Connect with us

Relationship

পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান?

Published

on

জীবিকার প্রত্যাশায় আমরা সবাই কম বেশি ব্যস্ততার স্বীকার। ব্যস্ততা এবং কোলাহলের ভিড়ে  আমরা অনেক কিছুই হয়তো পেছনে ফেলে এসেছি। জীবনে সাফল্য লাভের প্রত্যাশায় বরাবরই ছুটাছুটির অন্ত নেই। আমরা অনেকেই ভুলে যাই আমাদের আশপাশ এবং আমাদের প্রিয়জনদের কথা। পরিবারকে সময় দেয়ার মত সময় কোথায়? শুনতে অদ্ভুত শোনালেও কথাটি কিন্তু কঠিন বাস্তব, কাজের ভিড়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রিয়জনদের অবহেলা করি। কিন্তু ভালবাসার জন্ম কিন্তু পরিবার থেকেই শুরু।

 

পরিবারই হল মানুষ গড়ার প্রথম স্তর। একজন ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার মূল শিকর কিন্তু পরিবারই। পরিবারের সুখই প্রকৃত সুখ যা কেউ আপনাকে দিতে পারবে না। পরিবারের ভালোবাসাটি হবে নিঃস্বার্থ। এখন একটু ভেবে দেখুন তো পরিবার আত্মীয়স্বজনদের সময় না দিয়ে সাফল্যের পেছনে ছুঁটে চলায় কি লাভই বা হচ্ছে আপনার, জীবনের মূল্যই বা কতটুকু রয়ে গেল। তবে চলুন এখনই জেনে নেয়া যাক পরিবারের সাথে আরও সময় কাটানোর কিছু সহজ উপায়সমূহ।

 

১। সপ্তাহে একদিন হাতে সময় রাখুন

 

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারের জন্য অবশ্যই বেশ খানিকটা সময় বরাদ্দ রাখুন। পুরো সপ্তাহ কাজের ব্যস্ততায় পরিবারকে তেমন সময় দেয়া হয় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে পরিবারকে নিয়ে কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন। এতে মানসিক চাপ দূর হবে এবং প্রিয় মানুষের সাথে বন্ধনও দৃঢ় হবে।

 

২। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাই রান্নায় অংশ নিন

 

পরিবারের সদস্যদের খাবারের পছন্দ অপছন্দ আমরা সবাই কম বেশি জেনে থাকি। সপ্তাহের একটি দিন সবাই একত্রে পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য পছন্দের খাবার রান্না করা যাক। এতে সম্পর্ক আরও মজবুত এবং পরিবারের সাথে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করার সৌভাগ্য হবে।

 

৩। একত্রে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন করুন

 

উৎসবমুখর পরিবেশ সবসময়ই পরিবারকে আরও সন্নিকটে নিয়ে আসে। জীবনের নানা ব্যস্ততার কারনে আমরা অনেকেই পরিবারের সাথে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন করতে পারি না। এতে পারিবারিক সম্পর্কেও বাড়ে দূরত্ব। তবে নিজেরা একটু চাইলেই সময়ের স্বল্পতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে, যতটুকু সময় পাওয়া যায় তার মাঝেই নিজেদের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনার উপলক্ষ তৈরি করতে পারি। 

 

৪। কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন

 

দিনের পর দিন সব কয়টা ছুটি ঘরে বসে কিংবা আশেপাশে ঘুরেফিরে কাটিয়ে ফেলি আমরা।  কেউ কাজে, কেউ বা অলসতায় কম বেশি সবাই ব্যস্ত। স্বল্প গণ্ডির জীবন থেকে একটু বেরিয়ে সপরিবারে কোথাও গিয়ে খানিকটা ঘুরে আসুন। এতে কাজের একঘেয়ামিও দূর হবে এবং পরিবারের সাথে খানিকটা সময়ও কাটবে।

 

৫। কাজের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন

 

ব্যস্ততা কমে না, দিন দিন বেড়েই চলে। হয়তো কাজের ব্যস্ততায় সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে দিন দিন। একই শহরে থেকেও একদিন দেখা করার সময়টিও যেন হয়ে উঠে না, কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন শুধু আপনার শহরই নয়, গোটা পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তাই হাজারো কাজের ফাঁকে নিজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকতা আরও বাড়বে।

 

 

৬। অফিস শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন

 

যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বয়স্করাও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। ইন্টারনেটের মহে আমরা রীতিমতো দিশেহারা। পারিবারিক আড্ডা বা বন্ধুমহলেও আমরা আড্ডা রেখে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাছাড়া অফিসের সারাদিনের ধকল শেষে বাড়িতে ফিরেই আবারো ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকি। এতে পরিবারের সদস্যের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। তাই যতটুকু সম্ভব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরত থাকুন এবং পরিবারকে যথার্থ সময় দিন।

 

৭। অফিসের কাজ অফিসেই সেড়ে আসুন

 

প্রায়ই অফিসে কাজের চাপ প্রচুর থাকে। কাজ সময়মত সাড়তে না পাড়ার কারনে অনেকেই সেই কাজ বাসায় করার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে যে সময়টুকু আপনি পরিবারকে দিতেন তার অনেকাংশই কাজের ব্যস্ততায় ব্যয় হয়। তাই যতটুকু সম্ভব অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করুন, পরিবারকে সময় দিন। সারাদিন কি ঘটলো তা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। এতে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

 

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, হতাশাগ্রস্থ জীবনে পরিবারই শেষ সম্বল। কর্মস্থলে সাফল্যের পেছনে এত ছোটাছুটি, তার সবই কিন্ত  পরিবারের জন্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে, কাজ যেন পরিবারের অবহেলার কারণ না হয়। অবসর সময়গুলো বিসর্জন করুন পরিবারের কল্যাণের জন্য, হাসিমাখা মুখগুলোর জন্য।  দিনশেষে ভালোবাসাময় পরিবারের সবাই শুধু ভালোবাসা এবং স্মৃতিগুলোই মনে রাখে। বেঁচে থাকুক পরিবারের সেই মিষ্টি মুহূর্তগুলো।

Relationship

ফেসবুক ফ্রেন্ড : আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

Published

on

-মোট কয়জন ফ্রেন্ড আছে আপনার?

– হাজার খানেক হবে! আপনার?

– এতো বেশি না, মাত্র বিশ-পঁচিশজনের মতো।

-আহা, আমি তো ফেসবুক ফ্রেন্ডের কথা বলছিলাম। এমনিতে তো দুই-তিনজন বন্ধু পাওয়াও কঠিন!

কথোপকথনটি কাল্পনিক, তবে প্রাসঙ্গিক। আমাদের অনেকেরই ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা হাজারের উপর। কারো কারো আবার ছাড়িয়ে গেছে পাঁচ হাজারের লিমিট। অনেককে আবার এই কথাও বলতে শোনা যায় যে,  ‘বন্ধুসংখ্যা পাঁচ হাজার হয়ে যাওয়ায় নতুন রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করতে পারছি না!’ ফেসবুকে যেমন ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে বহুদিন পর খুঁজে পেয়েছি তেমনি কোনোদিন দেখা হয়নি অথচ চলনে-বলনে, চিন্তা-ভাবনায় পুরো আমার কার্বনকপি এমন বন্ধুও পেয়েছি বেশকিছু। আবার অচেনা মানুষ যেচে এসে কথা বলতে আসায় বিব্রতও হয়েছি বহুবার। এসব ভাবতে ভাবতেই ফেসবুক ফ্রেন্ডরা জীবনে আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ তা নিয়ে লিখে ফেললাম আজকের ব্লগ। আসলে বেশকিছু ব্যাপারে একটু চোখকান খোলা রাখলেই অভিশাপ নয়, জীবনে আশীর্বাদটাই মুখ্য হয়ে ওঠে এবং সেটাই হল আজকের বিষয়বস্তু :

 

ফেইক আইডি হতে সতর্ক হোন

‘নীল অপরাজিতা’, ‘স্বপ্নিল বালক’, ‘বর্ষার কদম’, ‘শীতের শিউলি’ এইসব উদ্ভট নামের অজস্র আইডিতে ফেসবুক সয়লাব। অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের মধ্যে কোনটা আসল, কোনটা নকল সবসময় ঠাহর করা যায় না। তবে সরাসরি পরিচিত কেউ না হলে এই ধরনের আজগুবি নামের আইডি এড়িয়ে চলা উচিত। অনেকেরই র‍্যানডম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর অভ্যাস আছে। অনেকে আবার তা এক্সেপ্টও করে ফেলেন। তবে আমার পরামর্শ চাইলে বলবো, পরিচিত লোকের বাইরে কাউকে ফেসবুকে অ্যাড করা থেকে বিরত থাকুন। আর যদি নিতান্তই অ্যাড করতে হয় তবে Profile Picture, Bio, Mutual Friend- এসব দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রোফাইল পিকচারে নায়ক-নায়িকা, মডেল, ফুল, বিড়াল কিংবা পুতুলের ছবি দেয়া আইডি হলে তা এড়িয়ে যাওয়াটাই ভালো হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের ফেইক আইডিগুলো সমস্যা সৃষ্টি করে। নানা ধরনের হুমকি দেয়া, রাত বিরাতে বিব্রতকর প্রশ্ন করা এসব হরহামেশাই ঘটছে, তাই সতর্ক থাকুন।  

 

ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া থেকে সতর্ক হোন

ফেসবুকসহ যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া থেকে একশ হাত দূরে থাকা উচিত। যেখানে খুব ভাল বন্ধু, এমনকি পরিবারের লোকও কখনো কখনো শত্রু হয়ে ওঠে – সেখানে এ তো ফেসবুক ফ্রেন্ড! যদি আপনি নিয়মিত কারো সঙ্গে চ্যাটিং করেন, সেক্ষেত্রে অনেক সময়ই নিজের অজান্তেই অনেক স্পর্শকাতর তথ্য দিয়ে ফেলেন। বাসার ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ফোনের পাসওয়ার্ড কিংবা বিকাশ নাম্বার। এগুলো সবই আপনার এবং একান্তই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য। কোনো পরিস্থিতিতেই এসব তথ্য কোনো ভার্চুয়াল বন্ধুর সাথে শেয়ার করবেন না। ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কখনোই Public রাখবেন না। আপনার লোকেশন ফেসবুকে দিবেন না। ফ্রেন্ডলিস্টের কেউ সন্দেহজনক কোনো লিংক সেন্ড করলেও সেখানে ক্লিক করবেন না।

‘আমি কি তোমার বন্ধু না?’  কিংবা ‘তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না?’ -এ ধরনের কথায় আবেগপ্রবণ হয়ে অনেকেই ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় নিজের অনেক ব্যক্তিগত তথ্য, ভিডিও বা ছবি শেয়ার করে ফেলেন। ফলাফল? রোজই পত্রিকায় অভিনব উপায়ে প্রতারণার নানা কাহিনী তো শুনছেনই!  

 

হ্যাংআউটের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন

আজকাল একটা ব্যাপার খুব দেখা যায়। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে ‘Cool Dude’ সাজার চেষ্টায় মানুষ অপরিচিত, অর্ধ-পরিচিত মানুষের সাথে ঘুরতে বেড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকের কল্যাণে মানুষ যাকে বলে ‘হ্যাংআউট’। মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে অথবা ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে হ্যাংআউট করতে হলে অবশ্যই সাথে আপনার পরিচিত কাউকে রাখুন। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেবী’ সিনেমায় নীলুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিও ঠিক এই রকম। নীলু আর রানু দেখা করতে গিয়েছিল নীলুর এক ভার্চুয়াল বন্ধুর সাথে। রানু সাথে থাকায় বন্ধুটি সামনে আসেনি। কিন্তু একদিন একা দেখা করতে গিয়ে ঠিকই মানসিকভাবে অসুস্থ সেই বন্ধুর কবলে পড়তে হয় নীলুকে। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। আমি বলছি না যে সব ভার্চুয়াল বন্ধুই খারাপ। ভালো না খারাপ সেটা বিবেচনা করে তবেই বিশ্বাস করা উচিত।

 

পাশের বন্ধুকে অবহেলা আর নয়

মেসেঞ্জারে সারাদিন টুং-টাং শব্দে আসা ম্যাসেজ, অজস্র নোটিফিকেশন, হাজারো লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মেলায় পাশে বসে থাকা বন্ধুটিকে আমরা বেমালুম ভুলে যাই। এটা ঠিক যে আমাদের অনেক একলা সময়ে ভার্চুয়াল বন্ধুরা টনিকের মতো কাজ করে, তবে স্কুল-কলেজ কিংবা পাড়ার বন্ধুর থেকে ফেসবুক ফ্রেন্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়াটা শুধু বোকামি নয় রীতিমত অন্যায়। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে এই মানুষগুলোই আপনার পাশে দাঁড়াবে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে বসার আগে ডাটা-কানেকশন অফ করে নিন। সামনে কাউকে বসিয়ে রেখে মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে পড়া একদমই ঠিক নয়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, হাজার হাজার মাইল দূরের মানুষকে করেছে কাছের বন্ধু। কিন্তু এর চক্করে আমাদের পাশের বন্ধুগুলো হয়ে গেছে দূরের মানুষ। এমনটা কখন হয়েছে, তা যেন আমরা নিজেরাও জানি না!  

 

বন্ধুত্বকে আগে বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণ

ফেসবুকে তুমুল আলোচিত মার্কিন তরুণী  সারাহ কুন মাইকেল তার ফেসবুক ফ্রেন্ডকে ভালোবেসে বিয়ে করার জন্য হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বরিশালের কাউনিয়ার দূরত্ব উপেক্ষা করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন তার ভালোবাসার মানুষটিকে। এ ধরনের ঘটনা আজকাল প্রায়ই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। প্রবাস থেকে না হোক, দেশের ভিতরে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় এমন প্রেম কিংবা বিয়ের ঘটনা আমাদের আশেপাশেই প্রায়ই হচ্ছে। দীর্ঘদিন কথা বলতে বলতে কারোর প্রতি কোনো বিশেষ অনুভূতি জন্মানো খুবই স্বাভাবিক। তবে এই অনুভূতিকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়ার জন্য আবেগের পাশাপাশি যুক্তি দিয়ে ভাবুন। তার পরিবার, পারিপার্শ্বিকতা, শিক্ষা, রুচি সবকিছু সম্পর্কে জানার পরই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। ক্ষণিকের ভালোলাগা যেন পরবর্তীতে আপনার আফসোসের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। 

 

সাইবার আইনের সুবিধা নিন

বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। এর মধ্যে ৭০ ভাগ ব্যবহারকারী সাইবার অপরাধের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ ভাগ কোনো না কোনোভাবে সাইবার অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং মাত্র ১০ ভাগ ব্যবহারকারী সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন। এতো সিকিউরিটি, এতো সতর্কতা অবলম্বন করার পরও আমাদের ভুল হয়েই যায়। ভুলে কাউকে হয়তো বিশ্বাস করে ফেলি, কোনো ফেইক আইডিকে আপন ভেবে মনের জানালা খুলে দিই কিংবা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই কোনো সাইকোপ্যাথের বিকৃত মানসিকতার সম্মুখীন হই। সেক্ষেত্রে হতবুদ্ধি না হয়ে সবকিছুর প্রমাণসহ পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটের সাহায্য নিতে পারেন। প্রয়োজনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখতে পারেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেও (বিটিআরসি) লিখিতভাবে জানিয়ে রাখতে পারেন। কারণ জিডি বা মামলা না করে কোনো প্রকার আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে না।

অনলাইনে যেকোনো ধরনের হুমকি বা বিপদের মুখোমুখি হলে দেরি না করে সাইবার আইনের সাহায্য নেয়া উচিত। আমাদের দেশে বিশেষ করে মেয়েরা ফেসবুকে নানা ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে থাকে। যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, তাহলে একমাত্র সাইবার আইনই আপনাকে এ থেকে মুক্ত করতে পারে। মনে রাখবেন, যে ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘৃণ্য কাজ করতে পারে তার চাহিদার কোনো শেষ নেই। দু’দিন পরপরই সে আপনাকে নতুন নতুন কায়দায় ব্ল্যাকমেইল করতে থাকবে। তাই প্রশ্রয় না দিয়ে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নেয়াটাই সমীচীন।

“নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম

বন্ধুর কাছে মনের খবর ক্যামনে পৌঁছাইতাম? ”

আশ্চর্যজনকভাবে আজকাল টেলিফোন, টেলিগ্রাম অথবা ডাক বিভাগের সাহায্য ছাড়াই আমরা আমাদের মনের কথা পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দিতে পারছি। বন্ধুর কাছে মনের খবর তো যাচ্ছেই, নতুন নতুন বন্ধুও গড়ে উঠছে ফেসবুকের এই নীল সাদার দুনিয়ায়। এ বন্ধুত্বে যেন কোনো পিছুটান নেই, কোনো দায়িত্ব নেই। কেবলমাত্র ভালো সময় কাটাবার জন্য গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবার জন্যই আশীর্বাদ হয়ে আসবে। দরকার শুধু নিজের প্রাইভেসী রক্ষা করার বিষয়গুলো সম্পর্কে একটু সচেতন হওয়া। আর এভাবেই ফেসবুক হয়ে উঠবে আপনার জন্য আশীর্বাদ!

হ্যাপী ফেসবুকিং!

Continue Reading

Relationship

Relationship সম্পর্কিত নারীদের জন্য কিছু পরামর্শ

Published

on

কম-বেশি সবাই বলে থাকে, ‘সম্পর্কগুলো আগলে রাখা খুব কঠিন!’ তবে প্রকৃতপক্ষে এ কথাটি সত্য নয়। এটি কখনোই জটিল বা বেদনাদায়ক নয়। বরং একটি সুন্দর ও সাবলিল সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আপনার  ভালোবাসার প্রতি একটু সচেতনতা ও পজিটিভ মানসিকতাই যথেষ্ট। সাধারণত আমরা সবাই অলস প্রকৃতির। আমরা মনে করি, আমাদের সম্পর্কগুলো জাদুকরী তৈলাক্ত মেশিনের মতো করে আপনাআপনি ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। আসলেই কি তাই? না, যেকোনো সম্পর্কই সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে আপনার সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা ও যথেষ্ট দায়িত্বশীল হতে হবে। নিচে নারীদের জন্য ‘রিলেশনশীপ’ সম্পর্কিত কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যা আপনার সম্পর্ককে করবে সুখময়।

 

নিজেকে ভালোবাসুন

নিজেকে ভালো রাখতে হলে সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি সেটা হলো, ‘নিজেকে ভালোবাসা’। আপনি নিজেকে যদি ভালো না বাসেন তাহলে নিজেতো ভালো থাকতে পারবেন‘ই না! এমনকি অন্য কাউকেও ভালো রাখতে পারবেন না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন,

 

“It’s not selfish to love yourself, take care of yourself and make to your happines a priority. It’s necessary.” -Mandy Hale

“ভালো থাকার জন্য নিজের প্রতি করুণা ও মায়া দেখানোটা খুব বেশি জরুরি। এই জন্য অপরকে ভালোবাসার আগে নিজেকে নিয়ে ভাবুন। নিজেকে অপরের মতো ভালোবাসতে শিখুন। তবেই আপনি ভালো থাকবেন।” আর যখন আপনি নিজেকে ভালোবাসতে ও ভালো রাখতে চাইবেন তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনি নিজের প্রতি অনেক যত্নবান হবেন। এমনকি নিজের সম্পর্কের প্রতিও। যা আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে আরও ভালোবাসতে সহায়তা করবে, গড়ে উঠবে একটি সুন্দর সম্পর্ক।

 

আবেগ, মানসিকতা ও শারীরিক সম্পর্কের সমন্বয় নিশ্চিত করুন

‘আবেগ, মানসিকতা ও শারীরিক সম্পর্ক’ একটি সম্পর্কের মাঝে এ তিনটি জিনিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ তিনটি জিনিসের সমন্বয়েই আপনি আপনার সম্পর্কটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবেন। আপনি যদি কেবল শারীরিকভাবে আপনার সঙ্গীর সাথে সংযুক্ত থাকেন, কিন্তু মানসিকভাবে দূরত্ব বজায় রাখেন এবং সম্পর্কের প্রতি কোনো আবেগ বা মোহ না থাকে তাহলে সে সম্পর্কটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অথবা আপনি যদি শুধু মানসিকভাবে তার সাথে সংযুক্ত হতে পারেন কিন্তু সম্পর্কের প্রতি কোনো আবেগ বা শারীরিকভাবে কোনো চাহিদা না থাকে তাহলে সে সম্পর্কটিও ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ধাবিত হবে। তাই সম্পর্কটির সমস্তক্ষেত্রে আপনাদের মাঝে দৃঢ় বন্ধন থাকতে হবে। 

 

আপনার সঙ্গীকে যথেষ্ট সময় দিন

আমরা সবাই জানি, আমাদের প্রত্যেকেরই একটি নিজস্ব জীবনধারা রয়েছে, ব্যক্তি স্বাধীনতা রয়েছে। এমনকি এটাও জানি যে, আমরা কখনো একা একা খুব বেশি সময় কাটাতে পারবো না। তাই বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে সময় ব্যয় করতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনি আপনার সঙ্গীকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন তো? কারণ, শত ব্যস্ততার মাঝেও দিন শেষে প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্য না পেলে নিজেকে বড্ড বেশি নিঃসঙ্গ মনে হয়।

তাই সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশে প্রিয় মানুষটির প্রতি মনোযোগ রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রতি মনোযোগ হারালে ধীরে ধীরে একটা সময় হয়তো আপনার সম্পর্কটিই হারিয়ে যাবে। তাই সবকিছুর মাঝেও আপনি আপনার জীবনসঙ্গীকে প্রতিনিয়ত সময় দিন। তাকে কখনো সঙ্গীহীনতা অনুভব করতে দিবেন না। বাসার বাহিরে থাকাকালীন ফোন কল অথবা টেক্স ম্যাসেজের মাধ্যমে কন্টাক্ট রাখুন। বাসায় এলে বিভিন্ন গল্প-গুজব, খুনশুটিতে মাতিয়ে রাখুন। এতে করে আপনাদের সম্পর্কটিও থাকতে সজিব ও প্রাণবন্ত।

 

তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন

সাধারণত আমরা সবাই মনে করি যে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা শ্রোতা হিসেবে অনেক এগিয়ে। প্রকৃতপক্ষে এটি সত্য নয়। যেকোনো সমস্যা সমাধানে  নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ধৈর্যশীল শ্রোতা হয়ে থাকে। একটু ভেবে দেখুন, আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কারো সাথে কথা বলছেন কিন্তু আপনি যার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলছেন সে আপনার কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনছে না বা সেরকম গুরুত্ব দিচ্ছে না। তখন আপনি নিশ্চয়ই খুব বিরক্তিবোধ করবেন? এটাই স্বাভাবিক। ঠিক একইভাবে অন্যের ক্ষেত্রেও তাই ঘটে থাকে।

আর পুরুষেরা যেমন ভালো শ্রোতা ঠিক তেমনি তাদের সমস্যাগুলোও নিজ নিজ সঙ্গীদের সাথে গুরুত্ব সহকারে শেয়ার করে থাকে। তারাও চায় তাদের কথাগুলো কেউ একজন গুরুত্ব সহকারে শুনুক, উপলব্ধি করুক। শুধু যে সমস্যা সমূহই তা নয়, হতে পারে ভালোবাসা, ভালো লাগা সম্পর্কিত বিষয়াবলীও আপনার সাথে শেয়ার করতে চাইবে। এক্ষেত্রে আপনার উচিত তার কথাগুলো ধৈর্যশীল শ্রোতা হয়ে শোনা এবং নিজের মতামত প্রকাশ করা।

 

তাকে বদলানোর চেষ্টা করবেন না

চোখের জল দিয়েই হোক বা জোড় করেই হোক! নারীরা তাদের জীবন সঙ্গীদের নিজের মতো করে নিতে চায়। তারা মনে করে, ‘আমি যদি তাকে কোনোভাবে বিয়ে করে ফেলতে পারি, তাহলে পরে সব ঠিক করে ফেলবো।’ অথবা, ‘আমি যদি তাকে মোবাইল ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারি, তাহলে সে আমাকে যথেষ্ট সময় দিবে।’ নারীদের এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। মূলত একজন নারী যত সহজে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারে, পুরুষরা তত সহজে নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে পারে না। অথবা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য কারো চাপে নিজের মাঝে পরিবর্তন আনতেও পছন্দ করে না।

 

“Don’t try to change him, he will change himself if he loves you.” ~ Andrew Guerra

 

আপনার জীবন সঙ্গীর প্রতিটা জিনিস আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে আপনি যদি আপনার পছন্দগুলো তার উপর চাপিয়ে দিতে চান বা তার মাঝে থাকা আপনার অপছন্দগুলো বদলে দিতে চান তাহলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাই তাকে সরাসরি বদলে ফেলার চেষ্টা না করে তাকে ভালোবাসুন। ভালোবাসা দিয়ে তার মন জয় করে নিন। দেখবেন, আপনার ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে সে নিজেই বদলাতে শুরু করবে।

 

সমস্যা সমূহকে কখনো অবহেলা করবেন না

 

“Death is a solution to all problems. No man, no problem.” ~ Joseph Stalin

 

অতএব, এ জগতে কোনো মানুষই সবদিক থেকে পরিপূর্ণ নয়। প্রত্যেকটি মানুষই কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগে থাকে। ঠিক তেমনি প্রত্যেকটি সম্পর্কের মাঝেই ছোটখাটো সমস্যা দেখা দেয়। আর হ্যাঁ, সমস্যা সমূহ ছোট অথবা বড় সব সমস্যারই তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

আপনাদের সম্পর্কের মাঝেও হয়তো কোনো না কোনো সমস্যা থাকতে পারে। তা যত বড় বা ছোট সমস্যাই হোক না কেন! কখনো অবহেলা করবেন না। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সমস্যা হলেও আপনার সঙ্গীর সাথে শেয়ার করুন এবং দুজনে পরামর্শ করেই সমাধান করার চেষ্টা করুন। নতুন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যাগুলোই একটা সময় সম্পর্কের মাঝে বিশাল বাধা সৃষ্টি করবে।

 

তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন

সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত নয় যেটা- ‘আমি বনাম তুমি’ বরং এমন হওয়া উচিত- ‘তুমি আর আমি মিলে আমরা’। মানে একটি সংবদ্ধ দল। যেখানে নিজেদের মধ্যে থাকবে না কোনো প্রতিযোগিতা, থাকবে না কোনো রেষারেষি। যা থাকবে, শুধুই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোলাগা, ভালোবাসা ও একত্রে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

সম্পর্কের মাঝে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা হয়তো আপনার মনের মতো নাও হতে পারে। আপনার চিন্তা-চেতনা সঠিক নাও হতে পারে। তাই সবকিছুই আপনার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা না করে আপনার সঙ্গীর অবস্থানে নিজেকে বসিয়ে বিবেচনা করুন এবং তার সিদ্ধান্তকে মেনে নিন পাশাপাশি তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি দেখান। দেখবেন, সে নিজেও আপনার সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করবে। আর হ্যাঁ, নিজের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সম্পর্কের বোঝাপড়াটাও বেশ অসহনীয় হয়ে পড়ে।  

 

ভিন্নতা সমূহকে গ্রহণ করুন

এ জগতে প্রত্যেকটি মানুষই ভিন্ন, প্রত্যেকটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু সত্ত্বা আছে। প্রত্যেকটি মানুষের চিন্তাধারা, চাওয়া-পাওয়া ভিন্ন। কিছু কিছু বিষয়ে আচরণগত সাদৃশ্যতা থাকলেও দুটি মানুষের মধ্যে শতভাগ সাদৃশ্যতা কখনোই থাকবে না। ঠিক তেমনি, আপনার সঙ্গীর চিন্তাচেতনার সাথে আপনার চিন্তাচেতনার মিল নাও থাকতে পারে। এটা খুব সাধারণ একটি বিষয়।

তার অনেক আচরণই হয়তো আপনার ভালো লাগে না। হয়তোবা আপনার কোনো আচরণ তারও ভালো নাও লাগতে পারে। তাই বলে সাধারণ বিভিন্নতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করবেন না। দুজনার মধ্যবর্তী বৈসাদৃশ্যগুলো সহজেই গ্রহণ করে নেবার চেষ্টা করুন। তবে তার সাথে আপনার বৈসাদৃশ্যগুলো যদি খুব বেশি গুরুতর হয়, আপনার সহ্য-সীমা অতিক্রম করে ফেলে; তাহলে ভেবে নিবেন সে আপনার সমপোযোগী নয়।

কথায় আছে, “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।” ঠিক তাই, একটি সম্পর্কের মূল চাবিকাঠি থাকে নারীদের হাতেই। আবারো বলছি, নারীরা চাইলে তাদের ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবীটাও জয় করে নিতে পারবে। সবশেষে, একটি সম্পর্ক সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে আপনার ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই যথেষ্ট।

Continue Reading

Relationship

আপনার সন্তানকে এই ১০ ধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন

Published

on

‘মা যেমন মেয়ে তেমন।’ সন্তান কেমন ধরণের হবে তা নির্ভর করে পিতামাতার আচরণের উপর ভিত্তি করে। বাবা-মা যেমন আচরণ করবে সন্তানের সাথে, ঠিক তেমন মানসিকতার তৈরি হবে সন্তান। আসলে, আমাদের সমাজে সন্তান পালনের বেশিরভাগ দায়িত্বগুলো মায়েদের পালন করতে হয়। তবে বাবার আচরণও সন্তানের উপর প্রভাব পড়ে। আর সন্তানের কিছু প্রকৃতিগত আচরণ তো বাবা-মায়ের জেনেটিক কারণেই পেয়ে থাকে। প্রতিটি সন্তানকে ভীষণ যত্নের সহিত লালন-পালন করতে হয়। সন্তান সঠিকভাবে লালন-পালন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিছু ভুল করে ফেলি আমরা তাদের লালন পালনের ক্ষেত্রে, যা পরবর্তীতে খুব একটা ভালো প্রভাব পড়ে না সন্তানের উপর। চলুন, আজ জেনে নিই কমন কিছু ভুল যা আমরা সন্তান পালনের ক্ষেত্রে করে থাকি।

 

সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়

 

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে বলি, সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়। এই কথাটি আসলে সন্তানকে বলা উচিত না। এই কথাটির ফলে বাচ্চারা অনেক সময় না বুঝেই অপরিচিত কারো কথাও মেনে নিতে পারে, যা বাচ্চাটির ক্ষতির কারণও হতে পারে। আজকাল বাচ্চা কিডন্যাপ তো খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এমন কেউ তাকে কোথাও নিয়ে যেতে চায় খুব সহজেই সে রাজি হয়ে যাবে। কারণ আপনি বলেছেন, বড়দের কথা শুনতে হয়। ভাবুন তো, কত বড় বিপদ হতে পারে এই কথাটি সন্তানকে বলার ফলে! তাই এভাবে না বলে বলুন, বাবা-মায়ের কথা সবসময় শুনতে হয়।

 

কান্না বন্ধ করো

 

বাচ্চারা অনেকসময় কান্নাকাটি করে থাকে। আমরা তার কথা না শুনেই ঝাড়ি দিয়ে বলি, ‘কান্না বন্ধ করো’। এভাবে না বলে আমরা তার কাছে গিয়ে আদরের সহিত বলতে পারি, কী সমস্যা তোমার, আমাকে বলো। যদি কোনো ভুল করেও থাকে, তবুও সে আপনাকে বলতে দ্বিধা করবে না। সন্তানের কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তাকে বিশ্বাস করাতে হবে- যাই হোক না কেন, তুমি নির্দ্বিধায় আমাকে বলতে পারো। যদি আপনি ধমক দিয়ে কান্না বন্ধ করতে বলেন, সে হয়তো চুপ হয়ে যাবে। কিন্তু নিজের ভেতর সে নিজেকে গুটিয়ে নিবে। আর এভাবে হয়তো কোনো বড় ধরণের সমস্যাও আপনার অজানাই থেকে যাবে। তাই সন্তানের কান্নার কারণ জানতে চেষ্টা করুন।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

বাবা-মায়ের সবচেয়ে কমন ভুল হলো, ‘তুলনা করা’। আমরা আমাদের সন্তানকে সবসময় অন্যের সাথে তুলনা করে থাকি। ‘দেখো, ও কতো নাম্বার পেয়েছে আর তুমি কতো নাম্বার পেয়েছো’; ‘ওর আচরণ কতো ভালো আর তোমার আচরণ মোটেও ভালো না’। এমন কথাগুলো আমরা প্রায়ই সন্তানকে বলি। আসলে কখনো কারো সাথে তুলনা করা উচিত নয়। এই তুলনা করার ফলে বাচ্চার হিংসাত্মক মনোভাব তৈরি হয়ে যায়। সে অপরজনকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করে। এতে করে সে পরবর্তী সময়ে নিজের প্রতি আস্থা ও ধীরে ধীরে শেষ আত্মবিশ্বাসটুকুও হারিয়ে ফেলে। তাই আপনার সন্তানের প্রতিভা সম্পর্কে জানুন, আর সেই অনুযায়ী তাকে মোটিভেট করুন সামনে এগিয়ে যেতে। অন্যের সাথে তুলনা করে নয়।   

 

কর্তৃত্ব খাটানো

 

আমরা আমাদের সন্তানের কর্তৃত্ব নিজের কাছে রেখে দেই। তার সব বিষয়ের যত সিদ্ধান্ত আমরা বাবা-মা নিয়ে থাকি। তার মতামতের কোনো মূল্য দেই না। তাকে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করি। আমরা ভাবি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আসলে এটা ভুল ধারণা। ওদের কাছে জিজ্ঞেস করে আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে সে খুব সহজেই সেটা মেনে নিবে। তাকে যদি বলি, ‘আমরা তোমার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তটা নিতে চাচ্ছি, তুমি কী বলো?’ সে তখন এটার ব্যাপারে আরো কিছু নতুন  আইডিয়া যোগও করতে পারে অনায়াসেই।

 

প্রশংসা না করা

 

সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করতে হবে পিতামাতার। প্রতিটি বাচ্চাই আলাদা আলাদা গুণের অধিকারী, তাদের সবধরনের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করতে হবে। এতে করে সে আরো বেশি বেশি ভালো কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরি করবে। কিন্তু আমরা গার্ডিয়ানরা ভাবি, তার প্রশংসা করলে সে আর ভালো কাজ করবে না বা তার সামনাসামনি প্রশংসা করা ঠিক না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং প্রশংসা করলে সে আরো ভালো কাজ করার প্রতি অনুপ্রেরণা পাবে।

 

কে শিখিয়েছে এসব

 

অনেক সময় বাচ্চারা খারাপ কিছু বললে বা করলে আমরা বলি, ‘এটা তোমাকে কে শিখিয়েছে?’ এমন কথা বাচ্চাদের মোটেও বলা উচিত নয়। এমন কথা বললে বাচ্চার মনে এটা ধারণা জন্মাবে যে, খারাপ কাজের দোষ অন্যের উপর চাপানো যায়। এরপর থেকে সে ভুল করলে, খুব সহজেই নিজের দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দিবে। তাই এমনটা বলা থেকে বিরত থাকুন।

 

নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা

 

বাচ্চারা যখন বাহিরে খেলাধুলা করে, প্রায় সময়ই তারা মারামারি করে থাকে। আর বিচার তো নিয়ে আসবেই কান্না করতে করতে। এক্ষেত্রে আপনাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আপনি আপনার সন্তানের দোষ না হলেও তাকে বকবেন না। আবার আপনার সন্তানের দোষ থাকা স্বত্বেও আপনি অন্যের সন্তানকে বকবেন না। আপনি নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে এতে করে আপনার সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে।

 

অনেক বেশি নিরাপত্তামূলক

 

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে ভালোবাসি। তাকে কোনো অবস্থাতেই কষ্ট দিতে চাই না। যার ফলে বাবা-মা অনেক বেশি প্রটেক্টিভ হয়ে যায় নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে। এটা ঠিক নয়। অতিরিক্ত কেয়ার তাকে অলস করে দিবে, সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখবে না। সন্তানকে মাঝে মাঝে নিজেই স্কুলে বা খেলতে যেতে দেওয়া উচিত। এতে করে সে বাহিরের কঠিন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখবে।

 

ভয় দেখানো

 

আমরা বাচ্চাদের নিয়ে যখনই আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বা কোথাও বেড়াতে যাই, সেখানে বাচ্চা কোনো ভুল করলে তাকে বলি, ‘চলো বাসায়, আজকে তোমার খবর আছে’। এমন কথা বলা উচিত নয়। এতে করে সে বাড়িটাকে খুব একটা পছন্দ করবে না। সে ভয়ে ভয়ে থাকবে সবসময় যে, বাড়িতে গেলেই তো বকাঝকা শুনতে হবে। তাই ভুলেও বাচ্চাদের এমন কথা বলা ঠিক নয়।  

 

প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া

 

বাচ্চারা ভীষণ কৌতূহলী স্বভাবের থাকে। প্রায় সময়ই নানান কিছু জানতে চায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে। আমাদের তাদেরকে ধমক না দিয়ে, প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া উচিত। আর যদি তার প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকে, তাহলে তাকে পরে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করুন। ধমক দিয়ে হতাশ করবেন না। এটা বলা যাবে না যে, তুমি তো ছোট, বড় হলে জেনে নিও। এমনটা না বলে বলতে হবে, চলো একসাথে দেখি বা জানি।

 

এই ভুলগুলো আমরা সচরাচর করে থাকি সন্তান পালনের ক্ষেত্রে। আসলে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। চলুন, আজ থেকে নিজের সন্তান পালনের ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হই।

Continue Reading

Trending