Connect with us

Psychology

জেনে নিন কীভাবে আপনার বন্ধুকে বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত করবেন

Published

on

জিসান আর সাকিব (ছদ্মনাম) ছোটবেলার বন্ধু। দুই বন্ধুই পড়ালেখায় বেশ ভালো। কিন্তু সাকিব কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছে, জিসান কেমন যেন বদলে গেছে। জিসানের মধ্যে আগের মতো সেই প্রাণোচ্ছলতা নেই, পড়াশুনায় ও ক্লাসে অমনোযোগী, কারো সাথে তেমন একটা কথা বলে চায় না, আস্তে আস্তে সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে, এমনকি সাকিবকেও এড়িয়ে চলে। কিছুদিন পর হঠাৎ করেই জিসান ক্লাসে আসা বন্ধ করে দিলো। বেশ টেনশনে পড়ে গেলো সাকিব। জিসানের সাথে দেখা করতে তাদের বাসায় যাবার সিদ্ধান্ত নিলো সে। বাসায় গিয়ে জিসানের বাবা মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলো, জিসান বিষণ্ণতায় ভুগছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এখন তার চিকিৎসা চলছে। সবচেয়ে কাছের বন্ধুর এমন অবস্থা শুনে বেশ মন খারাপ হল সাকিবের। চিন্তা করতে লাগলো কীভাবে জিসানকে এই বিষণ্ণতার করাল গ্রাস থেকে বের করে আনতে সাহায্য করা যেতে পারে। আমাদের অনেকের সাথেই এমনটা হয়ে থাকে। আমাদের বন্ধু অথবা প্রিয়জন অনেক সময় বিষণ্নতায় কাবু হয়ে থাকে, কিন্তু আমরা বুঝতেই পারি না কিংবা বুঝতে পারলেও তাদেরকে এই পরিস্থিতিতে মোকাবেলা করার জন্য কীভাবে সহায়তা করতে পারি তা জানি না। তাই আজকে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনার বন্ধুকে বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত করবেন এবং জীবনকে আবার ভালোবাসতে শিখাবেন। তবে তার আগে চলুন বিষণ্ণতা সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই-

 

বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন কী?

 

ডিপ্রেশন (Depression) শব্দটির মানে দাঁড়ায় বিষণ্ণতা বা মনমরা। বিষণ্ণতা একটি ইমোশনাল ইলনেস এবং এর ফলে রোগীর মন মেজাজের অবনতি ঘটে। মানসিক রোগের মধ্যে সর্বাধিক কমন রোগ বিষণ্ণতা। এটি এমন এক রোগ যার সাথে জড়িয়ে থাকতে পারে উদ্বিগ্নতা। বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে বিভিন্ন মাত্রায়, গভীরতায় ও পরিসরে। বেশিরভাগ সময়ে এটি দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন অর্থহীন এবং দুর্বিষহ করে তুলে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভেঙ্গে পড়েন খুব সহজে এবং অলস, অকর্মঠ, শক্তিহীন ও নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

 

সারা বিশ্বেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা এক ভয়াবহ ব্যাধি বলে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই বিষণ্ণতা ব্যাধিতে ভুগছে যা তাদেরকে অক্ষমতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন বিষণ্ণতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বিষণ্ণতা যে একটা রোগ- এদেশে সেটাই অনেকে বোঝে না অথবা বুঝলেও তা স্বীকার করতে চায় না।

 

বিষণ্ণতা ৩ ধরণের হয়- হালকা, মধ্যম এবং গুরুতর। এই ধরণগুলোর চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা আলাদা।

 

প্রায় সব মানুষই হালকা ডিপ্রেশনে ভুগে থাকে। যখন কোন মূল্যবান জিনিস হারিয়ে যায় অথবা প্রিয় মানুষের সাথে ঝগড়া হয় তখন মানুষ হতাশ ও বিমর্ষ হয়। এই ধরণের মানসিক অবস্থা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এর জন্য কোন চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন হয়না।

 

মধ্যম মানের বিষণ্ণতা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। এই সময় ঘুম না হওয়া ও ক্ষুধা কমে যাওয়ার মত লক্ষণগুলোই সাধারণত দেখা যায়। এই ধরণের বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে তবে ঔষধের প্রয়োজন হয়না। মধ্যম মানের বিষণ্ণতা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে মেজর ডিপ্রেশনে পরিবর্তিত হতে পারে। মেজর ডিপ্রেশনের রোগীরা অকর্মণ্য হয়ে পড়ে, জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলে এবং তার পছন্দের কাজগুলো করতেও আর উৎসাহ খুঁজে পায় না। কাজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, খাওয়া ও ঘুম একেবারেই কমে যায় নয়তোবা অনেক বেশি খাওয়া শুরু করে এবং দীর্ঘসময় ধরে ঘুমায়। অনেকের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। গুরুতর বিষণ্ণতার রোগীদের চিকিৎসার প্রধান অংশ ঔষধ। ঔষধ সেবনের ফলে সে হয়তো ভালো অনুভব করবে কিন্তু সে পুরোপুরি সুস্থ নাও হতে পারে। যত দীর্ঘ সময় যাবৎ ঔষধ গ্রহণ করবে, সে ততো ভালো থাকবে। কিন্তু যেই মুহূর্তেই ঔষধ গ্রহণ বন্ধ করে দিবে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। আর এ কারণেই সাইকো থেরাপির প্রয়োজন হয়।

 

এবার চলুন জেনে নেই, কীভাবে আপনার বন্ধুকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত করবেন এবং জীবনকে আবার ভালোবাসতে শিখাবেন।

 

হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন

 

বিষণ্ণতাক্রান্ত ব্যক্তি সবক্ষেত্রেই নিজেকে ব্যর্থ মনে করেন। তিনি মনে করেন কারো জীবনে তার কোনো গুরুত্ব নেই, কেউ তাকে ভালোবাসে না, কেউই পছন্দ করে না। কেবল চারপাশের মানুষগুলোকেই সফল এবং কর্মঠ মনে করেন আর নিজেকে কোনো কাজের জন্যই ভালো মনে করেন না। এবং আস্তে আস্তে নিজেকে অকর্মণ্য ভাবা শুরু করেন। তাই প্রথমে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন তিনি ব্যর্থ কিংবা অকর্মণ্য নন। এবং আপনার কাছে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তার উপস্থিতি আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে এসব নিয়ে আলোচনা করুন। বিষণ্ণতাক্রান্ত বন্ধুকে সবকিছু যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে এবং আশাহত হতে দেয়া যাবে না কোনোভাবেই। এককথায় তার হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

 

পছন্দের কাজে উৎসাহিত করুন

 

সবকিছুতেই অনাগ্রহ বিষণ্ণতা আক্রান্ত রোগের আরেকটি লক্ষণ। রোগীর আগ্রহের বিষয়ের প্রতিও তখন অনাগ্রহ তৈরি হয়। সে শখের কাজগুলিতেও ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কোন কাজেই উৎসাহ থাকে না। সারাদিন শুয়ে বসে থাকাকেই মনে হয় সব থেকে সহজ কাজ এবং এর বাইরের সকল কাজকেই বোঝা মনে হবে। একসময় যে কাজে রোগী খুব আনন্দ পেতেন, ডিপ্রেসশড হয়ে যাবার পর সে কাজে কোন আগ্রহই পাবে না। তাই তিনি আগে যে কাজটি করতে পছন্দ করতেন তাকে আবার সেসব কাজ করার জন্য উৎসাহিত করুন। তিনি যেসব জায়গায় যেতে পছন্দ করতেন, সেখানে সব বন্ধুরা মিলে পিকনিকের আয়োজন করতে পারেন। অথবা তিনি যদি গান গাইতে পছন্দ করেন তাহলে সবাই মিলে গানের আসরের আয়োজনও করতে পারেন।

 

ইতিবাচক মনোভাব

 

বিষণ্ণতার মতো মানসিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইতিবাচক মানসিকতার। কঠিন পরিস্থিতিতে কেবলমাত্র ইতিবাচক মনোভাবই পারে জীবনকে পাল্টে দিতে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক মনোভাব যেকোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলার চাবিকাঠি।

 

কিন্তু ডিপ্রেশনে থাকলে মানুষের মনে নেতিবাচক চিন্তা সবসময় ঘুরপাক খেতে থাকে। আমি বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ- এই ধরনের চিন্তাগুলো সুস্থ হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা। তাই আপনার বিষণ্ণতাক্রান্ত বন্ধু আপনার সাথে যখন কোন বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলবে তখন আপনার কিছু ইতিবাচক কথাই পারে তাকে সাহস ও শক্তি জোগাতে। তার সামনে সবসময় ইতিবাচক কথা বলুন। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার গুরুত্ব এবং উপকারিতা সম্পর্কে তাকে বুঝিয়ে বলুন।

 

হয়ে উঠুন একজন ভালো শ্রোতা

 

বিষণ্ণতাক্রান্ত ব্যক্তি নিজের মধ্যে অনেক কষ্ট, দুঃখ এবং আবেগ লুকিয়ে রাখেন, কারো কাছে তা প্রকাশ করেন না। আবার মাঝে মাঝে তারা মন প্রাণ দিয়ে চান কেউ তাদের কথা শুনুক, কিন্তু কার সাথে তাদের মনের কথা শেয়ার করবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না। তাই বন্ধু হিসেবে আপনার উচিত তাকে আশ্বস্ত করা যে, তার মনের সকল কথা আপনার সাথে তিনি নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারবেন। তার মনের সকল অব্যক্ত অনুভূতি ও কথা প্রকাশ করতে দিন। আপনি শুধু তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে যান। তাকে অযথা উপদেশ এবং পরামর্শ দেয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে তিনি যদি আপনার কাছে কোনো বিষয়ে পরামর্শ চান, সেক্ষেত্রে আপনি তাকে সুপরামর্শ দিতে পারেন।

 

হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করুন

 

বিষণ্ণতাক্রান্ত বন্ধুকে সবসময় হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করুন। কারণ হাসি বিষণ্ণতা কমায়। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, হাসি বিষণ্ণতা কমানোর ঔষধ হিসাবে কাজ করে। যারা বেশি হাসেন তাদের বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা কম। আর যারা রসিকতাকে জীবনের সাথে জড়িয়ে ফেলেছেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ইতিবাচক যা তাদের বিষণ্ণতার হাত থেকে রক্ষা করে। তাই আপনার বন্ধুকে যদি সুস্থ করে তুলতে চান, তাকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করুন। সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিন, প্রকৃতির সংস্পর্শে কোথাও ঘুরতে যান, দূরে কোন গ্রামে ঘুরে আসুন। সেইসাথে তাকে হাসিখুশি রাখার জন্য মজার মজার জোকস ও গল্প শুনাতে পারেন কিংবা রম্য গল্পের বইও উপহার দিতে পারেন।

 

পাশে থাকুন

 

বিষণ্ণতাক্রান্ত ব্যক্তি সবসময় একাকীত্বে ভোগেন। তাই যতটা সম্ভব তাকে সময় দেয়ার চেষ্টা করুন। একসাথে কোনো জিমে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন কারণ যেকোনো ধরণের শারীরিক সক্রিয়তা এক ধরণের হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে যা বিষণ্ণতা থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আস্তে সহায়তা করবে।

 

এছাড়াও তার সাথে লাইব্রেরি বা পাঠাগারে গিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন অথবা বাসার পাশের পার্কে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করুন। আপনাকে পাশে পেয়ে আপনার বন্ধুর একাকীত্ব কিছুটা হলেও দূর হবে এবং একঘেয়েমিও কাটবে। শরীর ও মন ঝরঝরে আর স্বতঃস্ফূর্ত হবে।

 

জীবন অনেক মূল্যবান। কিন্তু বিষণ্ণতার কারণে আমরা হারিয়ে ফেলি আমাদের আমাদের প্রিয়জনকে. এই মরণ ফাঁদ থেকে আপনজনদের রক্ষা করতে আমাদের উচিত সচেতন হওয়া, একে অন্যকে সময় দেওয়া, যথাসময়ে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেয়া এবং সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

Psychology

পড়ার চাপ? জেনে নিন এই মানসিক চাপ কমানোর উপায়

Published

on

পড়া কদ্দুর?

 

-ধুররররররর, কিচ্ছু মনে নাই। একদিক দিয়ে পড়ি, আরেকদিক দিয়ে ভুলে যাই। তোর কি অবস্থা?

 

-কি যে একটা অবস্থা আর বলিস না। টেবিলে বসে আছিই তো আছি, পড়া আগানোর বদলে পিছায়।

 

এইচএসসি পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর এই কথোপকথনের সাথে কোথাও কী নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন? কোথাও কী মনে হচ্ছে এই গল্পটা আপনার? ভুল ভাবছেন; গল্পটা আপনার একার নয়, আমাদের সবার। পরীক্ষার দুয়েকদিন আগে এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার আমাদের সবাইকে হতে হয়। যে যত ভালো স্টুডেন্টই হোক না কেন, যতোই সবকিছু কয়েকবার করে রিভাইস করা থাকুক, একেবারে ঠোঁটস্থ মুখস্থও যদি থাকে পরীক্ষার আগে সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। বার বার পড়া জিনিস দেখলেও মনে হয় ‘আরে, এইটাও আছে নাকি সিলেবাসে?’ পরীক্ষা ভীতি মস্তিষ্ক থেকেই তৈরি হয় মানসিক চাপ, আর ফলাফল হিসেবে- ‘ভুলে যাই’, ‘ঘুম আসে না’, ‘ক্ষুধা নাই’, ‘ভাল্লাগেনা’র মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

আজকে তাহলে পরীক্ষার আগের এই চাপ কমানোর উপায়গুলো একটু জেনে নিই-

 

পর্যাপ্ত ঘুম

 

পরীক্ষার টেনশনে ঘুম না হওয়াটা আজকালকার ট্রেন্ড বলা চলে। যেন, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি ফেললেই পাশ নিশ্চিত। কিন্তু এই সময় পর্যাপ্ত ঘুম যে কত জরুরি তা বলে বোঝানো যাবে না। পরীক্ষার আগের দিন রাত জেগে পড়লে পড়া কতটুকু আগাবে তা আমি জানি না, সেই প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবেই এমন নিশ্চয়তাও আপনাকে কেউ দিতে পারবে না। তবে ছয় থেকে আট ঘন্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম যে আপনার নরমাল ব্রেইন ফাংশন বজায় রাখতে খুবই দরকার এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমারই এক বন্ধু পরীক্ষা এলেই যেন অনিদ্রা রোগে পেয়ে বসে। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সেই ছেলের ঘুমটুম সব যে কোথায় পালায় কে জানে! এই সমস্যার বেশ বড়সড় একটা ইংরেজি নামও আছে, Pre exam anxiety syndrome. আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, হলে বসে ঘুমিয়ে পড়তে! তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম যেন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।  

 

পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খান

 

মা যতই খাবারের থালা নিয়ে আপনার পিছনে দৌড়াক, পরীক্ষার সময় একটু-আধটু অনিয়ম হয়েই যায়। এমনিতেই পরীক্ষা সংক্রান্ত স্ট্রেসের কারণে এনজাইম সিক্রেশন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনেকেরই পরীক্ষার আগে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পেটে গোলমাল দেখা যায়। এসময় তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর পানি পান করুন, ফল খান, আর সহজে হজম হয় এমন কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ এই অজুহাতে তেল-ঝোলঅলা খাবারের দিকে একদম হাত বাড়াবেন না, একদমই না। তা সে ফুসকা, চটপটিই হোক কিংবা ডমিনো’স এর পিজ্জা। পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এইসব খাদ্য থেকে দূরে থাকা উচিত।

 

একবার চোখ বুলিয়ে যান শুধু

 

অনেকেরই অভ্যাস থাকে, পরীক্ষার আগের দিন সবটা রিভাইস দেয়ার। যদি আপনারো তেমন অভ্যাস থাকে, তবে সেই অভ্যাস বদলে ফেলার জন্য আমি বলবো না। তবে আমার মনে হয়, সবটা মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে শুধু ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট এবং সব চ্যাপ্টারের হাইলাইটস দেখে নেওয়াটাই ভালো হবে। এজন্য নিয়মিত পড়ার সময়ই নোট করে রাখুন বা বইয়ে দাগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট মার্ক করে রাখতে পারেন। যাতে পরীক্ষার সময় শুধু সেইটুকুতে চোখ বুলিয়েই আপনি পুরো বিষয়ে একটা সম্যক ধারণা পান। পরীক্ষার দু’একদিন আগে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা করলে তাতে লাভ তো হবেই না বরং যা পারেন, যতটুকু পারেন, সেটুকুও ভুলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেবে। অনেক সময়, পরীক্ষার হলে রেসিডুয়াল নলেজ দিয়েই কাজ চালাতে হয়। শুধু চোখ বুলিয়ে যান, সবটা একবার দেখে যান, তাতেই হবে।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

‘তোর রিভাইস দেয়া শেষ? আমার তো এখনো অনেক পড়া বাকি!’

 

নিজের পড়া না হলে চিন্তা হয় ঠিকই, তবে বন্ধু-বান্ধবের পড়া শেষ এই খবর শুনলে ব্রেইনে শর্ট-সার্কিট হয়না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি পরীক্ষার আগে অন্যের সাথে তুলনা দেয়ার এই কাজটা না করেন। অন্যের পড়ার বৃত্তান্ত শুনলে আপনার পড়া একটুও আগাবে না, বরং পিছিয়ে যেতে পারে। তাই কারো সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করবেন না। নিজের নিয়মে, নিজের রুটিনে পড়ে যান। অনেকে আবার হলে ঢুকার আগে ‘এটা পড়েছিস? ওটা কোথা থেকে পড়লি? এটাও পড়তে হবে? কই আগে বলিস নি তো!’ এই ধরণের কথাবার্তায় জড়িয়ে যান। ফলাফল? প্রশ্ন হাতে পাবার আগেই এমনকি হলে ঢুকার আগেই আপনার কনফিডেন্স লেভেল একেবারে তলানিতে।

 

যা করতে ভাল লাগে তাই করুন

 

এমনটা হতেই পারে যে, হঠাৎ আপনার মোটেও পড়ার মুড নেই। কিন্তু আপনি চেষ্টা করছেন নিজেকে চেয়ার টেবিলে আটকে রাখতে। কী মনে হয়, এতে লাভ হয় কোনো? নাকি বসে থাকাই ব্যস?

 

প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মেথড থাকে রিলাক্স করার। কেউ গান শুনতে ভালোবাসে, কেউ টিভি দেখতে, কেউবা পড়ার ফাঁকে এক পাক নেচে নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে পড়তে বসেন। যেটাই হোক, যা করতে আপনার ভালো লাগে কিছুটা সময় যদি সেভাবে রিলাক্স করে নেন তাতে আপনার সময় নষ্ট হবে না, বরং দ্বিগুণ গতিতে পড়া আগাবে আমি আপনাকে লিখে দিতে পারি।

 

গোছগাছ যা করার আগের রাতেই করে রাখুন

 

পরীক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আগেই গুছিয়ে রাখুন। কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব রাতেই গুছিয়ে একপাশে রেখে দিন। পরীক্ষার দিন সকালে এসব খুঁজে সময় বা শক্তি কোনোটাই নষ্ট করা যাবে না। হলে যাবার ক্ষেত্রে যানবাহনের ব্যাপারটিও মাথায় রাখুন। যদি পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়, তাহলে তো খুবই ভালো। আর তা না হলে রিকশায় যাবেন নাকি গাড়িতে নাকি কিছুটা সময় বাসের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই ব্যাপারগুলো আগেই ভালোভাবে বুঝে নিন। দরকার হলে ব্যাকআপ কোনো ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

 

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার মতো পাব্লিক পরীক্ষার আগে খানিকটা চাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি ভর্তি পরীক্ষার মতো লাইফ চেঞ্জিং কোনো কিছু হয়, তবে চাপ যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। অনেকের জন্য আবার সাধারণ ক্লাস টেস্টও পাহাড় ডিঙ্গানোর সমান চ্যালেঞ্জিং। এই চাপকে সরিয়ে রেখে ঠিকমত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে আপনাকেই। শুধু একটা কথা মাথায় রাখুন, আপনি যা পারেন, যতটুকু পড়েছেন সেটুকুই যথেষ্ট। শেষ সময়ে এসে হা-হুতাশ না করে যা পারেন সেইটুকু ঠিকভাবে লিখে আসতে পারলেই আপনাকে আর ঠেকায় কে! আর যদি অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়, তবে একটু উপরের কথাগুলো মিলিয়ে নিন। 

Continue Reading

Psychology

কিছুই মনে থাকছে না? জেনে নিন স্মরণশক্তি বৃদ্ধির সহজ উপায়

Published

on

পরীক্ষার আগের রাতে এতো এতো পড়ার পরও হলে গিয়ে কিছুই মনে থাকে না, মাথা থেকে একদম উধাও! কেন এমনটা হলো? তাহলে কি আপনার ব্রেনের ধারণ ক্ষমতা কম? এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ব্রেন ২.৫ পেটাবাইটস ডাটা ধারণ করতে পারে। ১ পেটাবাইটস = ১০২৪ টেরাবাইটস , ১ টেরাবাইটস = ১০২৪ গিগাবাইটস। এবার ধরি, যদি একটি কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক ১ টেরাবাইটস বা ১০২৬ জিবি হয় তাহলে ২.৫ পেটাবাইটস = ২৫৬০ টি কম্পিউটারের হার্ড ডিস্কের ধারণক্ষমতার সমান। সুতরাং আমাদের প্রত্যেকের ব্রেনে ২৫৬০ টি কম্পিউটারের হার্ড ডিস্কের সমান তথ্য ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে । এবার হয়তো ভাবছেন আমাদের ব্রেনে যদি এতো ধারণ ক্ষমতা থাকে, তাহলে আমরা মনে রাখতে পারি না কেন? ঠিক ধরেছেন, এমনটা হতে পারে স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার কারণে।

 

মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে

 

বহুবছর ধরেই বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে এ নিয়ে গবেষণা করছেন। বছরের পর বছর গবেষণার পর কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। আমাদের মগজের বাইরের স্তরের নিচে ছোট একটি অংশ রয়েছে যার নামহিপোক্যাম্পাস’। মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের এই অংশটুকু মস্তিষ্কের মূল অংশের সাথে দারুণভাবে জড়িত। এ অংশটি নতুন কিছু শেখার ও স্মৃতির জন্য কাজ করে। ইউনিভার্সিটি অব লেসিস্টারের গবেষকরা জানান,  হিপোক্যাম্পাসের আশপাশের কয়েকটি অংশেই নতুন তথ্য বিশেষ প্রক্রিয়া সংরক্ষিত হয়। মস্তিষ্কের বাইরের দিকে ভাঁজ হয়ে রয়েছে কর্টেক্স। এটি আকারে হিপোক্যাম্পাসের চেয়ে বড় এবং অসংখ্য কাজ করে। দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর নড়াচড়া এর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ কিছু অনুভূতির জন্যে, যেমন- রাতে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে তারা দেখার সময় আমরা যা অনুভব করি তার জন্যে মস্তিষ্কের কর্টেক্স বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়া  পরিচালনা করে। পুরনো বন্ধুকে চিনতে, পাখির ডাক শুনতে এবং দখিনা বাতাসের অনুভূতি পেতে কাজ করে কর্টেক্স। এ ধরনের অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে জড়ো হয়ে থাকে। এমন বহু অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি কর্টেক্সজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। পুরনো কিছু মনে করার সময় মস্তিষ্ক শুধুমাত্র এই অংশ থেকে তথ্যটা খুঁজে নেয়। নিউরোলজিস্ট গিওর্গি বুসাকি ২০০৬ সালে প্রকাশিত ‘রিদমস অব দ্য ব্রেন’ বইয়ে লিখেছিলেন, কর্টেক্স হলো মস্তিষ্কের বিশাল লাইব্রেরি, আর হিপোক্যাম্পাস সেখানকার লাইব্রেরিয়ান। 

 

স্মৃতি ভুলে যাওয়ার কারণ

স্মরণশক্তি বাড়ানোর উপায় জানার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার কারণগুলো:

১।  কম সময় ধরে ঘুমের অভ্যাস স্মরণশক্তিকে দুর্বল করে দেয়,

 

২। ডিপ্রেশন বা হতাশা,

 

৩। অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া, 

 

৪। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস,

 

৫। একাকীত্ব,

 

৬। উচ্চ রক্তচাপ,

 

৭। এ্যালকোহল ইত্যাদি।

 

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায়

 

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন নানা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে চেয়েছেন স্মরণশক্তি বাড়ানোর উপায়। এর মাঝে খুঁজেও পেয়েছেন কিছু পদ্ধতি। আসুন তাহলে জেনে নিই সেই পদ্ধতিগুলো কী কী:

 

মেডিটেশন

 

একাগ্র মনের কোনো চিন্তার নাম ‘meditation’ এটি শুধু মনকেই কেন্দ্রীভূত করে জাগিয়ে তোলে না, শরীরেরও উপকার করে। আমরা জানি, মানুষের শারীরিক শক্তির অন্যতম উৎস হলো মন। মন যখন শান্ত থাকে, মানুষ তখন তার মস্তিষ্ককে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে। আর মনকে স্থির করার সফলতম পদ্ধতি হলো মেডিটেশন (meditation)

 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মেডিটেশন স্মরণশক্তি এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। যদি এমনটা হয় যে আপনি কোনো কিছু মনে রাখতে পারছেন না, তাহলে মেডিটেশন আপনাকে সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে সহায়তা করবে। অ্যাপেল কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস নিয়মিত মেডিটেশন চর্চা করতেন। তিনি ভারতে গিয়েছিলেন আধ্যাত্মিক জীবনের খোঁজে এবং সেখান থেকেই তাঁর মেডিটেশন চর্চা শুরু। ধ্যান করার মাধ্যমে জবস তার নিজের মানসিক চিন্তাধারাকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চালনা করতে শিখেছিলেন-যা তাঁর জীবনযাত্রা পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে।

 

“আপনার মনে হবে সময় অনেক ধীরগতির হয়ে গেছে, প্রতিটি মুহূর্ত আপনার কাছে অনেক দীর্ঘ মনে হবে। আপনি আগে যা দেখতে পেতেন, তার চেয়ে অনেক বেশি দেখতে পাবেন। এটা একটা শৃঙ্খল জীবন, আপনাকে এর অনুশীলন করতে হবে।” – স্টিভ জবস

 

Imagination বা কল্পনা

 

Dominico O’brien তার বই “You Can Have An Amazing Memory”-তে বলেছেন, ইম্যাজিনেশন বা কল্পনা এবং মেমোরি একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। মনে করুন, যদি আপনাকে আপনার জীবনের একটা ঘটনা বর্ণনা করতে বলা হয় প্রথমে আপনি সেটা কল্পনা করবেন তারপর বলবেন। যদি আপনি কল্পনা করতে পারেন তাহলেই বলতে পারবেন। তাই যখনই কোন কিছু পড়বেন সেটাকে কল্পনা করার চেষ্টা করুন। কোনো বক্তৃতা বা প্রেজেন্টেশন মুখস্থ করতে হলেও সেটা হেঁটে হেঁটে মুখস্থ করার চেষ্টা করুন।  এতে করে আপনার ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

 

ব্যায়ামে মস্তিষ্কের আকার বাড়ে

 

শরীরচর্চা করলে দেহের পেশির সাথে সাথে মস্তিষ্কের আকারও বৃদ্ধি পায়। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের সিন্যাপসের সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে মগজে নতুন নতুন কোষ তৈরি হয়। ব্যায়ামের ফলে মগজে বেশি হারে অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ সরবরাহ হয়।

 

হাঁটা খুবই সাধারণ এবং উপকারি একটি ব্যায়াম। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার ফলে ব্রেনের বিভিন্ন এরিয়ার যোগাযোগ ক্ষমতা বাড়ে। নিয়মিত হাঁটার ফলে ব্রেনের নিউরাল কানেকশনের উন্নতি ঘটে। যার ফলে পরিকল্পনা তৈরি, কাজের স্ট্র্যাটেজি সাজানো, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, প্রায়োরিটি সেট করাসহ নানা কাজে ব্রেনের ক্ষমতা বেড়ে যায়। আর আপনি যদি দিনের খোলা আকাশের নিচে ব্যায়াম করেন, তাহলে বাড়তি পাওনা হলো ভিটামিন-ডি।

 

নতুন কিছু করুন

 

আপনাকে যদি আমি প্রতিদিন ডাল-ভাত খেতে বলি আপনি কি খাবেন? নিশ্চয়ই না। ঠিক তেমনি আমাদের ব্রেন প্রতিদিন একই ধরনের কাজ করতে করতে একটা সময় ঝিমিয়ে পড়ে। তাই ব্রেনকে সচল রাখতে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। ডুডলিং, ছবি আঁকা বা নতুন কোনো ভাষা শিখুন। অনলাইনে দাবা খেলতে পারেন বন্ধুর সাথে তাতে আপনার সামাজিক যোগাযোগটাও উন্নত হবে আর আপনার ব্রেনের কার্যক্ষমতাও বাড়বে। এছাড়াও নতুন কাজ করতে আমাদের মস্তিষ্ক একধরনের প্রশান্তি অনুভব করে থাকে। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায় হিসেবে দারুণ কাজে দেয়।  

 

বিপরীত হাত ব্যবহারের অভ্যাস

 

আমরা যখন ডান হাত দিয়ে কোনো কাজ করি, তখন আমাদের ডান পাশের ব্রেন কাজ করে। বাম পাশের ব্রেন কোনো কাজ করতে পারে না। তাই স্মরণশক্তি বাড়াতে বাম হাতের ব্যবহার শুরু করুন। যেমন: বাম হাত দিয়ে ব্রাশ করা, কোন কিছু লেখা ইত্যাদি। প্রথম প্রথম অসুবিধা হলেও নিয়মিত চর্চা করলে অভ্যাস হয়ে যাবে। এছাড়াও সম্প্রতি আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব মানুষের চুইংগাম খাওয়ার অভ্যাস থাকে তারা অন্যান্যদের তুলনায় বেশি স্মৃতিশক্তির অধিকারী হয়ে থাকেন। চুইংগাম খাওয়ার সময়ে নড়তে থাকা মুখমণ্ডলের হাড় মাংসপেশী মস্তিষ্কের টি অংশকে নাড়াতে পারে। এক্ষেত্রে মাত্রাটা হয়তো খুব একটা বেশি নয়। তারপরও মানুষকে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি স্মৃতিশক্তির অধিকারী করে তোলে চুইংগাম। তাই বলে আবার ক্লাসরুম কিংবা অফিসে চুইংগাম মুখে রাখবেন না যেন!

 

প্রচুর পড়তে হবে

 

“জোড়ে জোড়ে পড়বি আমি যেন রান্নাঘর থেকে শুনি”– এই কথাটা প্রায় সবাই মায়ের কাছে শুনে বড় হয়েছি। আসলে মায়েরা এই কথাটা ভালোর জন্যই বলে থাকেন। ন্যাচারাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ কাউন্সিল অফ কানাডার অর্থায়নে ২০১১ সালে একটি গবেষণাতে দেখা যায়, যারা জোরে শব্দ করে পড়ে কিংবা পড়ার সময় শ্রবণের সাহায্য নেয়, তারা ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সেই পড়া অধিক মনে রাখতে পারে। লোহা যেমন অনেকদিন ঘরে রাখলে জং ধরে যায়, ঠিক তেমনি নিয়মিত ব্রেন চর্চা করলেও স্মরণ শক্তি কমে যায়।

 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের  বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, নিয়মিত পড়াশুনা মানুষের বুদ্ধিমত্তার কোষগুলোকে নতুন নতুন উপায়ে প্রশিক্ষণ দিতে থাকে। এমনকি ব্রেনের যে কোষগুলো আগে ব্যবহার হয়নি সেই কোষগুলোকেও সচল করে দিতে থাকে। পড়ার সময়টাতে মনোযোগ বাড়াতে দায়ী কোষগুলোতে রক্ত চলাচল কার্যকর করে তাই স্মরণশক্তি বাড়ে।

 

ঘুম স্মৃতি সংরক্ষণে সহায়তা করে

 

দিনের পুরোটাকে ভালভাবে কাজে লাগানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে কীভাবে আপনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন তার মধ্যে। দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে মস্তিষ্ক সজাগ হওয়ার সময় পায় না। সূর্যের কিরণ যখন আপনার বন্ধ চোখের পাতা ভেদ করে ঢুকে পড়ে, তখন সেটা মস্তিষ্ককে কর্টিসল হরমোন ছড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বারকলের গবেষকেরা প্রমান করেছেন, স্মরণশক্তি বাড়াতে ঘুম খুব কার্যকরী। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মাইকেন নেডেরগারড জানান, রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্কে বাঁধা সৃষ্টি করে। এতে করে আপনার মস্তিষ্ক ৭ বছর বুড়িয়ে যেতে পারে। ঘুম মস্তিষ্কের অন্যতম ডিটক্সিফাইন কর্ম। সারারাত ঘুমানোর সময় মস্তিষ্কের কোষগুলো ক্ষতিকর পদার্থ ব্রেন থেকে সরিয়ে দেয়, যা স্মরনশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এখন থেকে ঘুমটা হোক নিয়মিত।

 

স্মরণশক্তি বৃদ্ধির উপরোক্ত উপায়গুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। প্রতিদিনকার চেষ্টার মাধ্যমে নিজের স্মরণশক্তিকে বাড়িয়ে তুলুন এবং সাফল্যকে ছুঁয়ে দিন সবার আগে, সবচেয়ে কম সময়ে! 

Continue Reading

Psychology

জেনে নিন মর্নিং রুটিনের পিছনের সাইকোলজি

Published

on

সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে কি করেন? মোবাইল হাতে নিয়ে মেসেজ চেক করেন? নাকি ধোঁয়া ওঠা এককাপ গরম চা দিয়ে শুরু হয় আপনার সকাল? নাকি উঠেই বেরিয়ে পড়েন জগিং করতে? দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীর ও মনের কর্মক্ষমতা অনেকটাই বেশি থাকে। আর আপনি যদি এই ক্ষমতা সারা দিনের জন্য স্টক করে রাখতে চান তাহলে মর্নিং রুটিনের কোনো বিকল্প নেই। নিয়ম করে রোজ সকাল বেলা নির্দিষ্ট কিছু কাজ করুন। আপনার ব্যক্তিগত মর্নিং রুটিনের পিছনে খুব বেশি হলে এক ঘণ্টা করে সময় দিন। আর এটাই একটা Perfect Day পাওয়ার মূলমন্ত্র।

 

মর্নিং রুটিন খুবই প্রয়োজনীয়, কিন্তু কেন?

 

দেখুন, এখানে কিন্তু আপনার সারা দিনের রুটিনের কথা বলা হচ্ছে না। শুধুমাত্র মর্নিং রুটিন অর্থাৎ সকালবেলার রুটিনের কথাই বলা হচ্ছে। যদি আপনার অভ্যাস থাকে দৈনন্দিন সব কাজই রুটিন মাফিক করার, তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু সেটা যদি সম্ভব নাও হয়, অন্ততপক্ষে মর্নিং রুটিন অনুসরণ করার অভ্যাস আজই গড়ে তুলুন। সকালবেলার অগোছালো ভাব যেন আপনার দৈনন্দিন কাজের দৈন্যদশার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। মর্নিং রুটিন আপনাকে আরো সফল, আরো মৌলিক করে তোলে। ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করে কাজে যাওয়া মানুষের চেয়ে একটা নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী কাজে বেড়ানো মানুষগুলি কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি সফল।

 

মর্নিং রুটিনের পেছনের সাইকোলজি

 

মর্নিং রুটিন আপনার সকালবেলার পাশাপাশি পুরো দিনটাকে গুছিয়ে আনতে সাহায্য করে। গতকালকের অপ্রাপ্তি ভুলিয়ে আজকের ব্যস্ত দিনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য যে মানসিক শক্তি দরকার তার জন্য মর্নিং রুটিন একটা আদর্শ উপায়। সকালবেলার প্রার্থনা, সকালবেলার ব্যায়াম এমনকি সকালবেলা চা এই সবকিছুই একটু অন্যরকম। সফল মানুষদের দিনলিপি ঘেটে তাদের যেসব কাজে মিল পাওয়া যায় মর্নিং রুটিন তার মধ্যে অন্যতম। সারা দিনের ব্যস্ততার অজুহাতে মর্নিং রুটিন এড়িয়ে যাবার মত বোকামি করবেন না। বরং যে যত ব্যস্ত, মর্নিং রুটিনের প্রয়োজনীয়তা তার তত বেশি।

 

নিজের মর্নিং রুটিন নিজেই তৈরি করুন

 

মর্নিং রুটিন স্কুলের রুটিনের মতো ছক বাঁধা কোনো রুটিন নয়। আমাদের প্রত্যেকের জীবন আলাদা,ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রুটিন। তাই মর্নিং রুটিনও পছন্দ অনুযায়ী সবার আলাদা আলাদা হওয়া উচিত। যেভাবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেভাবেই নিজের রুটিন ঠিক করে নিন। কোনো নির্দিষ্ট কাজ আপনার করতে ভাল লাগলে তবেই সেটা মর্নিং রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন, অন্য কেউ করছে বলে যে আপনাকেও সেই কাজটাই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। একটা সুন্দর পরিচ্ছন্ন সকাল থেকেই একটা সফল পরিতৃপ্ত দিনের সূচনা হয়। তাই ভেবেচিন্তে নিজেই নিজের মর্নিং রুটিন বানিয়ে নিন।

 

একটি আদর্শ মর্নিং রুটিন

 

যদি আপনি মর্নিং রুটিনে অভ্যস্ত না হন, তাহলে আজ থেকেই শুরু করুন। নিচের তালিকা থেকে পছন্দসই ৩/৪ টা কাজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত করুন। আবারো বলছি, মাত্র ৩/৪ টা। অল্প অল্প করে শুরু করুন, অভ্যাস হয়ে গেলে পরে এর সাথে আরো  কিছু কাজ যোগ করে নেয়া যাবে। কিন্তু অল্প অল্প করে শুরু করাই ভাল-

 

১. “Early to bed and early to rise makes a man healthy, wealthy and wise” – Ben Franklin

 

সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠুন, সকালবেলার আলো হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। তাছাড়া এর ফলে দিনের সব কাজকর্ম ঠিকভাবে করার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

 

২. উঠেই এক গ্লাস পানি খান। খালি পেটে পানি খাওয়ার ফলে আপনার দেহের বিপাকক্রিয়া শতকরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দিনভর আপনার শরীর হাইড্রেটেড থাকে, শরীরের জন্য ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। ত্বক ও চুলের কমনীয়তা বজায় থাকে।

 

৩. নিজের বিছানা নিজেই গুছিয়ে রাখুন। এটা আপনার ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্যও এটা একটা ভাল অভ্যাস।

 

৪. দশ থেকে পনের মিনিট ব্যায়াম করুন, অন্তত হাঁটাহাঁটি করুন। এর ফলে দেহের বিপাকীয় কার্যাবলি বেড়ে যায়, মাংসপেশি সচল হয়। শরীরের ফ্যাট কমানোর জন্য এবং মানসিক স্ট্রেস দূর করার জন্য সকালবেলার ব্যায়াম খুবই কার্যকরী। এক্ষেত্রে আপনি হালকা যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনও করতে পারেন।

 

৫. ভাল করে হাত মুখ ধুয়ে নিন, পারলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল সেরে নিন। এতে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়, দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।

 

৬. মোটামুটি ভারী নাস্তা করে নিন, সকালবেলার খাবার দুপুর বা রাতের খাবারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকালবেলার তাড়াহুড়োয় অনেকেই নাস্তা না করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কর্মব্যস্ত দিনের জ্বালানি যোগাতে সকালবেলার নাস্তার কোনো বিকল্প নেই।

 

৭. সারাদিনের কাজের পরিকল্পনা করে নিন, দরকার পড়লে ডায়েরীতে লিখে নিন। আগে থেকে প্ল্যান করা থাকলে যেকোনো কাজ করা অনেকগুণ সহজ হয়ে যায়। কাজে সফলতার হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

 

৮. কাজে যাওয়ার জন্য সঠিক আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করুন। এমনকি যদি আপনার ঘরই আপনার কাজের জায়গা হয় তারপরো ভাল জামাকাপড় পড়ে কাজে বসুন। এতে মনও ফ্রেশ থাকে, কাজকর্মেও গতি আসে।

 

একটি সতেজ, প্রাণবন্ত, পরিকল্পিত সকালবেলা আপনার পুরো দিনটাকেই বদলে দিতে পারে। আর এর জন্য আপনার দরকার একটি সঠিক মর্নিং রুটিন। মানসিক এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই মর্নিং রুটিন আপনাকে প্রস্তুত করে তোলে। তাহলে আর দেরি না করে আজই নিজের মর্নিং রুটিন তৈরি করে নিন আর নতুনভাবে দিনটা শুরু করুন।

Continue Reading

Trending