একটি প্রশ্ন যা তোমাকে সহজে “না” বলতে সাহায্য করবে

“না” – শব্দটি সহজ হলেও সবচেয়ে বেশি অপ্রত্যাশিত । ছোট্ট এই শব্দটি আমাদের হৃদয়কে ব্যাথিত করে তোলে খুব সহজেই । কারোর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে “না” শব্দটা শুনলে আমরা নিজেরা খুবই বিষন্ন হয়ে পড়ি, এমনকি এটি আমাদের আত্মমর্যাদার প্রশ্ন হয়েও দাঁড়ায়। এরকম অনেক ঘটনার সম্মুখীন আমরা প্রতিনিয়তই হচ্ছি যেখানে নিজের সমস্যা হলেও অন্যের প্রশান্তির জন্য “হ্যাঁ” বলে দিই। কারণ, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে আমরা প্রায় সবাই উপলব্ধি করেছি, “না” শব্দটা শোনা কতটা কষ্টকর, কতটা কঠিন।

ধরুণ, সারাদিন কাজ করে অফিস থেকে মাত্র ফিরেছেন আর ওমনি ফোনকল আসলো নতুন একজন সহকর্মীর। রিসিভ করতেই তিনি জানালেন তার একটা জরুরী রিপোর্টে আপনার সাহায্যের প্রয়োজন। আপনি হয়তো অনেক ক্লান্ত, হতে পারে আপনার নিজেরই অনেক কাজ এখনো বাকী। কিন্তু শতকষ্ট হলেও আপনি তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। কেননা আপনি জানেন, “না” শব্দটা শোনার অনুভূতি কেমন হতে পারে।

 

নাশব্দটা বলা এতো কঠিন কেন?

 

প্রকৃতিগতভাবে প্রতিটি মানুষই অন্যের কাছ থেকে নিজের গ্রহনযোগ্যতা আশা করে। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে আত্মনির্ভরশীল মানুষটাওনাশব্দটা শুনতে চায় না বিবর্তনের শুরুর দিকে মানবজাতি একে অন্যের সাথে দলবদ্ধভাবে বসবাস করতো। ঠিক তখন থেকেই তারা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে শুরু করে এবং সেই আদিকাল থেকেই – “হ্যাঁ, আমি তোমাকে সাহায্য করবোকিংবাহ্যাঁ, আমি তোমার পক্ষে অবস্থান করবোএই কথাগুলো শুনতেই মানুষ বেশি ভালোবাসে। প্রকৃতপক্ষেহ্যাঁশব্দটির প্রচলন এককভাবে অথবা নিজের দলকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 

বর্তমান যুগে আমরা অনেকটাই স্বতন্ত্র জীবনাযাপন করতে পারি, কিন্তুহ্যাঁশুনার সহজাত প্রবৃত্তিটা রয়ে গেছে ঠিক আগের মতোই। উপরন্তু, যোগ হয়েছে সামাজিক পদমর্যাদা আর অর্থপ্রাচুর্যের আকাঙ্ক্ষা। বস্তুত সবার ভালোবাসা জয় করে সহযোগীতা লাভের আশায়হ্যাঁশব্দটির কোনো জুড়ি নেই।

 

কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন কেউ সরাসরিনাবলে দেয়। মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেটাই শুনতে চায়, যেটা সে শুনতে ভালোবাসে। তাই বেশিরভাগ সময়েইনাশব্দটা শুনে মন খারাপ করে ফেলে

 

 

একটি সহজ প্রশ্নের মাধ্যমে সমাধানঃ

 

মাঝেমাঝে আমরা এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যেখানেনা বলতে পারিনা আবার অন্যের মনে কষ্টও দিতে চাইনা। সেক্ষেত্রে একটি সহজ প্রশ্নের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে, আর প্রশ্নটি হচ্ছেকিভাবে?

 

সরাসরিনাবলার চেয়ে এটিই সহজ পথ এর মাধ্যমে কারোর আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে না বরং অন্যদের কাছে আপনি  আপনার নিজের অবস্থানটা বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবেন। কোনো সাহায্যপ্রার্থীকেকিভাবেপ্রশ্নটা করার সাথে সাথেই আপনাকে সে নিজের কাজ সম্পর্কে ব্যাখাযোগ্য ভূমিকা জানাবে এবং তাঁর প্রয়োজনটাও বলতে বাধ্য হবে। তবে যদি কেউ আপনাকে একেবারেই সাহায্য না করে কেবল নিজের কার্যোদ্ধারের সুযোগে থাকে, সেক্ষেত্রে তাকেনাকরে দেয়াটাই উত্তম হবে।

 

সোজাসুজিনাবলে প্রত্যাখান করার চাইতেকিভাবেবলে প্রশ্ন করলে অন্যদের কাছে সেটি সাহায্যের চেষ্টাস্বরূপ উপস্থাপিত হয়। আর এতে করে মনে কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।

 

যখন আপনি কোনো কাউকেকিভাবে সাহায্য করতে পারি?” প্রশ্নটা করছেন, তখন পরোক্ষভাবে আপনি তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন তার নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনের অংশটুকু উপস্থাপন করার। এমনও হতে পারে সে হয়তো ভাবেনি যে কিভাবে কাজটা শেষ করতে হবে অথবা আপনার সাহায্যের প্রয়োজন কতোখানি আর এই প্রশ্নের উত্তরটির মাধ্যমেই আপনি জানতে পারবেন মানুষটি কি আসলেই আপনার কাছ থেকে সাহায্য আশা করছে নাকি আপনাকে দিয়ে তার নিজের কাজগুলো করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

 

 

নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দিন, অন্যকে নয়:

 

আপনার আশেপাশে এমন অনেকেই থাকবে যারা নিজের কাজ নিজে না করে আপনাকে দিয়ে করিয়ে নিতে চাইবে। তাই অন্যকে খুশি রাখার জন্য নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে সবসময়হ্যাঁবলে দেওয়া উচিত না। নিজের চারদিকে এমন একটি অদৃশ্য বলয় তৈরী করে রাখতে পারেন যাতে করে যে কেউ আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়ার সাহস করতে না পারে। কিন্তু এরপরও যদি কেউ আপনাকে শুধুমাত্র ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে সাহায্যপ্রার্থনা করে, তবে আপনি তাকে সরাসরিনাবলে দিতে পারেন। এতে করে অন্যদের কাছে আপনার সম্মান কমবে না, বরং বেড়ে যাবে।

 

তাই এখন থেকে কেউ সাহায্য চাইলে তাকে সরাসরিনাবলার পরিবর্তেকিভাবেবলার অভ্যাস করুন। বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী, আত্মীস্বজনসবার ক্ষেত্রেই এটি বেশ কার্যকরী একটি সহজ সমাধান। একবার ভেবেই দেখুন না, এর মাধ্যমে আপনার জীবনের কতোগুলো গুরুত্বপূর্ণ সময় বেঁচে যাবে! তাইকিভাবেবলার অভ্যাসটি শুরু করতে পারেন আজ থেকেই!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *