু-আধটু অনিয়ম হয়েই যায়। এমনিতেই পরীক্ষা সংক্রান্ত স্ট্রেসের কারণে এনজাইম সিক্রেশন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনেকেরই পরীক্ষার আগে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পেটে গোলমাল দেখা যায়। এসময় তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর পানি পান করুন, ফল খান, আর সহজে হজম হয় এমন কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ এই অজুহাতে তেল-ঝোলঅলা খাবারের দিকে একদম হাত বাড়াবেন না, একদমই না। তা সে ফুসকা, চটপটিই হোক কিংবা ডমিনো’স এর পিজ্জা। পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এইসব খাদ্য থেকে দূরে থাকা উচিত।

 

একবার চোখ বুলিয়ে যান শুধু

 

অনেকেরই অভ্যাস থাকে, পরীক্ষার আগের দিন সবটা রিভাইস দেয়ার। যদি আপনারো তেমন অভ্যাস থাকে, তবে সেই অভ্যাস বদলে ফেলার জন্য আমি বলবো না। তবে আমার মনে হয়, সবটা মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে শুধু ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট এবং সব চ্যাপ্টারের হাইলাইটস দেখে নেওয়াটাই ভালো হবে। এজন্য নিয়মিত পড়ার সময়ই নোট করে রাখুন বা বইয়ে দাগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট মার্ক করে রাখতে পারেন। যাতে পরীক্ষার সময় শুধু সেইটুকুতে চোখ বুলিয়েই আপনি পুরো বিষয়ে একটা সম্যক ধারণা পান। পরীক্ষার দু’একদিন আগে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা করলে তাতে লাভ তো হবেই না বরং যা পারেন, যতটুকু পারেন, সেটুকুও ভুলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেবে। অনেক সময়, পরীক্ষার হলে রেসিডুয়াল নলেজ দিয়েই কাজ চালাতে হয়। শুধু চোখ বুলিয়ে যান, সবটা একবার দেখে যান, তাতেই হবে।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

‘তোর রিভাইস দেয়া শেষ? আমার তো এখনো অনেক পড়া বাকি!’

 

নিজের পড়া না হলে চিন্তা হয় ঠিকই, তবে বন্ধু-বান্ধবের পড়া শেষ এই খবর শুনলে ব্রেইনে শর্ট-সার্কিট হয়না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি পরীক্ষার আগে অন্যের সাথে তুলনা দেয়ার এই কাজটা না করেন। অন্যের পড়ার বৃত্তান্ত শুনলে আপনার পড়া একটুও আগাবে না, বরং পিছিয়ে যেতে পারে। তাই কারো সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করবেন না। নিজের নিয়মে, নিজের রুটিনে পড়ে যান। অনেকে আবার হলে ঢুকার আগে ‘এটা পড়েছিস? ওটা কোথা থেকে পড়লি? এটাও পড়তে হবে? কই আগে বলিস নি তো!’ এই ধরণের কথাবার্তায় জড়িয়ে যান। ফলাফল? প্রশ্ন হাতে পাবার আগেই এমনকি হলে ঢুকার আগেই আপনার কনফিডেন্স লেভেল একেবারে তলানিতে।

 

যা করতে ভাল লাগে তাই করুন

 

এমনটা হতেই পারে যে, হঠাৎ আপনার মোটেও পড়ার মুড নেই। কিন্তু আপনি চেষ্টা করছেন নিজেকে চেয়ার টেবিলে আটকে রাখতে। কী মনে হয়, এতে লাভ হয় কোনো? নাকি বসে থাকাই ব্যস?

 

প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মেথড থাকে রিলাক্স করার। কেউ গান শুনতে ভালোবাসে, কেউ টিভি দেখতে, কেউবা পড়ার ফাঁকে এক পাক নেচে নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে পড়তে বসেন। যেটাই হোক, যা করতে আপনার ভালো লাগে কিছুটা সময় যদি সেভাবে রিলাক্স করে নেন তাতে আপনার সময় নষ্ট হবে না, বরং দ্বিগুণ গতিতে পড়া আগাবে আমি আপনাকে লিখে দিতে পারি।

 

গোছগাছ যা করার আগের রাতেই করে রাখুন

 

পরীক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আগেই গুছিয়ে রাখুন। কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব রাতেই গুছিয়ে একপাশে রেখে দিন। পরীক্ষার দিন সকালে এসব খুঁজে সময় বা শক্তি কোনোটাই নষ্ট করা যাবে না। হলে যাবার ক্ষেত্রে যানবাহনের ব্যাপারটিও মাথায় রাখুন। যদি পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়, তাহলে তো খুবই ভালো। আর তা না হলে রিকশায় যাবেন নাকি গাড়িতে নাকি কিছুটা সময় বাসের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই ব্যাপারগুলো আগেই ভালোভাবে বুঝে নিন। দরকার হলে ব্যাকআপ কোনো ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

 

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার মতো পাব্লিক পরীক্ষার আগে খানিকটা চাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি ভর্তি পরীক্ষার মতো লাইফ চেঞ্জিং কোনো কিছু হয়, তবে চাপ যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। অনেকের জন্য আবার সাধারণ ক্লাস টেস্টও পাহাড় ডিঙ্গানোর সমান চ্যালেঞ্জিং। এই চাপকে সরিয়ে রেখে ঠিকমত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে আপনাকেই। শুধু একটা কথা মাথায় রাখুন, আপনি যা পারেন, যতটুকু পড়েছেন সেটুকুই যথেষ্ট। শেষ সময়ে এসে হা-হুতাশ না করে যা পারেন সেইটুকু ঠিকভাবে লিখে আসতে পারলেই আপনাকে আর ঠেকায় কে! আর যদি অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়, তবে একটু উপরের কথাগুলো মিলিয়ে নিন। 

Continue Reading

Trending