Connect with us

Motivational

ব্যস্ত জীবনে মানসিক শক্তি যোগাতে যা প্রয়োজন

Published

on

আমরা প্রত্যেকেই কম বেশি ব্যস্ত জীবন কাটাই। অধিকাংশ সময় নিজেদের সুখ- দুঃখ, শখ- আহ্লাদ, ভাল লাগা–খারাপ লাগা গুলোর দিকে চোখই পড়ে না। এতে করে একটা সময় গিয়ে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি যা আমাদের কর্মদক্ষতা নষ্ট করে দেয়। হুট করে হাল ছেড়ে দেওয়া, অল্পতেই ভেঙে পড়া কিংবা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলার মত এমন আরো অনেক অবাঞ্ছিত প্রভাব পড়ে আমাদের জীবনে। আর যা কিনা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জীবনে মরণ ব্যাধি হয়ে।

 

তাই আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনে হতাশা এড়ানোর  জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস আমাদের মানসিক শক্তি। চল তবে দেখে নেই সহজ কিছু অভ্যাস যা কিনা দৈনন্দিন জীবনে গড়ে তুলতে পারলে মানসিক শক্তি কে বাড়িয়ে সফলতার পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে আরো কয়েক গুণে।

 

 

১। প্রতিদিন ৩টি শব্দ লিখো যার জন্য তুমি কৃতজ্ঞ

 

We tend to forget that happiness doesn’t come as a result of getting something we don’t have, but rather of recognizing and appreciating what we do have.
– Frederick Keonig

 

কোন পরীক্ষায় খারাপ হলে নিজেরাই ধরে নেই আমাকে দিয়ে আর কিচ্ছুই হবে না। জীবনটাই শেষ গোল্ডেন এ প্লাস না পাওয়ার কারণে কিংবা কাউকে সফল হতে দেখলে আমাদের মাথায় আগেই আসে যে, “ইস, ওর ভাগ্যটা কত ভালো। আমার যদি এমন কপাল থাকতো তাহলে আমিও অনেক কিছু করতে পারতাম।” এরপর শুরু হয় আফসোস। আর এভাবে আমরা বিভিন্ন কারণে হতাশ থাকি, বিষণ্ণতায়  থাকি, ক্রোধে ভুগি, স্ট্রেসড থাকি। এ ধরণের নেতিবাচক অনুভূতি থাকে যতই বের হওয়ার চেষ্টা করি ততই এগুলো চিন্তা ভাবনা আমাদের মাথায় চেপে বসে। আর এটা থেকে বের হয়ে আসতে পারি না। আর এসব চিন্তাভাবনায় আফসোসের লিস্টও বড় হতে থাকে। যার ফলে দিন শেষে নিজের লক্ষ্যের  উদ্দেশ্যের কাজ তো দূরে থাক উল্টো আত্মবিশ্বাসের লেভেল ধপাস করে মাটিতে নেমে যায়।

 

এই মহা সমস্যা থেকে বাঁচতে আমাকে একবার একজন ভাইয়া একটা মজার উপদেশ দেয়। তিনি বলেন- প্রতিদিন রাতে আমরা খাতা আর কলম নিয়ে তিনটা এমন জিনিস লিখে রাখবা, যে তিনটা জিনিসের কারণে তুমি তোমার জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ। কথাটি শুনে আমার একটু আলাদাই লেগেছিলো, তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এমন তিনটি জিনিস যার জন্য তুমি কৃতজ্ঞ বোধ করো তা একটা ডায়রিতে লিখে ফেলবে। শুধু ভাবলেই হবে না, কাগজে কলমে লিখতে হবে। এর ফলে যেটা হবে তা হচ্ছে তুমি ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেই জিনিসগুলো নিয়ে ভাববে যেগুলো পেয়েছো বলে তুমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করো। এইগুলো যে খুব বিশাল কোনো জীবন রূপান্তরকারি ঘটনা হতে হবে এমন না। যেমন গতকাল আমার এক বন্ধু আমাকে জোড় করে একটা চিত্র প্রদর্শনী দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল। প্রথমে আগ্রহ না থাকলেও ওখানে যাওয়ার পর চিত্রগুলোর অর্থ বোঝার পর একটা অন্যরকম মানসিক শান্তি পেয়েছিলাম। তাই গতকাল রাতে আমি চিত্র প্রদর্শনীর কথা লিখেছি। আসলে কি জানো আমরা আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক কিছু সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারি না। তাই যখন প্রতিদিন ছোটখাটো থেকে বড়- সকল বিষয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার অভ্যাস গড়ে তুলবে নিজের মাঝে তখন আর হতাশা নামক বস্তুটির জায়গা তোমার মনে জায়গাই পাবে না। শুধু তাই না নেতিবাচক সকল বিষয়ের উপর থেকে তোমার দৃষ্টি ইতিবাচক দিকে ঘুরে যাবে আর যা কিনা তোমাকে নিয়ে যাবে সফলতার উচ্চতায়।

 

২।  বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদুর

 

সারাদিন এমনিতেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে রয়েছে তার উপর পাশের বাসার আন্টি এসে নানান অযৌক্তিক কথা বলে আরো বিরক্ত করে তুলছে। ভেতরের ডিবেটারটা খুব উসখুস করছে? কিন্তু না। এতে করে যে শুধু তোমার মেজাজই বিগড়াবে তা না, উল্টো বাসার বড়দের কাছে ঝাড়ি খেতে হবে। অচেনা মানুষের সাথে অযৌক্তিক তর্কে লিপ্ত হওয়া বোকামি ছাড়া কিছু না। তাই নিজের মনকে ভালো রাখতে, নিচের পদ্ধতিগুলি প্রয়োগ করে দেখোঃ

 

  • মুখে মুখে তর্ক করবে না

যখন আমরা রেগে থাকি, অধিকাংশ সময় আমরা না ভেবেচিন্তে কথা বলে ফেলি। আর পরবর্তীতে আফসোস করি। মনে রেখো যে একবার যা বলে ফেলবে তা কখনও ফেরত নিতে পারবে না। তাই কিছু বলার আগে কয়েকবার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মাথা ঠাণ্ডা করে তারপর কথা বলো।

 

  • অতি সহজেই প্রতিক্রিয়া দেখানো বন্ধ করো

তোমার প্রিয় ফুটবল টিমকে কেও খারাপ বলছে? রাগে ফোসফোস করতে করতে এক হাট লোকের সামনে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলে বীরের মতন। কিন্তু না হেরে গেলে তুমি কারণ একজন অচেনা লোকের কথায় নিজেকে হাসির পাত্র বানিয়ে ফেলেছ। তাই অর্থহীন প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোন মানে নেই।

 

  • কেটে পড়ো

কোনভাবেই রাগ দমিয়ে রাখতে পারছো না। চুপচাপ জায়গাটা থেকে সরে যাও। এতে করে তোমার নিজেকে শান্ত করার সুযোগ মিলবে, আবার কোনরকম নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ করা থেকে রক্ষা মিলবে।

 

৩। নিজের যেকোন সাফল্যকে উদযাপন করো

 

The more you praise and celebrate your life, the more there is in life to celebrate. – Oprah Winfrey

 

 

সাফল্যের পিছনে ছুটছি আমরা প্রতিনিয়ত। সাফল্যের সংজ্ঞা প্রত্যেকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন। কিন্ত মনে রাখতে হবে যে সফলতা সুখের চাবিকাঠি নয়, সুখ সফলতার চাবিকাঠি। আমরা কোনটা ভুল হলো, কোনটা অর্জন করতে পারলাম না সেদিকে নজর দিতে গিয়ে যেটুকু অর্জন করতে পেরেছি সেটাকেও মূল্যায়ন করতে ভুলে যাই। তাই নিজের প্রতিটা ছোট বড় সাফল্যকে উদযাপন করো আজ থেকেই।

 

এতে করে তোমার লক্ষ্য পূরণের প্রেরণা মিলবে। শুধু তাই না তোমার কর্মস্পৃহা বাড়ার সাথে সাথে বুস্ট হবে সেল্ফ কনফিডেন্স। আর সামনে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার কারণ খুঁজে পাবে। তোমার সাফল্যে উৎসাহিত হবে আরো অনেকে। যার কারণে তুমি নিজেকে নিয়ে ভালো বোধ করবে আর সুখে থাকবে।

 

 

৪। বন্ধ করে দাও অন্যের সাথে নিজের তুলনা

 

Image result for compare

 

অন্যের সাফল্যে আমরা সবসময় ঈর্ষান্বিত বোধ করি। সবচেয়ে কাছের বন্ধুও যখন ফার্স্ট প্রাইজ পায়, তার সাফল্য উদযাপন না করে আমাদের মাথায় ঘুরা শুরু করে, “ ও কেন পেলো? আমি কেন পেলাম না? আমার কি কমতি আছে?” কিন্তু না ভুল করছো তুমি! এমন মনোভাবে আমরা  আরো বেশি ডিপ্রেসেড হয়ে পড়ি। আর সেটা সোজা আঘাত করে আমাদের আত্মবিশ্বাসে।

 

তাই আজকে থেকেই বন্ধ করে দাও অন্যের সাথে নিজের তুলনা। নিজের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াও। চেষ্টা করো নিজের উদ্দেশ্য পূরণ করতে। তার জন্য কাজ করো আর খুব শীঘ্রই তুমি তার ফলাফল দেখতে পারবে। কারণ তুমি যখন নিজের লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে কাজ করবে, তোমার সাফল্য কেও আটকাতে পারবে না।

 

৫। চ্যালেঞ্জ নিয়ে আর নয় ভয়

 

A challenge only becomes an obstacle when you bow to it. ― Ray A. Davis

 

সবসময় তো এই কাজ ও করে এবার আমাকে এটা করতে দিয়েছে? অসম্ভব আমি এটা পারবই না। অনেক ক্ষেত্রে এভাবেই আমরা নতুন কিছু শেখার সুযোগ হারিয়ে ফেলি। ভেবে দেখো যদি তুমি নিজের চ্যালেঞ্জগুলোকে তোমার যোগ্যতা বাড়ানোর উপায় হিসাবে দেখো তাতে কি লাভ হবে।

 

প্রথমত তুমি নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারবে যা তোমাকে  পরবর্তীতে সাহায্য করবে। তাছাড়া তোমার নিজের উপর ভরসা বাড়বে। আর তুমি নতুন কিছুর মুখোমুখি হলে সহজেই বিচলিত হয়ে পড়বে না। তোমার পসিটিভ ভাবমূর্তি তোমাকে উৎফুল্ল রাখবে এবং কর্মদক্ষতা বাড়াবে।

 

৬। পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি

 

অনেকদিন ধরে রুমটা অগোছালো হয়ে আছে। পরিষ্কার করতে গিয়ে আবিষ্কার করলে বহু দিনের পুরানো নানান রকম জিনিস। সেগুলো নিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়লে। সারাদিন আর কিছুতে মন বসল না। তাহলে কি উপায়?

এটা বৈজ্ঞানিক রিসার্চে প্রমাণিত যে তোমার আশপাশটা যত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে, তোমার মন এবং স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে। তাই আজকেই  শুরু করে দাও জঞ্জাট পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি। অপ্রয়োজনীয় অব্যবহৃত যা আছে, সব তোমার আশপাশ থেকে দূরে সরিয়ে ফেলো। মনে রেখো, “ A clean home is a happy home.”

 

৭। পজিটিভিটি হোক প্রতিদিনের সঙ্গী

 

সম্প্রতি একটি বৈজ্ঞানিক রিসার্চে প্রমাণিত হয়েছে যে পজিটিভ শব্দ ব্যবহার করা আমাদের ব্রেইনকে প্রভাবিত করে। এমনকি যখন তুমি বেশি বেশি পজিটিভ কথা বলবে, তোমার শুধু যে নিজের প্রতি আস্থা বাড়বে তা না, তোমার আশপাশের মানুষও তোমাকে ভালোবাসবে এবং সাফল্যে উৎসাহিত  হবে। আমাদের সমাজ থেকে নেগেটিভিটি যত কমে যাবে, কর্ম দক্ষতা তত বাড়বে। একজনের প্রতি আরেকজনের হিংসাও কমে যাবে। আর সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেখবে প্রত্যেকেই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে কাজ করতে পারবে।

 

৮। কান্না নয় কোনো লজ্জার বিষয়

 

কান্নায় অনন্ত সুখ আছে তাইতো কাঁদতে এত ভালোবাসি॥
—স্বামী বিবেকানান্দ

 

 

 

কান্না যেন কী ভীষণ একটা লজ্জার একটা বিষয়! কেউ কাঁদলে পরে তো তা স্বীকারই করতে চায় না। আর অন্যরা তাই নিয়ে যে কী খেপানোটাই না খেপায়। কান্না, কাঁদুনে, ছিঁচকাঁদুনে—এসব নিয়ে যে কত গল্প-লোককাহিনী-ছড়া প্রচলিত আছে, তারও ইয়ত্তা নেই। হয়ত খুব মুষড়ে পড়েছো, কোনোভাবেই কিছু ঠিকঠাক মত হচ্ছে না, ভয় পাচ্ছ সামনে কি হবে তা নিয়ে- ইচ্ছে করছে সব খারাপ লাগাগুলোকে একসাথে ছুড়ে ফেলে দিতে, তাই না?

 

ডিপ্রেশন কাটাতে মন খুলে কান্না করো। কাঁদলে মন হালকা হয় কারণ কেউ যখন কাঁদে, তখন আশপাশের মানুষ সবাই বুঝতে পারে কোনো কারণে তোমার মন ভালো নেই। হয় মন খারাপ, নয়তো তুমি ভীষণ হতাশ, কিংবা চরম পরিমাণে দ্বিধান্বিত। আর এই যে তোমার কাছের মানুষের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারলে, এটাই তার মনকে অনেকখানি হালকা করে দেবে। আর যদি একা একাও ঘরের এক কোণে বসে দু’ফোটা চোখের জল ফেলো তাও তোমার ভাল লাগবে কারণ মনের ভেতর আটকে থাকা দমবন্ধ করা অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পেরেছো।

 

৯। ব্যস্ততার মধ্যে একাকীত্ব

 

এজন্য প্রতিদিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে সুনসান পরিবেশে কিছুটা একাকী সময় কাটাও। ভোরবেলা বা রাতে ঘুমানোর আগে একা একা নিজের মত সময় কাটানোর জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। আর এই সময় তুমি একটু চিন্তা করে দেখবে যে তুমি বর্তমানে কি করছো। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করো আর সততার সাথে তার উত্তর দাও কারণ এখানে তোমাকে কেউ সঠিক উত্তরের জন্য ফুল মার্কস দিবে না।

 

এই অভ্যাসের জন্য তুমি নিজের শক্তি আর দুর্বলতা বুঝতে পারবে। আর তাহলে তুমি সেগুলাকে ব্যবহার করে সামনে কাজও করতে পারবে। শুধু সেটাই না যখন তুমি শান্ত পরিবেশে সারাদিনে নিজের কার্যকলাপ নিয়ে  ভাববে, পরবর্তীতে একি ভুল করা থেকেও বিরত থাকতে পারবে।

 

তাহলে না হয় আজ থেকেই শুরু করা যাক এই সুন্দর অভ্যাসগুলো কে আয়ত্ত করে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেকে কর্মদক্ষ করে সুখী সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা।

Continue Reading
1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: মানসিক শক্তি - মন ও শরীর দুটোর জন্যই জরুরী - Spike Story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

একাকীত্ব দূর করার ১০টি উপায়

Published

on

আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫টি সিগারেট খেলে শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় একাকীত্বের কারণেও শারীরিকভাবে ঠিক একই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এবার বুঝুন একাকীত্ব কতোটা মারাত্নক আমাদের শরীরের জন্য। আপনি যতো বেশি একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিবেন এটি ততো বেশি গ্রাস করতে থাকবে আপনাকে। ধীরে ধীরে এটা আপনাকে এতোটাই অসুস্থ করে তুলবে যে, এক পর্যায় গিয়ে আপনার সুইসাইড করার মন-মানসিকতার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু অসহ্য মনে হবে আপনার কাছে।

 

“Loneliness does not mean that there is no one beside you. Loneliness means that everyone is beside you, but the one you want beside you is not with you” -Humayun Ahmed

 

আপনি যদি একাকীত্ব সমস্যায় ভুগেন তাহলে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি কিছু টিপস মেনে চললে খুব সহজে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই আজকে আমি আলোচনা করবো এমন ১০টি টিপস নিয়ে, যা আপনাকে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

 

একাকীত্বের কারণ চিহ্নিত করুন

প্রথমে খানিকটা সময় নিয়ে চিন্তা করুন কেন আপনি প্রায় একাকীত্ববোধ করেন? ধরুন, আপনার উত্তর যদি হয় আপনার যথেষ্ট বন্ধু নেই তাই আপনি একাকীত্ববোধ করেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাঝে মাঝে ফ্রি সময়গুলো অসহায় শিশুদের সাথে কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাদেরকে কিছু উপহার দিন।

 

মেডিটেশন

আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার সকল হতাশা, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো, ‘টেনশন মুক্তি’। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না এবং শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ, যেমনঃ মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

“The more regularly and the more deeply you meditate, the sooner you will find yourself acting always from a center of peace.” J. Donald Walters

 

ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন

আপনি যখনই একা থাকবেন তখন আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। আপনি চিন্তা করতে পারেন কোন কাজটি আমার জন্য ভালো হতে পারে, চাকরি নাকি বিজনেস? কী করলে আমার ভালো হবে, ব্যাংকে চাকরি নাকি সরকারী চাকরি? আপনি যখন আপনার একাকীত্বের সময় এই সকল প্রশ্ন আপনার মনকে করবেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই আপনার একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসবেন। নিজেকে আর একা মনে হবে না এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি বেশ কিছু ভালো চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটবে। তাই নিজের একাকীত্ব দূর করতে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করুন।

 

বই পড়ার অভ্যাস

এটা আমরা সবাই জানি, বই পড়ার অভ্যাস পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন তখনই এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। তাই এরপর থেকে আপনি আপনার অবসর সময়ে বই পড়ে কাটাতে পারেন এবং নিজের একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। আপনি যখন উপন্যাসের চরিত্রগুলো পড়বেন তখন খারাপ সময়ে তারা নানা রকম অসুবিধাগুলো কীভাবে জয় করলো তা কল্পনায় উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মতো করে আপনিও আপনার খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

 

“The reading of all good books is like a conversation with the finest (people) of the past centuries.” – Descartes 

 

পছন্দের কিছু করা

আমাদের প্রত্যেকরই কিছুনা কিছু গুণ এবং ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা একা সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’লাইন কবিতা, এঁকে ফেলেন অসাধারণ একটি ছবি। নিজের একাকীত্বের সময় আপনি আপনার পছন্দের কাজটি করার মাধ্যেমেই এই একাকীত্বকে দূর করতে পারেন। আমরা যখন একা থাকবো তখন আমরা যদি আমাদের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দেই, তখন আমাদের একাকীত্ব জানালা দিয়ে পালাবে এবং নিজেকে আরো উৎফুল্ল মনে হবে।

 

বাস্তবতা নিয়ে ভাবা

আজ আপনার বন্ধুরা যেভাবে আপনার পাশে আছে তারা সময়ের তাগিদে ভবিষ্যতে আপনার পাশে এইভাবে নাও থাকতে পারে। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছেন তা সুদূর ভবিষ্যতে নাও পেতে পারেন। তাই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন। আপনি যতো মানুষের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তার অনুপস্থিতিতে আপনার একাকীত্বতা ততোগুণ বেশি হবে। এজন্য আপনি যতো বাস্তবমুখী চিন্তা করবেন, আপনার একাকীত্ব ততোটাই কমে আসবে।

 

“Life is not a problem to be solved
But a reality to be experienced.” -Søren Kierkegaard

 

প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান

এই পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে কাছের যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো, আপনার মা-বাবা। তাই যখনই একা অনুভব করবেন, তখন আপনি আপনার মা-বাবার সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে থেকেও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারেন।

 

সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ

আপনি আপনার ফ্রি সময় সমাজসেবামূলক কাজ করে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি সমাজ ও দেশের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিতি লাভ করবেন। আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং দিনশেষে আপনি আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারবেন।

 

“The happiest people I know are those who lose themselves in the service of others.” -Gordon B. Hinckley

 

নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে বদলানোর জন্য যদি পৃথিবীতে সহজ কোনো উপায় থাকে সেটি হচ্ছে, প্রতিদিন রাতে ১৫ মিনিট নিজের সাথে কথা বলুন। সারাদিন কী কী ভুল করেছেন সেগুলো মনে করুন এবং এগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে একই ভুল নাহ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। এভাবে আপনি আপনার ভিতর নতুন একজনকে আবিষ্কার করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের অবচেতন মন কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। তাই ঘুমানোর আগে ভালো ভাবুন এবং সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

সবশেষে যে কথাটি বলে শেষ করবো তা হলো, একাকীত্ব কোনো খারাপ বিষয় নয়। আপনি যখনই একা সময় কাটাচ্ছেন তখনই ভিন্ন কিছু করার জন্য সময় পাচ্ছেন। তাই নিজের সাথে যতোটা পারেন সময় কাটান, কিন্তু বিষণ্ণতায় ভুগবেন না। আপনি যখনই বিষণ্ণতায় ভুগবেন ঠিক তখনই আপনি একাকীত্বের ভেতর চলে যাবেন। তাই নিজের একাকীত্বকে কাজে লাগান।

 

“Walking with a friend in the darkness is better than walking alone in the light”– Helen Keller

Continue Reading

Motivational

সফল হতে এড়াতেই হবে যে বিষয়গুলো

Published

on

সফল হবার সুপ্ত ইচ্ছা আমাদের সকলের মাঝে আছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনেক কিছু এমন কিছু করে ফেলি যা আমাদের সফলতার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু সফলতা অর্জনের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সফলতা শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়ত ঠিকমত দু’বেলা খেতে পেয়ে সফল, কারো মতে দু-চারটি গাড়ি কিনে সে সফল।

সফলতার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জন ক্ষেত্রে একেক রকম হলেও, কিছু বিষয় যা আমাদের সফল হবার ক্ষেত্রে মেনে চললে খুব সহজেই সফলতাকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবো। সফলতা মানেই আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনেক বড় হতে হবে বা আপনার দু’চারটে গাড়ি থাকতে হবে এমন নয় বরং মানসিকভাবে শিক্ষিত হওয়া এমনকি মানসিক ভাবে সফল হওয়াটা হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বাস রাখতে হবে মানসিকভাবে সফল হতে পারলেই আপনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল। কেননা আপনি যখন একজন ভালো মানুষ, তখন সেই ভালো মনুষ্যত্বের কৃতিত্ব আপনার যেকোনো সফলতাকে ছাড়িয়ে যাবেই। একজন ভাল মানুষ হিসেবে সফল হবার জন্য যে বিষয়গুলো আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো জানাটা জরুরি। কেননা যখন আপনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, ঠিক তখনই আপনি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। জেনে নিতে পারেন একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

যে বিষয়টি হয়নি সেখানে আর ফিরে না যাওয়া

বিশ্বাস রাখতে হবে আপনার জীবনের যা ঘটছে তা আপনার ভালোর জন্যেই খুব হচ্ছে। আর তাই যে বিষয়টি আপনার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে বা যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে ঘটছে না সেগুলো নিয়ে অকারণ অহেতুক ভাবনায় সময় নষ্ট করবেন না। বরং সামনে কী নতুন করা যায় সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অযাচিতভাবে পুরানো ভাবনায় নিজেকে আটকে রাখা যাবে না। নতুন ভাবনাগুলোর জন্য দ্বার উন্মোচিত করে দিতে হবে। যা ঘটে গেছে তা নিয়ে পুনরায় ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

 

যা আপনার জন্য না তা করবেন না

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা যেকোন কাজ করার পূর্বে, ভেবে নেবেন সে কাজটির জন্য আপনি আসলেই যোগ্য কিনা। অথবা যে কাজটি আপনি আসলেই করতে যাচ্ছেন, তা কেন করছেন? অর্থাৎ এরকম অনেক কিছুই আছে যা আমরা অপরের খুশির জন্য বা অপরের মন রক্ষার জন্য করে থাকি। কিন্তু সবসময় মনে রাখতে হবে, নিজের আদর্শের সাথে কখনোই প্রতারণা করবেন না। আর তাই যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যায় না, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

হতে পারে আপনার আশেপাশের মানুষজন আপনাকে এক প্রকার বাধ্য করবে, সে বিষয়গুলোতে আপনাকে জড়াতে, তবুও নিজের আদর্শকে ঠিক রেখে সে বিষয়গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, যে বিষয়গুলো আপনি মনে করেন যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যাচ্ছে না।

 

অপরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না

কখনোই কোন কিছু করার জন্য, কাউকে বাধ্য করবেন না। কেননা প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অবস্থান রয়েছে, যেখান থেকে সে স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে। অবশ্যই আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানাতে পারেন কোন কাজগুলো তার জন্য ঠিক বা ঠিক নয়। কিন্তু সেগুলোকে পরিবর্তন করার জন্য আপনি তাকে জোর করতে পারেন না। আর তাই অপরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না, এতে করে আপনার স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হবে না। এমন কি নিজের আদর্শ কখনো জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

 

মানতে হবে সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়

সকলকে সুখী-খুশি করা সম্ভব নয়। সবার মন মত আপনি সবকিছু করতে পারবেন এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। সেই কাজগুলো করুন, যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখতে পারছে। অন্যকে খুশি করা অনেক বেশি কঠিন বরং নিজের সন্তুষ্টি আনাটা অনেক বেশি সহজ। আর তাই অপরকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। কারণ আপনার নিজের একার পক্ষে সকলকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয়।

 

ভালো কিছুকে বিশ্বাস করুন

ভালো আর পারফেক্ট এর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনি ভালোকে বিশ্বাস করতে পারবেন কিন্তু সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন কিছুকে বিশ্বাস করাটা ভুল। একেবারে নির্ভুল কেউ হতে পারে না, তবে চেষ্টা রাখতে হবে এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে হবে, যাদের থেকে আপনি ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আর অবশ্যই ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে।

 

সব কিছুকে বড় ভাবে দেখতে হবে

কোন কাজই ছোট নয়। সকল ব্যক্তিত্বরা কখনোই কোন কাজকে ছোট হিসেবে দেখেন না। মনে রাখতে হবে একজন মানুষ যত নিম্ন কাজই করুক না কেন, সে ওই কাজটি করে আনন্দ পাচ্ছে, একই সাথে তার জীবন জীবিকা চালাচ্ছে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে কোনো কাজই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না।

 

বাইরের চাকচিক্য বিবেচনা যোগ্য নয়

একটি বিষয় বাইরে থেকে যতটুকুই দৃষ্টিনন্দন দেখাক না কেন, আপনার জ্ঞানী মন-মানসিকতায় ভেতরের ব্যাপারটিকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আর তাই বাইরের চাকচিক্য দেখে সেই ব্যাপারটিকে ঠিক বা সঠিক বিবেচনা বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে ভেবে, সে বিষয়টির আসল দিকটি উন্মোচন করাই জ্ঞানী মনের কাজ। আর তাই বাইরে থেকে কোনকিছু বিবেচনা করা উচিত নয়।

 

”কেন” জিজ্ঞেস না করা

প্রতিটি বিষয়কে গভীরভাবে চিন্তা করে সে বিষয়ে সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আপনার জ্ঞানী মানসিকতাকে আরো বেশি দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে যে, কেন বিষয়টি এমন হয়েছে, কেন বিষয়টি এরকম নয়, তবে সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কখনোই গভীরভাবে জানতে পারবে না। আর সফল ব্যক্তিত্বরা সর্বদাই কেন প্রশ্নটি সাথে নিজের গভীর যোগাযোগ রাখে। কেননা শুধুমাত্র “কেন” থেকেই আপনি অনেক অজানা দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

 

 বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করে আপনি কতটুকু ভালো জীবন যাপন করছেন

আপনার বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে, আপনি কতটুকু শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। আর তাই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্তিপূর্ণ করাটা অনেক বেশি জরুরি। আপনার সফলতা তখনই আপনার কাছে আসবে, যখন আপনি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। আর তাই ব্যক্তিগত শান্তিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যে কাজগুলো করতে আপনি মানসিকভাবে শান্তি অনুভব করেন, সে কাজগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সাথে করাটা প্রয়োজন।

Continue Reading

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Trending