Connect with us

Motivational

হাল ছেড়ে দেওয়া আপনার সিদ্ধান্ত হতে পারে না

Published

on

হাল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখনোই একদিনে হয়ে উঠে না। এর পিছনে থাকে শত চেষ্টার পরেও ব্যর্থ হওয়ার তীব্র হতাশা। এর পিছনে থাকে দিনের পর দিন কঠিন পরিশ্রমের পরেও সফলতার মুখ না দেখার তীব্র বিষন্নতা। এর পিছনে থাকে কঠিন সময়, নিরন্তর চেষ্টা, অধ্যবসায় এবং অপেক্ষা।

কিন্তু সফলতার একটি কঠিন সত্য হলো তা সহজপ্রাপ্য নয়। কঠিন ভাষায় বলতে গেলে, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়কে পুঁজি করে ব্যর্থতার সিঁড়ি পেরোলেই কেবল সফলতার মুখ দেখা সম্ভব।

 

আপনি যে মুহূর্তে ক্লান্ত হয়ে ভবিষতের অনুরূপ কষ্টের কথা চিন্তা করে হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন, তখন আরেকজন অতীতের কষ্টগুলোর কথা ভেবে সেগুলোর সার্থকতার জন্য চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আপনি যখন, ‘আর পারবো না’ বলে থেমে যাচ্ছেন আরেকজন, ‘আমিই বা কেনো পারবোনা’ বলে এগিয়ে যাচ্ছে।

আপনি যখন আপনার হাল ছাড়ার অজুহাত দেখাচ্ছেন, আরেকজন তখন সফলতাকে দূর থেকে অনুধাবন করছে।

জীবনের সেই একটি লক্ষ্য পূরণে ব্রতী যখন আপনার আশেপাশের সবাইকেই কষ্ট করতে হবে, তাহলে হাল ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত আপনিই বা কেনো নিবেন।

 

আর তবুও যদি এই চিন্তা মাথায় আসে, তবে একটিবারের জন্য হলেও নিচের বিষয়গুলি একবার ভেবে দেখবেন-

 

১. স্মরণ করুন, প্রশ্ন করুন, সিদ্ধান্ত নিন:

 

 

খুব অবাক লাগলেও সত্যি, হাল ছেড়ে দেওয়ার কিছু পথ পরেই কিন্তু সাফল্যের দেখা মিলে।হাল ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে যে ‘আরেকটু কষ্টের’ জন্যে আমরা এই কঠোর সিদ্ধান্তটি নেই সেই ‘আরেকটু কষ্টের’ পরেই কিন্তু সাফল্য অধীর আগ্রহে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে।

 

সেই ‘আরেকটু কষ্টের’ পথটুকু পাড়ি দেওয়ার সময়, যখন আপনাকে হাল ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাটি সবচেয়ে বেশি ঘিরে থাকবে, তখন আপনি স্মরণ করুন, নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং অবশেষে সিদ্ধান্তে আসুন আপনি কি করবেন।

 

স্মরণ করুন আপনি কেন শুরু করেছিলেন।

স্মরণ করুন কিসের জন্য আপনি এতকিছু করছেন।

স্মরণ করুন তাদেরকে যারা বলেছিলো আপনি ব্যর্থ হবেন।

স্মরণ করুন তাদেরকে যারা আপনার সাফল্যের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

স্মরণ করুন আপনার এতদিনের সেই কঠোর অধ্যবসায়কে।

এবং অবশেষে …

প্রশ্ন করুন নিজেকে, শেষ মুহূর্তের জয়ের গরিমা কি বর্তমানের সকল কষ্ট, সকল পরিশ্রম এবং সকল যাতনার তুলনায় অনেক ঊর্ধ্বে?

 

এবং উত্তর যদি হ্যাঁ হয়,

তবে হাল ছাড়বেন না, নিবেন না এই কঠোর সিদ্ধান্ত।নিজের লক্ষ থেকে বিচ্যুত হবেন না।

 

“If you can remember why you started, then you will know why you must continue.” – C Burkman

 

২. কঠিন সময়ের প্রতি পরিবর্তন করুন নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবর্তন করুন নিজের আচরণ:

 

একই পরিস্থিতি, একই অবস্থান, একই রাস্তা- কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি প্রতিক্রিয়া।তাই বলেই কিন্তু গন্তব্য দুইটিও একেবারে ভিন্ন।

 

“হয়েছে! আর পারবো না। আর হবে না আমাকে দিয়ে।অনেক চেষ্টা করেছি। আমি আর পারছি না।”

“আচ্ছা! ঠিক আছে।সমস্যা নেই। এইতো সফলতার আরেকটু কাছে চলে এসেছি। আর অল্প একটু দূর। আর অল্প একটু কষ্ট।আমিই পারবো।”

 

লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আমরা সবাই এমন এক দ্বারপ্রান্তে আসতে বাধ্য যখন আমাদের কাছে সবকিছুই অসম্ভব বলে মনে হবে। ধৈয এবং অধ্যবসায়ের পরিচয় দেওয়াটা আরো কঠিনতর হবে, সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরিশ্রমটা করা আর সম্ভব বলে মনে হবে না।

 

তখন কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকেই স্বাভাবিক বলে মনে হবে। শত চেষ্টার পরেও প্রথম আচরণটির প্রতি ঝুকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে হবে। অথচ একটি কথা কিন্তু ভুলে যাওয়া অনুচিত। সাফল্য কিন্তু স্বাভাবিক কিছু নয় বরং স্বাভাবিকের কোটায় সাফল্য আসাটাই কিন্তু অস্বাভাবিক।

 

এজন্য সাফল্য পেতে হলে কঠিন সময়গুলোতে নিজেকে ইতিবাচক রাখতে হবে। একটু কষ্ট হলেও আশ্বাস দিতে হবে নিজেকে কারণ কঠিন সময়ের ওই একটু খানি আশ্বাসই কিন্তু অস্বাভাবিক ওই সাফল্যকে আপনার কাছে ধরানি দিবে।

 

“The reason why people give up so fast is that they tend to look at how far they still have to go, instead of how far they have come.”

 

৩. ব্যর্থতাকে পাবেন না ভয়, নিবেন না সিদ্ধান্ত হাল ছাড়ার:

 

 

আপনি যদি প্রকৃতপক্ষে জীবনে এমন একটি লক্ষ্যের চয়ন করে থাকেন, যা শুধু আপনার নয়, আপনার আশেপাশের সবাইকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করবে, তবে আপনি নিশ্চিত থাকুন। লক্ষ্যের পথে আপনি একবার না একবার হলেও ব্যর্থ হবেন, হতে বাধ্য।

 

তবে সেই ব্যর্থতার পরেই কিন্তু আপনার লক্ষ্য, লক্ষ্যের সাফল্য, আপনার এতদিনের পরিশ্রমের প্রতিদান অপেক্ষা করে। John Greenleaf Whittier-এর ‘Don’t Quit’-কবিতাটি এই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে অত্যন্ত সহজ সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করেন-

 

When things go wrong as they sometimes will,
When the road you’re trudging seems all uphill,
When the funds are low and the debts are high
And you want to smile, but you have to sigh,
When care is pressing you down a bit,
Rest if you must, but don’t you quit.
Success is failure turned inside out—
The silver tint of the clouds of doubt,
And you never can tell just how close you are,
It may be near when it seems so far;
So stick to the fight when you’re the hardest hit—
It’s when things seem worst that you must not quit.

 

তাই ব্যর্থতায় ভয় পেয়ে হাল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভুল করবেন না।

 

৪. পারস্পরিক তুলনামূলক অজুহাতকে নয়, নিজের পরিশ্রমকে বিশ্বাস করুন:

 

 

হাল ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে আমরা ‘হাল ছেড়ে দেওয়ার’ সম্পূর্ণ বিষয়টিকে প্রশ্রয় কিংবা যুক্তিযুক্ত করার জন্য অনেক অজুহাত দিয়ে থাকি। যেমন-

 

সে আমার তুলনায় অনেক মেধাবী।

তার সুবিধা বেশি।

সে বংশপরম্পরায় এমন কিছু পাচ্ছে যা আমি পাচ্ছি না।

তার ট্যালেন্ট বেশি।

তার জন্য সুপারিশ করার মতো লোক আছে।

 

এমন পারস্পরিক তুলনামূলক হাজারো অজুহাত দিয়ে আমরা আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে যথার্থ প্রমান করতে চাই।কিন্তু একটা কথা আমাদের জেনে নেওয়া দরকার।

 

তার কাছে কি আছে না আছে, সে কি পাচ্ছে বা না পাচ্ছে, সে কি অবস্থানে আছে না আছে, তা কখনোই আপনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় না। একমাত্র আপনি ছাড়া এবং কেবলমাত্র আপনি ছাড়া আপনার ভবিষ্যৎ আর কেউই নির্ধারণ করে দিতে পারে না, কেউই না। এখন এটা একমাত্র আপনার সিদ্ধান্ত আপনি কি এই অর্থহীন, অসার, তুচ্ছ অজুহাতগুলোকে নিজের জীবনে স্থান দিবেন নাকি পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ধৈর্যকে আগলে রেখে যাত্রায় এগিয়ে যেতে চান। যদি দ্বিতীয়টি আপনার সিদ্ধান্ত হয় থাকে তবে হাল ছাড়বেন না।শুধু মনে রাখবেন-

 

“সে যদি বেশি মেধাবী হয়, আপনি হবেন অধিক পরিশ্রমী।

তার যদি বেশি সুবিধা থাকে, আপনার অধ্যবসায় থাকবে বেশি।

সে যদি বংশপরম্পরার বাক্স নিয়ে চলে, আপনি চলবেন ধৈর্যের ট্রাক নিয়ে।

তার যদি ট্যালেন্ট বেশি থাকে, আপনি প্রচেষ্টাকে করবেন পুঁজি

 

তবুও আপনি হাল ছাড়বেন না, নিবেন না এইকঠোর সিদ্ধান্ত।

 

৫. আত্মবিশ্বাসকে রাখুন জাগিয়ে:

 

 

অসহনীয় ক্লান্তি, ব্যর্থতা, কঠিন সময়, নিরন্তর পরিশ্রম- এসকল মুহূর্তে, এসকল পথে যে জিনিসটি আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয় পরে, তা হচ্ছে আমাদের আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস থাকে না বলেই কিন্তু এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমাদের জন্য আরো সহজ হয় উঠে, সহজ হয় উঠে হাল ছেড়ে দেওয়াটা।

আপনি মনে করছেন, মুখে বলাটা খুবই সহজ, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো দরকার। কিন্তু করাটা কঠিন।আপনি একেবারেই ঠিক বলেছেন। কিন্তু আবারো বলছি, কঠিন রাস্তা পাড়ি না দিয়ে গৌরব ও সফলতা পাওয়া মোটেও সম্ভব না।

 

এক্ষেত্রে Joyce Meyer এর কথাগুলো কিছুটা হলেও আপনার আত্মবিশ্বাসের টনক নাড়াবে।

 

“It’s kind of hard you know to realize that you have to wait longer than you thought you would and things are a lot harder than you thought they would be. Things could be costing you more in your life than what you ever think you can bear and it just keeps going on & on, on & on & on. But the people who refuse to quit, the people who won’t give up, I can tell you, I promise you if you won’t quit & if you won’t give up, you will make it to the finish line.”

 

৬. কিছু বুলি যেনো বলি বারংবার, কিছু কথা যেনো আওড়াই শতবার

 

 

শুনতে বেশ হাস্যকর বলে মনে হবে।এমনকি পাগলামি বলে মনে হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা মাথায় আসলে, আর কোনো সমাধান হাতে না পেলে, নিচের ট্রায়ালটা করে দেখতে অসুবিধেটাই বা কিসের।

 

আমি বিশ্বাস করি আমি পারব।

আমি বিশ্বাস করি আমাকে দিয়েই হবে।

আমি বিশ্বাস করি আমার দ্বারা এটি সম্ভব।

আমি বিশ্বাস করি শেষটা আমারই হবে।

 

বাস্তবতা কি জানেন? বাস্তবতা হলো কঠিন সময় আপনার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষের বড়ই অভাব পড়বে। যারাও কিনা পাশে দাঁড়াবে, তারা আপনাকে বেশি হলেও স্বস্তির ২-১টা কথা বলতে পারে, এর বেশি কিছু নয় এবং এর বেশি কিছু আশা করাটাও ভুল। তখন কিন্তু আপনাকে নিজেকেই নিজেকে দাঁড়িয়ে তুলতে হবে, নিজেকেই নিজেকে সাহস জুগাতে হবে, আবার পথচলার উদ্দমটাও কিন্তু নিজেকেই আনতে হবে।

 

তখন এরকম ৩-৪টা বুলি যদি একটু হলেও আপনাকে সাহস যোগায়, তাহলে হাল ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে এমন বুলি আওড়ানোই ভালো।

 

অজুহাতগুলোকে পাশ কাটিয়ে, কঠিন সময়ে নিজেকে ইতিবাচক রেখে, দরকারে ৩-৪ টি বুলিই না হয় আওড়িয়ে নিজেকে আশ্বাস দিয়ে আরো ২-৪ কদম যদি হাটা যায়, তাহলে বিশ্বাস করেন সম্পূর্ণ পথটাও কিন্তু পাড়ি দেওয়া আপনার জন্য অসম্ভব কিছু নয়। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলে ব্যর্থতার ভয়টাও আপনাকে কুপোকাত করতে ব্যর্থ।

 

আর সম্পূর্ণ ব্যাপারটির সারমর্ম কিন্তু একটিই। কঠিন সময়ের পরিশ্রম,  ব্যর্থতা এবং ক্লান্তির ওই পথটুকু পাড়ি দেওয়ার মধ্যেই কিন্তু ‘আজকের সাধারণ আপনি’ এবং  ‘ভবিষ্যতের সফল আপনি’ –এর মধ্যে ব্যবধান। এখন এটা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত,  আপনি নিজেকে কি ভাবে বেছে নিবেন।

 

 

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

একাকীত্ব দূর করার ১০টি উপায়

Published

on

আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫টি সিগারেট খেলে শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় একাকীত্বের কারণেও শারীরিকভাবে ঠিক একই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এবার বুঝুন একাকীত্ব কতোটা মারাত্নক আমাদের শরীরের জন্য। আপনি যতো বেশি একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিবেন এটি ততো বেশি গ্রাস করতে থাকবে আপনাকে। ধীরে ধীরে এটা আপনাকে এতোটাই অসুস্থ করে তুলবে যে, এক পর্যায় গিয়ে আপনার সুইসাইড করার মন-মানসিকতার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু অসহ্য মনে হবে আপনার কাছে।

 

“Loneliness does not mean that there is no one beside you. Loneliness means that everyone is beside you, but the one you want beside you is not with you” -Humayun Ahmed

 

আপনি যদি একাকীত্ব সমস্যায় ভুগেন তাহলে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি কিছু টিপস মেনে চললে খুব সহজে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই আজকে আমি আলোচনা করবো এমন ১০টি টিপস নিয়ে, যা আপনাকে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

 

একাকীত্বের কারণ চিহ্নিত করুন

প্রথমে খানিকটা সময় নিয়ে চিন্তা করুন কেন আপনি প্রায় একাকীত্ববোধ করেন? ধরুন, আপনার উত্তর যদি হয় আপনার যথেষ্ট বন্ধু নেই তাই আপনি একাকীত্ববোধ করেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাঝে মাঝে ফ্রি সময়গুলো অসহায় শিশুদের সাথে কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাদেরকে কিছু উপহার দিন।

 

মেডিটেশন

আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার সকল হতাশা, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো, ‘টেনশন মুক্তি’। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না এবং শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ, যেমনঃ মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

“The more regularly and the more deeply you meditate, the sooner you will find yourself acting always from a center of peace.” J. Donald Walters

 

ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন

আপনি যখনই একা থাকবেন তখন আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। আপনি চিন্তা করতে পারেন কোন কাজটি আমার জন্য ভালো হতে পারে, চাকরি নাকি বিজনেস? কী করলে আমার ভালো হবে, ব্যাংকে চাকরি নাকি সরকারী চাকরি? আপনি যখন আপনার একাকীত্বের সময় এই সকল প্রশ্ন আপনার মনকে করবেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই আপনার একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসবেন। নিজেকে আর একা মনে হবে না এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি বেশ কিছু ভালো চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটবে। তাই নিজের একাকীত্ব দূর করতে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করুন।

 

বই পড়ার অভ্যাস

এটা আমরা সবাই জানি, বই পড়ার অভ্যাস পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন তখনই এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। তাই এরপর থেকে আপনি আপনার অবসর সময়ে বই পড়ে কাটাতে পারেন এবং নিজের একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। আপনি যখন উপন্যাসের চরিত্রগুলো পড়বেন তখন খারাপ সময়ে তারা নানা রকম অসুবিধাগুলো কীভাবে জয় করলো তা কল্পনায় উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মতো করে আপনিও আপনার খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

 

“The reading of all good books is like a conversation with the finest (people) of the past centuries.” – Descartes 

 

পছন্দের কিছু করা

আমাদের প্রত্যেকরই কিছুনা কিছু গুণ এবং ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা একা সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’লাইন কবিতা, এঁকে ফেলেন অসাধারণ একটি ছবি। নিজের একাকীত্বের সময় আপনি আপনার পছন্দের কাজটি করার মাধ্যেমেই এই একাকীত্বকে দূর করতে পারেন। আমরা যখন একা থাকবো তখন আমরা যদি আমাদের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দেই, তখন আমাদের একাকীত্ব জানালা দিয়ে পালাবে এবং নিজেকে আরো উৎফুল্ল মনে হবে।

 

বাস্তবতা নিয়ে ভাবা

আজ আপনার বন্ধুরা যেভাবে আপনার পাশে আছে তারা সময়ের তাগিদে ভবিষ্যতে আপনার পাশে এইভাবে নাও থাকতে পারে। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছেন তা সুদূর ভবিষ্যতে নাও পেতে পারেন। তাই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন। আপনি যতো মানুষের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তার অনুপস্থিতিতে আপনার একাকীত্বতা ততোগুণ বেশি হবে। এজন্য আপনি যতো বাস্তবমুখী চিন্তা করবেন, আপনার একাকীত্ব ততোটাই কমে আসবে।

 

“Life is not a problem to be solved
But a reality to be experienced.” -Søren Kierkegaard

 

প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান

এই পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে কাছের যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো, আপনার মা-বাবা। তাই যখনই একা অনুভব করবেন, তখন আপনি আপনার মা-বাবার সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে থেকেও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারেন।

 

সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ

আপনি আপনার ফ্রি সময় সমাজসেবামূলক কাজ করে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি সমাজ ও দেশের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিতি লাভ করবেন। আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং দিনশেষে আপনি আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারবেন।

 

“The happiest people I know are those who lose themselves in the service of others.” -Gordon B. Hinckley

 

নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে বদলানোর জন্য যদি পৃথিবীতে সহজ কোনো উপায় থাকে সেটি হচ্ছে, প্রতিদিন রাতে ১৫ মিনিট নিজের সাথে কথা বলুন। সারাদিন কী কী ভুল করেছেন সেগুলো মনে করুন এবং এগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে একই ভুল নাহ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। এভাবে আপনি আপনার ভিতর নতুন একজনকে আবিষ্কার করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের অবচেতন মন কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। তাই ঘুমানোর আগে ভালো ভাবুন এবং সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

সবশেষে যে কথাটি বলে শেষ করবো তা হলো, একাকীত্ব কোনো খারাপ বিষয় নয়। আপনি যখনই একা সময় কাটাচ্ছেন তখনই ভিন্ন কিছু করার জন্য সময় পাচ্ছেন। তাই নিজের সাথে যতোটা পারেন সময় কাটান, কিন্তু বিষণ্ণতায় ভুগবেন না। আপনি যখনই বিষণ্ণতায় ভুগবেন ঠিক তখনই আপনি একাকীত্বের ভেতর চলে যাবেন। তাই নিজের একাকীত্বকে কাজে লাগান।

 

“Walking with a friend in the darkness is better than walking alone in the light”– Helen Keller

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Motivational

সফল হতে এড়াতেই হবে যে বিষয়গুলো

Published

on

সফল হবার সুপ্ত ইচ্ছা আমাদের সকলের মাঝে আছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনেক কিছু এমন কিছু করে ফেলি যা আমাদের সফলতার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু সফলতা অর্জনের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সফলতা শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়ত ঠিকমত দু’বেলা খেতে পেয়ে সফল, কারো মতে দু-চারটি গাড়ি কিনে সে সফল।

সফলতার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জন ক্ষেত্রে একেক রকম হলেও, কিছু বিষয় যা আমাদের সফল হবার ক্ষেত্রে মেনে চললে খুব সহজেই সফলতাকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবো। সফলতা মানেই আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনেক বড় হতে হবে বা আপনার দু’চারটে গাড়ি থাকতে হবে এমন নয় বরং মানসিকভাবে শিক্ষিত হওয়া এমনকি মানসিক ভাবে সফল হওয়াটা হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বাস রাখতে হবে মানসিকভাবে সফল হতে পারলেই আপনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল। কেননা আপনি যখন একজন ভালো মানুষ, তখন সেই ভালো মনুষ্যত্বের কৃতিত্ব আপনার যেকোনো সফলতাকে ছাড়িয়ে যাবেই। একজন ভাল মানুষ হিসেবে সফল হবার জন্য যে বিষয়গুলো আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো জানাটা জরুরি। কেননা যখন আপনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, ঠিক তখনই আপনি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। জেনে নিতে পারেন একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

যে বিষয়টি হয়নি সেখানে আর ফিরে না যাওয়া

বিশ্বাস রাখতে হবে আপনার জীবনের যা ঘটছে তা আপনার ভালোর জন্যেই খুব হচ্ছে। আর তাই যে বিষয়টি আপনার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে বা যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে ঘটছে না সেগুলো নিয়ে অকারণ অহেতুক ভাবনায় সময় নষ্ট করবেন না। বরং সামনে কী নতুন করা যায় সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অযাচিতভাবে পুরানো ভাবনায় নিজেকে আটকে রাখা যাবে না। নতুন ভাবনাগুলোর জন্য দ্বার উন্মোচিত করে দিতে হবে। যা ঘটে গেছে তা নিয়ে পুনরায় ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

 

যা আপনার জন্য না তা করবেন না

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা যেকোন কাজ করার পূর্বে, ভেবে নেবেন সে কাজটির জন্য আপনি আসলেই যোগ্য কিনা। অথবা যে কাজটি আপনি আসলেই করতে যাচ্ছেন, তা কেন করছেন? অর্থাৎ এরকম অনেক কিছুই আছে যা আমরা অপরের খুশির জন্য বা অপরের মন রক্ষার জন্য করে থাকি। কিন্তু সবসময় মনে রাখতে হবে, নিজের আদর্শের সাথে কখনোই প্রতারণা করবেন না। আর তাই যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যায় না, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

হতে পারে আপনার আশেপাশের মানুষজন আপনাকে এক প্রকার বাধ্য করবে, সে বিষয়গুলোতে আপনাকে জড়াতে, তবুও নিজের আদর্শকে ঠিক রেখে সে বিষয়গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, যে বিষয়গুলো আপনি মনে করেন যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যাচ্ছে না।

 

অপরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না

কখনোই কোন কিছু করার জন্য, কাউকে বাধ্য করবেন না। কেননা প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অবস্থান রয়েছে, যেখান থেকে সে স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে। অবশ্যই আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানাতে পারেন কোন কাজগুলো তার জন্য ঠিক বা ঠিক নয়। কিন্তু সেগুলোকে পরিবর্তন করার জন্য আপনি তাকে জোর করতে পারেন না। আর তাই অপরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না, এতে করে আপনার স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হবে না। এমন কি নিজের আদর্শ কখনো জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

 

মানতে হবে সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়

সকলকে সুখী-খুশি করা সম্ভব নয়। সবার মন মত আপনি সবকিছু করতে পারবেন এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। সেই কাজগুলো করুন, যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখতে পারছে। অন্যকে খুশি করা অনেক বেশি কঠিন বরং নিজের সন্তুষ্টি আনাটা অনেক বেশি সহজ। আর তাই অপরকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। কারণ আপনার নিজের একার পক্ষে সকলকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয়।

 

ভালো কিছুকে বিশ্বাস করুন

ভালো আর পারফেক্ট এর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনি ভালোকে বিশ্বাস করতে পারবেন কিন্তু সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন কিছুকে বিশ্বাস করাটা ভুল। একেবারে নির্ভুল কেউ হতে পারে না, তবে চেষ্টা রাখতে হবে এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে হবে, যাদের থেকে আপনি ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আর অবশ্যই ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে।

 

সব কিছুকে বড় ভাবে দেখতে হবে

কোন কাজই ছোট নয়। সকল ব্যক্তিত্বরা কখনোই কোন কাজকে ছোট হিসেবে দেখেন না। মনে রাখতে হবে একজন মানুষ যত নিম্ন কাজই করুক না কেন, সে ওই কাজটি করে আনন্দ পাচ্ছে, একই সাথে তার জীবন জীবিকা চালাচ্ছে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে কোনো কাজই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না।

 

বাইরের চাকচিক্য বিবেচনা যোগ্য নয়

একটি বিষয় বাইরে থেকে যতটুকুই দৃষ্টিনন্দন দেখাক না কেন, আপনার জ্ঞানী মন-মানসিকতায় ভেতরের ব্যাপারটিকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আর তাই বাইরের চাকচিক্য দেখে সেই ব্যাপারটিকে ঠিক বা সঠিক বিবেচনা বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে ভেবে, সে বিষয়টির আসল দিকটি উন্মোচন করাই জ্ঞানী মনের কাজ। আর তাই বাইরে থেকে কোনকিছু বিবেচনা করা উচিত নয়।

 

”কেন” জিজ্ঞেস না করা

প্রতিটি বিষয়কে গভীরভাবে চিন্তা করে সে বিষয়ে সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আপনার জ্ঞানী মানসিকতাকে আরো বেশি দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে যে, কেন বিষয়টি এমন হয়েছে, কেন বিষয়টি এরকম নয়, তবে সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কখনোই গভীরভাবে জানতে পারবে না। আর সফল ব্যক্তিত্বরা সর্বদাই কেন প্রশ্নটি সাথে নিজের গভীর যোগাযোগ রাখে। কেননা শুধুমাত্র “কেন” থেকেই আপনি অনেক অজানা দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

 

 বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করে আপনি কতটুকু ভালো জীবন যাপন করছেন

আপনার বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে, আপনি কতটুকু শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। আর তাই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্তিপূর্ণ করাটা অনেক বেশি জরুরি। আপনার সফলতা তখনই আপনার কাছে আসবে, যখন আপনি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। আর তাই ব্যক্তিগত শান্তিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যে কাজগুলো করতে আপনি মানসিকভাবে শান্তি অনুভব করেন, সে কাজগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সাথে করাটা প্রয়োজন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial