Connect with us

Inspirational

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০জন মোটিভেশনাল স্পিকারের জীবনী

Published

on

‘হতাশা’ বর্তমানে যেন আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী । সামান্য একটু কিছু হলেই  যেন আমরা হতাশার ডালা সাজিয়ে বসি। তখন আমরা কেউ কেউ খুঁজি একটু প্রেরণা, একটু আত্মবিশ্বাস। পৃথিবীতে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের কথার জাদুতে আপনি হয়তো পারবেন আপনার হতাশা, বিষন্নতার মায়া জাল থেকে মুক্ত হতে বা নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে। তাই, জেনে নিন পৃথিবীর সেরা ১০জন মোটিভেশনাল স্পিকার সম্পর্কে।

 

১০. Nick Vujicic:

 

 

টেট্রা এনিমেলিয়া সিনড্রোমেনামটি শুনেছেন কখনো? জানেন এর সম্পর্কে? এটি একটি রোগ, যার ফলে মানুষ কোনো হাত–পা ছাড়াই জন্ম নেয়। ভ্রুণ অবস্থায় যখন মানুষের হাত, পা সৃষ্টি হতে থাকে তখন WNT3 জীনের কারণে হাত, পা সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে অন্যান্য বিভিন্ন অঙ্গও স্বাভাবিক গঠনে বাধাগ্রস্ত হয়। ঠিক এই রোগে আক্রান্ত একজন হচ্ছেন নিকোলাস জেমস ভুজিসিক। যার জন্ম ১৯৮২ সালের ৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার  মেলবোর্ন শহরে। 

 

‍মাত্র ১০ বছর বয়সে স্কুল জীবনে যে নিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তাঁর পরের গল্পটা কিন্তু  একেবারেই ভিন্নরকম। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর হাইস্কুলের এক দারোয়ান তাকে জনসম্মুখে বক্তৃতা দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। ৫৩ বার প্রত্যাখিত হওয়ার পরেও হতাশা কিন্তু তাকে ছুঁতে পারেনি। তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন যে, ঘণ্টায় এক হাজার আটশত  লোককে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য ‘গিনেজ বুক’ এ তাঁর নাম উঠেছে। এছাড়াও শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে মিনিটে তিনি কম্পিউটারে ৪৭টি শব্দ টাইপ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, নিক “Without Limbs” নামে একটি প্রতিষ্ঠানও চালান। মানুষের কাছে নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কখনও হাত-পা লাগে না। সেটিই প্রমাণ করেছেন হাত-পা বিহীন এই যোদ্ধা।

 

 

“You’re not good enough. It’s a lie to think you’re not worth anything.” – Nick Vujicic

 

৯. Brian Tracy:

 

 

১৯৪৪ সালের ৫ই জানুয়ারী  কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে তাঁর জন্ম । তিনি “ব্রায়ান ট্রেসি ইন্টারন্যাশনালের” সিইও ছিলেন। এটি বিশেষ ব্যক্তি এবং সংগঠনকে গড়ে তুলতে, প্রশিক্ষণের এবং উন্নতিতে সহায়তা করার জন্য একটি সংস্থা।

 

ট্রেসির মূল লক্ষ্যই ছিল অন্য ব্যক্তিদের তাদের লক্ষ্য দক্ষতার সাথে অর্জনে সাহায্য করা। এছাড়াও  জীবদ্দশায় তাঁর সাফল্যগুলি বিস্ময়কর। ব্যবসায়ের বিশাল সংখ্যক পরামর্শ, বিশাল সংখ্যক সেমিনার হোস্টিং এবং ব্যবসা, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনশাস্ত্রে বছর বছর ধরে গবেষণা করেন। এসকল ভিত্তিই তাঁকে বিশ্বসেরা  প্রেরণামূলক স্পিকার গঠনে অনেকাংশে সাহায্য করেছে।

 

“Never say anything about yourself you do not want to come true”– Brian Tracy

 

৮. Robin Sharma:

 

 

বিশ্বের সেরা অনুপ্রেরণামূলক স্পিকার রবিন শর্মা নেপালে ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ডালহাউসি ইউনিভার্সিটি অফ স্কুল অফ আইন থেকে সরাসরি একজন পেশাদার আইনজীবী হন।

 

কেউ কেউ বলতে পারেন যে রবিন শর্মা স্পিকারের পরিবর্তে একটি প্রেরণামূলক লেখক। তবে তিনি কিন্তু কোন মামুলী লেখক নয়, রীতিমত মিলিয়ন কপি বিক্রি হওয়া বইয়ের অ্যামাজন বেস্ট সেলার লিস্টের লেখক। ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁর সাড়া জাগানো বই  “The Monk Who Sold his Ferrari” ৫ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে । এছাড়াও স্ব-সাহায্য ও নেতৃত্বের বিষয়ে শর্মার ১৯৯৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ টি প্রকাশিত বই হয়েছিলো ।

 

“Having talent is fantastic. Having confidence is even more important.” -Robin Sharma

 

৭. Wayne Dyer:

 

 

অনাথ ছেলে থেকে “প্রেরণা গুরু” যার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে অনাথারে। জন্ম ১৯৪০ সালের ১০ মে ডেট্রয়েটে। তিনি তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সারা বিশ্বের অনেকের জীবনকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে কর্মজীবনের শুরুটা করলেও কিন্তু ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মনোবিজ্ঞান সমাপ্ত করেন। তারপর, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং এন্ড এডুকেশন ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর প্রথম বই “Your Erroneous Zones” সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিক্রয়যোগ্য বইগুলির মধ্যে একটি, তারিখ অনুসারে বিক্রি হওয়া আনুমানিক ৩৫ মিলিয়ন কপি। প্রেরণাদায়ক স্পিকার, মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং স্ব-সহায়ক বইগুলির শ্রেষ্ঠ লেখক, তিনি ২০১৫ সালে হাওয়াইতে লিউকেমিয়া মারা যান।

 

“When you judge another, you do not define them, you define yourself” -Wayne Dyer

 

৬. Zig Ziglar:

 

 

সেলস্ ম্যান, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং একই সাথে একজন বিখ্যাত আমেরিকান লেখক হিসেবে জিগ জিগলার  সারা বিশ্বে পরিচিত। জন্ম গ্রহণ করেছেন আলবামার, কফি কান্ট্রিতে ১৯২৬ সালের ৬ নভেম্বর।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩৫-১৯৪৬ সাল থেকে জিগ  সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেকগুলো কোম্পানির জন্য সেলসম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন। অবশেষে মোটরগাড়ি পারফরমেন্স কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠে। প্রেরণামূলক সেমিনারে অংশগ্রহন শুরু করার পাশাপাশি ১৯৭৫ সালে তাঁর প্রথম বই  “See You at the Top” প্রকাশিত হয়। ১৯৭৫ এবং ২০১২ সালে তিনি প্রথম অন্তত ১৫টি বই লেখেছেন। ২০১২ সালের ২৮শে নভেম্বর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিশ্বখ্যাত এই লেখক, সেলস্ ম্যান এবং মোটিভেশনাল স্পিকারের জীবন অধ্যায় আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে আছে।

 

“You were born to win, but to be a winner, you must plan to win, prepare to win, and expect to win” – Zig Ziglar

 

৫. Arnold Schwarzenegger:

 

 

আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার একজন কিংবদন্তীর নাম। যিনি অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, আবার পেশাদার বডিবিল্ডারও। জন্ম ১৯৪৭ সালের ৩০ শে জুলাই অস্ট্রিয়াতে। মাত্র ১৩ বছরে প্রথমবার পা রাখেন জিমে৷ ব্যস, ওটাই প্রথম প্রেম৷ ১৪ থেকে ২০ এই ক’বছরেই পুরোদস্ত্তর বডিবিল্ডার৷

 

তবে এর জন্য তাঁকে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি, কেননা তাঁর বাবা চাইতেন  ছেলে পুলিশ অফিসার হবে। তাই শরীরচর্চার পাশাপাশি যোগ দিয়েছিলেন অস্ট্রিয়ান ফৌজে। ছোটখাট খেতাব জিতলে কী হবে, ফৌজের বিধি ভাঙার জন্য আর্নের কপালে জুটেছিল শাস্তি। শরীরচর্চার জন্য পেয়েছেন লাগাতার সেরার সম্মান৷ পাঁচবার হয়েছেন মিস্টার ইউনিভার্স৷ সাতবার মিস্টার অলিম্পিয়ান৷ ভাবা যায়! গিনেস বুকেও তার নাম উঠেছে৷ সব থেকে কম বয়সে মিস্টার ইউনিভার্স-এর খেতাব তাঁর পকেটে। এছাড়াও ১৯৮৪ সালে  “দ্য টার্মিনেটর” মুভির মাধ্যমে সর্বকালের সেরা অ্যাকশন হিরোর  সম্মান। ২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবেও। এভাবেই তিনি প্রমাণ করেছেন, ‘স্বপ্ন যদি হয় আকাশ ছোঁয়া, সেখানে সফলতা আসবেই’।

 

“Just remember can’t climb the ladder of success with your hands in your pockets” – Arnold Schwarzenegger

 

৪. Jim Rohn:

 

 

জিম রোহনের জন্ম  ১৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৩০ সালে ওয়াশিংটনে ইয়াকিমাতে। তিনি  ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি প্রেরণামূলক স্পিকার।

 

৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, রোহন একজন দক্ষ শিল্পীর মতো তাঁর নৈপুণ্যকে সম্মান করেছিলেন। মানুষের জীবনযাত্রায় বিশ্বকে সাহায্য করেছেন যা তাদের সম্ভাব্য কল্পনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এক সময়ের অত্যন্ত সফল বিক্রয় কোম্পানি “Nutri-Bio”-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অবশেষে ব্যবসার বাইরে চলে যাওয়ার পরে, তাকে তার একটি ক্লাবের সভায় কথা বলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং এরপর থেকেই  তিনি অন্যান্য অনেক সভায় কথা বলার আমন্ত্রণ পান এবং প্রেরণামূলক স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিশ্বের সেরা এই প্রেরণামূলক স্পিকার ২০০৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর  তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

 

“Discipline is the bridge between goals and accomplishment ” – Jim Rohn

 

৩. Les Brown:

 

 

বিশ্বের সেরা অনুপ্রেরণামূলক স্পিকার লেস ব্রাউন ১৯২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মিয়ামি, ফ্লোরিডাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখক, রেডিও ডিজে, সাবেক টেলিভিশন হোস্ট এবং সাবেক রাজনীতিবিদও বটে। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে, তিনি “ওহিও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের সাবেক সদস্য ছিলেন ।

 

অন্যান্য প্রেরণামূলক স্পিকারদের মধ্যে ব্রাউন  প্রেরণামূলক ভিডিও তৈরিতে অবিশ্বাস্যভাবে জনপ্রিয়। কারণ তার বক্তৃতা এত গভীর এবং অর্থবহ যে তা সত্যিই জীবনের অনেকক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তনে সহায়ক। তাঁর “It’s Not over until You Win” এবং “Live Your Dreams” বই দুটো শীর্ষ  অনুপ্রেরণামূলক বইগুলোর মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও  একজন স্পিকার হিসেবে ব্রাউন সারা বিশ্ব জুড়ে ফরচুন ৫০০টি কোম্পানি এবং সংগঠনকে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর কথা বলার শৈলী এবং ভাষণের জন্য দুর্দান্ত আবেগ তাঁর দর্শকদেরকে তাদের জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে  এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রেরণা দেয়।

 

“In every day, there are 1,440 minutes. That means we’ve 1,440 opportunities to make a positive impact” -Les Brown

 

২. Tony Robbins:

 

 

১৯৬০ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি  লস এঞ্জেলেসে টনি রবিন্স এর জন্ম। তিনি তাঁর সেমিনার ও আত্ম-পরিবর্তনমূলক বইয়ের জন্য পৃথিবী জুড়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছেন। তাঁর বয়স যখন ১২ কোঠায়, তখন তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। সবটা মিলিয়ে তাঁর বাল্যকাল ছিল খুবই ‘অবমাননাকর’; সেই সাথে তাঁর মদ্যক মা। তাই সব থেকে রেহাই পেতে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সে বাড়ি থেকে চলে আসে।  

 

মূলত প্রেরণামূলক ভাষ্যের শুরুতে রবিন্স জিম রোহনের জন্য সেমিনারে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। পরে তিনি নিজের সেমিনারে হোস্টিংয়ের জন্য নিজের যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। টনি তার সেমিনার, প্রেরণামূলক বক্তৃতা, অনুপ্রেরণীয় উদ্ধৃতি এবং সেরা বিক্রয় বইগুলির মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে অনেক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে ঠিক একজন জাদুকরের মতো। শুধু তাই নয়, তিনি বিল ক্লিনটন ও অপরাহ উইনফ্রে এর মতো ব্যক্তিত্বদেরও কোর্চ করেছেন। ১৯৮৭ সালে তাঁর প্রকাশিত বই  “Unlimited Power” যা বর্তমানেও বেস্ট সেলার লিস্টের তালিকাতে রয়েছে।

 

“Successful people ask better questions, and as a result, they get better answers.” – Tony Robbins

 

১. Eric Thomas:

 

 

এরিক থমাসের জন্ম  শিকাগোতে ১৯৭০ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর। তিনি  একজন প্রেরণামূলক স্পিকার এবং লেখক হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গৃহহীন ছিলেন। টানা দুইবছর তিনি রাস্তার ঘরে বসবাসের পাশাপাশি ডাস্টবিন থেকে খাবার  সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

 

তখন এরিক নিজেকে এমন একজন ব্যক্তিতে গড়তে চাইলেন, যাতে তিনি নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন এবং তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে ধাবিত হতে থাকেন। তাঁর ইউটিউব ভিডিও কিংবদন্তী এবং তার সেরা বিক্রয় বই লক্ষ লক্ষ ডলার উপার্জন করেছে। তিনি নিজের পরামর্শকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ফোর্টইউন ৫০০টি কোম্পানি এবং পেশাদার ক্রীড়া সংস্থা উভয়ের সাথে কাজ করেছেন। এছাড়াও হিপ-হপ প্রচারক হিসাবেও পরিচিত। আপনি যদি এখনও থমাসকে না শুনে থাকেন! তাহলে তাঁর Thank God It’s Monday (TGIM)” এর পর্ব গুলো শুধু শুনুন। দেখবেন পরিবর্তনটা নিজেই বুঝতে পারছেন।

 

“Succeed as bad as you want to breathe, then you’ll be successful.” – Eric Thomas

 

দেখলেনতো, হতাশা, কষ্ট, খারাপ সময় পৃথিবীর সকল মানুষকেই কিছু সময়ের জন্য হলেও স্পর্শ করে। কিন্তু যারা এসবকে তোয়াক্কা না করেই জীবনে  এগিয়ে যায়, তারাই পারে দিন শেষে সাফল্যের হাসি নিয়ে বাঁচতে। তাই শিক্ষা নিন সবার জীবন থেকে আর এগিয়ে যান আপনার স্বপ্নের পথে।

 

আরও পড়ুনঃ সফল মানুষদের সকালের অভ্যাস

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Inspirational

মাস্টার মাইন্ডের রহস্য

Published

on

“মাস্টার মাইন্ড” আপনি হয়তো নামটা প্রথম বারের মতো শুনেছেন। প্রথম শুনাটাই স্বাভাবিক। কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোথাও এ নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো সাফল্য অর্জনের মৌলিক পথ মাস্টার মাইন্ড নিয়ে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মাস্টার মাইন্ড কিঃ

দুই বা ততোধিক মানুষ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য একসাথে সম্মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা চালায়। তখন তাকে মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ বলে। মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ সর্ব প্রথম  নেপোলিয়ন হিল এবং এন্ড্রু কার্নেগি আবিষ্কার করেন। ১৯২৫ সালে হিল তার “দ্যা লো অব সাকসেস ” বইয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এন্ড্রু কার্নেগী ২৫ জন সদস্য নিয়ে তার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ গঠন করেছিলেন এবং স্টিলের ব্যাবসার মধ্য দিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিত্তবান হয়েছিলেন। তাছাড়া অতিথের অনেক সফল ব্যাক্তিরাই মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ ব্যবহার করে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করেছেন।

তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেনঃ

বিখ্যাত ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা – হেনরি ফোর্ড।

পৃথিবীকে আলোকিত করা বিজ্ঞানী – থমাস আলভা এডিসন।

মোবাইল ফোন আবিস্কারক – আলেকজেন্ডার গ্রাহামবেল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট – থিওডোর রুজভেল্ট। 

বিখ্যাত প্রকৌশলি – চার্লস এম শওয়াব।

মার্কিন উদ্যোক্তা – জন ডি রকফেলার। সহ আরো অনেকের সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মাস্টার মাইন্ড।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

কেন মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে একেক জন ব্যাক্তি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। যার ফলে যে কোনো উদ্দেশ্য দ্রুত সাধন করা যায়।

এ নিয়ে ওয়ালেস ডি ওয়াটলেন তার বেস্টসেলার বই “দ্যা সায়েন্স অব গেটিং রিচ” বইয়ে খুব সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন। উদাহরণটা ছিল এরকম – মনে করা যাক, একটা মাসিক পত্রিকার কথা। একটা মাসিক পত্রিকা বের করতে প্রয়োজন হয় একদল মানুষের। এই মানুষ গুলোর থাকবে নানা গুন। একজন সম্পাদনা করবেন, কেউ কম্পোজের কাজ করবেন, কেউ লেখা জোগাড় করবেন, কেউ লিখবেন, কেউ প্রুফ দেখবেন, কেউ বিজ্ঞাপন জোগাড় করবেন, কেউ ছাপাবেন, কেউ বাধাইয়ের কাজ করবেন, কেউ বা পত্রিকাটি বাজারজাত করবেন। তবেই একটা পত্রিকা পরিপূর্ণভাবে বের করা সম্ভব হবে।উপরের কাজ গুলো কোনো একজন মানুষের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে ১০ জন মানুষ ১০টি ভিন্ন কাজে দক্ষ। এভাবে যদি কোনো একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে একদল মানুষ নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কে কাজে লাগায় তাহলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

কিভাবে মাস্টার মাইন্ড তৈরি করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যে কোনো একজন মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এবং সবার সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এ গ্রুপে ফাটল ধরতে পারে। মাস্টার মাইন্ড তৈরি করার পূর্বে যে ৫ টি বিষয়ের উপর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তা হলোঃ

১। প্রথমেই আপনার পরিচত একদল মানুষের নামের লিস্ট করে নিন। যাদের আপনি আপনার গ্রুপে রাখতে চান।

২। তারপর লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তিকে নিয়ে গভীর ভাবে অনুধাবন করুন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। আমার লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তি কি যথেষ্ট পরিশ্রমী? তারা কি যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকবে? তাদের উপর কি বিশ্বাস করা যায়? কোন কোন কাজে তাদের বিশেষ দক্ষতা আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবেই তাদের আপনার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যুক্ত করতে পারেন।

৩। আপনাদের গ্রুপের উদ্দেশ্য কি? গন্তব্য কোথায়? এ প্রশ্ন গুলোর উত্তর পরিষ্কার করে নিন।

৪। যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে তাদের সাথে আলোচনা করে নিন এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক মিটিংয়ের ব্যাবস্থা করতে পারেন।

৫। মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ করার পর যদি কেউ নিজের কাজ নিয়ে উদাসীন থাকে, তাহলে তাকে গ্রুপ থেকে ছাটাই করে ফেলুন।

মাস্টার মাইন্ড ব্যবহার করে একজন মানুষ একাধিক মানুষের সাহায্য নিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন এবং এর ফল সবাই মিলে ভোগ করবেন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

বিখ্যাত স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কে গল্পগুলি প্রমাণ করে যে কিছুই অসম্ভব নয়

Published

on

সবাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে চায়, তা সে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু যোগ করতে চাই যা আমাদের জীবনকে সুন্দর করবে। সফল মানুষদের গল্পগুলো থেকে কিভাবে নিজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করতে হয় আমরা সেই শিক্ষাই পাই এবং বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপগুলোর মাধ্যমে নিজের স্বপ্নগুলো সফল করার পথ বেছে নিচ্ছে অনেক উদ্যমী তরুণ।

এই আর্টিকেলে আমি জানাবো বিখ্যাত কিছু স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিলো। আশা করি এটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে যা আপনার নিজের স্বপ্নের রাস্তায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফল হতে এড়াতে হবে যে বিষয়গুলো

Instagram

Kevin Systrom – Founder of Instagram

Kevin Systrom নামে একজন ব্যাক্তি প্রোগ্রামিং কোড শিখতে চাইছিলো, সে সিদ্ধান্ত নিল তার কাজের সময়ের পর নিজে নিজে শিখবে এবং সেই ইচ্ছা থেকেই সে কিছু মোবাইল অ্যাপ নিয়ে কাজ করা শুরু করলো। ফলাফল, সে Instagram নামে একটা ফটো অ্যাপ স্টোরে আপলোড করে সোমবার, যা কিনা ঠিক পরেরদিন মঙ্গলবারেই অ্যাপ স্টোরে জনপ্রিয় হয়ে যায়।

Uber

Uber suspends hundreds of accounts after rider diagnosed with ...
Source

একজন স্কুল ড্রপ আউট তার একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু অবৈধ লাভ গ্রহনের কারণে তাকে বেশ বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছিলো। এর পরও তার নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন এবং সাহস শেষ হয়ে যায়নি। ২০১০ সালে সে Uber নামে নতুন প্রকল্প শুরু করে যার জন্য সে অর্থায়ন পায় এবং বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।

Alibaba

Alibaba founder Jack Ma steps down as chairman - MarketWatch
Source

Jack Ma নামে একজন ব্যাক্তি যে কিনা তার কর্ম জীবনে প্রায় সবরকম চেষ্টা বিফলে গিয়েছিলো, ইংলিশ জানতোনা বলে তার অনেক কষ্ট করতে হয়েছিলো, এমনকি বলার মত তার এমন কোন বড় যোগ্যতাও ছিল না। কিন্তু এসবকিছুর পরও তার নিজস্ব চিন্তা থেকে তৈরি করা প্রতিষ্ঠান যার নাম “আলিবাবা”, ব্যাবসাক্ষেত্রে পৃথিবীকে এক নতুন ধারনা দেয়।

LinkedIn

How to view profiles anonymously on linkedin ? – Tech101
Source

একজন ব্যাক্তি সামাজিক মাধ্যমের এমন একটি ধারনা থেকে কাজ শুরু করে যা কিনা শুধুমাত্র প্রফেশনাল কাজে লাগবে এমন মানুষদের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে। শুরুতে সে তার পরিচিত ৩৫০ জন বন্ধুদের তার এই ওয়েবসাইটে জয়েন করায়। ২০০৩ সালে যখন সে আনুষ্ঠানিকভাবে LinkedIn শুরু করে তখন সকলেই তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় এবং বর্তমানে তার এই সম্পদের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশী।

Pinterest

Pinterest Reaches 60% of US Women; Here's What They're Searching ...
Source

একজন ব্যাক্তি চাকরী ছেড়ে দিয়ে তার আরও দুইজন বন্ধুর সাথে কাজ করা শুরু করে। তারা বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ বানায় যার যার কোনটাই কোন জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু তারা নতুন কিছু চিন্তা করা থামিয়ে দেয়নি। তারা নতুন কিছু করার চিন্তা এবং গবেষণা বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে Pinterest তৈরি করে যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২৫ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ ব্যবহার করে।

Airbnb

Airbnb policy lapse allows for human trafficking and modern slavery
Source

দুইজন বন্ধু তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারছিল না তাই তারা তাদের বাসায় অন্য মানুষদের থাকতে দিত যারা অল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন কাজে আসতো এবং তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিত। এতে যারা থাকতো তাদের হোটেলের মত এতো খরচ হতো না এবং দুইবন্ধু সময়মত তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারতো।

তাদের এই আইডিয়া দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পরে এবং তারা ১১২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পায় এই আইডিয়া এর উপর আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য।

Angry Birds

Angry Birds (game) | Angry Birds Wiki | Fandom
Source

৩ জন ব্যাক্তি ৫১টি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে যার জন্য তারা কোন সফলতাই পায়নি এবং তারা প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিল যে তাদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাদের ৫২ তম অ্যাপটি ছিল Angry Birds নামে একটি গেম যা ইতিহাস তৈরি করলো এবং তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিল।

এই স্টার্টআপ গুলোর বিস্তারিত ঘটনা আপনারা অনলাইন থেকে জেনে নিতে পারবেন কিন্তু ছোট এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো, আমরা কেউই আমাদের ভবিষ্যতে ঠিক কি হতে যাচ্ছে তা ঠিক করে বলতে পারি না এবং ঠিক কোন মুহূর্তে আমাদের জীবনে ভালো পরিবর্তন আসবে সেটা ধারনা করতে পারবো না। কিন্তু যা করতে পারবো সেটা হলো হাল না মেনে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের যোগ্যতা আরও বাড়ানো। এই মানসিকতাই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে এবং সফল হতে সাহায্য করবে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

৬ টি বিস্ময়কর জিনিস ঘটে যখন তুমি নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো

Published

on

তুমি কি একবার চিন্তা করেছো, তোমার প্রতিটি দিন যদি সেই কাজগুলো করে কাটতো যেগুলোতে তোমার সবচেয়ে বেশী উৎসাহ, তাহলে কত রোমাঞ্চক হতো জীবনটা? তোমার মানসিক উত্তেজনা ঠিক সেই সময়ের মত হতো যখন তুমি জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে গিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে মনের শ্রেষ্ঠ ইচ্ছার কথা ভাবতে।

কিন্তু এইরকমটা হয়না, কারণ আমরা বাস্তবতার মাঝে আমাদের উৎসাহগুলো পেছনে ফেলে আসি। কিন্তু এই “বাস্তবতা” বিষয়টা আসলে কি? এবং কেনই না বাস্তবতার কারণে আমাদের স্বপ্ন এবং মনের ইচ্ছাগুলোকে ভুলে যেতে হয়?

একটা জবাব প্রায়ই আসে যে সমাজ আমাদের স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের বেশিদূর আগাতে সাহায্য করে না। তাই আজকে তোমাকে জানাই, সমাজ যখন তোমার স্বপ্ন আর তোমার উৎসাহকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে বিভ্রান্ত করবে, ১০টি বিস্ময়কর জিনিস তোমার মধ্যে ঘটবে যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী জীবন ঠিক করবে।

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে

সবাই জানে যে মানুষ তার নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে সকলের কাছে পরিচিত হতে পছন্দ করে। কিন্তু এটাও সত্যি যে মানুষ নিজের পছন্দের কথা সকলের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যখন তুমি অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে, তোমার নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করতে কোন দ্বিধা বোধ করবে না।

প্রায় সময়েই তুমি যখন অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করতে পারো না, তোমাকে এমন একটা জীবন গ্রহণ করতে হয় যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য। তোমার নিজের উপর বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তুমি সমাজ, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কথামত চলতে শুরু করো। এটা হয় কারণ তুমি যা করছ তাতে তোমার খুবই কম নিয়ন্ত্রন থাকে। খুব সহজের এই কাজগুলো তোমার কাছে বোঝা বলে মনে হয় এবং ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণে সমাজে টিকে থাকার ভয় সবসময় তোমার মধ্যে তাড়া করতে থাকে।

কারণটা খুব সহজ, তুমি যখন এমন কাজ করে জীবন পাড় করছ যা তোমাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছেনা, সেই কাজে তুমি কখনোই তোমার সর্বোচ্চ দিতে পারবে না। ফলাফল, সাধারন এবং ভীত একটা জীবন তোমাকে সারাক্ষণ পীড়া দিতে থাকবে।

২. মানসিক অশান্তি কমে যাবে

চাকরী জীবনের অশান্তি হচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য রোগের মূল উৎস।

প্রথমেই মানসিক অশান্তির ব্যাপারটা তোমাদের কাছে একটু পরিষ্কার করি। ব্যাপারটা এমন নয় যে তোমার মনের ইচ্ছা মত কাজ করলে মানসিক অশান্তি হবে না। কিন্তু, নিজের ইচ্ছা থেকে যে কাজ তুমি করো, সে কাজে কোন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার একটা ইচ্ছাও তোমার মধ্যে জন্ম নেয় এবং সেটাই সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর।

আর যারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেনা তাদের কাছে প্রত্যেকটা কাজই বিরক্তিকর মনে হয় এবং কাজ করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজ শেষ হবার সময়ের দিকে বেশী নজর দেয়। চিন্তা করে দেখো, এরকম মানসিক অশান্তি আর আক্ষেপ নিয়ে প্রতিটা দিন পাড় করা কতটা যন্ত্রনাদায়ক।

৩. কাজের পরিপূর্ণতা

“বাঁচার জন্য কাজ করা” – এর থেকে ভয়ংকর বাস্তবতা আর হতে পারে না। তোমার নিজেকে সারাক্ষণ বন্দি মনে হবে কারণ, তোমার কাজ পাওয়া অর্থ থেকেই তোমার বাড়ি ভাড়া, খাওয়া দাওয়া থেকে সবকিছু নির্ভরশীল। তাই কাজ যতই অপছন্দের হোক না কেন, আমাদের নিজেকে সেই কাজের মধ্যেই রাখতে হয় আর যা করতে উৎসাহ ছিল সেটা জীবন থেকেই দূরে সরিয়ে দিতে হয়। এটা বাস্তবতা মেনেই সারাটা জীবন পাড় করে ফেলছি তাই না? কিন্তু একবারও কি এভাবে চিন্তা করে দেখেছো, তোমার এই কাজের কোন পরিপূর্ণতাই পাচ্ছে না শুধুমাত্র তুমি তোমার কাজটি উপভোগ করতে পারছ না তাই।

যারা নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করে তাদের দিকে লক্ষ্য করে দেখো, কাজ থেকে প্রাপ্তি কি হচ্ছে সেটা তাদের মূল মনোযোগের বিষয় নয় বরং সেটা আরও কিভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে তারা চিন্তা করতে থাকে। কাজের এই পরিপূর্ণতাই সময়ের সাথে এর সঠিক মূল্যায়ন করে।

৪. কর্ম জীবনে ভারসাম্য আনার দক্ষতা

বলা হয়, যদি তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো, তাহলে তোমার আর কর্ম জীবনের ভারসাম্য নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তার মানে হলো কর্ম জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে সমস্যা তখনই আসে, যখন আপনার কাজের সময়টা আপনাকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দেয় না।

যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করবে, তখন তোমার মনেই হবে না তোমার কাজের সময় তোমার জীবন থেকে আলাদা। আর এই মানসিকতাই তোমাকে শান্ত আর সুখী রাখবে।

৫. জীবন নিয়ে আক্ষেপ কম হবে

দিন শেষে, মানুষ সেই সকল কাজ নিয়ে আক্ষেপ করে না যা তারা করেছে, বরং সেই কাজগুলো নিয়ে আক্ষেপ করে যা তারা করতে পারেনি।

ভেবে দেখো, তুমি কাজের মাধ্যমে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছো। এবার ভেবে দেখো, তুমি অন্য কারো কাছে কি কি কারণে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহগুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে এই নিয়ে আক্ষেপ করছো। যা বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সাথেই হয়ে থাকে। সমাধান এখন তোমার কাছে। জীবন একটাই আর এই জীবন নিয়ে আক্ষেপ করে বেঁচে থাকাটা কোন সমাধান হতে পারে না।

৬. আত্ম উন্নতি ঘটবে

নিজের উৎসাহ এবং স্বপ্নের পেছনে না ছোটার মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা। অনেক সময়ই আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য আমি উপযুক্ত কি না অথবা আমার এই স্বপ্ন অর্থনৈতিকভাবে আমাকে স্বাবলম্বী রাখবে কি না।

তোমার এই চিন্তা সঠিকও হতে পারে কিন্তু, এর মানে এই না যে সত্যিটা মেনে নিয়ে তোমাকে হাল ছেড়ে দিতে হবে। তার বদলে তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে যতভাবে প্রস্তুত করা যায় সেদিকে সময় বেশী দিলে আত্ম উন্নতির মাধ্যমে অনেক অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করতে পারবে।

নিজের উৎসাহকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করে নাও তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তোমাকে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নিজেকে উপযুক্ত করে এগিয়ে যাও।

পরিশেষে আমার দিক থেকে আমি একটা কথাই বলবো, জীবনে আমাদের অস্তিত্ব অসীম সময়ের জন্য নয়। তাই নিজের উৎসাহকে গুরুত্ব কম দিয়ে এবং ভয়কে প্রাধান্য দিয়ে যদি তুমি এমন কোন একটা জীবন কাঁটিয়ে দাও যা আসলে তোমার জন্য নয়, তাহলে সেই আক্ষেপ থেকে পাওয়া কষ্ট থেকে তুমি কখনো মুক্তি পাবে না।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial