Connect with us

Relationship

পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান?

Published

on

জীবিকার প্রত্যাশায় আমরা সবাই কম বেশি ব্যস্ততার স্বীকার। ব্যস্ততা এবং কোলাহলের ভিড়ে  আমরা অনেক কিছুই হয়তো পেছনে ফেলে এসেছি। জীবনে সাফল্য লাভের প্রত্যাশায় বরাবরই ছুটাছুটির অন্ত নেই। আমরা অনেকেই ভুলে যাই আমাদের আশপাশ এবং আমাদের প্রিয়জনদের কথা। পরিবারকে সময় দেয়ার মত সময় কোথায়? শুনতে অদ্ভুত শোনালেও কথাটি কিন্তু কঠিন বাস্তব, কাজের ভিড়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই প্রিয়জনদের অবহেলা করি। কিন্তু ভালবাসার জন্ম কিন্তু পরিবার থেকেই শুরু।

 

পরিবারই হল মানুষ গড়ার প্রথম স্তর। একজন ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার মূল শিকর কিন্তু পরিবারই। পরিবারের সুখই প্রকৃত সুখ যা কেউ আপনাকে দিতে পারবে না। পরিবারের ভালোবাসাটি হবে নিঃস্বার্থ। এখন একটু ভেবে দেখুন তো পরিবার আত্মীয়স্বজনদের সময় না দিয়ে সাফল্যের পেছনে ছুঁটে চলায় কি লাভই বা হচ্ছে আপনার, জীবনের মূল্যই বা কতটুকু রয়ে গেল। তবে চলুন এখনই জেনে নেয়া যাক পরিবারের সাথে আরও সময় কাটানোর কিছু সহজ উপায়সমূহ।

 

১। সপ্তাহে একদিন হাতে সময় রাখুন

 

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারের জন্য অবশ্যই বেশ খানিকটা সময় বরাদ্দ রাখুন। পুরো সপ্তাহ কাজের ব্যস্ততায় পরিবারকে তেমন সময় দেয়া হয় না। তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে পরিবারকে নিয়ে কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন। এতে মানসিক চাপ দূর হবে এবং প্রিয় মানুষের সাথে বন্ধনও দৃঢ় হবে।

 

২। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাই রান্নায় অংশ নিন

 

পরিবারের সদস্যদের খাবারের পছন্দ অপছন্দ আমরা সবাই কম বেশি জেনে থাকি। সপ্তাহের একটি দিন সবাই একত্রে পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য পছন্দের খাবার রান্না করা যাক। এতে সম্পর্ক আরও মজবুত এবং পরিবারের সাথে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করার সৌভাগ্য হবে।

 

৩। একত্রে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন করুন

 

উৎসবমুখর পরিবেশ সবসময়ই পরিবারকে আরও সন্নিকটে নিয়ে আসে। জীবনের নানা ব্যস্ততার কারনে আমরা অনেকেই পরিবারের সাথে বিশেষ দিনগুলো উৎযাপন করতে পারি না। এতে পারিবারিক সম্পর্কেও বাড়ে দূরত্ব। তবে নিজেরা একটু চাইলেই সময়ের স্বল্পতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে, যতটুকু সময় পাওয়া যায় তার মাঝেই নিজেদের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনার উপলক্ষ তৈরি করতে পারি। 

 

৪। কোথাও গিয়ে ঘুরে আসুন

 

দিনের পর দিন সব কয়টা ছুটি ঘরে বসে কিংবা আশেপাশে ঘুরেফিরে কাটিয়ে ফেলি আমরা।  কেউ কাজে, কেউ বা অলসতায় কম বেশি সবাই ব্যস্ত। স্বল্প গণ্ডির জীবন থেকে একটু বেরিয়ে সপরিবারে কোথাও গিয়ে খানিকটা ঘুরে আসুন। এতে কাজের একঘেয়ামিও দূর হবে এবং পরিবারের সাথে খানিকটা সময়ও কাটবে।

 

৫। কাজের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন

 

ব্যস্ততা কমে না, দিন দিন বেড়েই চলে। হয়তো কাজের ব্যস্ততায় সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে দিন দিন। একই শহরে থেকেও একদিন দেখা করার সময়টিও যেন হয়ে উঠে না, কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন শুধু আপনার শহরই নয়, গোটা পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তাই হাজারো কাজের ফাঁকে নিজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকতা আরও বাড়বে।

 

 

৬। অফিস শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকুন

 

যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বয়স্করাও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত। ইন্টারনেটের মহে আমরা রীতিমতো দিশেহারা। পারিবারিক আড্ডা বা বন্ধুমহলেও আমরা আড্ডা রেখে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাছাড়া অফিসের সারাদিনের ধকল শেষে বাড়িতে ফিরেই আবারো ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকি। এতে পরিবারের সদস্যের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। তাই যতটুকু সম্ভব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরত থাকুন এবং পরিবারকে যথার্থ সময় দিন।

 

৭। অফিসের কাজ অফিসেই সেড়ে আসুন

 

প্রায়ই অফিসে কাজের চাপ প্রচুর থাকে। কাজ সময়মত সাড়তে না পাড়ার কারনে অনেকেই সেই কাজ বাসায় করার সিদ্ধান্ত নেয়। যার ফলে যে সময়টুকু আপনি পরিবারকে দিতেন তার অনেকাংশই কাজের ব্যস্ততায় ব্যয় হয়। তাই যতটুকু সম্ভব অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করুন, পরিবারকে সময় দিন। সারাদিন কি ঘটলো তা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। এতে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

 

অবশ্যই মনে রাখতে হবে, হতাশাগ্রস্থ জীবনে পরিবারই শেষ সম্বল। কর্মস্থলে সাফল্যের পেছনে এত ছোটাছুটি, তার সবই কিন্ত  পরিবারের জন্য। তাই খেয়াল রাখতে হবে, কাজ যেন পরিবারের অবহেলার কারণ না হয়। অবসর সময়গুলো বিসর্জন করুন পরিবারের কল্যাণের জন্য, হাসিমাখা মুখগুলোর জন্য।  দিনশেষে ভালোবাসাময় পরিবারের সবাই শুধু ভালোবাসা এবং স্মৃতিগুলোই মনে রাখে। বেঁচে থাকুক পরিবারের সেই মিষ্টি মুহূর্তগুলো।

Relationship

আপনার সন্তানকে এই ১০ ধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন

Published

on

‘মা যেমন মেয়ে তেমন।’ সন্তান কেমন ধরণের হবে তা নির্ভর করে পিতামাতার আচরণের উপর ভিত্তি করে। বাবা-মা যেমন আচরণ করবে সন্তানের সাথে, ঠিক তেমন মানসিকতার তৈরি হবে সন্তান। আসলে, আমাদের সমাজে সন্তান পালনের বেশিরভাগ দায়িত্বগুলো মায়েদের পালন করতে হয়। তবে বাবার আচরণও সন্তানের উপর প্রভাব পড়ে। আর সন্তানের কিছু প্রকৃতিগত আচরণ তো বাবা-মায়ের জেনেটিক কারণেই পেয়ে থাকে। প্রতিটি সন্তানকে ভীষণ যত্নের সহিত লালন-পালন করতে হয়। সন্তান সঠিকভাবে লালন-পালন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিছু ভুল করে ফেলি আমরা তাদের লালন পালনের ক্ষেত্রে, যা পরবর্তীতে খুব একটা ভালো প্রভাব পড়ে না সন্তানের উপর। চলুন, আজ জেনে নিই কমন কিছু ভুল যা আমরা সন্তান পালনের ক্ষেত্রে করে থাকি।

 

সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়

 

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে বলি, সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়। এই কথাটি আসলে সন্তানকে বলা উচিত না। এই কথাটির ফলে বাচ্চারা অনেক সময় না বুঝেই অপরিচিত কারো কথাও মেনে নিতে পারে, যা বাচ্চাটির ক্ষতির কারণও হতে পারে। আজকাল বাচ্চা কিডন্যাপ তো খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এমন কেউ তাকে কোথাও নিয়ে যেতে চায় খুব সহজেই সে রাজি হয়ে যাবে। কারণ আপনি বলেছেন, বড়দের কথা শুনতে হয়। ভাবুন তো, কত বড় বিপদ হতে পারে এই কথাটি সন্তানকে বলার ফলে! তাই এভাবে না বলে বলুন, বাবা-মায়ের কথা সবসময় শুনতে হয়।

 

কান্না বন্ধ করো

 

বাচ্চারা অনেকসময় কান্নাকাটি করে থাকে। আমরা তার কথা না শুনেই ঝাড়ি দিয়ে বলি, ‘কান্না বন্ধ করো’। এভাবে না বলে আমরা তার কাছে গিয়ে আদরের সহিত বলতে পারি, কী সমস্যা তোমার, আমাকে বলো। যদি কোনো ভুল করেও থাকে, তবুও সে আপনাকে বলতে দ্বিধা করবে না। সন্তানের কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তাকে বিশ্বাস করাতে হবে- যাই হোক না কেন, তুমি নির্দ্বিধায় আমাকে বলতে পারো। যদি আপনি ধমক দিয়ে কান্না বন্ধ করতে বলেন, সে হয়তো চুপ হয়ে যাবে। কিন্তু নিজের ভেতর সে নিজেকে গুটিয়ে নিবে। আর এভাবে হয়তো কোনো বড় ধরণের সমস্যাও আপনার অজানাই থেকে যাবে। তাই সন্তানের কান্নার কারণ জানতে চেষ্টা করুন।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

বাবা-মায়ের সবচেয়ে কমন ভুল হলো, ‘তুলনা করা’। আমরা আমাদের সন্তানকে সবসময় অন্যের সাথে তুলনা করে থাকি। ‘দেখো, ও কতো নাম্বার পেয়েছে আর তুমি কতো নাম্বার পেয়েছো’; ‘ওর আচরণ কতো ভালো আর তোমার আচরণ মোটেও ভালো না’। এমন কথাগুলো আমরা প্রায়ই সন্তানকে বলি। আসলে কখনো কারো সাথে তুলনা করা উচিত নয়। এই তুলনা করার ফলে বাচ্চার হিংসাত্মক মনোভাব তৈরি হয়ে যায়। সে অপরজনকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করে। এতে করে সে পরবর্তী সময়ে নিজের প্রতি আস্থা ও ধীরে ধীরে শেষ আত্মবিশ্বাসটুকুও হারিয়ে ফেলে। তাই আপনার সন্তানের প্রতিভা সম্পর্কে জানুন, আর সেই অনুযায়ী তাকে মোটিভেট করুন সামনে এগিয়ে যেতে। অন্যের সাথে তুলনা করে নয়।   

 

কর্তৃত্ব খাটানো

 

আমরা আমাদের সন্তানের কর্তৃত্ব নিজের কাছে রেখে দেই। তার সব বিষয়ের যত সিদ্ধান্ত আমরা বাবা-মা নিয়ে থাকি। তার মতামতের কোনো মূল্য দেই না। তাকে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করি। আমরা ভাবি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আসলে এটা ভুল ধারণা। ওদের কাছে জিজ্ঞেস করে আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে সে খুব সহজেই সেটা মেনে নিবে। তাকে যদি বলি, ‘আমরা তোমার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তটা নিতে চাচ্ছি, তুমি কী বলো?’ সে তখন এটার ব্যাপারে আরো কিছু নতুন  আইডিয়া যোগও করতে পারে অনায়াসেই।

 

প্রশংসা না করা

 

সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করতে হবে পিতামাতার। প্রতিটি বাচ্চাই আলাদা আলাদা গুণের অধিকারী, তাদের সবধরনের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করতে হবে। এতে করে সে আরো বেশি বেশি ভালো কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরি করবে। কিন্তু আমরা গার্ডিয়ানরা ভাবি, তার প্রশংসা করলে সে আর ভালো কাজ করবে না বা তার সামনাসামনি প্রশংসা করা ঠিক না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং প্রশংসা করলে সে আরো ভালো কাজ করার প্রতি অনুপ্রেরণা পাবে।

 

কে শিখিয়েছে এসব

 

অনেক সময় বাচ্চারা খারাপ কিছু বললে বা করলে আমরা বলি, ‘এটা তোমাকে কে শিখিয়েছে?’ এমন কথা বাচ্চাদের মোটেও বলা উচিত নয়। এমন কথা বললে বাচ্চার মনে এটা ধারণা জন্মাবে যে, খারাপ কাজের দোষ অন্যের উপর চাপানো যায়। এরপর থেকে সে ভুল করলে, খুব সহজেই নিজের দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দিবে। তাই এমনটা বলা থেকে বিরত থাকুন।

 

নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা

 

বাচ্চারা যখন বাহিরে খেলাধুলা করে, প্রায় সময়ই তারা মারামারি করে থাকে। আর বিচার তো নিয়ে আসবেই কান্না করতে করতে। এক্ষেত্রে আপনাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আপনি আপনার সন্তানের দোষ না হলেও তাকে বকবেন না। আবার আপনার সন্তানের দোষ থাকা স্বত্বেও আপনি অন্যের সন্তানকে বকবেন না। আপনি নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে এতে করে আপনার সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে।

 

অনেক বেশি নিরাপত্তামূলক

 

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে ভালোবাসি। তাকে কোনো অবস্থাতেই কষ্ট দিতে চাই না। যার ফলে বাবা-মা অনেক বেশি প্রটেক্টিভ হয়ে যায় নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে। এটা ঠিক নয়। অতিরিক্ত কেয়ার তাকে অলস করে দিবে, সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখবে না। সন্তানকে মাঝে মাঝে নিজেই স্কুলে বা খেলতে যেতে দেওয়া উচিত। এতে করে সে বাহিরের কঠিন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখবে।

 

ভয় দেখানো

 

আমরা বাচ্চাদের নিয়ে যখনই আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বা কোথাও বেড়াতে যাই, সেখানে বাচ্চা কোনো ভুল করলে তাকে বলি, ‘চলো বাসায়, আজকে তোমার খবর আছে’। এমন কথা বলা উচিত নয়। এতে করে সে বাড়িটাকে খুব একটা পছন্দ করবে না। সে ভয়ে ভয়ে থাকবে সবসময় যে, বাড়িতে গেলেই তো বকাঝকা শুনতে হবে। তাই ভুলেও বাচ্চাদের এমন কথা বলা ঠিক নয়।  

 

প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া

 

বাচ্চারা ভীষণ কৌতূহলী স্বভাবের থাকে। প্রায় সময়ই নানান কিছু জানতে চায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে। আমাদের তাদেরকে ধমক না দিয়ে, প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া উচিত। আর যদি তার প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকে, তাহলে তাকে পরে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করুন। ধমক দিয়ে হতাশ করবেন না। এটা বলা যাবে না যে, তুমি তো ছোট, বড় হলে জেনে নিও। এমনটা না বলে বলতে হবে, চলো একসাথে দেখি বা জানি।

 

এই ভুলগুলো আমরা সচরাচর করে থাকি সন্তান পালনের ক্ষেত্রে। আসলে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। চলুন, আজ থেকে নিজের সন্তান পালনের ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হই।

Continue Reading

Relationship

বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক মজবুত রাখা কেন প্রয়োজন?

Published

on

পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং মধুর সম্পর্কগুলোর মধ্যে সন্তান ও বাবা-মায়ের সম্পর্কগুলো অন্যতম। যেখানে সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা থাকে নিখাদ ও স্বার্থহীন। অপরদিকে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসায় থাকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আর এসবের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে সন্তান ও বাবা-মায়ের মজবুত একটি সম্পর্ক। আর সে সম্পর্কগুলোই অটুট থাকে জীবনাবসান অবধি।

 

তবে এই মধুর সম্পর্কগুলো এমনিতেই মজবুত হয়ে ওঠে না। সন্তান লালন-পালন ও তাদেরকে সঠিক পথের অনুসারী হিসেবে গড়ে তুলতে জন্মের পর থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে সম্পর্কের প্রতি যত্নবান হতে হয় প্রত্যেক বাবা-মাকে। সম্পর্কগুলো মজবুত করতে সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের কর্তব্যগুলোকে প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করে অভ্যাসে পরিণত করতে হয়। আসুন জেনে নিই এমন কিছু সহজ অভ্যাস যা বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক মজবুত করার জন্যে সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী:

 

একই সাথে খাবার গ্রহন করুন

 

শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে একসাথে বসে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সকালে না পারলেও অন্ততপক্ষে রাতের খাবারটা একসাথে খেতে বসুন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সবাই একসাথে বসে খাবার খেলে সন্তানাদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, শক্তিশালী মানসিকতা, উন্নত আচরণ, সামাজিক দক্ষতা ও একাডেমিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

ছোটবেলায় প্রায় প্রতিটি সন্তানেরই খাওয়ার প্রতি একটু অনীহা দেখা দেয়। তাই পরিবারের সবাইকে একসাথে নিয়ে খেতে বসুন। দেখবেন সবার দেখাদেখি আপনার শিশু সন্তানটিও খেতে থাকবে। কারণ শিশুরা সাধারণত অনুকরণপ্রিয় হয়ে থাকে। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে আপনি নিজ হাতে আপনার সন্তানদের খাইয়ে দিতে পারেন। ছেলে-মেয়েরা যতো বড়ই হোকনা কেন; তারা বাবা-মায়ের হাতে খাবার খেতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ও ভালোবাসে। এতে করে সন্তানের সাথে আপনার অকৃত্রিম সম্পর্কটি আরোও দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠবে। আরও মজবুত হবে স্বার্থহীন সম্পর্কগুলো।

 

প্রতিদিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে আলোচনা করুন

 

আপনার সন্তানের সাথে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলুন যেন একে-অপরকে নির্দ্বিধায় সব কথা বলতে ও বুঝাতে পারেন। এক্ষেত্রে সবথেকে ভালো সুযোগ ও সময় হলো রাতের খাবারের সময় অথবা ঘুমানোর আগ মুহূর্তে তাদের সাথে কথা বলা। আপনার প্রতিদিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে পরিবারের সবার সাথে আলোচনা করুন। যেমন- আজ আপনি কয়টি ভালো কাজ করেছেন, আজ আপনার সবচেয়ে বড় অর্জনটা কী ছিলো, আজ আপনি কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং সে সমস্যা গুলো কীভাবে সমাধান করেছেন? ঠিক একই ভাবে তার কাছেও জানার চেষ্টা করুন- সে আজ কয়টি ভালো কাজ করেছে, কয়টি খারাপ কাজ করেছে, তার আজকের সবচেয়ে ভালো সময়টা কী ছিলো, আজ সে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলো, সেগুলো সমাধান করতে পেরেছে কিনা, না পারলে ঐ সমস্যা গুলোর সমাধান কীভাবে করা যেত ইত্যাদি।

 

মোটকথা এসব প্রতিদিনকার খুঁটিনাটি বিষয় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করুন। যা আপনার সন্তানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সাহায্য করবে। প্রতিদিন অল্প অল্প করে নতুন কিছু শিখবে আপনার কাছ থেকে। আপনার মতো করেই জীবন যুদ্ধে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে একজন সেরা সৈনিক হিসেবে এবং তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

 

তাদের সাথে খেলাধুলা করুন

 

সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্ক মজবুত করতে আরেকটি সর্বোত্তম পন্থা হলো বিনোদন অথবা যেকোনো মাধ্যমে তাদেরকে সময় দেওয়া। বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে তাদের সাথে ঘরে অথবা বাইরে খেলাধুলা করুন এবং অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করতে দিন। তাদেরকে সাথে নিয়ে বই পড়ুন, ছবি আকুঁন। তাদের নিয়ে একসাথে বসে টিভি দেখুন। বেশি সময় হাতে পেলে তাদের নিয়ে বনভোজনে যান অথবা রোমাঞ্চকর কোনো জায়গায় ভ্রমণ করে আসুন।

 

ব্যস্ততার মাঝেও অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একদিন সময় দিন। এতে করে তারা ধীরে ধীরে বাইরের পরিবেশের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে শিখবে এবং তাদের সাথে কাটানো সময়টুকু আপনাদের মাঝে মায়ার সঞ্চার করবে যা আপনাদের সম্পর্ক মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

আদর করে বুকে টেনে নিন

 

পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো মায়ের কোল এবং সবচেয়ে সাহস জোগায় যখন সন্তানের কাঁধে বাবার হাতটি থাকে। তাই আপনার সন্তানকে ভালোবেসে বুকে টেনে নিন, খারাপ সময়গুলোতে তাদের অভয় দিন, সামনে এগিয়ে যাবার জন্য তাকে উৎসাহ প্রদান করুন। সন্তানদের সাথে সম্পর্কটা এমনই হওয়া উচিত, যেন তারা আপনার কাছে আসতে ভয় না পায়। তাদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলুন যেন আদর-স্নেহ ভালবাসার কমতি না থাকে। এতে করে আপনার প্রতি  তাদের শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে এবং সম্পর্ক হবে আরো মজবুত।

 

তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন

 

একটি শিশু তার প্রাথমিক শিক্ষাটা বাবা-মায়ের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। বাবা-মা হচ্ছেন সন্তানদের প্রথম শিক্ষক। তাই আপনাকে তাদের প্রতিটি কথা মন দিয়ে শুনতে হবে এবং মূল্যায়ন করতে হবে। এতে করে দেখবেন তারাও আপনার কথাগুলো শুনবে ও মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবে। শিশুকে শিশু না ভেবে একজন মানুষ হিসেবে গণ্য করুন। তাদেরকে কথা বলার সুযোগ দিন, প্রতিটি মতামতকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করুন এবং তাদের চিন্তাধারাগুলোকে তাদের অবস্থান থেকে উপলব্ধি করে পছন্দ-অপছন্দগুলোকে মূল্যায়ন করুন। এতে করে আপনার সন্তানরাও বুঝবে যে তারা আপনার পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তাদের মতামতেরও মূল্য আছে। যা পরিবারের প্রতি আপনার সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও অন্যান্যদের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে সাহায্য করবে।

 

তারা অবুঝ, যেকোনো কাজে তাদের ভুল হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। এক্ষেত্রে তাদেরকে বকাঝকা না করে, ভয় না দেখিয়ে সমস্যার সমাধান করে দিন। পুনরায় চেষ্টা করতে বলুন ও উৎসাহ প্রদান করুন। এসবই তাকে সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে এবং বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্ক অটুট করতে সহায়তা করবে।

 

তাদেরকে টুকিটাকি কাজ করতে দিন এবং তাদের কাজে সাহায্য করুন

 

শিশুরা স্বাভাবিক ভাবেই অনুকরণপ্রিয়। তারা উৎসাহ নিয়েই নতুন কোনো কাজ করতে পছন্দ করে এবং অন্যদের সাহায্য করতে ভালবাসে। তাই ছোট থেকেই তাদেরকে দায়িত্ব সহকারে কাজ করতে শেখান। নিজের টুকিটাকি কাজগুলো নিজেকে সম্পন্ন করার তাগিদ দিন। যেমন- খেলা শেষে খেলনাগুলো গুছিয়ে রাখা, পড়ার টেবিলের বই-খাতাগুলো সাজিয়ে রাখা, স্কুলব্যাগ গুছানো, জুতার ফিতা বাঁধা; এভাবে ছোট থেকেই কাজের উৎসাহ প্রদান করুন। ব্যর্থ হলে বারবার শিখিয়ে দিন এবং আপনি নিজেও তাদের কাজে সাহায্য করুন। আস্তে আস্তে তারা নিজের কাজগুলোকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলবে। এবং একটা সময় যেকোনো কাজের প্রতি নিজ উদ্যোগে দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এভাবেই পরিবার ও পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার সঞ্চার হবে।

 

ভালোবাসা প্রদর্শন করুন প্রতিদিন

 

সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে ভালবাসার কোনো বিকল্প নেই। এ পৃথিবীতে ভালবাসা ছাড়া সবই মূল্যহীন। প্রত্যেক সন্তানকেই সমান চোখে দেখতে হবে এবং সন্তানদের সাথে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত করতে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ করাটাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ তারা ছোট; আপনার অপ্রকাশিত ভালবাসাগুলো তারা উপলব্ধি করতে পারবে না। তাই প্রতিদিন আপনার সন্তানদের জন্য এমন কিছু করুন যাতে করে তারা আপনার ভালবাসার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে। আপনি তাদেরকে কতোটা ভালবাসেন, তারা আপনার কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ- তা প্রতিদিন ছোট ছোট কিছু কাজের মাধ্যমে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

 

বলছিনা কেবলই ভালোবাসুন, কারণ আদরের পাশাপাশি প্রয়োজনের সময়ে সঠিক মাত্রার শাসনটাও জরুরি। কিন্তু তা যেন এমন মাত্রায় না হয়ে যায় যেখানে আপনার সন্তানরাই আপনাকে তাদের অপ্রিয় মানুষদের লিস্টে সংযোজন করে বসে! যদি কখনো তাদের সাথে রাগারাগি হয়, তখন চেষ্টা করুন রাগকে নিয়ন্ত্রণ রাখার এবং তাদেরকে সুন্দর ভাষায় বুঝিয়ে বলার। মাঝেমাঝে বাইরে থেকে তাদের প্রিয় কোনো খাবার কিংবা উপহার নিয়ে এসে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে তাদেরকে কাছে টেনে বুঝিয়ে বলুন আপনি তাদের কতোটা ভালোবাসেন এবং পরিবারে তাদের অবদান কেমন হওয়া উচিত। ভালোবাসা কেবল কাজে প্রকাশ করলেই হয় না, মুখে এবং আচার-আচরণের মাধ্যমেও বুঝাতে হবে। আর এভাবেই আপনাদের সম্পর্কটা হয়ে উঠবে মজবুত। 

 

মাত্র কয়েকটি অভ্যাস পাল্টানোর ফলে যদি সন্তানদের সাথে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন, তাহলে তা হবে অর্থকড়ির চাইতেও অনেক বেশি মূল্যবান। হয়তো আমাদের কারোরই কোনো সুপার পাওয়ার নেই কিন্তু নিজের সন্তানের কাছে কে না হতে চায় সুপার ড্যাড কিংবা সুপার মম? আসুন না, ভালো কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে নিজেকে একটু পরিবর্তন করে সন্তানের কাছে তাদের আইডল হিসেবে পরিচিত হই! নিজের সন্তানদের কাছে নিজেকে পরিচিত করি পৃথিবীর সেরা বাবা কিংবা মা হিসেবে!

Continue Reading

Relationship

সম্পর্ক বলতে মূলত আমরা কি বুঝি?

Published

on

সম্পর্ক এই শব্দটি যেন সব কিছু থেকে ভিন্ন। সম্পর্কের শ্রেণীবিভাগও আছে অসংখ্য। কত ধরনের যে সম্পর্ক হতে পারে তা হয়তো কিছু মানুষের বোধেই আসবে না। তেমনিভাবে সম্পর্কের টানাপরাও হয় বিভিন্নভাবে। তার শুরু হয় যেমন ভিন্ন তেমনি তার শেষটাও। সম্পর্কের সুতো যেন অদৃশ্য। কিন্তু তারপরেও মানুষ এর টান ঠিক অনুভব করতে পারে প্রতিনিয়ত। সেই টানে কিছুটা ঢিল পড়লেই তারও অভিযোগ কম কিছু নয়।

 

‘The word relationship is a completely different thing’

 

সম্পর্ক মূলত কি

 

এটা কি একটি পারিপার্শ্বিক আকর্ষণ, নাকি পিতা-মাতা থেকে চলে আশা জিনেটিক একটি প্রতিফলন। তাই যদি হতো তবে  সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মানুষকে একটি সম্পর্ক কিভাবে এক নতুন বাঁধনে বেঁধে ফেলতে পারেতাহলে কি আমরা বলতে পারি না সম্পর্ক মূলত একটি পারস্পরিক চর্চা যাকে পরিচর্যার মাধ্যমে আমরা একটি নতুন রূপ দিয়ে থাকি। পূর্বেই বলেছি সম্পর্কের কোন শ্রেনীবিভেদ নেই কিন্তু সম্পর্কের বিভিন্ন নামকরণ হয়। এই সম্পর্কেই আমরা কখনো হয়ে উঠি বন্ধু, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, ভাই-বোন বা বিভিন্ন আত্মীয়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্কগুলোও হয়ে ওঠে ভিন্ন। কখনো কাছের মানুষ দূরে চলে যায় আবার কখনও সম্পূর্ণ অচেনা মানুষ হয়ে ওঠে কাছের।

 

তাহলে এই যে সম্পর্ক তার ভিত্তি কি?

 

কিছু মানুষিক গঠন নাকি সামাজিক কিছু বিধি। সম্পর্ক তার ডালা নিয়ে আমাদের কাছে আসে না আমরা তার থেকে আমাদের সুবিধা মতো সম্পর্কগুলো পছন্দ করি। অদ্ভুত এই সম্পর্কের ধরন কখনো হয়তো এমন হয়ে যায় যে ঐ সম্পর্ক ছাড়া আমরা যেন কিছুই ভাবতে পারি না, জীবন যেন থেমে গেছে মনে হয়। নিজেদেরকে অসম্পূর্ণ মনে হতে শুরু করে এবং কখনোবা বেঁচে থাকাটাই অর্থহীন মনে হয়। তাই এই সম্পর্কের ভিত্তি নির্দিষ্টভাবে বলা কিছুটা জটিল।

 

তাহলে সম্পর্ককে কি বলা যায়?

 

সম্পর্ক একটি ফুলের মালা যা শুকিয়ে গেলে নষ্ট হয়,  যা ছিড়ে গেলেও নষ্ট হয় আবার ধুলো লাগলে কিংবা মলিন হলেও আমরা তা বুঝতে পারি। তাহলে কি বলা যায় না সম্পর্ক অনেক সংবেদনশীল। যাকে ছোঁয়া বা স্পর্শ করা যায় না কিন্তু যা পুরাতন কিংবা নষ্ট হয়ে যাবার ভয় থাকে।

 

সম্পর্ক যেন একটি উপলব্ধি। মানুষ তার নিজের গণ্ডী থেকে তা রচনা করে থাকে। সম্পর্ক সম্পূর্ণ অচেনা কিছু মানুষকে জীবনের অংশ করে তোলে। কখন যে এই মানুষগুলো নিজের অস্তিত্বের অংশ হয়ে যায় মানুষ তা বুঝতেও পারে না। মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ জীবন পথের উঁচু নিচু রাস্তাগুলো পাড় করতে যে লোকগুলো এগিয়ে আসে তাদেরকেই হয়তো দুহাতে জড়িয়ে নিয়ে মানুষ গড়ে তোলে নতুন সম্পর্ক। সম্পর্কের কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। এটি কখন কার সাথে কিভাবে গড়ে উঠবে মানুষ তা নিজেও বলতে পারে না। 

 

সম্পর্ক মূলত কিসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে?

একটি সম্পর্ক মূলত কতগুলো উপাদানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কিংবা বলা যায় যে একটি সম্পর্কের কাঠামো মূলত কতগুলো উপাদানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। উপাদানগুলো নিম্নরূপঃ

১। সততা:  সততা একটি মানবিক গুনাবলি। এটি একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। সততা একটি অত্যন্ত সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যা একটি মানুষকে অন্যদের কাছে সম্মানিত করে তোলে।

২। ওয়াদা বা কথা দিয়ে কথা রাখার প্রবণতাঃ ওয়াদা একটি কঠিন শব্দ যার গুরুত্ব অনেক এই মানব জীবনে। যে লোক কথা দিয়ে কথা রাখে না সে কখনো নিজেকে একজন ভাল মানুষ বলে দাবী করতে পারে না। যেকোনো ধরনের সম্পর্ক ওয়াদার মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

৩। বিশ্বস্ততাঃ যেকোনো সম্পর্কের মাঝে বিশ্বস্ততা থাকা জরুরী। অন্যথায় কোন সম্পর্কই টিকে থাকে না। বিশ্বস্ততা অনেকটা দায়বদ্ধতার সাথেও সম্পর্কিত। তাই বর্তমান সমাজে এই বিশ্বস্ততায় খুব সহজেই চির ধরতে দেখা যায়।

 

৪। বন্ধুত্তঃ বন্ধুত্বের মত মিষ্টি সম্পর্ক বোধহয় আর কোথাও নেই। বন্ধুত্ব এমন একটি বাঁধন যা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির বা আচরণের মানুষের সাথে গড়ে উঠতে পারে নিমিষেই। বন্ধুত্ব খুব সহজেই দুটি মানুষের মাঝে প্রাণের সখ্যতা গড়ে তোলে এবং তা আলোয় আলোয় ভরিয়ে দেয়। 

 

৫। দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতাঃ দায়িত্ব যা কিনা একটি ভারি শব্দ। প্রতিটি মানুষই এর ভার বহন করতে কিছুটা কুণ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু যেকোনো সম্পর্ক গড়তে গেলেই এই শব্দটি চলে আসে। যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি যেন এই শব্দটির সাথে জড়িত। তাই যে মানুষের এই দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে সে খুব সহজেই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে থাকে।

 

৬। বোঝার ক্ষমতাঃ একটি সুন্দর সম্পর্ক অনেকটা নির্ভর করে একে অপরের বোঝার ক্ষমতার উপর। যখন একজন অন্যজনের প্রয়োজন সুবিধা- অসুবিধা,  রাগ-অনুরাগ বিভিন্ন অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে এবং কিছুটা বুঝতে পারে তখনই একটি সুন্দর সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।

 

৭। স্বচ্ছতাঃ মনের দুয়ার যার স্বচ্ছ কাঁচের মত তার দৃষ্টি হয় সুন্দর ও মলিন। আর এমন একটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে সে হয়ে যায় অনন্য।

 

৮। ভালোবাসাঃ  ভালোবাসা শব্দটি একটি অনুভূতির সাথে জড়িত। পৃথিবীতে মনে হয় কেবল মানুষই আছে যেকিনা ভালোবাসার অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করতে জানে সুন্দর সুগভীর শব্দ চয়নে।

 

এ সকল উপাদানের মিশ্রণে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপরেও কিছু থেকে যায় যা কিনা মানুষ তার ব্যক্তিগত দক্ষতা বা গুণাবলীর দ্বারা অতিক্রম করে যায়।

 

খুব স্বাভাবিক একটি সম্পর্ক বৈবাহিক সম্পর্ক তা মূলত কি?

 

বিয়ে মূলত একটি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। যা কিনা সমাজ ২ টি মানুষ কে দিয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে ২ জন মানুষ একসাথে থাকার অঙ্গীকার দিয়ে থাকে। এর সাথে দেশের কিছু আইনও জড়িত থাকে। যা কিনা একে অপরের প্রতি  একটি দায়বদ্ধতার সৃষ্টি করে। এর ফলে ২ টি মানুষ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় এবং কিছু দায়িত্বে জড়িয়ে পড়ে একে অপরের প্রতি।

 

এখন প্রশ্ন চলে আসে  বৈবাহিক সম্পর্কে না গিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ভাল/ একত্রে থাকার প্রবণতা ভাল। এটি নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে।

 

লিভিং রিলেশনসিপকে খুব খারাপ বলা যায় ব্যপারটা তা নয়। যখন ২ টি মানুষ ওয়াদাবদ্ধ হয় কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন এধরনের সম্পর্ক হতেই পারে। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখনও এতটা উদার নয়। তাই এক্ষেত্রে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না। এবং নিজেদের বাচ্চাদের জন্য এটি একটি পরিচয় সঙ্কট হয়ে দাঁড়ায়। যা কিনা কোন  বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক।

 

সর্বোপরি বলা যায়, সম্পর্ক এবং তার রেশ মানুষের মনে রয়ে যায় আজীবন। সম্পর্ক মূলত এক অদ্ভুত উপলব্ধিরই নাম।

Continue Reading

Trending