984 Views

সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে কি করেন? মোবাইল হাতে নিয়ে মেসেজ চেক করেন? নাকি ধোঁয়া ওঠা এককাপ গরম চা দিয়ে শুরু হয় আপনার সকাল? নাকি উঠেই বেরিয়ে পড়েন জগিং করতে? দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীর ও মনের কর্মক্ষমতা অনেকটাই বেশি থাকে। আর আপনি যদি এই ক্ষমতা সারা দিনের জন্য স্টক করে রাখতে চান তাহলে মর্নিং রুটিনের কোনো বিকল্প নেই। নিয়ম করে রোজ সকাল বেলা নির্দিষ্ট কিছু কাজ করুন। আপনার ব্যক্তিগত মর্নিং রুটিনের পিছনে খুব বেশি হলে এক ঘণ্টা করে সময় দিন। আর এটাই একটা Perfect Day পাওয়ার মূলমন্ত্র।

 

মর্নিং রুটিন খুবই প্রয়োজনীয়, কিন্তু কেন?

 

দেখুন, এখানে কিন্তু আপনার সারা দিনের রুটিনের কথা বলা হচ্ছে না। শুধুমাত্র মর্নিং রুটিন অর্থাৎ সকালবেলার রুটিনের কথাই বলা হচ্ছে। যদি আপনার অভ্যাস থাকে দৈনন্দিন সব কাজই রুটিন মাফিক করার, তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু সেটা যদি সম্ভব নাও হয়, অন্ততপক্ষে মর্নিং রুটিন অনুসরণ করার অভ্যাস আজই গড়ে তুলুন। সকালবেলার অগোছালো ভাব যেন আপনার দৈনন্দিন কাজের দৈন্যদশার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। মর্নিং রুটিন আপনাকে আরো সফল, আরো মৌলিক করে তোলে। ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করে কাজে যাওয়া মানুষের চেয়ে একটা নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী কাজে বেড়ানো মানুষগুলি কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি সফল।

 

মর্নিং রুটিনের পেছনের সাইকোলজি

 

মর্নিং রুটিন আপনার সকালবেলার পাশাপাশি পুরো দিনটাকে গুছিয়ে আনতে সাহায্য করে। গতকালকের অপ্রাপ্তি ভুলিয়ে আজকের ব্যস্ত দিনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য যে মানসিক শক্তি দরকার তার জন্য মর্নিং রুটিন একটা আদর্শ উপায়। সকালবেলার প্রার্থনা, সকালবেলার ব্যায়াম এমনকি সকালবেলা চা এই সবকিছুই একটু অন্যরকম। সফল মানুষদের দিনলিপি ঘেটে তাদের যেসব কাজে মিল পাওয়া যায় মর্নিং রুটিন তার মধ্যে অন্যতম। সারা দিনের ব্যস্ততার অজুহাতে মর্নিং রুটিন এড়িয়ে যাবার মত বোকামি করবেন না। বরং যে যত ব্যস্ত, মর্নিং রুটিনের প্রয়োজনীয়তা তার তত বেশি।

 

নিজের মর্নিং রুটিন নিজেই তৈরি করুন

 

মর্নিং রুটিন স্কুলের রুটিনের মতো ছক বাঁধা কোনো রুটিন নয়। আমাদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা,ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রুটিন। তাই মর্নিং রুটিনও পছন্দ অনুযায়ী সবার আলাদা আলাদা হওয়া উচিত। যেভাবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেভাবেই নিজের রুটিন ঠিক করে নিন। কোনো নির্দিষ্ট কাজ আপনার করতে ভাল লাগলে তবেই সেটা মর্নিং রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন, অন্য কেউ করছে বলে যে আপনাকেও সেই কাজটাই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। একটা সুন্দর পরিচ্ছন্ন সকাল থেকেই একটা সফল পরিতৃপ্ত দিনের সূচনা হয়। তাই ভেবেচিন্তে নিজেই নিজের মর্নিং রুটিন বানিয়ে নিন।

 

একটি আদর্শ মর্নিং রুটিন

 

যদি আপনি মর্নিং রুটিনে অভ্যস্ত না হন, তাহলে আজ থেকেই শুরু করুন। নিচের তালিকা থেকে পছন্দসই ৩/৪ টা কাজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত করুন। আবারো বলছি, মাত্র ৩/৪ টা। অল্প অল্প করে শুরু করুন, অভ্যাস হয়ে গেলে পরে এর সাথে আরো  কিছু কাজ যোগ করে নেয়া যাবে। কিন্তু অল্প অল্প করে শুরু করাই ভাল-

 

১. “Early to bed and early to rise makes a man healthy, wealthy and wise” – Ben Franklin

 

সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠুন, সকালবেলার আলো হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। তাছাড়া এর ফলে দিনের সব কাজকর্ম ঠিকভাবে করার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

 

২. উঠেই এক গ্লাস পানি খান। খালি পেটে পানি খাওয়ার ফলে আপনার দেহের বিপাকক্রিয়া শতকরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দিনভর আপনার শরীর হাইড্রেটেড থাকে, শরীরের জন্য ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ত্বক ও চুলের কমনীয়তা বজায় থাকে।

 

৩. নিজের বিছানা নিজেই গুছিয়ে রাখুন। এটা আপনার ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্যও এটা একটা ভাল অভ্যাস।

 

৪. দশ থেকে পনের মিনিট ব্যায়াম করুন, অন্তত হাঁটাহাঁটি করুন। এর ফলে দেহের বিপাকীয় কার্যাবলি বেড়ে যায়, মাংসপেশি সচল হয়। শরীরের ফ্যাট কমানোর জন্য এবং মানসিক স্ট্রেস দূর করার জন্য সকালবেলার ব্যায়াম খুবই কার্যকরী। এক্ষেত্রে আপনি হালকা যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনও করতে পারেন।

 

৫. ভাল করে হাত মুখ ধুয়ে নিন, পারলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল সেরে নিন। এতে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।

 

৬. মোটামুটি ভারী নাস্তা করে নিন, সকালবেলার খাবার দুপুর বা রাতের খাবারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকালবেলার তাড়াহুড়োয় অনেকেই নাস্তা না করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কর্মব্যস্ত দিনের জ্বালানি যোগাতে সকালবেলার নাস্তার কোনো বিকল্প নেই।

 

৭. সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা করে নিন, দরকার পড়লে ডায়েরীতে লিখে নিন। আগে থেকে প্ল্যান করা থাকলে যেকোনো কাজ করা অনেকগুণ সহজ হয়ে যায়। কাজে সফলতার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

 

৮. কাজে যাওয়ার জন্য সঠিক আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করুন। এমনকি যদি আপনার ঘরই আপনার কাজের জায়গা হয় তারপরো ভাল জামাকাপড় পড়ে কাজে বসুন। এতে মনও ফ্রেশ থাকে, কাজকর্মেও গতি আসে।

 

একটি সতেজ, প্রাণবন্ত, পরিকল্পিত সকালবেলা আপনার পুরো দিনটাকেই বদলে দিতে পারে। আর এর জন্য আপনার দরকার একটি সঠিক মর্নিং রুটিন। মানসিক এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই মর্নিং রুটিন আপনাকে প্রস্তুত করে তোলে। তাহলে আর দেরি না করে আজই নিজের মর্নিং রুটিন তৈরি করে নিন আর নতুনভাবে দিনটা শুরু করুন।