কোয়ারান্টাইন সময়কাল প্রোডাক্টিভ রাখতে করণীয়

কোয়ারান্টাইনের  এই সময়টাতে আপনি কি বাসায় বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত? কি করবেন সেটা ভেবে পাচ্ছেন না? আপনি কি চান প্রোডাক্টিভ কিছু করে আপনার এই সময়টার সদ্ব্যবহার করতে? এইসব গুলো প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আজকের ব্লগটি আপনার জন্য।

চলুন দেখি, কোয়ারান্টাইনে ঘরে বসে কিভাবে আপনি আপনার সময়কে কাজে লাগাতে পারেন।

১. প্রার্থনা বা ইবাদাতঃ

প্রার্থনা বা ইবাদাত আমাদের সকলের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে প্রার্থনা করায় একদিকে যেমন পূণ্য লাভ করা যায় অন্যদিকে সময়ের ও সদ্ব্যবহার করা সম্ভব। যেহেতু, এটি মাহে রামাদানের মাস মুসলিমদের জন্য ইবাদাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের একটা সুবর্ণ সুযোগ। প্রার্থনা কিংবা ইবাদাত ইহকাল এবং পরকাল উভয়ের জন্য কল্যাণকর।

২. পরিবারকে সময় দেয়াঃ

আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হলো পরিবার। পরিবার আমাদের সবাইকে মায়ার একটি বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকার কারণে উদাহরণস্বরূপঃ চাকরি বা পড়ালেখার দরুন আমরা পরিবার থেকে দূরে থাকি তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক সময় পরিবারকে সময় দিত পারি না। সুতরাং, পরিবারকে সময় দেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার সময়কে কাজে লাগাতে পারেন এবং একইসাথে একটি সৌহার্দপূর্ণ গড়ে তুলতে পারেন।

৩. বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগঃ

আমাদের জীবনের সাথে আরেকটি বিষয় ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। হ্যাঁ, অনেকে হয়তো বুঝে গিয়েছেন। আর সেটি হলো- আমাদের বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয় স্বজন। আমাদের জীবনে এদের প্রভাবে একেবারেই অনস্বীকার্য। দুর্যোগের এই সময়ে বন্ধু বা আত্নীয় স্বজনের কাছে  আপনার একটি ফোন কল বা টেক্সট আনন্দের কারণ হতে পারে। আপনি চাইলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও সহজে যোগাযোগ করে তাদের খোঁজ নিতে পারেন। এতে আপনার সমপর্ক আরো অনেক সুদৃঢ় হবে।

৪. অন্যদের সাহায্য করাঃ

আমরা জানি, মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ অন্যের সাহায্য ছাড়া কখনো চলতে পারে না। তাই সাহায্য নেয়ার পাশাপাশি অন্যকে সাহায্য করাটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনি বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে সহায়তা করতে পারেন। যেমনঃ সঠিক তথ্য দিয়ে, ভালো পরামর্শ দিয়ে, ভালো কাজে সমর্থন দিয়ে, আর্থিকভাবে ইত্যাদি।

৫. নতুন অভ্যাস তৈরীঃ

এই কথা আমরা সকলেই জানি, মানুষ হলো অভ্যাসের দাস। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ভালো অভ্যাস তৈরি হতে প্রায় ২১ দিন সময় লাগে। তাই খুব সহজে কোয়ারান্টাইনের এই সময়টাতে আপনি একটি হেভিট চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলতে পারেন। উদাহরণস্বরূপঃ আপনি রাতে দেরীতে ঘুমাতে অভ্যস্ত আপনি বিশ্বাস এবং সংকল্প করলেন যে আপনি আজকে থেকে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করবেন।

আরও পড়ুনঃ কাজে মনোযোগ ধরে রাখার উপায়।

৬.স্কিল ডেভেলপমেন্টঃ

একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে স্কিল খুব দরকারি একটি বিষয়। এই বাড়তি সময়টাকে কাজে লাগিয়ে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, গ্রাফিক্স, ভিডিও ইডিং প্রভৃতি শিখে ফেলতে পারেন। 

৭. কুকিং স্কিলঃ

কুকিং আমাদের সবার জীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কিল। বলা যায় সব ধরণের মানুষের জন্য এই স্কিল প্রয়োজনীয়। এটি বিদেশ ভ্রমণ এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার সময়ে বিশেষকরে হোস্টেল বা হলে থাকার ক্ষেত্রে খুবই দরকারি একটি বিষয়।

৮.শরীরচর্চা বা ব্যায়ামঃ

বলা হয়ে থাকে- সুস্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। সুস্বাস্থ্যের জন্য ব্যায়ামের গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনি প্রতিদিন মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করে বাসায় বসে বিভিন্ন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন।

৯.অনলাইন কোর্সঃ

এই সময়ের একটি জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে অনলাইনে কোর্স করা। ঘরে বসেই ইন্টারনেট এবং আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন অথবা ডেক্সটপ/ ল্যাপটপ ব্যবহার করে Muktopaathbd, BYLCX, Bohubrihi, Udemy, Coursera ইত্যাদি সাইট থেকে আপনার প্রয়োজন এবং পছন্দসই কোর্স করে নিজের দক্ষতাকে ঝালাই করে নিতে পারেন। প্রায় বেশিরভাগ কোর্স ফ্রি এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। অনলাইন কোর্স করার জন্য যা লাগে তা হলো- ১. ডিভাইস (স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ)  ২. ইন্টারনেট ও ৩. আপনার সময়।

১০. বই পড়াঃ

একজন বিখ্যাত ব্যাক্তি বলেছেন-There are worse crimes than burning books. One of them is not reading them. বই পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার সময়কে আরো বেশি উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের নতুন বিষয় জানা এবং অভিজ্ঞতার  পরিধি টা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। শুরু করতে হবে ছোট ছোট বই দিয়ে। কারণ শুরু করতেই হয় ছোট দিয়ে, আস্তে আস্তে বড় হতে হয়।

১১. মুভি দেখাঃ

সময় উপভোগ করার অন্যতম একটি পদ্ধতি। একটি ভালো মুভির শিক্ষা আপনার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে। এক্ষেত্রে আপবি হলিউড, বলিউড, ডালিউড, টালিউড থেকে আপনার রুচি অনুযায়ী মুভি বাছাই করতে পারেন।

১২. শখের কাজঃ

আমাদের সবার জীবনে শখ থাকে কিন্তু সময় এবং সুযোগের অভাবে আমাদের তা করা হয় না। এটি হতে পারে ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি, ব্লগ লিখা, ভিডিও বানানো ইত্যাদি। যেমনঃ ব্লগ লিখা আমার একটি শখ। তাই আমি ব্লগ লিখি।

১৩. ইংরেজি শব্দভাণ্ডারঃ

বর্তমান যুগে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন ইংরেজি শব্দ শেখা আপনাকে অনেকটুকু এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আজকে থেকে  আপনি প্রতিদিন অন্তন ৫ টি নতুন  শব্দ শেখার একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলুন।

১৪. স্পিকিং ইংলিশঃ

আমরা অনেকেই ইংরেজিতে কথা বলতে চাই কিন্তু সময়ের অভাবে তা করা হয় না। তাই আজকে থেকে আপনি ইংরেজিতে কথা বলার ৭ দিনের একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলুন। আপনি নিজের কথা মোবাইলে রেকর্ড বা ভিডিও করুন। প্রত্যেক দিন অন্তুত ২-৩ বার করুন। দেখবেন ৭ম দিনে গিয়ে আপনার কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। এছাড়াও ম্যাসেঞ্জারে বন্ধুদের নিয়ে খুলে ফেলতে পারেন একটি “ইংলিশ ক্লাব”

১৫. নতুন ভাষা শেখাঃ

এই যুগের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আপনি নতুন ভাষা জানেন মানে অন্যদের থেকে একধাপ এগিয়ে গেলেন। এজন্য বিভিন্ন ভাষার মুভি সাবটাইটেল সহ দেখতে পারেন। 

 এছাড়াও আপনি ” Duolingo APP”

ব্যবহার করে শিখতে পারেন নতুন ভাষা।

APP Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.duolingo

পরিশেষে একটা কথা বলে শেষ করতে চাই আপনি একদিনে হয়তো সব সাজেশন বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। কিন্তু, সঠিক পরিকল্পনা এবং সংকল্পের মাধ্যমে বেশিরভাগ সাজেশন বাস্তবায়ন করবেন। তাই দেরী না করে আজকে থেকে প্লান করে কাজ শুরু করে দিন।

ব্লগটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।          

ধন্যবাদ 🌺

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *