Connect with us

Psychology

আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়

Published

on

আমান (ছদ্মনাম) খুব ভালো গান গাইতে পারে। বড় হয়ে গায়ক হতে চায় সে। কিন্তু তার বাবা মায়ের ইচ্ছা সে বুয়েটে পড়বে, বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। একদিকে পড়াশোনার চাপ আর বাবা-মায়ের ইচ্ছা, অন্যদিকে নিজের শখ- এসব চিন্তা মাথায় নিয়েই সে এইচএসসি পরীক্ষা দিলো। কিন্তু রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতেই সে অংশগ্রহণ করতে পারলো না। তাকে নিয়ে সবাই হতাশ! আশেপাশের কাউকে মুখ দেখাতে পারছিলো না তার পরিবার। ধীরে ধীরে তার পৃথিবীটা বদলে যেতে লাগলো।

 

লাভলি বেগম (ছদ্মনাম) গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া এক কিশোরী। দিনমজুর বাবার পক্ষে তাদের পরিবারে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের যোগান দেয়াই সম্ভব হতো না। অল্পবয়সে বিয়ের পর যৌতুকের টাকা যোগাড় না হওয়ার কারণে স্বামীর মারধর ও শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে মন ভেঙে যাচ্ছিলো লাভলির।

 

গল্প দুটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও, এই দু’টি মানুষের পরিণতি হয়েছিল কিন্তু একই। সুন্দর জীবনকে ফেলে বেছে নিয়েছিলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট পথ- আত্মহত্যা। আত্মহত্যা মহাপাপ -এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু তারপরও এই প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আত্মহত্যা মানে কেবল নিজের জীবনটাই না, আপনজনদের জীবনটাও শেষ করে দেয়া। আশংকার বিষয় হচ্ছে, সম্প্রতি আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। যেখানে চান্স পাওয়া মানেই স্বপ্নকে ছোঁয়ার সুযোগ পাওয়া, তাও কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করছে? দোষটা তাহলে কোথায় কিংবা কার? আমরা কি নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারিনা নাকি আমাদেরকে সংগ্রাম করে বাঁচতে শেখানো হয়নি?

 

জীবনে ভালো সময় যেমন থাকে, ঠিক তেমনি খারাপ সময়ও থাকে। কখনো আসে স্বচ্ছলতা আবার কখনো অভাব-অনটন। কিন্তু এসবের কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়, সবই কিন্তু সাময়িক সময়ের জন্য। ভালো-খারাপের সংমিশ্রণেই আমাদের জীবন। আপনার জীবনে খারাপ সময় চলছে তার মানে এই নয় যে আপনার জীবনে আর কখনো ভালো সময় আসবে না। কিন্তু তাই বলে বিষণ্ণ হয়ে নিজের কাপুরুষের মতো জীবন শেষ করে ফেলাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।

 

একটু অন্য ভাবে চিন্তা করুন

 

আপনি কোনো একটি কাজে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন, অনেক চেষ্টা করার পরও সফল হতে পারছেন না। প্রত্যেকবার হতাশ হওয়ার পর আপনি নতুন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি? ব্যাপারটা এমন হলে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনুন। পরিবর্তনের জন্য নিজেকে কিছু আলাদা সময় দিন। বুঝতে চেষ্টা করুন নিজের কোন ভুলটির কারণে বারবার অকৃতকার্য হচ্ছেন।

 

প্রত্যেক বছর বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পত্রিকার পাতায় চোখ রাখলেই অনেক অকৃতকার্য কিংবা অল্পের জন্য জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর দেখা যায়! তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত, সামনে পরীক্ষা থাকলে  পরীক্ষার আগে থেকেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়া যাতে তারা ভালো ফলাফল করতে পারে। এতে করে যদি কোনোভাবে আশানুরূপ ফলাফল নাও আসে, তবুও আফসোস কম হবে।

 

আর যদি কোনো কারণে আপনার রেজাল্ট খারাপ হয়েও যায়, তাহলে সেটাকে একটি দুর্ঘটনা মনে করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার আজকের ব্যর্থতা, হতে পারে ভবিষ্যতের সফলতার কারণ এবং অন্যজনের প্রতি অনুপ্রেরণা!

 

আবার অনেক সময় আত্মহত্যার জন্য অভিভাবকও দায়ী থাকেন। অনেক অভিভাবক মনে করেন, জিপিএ-৫ না পেলে সন্তানের জীবনটাই বৃথা হয়ে যাবে। যার ফলে অনেক সময় ভালো রেজাল্ট করার পরও অবুঝ শিক্ষার্থীরা নিজেকে অসহায় ও ব্যর্থ মনে করে এবং আত্মহত্যার মতো ভুল পথটি বেছে নেয়।

 

আপনি যদি একজন অভিভাবক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার উচিত পরীক্ষার সময় আপনার সন্তানের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখা। বাড়তি খেয়াল রাখার মানে কিন্তু এই না যে আপনি তাকে সবসময় পড়ার চাপের মধ্যে রাখবেন। যে করেই হোক তাকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে, জিপিএ-৫ পেতেই হবে-এমন কথা বার বার বলবেন না। সন্তানকে সবসময় উৎসাহ দিতে হবে সুন্দর উপায়ে বুঝিয়ে বুঝিয়ে। কেন তার জীবনে ভালো রেজাল্ট করা প্রয়োজন-এটা বুঝানোটা আপনার কাজ। তারপরও যদি রেজাল্ট খারাপ হয়ে যায়, কখনোই বকাঝকা করা বা কটু কথা বলা উচিত নয়। কারণ রেজাল্টের চেয়ে সন্তানের ভেতর মূল্যবোধ জাগিয়ে তাকে এগিয়ে যাওয়ার পথটা দেখানোর প্রয়োজনটাই বেশি

 

পরিবারের কথা ভাবুন

 

যেকোনো খারাপ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একটি বার প্রিয় মানুষগুলোর কথা ভাবুন, আপনার জীবনে প্রিয়জনদের অবদানের কথা ভাবুন, বাবা-মায়ের কষ্টের কথা একটু ভাবুন। শুধুমাত্র নিজের চিন্তা বাদ দিয়ে সার্বিকভাবে চিন্তা করুন। হয়তোবা এখন আপনার কাছে এই পৃথিবীটাকে মূল্যহীন মনে হচ্ছে, কিন্তু ভুলে যাবেন না, অনেকের কাছে আপনিই তাদের পৃথিবী।

 

যে পরিবার অনেক কষ্ট করে আমাদের একটা ভাল অবস্থানে নিয়ে এসেছে, আমাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, আসুন না সেই পরিবারের কথা ভেবে আত্মহত্যার মতো কাজকে না বলি।

 

নিজেকে সময় দিন

 

অনেকে আছেন প্রেম-কর্মজীবন এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে একেবারেই হতাশ হয়ে যান। বিভিন্ন কারণে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, বিবাহ বিচ্ছেদ হতেই পারে। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলেই যে আপনার জীবন থেমে যাবে তা কখনোই না। সময়ের মতো জীবনও কারো জন্যেই থেমে থাকে না!

 

ভেবে নিন আপনি আরেকবার নিজের জীবনকে নতুন করে শুরু করার সুযোগ পেলেন। কখনো জীবনে এমন সময়ের সম্মুখীন হলে নিজেকে একটু বিরতি দিন। প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান। প্রয়োজন হলে কয়েকদিনের জন্য একঘেয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়ে দূরের কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। নিজের জীবনকে শেষ নয়, আবার নতুন করে সাজাতে শিখুন।

 

হার মেনে নিবেন না

 

আমি ব্যর্থ, আমি কিছুই পারি না, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না, কেন আমার সাথেই এমন হলো- এরকম চিন্তা যখন একজন মানুষের মাথায় আসে, তখন সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এসব চিন্তা মাথা থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলুন।

 

ছোটবেলা আমরা সবাই পড়েছি, “একবার না পারিলে, দেখ শত বার”। আপনি এখন কোনো কাজে সফল হতে পারছেন না, কিন্তু তার মানে তো এই নয় যে আপনি ভবিষ্যতেও সফল হতে পারবেন না। জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে। হতে পারে আপনি ভুল কাজ নির্বাচন করেছেন, হতে পারে আপনার চেষ্টায় কোনো কমতি ছিলো কিংবা সময় আপনার অনুকূলে ছিলো না। তাই যতো যা-ই হোক, কখনো হার মেনে নিবেন না।

 

হতেই পারে আপনার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়নি, কিন্তু তাই বলে কী আপনি স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিবেন? নতুন করে আরো ৫টি স্বপ্ন দেখুন না! স্বপ্ন দেখার তো কোন সীমাবদ্ধতা নেই। আপনার একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে, নতুন আরেকটি রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে।  সেজন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র নিজের উপর বিশ্বাস এবং ধৈর্য।

 

নিজের দুঃখ-কষ্ট প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন

 

আত্মহত্যার প্রবণতা কমানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো কী কারণে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করছে সেই সমস্যার কথা প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করা। অনেক সময় আপনজনের সাথে কথা বলে অনেকটা আশ্বস্ত হওয়া যায়। যাদের আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা হয় তাদের একা সব সামলানোর চেষ্টা না করে অন্যের সাহায্য নেওয়া উচিত এবং দরকার হলে কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া উচিত। প্রতিটি আত্মহত্যার বিরূপ প্রভাব পড়ে আত্মহত্যাকারীর পরিবারের, আত্নীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের উপর। একটি আত্মহত্যার ঘটনা একটি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুখ-শান্তি কেড়ে নেয়।

 

ইংরেজিতে একটি কথা আছে, “Life is not a bed of roses” যার বাংলা অর্থ হচ্ছে, “জীবন পুষ্প শয্যা নয়”। জীবনে উত্থান, পতন, সমস্যা- থাকবেই! জীবনে চলতে হলে আপনাকে এসব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেই হবে।

 

জীবনটা তো কোনো সিনেমা নয়, যে তিন ঘণ্টায় সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! নিজের চারপাশে একটু লক্ষ্য করুন। শারীরিক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে। দশ বছরের ছোট্ট শিশু অথবা সত্তরেরও বেশি বয়সের বৃদ্ধ ব্যক্তি যিনি নিজেই ঠিকমত চলতে-ফিরতে পারেন না-তিনিও কিন্তু পেটের দায়ে রিক্সা টানেন। তাঁরা তো জীবন যুদ্ধে হার মেনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়নি। তাহলে আপনি কেন জীবন যুদ্ধে লড়তে গিয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে চাইছেন?

 

জীবন কিন্তু একটাই। আর এই জীবনের জন্যই আমাদের সব। জীবন আছে বলেই প্রেম, অভিমান, স্বপ্ন, সুখ, দুঃখ সবকিছু আছে। জীবন অনেক সুন্দর ও মূল্যবান। তাই খারাপ সময়ে মনকে শক্ত রাখুন এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দলে যোগদান করুন ও অন্যের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করুন। প্রয়োজন হলে মেডিটেশন ও ইতিবাচক চিন্তা করুন। কিছুটা হলেও মনে শান্তি আসবে। সবসময় মনে রাখবেন, আত্মহত্যা কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

 

একটু চিন্তা করে দেখুন, আত্মহত্যার মাধ্যমে আপনি কী প্রমাণ করলেন? অন্যদেরকে কী শিক্ষা দিয়ে গেলেন? হতে পারে আপনাকে অনুসরণ করে আরো ৫জন এই পথ বেছে নিবে। কিন্তু এটাই কি আপনি চেয়েছিলেন? 

 

আমাদের আপনজনরাও অনেক সময় বিষণ্ণতা, একাকীত্ব, চরম হতাশা, আর্থিক ও সামাজিকসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে থাকে। একসাথে থাকা সত্ত্বেও আমরা একজন আরেকজনের এসব খবর জানতেই পারি না! আবার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে স্ক্রল করে আমরা যা দেখছি তা-ই বিশ্বাস করে নিই, ভেবে নিই বাকিরা সবাই ভালোই আছে! কিন্তু মানুষগুলো কি সত্যিই ভালো আছে নাকি তাদের মাঝেও হতাশা থাকে? -এ খবর আমরা কয়জনই বা জানি! আচ্ছা, আমরা কি সত্যিকার অর্থে নিজেদেরকে চিনছি নাকি ইন্টারনেটে বন্দি হয়ে কেবলই নিজেদের হতাশা ডেকে আনছি?

 

আমরা যদি একটু সহানুভূতিশীল হয়ে একে অন্যের কষ্টের সময়ে পাশে থেকে, কারোর কষ্টকে তার মতো করে বুঝতে চেষ্টা করি- তাহলেই এই ভয়াবহ পথ থেকে একজন মানুষকে বের করে আনা সম্ভব। সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়তই বেঁচে থাকার চেষ্টায় মগ্ন থাকি। কিন্তু আমাদের উদাসীনতার কারণে যদি আরেকটি সম্ভাবনাময় জীবন ঝরে পড়ে, তাহলে কি আমরা এর দায়ভার কখনো এড়াতে পারবো? সকলের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রইল!

Psychology

কীভাবে মোকাবিলা করবেন মানসিক চাপ

Published

on

দিন যতোই যাচ্ছে আমাদের ব্যস্ততা ততোই বেড়ে চলেছে। অবসরের যেন কোনো ফুরসতই নেই! সময়ের সাথে পাল্লা দিতে হলে এমন ব্যস্ততা থাকবেই এবং সেইসাথে বাস্তবতাকেও মেনে নিতে হবে। কিন্তু ব্যস্ততার সাথে সাথে আমাদের মানসিক চাপও বাড়ে। আমরা অনেকেই এটাকে সহজে মেনে নিতে পারিনা যার ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হই এবং কোনো কিছুই ঠিকমতো হয়ে উঠেনা। তাই বলাই বাহুল্য, শারীরিক সুস্থতায় মানসিক সুস্থতাও অনেকাংশে জড়িত। সেজন্যই মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে নানান কাজের মাঝেও থাকতে হবে চাপমুক্ত। তাহলে চলুন চাপমুক্ত থাকার কিছু উপায় জানা যাক:

 

টু-ডু লিস্টের ব্যবহার

প্রতিদিন আমরা কেমন যেন ম্যারাথন দৌড়ের মধ্যে আছি। ঘুম থেকে উঠেই নিজ নিজ কর্মব্যস্ততায় আটকে থাকি এবং দিনশেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে যদি এমন কাজের মধ্যেই ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে আগেরদিন রাতের বেলায় একটা কাজের লিস্ট করতে হবে। সেই লিস্টে তারপরের দিন কী কী কাজ করতে হবে তার একটা তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকাটিকে ’টু ডু লিস্ট’ বলে। আগের রাতে যদি এটা তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে সকালে উঠে প্রথমেই এই লিস্টটি বানিয়ে নিতে হবে। এ লিস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সবার প্রথমে রাখতে হবে। এভাবেই কাজের গুরুত্ব বিচার করে একটার পর একটা কাজ সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে কাজের পাশে নির্দিষ্ট সময়সীমা লিখে রাখতে পারলে ভালো হয়। এভাবে তালিকা তৈরি করলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো করা হয়ে যাবে। ফলে মানসিক চাপও কমবে এবং সময় না পেলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি না করলেও অতোটা সমস্যা হবেনা।

 

নিখুঁত হওয়া বন্ধ করুন

যারা সব সময় সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে, তারা সুখী হতে পারে না। সব সময়ই একটা চাপের মধ্যে থাকে। তারা যে কাজে যায়, সে কাজেই খুঁতখুঁতে ভাব তৈরি হয়। তাই সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চিন্তাভাবনা থেকে আজই বেরিয়ে আসুন। যে কাজটি করবেন সে কাজে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করুন। আকাশ কুসুম কল্পনা করবেন না। আত্মসমালোচনা  করুন এবং নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে কাজে লাগান। তাহলে এক সময় নিজেই অবাক হবেন কতোটা স্বাধীনভাবে আপনি আপনার কাজগুলো করতে পারছেন। তখন যেমন আনন্দ লাগবে, তেমনি অযথা চাপ থেকেও মুক্তি পাবেন।

 

দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলুন

মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষ, সহকর্মী বা বন্ধুর সাথে ঝগড়া অথবা মনোমালিন্য হওয়া। চাপমুক্ত থাকতে হলে যথাসম্ভব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। কারোর সাথে কোনো রকম ঝামেলা হলে তার সাথে নিজ থেকে সুন্দরভাবে কথা বলার মাধ্যমে তা সমাধান করুন। অনেকেই সুন্দরভাবে কথা না বলে উল্টো ইগো নিয়ে চুপচাপ থাকেন। কিন্তু এতে করে কেউ শান্তি পায় না বরং মানসিক চাপটাও আরো বেড়ে যায়।

 

প্রয়োজনে ‘না’ বলুন

প্রয়োজনের সময় ’না’ বলতে জানাটা একটা আর্ট। আমরা অনেকেই অন্যকে খুশি করার জন্য ‘না’ বলতে পারিনা। ফলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিপত্তিতে পড়ি। তাই প্রয়োজনের সময় ‘না’ বলতে শিখতে হবে। এমনকি আপনার বসও যদি আপনাকে অযথা বেশি কাজ চাপিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রেও না বলাটা শিখতে হবে। কেননা অযৌক্তিকভাবে বেশি কাজ করতে গেলে আপনি মানসিক চাপে থাকবেন ফলে কাজটা সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে না। তাই যথাসময়ে ‘না’ বলতে শিখুন।

 

গড়িমসি থেকে বিরত থাকুন

অলসতার কারণে আমরা অনেকেই কাজের ক্ষেত্রে গড়িমসি করি। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখি। অথচ আমরা ভুলে যাই যে, আগামীকালের জন্যও আমার কাজ বরাদ্দ রয়েছে। তাই আজকের কাজ আজই করতে হবে। গড়িমসি এবং অলসতাকে জীবন থেকে যতো তাড়াতাড়ি মুছে ফেলতে পারবেন, আপনার ভালো থাকার সময়গুলো ততোই বাড়বে। তাই আর নয় গড়িমসি, কাজের সময় কাজ সম্পন্ন করুন আর থাকুন চাপমুক্ত ।

 

নিজের জন্য ছুটি নিন

প্রতিদিন অজস্র কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন? তাহলে কিছুদিন পরপর ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিন। কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। খুব বেশি দূরে যেতে না পারলেও আপনার বাড়ির আশেপাশে অবকাশ যাপনের কিংবা দর্শনীয় বিভিন্ন জায়গা আছে সেখান থেকে ঘুরে আসুন। এতে করে চাপ অনেক কমে যাবে। আবার নতুন উদ্যমে কাজও শুরু করতে পারবেন। যদি কর্মব্যস্ততার মাঝে ছুটি নাও পান তবুও হতাশ হবেন না, প্রতিদিন নিজের জন্য অল্প কিছু সময় বের করুন- যে সময়টা শুধুমাত্র আপনার উপভোগ করার জন্যই কাটাবেন। নিজের পছন্দের কোনো বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা ভালো লাগার যেকোনো কাজ করতে পারেন। এতে করে যেমন আপনার মন সতেজ থাকবে, তেমনি হবেন চাপমুক্ত।

 

নিয়ম মাফিক চলাফেরা

সুস্থ এবং চাপমুক্ত থাকতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের এবং পরিমিত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বলা যেতে পারে- স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, চাপমুক্ত জীবন চালান। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং অবশ্যই গড়ে ৭-৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। কেননা, ঘুম আমাদের জীবনের অন্যতম বড় অনুষঙ্গ। পরিমিত ঘুম না হলে আমাদের মন ও দেহঘড়ি কোনোটাই ঠিকমতো কাজ করবে না। আর ঘুম কম হলে আমাদের মস্তিষ্কও কম কাজ করে। তাই সবসময় ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করার পাশাপাশি চাপমুক্ত থাকতে ঘুমও বেশ বিবেচ্য বিষয়।

 

শখের সাথে সখ্য

প্রত্যেক মানুষেরই কিছু শখ থাকে। আর সে শখের কাজ স্বেচ্ছায় করে আনন্দ লাভ করে। কোনো আর্থিক লাভ না আসলেও শখের কাজটি করে থাকে। এখন আপনি যদি মনে করেন যে আপনার কোনো শখ নেই, তাহলে আজই শখ আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। যে ভালো কাজটি করলে আপনাকে কেউ টাকা কিংবা বাহবা দিবেনা কিন্তু আপনি মন থেকে ভালোবেসে করবেন- এমন কোনো কাজই হতে পারে আপনার শখ। শখের কাজ চাপ কমায়। তাই চাপমুক্ত থাকতে হলে আজই শখের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন।

 

ভালোবাসুন নিজেকে

নিজেকে সঠিকভাবে ভালোবাসতে জানা মস্ত বড় একটা আর্ট। তাই এই আর্ট রপ্ত করুন। আপনি নিজেই যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে অন্যরা আপনাকে কীভাবে ভালোবাসবে? তাই নানা কাজের মাঝে শত ব্যস্ত থাকলেও নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের আবেগ, অনুভূতিকে ভালোবাসুন। নিজের পরিবর্তন এবং ব্যর্থতাকে ভালোবাসতে শিখুন। সেই সাথে অভ্যাস গড়ে তুলুন নিয়মিত প্রার্থনার এবং মেডিটেশনের, কেননা- ‘প্রার্থনায় আয়ু বাড়ে’। তাই প্রার্থনা ও মেডিটেশন করলে আপনার শরীর-মন দুটোই সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে।

সবশেষে সদয় হোন নিজের প্রতি। গুটিয়ে নয়, চুটিয়ে বাঁচুন। নিজের স্বার্থেই নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাই আর দেরি না করে উপরের উপায়গুলোকে কাজে লাগানো শুরু করুন এবং উপভোগ করুন মানসিক চাপমুক্ত সুন্দর একটি জীবন!

Continue Reading

Psychology

ফেসবুক যেভাবে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ

Published

on

অভ্র ভেবেছে আজ সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কিন্তু কিছুক্ষণ পড়েই সে ভাবলো, এখন একটু বিরতি নেওয়া দরকার, অনেকতো পড়েছি। তাই, ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে সে আবার পড়া শুরু করবে। ব্যস! বিরতির অজুহাতে সে চলে গেলো ফেসবুকের দুনিয়ায়। ওমা! কখন যে সময় ফুঁড়িয়ে মিনিটকে পিছনে ফেলে ঘন্টার কাটাকে ছুঁয়ে ফেলেছে, সে বিন্দুমাত্র টের পায়নি। আর এই গল্পটি শুধু অভ্রের নয়। আমার-আপনার মতো অনেকেরই প্রত্যেহ গল্পের একাংশ বলা চলে। আর  এভাবেই কাজের ফাঁকে, ট্রাফিক জ্যামে বা যেকোনো অবসরেই আমরা ফোনের টুং-টাং নোটিফিকেশনে সঙ্গী করে নেই ফেসবুককে।

লাইক, কমেন্ট, স্ট্যাটাস, শেয়ার এই শব্দ পুঞ্জিমালার প্রতি আকৃষ্ট নেই এমন ব্যক্তির সংখ্যা বর্তমান যুগে কমই মেলে। কারণ, আমরা মানসিক প্রশান্তি বা অবসরে বিনোদনের খোঁজেই হয়ে পড়ি ফেসবুকের নীল আকাশের সাদা গাঙচিল। কিন্তু, আমরা অনেকেই হয়তো জানি না ক্ষণিকের এই বিনোদন জগৎ আমাদের ‘মানসিক বিষণ্ণতার’ একটি উৎস। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, ফেসবুক কীভাবে আবার মানসিক বিষণ্ণতার কারণ হয়? ব্যাপারটা কিন্তু আসলেই তাই। তবে না হয় আপনি নিজেই দেখে নিন ফেসবুক যেভাবে হয়ে ওঠে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ:

 

ফেসবুক

উল্কার বেগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। তার পেছনে কারণেরও শেষ নেই। যেমন:  সুদূর বিদেশে আপনার কোনো আত্মীয় বা স্কুল বদলের কারণে হারিয়ে ফেলা কোনো বন্ধু এবং জানাশোনা পরিচিতজনদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে নিমিষেই। পোস্টকার্ডের আর কোনো খরচের দরকার হয় না। সেই বিদেশি আত্মীয়ের মেয়ে সকালে কী খেয়েছে বা সেই পুরানো বন্ধুর কুকুরটা নতুন কী কাণ্ড করল – একটি ক্লিকেই সব জানা যাচ্ছে।

আপনি লক্ষ্য করলেই দেখবেন আপনার পরিবারের ছোট্ট সদস্যটিও কিছুটা হলেও ফেসবুকের প্রতি আসক্ত। আর এভাবেই ফেসবুক জনপ্রিয়তায় আমরাও ফেসবুক আসক্ত হয়ে পড়ছি। তবে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের সুবিধা-উপকারের মতোই এক্ষেত্রেও দিতে হয় কিছু অদৃশ্য মানসিক মূল্য। একটি বিষদ গবেষণায় দেখা গেছে, খুব বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা আর বিচার ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়। শুধু তাই নয়, এর সাথে আরো কিছু মানসিক সমস্যাতো রয়েছেই।

 

ফেসবুক আসক্তি

চা, সিগারেট, মদ সমাজের মানুষের অন্যতম আসক্তি হিসেবে ধরা হলেও সম্প্রতি DSM-V (Diagnostic and Statistical Manual) বিতর্কিত এক নতুন আসক্তি তালিকায় যুক্ত হয়েছে- ‘ইন্টারনেট আসক্তি’। এর মধ্যে ফেসবুক আসক্তি মিডিয়া নিউজের কল্যাণে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গবেষক হফম্যান এবং তার সহকর্মীরা বাছাইহীনভাবে অনেককে ম্যাসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কোনটি ছাড়া একদিনও চলবে না?’ দেখা গেছে, সিগারেট বা কোনো মাদকদ্রব্যের চেয়ে যে উত্তরটি বেশি এসেছে তা হলো, ‘সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক’। আর এই অতিরিক্ত আসক্তির ফলে দেখা দেয় নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো। তাই নিজেকে লক্ষ্য করুন আর মিলিয়ে নিন উপসর্গগুলো। যদি আপনার সাথে মিলে যায়, তাহলে দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি আপনিও ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার (Facebook Addiction Disorder) বা “ ফেসবুক আসক্তি সংকটে”– আসক্ত হয়ে পড়েছেন। যেমন:

 

১। বিষণ্ণতা

২। অস্থিরতা

৩। নিজেকে হীনমন্য মনে করা

৪। চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাওয়া

৫। অল্পতে ভয় পাওয়া

৬। অল্পতে রেগে যাওয়া

৭। অহেতুক সন্দেহ করা

৮। ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় পরিবর্তন আসা

৯। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, ইত্যাদি।

এছাড়াও মন খারাপ হলে অনেকে ফেসবুকে গিয়ে সুখ খোঁজেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার করলে সুখ পাওয়া যায় না বরং বাড়ে আরো দুঃখ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহারে দুঃখ যেমন বাড়ে, তেমনি এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা, ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ নিয়ে গবেষণা করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ২০৮ জনের ওপর ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। যে দিকগুলো আরো বেশি প্রভাব ফেলছে তা হলো: 

 

আমার জীবন অন্যদের মতো ভাল নয়

সমাজ বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক লিওন ফেস্টিঞ্জার  দেখেছেন, সহজাতভাবেই অন্যের সাথে সামাজিক অবস্থানের তুলনার ঝোঁক রয়েছে মানুষের মধ্যে। ‘আমার গড়পড়তা অন্য সবার চেয়ে ভাল না খারাপ?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে দেখা গেছে মানুষ নিজেদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা শুরু করে দিচ্ছে। আর বিনা পরিশ্রমে এই তুলনার ভালো একটি  মাধ্যম ফেসবুক।

ফেসবুক নিউজফিডেই দেখা মেলে কোনো বন্ধুর বড় কোনো রেস্তোরাতে খাবার ছবি বা হয়তো পেশাগত পদক পাওয়ার ছবি বা চাকরিতে পদোন্নতি। নয়তো, নতুন গাড়ি কেনার খবর বা সেন্টমার্টিন অথবা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার খবর। মোবাইলের ঝলমলে স্ক্রিনে এসব দেখতে দেখতে তখন মনে হয় সবাই হয়তো ভালোভাবে জীবন পার করছে। আমার প্রতিই ভাগ্য এতোটা নিষ্ঠুর। ওরা এতো ভালো অবস্থানে আছে, এতো জায়গাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর ‘আমি’ কিছুই করতে পারছি না! এভাবেই মনের অজান্তে দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা গড়ে ওঠে। আর তখনই মনের গহীনে শুরু হয় বিষণ্ণতা-হতাশার আনাগোনা।

 

সঙ্গীর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতা

আমরা অনেক সময় বলে থাকি, ভালোবাসায় সবকিছুর মাঝে একটু ‘জেলাসি’ তো থাকবেই। আর এই একটু একটু থেকেই যখন বড় আকারে রূপ নেয় ঠিক তখনই দেখা দেয় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য। অতঃপর আরকি! শুরু হয় মানসিক বিষণ্ণতা। আবার, সঙ্গীর স্ট্যাটাস বা ছবিতে তার কোনো প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা বিপরীত লিঙ্গের অন্য কেউ মাঝে মাঝেই লাইক বা লাভ রিয়েক্ট দিচ্ছে বা কমেন্ট করছে। তার সঙ্গীও হয়তো আন্তরিকভাবেই প্রতিউত্তর করছে বা কারো সাথে বেশি যোগাযোগ করছে। এই বিষয়গুলো যে কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনে তার সঙ্গীর জন্য ঈর্ষাপরায়ণতার সৃষ্টি করে দিতে পারে। ‘ফেসবুক এন্ড ইওর ম্যারিজ’ এর লেখিকা ক্রাফস্কি  বলেন, দাম্পত্য জীবন বা প্রেমঘটিত সম্পর্কের অনেক সমস্যাই আজকাল কারণ হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকে বলা যায়।  

 

ব্যক্তিজীবনের অপ্রয়োজনীয় কিছু কার্যক্রম

বন্ধুদের সাথে চায়ের আড্ডা, পারিবারিক আড্ডা, বা হোক না সারাদিনের কর্ম-ব্যস্ততার পরে আপনার প্রিয় মানুষটির যখন প্রয়োজন ‘আপনাকে’; ঠিক সেই মুহূর্তগুলোতে আমরা অনেকেই পড়ে থাকি সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে। আর এভাবেই আমরা নষ্ট করে ফেলি আমাদের ভালো কিছু মূহুর্ত এবং সম্পর্ক। আবার অনেক ক্ষেত্রে, কোনো সম্পর্কের শেষ পরিণতি ঘটে একজন অপরজনের ব্লকের তালিকায়। পরক্ষণেই হাজারো প্রশ্নের সমাহারে, মানসিক উদগ্রীবতায় অনেকেই শরণাপন্ন হয়ে পড়ি ফেক-আইডির। আর এভাবেই শুধু শুধু বাড়ে মানসিক অশান্তি।  শুধু তাই নয় দেখা গেছে, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলার চেয়ে ফেসবুকে মাঝে মাঝে তার ওয়ালে যাওয়া, কারো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।

এভাবে যতো যাই বলা হোক না কেন বর্তমানে আমরা কেউ পারবো না প্রযুক্তির একটি উদ্ভাবনকে এড়িয়ে জীবন চালাতে। তাই ফেসবুকও ব্যবহার করতে হবে, তবে সেটা পর্যাপ্ত পরিমাণে। যেমন ধরুন, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি কম খাওয়াও। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বাস্তবতায় হয়ে পড়ছি অসামাজিক। তাই বিষণ্ণতা বা অবসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়, সময় দিন আপনার সামাজিক জীবনে আর গড়ে তুলুন বিষণ্ণতামুক্ত সুন্দর একটি জীবন।  

Continue Reading

Psychology

পড়ার চাপ? জেনে নিন এই মানসিক চাপ কমানোর উপায়

Published

on

পড়া কদ্দুর?

 

-ধুররররররর, কিচ্ছু মনে নাই। একদিক দিয়ে পড়ি, আরেকদিক দিয়ে ভুলে যাই। তোর কি অবস্থা?

 

-কি যে একটা অবস্থা আর বলিস না। টেবিলে বসে আছিই তো আছি, পড়া আগানোর বদলে পিছায়।

 

এইচএসসি পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর এই কথোপকথনের সাথে কোথাও কী নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন? কোথাও কী মনে হচ্ছে এই গল্পটা আপনার? ভুল ভাবছেন; গল্পটা আপনার একার নয়, আমাদের সবার। পরীক্ষার দুয়েকদিন আগে এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার আমাদের সবাইকে হতে হয়। যে যত ভালো স্টুডেন্টই হোক না কেন, যতোই সবকিছু কয়েকবার করে রিভাইস করা থাকুক, একেবারে ঠোঁটস্থ মুখস্থও যদি থাকে পরীক্ষার আগে সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। বার বার পড়া জিনিস দেখলেও মনে হয় ‘আরে, এইটাও আছে নাকি সিলেবাসে?’ পরীক্ষা ভীতি মস্তিষ্ক থেকেই তৈরি হয় মানসিক চাপ, আর ফলাফল হিসেবে- ‘ভুলে যাই’, ‘ঘুম আসে না’, ‘ক্ষুধা নাই’, ‘ভাল্লাগেনা’র মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

আজকে তাহলে পরীক্ষার আগের এই চাপ কমানোর উপায়গুলো একটু জেনে নিই-

 

পর্যাপ্ত ঘুম

 

পরীক্ষার টেনশনে ঘুম না হওয়াটা আজকালকার ট্রেন্ড বলা চলে। যেন, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি ফেললেই পাশ নিশ্চিত। কিন্তু এই সময় পর্যাপ্ত ঘুম যে কত জরুরি তা বলে বোঝানো যাবে না। পরীক্ষার আগের দিন রাত জেগে পড়লে পড়া কতটুকু আগাবে তা আমি জানি না, সেই প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবেই এমন নিশ্চয়তাও আপনাকে কেউ দিতে পারবে না। তবে ছয় থেকে আট ঘন্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম যে আপনার নরমাল ব্রেইন ফাংশন বজায় রাখতে খুবই দরকার এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমারই এক বন্ধু পরীক্ষা এলেই যেন অনিদ্রা রোগে পেয়ে বসে। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সেই ছেলের ঘুমটুম সব যে কোথায় পালায় কে জানে! এই সমস্যার বেশ বড়সড় একটা ইংরেজি নামও আছে, Pre exam anxiety syndrome. আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, হলে বসে ঘুমিয়ে পড়তে! তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম যেন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।  

 

পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খান

 

মা যতই খাবারের থালা নিয়ে আপনার পিছনে দৌড়াক, পরীক্ষার সময় একটু-আধটু অনিয়ম হয়েই যায়। এমনিতেই পরীক্ষা সংক্রান্ত স্ট্রেসের কারণে এনজাইম সিক্রেশন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনেকেরই পরীক্ষার আগে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পেটে গোলমাল দেখা যায়। এসময় তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর পানি পান করুন, ফল খান, আর সহজে হজম হয় এমন কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ এই অজুহাতে তেল-ঝোলঅলা খাবারের দিকে একদম হাত বাড়াবেন না, একদমই না। তা সে ফুসকা, চটপটিই হোক কিংবা ডমিনো’স এর পিজ্জা। পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এইসব খাদ্য থেকে দূরে থাকা উচিত।

 

একবার চোখ বুলিয়ে যান শুধু

 

অনেকেরই অভ্যাস থাকে, পরীক্ষার আগের দিন সবটা রিভাইস দেয়ার। যদি আপনারো তেমন অভ্যাস থাকে, তবে সেই অভ্যাস বদলে ফেলার জন্য আমি বলবো না। তবে আমার মনে হয়, সবটা মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে শুধু ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট এবং সব চ্যাপ্টারের হাইলাইটস দেখে নেওয়াটাই ভালো হবে। এজন্য নিয়মিত পড়ার সময়ই নোট করে রাখুন বা বইয়ে দাগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট মার্ক করে রাখতে পারেন। যাতে পরীক্ষার সময় শুধু সেইটুকুতে চোখ বুলিয়েই আপনি পুরো বিষয়ে একটা সম্যক ধারণা পান। পরীক্ষার দু’একদিন আগে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা করলে তাতে লাভ তো হবেই না বরং যা পারেন, যতটুকু পারেন, সেটুকুও ভুলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেবে। অনেক সময়, পরীক্ষার হলে রেসিডুয়াল নলেজ দিয়েই কাজ চালাতে হয়। শুধু চোখ বুলিয়ে যান, সবটা একবার দেখে যান, তাতেই হবে।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

‘তোর রিভাইস দেয়া শেষ? আমার তো এখনো অনেক পড়া বাকি!’

 

নিজের পড়া না হলে চিন্তা হয় ঠিকই, তবে বন্ধু-বান্ধবের পড়া শেষ এই খবর শুনলে ব্রেইনে শর্ট-সার্কিট হয়না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি পরীক্ষার আগে অন্যের সাথে তুলনা দেয়ার এই কাজটা না করেন। অন্যের পড়ার বৃত্তান্ত শুনলে আপনার পড়া একটুও আগাবে না, বরং পিছিয়ে যেতে পারে। তাই কারো সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করবেন না। নিজের নিয়মে, নিজের রুটিনে পড়ে যান। অনেকে আবার হলে ঢুকার আগে ‘এটা পড়েছিস? ওটা কোথা থেকে পড়লি? এটাও পড়তে হবে? কই আগে বলিস নি তো!’ এই ধরণের কথাবার্তায় জড়িয়ে যান। ফলাফল? প্রশ্ন হাতে পাবার আগেই এমনকি হলে ঢুকার আগেই আপনার কনফিডেন্স লেভেল একেবারে তলানিতে।

 

যা করতে ভাল লাগে তাই করুন

 

এমনটা হতেই পারে যে, হঠাৎ আপনার মোটেও পড়ার মুড নেই। কিন্তু আপনি চেষ্টা করছেন নিজেকে চেয়ার টেবিলে আটকে রাখতে। কী মনে হয়, এতে লাভ হয় কোনো? নাকি বসে থাকাই ব্যস?

 

প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মেথড থাকে রিলাক্স করার। কেউ গান শুনতে ভালোবাসে, কেউ টিভি দেখতে, কেউবা পড়ার ফাঁকে এক পাক নেচে নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে পড়তে বসেন। যেটাই হোক, যা করতে আপনার ভালো লাগে কিছুটা সময় যদি সেভাবে রিলাক্স করে নেন তাতে আপনার সময় নষ্ট হবে না, বরং দ্বিগুণ গতিতে পড়া আগাবে আমি আপনাকে লিখে দিতে পারি।

 

গোছগাছ যা করার আগের রাতেই করে রাখুন

 

পরীক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আগেই গুছিয়ে রাখুন। কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব রাতেই গুছিয়ে একপাশে রেখে দিন। পরীক্ষার দিন সকালে এসব খুঁজে সময় বা শক্তি কোনোটাই নষ্ট করা যাবে না। হলে যাবার ক্ষেত্রে যানবাহনের ব্যাপারটিও মাথায় রাখুন। যদি পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়, তাহলে তো খুবই ভালো। আর তা না হলে রিকশায় যাবেন নাকি গাড়িতে নাকি কিছুটা সময় বাসের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই ব্যাপারগুলো আগেই ভালোভাবে বুঝে নিন। দরকার হলে ব্যাকআপ কোনো ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

 

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার মতো পাব্লিক পরীক্ষার আগে খানিকটা চাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি ভর্তি পরীক্ষার মতো লাইফ চেঞ্জিং কোনো কিছু হয়, তবে চাপ যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। অনেকের জন্য আবার সাধারণ ক্লাস টেস্টও পাহাড় ডিঙ্গানোর সমান চ্যালেঞ্জিং। এই চাপকে সরিয়ে রেখে ঠিকমত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে আপনাকেই। শুধু একটা কথা মাথায় রাখুন, আপনি যা পারেন, যতটুকু পড়েছেন সেটুকুই যথেষ্ট। শেষ সময়ে এসে হা-হুতাশ না করে যা পারেন সেইটুকু ঠিকভাবে লিখে আসতে পারলেই আপনাকে আর ঠেকায় কে! আর যদি অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়, তবে একটু উপরের কথাগুলো মিলিয়ে নিন। 

Continue Reading

Trending