Connect with us

Motivational

সফল হতে এড়াতেই হবে যে বিষয়গুলো

Published

on

সফল হবার সুপ্ত ইচ্ছা আমাদের সকলের মাঝে আছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনেক কিছু এমন কিছু করে ফেলি যা আমাদের সফলতার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু সফলতা অর্জনের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সফলতা শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়ত ঠিকমত দু’বেলা খেতে পেয়ে সফল, কারো মতে দু-চারটি গাড়ি কিনে সে সফল।

সফলতার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জন ক্ষেত্রে একেক রকম হলেও, কিছু বিষয় যা আমাদের সফল হবার ক্ষেত্রে মেনে চললে খুব সহজেই সফলতাকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবো। সফলতা মানেই আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনেক বড় হতে হবে বা আপনার দু’চারটে গাড়ি থাকতে হবে এমন নয় বরং মানসিকভাবে শিক্ষিত হওয়া এমনকি মানসিক ভাবে সফল হওয়াটা হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বাস রাখতে হবে মানসিকভাবে সফল হতে পারলেই আপনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল। কেননা আপনি যখন একজন ভালো মানুষ, তখন সেই ভালো মনুষ্যত্বের কৃতিত্ব আপনার যেকোনো সফলতাকে ছাড়িয়ে যাবেই। একজন ভাল মানুষ হিসেবে সফল হবার জন্য যে বিষয়গুলো আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো জানাটা জরুরি। কেননা যখন আপনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, ঠিক তখনই আপনি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। জেনে নিতে পারেন একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

যে বিষয়টি হয়নি সেখানে আর ফিরে না যাওয়া

বিশ্বাস রাখতে হবে আপনার জীবনের যা ঘটছে তা আপনার ভালোর জন্যেই খুব হচ্ছে। আর তাই যে বিষয়টি আপনার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে বা যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে ঘটছে না সেগুলো নিয়ে অকারণ অহেতুক ভাবনায় সময় নষ্ট করবেন না। বরং সামনে কী নতুন করা যায় সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অযাচিতভাবে পুরানো ভাবনায় নিজেকে আটকে রাখা যাবে না। নতুন ভাবনাগুলোর জন্য দ্বার উন্মোচিত করে দিতে হবে। যা ঘটে গেছে তা নিয়ে পুনরায় ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

 

যা আপনার জন্য না তা করবেন না

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা যেকোন কাজ করার পূর্বে, ভেবে নেবেন সে কাজটির জন্য আপনি আসলেই যোগ্য কিনা। অথবা যে কাজটি আপনি আসলেই করতে যাচ্ছেন, তা কেন করছেন? অর্থাৎ এরকম অনেক কিছুই আছে যা আমরা অপরের খুশির জন্য বা অপরের মন রক্ষার জন্য করে থাকি। কিন্তু সবসময় মনে রাখতে হবে, নিজের আদর্শের সাথে কখনোই প্রতারণা করবেন না। আর তাই যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যায় না, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

হতে পারে আপনার আশেপাশের মানুষজন আপনাকে এক প্রকার বাধ্য করবে, সে বিষয়গুলোতে আপনাকে জড়াতে, তবুও নিজের আদর্শকে ঠিক রেখে সে বিষয়গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, যে বিষয়গুলো আপনি মনে করেন যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যাচ্ছে না।

 

অপরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না

কখনোই কোন কিছু করার জন্য, কাউকে বাধ্য করবেন না। কেননা প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অবস্থান রয়েছে, যেখান থেকে সে স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে। অবশ্যই আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানাতে পারেন কোন কাজগুলো তার জন্য ঠিক বা ঠিক নয়। কিন্তু সেগুলোকে পরিবর্তন করার জন্য আপনি তাকে জোর করতে পারেন না। আর তাই অপরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না, এতে করে আপনার স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হবে না। এমন কি নিজের আদর্শ কখনো জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

 

মানতে হবে সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়

সকলকে সুখী-খুশি করা সম্ভব নয়। সবার মন মত আপনি সবকিছু করতে পারবেন এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। সেই কাজগুলো করুন, যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখতে পারছে। অন্যকে খুশি করা অনেক বেশি কঠিন বরং নিজের সন্তুষ্টি আনাটা অনেক বেশি সহজ। আর তাই অপরকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। কারণ আপনার নিজের একার পক্ষে সকলকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয়।

 

ভালো কিছুকে বিশ্বাস করুন

ভালো আর পারফেক্ট এর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনি ভালোকে বিশ্বাস করতে পারবেন কিন্তু সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন কিছুকে বিশ্বাস করাটা ভুল। একেবারে নির্ভুল কেউ হতে পারে না, তবে চেষ্টা রাখতে হবে এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে হবে, যাদের থেকে আপনি ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আর অবশ্যই ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে।

 

সব কিছুকে বড় ভাবে দেখতে হবে

কোন কাজই ছোট নয়। সকল ব্যক্তিত্বরা কখনোই কোন কাজকে ছোট হিসেবে দেখেন না। মনে রাখতে হবে একজন মানুষ যত নিম্ন কাজই করুক না কেন, সে ওই কাজটি করে আনন্দ পাচ্ছে, একই সাথে তার জীবন জীবিকা চালাচ্ছে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে কোনো কাজই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না।

 

বাইরের চাকচিক্য বিবেচনা যোগ্য নয়

একটি বিষয় বাইরে থেকে যতটুকুই দৃষ্টিনন্দন দেখাক না কেন, আপনার জ্ঞানী মন-মানসিকতায় ভেতরের ব্যাপারটিকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আর তাই বাইরের চাকচিক্য দেখে সেই ব্যাপারটিকে ঠিক বা সঠিক বিবেচনা বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে ভেবে, সে বিষয়টির আসল দিকটি উন্মোচন করাই জ্ঞানী মনের কাজ। আর তাই বাইরে থেকে কোনকিছু বিবেচনা করা উচিত নয়।

 

”কেন” জিজ্ঞেস না করা

প্রতিটি বিষয়কে গভীরভাবে চিন্তা করে সে বিষয়ে সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আপনার জ্ঞানী মানসিকতাকে আরো বেশি দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে যে, কেন বিষয়টি এমন হয়েছে, কেন বিষয়টি এরকম নয়, তবে সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কখনোই গভীরভাবে জানতে পারবে না। আর সফল ব্যক্তিত্বরা সর্বদাই কেন প্রশ্নটি সাথে নিজের গভীর যোগাযোগ রাখে। কেননা শুধুমাত্র “কেন” থেকেই আপনি অনেক অজানা দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

 

 বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করে আপনি কতটুকু ভালো জীবন যাপন করছেন

আপনার বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে, আপনি কতটুকু শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। আর তাই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্তিপূর্ণ করাটা অনেক বেশি জরুরি। আপনার সফলতা তখনই আপনার কাছে আসবে, যখন আপনি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। আর তাই ব্যক্তিগত শান্তিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যে কাজগুলো করতে আপনি মানসিকভাবে শান্তি অনুভব করেন, সে কাজগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সাথে করাটা প্রয়োজন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

একাকীত্ব দূর করার ১০টি উপায়

Published

on

আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫টি সিগারেট খেলে শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় একাকীত্বের কারণেও শারীরিকভাবে ঠিক একই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এবার বুঝুন একাকীত্ব কতোটা মারাত্নক আমাদের শরীরের জন্য। আপনি যতো বেশি একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিবেন এটি ততো বেশি গ্রাস করতে থাকবে আপনাকে। ধীরে ধীরে এটা আপনাকে এতোটাই অসুস্থ করে তুলবে যে, এক পর্যায় গিয়ে আপনার সুইসাইড করার মন-মানসিকতার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু অসহ্য মনে হবে আপনার কাছে।

 

“Loneliness does not mean that there is no one beside you. Loneliness means that everyone is beside you, but the one you want beside you is not with you” -Humayun Ahmed

 

আপনি যদি একাকীত্ব সমস্যায় ভুগেন তাহলে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি কিছু টিপস মেনে চললে খুব সহজে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই আজকে আমি আলোচনা করবো এমন ১০টি টিপস নিয়ে, যা আপনাকে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

 

একাকীত্বের কারণ চিহ্নিত করুন

প্রথমে খানিকটা সময় নিয়ে চিন্তা করুন কেন আপনি প্রায় একাকীত্ববোধ করেন? ধরুন, আপনার উত্তর যদি হয় আপনার যথেষ্ট বন্ধু নেই তাই আপনি একাকীত্ববোধ করেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাঝে মাঝে ফ্রি সময়গুলো অসহায় শিশুদের সাথে কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাদেরকে কিছু উপহার দিন।

 

মেডিটেশন

আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার সকল হতাশা, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো, ‘টেনশন মুক্তি’। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না এবং শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ, যেমনঃ মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

“The more regularly and the more deeply you meditate, the sooner you will find yourself acting always from a center of peace.” J. Donald Walters

 

ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন

আপনি যখনই একা থাকবেন তখন আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। আপনি চিন্তা করতে পারেন কোন কাজটি আমার জন্য ভালো হতে পারে, চাকরি নাকি বিজনেস? কী করলে আমার ভালো হবে, ব্যাংকে চাকরি নাকি সরকারী চাকরি? আপনি যখন আপনার একাকীত্বের সময় এই সকল প্রশ্ন আপনার মনকে করবেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই আপনার একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসবেন। নিজেকে আর একা মনে হবে না এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি বেশ কিছু ভালো চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটবে। তাই নিজের একাকীত্ব দূর করতে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করুন।

 

বই পড়ার অভ্যাস

এটা আমরা সবাই জানি, বই পড়ার অভ্যাস পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন তখনই এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। তাই এরপর থেকে আপনি আপনার অবসর সময়ে বই পড়ে কাটাতে পারেন এবং নিজের একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। আপনি যখন উপন্যাসের চরিত্রগুলো পড়বেন তখন খারাপ সময়ে তারা নানা রকম অসুবিধাগুলো কীভাবে জয় করলো তা কল্পনায় উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মতো করে আপনিও আপনার খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

 

“The reading of all good books is like a conversation with the finest (people) of the past centuries.” – Descartes 

 

পছন্দের কিছু করা

আমাদের প্রত্যেকরই কিছুনা কিছু গুণ এবং ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা একা সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’লাইন কবিতা, এঁকে ফেলেন অসাধারণ একটি ছবি। নিজের একাকীত্বের সময় আপনি আপনার পছন্দের কাজটি করার মাধ্যেমেই এই একাকীত্বকে দূর করতে পারেন। আমরা যখন একা থাকবো তখন আমরা যদি আমাদের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দেই, তখন আমাদের একাকীত্ব জানালা দিয়ে পালাবে এবং নিজেকে আরো উৎফুল্ল মনে হবে।

 

বাস্তবতা নিয়ে ভাবা

আজ আপনার বন্ধুরা যেভাবে আপনার পাশে আছে তারা সময়ের তাগিদে ভবিষ্যতে আপনার পাশে এইভাবে নাও থাকতে পারে। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছেন তা সুদূর ভবিষ্যতে নাও পেতে পারেন। তাই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন। আপনি যতো মানুষের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তার অনুপস্থিতিতে আপনার একাকীত্বতা ততোগুণ বেশি হবে। এজন্য আপনি যতো বাস্তবমুখী চিন্তা করবেন, আপনার একাকীত্ব ততোটাই কমে আসবে।

 

“Life is not a problem to be solved
But a reality to be experienced.” -Søren Kierkegaard

 

প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান

এই পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে কাছের যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো, আপনার মা-বাবা। তাই যখনই একা অনুভব করবেন, তখন আপনি আপনার মা-বাবার সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে থেকেও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারেন।

 

সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ

আপনি আপনার ফ্রি সময় সমাজসেবামূলক কাজ করে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি সমাজ ও দেশের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিতি লাভ করবেন। আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং দিনশেষে আপনি আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারবেন।

 

“The happiest people I know are those who lose themselves in the service of others.” -Gordon B. Hinckley

 

নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে বদলানোর জন্য যদি পৃথিবীতে সহজ কোনো উপায় থাকে সেটি হচ্ছে, প্রতিদিন রাতে ১৫ মিনিট নিজের সাথে কথা বলুন। সারাদিন কী কী ভুল করেছেন সেগুলো মনে করুন এবং এগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে একই ভুল নাহ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। এভাবে আপনি আপনার ভিতর নতুন একজনকে আবিষ্কার করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের অবচেতন মন কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। তাই ঘুমানোর আগে ভালো ভাবুন এবং সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

সবশেষে যে কথাটি বলে শেষ করবো তা হলো, একাকীত্ব কোনো খারাপ বিষয় নয়। আপনি যখনই একা সময় কাটাচ্ছেন তখনই ভিন্ন কিছু করার জন্য সময় পাচ্ছেন। তাই নিজের সাথে যতোটা পারেন সময় কাটান, কিন্তু বিষণ্ণতায় ভুগবেন না। আপনি যখনই বিষণ্ণতায় ভুগবেন ঠিক তখনই আপনি একাকীত্বের ভেতর চলে যাবেন। তাই নিজের একাকীত্বকে কাজে লাগান।

 

“Walking with a friend in the darkness is better than walking alone in the light”– Helen Keller

Continue Reading

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Motivational

সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

Published

on

পথ প্রদর্শক বলতে আমরা এমন একজন ব্যক্তিকে বুঝি যিনি মানুষের জীবনে সাফল্যের পথ দেখিয়ে দেন। সর্বাধিক সফল ব্যক্তিদের সফলতার পেছনে কারো না কারো অবদান থেকেই যায়। যাদের অনুপ্রেরণার মাধ্যমে তারা আজ সফলতা লাভ করেছেন। যেমন: মহান বিজ্ঞানী এডিসনের একমাত্র অনুপ্রেরণার উৎস ছিলো, ‘তাঁর মা’।  

 

ছোটবেলায় পরিবার থেকে আমরা নম্রতা, ভদ্রতা, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় শিখে থাকি। এক্ষেত্রে পরিবার আমাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ পরিবার আমাদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে। পরবর্তিতে স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি লাইফে পর্যায়ক্রমে কিছু মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন। ঠিক তেমনি জীবনে সফল হতে হলে প্রশিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে আপনার সাহায্যকারী সকল ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাথমিক যেই উপদেশটি শুনতে পাবেন তা হলো প্রশিক্ষক, পরামর্শদাতা বা ভূমিকা মডেলটি সাফল্যের দ্রুততম উপায় যা আপনার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে। টনি রবিন্স, ব্রায়ান ট্রেসির মতো অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তিরা একই উপদেশটি দিয়েছেন। কারণ, একজন প্রশিক্ষক আপনাকে আপনার লক্ষ্য এবং স্বপ্নগুলো বুঝতে সহায়তা করবে। প্রশিক্ষণের সৃষ্টি হয় একজন প্রশিক্ষকের সাথে আপনার অংশীদারিত্বের জন্য, যাতে আপনি তার থেকে আপনার ব্যক্তিগত অথবা কর্মজীবনের লক্ষ্যে পরামর্শ এবং উৎসাহ পেতে পারেন।

 

ওপরাহ উইনফ্রে, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও এবং সেরেনা উইলিয়ামসের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও পথ প্রদর্শক আছে। কেননা বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সবসময় মনে করে তারা খুব কম জানেন। তাই তাঁরাও তাদের জীবনে পথ প্রদর্শক খুঁজে নিয়েছেন। একজন পথ প্রদর্শক একটি জীবন পরিবর্তনে অংশীদারিত্ব প্রদান করেন যা মানুষকে তাদের সম্ভাব্যতা অর্জনে সাহায্য করে। ঠিক তেমনি আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে এগিয়ে নিতে হলে পথ প্রদর্শক, পরামর্শদাতা বা প্রশিক্ষকের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কিছু মানুষ পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। আপনি যেই মানুষটা থেকে সামান্য পরিমান অনুপ্রেরণা পাবেন, গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাবেন সেই মানুষটা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করবে।  

 

জীবনকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য যে কারণে একজন পথ প্রদর্শক প্রয়োজন- 

 

জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজা

 

আমরা আমাদের জীবনের কাছ থেকে কী চাই সেটাই যদি জানতে না পারি, তাহলে সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাই। যখন নিজেকে প্রশ্ন করি, ‘আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী? আমার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ? কেন গুরুত্বপূর্ণ?’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর হয় ‘বিভিন্ন কারণে উদ্দেশ্যে পরিবর্তন আসতে পারে’। কিন্তু এভাবে জীবনকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। সর্বপ্রথম আপনাকে জানতে হবে এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে। সেক্ষেত্রে একজন পরামর্শদাতা আপনার পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। সে হতে পারে আপনার বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, প্রোফেশনাল কোনো কোচ অথবা পরামর্শদাতা। আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য লাভের জন্য, কর্ম সম্পাদনের যোগ্যতা অর্জনের জন্য একজন পথ প্রদর্শক আপনাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে। যেমন: সফল ব্যক্তিগুলো তাঁদের ‘মানসিক স্বাস্থ্যবিধি’ তে অনেক সময় ব্যয় করেন। কারণ, চ্যালেঞ্জ এবং ব্যর্থতা মোকাবেলা করার জন্য মানসিক শক্তির বিকাশে কী করা লাগে তা তাঁরা জানেন। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্য নির্বাচন করার জন্য কেমন কৌশল প্রয়োগ করা উচিত সেই সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে।

 

Womacks বলেছেন, “আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে কী করতে হবে তা আপনাকে দেখিয়ে দিতে পারে এমন মানুষ খুঁজুন (এবং সময় ব্যয় করুন)।”

 

জীবনের উপর স্পষ্টতা অর্জন

 

জীবনের স্পষ্টতা বলতে বোঝায় জীবন অথবা জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা। আমরা অনেকেই এই বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখতে পারি না। আমরা বুঝতে পারি না আমরা ঠিক কতটুকু পারবো, আর কতটুকু পারবো না। মোটকথা, আমরা আমাদের ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে পারি না। তাই আমরা না বুঝে অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। যার ফলে আমাদের পড়তে হয় বিভিন্ন সমস্যায় এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে লক্ষ্যার্জনেও ব্যর্থ হতে হয়। তাই জীবনের স্পষ্টতা অর্জন একান্ত জরুরী। একজন পথ প্রদর্শক আমাদের সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তিনি আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্টতা অর্জনে আপনাকে আশা দেখাতে পারেন। তিনি তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যেই পরামর্শগুলো দিবেন সেই অনুযায়ী এগিয়ে গেলে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই অপরাহ উইনফ্রে বলেছেন, “একজন পরামর্শক এমন কেউ হবে, যিনি আপনাকে নিজের ভিতরে আশা দেখতে পারবেন।”

 

আপনি যদি ভেবে থাকেন, প্রত্যেকটা মানুষ জানে যে তারা জীবন থেকে কী চায়, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। মানুষের সামনে অনেকগুলো উদাহরণ এবং সুযোগ খোলা থাকে। তারা সেটা অর্জনের তাড়নায় প্রায়ই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে না। সেক্ষেত্রে একজন পথ প্রদর্শক আপনাকে অগ্রাধিকার নির্বাচন করতে সাহায্য করবেন। তিনি আপনাকে জীবন নিয়ে চিন্তা করার জন্য অনুপ্রেরণা দিবেন যাতে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করতে পারেন। স্পষ্টতা একটি চমৎকার শক্তি যা আপনাকে দ্রুত আপনার কাজ সম্পাদন করতে সাহায্য করে। এটি আপনার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর মূল কেন্দ্রবিন্দু।

 

সময় সংরক্ষণ করা

 

সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান একটি বিষয়। জীবনকে সঠিকভাবে সাজাতে হলে সময়ের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। কথায় আছে, ‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’। তাই জীবনের সফলতার সময়ে যদি পরিশ্রমী না করে সময় নষ্ট করেন তাহলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক কষ্ট পেতে হবে। যদিও সফল হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, কিন্তু সেই সফলতা পাওয়ার জন্য তরুণ বয়স থেকেই পরিশ্রম করে যেতে হয়। কেননা, একজন তরুণের যতটুকু শক্তি, সামর্থ্য, মনোবল ও আকাঙ্খা থাকে, পরবর্তীতে তা আর থাকে না। তাই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সেই বয়সটাকে কাজে লাগাতে হয়। এছাড়াও মানুষ যখন সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়, তখন তারা আরো সময় পেতে চায়। যাতে তারা আবার নতুন উদ্যমে কাজটি করতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি কাজটি করা শুরু করবে ততো বেশি জীবনকে গোছানোর সুযোগ পাবে। কথায় আছে, ‘ব্যর্থতার পরেই সফলতার দেখা মেলে’।

 

আবার, আপনি যদি দ্রুত লক্ষ্য অর্জন করতে চান তখন আপনাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কেননা তাড়াহুড়ো করে কোনো কিছু করলে ফলপ্রসু হয় না। এছাড়া আপনি যদি কাজটি একা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন আপনার নিজের কাছে অতিরিক্ত দায়িত্ব এসে পড়বে। যার ফলে আপনি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন না। তাই আরো সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে কাজ করা উচিত। আমাদের প্রায়ই কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। যখন আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাই, তখন কারো সমর্থন ও পরামর্শ আশা করি। কারণ, সেই মুহূর্তে এটা সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে। আমরা যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগতভাবে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হই, তাহলে আরো বেশি ভুল করার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে পরামর্শদাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আপনার সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে গবেষণা করেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করেন। সেই সাথে আপনাকে বুঝিয়ে দেয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার মাধ্যমে কীভাবে দক্ষতা অর্জন করা যায়। যার ফলে আপনার সময় সঞ্চয় হবে, সাথে আপনার লক্ষ্যও বাস্তবায়ন হবে।

 

নতুন উদ্ভাবনী ধারণা দেয়া

 

Womacks বলেছেন, “একজন পরামর্শদাতা এমন একজন ব্যক্তি যিনি ব্যবসায় বা জীবনে অভিজ্ঞতার সাথে নতুন কিছু করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনাকে আপনার দক্ষতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারেন।”

 

পরামর্শদাতারা আপনাকে নৈতিক সমর্থন করবে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের ধারণা দিবে। পরামর্শদাতা এমন একজন ব্যক্তি যিনি আপনাকে থামতে দেবেন না। বরং আপনার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা অনুযায়ী উৎসাহ ও নির্দেশনা প্রদান করবেন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করার অনুপ্রেরণা দিবেন এবং আপনাকে আপনার লক্ষ্যার্জনে মানসিকভাবে এগিয়ে দিবেন।

 

মনে রাখবেন, এখন আমরা যেটাকে ভালো পরামর্শ বলে মনে করছি সেটিও একজন ব্যক্তির সাহসী মনোভাবের ফল। তাঁরা নিজ থেকে যেই সামান্য পরামর্শ দিয়েছে তা এখন আমাদের কাছে অনেক গুরুত্ববহ। ঠিক তেমনি, আজকে যদি আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো উদ্ভবনী পরামর্শ দিতে পারেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বলে বিবেচিত হবে।

 

অর্থ সংরক্ষণ করা

 

ভুল আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আপনার কর্মজীবনকে উল্ল্যেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মানুষ যখন উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন তারা প্রায়ই তাদের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে এবং বিনিয়োগগুলি কার্যকর করতে ভুলে যায়, যা ভবিষ্যতের জন্য তাদের কোনো লাভ দেয় না। জীবনে প্রশিক্ষকের সৃষ্ট শীর্ষ সুবিধাগুলোর একটি হল, ‘তাঁরা জানেন যে জীবন হলো কার্যকর পরিকল্পনাগুলির একটি গৌরবময় সমষ্টি।’

 

সাধারণত, আমরা যখন কোনো ব্যবসা শুরু করি তখন নির্দিষ্ট কিছু মূলধন বিনিয়োগ করতে হয়। সেক্ষেত্রে আমারা সাবধানতা অবলম্বন করার চেষ্টা করি। কারণ এতে ঝুঁকি থাকে। কোনো কারণে যদি ব্যবসায়ে লোকসান হয় তাহলে ব্যবসায়ের সাথে সাথে মূলধনও হারাতে হবে। তাই, প্রশিক্ষকরা কখনো আপনাকে দ্রুত বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দিবেন না। তারা প্রথমত একটি কর্ম পরিকল্পনা সরবরাহ করবেন যা আপনি ধাপে ধাপে আপনার কর্মজীবনে কাজে লাগাতে পারবেন। তাই এক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকি না নিয়ে একজন ভালো পরামর্শক খুঁজে নেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। ফলস্বরূপ, আপনি কম ঝুঁকিতে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। সুতরাং একজন প্রশিক্ষকের একটি ছোট ধারণা আপনাকে ব্যবসায়ে পছন্দসই ফলাফল দিতে পারে।

 

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, “আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মুখোমুখি হই, সেগুলি একই স্তরের চিন্তাভাবনায় সমাধান করা যায় না”

 

অর্থাৎ, কিছু কিছু ব্যতিক্রম বিষয় আছে যেগুলো আমাদের সাধারণ মানসিকতা দিয়ে সমাধান করা যায় না। তার জন্য দরকার হয় অভিজ্ঞ ব্যক্তির। যেমন, একজন ব্যক্তি যখন কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করার কথা ভাবে তখন তাকে কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তির স্মরণাপন্ন হতে হয়। যার ফলে ঝুঁকি প্রবণতা কমে যায়। এক্ষেত্রে আইনস্টাইনের এই উক্তিটি খুব কার্যকর, কারণ আপনি এটির মধ্যে আপনার জীবনের চিত্রটি পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবেন।

 

কাজের প্রতি আরো দায়বদ্ধতা প্রকাশ

 

জীবনে পথ প্রদর্শকের সর্বাধিক সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হলো, তারা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে যে আপনি যদি সঠিক কৌশলগুলি ব্যবহার করেন তবে আপনি সঠিক ফলাফল অর্জন করতে পারবেন। যেমন: স্কুল জীবনে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী থাকে। কারণ তারা জানে যে পরদিন ঠিকই শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ঠিক তেমনি, একজন প্রশিক্ষক অথবা পরামর্শক থাকলে তিনি আপনাকে সেই বিষয়টি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান দিবেন এবং কাজ করার জন্য তাগাদা দিবেন। যার ফলে আপনার মধ্যে একধরণের আগ্রহ কাজ করবে এবং আপনি সেই কাজটি আগ্রহের সাথে সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে পারবেন।

 

তাছাড়া আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ জানেন যে তার কী করা উচিত, আবার অনেকে জানে না। এক্ষেত্রে একজন পথ প্রদর্শকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। কারণ, তিনি আপনাকে কিছু আবিস্কার করার সুযোগ দিবেন এবং আপনাকে বুঝিয়ে দিবেন যে উন্নতি করার একমাত্র উপায় হল সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। যখন আপনি কেবল নিজের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, তখন আপনি নিজের মাঝে বিভিন্ন অজুহাত নিয়ে এসে বলতে পারেন কেন আপনি এটা করেন নি! কারণ এতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। কিন্তু প্রশিক্ষকের কাছে জবাবদিহি করতে হলে কোনো জিনিসই বাদ দেওয়া যায় না। বরং একটা ভয় থাকে যে আমাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। সুতরাং, আপনি একটি কাজে বিলম্ব করতে, অজুহাত দেখাতে এবং আপনার নিজের উদ্যোগের জন্য দায়বদ্ধ না মনে করার অভ্যাস থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

 

নিজের সর্বোচ্চটা অর্জনে সহায়তা

 

আমরা সকলেই চাই জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে। কিন্তু শুধুমাত্র কিছু ভুল পদক্ষেপের কারণে অনেকেই তা পারি না। আমাদের জীবনটা পরিবর্তনশীল। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের প্রতিকূলে, আমাদের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা যা চাই তা পাওয়ার মতো মানসিক শক্তি আমাদের নেই। তাই সেটা অর্জনের চেষ্টা না করে অযথা পরিবেশকে দোষারোপ করি। কারণ, আমাদের নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস নেই। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবেন সত্যিই জীবন থেকে আপনি কী চান। তিনি আপনার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবেন যাতে আপনার এসব বিষয়গুলোর প্রতি নিয়ন্ত্রণ থাকে। যার ফলে, যখন আপনি আপনার কাজের দায়বদ্ধতা গ্রহণ শুরু করবেন তখন জীবনের সমস্ত ঘটনাগুলি নির্দিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে গড়ে উঠবে। পথ প্রদর্শকগুলো আপনার স্ব-আবিস্কারের দায়িত্ব নেয় এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সেরা বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করে।

 

ব্রায়ান ট্রেসি বলেন, “আপনি যদি নিজেকে একটি সম্পদে পরিণত করতে চান, তবে আপনার আয়ের ৩% সবসময় নিজের জ্ঞান ও দক্ষতার উন্নয়নের পেছনে খরচ করুন।”

 

বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি যেমন: টাইগার উডস, মাইকেল জর্ডান, বারাক ওবামা, ওয়েইন গ্রেটস্কি, ল্যান্স আর্মস্ট্রং, অপরাহ উইনফ্রে, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, ওয়ারেন বুফে, রিচার্ড ব্রান্সন, টনি রবিনস, আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার, এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় বিনোদনকারী, সঙ্গীতজ্ঞ, অভিনেতা, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং নেতাদের সকলের প্রশিক্ষক বা পথ প্রদর্শক রয়েছে। সুতরাং, আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে হলে পথ প্রদর্শকের গুরুত্ব অপরিসীম।

Continue Reading

Trending