পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান?

জীবিকার প্রত্যাশায় আমরা সবাই কম বেশি ব্যস্ততার স্বীকার। ব্যস্ততা এবং কোলাহলের ভিড়ে  আমরা অনেক কিছুই হয়তো পেছনে ফেলে এসেছি। জীবনে সাফল্য লাভের প্রত্যাশায় বরাবরই ছুটাছুটির অন্ত নেই। আমরা অনেকেই ভুলে যাই আমাদের আশপাশ এবং আমাদের প্রিয়জনদের কথা। পরিবারকে সময় দেয়ার মত সময় কোথায়? শুনতে অদ্ভুত শোনালেও কথাটি কিন্তু কঠিন বাস্তব, কাজের ভিড়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রিয়জনদের অবহেলা করি। কিন্তু ভালবাসার জন্ম কিন্তু পরিবার থেকেই শুরু।

 

পরিবারই হল মানুষ গড়ার প্রথম স্তর। একজন ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার মূল শিকর কিন্তু পরিবারই। পরিবারের সুখই প্রকৃত সুখ যা কেউ আপনাকে দিতে পারবে না। পরিবারের ভালোবাসাটি হবে নিঃস্বার্থ। এখন একটু ভেবে দেখুন তো পরিবার আত্মীয়স্বজনদের সময় না দিয়ে সাফল্যের পেছনে ছুঁটে চলায় কি লাভই বা হচ্ছে আপনার, জীবনের মূল্যই বা কতটুকু রয়ে গেল। তবে চলুন এখনই জেনে নেয়া যাক পরিবারের সাথে আরও সময় কাটানোর কিছু সহজ উপায়সমূহ।

 

১। সপ্তাহে একদিন হাতে সময় রাখুন

 

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারের জন্য অবশ্যই বেশ খানিকটা সময় বরাদ্দ রাখুন। পুরো সপ্তাহ কাজের ব্যস্ততায় পরিবারকে তেমন সময় দেয়া হয় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে পরিবারকে নিয়ে কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন। এতে মানসিক চাপ দূর হবে এবং প্রিয় মানুষের সাথে বন্ধনও দৃঢ় হবে।

 

২। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাই রান্নায় অংশ নিন

 

পরিবারের সদস্যদের খাবারের পছন্দ অপছন্দ আমরা সবাই কম বেশি জেনে থাকি। সপ্তাহের একটি দিন সবাই একত্রে পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য পছন্দের খাবার রান্না করা যাক। এতে সম্পর্ক আরও মজবুত এবং পরিবারের সাথে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করার সৌভাগ্য হবে।

 

৩। একত্রে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন করুন

 

উৎসবমুখর পরিবেশ সবসময়ই পরিবারকে আরও সন্নিকটে নিয়ে আসে। জীবনের নানা ব্যস্ততার কারনে আমরা অনেকেই পরিবারের সাথে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন করতে পারি না। এতে পারিবারিক সম্পর্কেও বাড়ে দূরত্ব। তবে নিজেরা একটু চাইলেই সময়ের স্বল্পতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে, যতটুকু সময় পাওয়া যায় তার মাঝেই নিজেদের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনার উপলক্ষ তৈরি করতে পারি। 

 

৪। কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন

 

দিনের পর দিন সব কয়টা ছুটি ঘরে বসে কিংবা আশেপাশে ঘুরেফিরে কাটিয়ে ফেলি আমরা।  কেউ কাজে, কেউ বা অলসতায় কম বেশি সবাই ব্যস্ত। স্বল্প গণ্ডির জীবন থেকে একটু বেরিয়ে সপরিবারে কোথাও গিয়ে খানিকটা ঘুরে আসুন। এতে কাজের একঘেয়ামিও দূর হবে এবং পরিবারের সাথে খানিকটা সময়ও কাটবে।

 

৫। কাজের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন

 

ব্যস্ততা কমে না, দিন দিন বেড়েই চলে। হয়তো কাজের ব্যস্ততায় সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে দিন দিন। একই শহরে থেকেও একদিন দেখা করার সময়টিও যেন হয়ে উঠে না, কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন শুধু আপনার শহরই নয়, গোটা পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তাই হাজারো কাজের ফাঁকে নিজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকতা আরও বাড়বে।

 

 

৬। অফিস শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন

 

যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বয়স্করাও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। ইন্টারনেটের মহে আমরা রীতিমতো দিশেহারা। পারিবারিক আড্ডা বা বন্ধুমহলেও আমরা আড্ডা রেখে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাছাড়া অফিসের সারাদিনের ধকল শেষে বাড়িতে ফিরেই আবারো ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকি। এতে পরিবারের সদস্যের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। তাই যতটুকু সম্ভব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরত থাকুন এবং পরিবারকে যথার্থ সময় দিন।

 

৭। অফিসের কাজ অফিসেই সেড়ে আসুন

 

প্রায়ই অফিসে কাজের চাপ প্রচুর থাকে। কাজ সময়মত সাড়তে না পাড়ার কারনে অনেকেই সেই কাজ বাসায় করার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে যে সময়টুকু আপনি পরিবারকে দিতেন তার অনেকাংশই কাজের ব্যস্ততায় ব্যয় হয়। তাই যতটুকু সম্ভব অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করুন, পরিবারকে সময় দিন। সারাদিন কি ঘটলো তা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। এতে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

 

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, হতাশাগ্রস্থ জীবনে পরিবারই শেষ সম্বল। কর্মস্থলে সাফল্যের পেছনে এত ছোটাছুটি, তার সবই কিন্ত  পরিবারের জন্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে, কাজ যেন পরিবারের অবহেলার কারণ না হয়। অবসর সময়গুলো বিসর্জন করুন পরিবারের কল্যাণের জন্য, হাসিমাখা মুখগুলোর জন্য।  দিনশেষে ভালোবাসাময় পরিবারের সবাই শুধু ভালোবাসা এবং স্মৃতিগুলোই মনে রাখে। বেঁচে থাকুক পরিবারের সেই মিষ্টি মুহূর্তগুলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *