Connect with us

fitness & nutrition

ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর নয়

Published

on

“The More You Weigh the Harder You Are to Kidnap. Stay Safe Eat Cake” এসব আমরা যতোই বলি না কেন, বাড়ন্ত ওজন সবার কাছেই বেশ ভয়ের কারণ! এইতো সেদিন দেখি আমার ক্লাস ফোরে পড়া ছোটবোনটা চকলেট কেক খেতে চাচ্ছিলো না। আগে যার জন্য কেউ চকলেট কেকে হাতও দিতে পারতো না, সে-ই কিনা বলে মোটা হয়ে যাবো! আরও বললো, “চকলেট কেকে তো অনেক ফ্যাট!”

 

আধুনিকতার এই যুগে তেরো বছরের কিশোরী থেকে তেষট্টি বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যন্ত সবারই খেতে বসলে মাথায় থাকে একই চিন্তা– ‘বেশি খাওয়া যাবে না, মোটা হয়ে যাবো।’ ঠাট্টা করে হলেও আজকাল প্রায় সব মেয়েই মনে মনে বলে, “Every woman’s dream is to eat without getting fat”

 

ওজন কম রাখার চেষ্টা মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও পুরুষদের মধ্যে কিন্তু কম নয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওজন কমানোর চেষ্টাগুলো হয় ভুল পদ্ধতিতে এবং না বুঝে। আবার এমন অনেকেই আছে যারা ব্যায়াম করবো করবো বলেও করে না। অনেকে আবার সুন্দর ফিগার বলতে জিরো ফিগারকেই বোঝেন। কিন্তু জিরো ফিগার স্বাস্থ্যকর নয় এটা তারা জানেই না। বয়স এবং উচ্চতা অনুযায়ী প্রত্যেকের শরীরেরই একটি নির্দিষ্ট ওজন রাখার প্রয়োজন আছে, যা তার শরীরের মেটাবলিজম বাড়ানোর জন্য খুবই প্রয়োজন। BMI (Body Mass Index) এর সাহায্যে একজন মানুষের সঠিক ওজন কত হওয়া উচিত তা খুব সহজেই জানা যায়। বি এম আই মাপার সঠিক উপায় ওজন/ উচ্চতার মিটার স্কয়ার। বি.এম.আই অনুযায়ী,

 

আন্ডারওয়েট বা কম ওজন   <১৮.৫

 

নরমাল বা স্বাভাবিক ওজন  ১৮.৫ – ২৪.৯

 

ওভারওয়েট বা অতিরিক্ত ওজন  ২৫ – ২৯.৯

 

কারোর বি এম আই যদি ৩০ এর বেশি হয় তাহলে বুঝতে হবে তার শরীরের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।

 

একটি উদাহরন দিলে বি এম আই আরো সহজে বুঝা যাবে –

 

মনে করি, একজন মানুষের উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি অর্থাৎ (৬২*২.৫৪=) ১৫৭ সেমি বা ১.৫৭ মিটার এবং ওজন ৮০ কেজি। তাহলে তার বি এম আই হবে:  ৮০ ÷ (১.৫৭) = ৩২.৪৬ কেজি/মি । তাহলে ওপরের চার্ট অনুযায়ী ওই ব্যাক্তি ওভারওয়েট বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় রয়েছেন।

 

সুতরাং প্রথমে নিজের বি এম আই মেপে দেখা দরকার আমাদের ওজন ঠিক আছে কিনা। যদি না থাকে তবে সঠিক উপায়ে ওজন কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে জেনে রাখুন, গর্ভবতী মা এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শই অনুসরণ করতে হবে। আসুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন সহজেই:

 

কোনো বেলার খাবার, বাদ যাবে না আর!

 

ইচ্ছা কী? ওজন কমানো! কিন্ত এখন যে একটা বিয়ের দাওয়াত? আচ্ছা তাতে সমস্যা নেই! এখন পেট ভরে খাই রাতে আর খাবো না। কিংবা গতকালের হ্যাংআউটে গল্পের তালে তালে কখন যে দুইটা বার্গার খেয়ে ফেলেছি, খেয়ালই নেই! তাহলে আজকের লাঞ্চটা আর না করি।

 

উপরের কথাগুলো যেন আমাদের নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। যেন একবেলা না খেয়ে ওজন ব্যালেন্স করে নিলাম! কিন্তু এসব ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের ওজন কমাতে কোনো সাহায্য তো করেই না বরং মেটাবলিজম কমিয়ে দেয়। আর মেটাবলিজম কমে যাওয়ার মানে ওজন কমার গতিও ধীর হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি, ক্লান্তি-এসব সমস্যা তো আছেই।

 

ব্রেকফাস্টে নিন একটি ডিম প্রতিদিন

 

সকালে বাচ্চাদের স্কুল কিংবা বাবা-মায়ের অফিস-প্রত্যেকেরই থাকে বেশ তাড়াহুড়ো। সকালের সেই তাড়াহুড়োয় ব্যাগ না গুছিয়ে, রেডি না হয়ে কেউ বাইরে যেতে পারবো না- এটা সবাই জানি। কিন্তু কোনটা না করেও বাসা থেকে বের হওয়া যায়?- ব্রেকফাস্ট! পরে খেয়ে নিব ‘একসময়’। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই ‘একসময়’ আর আসে না, আর তাই ব্রেকফাস্টও করা হয় না সময়মতো।

 

কিন্তু সকালের নাস্তায় অন্তত ২০ গ্রাম প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার থাকা অনেক জরুরি। ডিম একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার যা আমাদের ক্ষুধা নিবারণে অন্য যে কোনো খাদ্যশস্য থেকে উত্তম। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, সকালে একটি ডিম পরবর্তী ৩৬ ঘন্টায় আমাদের কম ক্ষুধার উদ্রেক করে, খাওয়ার পরিমাণ কমায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় একটি ডিম ৮ সপ্তাহে ৬৫% ওজন কমাতে সক্ষম।

 

খাওয়ার আধ ঘন্টা আগে, পানি পান করুন মনে করে

 

আমরা প্রায়ই তৃষ্ণা ও ক্ষুধাকে আলাদা করতে পারি না। এমনকি অনেককে খাবারের আগে পানি খেতে নিষেধ করতে দেখা যায়-ক্ষুধা চলে যাবে এই ধারণায়। কিন্তু আসল ঘটনাটা ভিন্ন। পানি ক্ষুধা মেটাতে পারে না। আমরা যখন তৃষ্ণার্ত থাকি, তখনই পানি আমাদের তৃপ্ত করে।  

 

তাই এখন থেকে কোনো কিছু খেতে ইচ্ছা করলে তার কিছুক্ষণ আগে এক গ্লাস পানি খাবেন, দেখবেন এতে খাওয়ার পরিমাণ কমবে। পানি আমাদের দেহের মেটাবলিজম ১-১.৫ ঘন্টায় ২৪-৩০% করে বাড়ায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা খাওয়ার আধ ঘন্টা আগে পানি পান করেছে তাদের ওজন  ৪৪% কমেছে কমেছে যারা পানি পান করেনি। পানি আমাদের ত্বক সুন্দর করে পাশাপাশি ক্লান্তি দূর করার মাধ্যমে দেহের সুস্থতা বজায় রাখে।

 

ছোট প্লেটে খান, ভরা পেটে যান

 

অনেকে বলে- মানুষের মনের রাস্তা নাকি পেট দিয়ে যায়, পেট খুশি তো মনও খুশি! কিন্তু গবেষকদের উত্তর আলাদা। তারা বলেন, মন খুশি থাকলে নাকি পেটও খুশি থাকে। আর এই মনকে খুশি রাখতে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারি।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট প্লেটে খেলে ওজন কমানো সহজ হয়। কেননা, বড় প্লেটে খাবার নিলে আমাদের অবচেতন মন ধরেই নেয় যে আমরা খাবার কম নিয়েছি। আর এটা ভেবেই প্লেটে আরো খাবার নিই। কিন্তু সেই একই পরিমাণ খাবার যদি আমরা ছোট প্লেটে নিই, তখন প্লেট ভরা থাকার কারণে মনে হয় অনেক খাচ্ছি। তাই আবার নেয়ার প্রবণতাটা কমে যায়। দেখা গেছে যে, ১২ ইঞ্চি খাবার প্লেট এর পরিবর্তে ১০ ইঞ্চি খাবার প্লেটের ব্যবহার ২২% ক্যালরি রোধে সহায়তা করে। একবেলা খাবারের ক্যালরি যদি আমরা ৮০০ ধরে নেই, তাহলে প্লেটের এই পরিবর্তন বছরে ১০ পাউন্ড ওজন কমাতে সক্ষম।

 

ক্ষুধা পেলেই ফল খান, কমবে ওজন, বাঁচবে প্রাণ!

 

আধুনিকতার এই যুগে তো আমরা প্রায় সবকিছুই গুগলে খুঁজি। ওজন কমানোর পদ্ধতিগুলো সার্চ দিলেও আমরা খুঁজে পাবো কয়েক হাজার পদ্ধতি। প্রায় সবগুলোতেই ফল খাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সাত কিংবা দশ দিনের মতো স্বল্প সময়ে ওজন কমানোর যেসব আকর্ষণীয় উপায়গুলো দেখা যায়, সেগুলোও মূলত ফলের ওপরই নির্ভরশীল।  

 

ফলের গুণগুলো কি আর বলে শেষ করা সম্ভব? একদিকে ফল যেমন পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও ক্ষুধা নিবারণে তৎপর, তেমনি ওজন হ্রাসেও রয়েছে এর বিশেষ ভূমিকা। অন্যান্য খাবারের তুলনায় ফলে ক্যালরি কম। পাশাপাশি বেশিরভাগ ফলই অতিরিক্ত ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে যা দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সহায়ক। আপেল, তরমুজ, কমলা, আঙুর, পেয়ারার মত অতিপরিচিত ফলগুলোই ওজন কমাতে দারুণভাবে সহায়তা করে।

 

নিয়মিত হাঁটুন, সুস্থ থাকুন

 

বর্তমান সময়ে উন্নত ও উন্নয়নশীল সকল দেশেই স্থূলতার সমস্যা বিরাজমান। ICDDRB এর রিপোর্ট মোতাবেক বাংলাদেশেও স্থূলতা ক্রমবর্ধমান। অতিরিক্ত ফাস্টফুড আসক্তির জন্য প্রাপ্তবয়ষ্কদের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

স্থূলতা রোধে হাঁটা একটি সহজ, দৈনন্দিন ও কার্যকর পদ্ধতি। সকাল কিংবা বিকালে কমপক্ষে আধা ঘন্টা হাঁটলে দেহের অতিরিক্ত ক্যালরি দহন করা সম্ভব। নিয়মিতভাবে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে শরীরের প্রায় ১৫০ ক্যালরি দহন করা সম্ভব। হাঁটার গতি যত দ্রুত হবে, ওজন কমানো ততোটাই সহজ হবে। প্রতিদিন হাঁটলে খাবারের ক্ষেত্রেও অনেকাংশে ছাড় দেয়া যাবে নিজেকে। কেননা অতিরিক্ত ক্যালরি হাঁটার মাধ্যমেই আমরা কমিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া হালকা ব্যায়ামগুলোও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

 

প্রয়োজনে ডাক্তার, কোনো রোগ নয় আর

 

১৯৮০ সালে বাংলাদেশের স্থুলকায় মানুষদের মধ্যে ৭% ছিলো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং ৩% ছিলো শিশু। ২০১৩-তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রাপ্তবয়ষ্কদের মধ্যে ১৭% ও শিশুকিশোরদের মধ্যে ৪.৫%। স্থূলতার এই গতি অতি দ্রুত ক্রমবর্ধমান। পাশাপাশি এর কারণে সৃষ্ট রোগবালাই। অনেক মেয়েরা আজকাল মা হতে পারেন না, অতিরিক্ত স্বাস্থ্যের কারণে।

 

অতিরিক্ত ওজন অন্যান্য অনেক রোগকেও ডেকে আনে। হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যা, ডায়বেটিস ও ক্যান্সারের সাথে অতিরিক্ত ওজন সম্পর্কযুক্ত। উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজন এসব রোগ সৃষ্টি করে থাকে। ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা ব্যায়ামে যদি ওজন না কমে তবে ডাক্তার কিংবা পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কিন্তু কখনোই নিজ থেকে ওজন কমানোর কোনো ওষুধ কিনে খাওয়া যাবে না।

 

মানুষ সুন্দরের পূজারী। কে না চায় সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুস্থ থাকতে? কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই অতিরিক্ত ওজন বাহ্যিক সৌন্দর্যে বাধা হিসেবে কাজ করে। কেননা স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অতিরিক্ত ওজন হুমকিস্বরূপ। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কিন্তু তা যেন কখনোই দেহের জন্য পীড়াদায়ক ও ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়- সেটা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ মেটাবলিজম কমিয়ে নিজের ক্ষতি করে ওজন কমানো নেহায়েতই বোকামি। তাই সঠিকভাবে স্বাস্থ্যের খেয়াল রেখে ওজন কমাতে হবে। আর সেই উপায়গুলো তো বলেই দিলাম। এখন শুধু আপনার মেনে চলার পালা, তাই না?

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fitness & nutrition

কেন হয় অলস অনুভূতি?

Published

on

‘অনেক ক্লান্ত, আলসেমি লাগছে। আজকে বের হবো না রে’। বন্ধুরা ঘুরতে যেতে বললে কী এই কথা আপনার মুখ থেকে আপনাতেই বের হয়ে আসে? অথবা বন্ধুর ট্রিটের মতো লোভনীয় অফারও ফিরিয়ে দেন এই একই যুক্তিতে? নাকি সারারাত ঘুমানোর পরেও মনে হয় যে আবার ঘুমানো দরকার, ক্লান্ত লাগছে? সেই ক্ষেত্রে সময় হয়েছে শুধু বিশ্রামের উপর ভরসা না করে সচেতন হওয়ার। অলস জীবনকে ‘না’ বলুন।    

 

আমাদের শরীরে অবসাদ বা ক্লান্তির প্রকাশ ঘটে বিভিন্নভাবে। যেমনঃ মনোযোগের অভাব, রগচটা ভাব, নিরাশা, স্মৃতিভ্রম, কর্মক্ষমতা হ্রাস, ধীর প্রতিক্রিয়াকাল ইত্যাদি। আবার অনেক সময়ই ক্লান্তি থেকে সূচনা ঘটে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার। হতে পারে স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, বিষণ্ণতা, ডায়াবেটিস এমনকি ঘটতে পারে বিভিন্ন দূর্ঘটনা।

 

ক্লান্তি দূর করতে আমরা চা, কফি, চিনি, এনার্জি ড্রিংক, ভিটামিন ও আরো অনেক কিছুই খেয়ে থাকি। কিন্তু দেখা যায় এতোকিছু করেও হয়তো কোনো লাভ হয় না। হয়ত পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও ঘুম থেকে উঠামাত্রই শরীরে জেঁকে বসে ক্লান্তি। ধারাবাহিক এসব সমস্যায় বার বার চা-কফি না,  আমাদের দরকার ক্লান্তির কারণ জানা। শুধু যে শারীরিক পরিশ্রমেই আমরা ক্লান্ত হই, তা কিন্তু না, মানসিক কারণও হতে পারে আমাদের অবসাদের কারণ।

 

আসুন জেনে নেই ক্লান্তি বা অবসাদের কিছু সম্ভাব্য কারণ থেকে মুক্তির উপায়।

 

আপনি মানসিক ও আত্মিক দিক দিয়ে ঠিক নেই

 

হয়তো আপনি অসুখী, অসন্তুষ্ট, চিন্তিত কিংবা জীবন নিয়ে উদাসীন। অথবা হতে পারে আপনি এমন কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পরেছেন যা আপনি চাননি, বা এমন কোনো চাকরি করছেন যা আপনার মোটেই ভালো লাগছে না কিংবা এমন কোনো পরিস্থিতিতে আছেন, যা আপনার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে।

 

তাহলে, এখনই সময় অসন্তোষের পাহাড় বড় না করে একটু সময় নেয়া। শান্ত হয়ে একটু ভাবা। ভাবুন এমন এক সময়ের কথা যখন সবকিছু ঠিক ছিলো, আপনি খুশি ছিলেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎফুল্ল ছিলেন। তখন কী আপনার এমন ক্লান্ত লাগতো? ঠিক একইভাবে এমন এক সময়ের কথা ভাবুন, যখন আপনি এমন কোনো সম্পর্ক বা চাকরিতে ছিলেন যা আপনার সমস্ত এনার্জি শুঁষে নিচ্ছিলো, মনে করে দেখুন সেই সময় আপনি যতই বিশ্রাম নিয়ে থাকেন না কেন, আপনার ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হতো, সারাদিন ক্লান্তবোধ হতো।

 

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু আছে যা করতে আমরা উৎফুল্ল বোধ করি আবার এমন কাজও আছে যার নাম শোনামাত্র অবসাদ চেপে বসে, এটা স্বাভাবিক। হয়তো, আপনি দ্রুত আগাতে পছন্দ করেন কিন্তু বাস্তবে আপনাকে সকল খুঁটিনাটি বিষয়ে খবর রাখতে হচ্ছে, কিংবা হয়তো আপনি বৈচিত্র্য পছন্দ করেন কিন্তু আপনার জীবন ৯টা-৫টার জীবনে বাঁধা। স্কুলে যাওয়া বাচ্চাদের দেখলেই বিষয়টা বুঝা যায়। স্কুলের দিন বাচ্চাদের আলসেমি আর ছুটির দিনে চঞ্চলতার কী আকাশ-পাতাল পার্থক্য, নিশ্চয়ই দেখেছেন!

 

খুঁজে বের করুন আপনার ক্লান্তির মূল কারণ। করতে শুরু করুন যা আপনি পছন্দ করেন, যা আপনাকে আনন্দ দেয়। মানসিক ও আত্মিক শান্তিই এনে দিবে আপনার জীবনে ভারসাম্য, মুক্ত করবে অবসাদ থেকে।

 

আপনি শারীরিকভাবে চাপে আছেন

 

অনেকক্ষেত্রেই আমরা অনেক কিছু করে থাকি, যা আমাদের শরীরের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। যেমন হয়তো, আমাদের আর্থিক প্রয়োজন তাই আমরা অফিসে ওভারটাইমে জয়েন করলাম কিন্তু এটা যে আসলে আমাদের শরীরের সাধ্যের বাইরে সেই বিষয়টা সম্পূর্ন অবহেলা করলাম। ফলশ্রুতিতে দুই-একদিন শরীর মেনে নিলেও ধীরে ধীরে সে বিদ্রোহ করে বসলো। দেখা যায় যে, তখন ওভার টাইম ছেড়ে দিলেও শিডিউল কাজেই শরীরে অবসাদ চলে আসে।

 

নিজের শরীরের যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরী। কারণ, বাদ্য আমরা যতই ভালো বাজাই না কেন, বাদ্যে যদি ত্রুটি থাকে সুর তো বেসুরো হবেই!

এসব ক্ষেত্রে ছোট কোনো ছুটি নিয়ে পরিবারের সাথে হালকা ঘুরে আসলে বা সময় কাটালে ভালো লাগে। এছাড়াও বডি ম্যাসাজ, হিজামা, ইয়োগা, কোয়ান্টাম এসবও ভালো উপকার দেয় ক্লান্তি দূর করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে।

 

আপনি যথেস্ট পরিমাণে বা সঠিকভাবে খাচ্ছেন না

 

আমরা কতটুকু কী খাবার খাচ্ছি তার উপর আমাদের এনার্জি নির্ভর করে। নিউট্রিশনিস্টদের মতে, বেশীরভাগ মানুষ মনে করে মিষ্টি, চিনি জাতীর খাবার, চিপস, চকলেট এসব আমাদের এনার্জি বাড়ায়। কিন্তু মূলত এসব খাবারই আপনাকে দুপুরের ভাতঘুম এর প্রধান কারণ। এনার্জি কমানো এবং অলসতার পেছনে দায়ী এসব খাবার।

 

শুধু কী খাচ্ছি সেটা না, কি পরিমাণ খাচ্ছি এই ব্যাপারটাও খেয়াল রাখা দরকার। কোনো বেলার খাবারেই অবহেলা করা যাবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলো তাই সকালে না খেয়ে দুপুরে বেশি করে খেয়ে নিলাম, এটা কোন বুদ্ধিমানের কথা নয়। খেতে হবে প্রতি বেলাতেই এবং আমিষ, শর্করা, ভিটামিন সব মিলিয়েই খেতে হবে।

 

বাসার ভাত-তরকারি থেকে পাস্তা, পিজ্জা অনেক আকর্ষণীয় হলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ফাস্ট ফুড বা রাস্তার পাশের খাবারের উপর নির্ভরতা শুধু অবসাদ নয়, ডেকে আনবে অনেক রোগও।

 

আপনার ঘুমে ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে

 

হয়তো আপনি ভাবছেন আপনি ঘুমাচ্ছেন, কিন্তু আসলেই কি তাই? ঘুমটা কি আসলেই পরিপূর্ণ হচ্ছে? ঘুমটা কি আসলে নিশ্চিন্তে হচ্ছে? আপনি বুঝতে না পারলেও বারবার ঘুম ভাঙা, ঘুমানোর আগে মোবাইল-ল্যাপটপ বা কোন ইলেকট্রনিক্সের ব্যবহার, শক্ত বিছানা কিংবা বালিশ, আলোকিত রুম এসব ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আর তাই পরিপূর্ণ ঘুমে যে এনার্জি শরীরে জমা হয়ার কথা তা হয় না, ফলে সমস্ত দিন যায় অবসাদগ্রস্থ।

 

তাই আমাদের উচিত ঘুমানোর অন্তত একঘন্টা আগে ইলেকট্রনিক্সের কাজ শেষ করা, পছন্দ অনুযায়ী বালিশ বা বিছানা ব্যবহার করা, রুমে কম আলোর ব্যবস্থা করা। এসব পদক্ষেপ আমাদের বিরামহীন ঘুম নিশ্চিত করবে এবং পাশাপাশি পরবর্তীতে একটি ক্লান্তিহীন দিনের সূচনা করবে।

 

কোন কারণে আপনি চিন্তিত কিংবা ডিপ্রেশনে আছেন

 

মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা আমাদের দেহে করটিসোল হরমোন রিলিজ করে যা আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়াও অতিরিক্ত চিন্তা আমাদের এনার্জি খরচ করে। ঠিক যেমন, মোবাইলের কোনো অ্যাপ যদি সারাক্ষণই ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে তাহলে যেমন অধিক ব্যাটারি খরচ করে তেমনি মাথায় চিন্তার ভূত থাকলে ঘুম ঠিক মতো হয় না, খাবার খাওয়ার ইচ্ছা মরে যায়, কিংবা খেলেও তা ঠিকভাবে শরীরের প্রয়োজনে কাজে লাগে না।

 

 

ঠিক তেমনি, হতাশা বা ডিপ্রেশন থেকে সৃষ্টি হয় উদ্বেগ যা থেকে পরবর্তীতে ইনসমনিয়া, মাথা ব্যথা, ক্লান্তিভাবের সূচনা হয়। আর প্রতিটা কাজেই এর প্রভাব পরে। ধরুন, আমরা ১০০ ইউনিট এনার্জি নিয়ে দিন শুরু করলাম। এর মধ্যে ৫০ ইউনিট যদি চিন্তাতেই কিংবা ডিপ্রেশনেই ব্যয় হয়ে যায়, তাহলে স্বভাবতই আমরা সময়ের আগে ক্লান্ত হব। চিন্তা কমাতে মেডিটেশন ও ইয়োগা খুব কার্যকরী ফল দেয়। আর কম চিন্তা মানে কম ক্লান্তি এবং কম ক্লান্তি মানে তরতাজা জীবন।

 

আপনি পরিমিত ব্যায়াম করছেন না

 

আমরা অনেকেই মনে করি ব্যালেন্সড ডায়েট মেনে চললে ব্যায়ামের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। শারীরিক চর্চা সুস্থতার একটি আবশ্যিক বিষয় । ইউনিভার্সিটি অফ জরজিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ধারাবাহিক অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিরা সপ্তাহে মাত্র তিনদিন বিশ মিনিট করে ব্যায়াম করে মাত্র ছয় সপ্তাহে অবসাদ বা ক্লান্তি থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। জানি যে, ক্লান্তিতে ব্যায়াম বা শারীরিক চর্চা শব্দটাই এক বিভীষিকাময় নাম। কিন্তু শারীরিক চর্চা আমাদের হৃদপিন্ড ও ফুসফুসে কার্যক্ষমতা বাড়ায়, শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে অক্সিজেন নিশ্চিত কর যা আমাদের দেহে পুষ্টির যোগান দেয়, শক্তি বাড়ায় ও ক্লান্তি কমায়।

 

তাই পরেরবার, সময় থাকলে রিকশায় না উঠে হেটে যান, লিফটের বদলে সিড়ি ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে সকাল বা বিকালে নিয়মিত কিছু সময় নিজের শরীরের পিছনে খরচ করুন।

 

আপনি পানিশূণ্যতায় ভুগছেন

 

মানবদেহের ৫০-৬০ ভাগই পানি। এমনকি শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস গঠিত হয় ৭০% পানি দিয়ে। অর্থ্যাৎ, নূন্যতম পানিশূন্যতাও তৈরী করবে অনেকখানি এনার্জির ঘাটতি। দেখা গেছে যে, ২% পানির ঘাটতিতেই আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। সাধারণত আমাদের দেহে যে পানির অভাব হচ্ছে তা বুঝতেই আমাদের অনেক সময় লেগে যায়। কেননা, তপ্ত রোদে আমাদের যে পানি পিপাসা পায়, এসি রুমে বসে থাকলে তা আমাদের পায় না, কিন্তু তাই বলে কি এসি রুমে শরীরে পানির প্রয়োজন কম?

 

গ্রেট ব্রিটেনের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতি পাঁচ জনে একজনের ক্লান্তি ও অবসাদের কারণ সঠিক পরিমাণে পানি না খাওয়া, যার ফলশ্রুতি পানিশূণ্যতা। আর শুধু অবসাদই না, পানিশূন্যতায় হতে পারে নানা রোগ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উচিত দিনে অন্তত ২ লিটার পানি পান করা। আর তাই, আগামীকাল সকালের চা এর আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন ও ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে ঘুমান।

 

শারীরিক  সমস্যাও হতে পারে আপনার ক্লান্তির কারণ

 

আপনি যদি উপরের কোনো কারণের সাথেই নিজের কারণ মিলাতে না পারেন, তাহলে হয়তো সময় হয়েছে একজন ডাক্তারের পরামর্শের। বিভিন্ন রোগ বা শারীরিক সমস্যা থেকে দেহে ক্লান্তি বা অবসাদের আধিক্য দেখা যেতে পারে।

 

এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দ্রুত ক্লান্তির অন্যতম কারণ, বিশেষ করে মহিলাদের। রক্তের স্বল্পতা অর্থ্যাৎ আয়রণ স্বল্পতা আর আয়রণ দেহে শক্তি যোগাতে আবশ্যিক। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যায় যেমন, হাইপোথাইরয়েডে দেহে ক্লান্তি আসতে পারে। খাবারে ভিটামনের অভাব শিশু ও বাচ্চাদের অবসাদের অন্যতম প্রধান কারণ। মূত্রনালীর ইনফেকশনের পারিপার্শ্বিক প্রভাব হিসেবেও অনেক সময় অবসাদ লক্ষ্য করা যায়। ডায়াবেটিসে অতিরিক্ত সুগার আমাদের দেহে শোষিত না হয়ে রক্তে থেকে যায়, যা ক্লান্তি সৃষ্টি করে। আবার সুগার কমে যাওয়ার অর্থ দেহে যথেষ্ঠ পুষ্টির অভাব এবং এই কারণেও শরীরে অবসাদ জেঁকে বসে।

 

পরিশেষে বলব যে, ধারাবাহিক ক্লান্তি কখনোই অবহেলার বিষয় নয়। আজ নয় কাল ঠিক হয়ে যাবে ভেবে বসে থাকা ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ, নিজে থেকেই ক্লান্তি দূর হলে তা ধারাবাহিক কখনোই হতো না। খাবারের পরিবর্তন, শারীরিক চর্চা করা নাকি মানসিক কোনো সিদ্ধান্ত? তা বের করতে হবে আপনাকেই। এখনই একটু সময় নিন। কিছু সময় খরচ করে বের করুন আপনার কী দরকার। আপনার এই কিছু সময় ব্যয়ে বেঁচে যাবে ভবিষ্যতের অঢেল সময়।

Continue Reading

fitness & nutrition

১০টি কারণে আপনার কখনোই সকালের খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়

Published

on

বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে প্রায় প্রতিদিন সকালেই তাড়াহুড়া করে ঘুম থেকে উঠে, দাঁত ব্রাশ করে দৌড়-ঝাঁপ করে বাসে বা রিক্সায় অফিসে বা ভার্সিটিতে যেতে হয়, তাই না? নিজেকে একটু জিজ্ঞাস করুন, প্রতি সকালে এধরনের কাজ করা হাজারো মানুষের মধ্যে আপনি একজন কিনা। এই কারণে অনেক সময় নাস্তা করার সুযোগ হয় না। ফলে দেখা যায় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। চীনের পেইচিং নর্মাল ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত পুষ্টিবিজ্ঞানী আন চিয়ান হুয়া বলেন, দীর্ঘকাল ধরে যারা সকালে নাস্তা থেকে দূরে থাকেন, তাদের শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে এবং শরীর মোটা হয়ে যাবে।

তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক কেন আপনার কখনোই সকালের খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়

 

বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে

 

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা সকালের নাস্তা ঠিকমতো করেন তাদের বিপাক ক্ষমতা তাদের চাইতে বেশি যারা সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান। সকালের নাস্তা না খাওয়ার ফলে আপনার বিপাক ক্ষমতা বা হজম শক্তি কমে যেতে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। এতে আপনার পাকস্থলী ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগ, যেমন-  জন্ডিস, অ্যানিমিয়াও হতে পারে।

 

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

 

নিয়মিত ১০ মিনিটের সকালের নাস্তা কমিয়ে দিবে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি। আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলোজির জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা সকালের নাস্তা একেবারেই করেন না তাদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য সবার থেকে দ্বিগুণ। এই গবেষণায় টানা ছয় বছর ধরে স্পেনের একটি প্রতিষ্ঠানের মাঝবয়সী চার হাজার কর্মীর সকালের নাস্তার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। এছাড়াও গবেষণায় দেখা যায়, যারা তাদের সকালের নাস্তায় প্রতিদিনে শরীরে ক্যালরির চাহিদার ৫ শতাংশের কম পরিমাণ ক্যালরি সম্পন্ন খাবার খায়, তাদের ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ এবং গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়।

 

ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা হ্রাস করে

 

নিয়মিত সকালের নাস্তা বাদ পড়ে যাওয়ার কারণে  টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  সাধারণত এই রোগের সম্ভাবনা মহিলাদের মাঝে বেশি লক্ষণীয়। সকালে রান্নাঘরে কাজের চাপে তাদের সকালের নাস্তা করতে দেরি হয়ে যায়, এমনকি বাদও পড়ে যায় অনেক সময়। তাই যত কাজই থাকুক না কেন, অবশ্যই সকালের নাস্তাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসম্মত খাবার খাওয়া দরকার।

 

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

 

বর্তমানে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। সকালের নাস্তাকে হেলাফেলা করা ঠিক এতোটা ক্ষতিকর হতে পারে তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। বিশেষ করে তাদের জন্য যাদের ওজন বেশি এবং ওজন কমানোর জন্য না বুঝেই এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ডায়েট প্ল্যান করে থাকেন। তাদের মাঝে ডায়েট প্ল্যান নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণার কারণে দেখায় যায় যে, স্লিম হতে হলে সকালে খাওয়া যাবে না,  সকালের নাস্তা একেবারেই করেন না বা স্বাস্থ্যসম্মত কিছুই খান না। আর এর কারণেই শরীরে জন্মাতে থাকে ক্যান্সারের কোষ। আশা করা যায়, এ বিষয়টি জানার পর সকালের নাস্তার দিকে অবশ্যই বিশেষ নজর দিবেন সবাই!

 

বুদ্ধিদীপ্ত হতে চাইলে সকালের নাস্তাকে ‘হ্যাঁ’ বলুন

 

আমেরিকাতে ৩১৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর উপর একটি গবেষনা করে দেখা যায়, যারা নিয়মিত সকালের নাস্তা করে তাদের বুদ্ধিমত্তা বেশী তাদের তুলনায় যারা সকালের নাস্তা করে না।

কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী বা যারা ছাত্রজীবনে আছেন তাদের সবার মাঝে সকালে নাস্তা না খাওয়ার প্রবণতাটা অন্য সবার চাইতে বেশি থাকে। সকালে কিছু না খেয়েই স্কুল, কলেজে কোনো রকমে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া করে বেড়িয়ে যেতে  হয়। কিন্তু এতে করে যে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, তা হয়তো বা খেয়ালেই নেই তাদের! তার চাইতেও বড় বিষয় হলো সকালের নাস্তা না করাতে মস্তিষ্ক যথাযথভাবে কাজ করে না। কোনো কিছু মনে রাখার ক্ষমতাও কমে যায়। তাই পড়া মনে রাখতে ও বুদ্ধির যথাযথ বিকাশের জন্য সকালের নাস্তা করা অবশ্যই খেতে হবে।

 

চুল পড়ার সমস্যা কমায়

 

অনেকেই চুল পড়ার ভয়াবহ সমস্যায় ভোগে। কিন্তু এর জন্য আপনি নিজেই দায়ী। অবাক হচ্ছেন? কথাটা কিন্তু সত্যি। কেরাটিন নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় যে প্রোটিন আপনি এড়িয়ে যাচ্ছেন এর কারণেই আপনার নতুন চুল গজানোতে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। সকালের নাস্তা আপনার চুলের জন্য উপকারী কারণ এটি চুলের ফলিকল এনে দেয় পরিপূর্ণ পুষ্টি ও শক্তি। যার ফলে চুলের গোঁড়া হয় মজবুত ও শক্ত। তাই নারী-পুরুষ সবারই উচিত সকালের নাস্তায় সঠিক পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। আর অবশ্যই সেটা খেতে হবে সময়মতো। তাই খেয়াল রাখুন, ঘুম থেকে ওঠার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই যেন সকালের নাস্তাটা খাওয়া হয়ে যায়। তাহলে আপনার চুলের ফলিকল ভালো থাকবে এবং নতুন চুল গজানোর সাথে সাথে চুল পড়াও কমে যাবে।

 

ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে

 

অনেকে ওজন বেড়ে গেলে হঠাৎ করে ডায়েটিং শুরু করেন। এক্ষেত্রে অবশ্য মেয়েরা অনেকখানি এগিয়ে। যারা ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকেন, তারা যদি সকালের নাস্তা না করে তাহলে খাবার খাওয়ার সময়ে বেশ খানিকটা তারতম্য থাকার কারণে স্বাস্থ্যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বিষয়টি অস্বাভাবিক ও অবাস্তব মনে হলেও সত্যি! দুপুরের ও রাতের খাবার খাওয়ার সময় তাদের শরীরে ফ্যাটি এসিড ও মিষ্টি খাবারের চাহিদা বেড়ে যায়। তাড়াহুড়া করে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সকালের নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে করে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এর ফলে নির্দিষ্ট ও যথাযথ ডায়েট প্ল্যান অনুযায়ী প্রতিদিন ক্যালরির চাহিদা সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়ার কারণে শরীরে এর প্রভাব পড়ে। তাই ডায়েট প্লান করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 

কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে

 

মাঝে মাঝে খেয়াল করলেই দেখবেন সারাদিন খিটমিটে মেজাজ ও ক্লান্তবোধ হচ্ছে। যদি সকালের নাস্তা না করে থাকেন তাহলে শরীরের এই অবস্থা নিয়ে একদমই ভাববেন না। কারণ নাস্তা না করার কারণেই আপনার শরীরের এই প্রতিক্রিয়া! যাদের এরকম নাস্তা না করার অভ্যাস রয়েছে তারা প্রতিনিয়তই কাজেরক্ষেত্রে অবসাদ অনুভব করে, খুব অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মেজাজটাও বিগড়ে থাকে।এভাবে সকালে নাস্তা না করার অভ্যাস গড়ে তুললে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায় এবং এর কর্মশক্তি কমে যেতে থাকে। তাই কাজের গতি বাড়াতে সকালের নাস্তা চাই-ই-চাই।

 

মনোযোগ বৃদ্ধি করা

 

“মন বসে না পড়ার টেবিলে”, “মন বসে না কাজে” এসব বাক্য অনেকের জন্যই প্রায়ই ভয়ংকরভাবে সত্যি হয়ে যায়।

ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে যায় কিন্তু কাজ শূন্য। আবার পড়তে বসলে ঠিকমত মনোযোগ না বসায় সময় পেরিয়ে গেলেও পড়া আত্মস্থ হয় না। এর অন্যতম একটি কারণ হতে পারে আপনার সকালের নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া। খাওয়া কম হলে  তা শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে যা মনের জন্যও ক্ষতিকর। তাই এভাবে পড়াশোনাও ভালোভাবে করা যায় না। তাই কাজে বা পড়াশুনায় মনোযোগ বাড়াতে আজ থেকে সকালের নাস্তাকে হ্যাঁ বলুন।

 

মাইগ্রেনের সমস্যা হ্রাস করে

 

মাইগ্রেনের ব্যথায় কাতর অবস্থা!  যাদের মাইগ্রেন আছে তারা খুব ভালোভাবেই বুঝবেন এর ব্যথা কতটা তীব্র। আর এই ব্যথা কমানোর জন্য নিয়মিত ঔষধ খেতে হয়। আর নিয়মিত ঔষধ খেতে খেতে একসময় শরীরে আবার সাইড এফেক্টের সমস্যাও দেখা দেয়। নানান ঝামেলা শুরু হয় তখন। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সবসময়ই ভালো। তাই নিয়মিত সকালের নাস্তা খাওয়া উচিত, যেন মাইগ্রেনের সমস্যা না হয়। তাই এরপর সকালে নাস্তা না খাওয়ার কারণে মাথা ব্যথা করলেই বুঝে নেবেন, পরবর্তীতে এরকম নিয়মিত নাস্তা না খেলে শীঘ্রই মাইগ্রেনের ব্যথা আপনাকে চেপে ধরবে।

 

পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রয়োজনে জোর করে কিছু খান, তাও সকালবেলা না খেয়ে থাকবেন না। কারণ সকাল থেকে শুরু হয় আমাদের কাজ। সকালের নাস্তা শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরী। সকালে স্বাস্থ্যকর নাস্তা আপনাকে পুরো দিন রাখবে সতেজ এবং তরতাজা। সকালের নাস্তা আমাদের দেহের পুরো দিনের এনার্জি ধরে রাখে। যদি সকালে কোন স্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া হয় তবে দিনের শুরুতেই আপনার দেহ একটি অপূর্ণতা দিয়ে শুরু করে। তাই আজ থেকে সকালের নাস্তাকে ‘হ্যাঁ’ বলুন। 

Continue Reading

fitness & nutrition

সুস্থ থাকতে চাইলে যে ১০টি অভ্যাস এখনই বদলানো উচিত

Published

on

সুস্থ থাকার গুরুত্ব কতখানি, তা কেবলমাত্র অসুস্থ হলেই বোঝা যায় শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকে না তাই শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য আপনাকেই সচেষ্ট হতে হবে দেহকে সুস্থ, সবল আর কর্মক্ষম রাখতে হলে আমাদের জীবনের কিছু বাজে অভ্যাসসমূহকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানাতে হবে

 

চলুন জেনে নেয়া যাক সুস্থ থাকতে চাইলে যে ১০টি অভ্যাস এখনই বদলানো উচিত:  

 

বাথরুমে বসে মোবাইল ব্যবহার করা 

 

বর্তমান সময়ে মোবাইল ছাড়া বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের এক মুহূর্তও চলে না। সারাক্ষণ  মোবাইলে গেমিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং চলতে থাকে। অনেকের আবার কমোডে বসে বসেই মোবাইল ঘাঁটার বাজে অভ্যাস আছে। কিন্তু জানেন কী এই বাজে অভ্যাস আপনার জন্য কত বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে?

 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস যতটা সম্ভব কম বাথরুমে নিয়ে যাওয়া উচিত কারণ আপনি যখনি কমোডে ফ্ল্যাশ করেন, বর্জ্য থেকে ছিটকে আসা পদার্থগুলি বায়ুর সাথে মিশে যায় যার মধ্যে জীবাণুও থাকে আপনি যদি আপনার মোবাইল ফোনটি বাথরুমে নিয়ে যান তাহলে বায়ুর সাথে মিশে থাকা জীবাণুগুলি আপনার ফোনের গায়ে লেগে যায় যা থেকে পরবর্তীতে মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে

 

সাবানের বার ব্যবহার করা

 

যে সাবান ব্যবহার করে আমরা জীবাণুমুক্ত হয়ে থাকি, সেই সাবানেই জীবাণু থাকতে পারে তা আমরা অনেকেই জানি না সাবান ব্যবহারের পর সাবানের উপরিভাগে যে পিচ্ছিল আবরন লেগে থাকে তার মাঝেও বাস করতে পারে ব্যাকটেরিয়া

 

সাবান অবশ্যই হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করে, তবে একই সাবান যদি একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করে থাকেন তখন সে সাবানে  জীবাণু থাকতে পারে বিশেষ করে পাবলিক টয়লেটেরক্ষেত্রে  

 

পাবলিক টয়লেটে রাখা সাবান আপনার আগে কতো মানুষ ব্যবহার  করে গেছেন, তাদের হাতে কতো ধরণের জীবাণু আছে তা কেউ জানে না যদি একান্তই পাবলিক টয়লেটের সাবানটি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে ব্যবহারের আগে সাবানটি ভালো করে পানিতে ধুয়ে নিন তাই বার সাবানের পরিবর্তে লিকুইড সাবান ব্যবহার করাই শ্রেয়।  

 

হাত মোছার তোয়ালে শেয়ারিং করা

 

“Sharing is caring” এই কথাটি বিবেচনা করে আপনি যদি আপনার তোয়ালে অন্য কারো সাথে শেয়ার করে থাকেন অথবা অন্য কারো ব্যবহৃত তোয়ালে আপনি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার এই অভ্যাসটি আজকেই পরিত্যাগ করুন কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক ব্যক্তি একই তোয়ালে ব্যবহার করলে সে তোয়ালেতে জীবাণুর পরিমাণ বেশি থাকে তাই পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য আলাদা আলাদা তোয়ালের ব্যবস্থা করুন এবং সপ্তাহে একবার আপনার ব্যবহৃত তোয়ালে ধুয়ে দিন

 

হাত ধুতে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করা

 

ব্রিটিশরা হাত ধুতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা তাদের শরীরের জন্য উপকারী আমাদের দেশে এই সংখ্যাটা খুবই কম চিকিৎসকরা বলেছেন, মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে সময় নিয়ে হাত ধোয়া অন্যতম একটি বিষয়

 

কিন্তু আপনি কী জানেন কত সময় ধরে হাত ধুলে আপনি থাকবেন সুরক্ষিত? হাত ধুতে সময় নিন নূন্যতম ২০-৩০ সেকেন্ড চিকিৎসকরা বলেছেন, পরিষ্কারভাবে হাত ধুতে অন্ততপক্ষে সময় লাগে ৩০ সেকেন্ড সুতরাং জীবাণুমুক্ত থাকতে হলে যেকোনো ব্যক্তির উচিত ৩০ সেকেন্ড সময় হাত ধুতে ব্যয় করা

 

হ্যান্ড ড্রায়ারের ব্যবহার

 

পাবলিক টয়লেট মানেই জীবাণুর ছড়াছড়ি এসব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে পাবলিক টয়লেটের হ্যান্ড ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন লন্ডনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনিস্টার সম্পাদিত গবেষণা অনুযায়ী, হ্যান্ড ড্রায়ার পেপার টাওয়ালের তুলনায় ১৯০ গুণ বেশি ভাইরাস ছড়ায়

 

কিন্তু যখন আপনি পেপার টাওয়াল দিয়ে হাত শুকাবেন, আপনার হাত দ্রুত শুকাবে ও আপনার হাতে ফ্রিকশন হবে যার ফলে ব্যাকটেরিয়া দূর হবে এবং হাত অধিকতর  পরিষ্কার হবে তাই হ্যান্ড ড্রায়ারের পরিবর্তে পেপার টাওয়াল ব্যবহার করুন এছাড়াও পাবলিক টয়লেটের কমোড, পানির ট্যাপ, দরজার হাতল ইত্যাদিতেও প্রচুর জীবাণু থাকে, এসব জিনিস ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বন করুন

 

কমোডের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্ল্যাশ করা

 

অনেকেই জানেন না যে, কমোডের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্ল্যাশ করা কতটা বিপদজ্জনক একটি টয়লেটের ফ্ল্যাশ, প্রায় দশ ফুট দূরে রাখা আপনার টুথব্রাশের ওপর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দিতে পারে তাই প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা নামিয়ে তারপর ফ্ল্যাশ করা উচিত

 

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাথরুমে রাখা টুথব্রাশে প্রচুর পরিমাণ জীবাণু পাওয়া যায় তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় যে, প্রতি মিনিটে কমোডের ফ্ল্যাশ থেকে মল মূত্রের জীবাণু নির্গত হতে থাকে এসব জীবাণু এসে বাসা বাঁধে বাথরুমে রাখা অন্যান্য জিনিসের উপরে তাই বাথরুম ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা বন্ধ করে ফ্ল্যাশ করুন

 

কলম মুখে দেয়া

 

আমাদের অনেকেরই কলম মুখে দেয়ার অভ্যাস আছে বিশেষ করে টেনশনে থাকাকালীন সময় মনের অজান্তেই হাতে থাকা কলমটি মুখে চলে যায়, সেইসাথে কলমের গায়ে লেগে থাকা জীবাণুও

 

আমরা অনেক সময় নোংরা জায়গায় কলম রেখে দেই, আবার অপরিষ্কার হাতে কলম ধরি, যার ফলে কলমে জীবাণু লেগে যায় আবার সেই জীবাণুযুক্ত কলম যদি আপনি মুখে দিয়ে থাকেন তাহলে আপনি বিপদের মধ্যে ফেলছেন নিজেকে

 

জন্মদিনের মোমবাতি নিভানো

 

আপনি নিশ্চয় চাইবেন না যে, আপনার জন্মদিনের কেকের উপর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ুক তাহলে কেকের উপর থাকা মোমবাতি ফু দিয়ে নিভানো থেকে বিরত থাকুন কারণ আপনি যখন মোমবাতিতে ফু দিবেন, তখন বাতাসের সাথে মুখের ভিতর থাকা জীবাণু ছড়িয়ে পড়বে যদিও এসব জীবাণু থেকে অসুস্থ হবার সম্ভাবনা খুবই সামান্য তারপরেও সুস্থ থাকতে হলে আমাদের এসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত

 

দাঁত দিয়ে যেকোনো জিনিসের ঢাকনা খোলা

 

আমরা অনেক সময় যেকোনো জিনিসের ঢাকনা বা বোতলের ছিপি খোলার জন্য দাঁতের ব্যবহার করে থাকি কিন্তু এর ফলে সে জিনিসের গায়ে লেগে থাকা জীবাণু আমাদের মুখের ভিতর চলে যায় এছাড়াও দাঁত দিয়ে শক্ত কিছু খোলার চেষ্টা করলে অনেক সময় দাঁত ভেঙ্গে যায়, ফেটে যায় ও ফাটল ধরে কমে যায় দাঁতের আয়ু

 

কম্পিউটার ডেস্কে বসে নাস্তা করা

 

আমরা অনেকেই কম্পিউটার ডেস্কে বসে খাওয়া দাওয়া করি, বিশেষ করে অফিসে থাকাকালীন সময় সম্প্রতি একদল মাইক্রোবায়োলজিস্ট গবেষণা চালান লন্ডনের অফিসগুলোতে সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় কীবোর্ডের নমুনা সেগুলো পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে কয়েকরকম পোকাসহ ই-কোলি এবং এস অ্যাউরিয়াস নামক দুটো ভয়ঙ্কর ব্যাকটেরিয়া যা চামড়ার উপর ক্ষত তৈরি করে মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে

 

বিজ্ঞানীরা কীবোর্ড এবং লন্ডনের একটি সাধারণ অফিসের বাথরুমের তুলনা করে দেখিয়েছেন যে, গবেষণায় ব্যবহৃত একটি  কীবোর্ডে বাথরুমের কমোডের চাইতে ৫ গুণ বেশি নোংরা এবং এর মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ সহনীয় মাত্রার ১৫০ গুণ বেশি

 

গবেষণায় এই জীবাণু দূষণের প্রথম কারণ হিসাবে বলা হয়েছে কম্পিউটার ডেস্কে বসে খাওয়া দাওয়া করাকে এতে বেশ কিছু খাদ্যকণা এবং পানীয় ফোঁটা কীবোর্ডের চাবিগুলোর ফাঁকে ঢুকে পরে যা পরবর্তীতে আর স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠে না ফলে এর সাথে বাতাসের আদ্রর্তা এবং ধুলো মিশে তৈরি হয় জীবাণু যা স্বাভাবিকভাবে খাবার সময় আমাদের হাতের মাধ্যমে পেটে ঢুকে পড়ে তাই কম্পিউটারের পাশে বসে পানাহারের অভ্যাস পরিত্যাগ  করুন।  

 

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল শরীর ঠিক তো সব ঠিক তাই উপরোক্ত অভ্যাসগুলি পরিত্যাগ করুন এবং সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করুন

 

আরও পড়ুনঃ নিয়মিত কম ঘুম হবার প্রভাব

Continue Reading

Trending