মাস্টার মাইন্ডের রহস্য

“মাস্টার মাইন্ড” আপনি হয়তো নামটা প্রথম বারের মতো শুনেছেন। প্রথম শুনাটাই স্বাভাবিক। কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোথাও এ নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো সাফল্য অর্জনের মৌলিক পথ মাস্টার মাইন্ড নিয়ে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মাস্টার মাইন্ড কিঃ

দুই বা ততোধিক মানুষ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য একসাথে সম্মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা চালায়। তখন তাকে মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ বলে। মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ সর্ব প্রথম  নেপোলিয়ন হিল এবং এন্ড্রু কার্নেগি আবিষ্কার করেন। ১৯২৫ সালে হিল তার “দ্যা লো অব সাকসেস ” বইয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এন্ড্রু কার্নেগী ২৫ জন সদস্য নিয়ে তার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ গঠন করেছিলেন এবং স্টিলের ব্যাবসার মধ্য দিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিত্তবান হয়েছিলেন। তাছাড়া অতিথের অনেক সফল ব্যাক্তিরাই মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ ব্যবহার করে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করেছেন।

তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেনঃ

বিখ্যাত ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা – হেনরি ফোর্ড।

পৃথিবীকে আলোকিত করা বিজ্ঞানী – থমাস আলভা এডিসন।

মোবাইল ফোন আবিস্কারক – আলেকজেন্ডার গ্রাহামবেল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট – থিওডোর রুজভেল্ট। 

বিখ্যাত প্রকৌশলি – চার্লস এম শওয়াব।

মার্কিন উদ্যোক্তা – জন ডি রকফেলার। সহ আরো অনেকের সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মাস্টার মাইন্ড।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

কেন মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে একেক জন ব্যাক্তি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। যার ফলে যে কোনো উদ্দেশ্য দ্রুত সাধন করা যায়।

এ নিয়ে ওয়ালেস ডি ওয়াটলেন তার বেস্টসেলার বই “দ্যা সায়েন্স অব গেটিং রিচ” বইয়ে খুব সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন। উদাহরণটা ছিল এরকম – মনে করা যাক, একটা মাসিক পত্রিকার কথা। একটা মাসিক পত্রিকা বের করতে প্রয়োজন হয় একদল মানুষের। এই মানুষ গুলোর থাকবে নানা গুন। একজন সম্পাদনা করবেন, কেউ কম্পোজের কাজ করবেন, কেউ লেখা জোগাড় করবেন, কেউ লিখবেন, কেউ প্রুফ দেখবেন, কেউ বিজ্ঞাপন জোগাড় করবেন, কেউ ছাপাবেন, কেউ বাধাইয়ের কাজ করবেন, কেউ বা পত্রিকাটি বাজারজাত করবেন। তবেই একটা পত্রিকা পরিপূর্ণভাবে বের করা সম্ভব হবে।উপরের কাজ গুলো কোনো একজন মানুষের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে ১০ জন মানুষ ১০টি ভিন্ন কাজে দক্ষ। এভাবে যদি কোনো একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে একদল মানুষ নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কে কাজে লাগায় তাহলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

কিভাবে মাস্টার মাইন্ড তৈরি করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যে কোনো একজন মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এবং সবার সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এ গ্রুপে ফাটল ধরতে পারে। মাস্টার মাইন্ড তৈরি করার পূর্বে যে ৫ টি বিষয়ের উপর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তা হলোঃ

১। প্রথমেই আপনার পরিচত একদল মানুষের নামের লিস্ট করে নিন। যাদের আপনি আপনার গ্রুপে রাখতে চান।

২। তারপর লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তিকে নিয়ে গভীর ভাবে অনুধাবন করুন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। আমার লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তি কি যথেষ্ট পরিশ্রমী? তারা কি যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকবে? তাদের উপর কি বিশ্বাস করা যায়? কোন কোন কাজে তাদের বিশেষ দক্ষতা আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবেই তাদের আপনার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যুক্ত করতে পারেন।

৩। আপনাদের গ্রুপের উদ্দেশ্য কি? গন্তব্য কোথায়? এ প্রশ্ন গুলোর উত্তর পরিষ্কার করে নিন।

৪। যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে তাদের সাথে আলোচনা করে নিন এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক মিটিংয়ের ব্যাবস্থা করতে পারেন।

৫। মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ করার পর যদি কেউ নিজের কাজ নিয়ে উদাসীন থাকে, তাহলে তাকে গ্রুপ থেকে ছাটাই করে ফেলুন।

মাস্টার মাইন্ড ব্যবহার করে একজন মানুষ একাধিক মানুষের সাহায্য নিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন এবং এর ফল সবাই মিলে ভোগ করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *