Connect with us

Productivity

কিভাবে শিডিউল তৈরি ও ব্যবহার করে আপনার সময়কে ‘অপ্টিমাইজ’ করবেন?

Published

on

‘সময়- Time’ প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যার সাথে এই সৌরজগতের প্রতিটি প্রাণ, গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র মোটকথা স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টির সাথে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আর এই সময়ের একক হিসেবে আমরা ‘সেকেন্ড’ হিসেব করে থাকি। যেখানে আমাদের জীবন হতে অতিবাহিত হওয়া প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য অতুলনীয়। আমরা প্রত্যেকই সৃষ্টিকর্তার বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ পৃথিবীতে এসেছি যদিও সেই নির্দিষ্ট সময়টুকু আমাদের অজানা। আমরা সবাই জানি- ” Man is mortal”  অতঃএব আমাদের প্রত্যেকের জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত মধ্যকার সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা কি আদৌ সেই সময়টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি? সিংহভাগ ব্যক্তিরই উত্তর হবে- “না”। আর এই উত্তর “না” হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান হলো অপরিকল্পিত জীবন ব্যবস্থার। আমরা সবাই জীবনে সফল হতে চাই কিন্তু সফলতা পেতে হলে যা করণীয় তা করি না। বিশেষ করে আমরা আমাদের জীবন ব্যবস্থার প্রতিটি পদে পদে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারি না। অথচ আমরা একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই অতিবাহিত হওয়া জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড’ই সঠিক ভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক আমরা কিভাবে আমাদের মূল্যবান সময় গুলো শিডিউল করে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করবো-  

 

জীবনটাকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনে পরিচালনা করুন

 

“রুটিন” আপনার দৈনন্দিন জীবনকে গোছালো এবং প্রাণবন্ত করে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একটি নির্দিষ্ট ও কার্যকরী রুটিনের দ্বারাই আপনি আপনার জীবনটাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারবেন। প্রথমত, আপনি আপনার সুবিধা মতো একটি রুটিন তৈরি করবেন৷ রুটিনটি হবে সাধারণত আপনার দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোকে ঘিরে, যে কাজ গুলো আপনাকে প্রতিদিন করতে হয়৷ যেমন- আপনি প্রতিদিন কতক্ষণ আপনার পড়ালেখায় বা অফিসে সময় দিবেন, আগামীকাল কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দিন আছে কিনা, পরিবার ও বন্ধুদের কতোটুকু সময় দিবেন এমনকি আপনি প্রতিদিন কতোটুকু সময় অনলাইনে ব্যয় করবেন এসব কিছুর জন্যই নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখবেন এবং তা যথাসম্ভব মেনে চলার চেষ্টা করবেন। এভাবেই একটা সময় তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। রুটিনের আওতায় থাকা যেকোনো কাজই আপনার কাছে সহজ মনে হবে। জীবন এগিয়ে যাবে আপনার মনের মতো করে।

 

প্রতিদিনের কাজের শিডিউল গতরাতেই তৈরি করুন

 

তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে করা কাজগুলোর বেশির ভাগই অকৃতকার্য হয়ে থাকে। যেকোনো কাজের পূর্ব পরিকল্পনা সে কাজটিকে অর্ধেক সম্পন্ন করে থাকে। সে কাজটি পুরোপুরি সম্পন্নও হয় সাবলীল ভাবে। এতে সময়ের অপচয় রোধ হয়। তাই আগামীকাল আপনি কী কী কাজ করবেন সেগুলো নিদিষ্ট সময় উল্লেখ করে আগের দিন রাতে ঘুমানোর আগে আপনার ডায়েরি অথবা মোবাইল নোটবুকে শিডিউল করে রাখুন৷ এতে করে বেঁধে রাখা সময়টি আপনার কাজটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে তাগিদ দিবে। আর হ্যাঁ, প্রতিটি কাজ সম্পন্ন হবার সাথে সাথে শিডিউলে সেই লেখাটির পাশে ‘Success’ লিখে রাখবেন যা আপনার পরবর্তী কাজটি সম্পন্ন করতে যথেষ্ট পরিমাণ আত্মবিশ্বাসের যোগান দিবে। মোটকথা, সময় মেইনটেইন করে প্রতিটি কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে শিডিউলের কোনো বিকল্প নেই।

 

নিশ্চিত অপচয় হতে যাওয়া সময়ের সঠিক ব্যবহার

 

বর্তমান সময়ে রাস্তার যানজটের কারণে প্রায় প্রতিদিনই আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনের ভেতর আটকে থাকি। এ সময়টুকু সত্যিই আমাদের জন্য নিশ্চিত অপচয় এবং ক্ষতিকর। এমনকি দীর্ঘ ভ্রমণেও আমরা দীর্ঘ সময় অলসভাবে যানবাহনের ভেতরই কাটিয়ে দিই। অথচ আমরা চাইলেই এ সময়টাও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি। আমাদের প্রতিদিনকার শিডিউলে এমন কিছু কাজ থাকে যেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বাঁধা থাকে না, দিনের যেকোনো সময় করলেই হয়। ঐ ধরনের কাজগুলো আমরা আমাদের অপচয় হতে যাওয়া সময়টুকুর মধ্যে সম্পন্ন করতে পারি। যেমন ধরুন- আপনি বই পড়তে পছন্দ করেন? কোথাও বের হবার সময় একটা বই সাথে নিয়ে নিলেন অথবা অনলাইন থেকে আপনার পছন্দের বইটির পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে আপনি আপনার স্মার্টফোন দিয়েই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে দিলেন৷ যারা নিউজ পেপার পড়তে পছন্দ করেন তারা নিউজ পেপার কিনে অথবা অনলাইন থেকেই পড়তে পারেন। অনেকেই লিখতে পছন্দ করেন। তারা সেই সময়টুকু বাস, রিকশা বা গাড়িতে বসে বসে আঙ্গুল ও মোবাইল ডিসপ্লের সংস্পর্শে মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখতে থাকুন মন যা চায়, যারা গাড়িতে চড়েন ল্যাপটপে বসেও কিন্তু কাজ করতে পারেন৷ যানজট অথবা দীর্ঘ ভ্রমন; প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য সীমাহীন তাই প্রতিটি সেকেন্ডই সঠিক কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। তবে রিকশায় অথবা গাড়ি/বাসে জানালা খোলা রেখে মোবাইল ব্যবহারের সময় ছিনতাইকারি থেকে সতর্ক থাকবেন।

 

একই সাথে একাধিক কাজে মনোনিবেশ করা থেকে বিরত থাকুন

 

আমরা অনেকেই মনে করি একই সময়ে একাধিক কাজ করতে পারা একটি ইতিবাচক গুণ। কিন্তু আমাদের এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল৷  ‘University of Michigan’ এর এক গবেষক আবিষ্কার করেছেন যে- একজন মানুষ যখন একই সময়ে দুই বা ততোধিক কাজ করার চেষ্টা করে তখন তার প্রোডাক্টিভিটি কমপক্ষে ৪০% কমে যায়৷ এবং সম্পন্ন হওয়া কাজ গুলোর মধ্যেও ত্রুটি থাকার সম্ভবনা থেকে যায়৷ আপনি হয়তো ভাবছেন মাল্টিটাস্কিং এর ফলে আপনি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে কাজ, ফেসবুকিং, ফোনালাপ, ইউটিউবিং সবই করছেন । এমনকি নিজেকে নিয়ে হয়তো গর্ব বোধ করেন। মূলত আমাদের ব্রেইন এতকিছু একইসাথে সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে কোনো কাজেরই গুণগত মান বজায় থাকে না। অনেক সময় একই সাথে একাধিক কাজ করতে গিয়ে কোনো একটি কাজে ভুল হয়ে যায়। পুনরায় সে কাজটি করতে আবারও সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই একসাথে একাধিক কাজ নয়; প্রতিটি কাজ আলাদা আলাদা সময়ে করলে মস্তিষ্ক ঐ একটি কাজের উপরই পরিপূর্ণ ফোকাস রাখতে পারে। এতে সেই কাজটি ভুল হবার সম্ভবনা একেবারই কম থাকে। ফলে শতভাগ মানসম্মত ও পরিকল্পিত সময়ের মধ্যেই কাজগুলো সম্পন্ন করা যায় সহজেই।

 

দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শিডিউল লিস্টের উপরে রাখবেন

 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়তই কিছু কাজ থাকে যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কিছু কাজ থাকে যেগুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর ওপর পুরোপুরি ফোকাস রাখতে সে কাজ গুলো শিডিউল লিস্টের শীর্ষে লিখে রাখুন৷ আমরা অনেকেই সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর বিছানা থেকে না উঠেই ফেসবুকে ঢুকে পড়ি। এর ম্যাসেজ, ওর ম্যাসেজ, বিভিন্ন নটিফিকেশন, নিউজফিডে ঢুঁ মারা; মোটকথা দিনের শুরুতেই ঘন্টা খানেক সময় পুরোপুরিভাবে অপব্যয় করে ফেলি। অথচ, এ কাজগুলোর চাইতে আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজ কি পড়ে নেই আমাদের শিডিউলে? এ অভ্যাসটা পরিহার করা আবশ্যক৷ নয়তো দিনের শুরুতেই আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর উপর ফোকাসের ঘাটতি রেখেই কাজ শুরু করবেন। দিন শেষে সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো সম্পন্ন করতে অনেকটা পিছিয়ে পরবেন। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন আগে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো শেষ করতে। এতে করে আপনার মস্তিষ্কে চাপ কমবে এবং ছোট ছোট কাজ গুলো খুব সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন।

 

একই ধরনের কাজগুলো পাশাপাশি সময়ে করুন

 

প্রতিদিনই আমাদের কিছু কাজ থাকে যেগুলো সাধারণত একই ক্যাটাগরির হয়ে থাকে। সে কাজ গুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে না করে আপনার শিডিউলে পাশাপাশি বা একই সময়ে যুক্ত করবেন। এতে করে সেই একই ক্যাটাগরীর কাজগুলো আপনার কাছে সহজ মনে হবে এবং আপনি ভালোভাবেই তা সম্পন্ন করতে পারবেন। যেমন, আপনার বসকে কাজের একটা লিখিত আপডেট দিতে হবে, সম্ভাব্য ক্লায়েন্টকে আপনাদের অফিসের সার্ভিস সম্পর্কে জানাতে হবে এবং আপনি অনেক দিন ধরে চাচ্ছেন ফেসবুকে আপনার পছন্দের একটা বিষয় নিয়ে সুন্দর একটা স্ট্যাটাস লিখতে। এগুলো ছাড়াও একটা সার্ভে তৈরি করতে হবে আপনার কোম্পানীর কাস্টমার ফিডব্যাকের জন্যে। আপনি এখন কোনো একটি কাজ করার জন্য বাসায় আপনার পিসি নিয়ে বসলেন। এবং সবগুলো কাজ একবারে করে পিসি রেখে দিলেন। এতে করে আপনার সময় বাঁচবে সাথে মস্তিষ্ক সেই একই বিষয়ে মত্ত থাকার কারণে কাজগুলো সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়৷

 

কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি নিন

 

একটানা প্রতিটি ঘন্টা কাজের পেছনে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাইলেও পারবেন না। জোর করে যদি দিয়েও থাকেন, একসময় আপনার মাথা ধরে আসবে। তাই ব্রেনকে ভালোভাবে কাজে লাগানোর জন্য নিয়মিত বিশ্রাম এবং বিরতির খুবই প্রয়োজন।  এতে করে আপনার ব্রেন সতেজ হয়ে তার পরবর্তী কাজটি আরও সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। তাই আপনি আপনার শিডিউলে সারাদিনের প্রতিটি কাজের মাঝে যথেষ্ট পরিমাণ সময় বিরতি রাখবেন। সে সময়টুকু অন্য কাজে মনোনিবেশ করবেন না। এমনকি ফেসবুক, ইমো, ওয়াটসঅ্যাপও না। একটি কাজ শেষ হবার পর আরেকটি কাজের ফাঁকে পাঁচ-দশ মিনিট বিরতি থাকলে আপনার পরবর্তী কাজের জন্য মস্তিষ্ক পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে। ফলে সারাদিনের কাজগুলোও ভালো ভাবে সম্পন্ন হবে।

 

সবশেষে, আমরা সবাই জানি- “সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না” তাই পরিকল্পিতভাবে সময়ের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার করুন। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজের পূর্ব পরিকল্পনা, শিডিউলের মাধ্যমে প্রতিটি সেকেন্ডের যথেষ্ট মূল্যায়ন এবং প্রতিটি কাজের সফল আউটপুট আপনার জীবনে বয়ে আনবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা। আপনার জীবন হবে সুন্দর, সাবলীল ও উপভোগ্য।

Productivity

কাজ আর জীবনের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবো?

Published

on

ব্যস্ততাই জীবন নাকি জীবন মানেই ব্যস্ততা? এই ‘ব্যস্ততা’ শব্দটা আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক ব্যস্ততা, পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আরো কত শত ব্যস্ততা আমাদের! এতো ব্যস্ততা আমাদের একটা জীবনকে দুইভাগ করে ফেলেছে। এর একটা যদি হয় ব্যক্তিগত জীবন, অপরটা পেশাগত জীবন এবং অবশ্যই সময়ের সাথে সাথে বিষয়টা খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই যখন পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সামঞ্জস্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়। তখনই শুরু হয় হতাশা, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ইত্যাদি ইত্যাদি… এই সাংঘর্ষিক অবস্থা এড়াতে দরকার দৃঢ় মনোবল, সঠিক পরিকল্পনা আর একাগ্রতা। তাহলে কি কি করতে হবে চলুন জেনে নেই-

 

ভয়কে ঝেড়ে ফেলা

 

ভয় মানুষের জীবনের খুব সহজাত একটা বিষয়। আমার মনে হয় না এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে যার ভেতরে কোনো কিছুর ভয় নেই। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু ভয় আছে যা একদম অমূলক। যেমন, আমার কিছু পরিচিত মানুষ আছে যারা কাজের মধ্যে থাকতে থাকতে এমন ভাবতে থাকে যেন একটু এদিক-ওদিক হলেই অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে! কিন্তু যখন প্রশ্ন করি কি সমস্যা? উত্তরে প্রায়ই শুনতে হয়, এই হবে, কিছু একটা! মানে ফলাফল অনিশ্চিত। আচ্ছা ভাবুন, আপনি যখন কাজ করছেন তখন যদি আপনার সেরাটা দিয়েই করেন, তাহলে অতিরিক্ত কাজের লুপে অযথাই কেন নিজেকে আটকাবেন? পেশাগত জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা এই লুপ। কাজের বাইরে অন্যকিছু মাথাই আসে না। কোনোভাবে এর বলয় থেকে বের হতে না পারলে পুরো জীবনটাই এর মধ্যে আটকে যায়। বরং এমন করে কেন ভাবছেন না, সেই সময়টা নিজের জন্য ব্যয় করাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সাথে সেই ব্যক্তিগত সময়টুকু আপনাকে পরের কাজটা করতে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আর এই আত্মবিশ্বাস অন্য কোনো কিছু থেকেই পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে আপনার সেই কল্পনীয় কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে কেন গুঁটিয়ে রাখবেন? নিজের ইচ্ছাটাকে কেন দমিয়ে রাখবেন? এবার নিজেই ভাবুন, কোনটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

 

“If you want it, go for it. Don’t always play it safe or you’ll die wondering” -Tony Robbins

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট তৈরি করা

 

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া পথ চলা অনেকটা সমুদ্রে সাঁতরানোর মতো, যার কোনো শেষ নেই এবং নেই কোনো সন্তুষ্টি। কোনো কাজ করার শুরুতেই ঠিক করে নিন আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী মাসে অথবা আগামী কোয়ার্টারে আপনার টার্গেট কতোখানি হবে। কেবল তখনই আপনি সময়কে কাজের গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়ে নিতে পারবেন।

 

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদিনের টু-ডু লিষ্ট আগের রাতেই বানিয়ে ফেলা। প্রতিদিন অনেক কিছু করতে চেয়ে না পারার থেকে নিয়মিত ৩-৫টি কাজের অভ্যাস করা বেশি কার্যকরী। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য সময়কে একটা সুবিধামতো ছকে আবদ্ধ করা, অবশ্যই লিষ্টটাকে টেনে লম্বা করা নয়। তাছাড়া অসম্পূর্ণ টু-ডু লিষ্ট আপনার হতাশার কারণ এবং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।

 

কাজের গুরুত্ব বাছাই করা

 

টু-ডু লিষ্ট তো হলো, কিন্তু লিষ্টের সবগুলো কাজ কি আপনি একইসাথে করতে পারবেন? না, সম্ভব নয়। প্রতিটি দিনের যেমন আলাদা গুরুত্ব থাকে, তেমনি প্রতিদিনের কাজগুলোরও আলাদা গুরুত্ব থাকা উচিত। তাই আজকের দিনে কোন কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি একটু কম গুরুত্বপূর্ণ সেটি ঠিক করে নিতে হবে। কারণ, একই কাজ বিভিন্ন দিনে বিভিন্নভাবে বিবেচিত হতেই পারে। যেমন ধরুন পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী এইসব দিনে অন্য কিছু গুরুত্ব দেয়া উচিত নয়, তেমনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, প্রোজেক্ট তৈরি, ডেডলাইন এইসব ইস্যুতে অবশ্যই আপনার গুরুত্ব সেইদিকেই থাকা উচিত। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বিষয় চলে আসলেই সমস্যার শুরু। তখন আপনাকে নিজের সাথে মধ্যস্থতা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, গুরুত্ব বুঝে কাজ করা আপনার টু-ডু লিষ্ট কমপ্লিট করার থেকে বেশি জরুরি।  

 

“Managing your time without setting priorities is like shooting randomly and calling whatever you hit the target.” -Peter Turla

 

না বলতে শেখা

 

”না” শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, তাই না? সবাই শুধু “হ্যাঁ” শুনতে চায়, সেটা যাই হোক না কেন! কিন্তু বিষয়টা অবাক করার মতো হলেও এমন কিছু মানুষ আছে যারা কাউকে “না” বলতে পারে না এবং এই শ্রেণীর মানুষ সকলের খুব পছন্দের হয়। কিন্তু একই সাথে এই স্বভাব নিজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আপনি কী পেতে চান, কোন ধরণের সম্পর্কে জড়াতে চান, কোথায় সময় দেয়া বেশি জরুরী এই সিদ্ধান্তগুলো খুব জরুরি। কারণ, খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনি এমন অনেক অনুরোধ ও সুযোগ পাবেন, যেগুলো হয়তো আপনি চাইছেন না কিন্তু আবার “না” বলে ছেড়েও দিতে পারছেন না। ঠিক এই সময় নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকাটা খুব দরকার। ‘হ্যাঁ’ শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রেই বলবেন, যে কাজটি আপনার জীবনে কোনো ভ্যালু এড করতে পারে। আর বাকি সব ক্ষেত্রে ‘না’ বলার চেষ্টা করুন। কারণ, সবার জন্যই সময় খুব সীমিত। কোনো কিছুতে ‘না’ করা মানে সেই সময়টা আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছুতে ব্যয় করা। তাই ‘না’ বলতে শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  

 

“It’s only by saying NO that you can concentrate on the things that are really important.” -Steve Jobs

 

নিজের জন্য প্রতিদিন এক ঘন্টা এবং একটি পছন্দের কাজ

 

আপনি শেষ কবে গলা ছেড়ে গান গেয়েছেন? কিংবা শেষ কবে বন্ধুদের সাথে জমপেশ আড্ডা, মুভি অথবা মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং খেলেছেন? অনেকদিন হয় না, তাই না! ভেবে দেখুন তো নিজের ইচ্ছা, ভালোলাগা গুলোই যখন অপূর্ণ থেকে যায়, তখন এতো কাজ করা কিসের জন্য তাহলে! তাই সারাদিন যতো কাজই থাকুক না কেন একঘন্টা নিজের জন্য রাখবেন। আর এই এক ঘন্টার জন্য কোনো টু-ডু লিষ্টেরও দরকার নেই। বই পড়তে মন চাইলে বই পড়বেন, লিখতে ইচ্ছা হলে লিখতে বসে যাবেন, বিশ্রাম দরকার হলে বিশ্রাম কিংবা ব্যায়াম, মেডিটেশন অথবা আপনার পছন্দের যেকোনো কিছু করতে পারেন। এইটা কোনো কাজ নয়, বরং আপনার প্রাপ্য। তাই সময়টাকে মূল্যবান করে তুলুন।

 

“The time you enjoy wasting is not wasted time because it’s your personal time.” -Bertrand Russel

 

পারিবারিক সময় বাড়িয়ে দিন

 

পরিবার শব্দটাই প্রত্যেকের জন্যই বাড়াবাড়ি রকম আবেগের একটা বিষয় এবং এটাই মনে হয় একমাত্র জায়গা যা কিনা কোনো রকম বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই সবসময় আপনার পাশে থাকে। আপনার হাসিতে সব থেকে উচ্চস্বরে হাসবে আবার আপনার কান্নায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে। তাই কাজের বাইরের সময়ের বেশিরভাগটাই পরিবারের প্রাপ্য। যাদের পরিবার নেই কিংবা দূরে থাকেন তারা বুঝে এর গুরুত্ব কতোটুকু। তাই নিয়মিত বাবা-মার খোঁজ খবর নিন, একসাথে ডিনারের অভ্যাস করুন, একসাথে শপিংয়ে যান, অথবা পারিবারিক পিকনিক। সব মিলে যে পারিবারিক আবহ কিংবা অনুভূতি পাওয়া যায় সেটা কোনোভাবেই অন্য কিছু থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এরপর যখনই আপনি কাজের মধ্যে থাকবেন আপনার মানসিক পরিবর্তনটা ঠিক বুঝতে পারবেন। কারণ, পারিবারিক সুখ না থাকলে নিজে সুখী হওয়া যায় না।

 

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করা

 

বর্তমান সময়ে ব্যায়াম শুনলেই যেন  gym, weight lifting, dumbbells, treadmill এইসব নাম মাথায় আসে। কিন্তু নিয়মিত হাঁটাহাটি করা, সকালে ঘুম থেকে উঠা, পরিমিত খাবার খাওয়া এইসবও ব্যায়ামেরই অংশ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিকতার পরিবর্তন ঘটায়। আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা, মানসিক স্থিতিশীলতা, সময়ানুবর্তী, একাগ্রতা বেড়ে যায় নিয়মিত ব্যায়ামের দ্বারা। আর শারীরিক সুস্থতা তো রয়েছেই। তাই একটা নির্দিষ্ট সময় বের করে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। দেখবেন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও স্থিতিশীল হয়ে যাবেন।  

 

“Physical fitness is not only one of the most important keys to a healthy body, but it is also the basis of dynamic and creative intellectual activity.” -John F. Kennedy

 

সবশেষে যেটা বলা জরুরী সেই শব্দটা হল ‘অভ্যাস’। উপরের প্রতিটি জিনিসের সার্থকতা অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। দু’একবার করেই আপনি ফলাফল আশা করতে পারেন না। কিন্তু একবার অভ্যাস করে ফেললেই ব্যক্তিগত, পেশাগত, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে খুব সহজেই মানিয়ে যাবেন।    

Continue Reading

Productivity

যানজটে কাটবে সময় দারুণ ৩টি উপায়ে!

Published

on

কেবল ঢাকা শহরেই প্রতিদিন যানজটে নষ্ট হয় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা! যানজট আমাদের জীবনে নিত্যদিনের এক ভোগান্তির নাম। কিন্তু কিছু কৌশল কাজে লাগালে যানজটের এই সময়টিই চমৎকার গঠনমূলকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এমনই তিনটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।

 

অডিও বুক

যানজটে সময় পার করতে সচরাচর কী করি আমরা? গান শুনি! কেমন হয় যদি গান শোনার বদলে বই শুনি?

আগে আমিও যানজটে বসে বসে গান শুনতাম। কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা হলো – বিনোদন ছাড়া গান শোনার তেমন উপযোগিতা নেই। অথচ বই শোনায় বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জানার, শেখার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

বাংলার বদলে ইংরেজি অডিও বুক শোনার অভ্যাস করলে ভাল, শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও একবার অভ্যাস হয়ে গেলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে – বইটাও শোনা হয়ে গেল, ইংরেজির দক্ষতাও বৃদ্ধি পেল। বেশিরভাগ ইংরেজি বইয়ের অডিওবুক একটু গুগল করলেই পেয়ে যাবে। ইউটিউবেও মিলবে চমৎকার সব অডিও বুকের খোঁজ।

অডিও বুকের ব্যাপারে জানা হলো, কিন্তু কোন বই শুনবো সেটি কীভাবে ঠিক করবো? আমার পরামর্শ হচ্ছে অহেতুক গল্পের বই না শুনে গঠনমূলক কিছু শোনা। হতে পারে সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্পগাঁথা (Biography), অথবা সফল ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করেছে যেসব বই।

বিল গেটসের প্রিয় বই সম্পর্কে গুগল করলেই একসাথে দারুণ অনেকগুলো বইয়ের খোঁজ মিলবে। আমি নিজের পছন্দের কিছু বই, এবং যেগুলো পড়বো ঠিক করেছি এমন কিছু বইয়ের নাম তুলে ধরছি-

 

The Alchemist

The Art of War

Rich Dad Poor Dad

Drive

Think and Grow Rich

Eat that Frog!

The Power of habit

Blink

Tools of Titans

Long Walk to Freedom

Wings of fire

When Breath Becomes Air

এ তো গেল বইয়ের কথা। বই শোনার চেয়েও আমার বেশি পছন্দ পডকাস্ট শোনা। (পডকাস্ট মানে রেডিও বা অনলাইনে একরকম শো, যেখানে অনেকটা আড্ডার মতো করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।) হয়তো তোমার পছন্দ মুভি দেখা, সুতরাং গুগল করতে পারো তোমার প্রিয় পরিচালকের ইন্টারভিউ শোনার জন্য।

যেমন Eli Roth একজন হরর মুভি নির্মাতা, আমার বেশ পছন্দের মানুষ। আমাজন জঙ্গলের নরখাদকদের নিয়ে তাঁর একটি মুভি রয়েছে। সেটি বানাতে গিয়ে তাঁকে আমাজনে দুর্গম অঞ্চলে সভ্যতা বিবর্জিত আদিবাসীদের সাথে অনেকদিন কাটাতে হয়েছে – সেই রোমাঞ্চকর গল্প যেন কল্পনাকেও হার মানায়!

পডকাস্ট ছাড়াও আরেকটি চমৎকার জিনিস রয়েছে – বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল। তোমরা অনেকে নিশ্চয়ই Ted talk সম্পর্কে জানো। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা ইত্যাদি শেয়ার করে।

আমার মনে আছে একটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল রাউন্ডে আমার প্রেজেন্টেশন, আমি কিছুতেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল কেবল হাল ছেড়ে দেই! উপায়ান্তর না দেখে এক বন্ধুকে মেসেজ দিলাম। সে কিছু বললো না, শুধু একটা লিঙ্ক পাঠালো, একটি টেড টকের- “A dialogue to kill the fear of public speaking” by Animesh Gupta.

মাত্র বিশ মিনিটের সেই ভিডিওটি আমার মানসিকতার খোলনলচে বদলে দিলো! প্রেজেন্টেশনের ভয়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে জয় করার একটা প্রবল তাগিদ চেপে বসলো মনে। এরকম হাজার হাজার টেড টক রয়েছে ইউটিউবে, যেগুলোর যেকোন একটিই যথেষ্ট তোমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য।

Ted Talk ছাড়াও আমার খুব প্রিয় কিছু চ্যানেল- Impact Theory, Goalcast, Gary Vee, Be Inspired, Evan Carmichael। তোমরাও তোমাদের পছন্দের ইউটিউব চ্যানেলের কথা কমেন্টে লিখে শেয়ার করো সবার সাথে।

 

ভোক্যাবুলারি

বছরের শুরুতে আমরা সবাই কিছু না কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করি। অনেকেরই লক্ষ্যের তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে – “ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া”। দক্ষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ভোক্যাবুলারির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।

ডিকশনারি ধরে “প্রতিদিন ১০টা শব্দ শিখবো, তাহলে বছরে সাড়ে তিন হাজার শব্দ শেখা হবে!” – এভাবে আসলে বেশিদূর আগানো হয় না! আমাকে ভোক্যাবুলারি শেখায় সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে দুটো জিনিস।

Word Smart নামে দুই খণ্ডের একটি বই আছে। সেখানে প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ, অর্থ এবং ব্যবহার দেখিয়ে অসাধারণ হাস্যরস সম্বলিত একেকটি বাক্য রয়েছে। বইটি পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয়নি ভোক্যাবুলারি শিখছি, মনে হয়েছে যেন গল্পের বই পড়ছি!

বইটি মোটামুটি সবখানেই পাওয়া যায়, আরো সহজ হয় PDF ডাউনলোড করে নিলে।

Vocabulary Course নামে ইউটিউবে Farhad Hossain Masum ভাইয়ের অসাধারণ একটি ভিডিও সিরিজ রয়েছে (এটির কথা আমি সুযোগ পেলেই বলে থাকি!) উনি একদম সহজ করে, অনেক মজার মজার উদাহরণ দিয়ে অনেকটা গল্প করার মতো করে ভোক্যাবুলারি শিখিয়েছেন ভিডিও গুলোয়। এটি নিয়ে Vocabuilder নামে একটি বইও রয়েছে।

ভোক্যাবুলারি শেখার জন্য বই আর ভিডিওর খবর জানলাম, কিন্তু যতো শিখি ততোই যে ভুলে যাই তার সমাধান কী? ফ্ল্যাশকার্ড এক্ষেত্রে দারুণ কাজে দিতে পারে। একটি ছোট কাগজে একটি শব্দ লিখে কাগজের উল্টো পাশে সেটির অর্থ লিখতে পারো।

‘অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই?’

আমার এক বন্ধু এরকম শ’খানেক ফ্ল্যাশকার্ড সাথে নিয়ে ঘুরে সবসময়! আরো সহজ উপায় স্মার্টফোনের ডিকশনারি। আমি নতুন কোন শব্দ শিখলেই সেটি ডিকশনারিতে বুকমার্ক করে রাখি। সময় পেলেই বুকমার্কের শব্দগুলো দেখে নিই, যতোদিন না সেগুলো একদম অন্তরে গেঁথে যায়।

 

ফেসবুক

ফেসবুক ব্যবহার করো না এমন কেউ কি এখানে আছো? খুব সম্ভবত, এই লেখাটির খোঁজও তুমি ফেসবুক থেকেই পেয়েছো! ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয় – এটি নিয়ে সবারই কম-বেশি অনুযোগ আছে, আবার এটি ছাড়া চলেও না – মহা মুসিবত! কেমন হয় যদি ফেসবুক হয়ে উঠে তোমার শিক্ষক?

যেমন ধরো, আমি টুকটাক ব্লগ লিখি। অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই? ফেসবুকের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যে জিনিস সার্চ করবে, যেরকম পেইজে লাইক দেবে – ওরা ঘুরেফিরে সেরকম আরো কনটেন্ট তোমাকে সাজেস্ট করতে থাকবে।

আমি ঘুরে ঘুরে লেখালেখির কাজে আসে এমন অনেক পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছি, তাই ফেসবুকে ঢুকলেই দারুণ কিছু না কিছু টপিক পেয়ে যাই!

আরেকটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ – তোমার ফ্রেন্ডলিস্ট। ফেসবুকে সৃজনশীল যেই মানুষগুলো আছে, যারা ছবি আঁকে, গান গায়, লেখালেখি করে, বিতর্ক করে, ভিডিও বানায়, নিজেই ব্যবসা চালায়, নানারকম গঠনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করে – আমি খুব চেষ্টা করি এমন মানুষদের সাথে কানেক্টেড হতে।

সুতরাং ফেসবুক আমার জন্য সময় নষ্ট নয়, বরং চমৎকার শিক্ষামূলক একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি এতো এতো মেধাবী মানুষজন অসাধারণ সব কাজ করে চলেছে – সেগুলো শেখার পাশাপাশি অনুপ্রেরণা যোগায় অনবরত।

Continue Reading

Productivity

অফিস মিটিং সফল করার কৌশলাদি

Published

on

আপনি রবিবার সকালে অফিসে আসলেন এবং এসেই জানতে পারলেন কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার মিটিং শুরু হবে। কিন্তু আপনার কিছুই গোছানো হয়নি। কী করবেন এই মূহুর্তে আপনি? আমরা মিটিংয়ে প্রায়ই বেশ কিছু ভুল করি যা মোটেও কাম্য নয়। যার ফলে অনেক সময় নষ্ট হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফলও পাওয়া যায় না।

 

মিটিংগুলোতে আমরা মূলত যে সমস্যাগুলোতে পড়ি

 

ব্যবসায় লাভ অথবা বিক্রি কতো হলো এইসব বিষয়ে যখনই কোনো মিটিং হয় কিছু বিষয় বরাবরই একই থাকে সেগুলো হলো, কেমন সেলস হলো, কাদের সাথে মিটিং হয়েছে, কাজটি কেমন ছিল ইত্যাদি। এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে একজন যদি কম করে হলেও ৬ মিনিট নেয় তবে মিটিংয়ে ৬ জন উপস্থিত থাকলে এক ঘন্টা সবার অভিব্যক্তি শুনতেই শেষ হয়ে যাবে। এটাই কী একজন কর্মীর সময়ের সঠিক ব্যবহার!

 

বার্ষিক সেলসের উপর যে মিটিং হয় তাতে বিগত সময়ে কী কী করা হয়েছিল সে সম্বন্ধে কথা বলা হয়। প্রত্যেক কর্মী যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিট মিটিং কী নিয়ে এবং সেজন্য কী কী করা হয়েছিল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকে, তবে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দেখা যায়, একদম শেষে এসে মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা নিয়ে কথা শুরু করা হয়, কিন্তু সময়ের অভাবে আসল বিষয় নিয়েই কথা শেষ করা সম্ভব হয় না। প্রজেক্ট মিটিংয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু ভবিষ্যতে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে অন্যদের কাছ থেকে অভিমত নেয়ার সময় হয় না।

 

বোর্ড মিটিংয়েও একই ধরণের সমস্যা হয়। কে কী করেছে এইসব প্রশ্ন ও উত্তরের মাঝখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নিয়ে একদম শেষে কথা বলা হয় যখন হাতে আর সময় থাকে না।

 

মিটিং কখন সফল হবে?

 

এবার আসা যাক তাহলে মিটিংয়ে কী নিয়ে আলোচনা করা উচিত। মিটিং মূলত খুব ছোট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করা উচিত যেন বর্তমান অবস্থা, তাতে কী সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা যায়। কেননা সময় খুবই মূল্যবান সেটা কর্মকর্তা আবার পরিচালক যেই হোক না কেন। তাই মূল বিষয় নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত জরুরি।

 

সহকর্মীদের সাথে আগেই শেয়ার করুন

 

আপনি বর্তমানে কী করছেন, অতীতে কী করেছেন অথবা কোন কাজটি আপনি ভবিষ্যতে করবেন সেই বিষয়ে আপনার সহকর্মীদের জানিয়ে দিন। মিটিং আলাদা করে রিপোর্ট পড়ে সময় নষ্ট করার কী দরকার! আপনি কোন কাজগুলো করেছেন তার দিকে দৃষ্টি দেয়া থেকে কাজটি অর্জনে আপনার কী করা উচিত সেদিকে ফোকাস করুন। তাহলে সহকর্মীরাও বুঝতে পারবে আপনার দায়িত্বগুলো। এছাড়া আপনার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও আপনার দায়িত্বগুলো সম্পর্কে অবগত থাকবেন। পরবর্তীতে আপনাকে কতটুকু দায়িত্ব দেয়া উচিত, আপনার যোগ্যতা কতটুকু তাও বুঝে যাবে। এর ফলে নতুন কাজের দায়িত্ব বন্টণ করাও সহজ হয়। কারণ, এক বসায় কে কোন কাজ করছে সহজে নোট করে ফেলা যায়।

 

সমস্যা এবং সমাধানের নোট তৈরি করে ফেলুন

 

আপনি যখন আপনার কাজের রিপোর্ট তৈরি করবেন আগে থেকেই নোট করে রাখুন কোন জায়গাটায় আপনি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অথবা কোথায় আপনার সাহায্য লাগবে। যেমন ধরুন, আপনার সেলস রিপোর্ট তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে যার জন্য সেই কাজটিতে সহকর্মীদের সাহায্য লাগবে। সে ব্যাপারে মিটিংয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কথা বলুন। আবার এমনও হতে পারে, আপনার বার্ষিক বাজেট তৈরি করতে হবে কিন্তু কিছু হিসাব মিলছে না এ ব্যাপারগুলো মিটিংয়ে তুলে ধরুন।

 

তাহলে অহেতুক সময় নষ্ট হবে না। সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আপনার কাজটি আরো সুন্দর করে করতে পারবেন।

 

ভবিষ্যত পদক্ষেপের লিস্ট করে ফেলুন

 

মনে রাখবেন, একটি ফলপ্রসূ মিটিংয়ে আপনি বর্তমানে কী অবস্থানে আছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং ভবিষ্যতে কী করতে চান বা কোম্পানিকে কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে চান সে বিষয়ে আলোচনা করুন। মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা এটাই হওয়া উচিত যে, কোম্পানির লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কেমন হবে। হতে পারে, আগামী মাসে সেলস কতো আশা করছেন অথবা কোন কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি করবেন এ বিষয়গুলো সহকর্মীদের জানিয়ে রাখুন।  

 

আপনি যদি পরিচালক হোন তাহলে আপনার লক্ষ্যগুলো কর্মীদের সামনে আবার পরিষ্কার করুন।  এতে করে তারাও বুঝতে পারবে আপনি তাদের কাছ থেকে কী চাচ্ছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কী করা প্রয়োজন তার সঠিক গাইড লাইনও পাবে৷ অনেকে মিলে যখন আইডিয়া দেয় তখন কম সময়ে অনেক নতুন নতুন বিষয় সামনে চলে আসে৷

 

বিভাগ ভিত্তিক অগ্রগতি নিয়ে কথা বলুন

 

মিটিং বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। কোনোটা বিশেষ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে, কোনোটা আবার নির্দিষ্ট বিভাগ ভিত্তিক হয়ে থাকে। যখন মিটিংগুলো হয় সহকর্মীরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করার, বিশেষ করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটি পাইপলাইন পায়। বিভিন্ন বিভাগগুলো যখন ঠিক মতো কাজ করে তখনই একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়। তাই মিটিংয়ে বিভিন্ন বিভাগগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলুন। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে জানার চেষ্টা করুন। সকল বিভাগ একটি আরেকটির সাথে ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করুন।

 

পরিবর্তনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা

 

আপনার কোম্পানির লোকসান হচ্ছে অথবা বাজারে শেয়ার পড়ে গেছে কিংবা কর্মীরা সন্তুষ্ট নয়! এধরণের বিষয়গুলোতে সমাধানে আসার জন্য মিটিং হতে পারে খুব সুন্দর একটি মাধ্যম। সকলের অভিমত জানুন। আপনি কী ভাবছেন তাও পরিষ্কার করুন৷ এতে করে আপনার ও তাদের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল তা আর থাকবে না এবং খুব অল্প সময়ে সহজ সমাধানে আসা যাবে। পরিবর্তন নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে অথবা কোম্পানির কালচারেও হতে পারে। তাই নতুন কোনো পরিবর্তন আনার আগে সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করুন। তারা কী চাচ্ছে জানুন, তারা কী আদৌ সে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত কিনা বুঝার চেষ্টা করুন। কেননা পরিবর্তনটা তাদের নিয়েই এবং তাদের দিয়েই সম্ভব।

 

কর্মক্ষেত্রে প্রতিটা মুহূর্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রত্যেকটা কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হয়। তাছাড়া আপনার প্রতিযোগী তো আছেই তাদের টক্কর দেয়ার জন্য হলেও আপনাকে যথেষ্ট সচেতন এবং বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে। মিটিং হচ্ছে একটি অন্যতম মাধ্যম যেখানে সিনিয়র-জুনিয়র একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মতামত বিনিময়ের সুযোগ পায়। তাই মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি সেগুলো নিয়েই কেবল আলোচনা করা উচিত। তাহলে একদিকে সময় যেমন অপচয় হবে না, তেমনি মিটিংয়ের উদ্দেশ্যও বাস্তবায়িত হবে। 

Continue Reading

Trending