Connect with us

Motivational

জীবনে সুখে থাকাটা খুব বেশী প্রয়োজন

Published

on

সুখী হতে আমরা কে না চাই?

কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন বলা হয় যে, মানুষ আসলে কখনোই পুরোপুরি সুখী হতে পারে না। কথাটা আংশিক সত্য বটে, তবে পুরোপুরি কি?

 

কিছু ঘটনায় মানুষের হাত থাকে না। মানুষ তার নিজের জীবনের শতভাগ ঘটনা নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না একথা সত্য। নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ থাকে না বলে সব ঘটনায় সুখী হওয়াও সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরেও কিছু ব্যাপার থেকে যায় যেগুলো আমি-আপনি, আমরা যার যার জীবনে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

 

আর এগুলো আমাদের জীবনকে অনেকাংশেই সুখী করে তোলে। এই ব্যাপারগুলোকে আমরা কখনোই আলাদা করে তেমন একটা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু, যখন এগুলো না থাকে তখন আমরা ঠিকই বুঝতে পারি, এগুলো আমাদের জীবনে কত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। চলুন দেখে নেই এমনই কিছু বিষয় যেগুলো আমাদের জীবনকে সুখী করে তুলতে পারে:

 

একটি পরিবার/ জীবনসঙ্গী:

 

সুখী একটি জীবন গড়তে চাইলে পরিবার বা জীবনসঙ্গী বেছে নেয়ার কোন বিকল্প নেই। সারাদিন আমরা কর্মক্ষেত্রে বা বাইরের জগতে যতকিছুই অর্জন করি না কেন, দিনশেষে আমরা ফিরে আসি ঘরে, এটাই মানুষের প্রবৃত্তি। মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধি, হাসি-কান্না, গ্লানি ইত্যাদি ভাগ করে নেয়ার জন্যে তার নিজস্ব মানুষের দরকার হয়। বন্ধুবান্ধব কিংবা সহকর্মী মহলে আপনি যতই জনপ্রিয় কিংবা আড্ডাপ্রিয় হোন না কেন, একান্ত নিজস্ব ব্যাপারগুলো শেয়ার করার জন্য কিন্তু আপনার প্রথম প্রয়োজন আপনার পরিবার।

 

তাছাড়া আপনার পরিবারই আপনাকে সবচেয়ে ভালো বোঝেন, যেকোন সংকটে আপনাকে সবচেয়ে ভালো সাজেশন দিতে পারেন। আর এজন্যই একজন মানুষের জীবনকে সুখী করতে কিন্তু একজন যোগ্য জীবনসঙ্গী দরকার, দরকার নিজস্ব পরিবার।

 

 

মনের মত কর্মক্ষেত্র:

 

চব্বিশ ঘণ্টার দিনের একটা বড় অংশ কিন্তু আমরা কাটাই আমাদের কর্মক্ষেত্রে। জীবিকা অর্জন বলুন আর জীবনে বেঁচে থাকার কারণ বলুন, তার সিংহভাগ কিন্তু আসে এই কর্মক্ষেত্র থেকেই। আর তাই আপনার কাজের জায়গাটি আপনার মনমতো হওয়া প্রয়োজন।

যেকোন ক্যারিয়ার বেছে নেয়ার আগে সেই ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলো সম্পর্কে জানা ভালো। সে যোগ্যতাগুলো আপনার আছে কিনা, না থাকলে অর্জন করে নিতে পারবেন কিনা এবং সে ধরণের কাজ করতে আপনার ভালো লাগে কিনা এগুলো কাজে ঢোকার আগেই যাচাই করে নিন। এছাড়া নিজের কাজের জায়গায় সহকর্মী কিংবা বসের সাথেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন। কারণ দিনের একটা বড় সময় যেখকানে কাটাবেন সেখানে অশান্তি থাকলে আপনার সুখী জীবনের বারোটা বাজবেই!

 

 

কিছু ভালো বন্ধু:

 

পরিবার এবং কাজের জায়গা ছাড়াও প্রতিটি মানুষের জীবনে কিন্তু বন্ধুদের জন্যে আলাদা জায়গা থাকা প্রয়োজন। পরিবার এবং কাজের ক্ষেত্রে আপনি অনেকটা সমমনা কিংবা কাছাকাছি চিন্তার মানুষের সাথে মেলামেশা করেন। কিন্তু আপনার বন্ধুরা বিচিত্র চিন্তাভাবনা বা পরিবেশের হতে পারেন, যা আপনাকে আরো সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করবে। তাছাড়া, জীবনে তো আনন্দ-উপভোগেরও দরকার আছে! কাজে-প্রয়োজনে, বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসবে আপনার বন্ধুরাই। তাই নিজের ভালো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন, কারণ বন্ধু ছাড়া লাইফ ইম্পসিবল!

 

নিজস্ব কোন শখ বা আবেগ:

 

জীবনের সব কাজ কিন্তু আমরা আর্থিক দিক বিবেচনায় করি না। সুখ তো শুধু টাকা দিয়ে আসে না! সুখী হতে হলে আরো যা প্রয়োজন তা হল মানসিক তৃপ্তি। আর এই মানসিক তৃপ্তি পেতেই প্রয়োজন একেবারে নিজের কোন শখ। শখ যে সেই বইয়ে পড়া বাগান করা কিংবা ডাকটিকেট সংগ্রহ করাই হতে হবে, তা কিন্তু নয়। শখ হতে পারে এমন যেকোন কাজ যা আপনার করতে ভালো লাগে। তা হতে পারে ঘুরে বেড়ানো কিংবা মানুষকে সাহায্য করা অথবা স্রেফ মুভি দেখা। শখ যেটিই হোক না কেন, রুটিনের একটা নির্দিষ্ট সময় সেই শখটির জন্যে বরাদ্দ রাখুন। শখ পূরণ আপনার মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং দুঃশ্চিন্তা দূর করবে এবং আপনি একটি প্রফুল্ল জীবন পাবেন।

 

 

ভালো ঘুম:

 

শুনে হাসি পেলেও একটা সত্যি কথা হলো, সুখী হতে ভালো ঘুমের বিকল্প নেই কোন। ঘুমের অভাব আপনার মেজাজকে খিটখিটে করে তোলে, সৃজনশীলতা এবং কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সারাদিন অন্যের সাথে খিট্মিট করে নিশ্চয়ই আপনি সুখী হতে পারবেন না! শুধু ঘুমের অভাব নয়, অতিরিক্ত ঘুমেও আপনার এমন সমস্যা হতে পারে। তাই ঘুম হোক পরিমিত এবং নিয়মিত!

 

 

রোমাঞ্চকর স্থানে ঘুরতে যাওয়া:

 

ঘোরাঘুরি করতে সবারই কমবেশি ভালোলাগে। কিন্তু রোমাঞ্চকর জায়গার ঘুরতে যাবার উপরি পাওনা হচ্ছে আপনি জীবনটাকে আরো বেশি ভালোবাসতে শিখবেন। যে মানুষ বিপদকে যত কাছ থেকে দেখে সেই মানুষ জীবনকে তত বেশি ভালোবাসে এবং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা তার বেড়ে যায়। এছাড়া অ্যাডভেঞ্চার আপনাকে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়তে শেখায়, বাধা অতিক্রমের সুখ দেয়। তাই ৫ টি জায়গায় ঘুরতে গেলে তার মধ্যে অন্তত দু’টি রোমাঞ্চকর স্থান তালিকায় রাখতেই পারেন।

 

প্রয়োজন মেটানোর জন্যে “যথেষ্ট” উপার্জন:

 

লক্ষ্য করুন, আমি যথেষ্ট কথাটির ওপর জোর দিয়েছি। জীবনের তিক্ত সত্যের মধ্যে একটি হল, আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলে মনে সুখ থাকা কঠিন। তাই জীবনধারণ বা শখ পূরণের জন্যে যথেষ্ট পরিমাণে আয় করা কিন্তু অবশ্যই দরকার। তাই বলে “আরো চাই, আরো চাই” এর মত খাই-খাই স্বভাব কিন্তু আপনাকে কখনোই সুখে রাখবে না।

 

সেরকম হলে আপনি শুধু একটি টাকা উপার্জনের মেশিন হবেন, জীবনকে উপভোগ করতে পারবেন না এবং শেষ বয়সে গিয়ে আফসোস করতেই হবে। তাই উপার্জনকে যথেষ্ট রাখুন, এর কম বা বেশি নয়। ইংরেজিতে একটি বিখ্যাত কথা হচ্ছে, The wisest person is he who knows when to stop.

 

 

জীবনের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য:

 

ছোটবেলায় রচনা বইয়ে অনেকবার পড়েও যে কথাটিকে আমরা আমাদের জীবনে খুব একটা কাজে লাগাই না তা হলো, “লক্ষ্যবিহীন জীবন হালবিহীন নৌকার মতন”। জীবনে সুখী হতে হলে আপনাকে জানতে হবে জীবনের কাছ থেকে আপনি কী চান। নিজস্ব একটা লক্ষ্য থাকলেই আপনার পক্ষে সেটা অর্জনের জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।

 

অনুশীলন/শারীরিক ব্যায়াম:

 

ব্যায়াম শুধু আপনার শারীরিক ফিটনেসের জন্যেই না, আপনার মানসিক সুস্থতা ধরে রাখার জন্যেও জরুরি। আমরা যখন ব্যায়াম করি তখন আমাদের শরীরে এন্ডোরফিন নামের একটা হরমোন ক্ষরণ হয় এবং এই হরমোন আমাদের অবসাদ, ক্লান্তি ও বিষণ্ণতা দূর করে আত্মবিশ্বাস, স্মরণশক্তি এবং কাজ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় অনেকাংশে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, কেন সুখী হতে হলে ব্যায়াম জরুরি!

 

 

ভালো খাবার:

 

ভালো খাবার বলতে আমি কেবল বিরিয়ানী-পোলাও-কোর্মা বা চাইনিজের কথা বলছি না। ভালো খাবার মানে নিজের শারীরিক চাহিদা মেনে সুষম খাবার। আপনার ডায়েট চার্টে প্রচুর শাকসবজি, ফল এবং ফ্রেশ খাবার রাখুন। এছাড়া রাখুন পর্যাপ্ত পরিমানে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট। ভালো খাবার আপনার শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি মানসিক উন্নয়নেও সাহায্য করে। বয়স বেড়ে গেলে নিয়ম মেনে খাবেন, এমন না ভেবে আগে থেকেই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার মেন্যু অনুসরণ করুন।

 

ইতিবাচক চিন্তা:

 

আপনি যত বেশি নেতিবাচক চিন্তাকে আপনার মনে স্থান দেবেন, আপনার ব্রেইন ততই নিজেকে অসুখী ভাবতে চেষ্টা করবে। অর্ধেক খালি গ্লাসকে অর্ধেক ভরা দেখার অভ্যাস করুন। কিছু বিষয়ের উপর আমাদের হাত থাকে না, সেগুলোকে পজিটিভ ভাবে দেখার চেষ্টা করুন। যে সমস্যাটি আপনার জীবনকে অতিষ্ট করে তুলছে সেটি সমাধানে একটু ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনের চেষ্টা করুন। মনে রাখা ভালো, আপনার জীবনে সুখী হওয়াটা নির্ভর করছে আপনি কীভাবে একটি সমস্যাকে সামলাচ্ছেন তার ওপর। রিয়্যাকটিভ না হয়ে প্রো-অ্যাকটিভ হোন। আপনাকে দিয়ে হবে না, আপনি পারবেন না, এধরণের চিন্তা মাথায় এলেই নিজেকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিন।

 

 

বর্তমানে বাস করুন:

 

আপনি যদি হতাশ হয়ে থাকেন, তার মানে আপনি অতীতে বাস করছেন। আপনি যদি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে থাকেন তার মানে আপনি ভবিষ্যতে বাস করছেন। অতীত কিংবা ভবিষ্যতে নয়, বাস করুন বর্তমানে। আপনার সামনে এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি আছে সেটিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন, বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগের চেষ্টা করুন। অতীতকে আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না, তাই অতীতকে ভেবে আপনার বর্তমান কেন নষ্ট করবেন?

 

তাছাড়া আজকের দিনটা আগামীকালই “গতকাল” হয়ে যাবে, চেষ্টা করুন যাতে আপনি আজকের দিনটিকে একটি সুখকর অতীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। একটি একটি দিন করে বাঁচুন, সুখের পিছুতাড়া করতে হবে না আর।

 

স্মৃতি:

 

ছেলেবেলার মজার গল্প করতে করতে হেসে কুটোপাটি হন না এখনো? কিংবা অতীতের মজার স্মৃতিগুলো কি এখনো ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি এনে দেয় না? স্মৃতিরা এভাবেই আমাদের কে হাসতে, সুখী হতে সাহায্য করে। তাই, সময় পেলে স্মৃতিচারণ করুন, পুরোনো দিনের দিকে ফিরে তাকান। জীবনকে ভালোবাসতে পারবেন।

 

কোন কিছুই আপনাকে সুখী হওয়ার পুরো নিশ্চয়তা দিতে পারেনা। জীবনের প্রতি আপনার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আর এই ছোট ছোট ব্যাপার গুলো, সুখী হতে এইই যথেষ্ট! Walt Disney তো বলেই গিয়েছেন, Happiness is a state of mind. It’s just according to the way you look at things.

 

How to get a Happy Life

জীবনে সুখে থাকাটা খুব বেশী প্রয়োজন। আর এই সুখকে খুজতে খুজতেই আমরা সারাটা জীবন পার করে ফেলি। কিন্তু প্রকৃত সুখী যারা তারা কিন্তু খুব জটিলতায় নিজের জীবনটা পার করেনা। দেখুন না কি করলে আপনিও একটি সুখী সুন্দর জীবন পেতে পারেন।

Posted by SpikeStory on Friday, 12 August 2016

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

একাকীত্ব দূর করার ১০টি উপায়

Published

on

আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫টি সিগারেট খেলে শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় একাকীত্বের কারণেও শারীরিকভাবে ঠিক একই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এবার বুঝুন একাকীত্ব কতোটা মারাত্নক আমাদের শরীরের জন্য। আপনি যতো বেশি একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিবেন এটি ততো বেশি গ্রাস করতে থাকবে আপনাকে। ধীরে ধীরে এটা আপনাকে এতোটাই অসুস্থ করে তুলবে যে, এক পর্যায় গিয়ে আপনার সুইসাইড করার মন-মানসিকতার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু অসহ্য মনে হবে আপনার কাছে।

 

“Loneliness does not mean that there is no one beside you. Loneliness means that everyone is beside you, but the one you want beside you is not with you” -Humayun Ahmed

 

আপনি যদি একাকীত্ব সমস্যায় ভুগেন তাহলে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি কিছু টিপস মেনে চললে খুব সহজে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই আজকে আমি আলোচনা করবো এমন ১০টি টিপস নিয়ে, যা আপনাকে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

 

একাকীত্বের কারণ চিহ্নিত করুন

প্রথমে খানিকটা সময় নিয়ে চিন্তা করুন কেন আপনি প্রায় একাকীত্ববোধ করেন? ধরুন, আপনার উত্তর যদি হয় আপনার যথেষ্ট বন্ধু নেই তাই আপনি একাকীত্ববোধ করেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাঝে মাঝে ফ্রি সময়গুলো অসহায় শিশুদের সাথে কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাদেরকে কিছু উপহার দিন।

 

মেডিটেশন

আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার সকল হতাশা, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো, ‘টেনশন মুক্তি’। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না এবং শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ, যেমনঃ মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

“The more regularly and the more deeply you meditate, the sooner you will find yourself acting always from a center of peace.” J. Donald Walters

 

ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন

আপনি যখনই একা থাকবেন তখন আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। আপনি চিন্তা করতে পারেন কোন কাজটি আমার জন্য ভালো হতে পারে, চাকরি নাকি বিজনেস? কী করলে আমার ভালো হবে, ব্যাংকে চাকরি নাকি সরকারী চাকরি? আপনি যখন আপনার একাকীত্বের সময় এই সকল প্রশ্ন আপনার মনকে করবেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই আপনার একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসবেন। নিজেকে আর একা মনে হবে না এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি বেশ কিছু ভালো চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটবে। তাই নিজের একাকীত্ব দূর করতে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করুন।

 

বই পড়ার অভ্যাস

এটা আমরা সবাই জানি, বই পড়ার অভ্যাস পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন তখনই এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। তাই এরপর থেকে আপনি আপনার অবসর সময়ে বই পড়ে কাটাতে পারেন এবং নিজের একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। আপনি যখন উপন্যাসের চরিত্রগুলো পড়বেন তখন খারাপ সময়ে তারা নানা রকম অসুবিধাগুলো কীভাবে জয় করলো তা কল্পনায় উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মতো করে আপনিও আপনার খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

 

“The reading of all good books is like a conversation with the finest (people) of the past centuries.” – Descartes 

 

পছন্দের কিছু করা

আমাদের প্রত্যেকরই কিছুনা কিছু গুণ এবং ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা একা সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’লাইন কবিতা, এঁকে ফেলেন অসাধারণ একটি ছবি। নিজের একাকীত্বের সময় আপনি আপনার পছন্দের কাজটি করার মাধ্যেমেই এই একাকীত্বকে দূর করতে পারেন। আমরা যখন একা থাকবো তখন আমরা যদি আমাদের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দেই, তখন আমাদের একাকীত্ব জানালা দিয়ে পালাবে এবং নিজেকে আরো উৎফুল্ল মনে হবে।

 

বাস্তবতা নিয়ে ভাবা

আজ আপনার বন্ধুরা যেভাবে আপনার পাশে আছে তারা সময়ের তাগিদে ভবিষ্যতে আপনার পাশে এইভাবে নাও থাকতে পারে। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছেন তা সুদূর ভবিষ্যতে নাও পেতে পারেন। তাই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন। আপনি যতো মানুষের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তার অনুপস্থিতিতে আপনার একাকীত্বতা ততোগুণ বেশি হবে। এজন্য আপনি যতো বাস্তবমুখী চিন্তা করবেন, আপনার একাকীত্ব ততোটাই কমে আসবে।

 

“Life is not a problem to be solved
But a reality to be experienced.” -Søren Kierkegaard

 

প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান

এই পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে কাছের যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো, আপনার মা-বাবা। তাই যখনই একা অনুভব করবেন, তখন আপনি আপনার মা-বাবার সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে থেকেও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারেন।

 

সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ

আপনি আপনার ফ্রি সময় সমাজসেবামূলক কাজ করে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি সমাজ ও দেশের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিতি লাভ করবেন। আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং দিনশেষে আপনি আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারবেন।

 

“The happiest people I know are those who lose themselves in the service of others.” -Gordon B. Hinckley

 

নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে বদলানোর জন্য যদি পৃথিবীতে সহজ কোনো উপায় থাকে সেটি হচ্ছে, প্রতিদিন রাতে ১৫ মিনিট নিজের সাথে কথা বলুন। সারাদিন কী কী ভুল করেছেন সেগুলো মনে করুন এবং এগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে একই ভুল নাহ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। এভাবে আপনি আপনার ভিতর নতুন একজনকে আবিষ্কার করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের অবচেতন মন কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। তাই ঘুমানোর আগে ভালো ভাবুন এবং সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

সবশেষে যে কথাটি বলে শেষ করবো তা হলো, একাকীত্ব কোনো খারাপ বিষয় নয়। আপনি যখনই একা সময় কাটাচ্ছেন তখনই ভিন্ন কিছু করার জন্য সময় পাচ্ছেন। তাই নিজের সাথে যতোটা পারেন সময় কাটান, কিন্তু বিষণ্ণতায় ভুগবেন না। আপনি যখনই বিষণ্ণতায় ভুগবেন ঠিক তখনই আপনি একাকীত্বের ভেতর চলে যাবেন। তাই নিজের একাকীত্বকে কাজে লাগান।

 

“Walking with a friend in the darkness is better than walking alone in the light”– Helen Keller

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Motivational

সফল হতে এড়াতেই হবে যে বিষয়গুলো

Published

on

সফল হবার সুপ্ত ইচ্ছা আমাদের সকলের মাঝে আছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনেক কিছু এমন কিছু করে ফেলি যা আমাদের সফলতার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু সফলতা অর্জনের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সফলতা শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়ত ঠিকমত দু’বেলা খেতে পেয়ে সফল, কারো মতে দু-চারটি গাড়ি কিনে সে সফল।

সফলতার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জন ক্ষেত্রে একেক রকম হলেও, কিছু বিষয় যা আমাদের সফল হবার ক্ষেত্রে মেনে চললে খুব সহজেই সফলতাকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবো। সফলতা মানেই আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনেক বড় হতে হবে বা আপনার দু’চারটে গাড়ি থাকতে হবে এমন নয় বরং মানসিকভাবে শিক্ষিত হওয়া এমনকি মানসিক ভাবে সফল হওয়াটা হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বাস রাখতে হবে মানসিকভাবে সফল হতে পারলেই আপনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল। কেননা আপনি যখন একজন ভালো মানুষ, তখন সেই ভালো মনুষ্যত্বের কৃতিত্ব আপনার যেকোনো সফলতাকে ছাড়িয়ে যাবেই। একজন ভাল মানুষ হিসেবে সফল হবার জন্য যে বিষয়গুলো আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো জানাটা জরুরি। কেননা যখন আপনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, ঠিক তখনই আপনি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। জেনে নিতে পারেন একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

যে বিষয়টি হয়নি সেখানে আর ফিরে না যাওয়া

বিশ্বাস রাখতে হবে আপনার জীবনের যা ঘটছে তা আপনার ভালোর জন্যেই খুব হচ্ছে। আর তাই যে বিষয়টি আপনার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে বা যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে ঘটছে না সেগুলো নিয়ে অকারণ অহেতুক ভাবনায় সময় নষ্ট করবেন না। বরং সামনে কী নতুন করা যায় সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অযাচিতভাবে পুরানো ভাবনায় নিজেকে আটকে রাখা যাবে না। নতুন ভাবনাগুলোর জন্য দ্বার উন্মোচিত করে দিতে হবে। যা ঘটে গেছে তা নিয়ে পুনরায় ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

 

যা আপনার জন্য না তা করবেন না

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা যেকোন কাজ করার পূর্বে, ভেবে নেবেন সে কাজটির জন্য আপনি আসলেই যোগ্য কিনা। অথবা যে কাজটি আপনি আসলেই করতে যাচ্ছেন, তা কেন করছেন? অর্থাৎ এরকম অনেক কিছুই আছে যা আমরা অপরের খুশির জন্য বা অপরের মন রক্ষার জন্য করে থাকি। কিন্তু সবসময় মনে রাখতে হবে, নিজের আদর্শের সাথে কখনোই প্রতারণা করবেন না। আর তাই যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যায় না, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

হতে পারে আপনার আশেপাশের মানুষজন আপনাকে এক প্রকার বাধ্য করবে, সে বিষয়গুলোতে আপনাকে জড়াতে, তবুও নিজের আদর্শকে ঠিক রেখে সে বিষয়গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, যে বিষয়গুলো আপনি মনে করেন যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যাচ্ছে না।

 

অপরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না

কখনোই কোন কিছু করার জন্য, কাউকে বাধ্য করবেন না। কেননা প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অবস্থান রয়েছে, যেখান থেকে সে স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে। অবশ্যই আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানাতে পারেন কোন কাজগুলো তার জন্য ঠিক বা ঠিক নয়। কিন্তু সেগুলোকে পরিবর্তন করার জন্য আপনি তাকে জোর করতে পারেন না। আর তাই অপরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না, এতে করে আপনার স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হবে না। এমন কি নিজের আদর্শ কখনো জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

 

মানতে হবে সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়

সকলকে সুখী-খুশি করা সম্ভব নয়। সবার মন মত আপনি সবকিছু করতে পারবেন এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। সেই কাজগুলো করুন, যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখতে পারছে। অন্যকে খুশি করা অনেক বেশি কঠিন বরং নিজের সন্তুষ্টি আনাটা অনেক বেশি সহজ। আর তাই অপরকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। কারণ আপনার নিজের একার পক্ষে সকলকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয়।

 

ভালো কিছুকে বিশ্বাস করুন

ভালো আর পারফেক্ট এর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনি ভালোকে বিশ্বাস করতে পারবেন কিন্তু সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন কিছুকে বিশ্বাস করাটা ভুল। একেবারে নির্ভুল কেউ হতে পারে না, তবে চেষ্টা রাখতে হবে এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে হবে, যাদের থেকে আপনি ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আর অবশ্যই ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে।

 

সব কিছুকে বড় ভাবে দেখতে হবে

কোন কাজই ছোট নয়। সকল ব্যক্তিত্বরা কখনোই কোন কাজকে ছোট হিসেবে দেখেন না। মনে রাখতে হবে একজন মানুষ যত নিম্ন কাজই করুক না কেন, সে ওই কাজটি করে আনন্দ পাচ্ছে, একই সাথে তার জীবন জীবিকা চালাচ্ছে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে কোনো কাজই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না।

 

বাইরের চাকচিক্য বিবেচনা যোগ্য নয়

একটি বিষয় বাইরে থেকে যতটুকুই দৃষ্টিনন্দন দেখাক না কেন, আপনার জ্ঞানী মন-মানসিকতায় ভেতরের ব্যাপারটিকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আর তাই বাইরের চাকচিক্য দেখে সেই ব্যাপারটিকে ঠিক বা সঠিক বিবেচনা বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে ভেবে, সে বিষয়টির আসল দিকটি উন্মোচন করাই জ্ঞানী মনের কাজ। আর তাই বাইরে থেকে কোনকিছু বিবেচনা করা উচিত নয়।

 

”কেন” জিজ্ঞেস না করা

প্রতিটি বিষয়কে গভীরভাবে চিন্তা করে সে বিষয়ে সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আপনার জ্ঞানী মানসিকতাকে আরো বেশি দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে যে, কেন বিষয়টি এমন হয়েছে, কেন বিষয়টি এরকম নয়, তবে সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কখনোই গভীরভাবে জানতে পারবে না। আর সফল ব্যক্তিত্বরা সর্বদাই কেন প্রশ্নটি সাথে নিজের গভীর যোগাযোগ রাখে। কেননা শুধুমাত্র “কেন” থেকেই আপনি অনেক অজানা দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

 

 বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করে আপনি কতটুকু ভালো জীবন যাপন করছেন

আপনার বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে, আপনি কতটুকু শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। আর তাই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্তিপূর্ণ করাটা অনেক বেশি জরুরি। আপনার সফলতা তখনই আপনার কাছে আসবে, যখন আপনি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। আর তাই ব্যক্তিগত শান্তিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যে কাজগুলো করতে আপনি মানসিকভাবে শান্তি অনুভব করেন, সে কাজগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সাথে করাটা প্রয়োজন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial