1703 Views

মানুষের সবচেয়ে বাজে অভ্যাস হচ্ছে বড় কাজ পাশ কাটিয়ে সহজ কাজ দিয়ে দিনের শুরুটা করা। এতে করে পরবর্তী সময় আর সেই কাজটা করাই হয়ে উঠে না। হাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকলেও এখন না ৫ মিনিট পরে, তারপর আরো ৫ মিনিট পরে করতে করতে সময় পার করে দেই। কাজের কাজ কিছুই হয় না। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে কি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে? কখনোই না! এ ব্যাপারটাকেই কাজে Procrastination বা গড়িমসি করা বলে। গড়িমসি থেকে বেরিয়ে এসে কর্মক্ষমতা বাড়াতে হলে, আলসেমিকে চিরতরে ডিলিট করতে হবে। কোন কোন উপায়ে এই কাজটি সহজভাবে করা যায়, তা Brian Tracy লিখেছেন তাঁর বিখ্যাত বইEat That Frog’– এ। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো কী কী!

 

কঠিন কাজটি দিনের শুরুতেই সেরে ফেলুন

 

মনে করুন, প্রতিদিন আস্ত একটা ব্যাঙ আপনাকে খেতে হবে। খেতেই হবে, কোন উপায় নেই! তাহলে এই কাজটা আপনি দিনের কোন সময়টাতে করবেন? আপনি হয়তো ভাবছেন, ইশ! ব্যাঙ খেতে বলা হয়েছে, এইটা আবার খাওয়া যায় নাকি! ভয় পাবার কিছু নেই, এখানে ব্যাঙ খাওয়া মানে বোঝানো হয়েছে কঠিন কাজকে।

 

Brian Tracy এর মতে, ব্যাঙ খাওয়া বা সবচেয়ে কঠিন কাজটি দিনের শুরুতেই করে ফেলা উচিত। কেননা দিনের শুরুতেই আমাদের এনার্জি লেভেল যখন সর্বোচ্চ থাকে, তাই তখন কাজটা করা আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ হয়। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন কাজটি করুন। পর্যায়ক্রমে সহজ এবং সহজতর। দিনের শুরুতেই কঠিন কাজটি সেরে ফেলতে পারলে আপনি থাকবেন টেনশনমুক্ত এবং পরের কাজগুলো করা সহজ হবে। সহজ কাজগুলো আগে করে ফেললে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। কঠিন কাজ করা আরো কঠিন হয়ে উঠবে।

 

“Everyone procrastinates. The difference between high performers and low performers is largely determined by what they choose to procrastinate on.”Brian Tracy

 

কাজের তালিকা লেখার অভ্যাস করুন

 

আপনি যদি না জানেন কোন কাজের পর কোন কাজ আপনাকে করতে হবে, তাহলে কিন্তু মহা মুশকিল! আমরা বাঙালিরা কিছু পারি আর না পারি, ভুলে যেতে বেশ ওস্তাদ। এই ভুলে যাওয়ার রোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন কী কী কাজ করবেন, তা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখার অভ্যাস করুন। ডায়েরি না থাকলে হাতে তো স্মার্টফোন আছেই! প্লে-লিস্ট থেকে To-Do-List অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন, মনে রাখা অনেকটাই সহজ হবে। প্রতিদিন সকালে অফিসে বা ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় যাত্রাপথে সেই তালিকা দেখে কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী লিস্ট করে নিতে পারেন। এভাবে গুছিয়ে চললে একসাথে অনেকগুলো কাজ থাকলেও সময়মতো তা শেষ করা সম্ভব হয়। 

 

পরবর্তী দিনের কর্মতালিকা তৈরি করুন

 

আমরা যখন পরীক্ষার হলে প্রশ্ন উত্তর লিখি তখন কি করি, প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো যেই উত্তরটি পারি সেটাই আগে লিখি ঠিক একইভাবে দিনের অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তালিকার শুরুতে রাখুন।

 

একজন সফল মানুষ সবসময় পরবর্তী দিনের কর্মতালিকা প্রস্তুত রাখেন। এই তালিকা তিনি দিনভর যুক্ত হওয়া নতুন নতুন কাজ নোট করে বা দিনের কাজ শেষ করার আগ মুহুর্তে তৈরি করে নেন। তারপর রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত যদি আরো কিছু মনে পড়ে তবে সেটাও তালিকায় যুক্ত করে নেন। এভাবে আলাদা করে সময় না ব্যয় করেও পরবর্তী দিনের চমৎকার কর্মতালিকা প্রস্তুত হয়ে যায়। শুধু পরবর্তী দিনের কর্মতালিকা প্রস্তুত করলেই হবে না। সেসব কাজগুলোর থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে কোনটা আগে করবেন আর কোনটা পরে। একটা করে কাজ শেষ হলে তা শিট থেকে কেটে দিতে হবে, এতে করে আপনি মানসিক প্রশান্তি লাভ করবেন।

 

‘না’ বলতে শিখুন

 

‘না’  বলতে পারাটা অনেক বড় একটা গুণ। অনেক সময়ই আমরা ‘না’ বলতে পারি না বলে, অনুরোধের ঢেঁকি গিলে নিজেরাই ফেঁসে যাই। আমরা মনে করি অপর পাশের মানুষটিকে  ‘না’ বললে সে না জানি কি মনে করবে। ধরুন, আগামীকাল আপনার একটা মিড আছে বা একটা অ্যাসাইনমেন্টের ডেডলাইন আছে কিন্তু এরমধ্যেই আপনার বন্ধু ফোন দিয়ে বললো দোস্ত, চল একটু ঘুরে আসি!- এমন সময় কী করবেন? সব বাদ দিয়ে বন্ধুর সাথে যাবেন নাকি আপনার কাজগুলো করবেন? অবশ্যই আপনার কাজগুলো আগে শেষ করবেন। অনেক সময় আমরা ভেবে নিই বন্ধু কি মনে করবে না গেলে, সেক্ষেত্রে ভালোভাবে বন্ধুকে বুঝিয়ে বলুন। জীবনে ‘না’ বলতে শেখাটা অনেক বেশি জরুরী, সবাইকে খুশি করে চলতে আপনি পারবেন না। সবাইকে খুশি করে চলতে গেলে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে ক্ষতি হবেই। তাই কারো অনুরোধ রাখতে না পারলে সরাসরি সুন্দর করে ‘না’ বলে দিন।

 

সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে শিখুন

 

সফল আর অসফল ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য একটাই, সময়ের সঠিক ব্যবহার। Oprah Winfrey, Bill Gates, Elon Mask, Warren Buffett– এর মতো সফল ব্যক্তিরা এসব নিয়ম মেনে চলেন। সুতরাং সফল হওয়ার অন্যতম সূত্র, সময়ের সঠিক ব্যবহার। একটি দিনে মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময়ে হাজারও বিষয় আছে কাজ করার জন্য। আইনস্টাইনের জন্যেও কিন্তু এই চব্বিশ ঘন্টার চেয়ে বেশি সময় ছিলো না। সঠিকভাবে সময়ের ব্যবহারই হতে পারে সফলতার মূল চাবিকাঠি। বিজনেস ইনসাইডারে একটি নিবন্ধে ব্রায়ান ডি. ইভান্স সময়ের সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বলেছেন। লক্ষ্য ছাড়া সময়ের সঠিক ব্যবহার কিংবা সফলতাকে ধরা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘‘২৫ টি লক্ষ্যের একটি তালিকা তৈরি করুন। সেখান থেকে ২০ টি লক্ষ্য বাদ দিয়ে ৫ টিকে গুরুত্ব দিন। এভাবেই সফল হয়েছেন ওয়ারেন বাফেট।” ইভান্স আরও লিখেছেন, ‘‘ সময়ের সঠিক ব্যবহারে প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করতে হবে। কারণ মানুষের  চেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি সহজ।” কোথায় কতোটুকু সময় ব্যয় হচ্ছে সেটা খেয়াল করুন এবং সেই অনুযায়ী কাজের তালিকা তৈরি করে রাখুন। এতে করে আপনার সময় আর অযথা ব্যয় হবে না।

 

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপরের এই পাঁচটি ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করলে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে, তেমনি বিদ্যুতের গতিতে বাড়বে আপনার প্রোডাক্টিভিটি! তাই আর বসে না থেকে আজ থেকেই নিজের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিন প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর এই ধাপগুলো অনুসরণ করার! 

Shanjana Rahman

Currently studying Sociology at jagannath university .I am a big fan of thriller movies and books . A Believer in Miracles . Never Stop believing .

More Posts

Follow Me:
facebook LinkedIn twitter