Connect with us

Productivity

সাইবার সুরক্ষাকে কীভাবে নিজের জীবনে প্রয়োগ করবেন?

Published

on

এই ডিজিটাল যুগে আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব থেকে শুরু করে আজ ঘরে ঘরে স্মার্ট টিভি পর্যন্ত জায়গা দখল করে নিচ্ছে। আমরা অনেকেই নিজেদের স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করি, যার সবগুলোই বিশ্বাসযোগ্য কি না বুঝে ওঠা অনেক কঠিন। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ে গড়ে উঠছে নানা ধরনের তর্ক-বিতর্ক। অনেকেই মনে করেন অতিরিক্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার ডেকে আনছে মূল্যবোধের অবক্ষয়। আবার অনেকেই ভাবেন নষ্ট হচ্ছে তাঁদের নিরাপত্তা। তবে নেটওয়ার্কের পরিসীমা বাড়ার সাথে সাথে আমাদের জীবন যে প্রতিনিয়ত সহজ হয়ে যাচ্ছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

 

আমরা সবাই চাই সুরক্ষিত ইন্টারনেট ব্যবহার করতে। কিন্তু অনেক সময়ই বুঝে উঠি না কোন কাজটা করা উচিত আর কোনটা না। সাইবার জগতে নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হলে থাকতে হবে কিছু বেসিক টেকনিক্যাল জ্ঞান। তার মধ্য থেকেই কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

 

ফিশিং স্ক্যাম

 

Phishing অথবা ফিশিং এক ধরনের অনলাইন স্ক্যাম যাতে অপরাধীরা কোনো ভরসাযোগ্য কোম্পানির নামে ইমেইল পাঠিয়ে আপনার কাছ থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। এধরনের ইমেইল বা মেসেজ দেখে সাধারণত বিশ্বাসযোগ্যই মনে হয়। কিন্তু এসব অপরাধীদের আপনাকে বোকা বানাতে দেবেন না। সাধারণত এগুলো বিশ্বাস করে বিপদে পড়ে যাওয়া খুব সহজ।

 

তাহলে বাঁচার উপায় কী?

 

ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে আপনার ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার অথবা পাসওয়ার্ড অথবা যে কোনো সিকিউরিটি নাম্বার চাওয়া হলে তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আসল কোম্পানির কাছে ইতোমধ্যেই এই তথ্যগুলো আছে এবং তারা কখনোই আপনার কাছে ইমেইলের মাধ্যমে এসব তথ্য চাইবে না। ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে পাঠানো কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। এই লিঙ্ক আপনাকে এ রকম কোনো ওয়েবসাইটে নিয়ে যেতে পারে যা দেখতে অনেকটা আসল ওয়েবসাইটের মতো মনে হবে এবং সেখানে দেওয়া আপনার তথ্য ব্যবহার করে তারা আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে পারবে। কোনো একাউন্টে ঢুকতে চাইলে অন্য কারো পাঠানো লিঙ্ক ব্যবহার না করে ব্রাউজারে ঢুকে নিজেই ঠিকানাটি লিখুন অথবা নিজের তৈরি করা কোনো বুকমার্ক ব্যবহার করুন। মেসেজে পাঠানো ঠিকানা কপি-পেস্ট করা বা ইমেইল/মেসেজে পাঠানো ফোন নাম্বারে কল না দেওয়াই ভালো।

 

ফিশিং স্ক্যাম ধরতে পারার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে মাউস টেস্ট। আপনার কারসরটি পাঠানো লিঙ্কের ওপর ধরলেই আপনি প্রকৃত ঠিকানাটি দেখতে পাবেন। ঠিকানাটি ভালো করে পড়ুন। যদি তা আপনার যে ওয়েবসাইটে যাওয়ার কথা তার ঠিকানা না হয়, তাহলে বুঝে নিন আপনার সাথে প্রতারণা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক সময় আসল কোম্পানির নামের বানানে ক্ষুদ্র পরিবর্তন এনে তা নকল নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় যাতে খুব মনোযোগ দিয়ে না দেখলে তা বোঝা না যায়। “২৪ ঘণ্টার ভেতর ভেরিফাই না করলে আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে” এ ধরনের মেসেজে ভয় পাবেন না। এ ধরনের মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণা চলে আসছে অনেক দিন ধরে। যদি কোনোভাবে আপনার মনে হয় যে আপনি কোনো প্রতারককে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফেলেছেন তাহলে সাথে সাথে আপনার ব্যাংক অথবা ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিকে তা জানান। যদি তথ্যটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড হয় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পাসওয়ার্ডটি বদলে ফেলুন।

 

পরিচয় চুরি

 

আমরা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করি বিনোদন, কেনাকাটা অথবা সামাজিক যোগাযোগের জন্য। কিন্তু কিছু মানুষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্যের পরিচয় চুরি করার জন্য।

 

কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি বেঁচে যেতে পারেন এসব চোরের হাত থেকে।

 

আপনার পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত কাগজ, যেমন ব্যাংকের রিসিট বা এ রকম কিছু ফেলে দেওয়ার আগে চেষ্টা করুন কয়েক টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলতে যাতে তা কারও হাতে পড়লেও আপনি বিপদে না পড়েন। আর হ্যাঁ, এ রকম মানুষ আছে যারা আপনার ফেলে দেওয়া ময়লা ঘেঁটে আপনার পরিচয় চুরি করার চেষ্টা করবে। ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানে হয় না। মনে রাখবেন আপনি যখন স্মার্ট টিভি দেখছেন, সে সময় স্মার্ট টিভিও আপনাকে দেখছে। এ কারণেই একে ‘স্মার্ট’ বলা হয়।

 

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করা বা কোনো সাইটে ‘সাইন আপ’ করার আগে তাদের নীতি এবং শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন। যদি আপনার মনে হয় তাদের আপনার ব্যাপারে এসব তথ্য জানার প্রয়োজন নেই তাহলে সাইন আপ করবেন না অথবা নিজের জন্য একটি বানানো নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

 

ফিশিং স্ক্যামের দিকে খেয়াল রাখুন। যদি আপনার ব্যাংক থেকে ইমেইলের মাধ্যমে কোনো লেনদেন না করে নিজে টাইপ করে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ঢুকে লেনদেন করুন। আপনার তথ্য দেওয়ার আগে আপনার ব্রাউজারে একটি তালার ছবিযুক্ত আইকন আছে কিনা খেয়াল করুন। এ আইকনটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে আপনার সংযোগটি নিরাপদ। কিন্তু এই আইকন থাকলেই যে আপনার তথ্য অন্য কারও হাতে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে আইকনটি না থাকলে আপনার সংযোগটি নিরাপদ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আপনার ব্যাংক একাউন্ট নিরাপদ আছে কিনা জানতে মাঝে মাঝেই আপনার একাউন্ট এবং ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের খোঁজ নিন। যদি মনে হয় কোনোভাবে আপনি পরিচয় চুরির ভুক্তভোগী হচ্ছেন তাহলে সাথে সাথে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন, পুলিশকে জানান এবং আপনার সংশ্লিষ্ট একাউন্ট বন্ধ করে দিন।

 

উপযুক্ত পাসওয়ার্ড

 

আপনার পাসওয়ার্ডটি হচ্ছে অনেকটা আপনার ঘরের তালার মতো। তালা দুর্বল হলে তা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে যাওয়া যেমন সহজ, পাসওয়ার্ড দুর্বল হলে তা ভেঙ্গে আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়াও সহজ। আর একবার ঢুকে পড়তে পারলে আপনার ক্ষতি করা কঠিন কিছু নয়। আপনার ব্যক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সব তথ্যই তখন অন্য কারও হাতে চলে যাবে।

 

তাই কঠিন এবং সহজে অনুমান করা যায় না এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

 

অনেকেই পাসওয়ার্ড ভুলে যাবার ভয়ে মোবাইলে অথবা খাতায় লিখে রাখুন। এটা মোটেই ভালো অভ্যাস নয়। যদি নিতান্তই লিখে রাখতে হয় তবে এমনভাবে লিখে রাখুন যাতে আপনি ছাড়া আর কেউ বুঝতে না পারে যে এটা আপনার পাসওয়ার্ড। তবুও ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে পাসওয়ার্ডটি মনে রাখার চেষ্টা করাই ভালো। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল সম্পূর্ণভাবে আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই কাউকে আপনার পাসওয়ার্ড দেবেন না।

 

নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেটিংস

 

প্রায় সব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোই গ্রাহকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আপনাকে কেউ বিরক্ত করলে তাকে ব্লক করা এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ সব মাধ্যমেই আছে।

 

কেউ যদি কোনোভাবে আপনাকে বিরক্ত করে অথবা আপনি যদি কোনো কারণে তার সাথে যোগাযোগে আগ্রহী না থাকেন আপনার সম্পূর্ণ অধিকার আছে তাকে আপনার প্রোফাইল থেকে ব্লক করে রাখার।

 

কোনো নতুন মাধ্যম ব্যবহার করতে গেলে শুরুতেই এসব সেটিংসগুলো জেনে নিন। যদি কোনো কারণে নিজে খুঁজে না পান তাহলে কোনো কাছের মানুষ অথবা গুগলের সাহায্য নিয়ে শুরুতেই আপনার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে ফেলুন। আর এই সেটিংসের আওতায় শুধু ব্লক/রিপোর্ট না, আরও অনেক কিছু আছে। আপনার পোস্টগুলো কে দেখতে পারবে বা কে পারবে না, আপনার প্রোফাইলের কোন তথ্যটি আপনি সবাইকে জানার সুযোগ দিতে চান না – এ সবকিছুই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। একটু সময় নিয়ে এগুলো ঠিকঠাক করে নিন। অপরিচিত কারও সাথে অপ্রয়োজনে অনলাইনে যোগাযোগ না করাই ভালো।

 

ম্যালওয়্যার

 

আরেকটি বিষয় যা সম্পর্কে সবারই ধারণা থাকা উচিত তা হচ্ছে ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার। কিছু ওয়েবসাইটে ঢুকলে আমাদের অজান্তেই এসব ম্যালওয়্যার আমাদের কম্পিউটার/ফোনে জায়গা করে নেয়। কখনো কখনো কিছু ভালো ওয়েবসাইট থেকেও ম্যালওয়্যার আসতে পারে। তবে সাধারণত আপনার কম্পিউটারে কিছু খারাপ ওয়েবসাইট, যেগুলো তৈরিই হয়েছে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, সেসব থেকেই আক্রমণ হয়।

 

আবার কখনো কখনো দেখে আসল মনে হয় এমন ফাইল ডাউনলোড করার সাথে সাথেও ম্যালওয়্যার আপনার কম্পিউটারে চলে আসতে পারে।

 

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ম্যালওয়্যার চলে আসলে সমস্যাটা কোথায়?

 

আমরা অনেকেই জানি না ম্যালওয়্যার আসলে কতটা ভয়ংকর হতে পারে। আপনার কম্পিউটার থেকে তথ্য মুছে ফেলা এর সবচেয়ে কম ভয়ংকর সম্ভাবনা। ম্যালওয়্যারের সাহায্যে অন্যের ক্রেডিট কার্ড বা পাসওয়ার্ড চুরি করা, আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে অন্যদের স্প্যাম ইমেইল পাঠানো এমনকি অন্য কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ককে আক্রমণ করার নজিরও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ কোনো অপরাধ না করেও শুধু ম্যালওয়্যারের আক্রমণকে প্রশ্রয় দিয়ে আপনি হয়ে যেতে পারেন অপরাধী।

 

আপনার ব্রাউজার যদি আপনি না চাইলেও আপনাকে কোনো ওয়েবসাইটে নিয়ে যায় তাহলে হয়তো আপনার কম্পিউটার বা ফোনে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ হয়েছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো।

 

আপনার অপারেটিং সিস্টেম এবং সব অ্যাপ নতুন ভার্সন আসার সাথে সাথে আপগ্রেড করুন। অপরিচিত কোনো লিংকে ঢোকা অথবা ভরসাযোগ্য নয় এমন ওয়েবসাইট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন। কারো পাঠানো লিংকে ঢোকার আগে ভেবে নিন যে পাঠিয়েছে তাকে বিশ্বাস করা যায় কিনা। অনেক সময় ফেসবুকে আপনার কোনো বন্ধুর আইডি হ্যাক হলে তা থেকে আপনাকেও স্প্যাম লিংক পাঠানো হতে পারে। লিংকে ঢুকার আগে তার আচরণ লক্ষ্য করুন এবং নিশ্চিত হয়ে নিন যে এমন কিছু ঘটেছে কিনা। এবং অবশ্যই একটি ভালো এন্টি-ভাইরাস ব্যবহার করুন ও নিয়মিত আপডেট করুন। এসব সফটওয়্যারের সাহায্যে শুধু ম্যালওয়্যার ঢোকা বন্ধই করা যায় না, নিজের কম্পিউটার থেকে খুঁজে বের করে মুছেও ফেলা যায়। তাছাড়া আপনার ব্রাউজারের জন্য একটি অ্যাড ব্লকার বা ম্যালওয়্যার ব্লকারও অনেকটা সাহায্য করবে।

 

ইন্টারনেটেই হোক আর বাস্তব জীবনেই হোক, সতর্কতার অভাব বিপদ ডেকে আনতে পারে যে কোনো সময়। নিজের নিরাপত্তার দিকে একটু মনোযোগ দিলেই হয়তো এসব বিপদ থেকে বেঁচে থাকা যায়। বিপদে পড়ার পরে না ভেবে, কাজ করার আগে ভাবুন এবং নিরাপদ জীবন কাটান।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Productivity

কাজ আর জীবনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবো?

Published

on

ব্যস্ততাই জীবন নাকি জীবন মানেই ব্যস্ততা? এই ‘ব্যস্ততা’ শব্দটা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক ব্যস্ততা, পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আরো কত শত ব্যস্ততা আমাদের! এতো ব্যস্ততা আমাদের একটা জীবনকে দুইভাগ করে ফেলেছে। এর একটা যদি হয় ব্যক্তিগত জীবন, অপরটা পেশাগত জীবন এবং অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বিষয়টা খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই যখন পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। তখনই শুরু হয় হতাশা, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ইত্যাদি ইত্যাদি… এই সাংঘর্ষিক অবস্থা এড়াতে দরকার দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিকল্পনা আর একাগ্রতা। তাহলে কি কি করতে হবে চলুন জেনে নেই-

 

ভয়কে ঝেড়ে ফেলা

 

ভয় মানুষের জীবনের খুব সহজাত একটা বিষয়। আমার মনে হয় না এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে যার ভেতরে কোনো কিছুর ভয় নেই। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ভয় আছে যা একদম অমূলক। যেমন, আমার কিছু পরিচিত মানুষ আছে যারা কাজের মধ্যে থাকতে থাকতে এমন ভাবতে থাকে যেন একটু এদিক-ওদিক হলেই অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে! কিন্তু যখন প্রশ্ন করি কি সমস্যা? উত্তরে প্রায়ই শুনতে হয়, এই হবে, কিছু একটা! মানে ফলাফল অনিশ্চিত। আচ্ছা ভাবুন, আপনি যখন কাজ করছেন তখন যদি আপনার সেরাটা দিয়েই করেন, তাহলে অতিরিক্ত কাজের লুপে অযথাই কেন নিজেকে আটকাবেন? পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা এই লুপ। কাজের বাইরে অন্যকিছু মাথাই আসে না। কোনোভাবে এর বলয় থেকে বের হতে না পারলে পুরো জীবনটাই এর মধ্যে আটকে যায়। বরং এমন করে কেন ভাবছেন না, সেই সময়টা নিজের জন্য ব্যয় করাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সাথে সেই ব্যক্তিগত সময়টুকু আপনাকে পরের কাজটা করতে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আর এই আত্মবিশ্বাস অন্য কোনো কিছু থেকেই পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে আপনার সেই কল্পনীয় কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে কেন গুঁটিয়ে রাখবেন? নিজের ইচ্ছাটাকে কেন দমিয়ে রাখবেন? এবার নিজেই ভাবুন, কোনটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

 

“If you want it, go for it. Don’t always play it safe or you’ll die wondering” -Tony Robbins

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট তৈরি করা

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া পথ চলা অনেকটা সমুদ্রে সাঁতরানোর মতো, যার কোনো শেষ নেই এবং নেই কোনো সন্তুষ্টি। কোনো কাজ করার শুরুতেই ঠিক করে নিন আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী মাসে অথবা আগামী কোয়ার্টারে আপনার টার্গেট কতোখানি হবে। কেবল তখনই আপনি সময়কে কাজের গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়ে নিতে পারবেন।

 

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট আগের রাতেই বানিয়ে ফেলা। প্রতিদিন অনেক কিছু করতে চেয়ে না পারার থেকে নিয়মিত ৩-৫টি কাজের অভ্যাস করা বেশি কার্যকরী। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য সময়কে একটা সুবিধামতো ছকে আবদ্ধ করা, অবশ্যই লিষ্টটাকে টেনে লম্বা করা নয়। তাছাড়া অসম্পূর্ণ টু-ডু লিষ্ট আপনার হতাশার কারণ এবং আত্নবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

 

কাজের গুরুত্ব বাছাই করা

 

টু-ডু লিষ্ট তো হলো, কিন্তু লিষ্টের সবগুলো কাজ কি আপনি একইসাথে করতে পারবেন? না, সম্ভব নয়। প্রতিটি দিনের যেমন আলাদা গুরুত্ব থাকে, তেমনি প্রতিদিনের কাজগুলোরও আলাদা গুরুত্ব থাকা উচিত। তাই আজকের দিনে কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি একটু কম গুরুত্বপূর্ণ সেটি ঠিক করে নিতে হবে। কারণ, একই কাজ বিভিন্ন দিনে বিভিন্নভাবে বিবেচিত হতেই পারে। যেমন ধরুন পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এইসব দিনে অন্য কিছু গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়, তেমনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, প্রোজেক্ট তৈরি, ডেডলাইন এইসব ইস্যুতে অবশ্যই আপনার গুরুত্ব সেইদিকেই থাকা উচিত। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বিষয় চলে আসলেই সমস্যার শুরু। তখন আপনাকে নিজের সাথে মধ্যস্থতা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, গুরুত্ব বুঝে কাজ করা আপনার টু-ডু লিষ্ট কমপ্লিট করার থেকে বেশি জরুরি।  

 

“Managing your time without setting priorities is like shooting randomly and calling whatever you hit the target.” -Peter Turla

 

না বলতে শেখা

 

”না” শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, তাই না? সবাই শুধু “হ্যাঁ” শুনতে চায়, সেটা যাই হোক না কেন! কিন্তু বিষয়টা অবাক করার মতো হলেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা কাউকে “না” বলতে পারে না এবং এই শ্রেণীর মানুষ সকলের খুব পছন্দের হয়। কিন্তু একই সাথে এই স্বভাব নিজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনি কী পেতে চান, কোন ধরণের সম্পর্কে জড়াতে চান, কোথায় সময় দেয়া বেশি জরুরী এই সিদ্ধান্তগুলো খুব জরুরি। কারণ, খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি এমন অনেক অনুরোধ ও সুযোগ পাবেন, যেগুলো হয়তো আপনি চাইছেন না কিন্তু আবার “না” বলে ছেড়েও দিতে পারছেন না। ঠিক এই সময় নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকাটা খুব দরকার। ‘হ্যাঁ’ শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই বলবেন, যে কাজটি আপনার জীবনে কোনো ভ্যালু এড করতে পারে। আর বাকি সব ক্ষেত্রে ‘না’ বলার চেষ্টা করুন। কারণ, সবার জন্যই সময় খুব সীমিত। কোনো কিছুতে ‘না’ করা মানে সেই সময়টা আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে ব্যয় করা। তাই ‘না’ বলতে শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  

 

“It’s only by saying NO that you can concentrate on the things that are really important.” -Steve Jobs

 

নিজের জন্য প্রতিদিন এক ঘন্টা এবং একটি পছন্দের কাজ

 

আপনি শেষ কবে গলা ছেড়ে গান গেয়েছেন? কিংবা শেষ কবে বন্ধুদের সাথে জমপেশ আড্ডা, মুভি অথবা মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং খেলেছেন? অনেকদিন হয় না, তাই না? ভেবে দেখুন তো, নিজের ইচ্ছা, ভালোলাগা গুলোই যখন অপূর্ণ থেকে যায়, তখন এতো কাজ করা কিসের জন্য তাহলে! তাই সারাদিন যত কাজই থাকুক না কেন একঘন্টা নিজের জন্য রাখবেন। আর এই এক ঘন্টার জন্য কোনো টু-ডু লিষ্টেরও দরকার নেই। বই পড়তে মন চাইলে বই পড়বেন, লিখতে ইচ্ছা হলে লিখতে বসে যাবেন, বিশ্রাম দরকার হলে বিশ্রাম কিংবা ব্যায়াম, মেডিটেশন অথবা আপনার পছন্দের যেকোনো কিছু করতে পারেন। এইটা কোনো কাজ নয়, বরং আপনার প্রাপ্য। তাই সময়টাকে মূল্যবান করে তুলুন।

 

“The time you enjoy wasting is not wasted time because it’s your personal time.” -Bertrand Russel

 

পারিবারিক সময় বাড়িয়ে দিন

 

পরিবার শব্দটাই প্রত্যেকের জন্যই বাড়াবাড়ি রকম আবেগের একটা বিষয় এবং এটাই মনে হয় একমাত্র জায়গা যা কিনা কোনো রকম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই সবসময় আপনার পাশে থাকে। আপনার হাসিতে সব থেকে উচ্চস্বরে হাসবে আবার আপনার কান্নায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে। তাই কাজের বাইরের সময়ের বেশিরভাগটাই পরিবারের প্রাপ্য। যাদের পরিবার নেই কিংবা দূরে থাকেন তারা বুঝে এর গুরুত্ব কতোটুকু। তাই নিয়মিত বাবা-মার খোঁজ খবর নিন, একসাথে ডিনারের অভ্যাস করুন, একসাথে শপিংয়ে যান, অথবা পারিবারিক পিকনিক। সব মিলে যে পারিবারিক আবহ কিংবা অনুভূতি পাওয়া যায় সেটা কোনোভাবেই অন্য কিছু থেকে পাওয়া সম্ভম নয়। এরপর যখনই আপনি কাজের মধ্যে থাকবেন আপনার মানসিক পরিবর্তনটা ঠিক বুঝতে পারবেন। কারণ, পারিবারিক সুখ না থাকলে নিজে সুখী হওয়া যায় না।

 

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করা

 

বর্তমান সময়ে ব্যায়াম শুনলেই যেন  gym, weigh lifting, dumbbells, treadmill এইসব নাম মাথায় আসে। কিন্তু নিয়মিত হাঁটাহাটি করা, সকালে ঘুম থেকে উঠা, পরিমিত খাবার খাওয়া এইসবও ব্যায়ামেরই অংশ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিকতার পরিবর্তন ঘটায়। আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা, মানসিক স্থিতিশীলতা, সময়ানুবর্তী, একাগ্রতা বেড়ে যায় নিয়মিত ব্যায়ামের দ্বারা। আর শারীরিক সুস্থতা তো রয়েছেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময় বের করে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। দেখবেন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও স্থিতিশীল হয়ে যাবেন।  

 

“Physical fitness is not only one of the most important keys to a healthy body, but it is also the basis of dynamic and creative intellectual activity.” -John F. Kennedy

 

সবশেষে যেটা বলা জরুরী সেই শব্দটা হল ‘অভ্যাস’। উপরের প্রতিটা জিনিসের সার্থকতা অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। দু’একবার করেই আপনি ফলাফল আশা করতে পারেন না। কিন্তু একবার অভ্যাস করে ফেললেই ব্যক্তিগত, পেশাগত, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে খুব সহজেই মানিয়ে যাবেন।    

Continue Reading

Productivity

যানজটে কাটবে সময় দারুণ ৩টি উপায়ে!

Published

on

কেবল ঢাকা শহরেই প্রতিদিন যানজটে নষ্ট হয় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা! যানজট আমাদের জীবনে নিত্যদিনের এক ভোগান্তির নাম। কিন্তু কিছু কৌশল কাজে লাগালে যানজটের এই সময়টিই চমৎকার গঠনমূলকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এমনই তিনটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।

 

অডিও বুক

যানজটে সময় পার করতে সচরাচর কী করি আমরা? গান শুনি! কেমন হয় যদি গান শোনার বদলে বই শুনি?

আগে আমিও যানজটে বসে বসে গান শুনতাম। কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা হলো – বিনোদন ছাড়া গান শোনার তেমন উপযোগিতা নেই। অথচ বই শোনায় বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জানার, শেখার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

বাংলার বদলে ইংরেজি অডিও বুক শোনার অভ্যাস করলে ভাল, শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও একবার অভ্যাস হয়ে গেলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে – বইটাও শোনা হয়ে গেল, ইংরেজির দক্ষতাও বৃদ্ধি পেল। বেশিরভাগ ইংরেজি বইয়ের অডিওবুক একটু গুগল করলেই পেয়ে যাবে। ইউটিউবেও মিলবে চমৎকার সব অডিও বুকের খোঁজ।

অডিও বুকের ব্যাপারে জানা হলো, কিন্তু কোন বই শুনবো সেটি কীভাবে ঠিক করবো? আমার পরামর্শ হচ্ছে অহেতুক গল্পের বই না শুনে গঠনমূলক কিছু শোনা। হতে পারে সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্পগাঁথা (Biography), অথবা সফল ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করেছে যেসব বই।

বিল গেটসের প্রিয় বই সম্পর্কে গুগল করলেই একসাথে দারুণ অনেকগুলো বইয়ের খোঁজ মিলবে। আমি নিজের পছন্দের কিছু বই, এবং যেগুলো পড়বো ঠিক করেছি এমন কিছু বইয়ের নাম তুলে ধরছি-

 

The Alchemist

The Art of War

Rich Dad Poor Dad

Drive

Think and Grow Rich

Eat that Frog!

The Power of habit

Blink

Tools of Titans

Long Walk to Freedom

Wings of fire

When Breath Becomes Air

এ তো গেল বইয়ের কথা। বই শোনার চেয়েও আমার বেশি পছন্দ পডকাস্ট শোনা। (পডকাস্ট মানে রেডিও বা অনলাইনে একরকম শো, যেখানে অনেকটা আড্ডার মতো করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।) হয়তো তোমার পছন্দ মুভি দেখা, সুতরাং গুগল করতে পারো তোমার প্রিয় পরিচালকের ইন্টারভিউ শোনার জন্য।

যেমন Eli Roth একজন হরর মুভি নির্মাতা, আমার বেশ পছন্দের মানুষ। আমাজন জঙ্গলের নরখাদকদের নিয়ে তাঁর একটি মুভি রয়েছে। সেটি বানাতে গিয়ে তাঁকে আমাজনে দুর্গম অঞ্চলে সভ্যতা বিবর্জিত আদিবাসীদের সাথে অনেকদিন কাটাতে হয়েছে – সেই রোমাঞ্চকর গল্প যেন কল্পনাকেও হার মানায়!

পডকাস্ট ছাড়াও আরেকটি চমৎকার জিনিস রয়েছে – বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল। তোমরা অনেকে নিশ্চয়ই Ted talk সম্পর্কে জানো। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা ইত্যাদি শেয়ার করে।

আমার মনে আছে একটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল রাউন্ডে আমার প্রেজেন্টেশন, আমি কিছুতেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল কেবল হাল ছেড়ে দেই! উপায়ান্তর না দেখে এক বন্ধুকে মেসেজ দিলাম। সে কিছু বললো না, শুধু একটা লিঙ্ক পাঠালো, একটি টেড টকের- “A dialogue to kill the fear of public speaking” by Animesh Gupta.

মাত্র বিশ মিনিটের সেই ভিডিওটি আমার মানসিকতার খোলনলচে বদলে দিলো! প্রেজেন্টেশনের ভয়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে জয় করার একটা প্রবল তাগিদ চেপে বসলো মনে। এরকম হাজার হাজার টেড টক রয়েছে ইউটিউবে, যেগুলোর যেকোন একটিই যথেষ্ট তোমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য।

Ted Talk ছাড়াও আমার খুব প্রিয় কিছু চ্যানেল- Impact Theory, Goalcast, Gary Vee, Be Inspired, Evan Carmichael। তোমরাও তোমাদের পছন্দের ইউটিউব চ্যানেলের কথা কমেন্টে লিখে শেয়ার করো সবার সাথে।

 

ভোক্যাবুলারি

বছরের শুরুতে আমরা সবাই কিছু না কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করি। অনেকেরই লক্ষ্যের তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে – “ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া”। দক্ষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ভোক্যাবুলারির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।

ডিকশনারি ধরে “প্রতিদিন ১০টা শব্দ শিখবো, তাহলে বছরে সাড়ে তিন হাজার শব্দ শেখা হবে!” – এভাবে আসলে বেশিদূর আগানো হয় না! আমাকে ভোক্যাবুলারি শেখায় সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে দুটো জিনিস।

Word Smart নামে দুই খণ্ডের একটি বই আছে। সেখানে প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ, অর্থ এবং ব্যবহার দেখিয়ে অসাধারণ হাস্যরস সম্বলিত একেকটি বাক্য রয়েছে। বইটি পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয়নি ভোক্যাবুলারি শিখছি, মনে হয়েছে যেন গল্পের বই পড়ছি!

বইটি মোটামুটি সবখানেই পাওয়া যায়, আরো সহজ হয় PDF ডাউনলোড করে নিলে।

Vocabulary Course নামে ইউটিউবে Farhad Hossain Masum ভাইয়ের অসাধারণ একটি ভিডিও সিরিজ রয়েছে (এটির কথা আমি সুযোগ পেলেই বলে থাকি!) উনি একদম সহজ করে, অনেক মজার মজার উদাহরণ দিয়ে অনেকটা গল্প করার মতো করে ভোক্যাবুলারি শিখিয়েছেন ভিডিও গুলোয়। এটি নিয়ে Vocabuilder নামে একটি বইও রয়েছে।

ভোক্যাবুলারি শেখার জন্য বই আর ভিডিওর খবর জানলাম, কিন্তু যতো শিখি ততোই যে ভুলে যাই তার সমাধান কী? ফ্ল্যাশকার্ড এক্ষেত্রে দারুণ কাজে দিতে পারে। একটি ছোট কাগজে একটি শব্দ লিখে কাগজের উল্টো পাশে সেটির অর্থ লিখতে পারো।

‘অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই?’

আমার এক বন্ধু এরকম শ’খানেক ফ্ল্যাশকার্ড সাথে নিয়ে ঘুরে সবসময়! আরো সহজ উপায় স্মার্টফোনের ডিকশনারি। আমি নতুন কোন শব্দ শিখলেই সেটি ডিকশনারিতে বুকমার্ক করে রাখি। সময় পেলেই বুকমার্কের শব্দগুলো দেখে নিই, যতোদিন না সেগুলো একদম অন্তরে গেঁথে যায়।

 

ফেসবুক

ফেসবুক ব্যবহার করো না এমন কেউ কি এখানে আছো? খুব সম্ভবত, এই লেখাটির খোঁজও তুমি ফেসবুক থেকেই পেয়েছো! ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয় – এটি নিয়ে সবারই কম-বেশি অনুযোগ আছে, আবার এটি ছাড়া চলেও না – মহা মুসিবত! কেমন হয় যদি ফেসবুক হয়ে উঠে তোমার শিক্ষক?

যেমন ধরো, আমি টুকটাক ব্লগ লিখি। অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই? ফেসবুকের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যে জিনিস সার্চ করবে, যেরকম পেইজে লাইক দেবে – ওরা ঘুরেফিরে সেরকম আরো কনটেন্ট তোমাকে সাজেস্ট করতে থাকবে।

আমি ঘুরে ঘুরে লেখালেখির কাজে আসে এমন অনেক পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছি, তাই ফেসবুকে ঢুকলেই দারুণ কিছু না কিছু টপিক পেয়ে যাই!

আরেকটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ – তোমার ফ্রেন্ডলিস্ট। ফেসবুকে সৃজনশীল যেই মানুষগুলো আছে, যারা ছবি আঁকে, গান গায়, লেখালেখি করে, বিতর্ক করে, ভিডিও বানায়, নিজেই ব্যবসা চালায়, নানারকম গঠনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করে – আমি খুব চেষ্টা করি এমন মানুষদের সাথে কানেক্টেড হতে।

সুতরাং ফেসবুক আমার জন্য সময় নষ্ট নয়, বরং চমৎকার শিক্ষামূলক একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি এতো এতো মেধাবী মানুষজন অসাধারণ সব কাজ করে চলেছে – সেগুলো শেখার পাশাপাশি অনুপ্রেরণা যোগায় অনবরত।

Continue Reading

Productivity

অফিস মিটিং সফল করার কৌশলাদি

Published

on

আপনি রবিবার সকালে অফিসে আসলেন এবং এসেই জানতে পারলেন কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার মিটিং শুরু হবে। কিন্তু আপনার কিছুই গোছানো হয়নি। কী করবেন এই মূহুর্তে আপনি? আমরা মিটিংয়ে প্রায়ই বেশ কিছু ভুল করি যা মোটেও কাম্য নয়। যার ফলে অনেক সময় নষ্ট হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফলও পাওয়া যায় না।

 

মিটিংগুলোতে আমরা মূলত যে সমস্যাগুলোতে পড়ি

 

ব্যবসায় লাভ অথবা বিক্রি কতো হলো এইসব বিষয়ে যখনই কোনো মিটিং হয় কিছু বিষয় বরাবরই একই থাকে সেগুলো হলো, কেমন সেলস হলো, কাদের সাথে মিটিং হয়েছে, কাজটি কেমন ছিল ইত্যাদি। এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে একজন যদি কম করে হলেও ৬ মিনিট নেয় তবে মিটিংয়ে ৬ জন উপস্থিত থাকলে এক ঘন্টা সবার অভিব্যক্তি শুনতেই শেষ হয়ে যাবে। এটাই কী একজন কর্মীর সময়ের সঠিক ব্যবহার!

 

বার্ষিক সেলসের উপর যে মিটিং হয় তাতে বিগত সময়ে কী কী করা হয়েছিল সে সম্বন্ধে কথা বলা হয়। প্রত্যেক কর্মী যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিট মিটিং কী নিয়ে এবং সেজন্য কী কী করা হয়েছিল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকে, তবে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দেখা যায়, একদম শেষে এসে মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা নিয়ে কথা শুরু করা হয়, কিন্তু সময়ের অভাবে আসল বিষয় নিয়েই কথা শেষ করা সম্ভব হয় না। প্রজেক্ট মিটিংয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু ভবিষ্যতে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে অন্যদের কাছ থেকে অভিমত নেয়ার সময় হয় না।

 

বোর্ড মিটিংয়েও একই ধরণের সমস্যা হয়। কে কী করেছে এইসব প্রশ্ন ও উত্তরের মাঝখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নিয়ে একদম শেষে কথা বলা হয় যখন হাতে আর সময় থাকে না।

 

মিটিং কখন সফল হবে?

 

এবার আসা যাক তাহলে মিটিংয়ে কী নিয়ে আলোচনা করা উচিত। মিটিং মূলত খুব ছোট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করা উচিত যেন বর্তমান অবস্থা, তাতে কী সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা যায়। কেননা সময় খুবই মূল্যবান সেটা কর্মকর্তা আবার পরিচালক যেই হোক না কেন। তাই মূল বিষয় নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত জরুরি।

 

সহকর্মীদের সাথে আগেই শেয়ার করুন

 

আপনি বর্তমানে কী করছেন, অতীতে কী করেছেন অথবা কোন কাজটি আপনি ভবিষ্যতে করবেন সেই বিষয়ে আপনার সহকর্মীদের জানিয়ে দিন। মিটিং আলাদা করে রিপোর্ট পড়ে সময় নষ্ট করার কী দরকার! আপনি কোন কাজগুলো করেছেন তার দিকে দৃষ্টি দেয়া থেকে কাজটি অর্জনে আপনার কী করা উচিত সেদিকে ফোকাস করুন। তাহলে সহকর্মীরাও বুঝতে পারবে আপনার দায়িত্বগুলো। এছাড়া আপনার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও আপনার দায়িত্বগুলো সম্পর্কে অবগত থাকবেন। পরবর্তীতে আপনাকে কতটুকু দায়িত্ব দেয়া উচিত, আপনার যোগ্যতা কতটুকু তাও বুঝে যাবে। এর ফলে নতুন কাজের দায়িত্ব বন্টণ করাও সহজ হয়। কারণ, এক বসায় কে কোন কাজ করছে সহজে নোট করে ফেলা যায়।

 

সমস্যা এবং সমাধানের নোট তৈরি করে ফেলুন

 

আপনি যখন আপনার কাজের রিপোর্ট তৈরি করবেন আগে থেকেই নোট করে রাখুন কোন জায়গাটায় আপনি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অথবা কোথায় আপনার সাহায্য লাগবে। যেমন ধরুন, আপনার সেলস রিপোর্ট তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে যার জন্য সেই কাজটিতে সহকর্মীদের সাহায্য লাগবে। সে ব্যাপারে মিটিংয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কথা বলুন। আবার এমনও হতে পারে, আপনার বার্ষিক বাজেট তৈরি করতে হবে কিন্তু কিছু হিসাব মিলছে না এ ব্যাপারগুলো মিটিংয়ে তুলে ধরুন।

 

তাহলে অহেতুক সময় নষ্ট হবে না। সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আপনার কাজটি আরো সুন্দর করে করতে পারবেন।

 

ভবিষ্যত পদক্ষেপের লিস্ট করে ফেলুন

 

মনে রাখবেন, একটি ফলপ্রসূ মিটিংয়ে আপনি বর্তমানে কী অবস্থানে আছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং ভবিষ্যতে কী করতে চান বা কোম্পানিকে কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে চান সে বিষয়ে আলোচনা করুন। মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা এটাই হওয়া উচিত যে, কোম্পানির লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কেমন হবে। হতে পারে, আগামী মাসে সেলস কতো আশা করছেন অথবা কোন কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি করবেন এ বিষয়গুলো সহকর্মীদের জানিয়ে রাখুন।  

 

আপনি যদি পরিচালক হোন তাহলে আপনার লক্ষ্যগুলো কর্মীদের সামনে আবার পরিষ্কার করুন।  এতে করে তারাও বুঝতে পারবে আপনি তাদের কাছ থেকে কী চাচ্ছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কী করা প্রয়োজন তার সঠিক গাইড লাইনও পাবে৷ অনেকে মিলে যখন আইডিয়া দেয় তখন কম সময়ে অনেক নতুন নতুন বিষয় সামনে চলে আসে৷

 

বিভাগ ভিত্তিক অগ্রগতি নিয়ে কথা বলুন

 

মিটিং বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। কোনোটা বিশেষ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে, কোনোটা আবার নির্দিষ্ট বিভাগ ভিত্তিক হয়ে থাকে। যখন মিটিংগুলো হয় সহকর্মীরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করার, বিশেষ করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটি পাইপলাইন পায়। বিভিন্ন বিভাগগুলো যখন ঠিক মতো কাজ করে তখনই একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়। তাই মিটিংয়ে বিভিন্ন বিভাগগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলুন। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে জানার চেষ্টা করুন। সকল বিভাগ একটি আরেকটির সাথে ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করুন।

 

পরিবর্তনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা

 

আপনার কোম্পানির লোকসান হচ্ছে অথবা বাজারে শেয়ার পড়ে গেছে কিংবা কর্মীরা সন্তুষ্ট নয়! এধরণের বিষয়গুলোতে সমাধানে আসার জন্য মিটিং হতে পারে খুব সুন্দর একটি মাধ্যম। সকলের অভিমত জানুন। আপনি কী ভাবছেন তাও পরিষ্কার করুন৷ এতে করে আপনার ও তাদের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল তা আর থাকবে না এবং খুব অল্প সময়ে সহজ সমাধানে আসা যাবে। পরিবর্তন নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে অথবা কোম্পানির কালচারেও হতে পারে। তাই নতুন কোনো পরিবর্তন আনার আগে সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করুন। তারা কী চাচ্ছে জানুন, তারা কী আদৌ সে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত কিনা বুঝার চেষ্টা করুন। কেননা পরিবর্তনটা তাদের নিয়েই এবং তাদের দিয়েই সম্ভব।

 

কর্মক্ষেত্রে প্রতিটা মুহূর্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রত্যেকটা কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হয়। তাছাড়া আপনার প্রতিযোগী তো আছেই তাদের টক্কর দেয়ার জন্য হলেও আপনাকে যথেষ্ট সচেতন এবং বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে। মিটিং হচ্ছে একটি অন্যতম মাধ্যম যেখানে সিনিয়র-জুনিয়র একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মতামত বিনিময়ের সুযোগ পায়। তাই মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি সেগুলো নিয়েই কেবল আলোচনা করা উচিত। তাহলে একদিকে সময় যেমন অপচয় হবে না, তেমনি মিটিংয়ের উদ্দেশ্যও বাস্তবায়িত হবে। 

Continue Reading

Trending