Connect with us

Psychology

দেরী না করে এক্ষুনি বাদ দিন মাল্টিটাস্কিং

Published

on

আজকাল জীবন এতই ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, মনে হতে পারে একসাথে অনেক দিক না সামলালে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। বলতে গেলে সবাই মাল্টিটাস্কিং করছে। বাচ্চারা যেন সামনে টিভি বা মোবাইল না রেখে খেতেই পারছে না। প্রাপ্তবয়স্করা ফেইসবুকে বসে থেকে জরুরী ইমেইল লিখছে। শহরের রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় মানুষ একই সাথে হাঁটছে আর ফোন টিপছে।

 

মাল্টিটাস্কিং একটা রীতিতে পরিণত হয়েছে। আমরা খুব গর্ব করেই বলি, আমরা একসাথে কতগুলি কাজ করি। যে যত কাজ একসাথে সামলাচ্ছে, সে ততই সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা।

 

কিন্তু একটু ভেবে দেখুন, যতবার মাল্টিটাস্কিং করেছেন, আপনার অর্জন কি বেশি ছিল? কাজগুলোর মান কি ভাল হয়েছে?

 

মাল্টিটাস্কিং একটা অভ্যাস, কোন দক্ষতা নয় :

 

দিনশেষে চেকলিস্টের সব কয়টা কাজে টিক পড়েছে, এটা একটা অতুলনীয় অনুভূতি। দেখলেই মন প্রশান্তিতে ভরে যায়। কিন্তু এটা কারো কারো জন্য একটা অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। আমাদের থেকে এটাই আশা করা হয় এবং আমরাও একগাদা কাজ হাতে নিতে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখি না।

 

অভ্যাস গড়ে ওঠে তিনটি জিনিস দিয়ে। সূত্র, নির্দিষ্ট ধারা এবং পুরষ্কার। সূত্র দিয়ে কাজটার শুরু হয়, রুটিনের নির্দিষ্ট ধারায় কাজটা পরিচালনা হয় এবং পুরষ্কার হল যেটা আমরা রুটিন মাফিক কাজ করে পাই। সফলভাবে রুটিনের কাজ শেষ করলে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসরিত হয়। এটা আমাদের চমৎকার অনুভূতি দেয়। রুটিনের কাজ যতবার শেষ হবে, ততবেশি ডোপামিন নিঃসৃত হবে। এইজন্য এই পুরষ্কারের লোভে মাল্টিটাস্কিং এর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা কষ্টকর।

 

বেশি মানেই ভাল না :

 

গবেষণায় দেখা গিয়েছে আমরা যতটা মনে করি, মাল্টিটাস্কিং এ আমরা ততটা ভালো না। মানুষের মস্তিষ্ক নানাদিকে একবারে মনোযোগ দেওয়ার মত করে তৈরি হয়নি।

 

যখন আমাদের দুটি কাজ একসাথে দেওয়া হয়, আমরা কোনটাতেই আমাদের শতভাগ দিতে পারি না, বরং মস্তিষ্ক দ্রুত দুইটা কাজে আলাদাভাবে মনযোগ দিতে থাকে। তখন আমাদের মনে হয় আমরা বোধহয় একই সাথে দুইটা কাজ করতে পারছি।

 

আমাদের মস্তিষ্ক যখন টানা দুইটা কাজে মনযোগ ভাগ করে দিতে থাকে, তখন কাজের মান খুবই নেমে যায়। কারণ, আমরা মস্তিষ্কের কাজের গতিতে বারবার বাঁধা দিচ্ছি। প্রতিবারই নতুন করে মনযোগ দিতে হচ্ছে এতে মাথায় চাপ সৃষ্টি হতে থাকে।

 

আপনি যদি আপনার সবটুকু মনযোগ একটা কাজে দিতে পারেন তবেই কাজটার মান ভাল হবে।

 

 

সবচেয়ে ভাল ফলাফলের জন্য একটা একটা করে কাজে মনোযোগ দিন :

 

শুনলে আরও পরিশ্রমের মনে হলেও একটা একটা করে কাজ করলে আমাদের ফলাফল আরও ভাল হবে, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের উচিত মস্তিষ্ককে শেখানো কিভাবে একটা কাজেই মনোনিবেশ করতে হয়। এতো কাজের ব্যাপারে যত্ন বাড়বে, আরও গভীর অনুধাবন সম্ভব হবে এবং কাজের মান ভাল হবে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যদি সচেতনভাবে চেষ্টা করি অমনযোগী মস্তিষ্কের মনযোগ ফিরিয়ে আনতে, তাহলে আমাদের মস্তিষ্কের মনোনিবেশ ক্ষমতা  নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

একটা করে কাজে মনোযোগ আনার জন্য কিছু পরামর্শ :

 

১। একটা করে ট্যাব খুলবেন :

আমরা প্রায়ই ১০-১২টা করে ট্যাব খুলে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি। এতে বারবার একটা কাজ রেখে আর একটা কাজ ধরার প্রবণতা বাড়ে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে একবারে শুধু একটা করে ট্যাব খোলার অভ্যাস করুন। তাহলে আপনি একটা কাজ শেষ করে আর একটা কাজে হাত দেওয়ার অভ্যাস করতে পারবেন। প্রত্যেকটা কাজই তাহলে মনের মত হবে।

 

২। ছোট ছোট পা ফেলে শুরু করুন :

জীবনে হঠাৎ বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসলে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। তাই ছোট পদক্ষেপে শুরু করুন। আপনার মনযোগ বিচ্ছিন্ন করবে এরকম সব দূরে সরিয়ে রাখুন। পড়তে বসলে কিংবা মিটিং এ গেলে ফোন বন্ধ করে রাখুন। কোন হঠাৎ পরিবর্তনে  বিচলিত হবেন না। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধীরে সুস্থে অভ্যাস বদলান। তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।

 

৩। জীবনকে বাড়তি আবর্জনামুক্ত করুন :

আমাদের অনেকের জীবনেই অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত কিছু জিনিস থাকে। সেগুলো থেকে নিজেকে মুক্তি দিন। একসাথে অনেক কাজ হাতে নিবেন না, সাধ্যের বাইরে কাজকে না বলতে শিখুন। যতটুকু কাজ হাতে নিলে আপনি আপনার পূর্ণ মনযোগ দিতে পারবেন ঠিক ততটুকু কাজ নিবেন। অন্যের অসম্ভব অনুরোধকে না বলার সুস্থ অভ্যাস গড়ে তুলুন।

 

৪। বাকিদের জানিয়ে দিন আপনার নতুন পরিবর্তনের কথা :

যদি আপনার আশেপাশের মানুষদের অভ্যাস থাকে আপনার উপর বাড়তি কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, তাহলে তাদের ভদ্রভাবে জানিয়ে দিন আপনি গুরুত্ব অনুসারে একটা একটা করে কাজ করছেন। তারা আস্তে আস্তে বুঝে যাবে। আপনার কাছের মানুষদের সহযোগিতার মাধ্যমে আপনি পারবেন জীবনে নেতিবাচক পরিবর্তন আনতে। তাই তাদের সাহায্য নিন।

 

এখনি সময় আমাদের এই মাল্টীটাস্কিং এর ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা। আমাদের কাজ তখনই সবচেয়ে মান সম্মত হবে যখন আমরা কাজে আমাদের পূর্ণ মনযোগ  দেব। আপনার এতদিনের কাজের ধারা সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলা কিছুটা ভীতিকর মনে হলেও এভাবেই ধীরে ধীরে আপনার সব কাজেই নিজের সবটুকু ঢেলে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Psychology

কীভাবে মোকাবিলা করবেন মানসিক চাপ

Published

on

দিন যতোই যাচ্ছে আমাদের ব্যস্ততা ততোই বেড়ে চলেছে। অবসরের যেন কোনো ফুরসতই নেই! সময়ের সাথে পাল্লা দিতে হলে এমন ব্যস্ততা থাকবেই এবং সেইসাথে বাস্তবতাকেও মেনে নিতে হবে। কিন্তু ব্যস্ততার সাথে সাথে আমাদের মানসিক চাপও বাড়ে। আমরা অনেকেই এটাকে সহজে মেনে নিতে পারিনা যার ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হই এবং কোনো কিছুই ঠিকমতো হয়ে উঠেনা। তাই বলাই বাহুল্য, শারীরিক সুস্থতায় মানসিক সুস্থতাও অনেকাংশে জড়িত। সেজন্যই মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে নানান কাজের মাঝেও থাকতে হবে চাপমুক্ত। তাহলে চলুন চাপমুক্ত থাকার কিছু উপায় জানা যাক:

 

টু-ডু লিস্টের ব্যবহার

প্রতিদিন আমরা কেমন যেন ম্যারাথন দৌড়ের মধ্যে আছি। ঘুম থেকে উঠেই নিজ নিজ কর্মব্যস্ততায় আটকে থাকি এবং দিনশেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে যদি এমন কাজের মধ্যেই ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে আগেরদিন রাতের বেলায় একটা কাজের লিস্ট করতে হবে। সেই লিস্টে তারপরের দিন কী কী কাজ করতে হবে তার একটা তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকাটিকে ’টু ডু লিস্ট’ বলে। আগের রাতে যদি এটা তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে সকালে উঠে প্রথমেই এই লিস্টটি বানিয়ে নিতে হবে। এ লিস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সবার প্রথমে রাখতে হবে। এভাবেই কাজের গুরুত্ব বিচার করে একটার পর একটা কাজ সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে কাজের পাশে নির্দিষ্ট সময়সীমা লিখে রাখতে পারলে ভালো হয়। এভাবে তালিকা তৈরি করলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো করা হয়ে যাবে। ফলে মানসিক চাপও কমবে এবং সময় না পেলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি না করলেও অতোটা সমস্যা হবেনা।

 

নিখুঁত হওয়া বন্ধ করুন

যারা সব সময় সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে, তারা সুখী হতে পারে না। সব সময়ই একটা চাপের মধ্যে থাকে। তারা যে কাজে যায়, সে কাজেই খুঁতখুঁতে ভাব তৈরি হয়। তাই সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চিন্তাভাবনা থেকে আজই বেরিয়ে আসুন। যে কাজটি করবেন সে কাজে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করুন। আকাশ কুসুম কল্পনা করবেন না। আত্মসমালোচনা  করুন এবং নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে কাজে লাগান। তাহলে এক সময় নিজেই অবাক হবেন কতোটা স্বাধীনভাবে আপনি আপনার কাজগুলো করতে পারছেন। তখন যেমন আনন্দ লাগবে, তেমনি অযথা চাপ থেকেও মুক্তি পাবেন।

 

দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলুন

মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষ, সহকর্মী বা বন্ধুর সাথে ঝগড়া অথবা মনোমালিন্য হওয়া। চাপমুক্ত থাকতে হলে যথাসম্ভব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। কারোর সাথে কোনো রকম ঝামেলা হলে তার সাথে নিজ থেকে সুন্দরভাবে কথা বলার মাধ্যমে তা সমাধান করুন। অনেকেই সুন্দরভাবে কথা না বলে উল্টো ইগো নিয়ে চুপচাপ থাকেন। কিন্তু এতে করে কেউ শান্তি পায় না বরং মানসিক চাপটাও আরো বেড়ে যায়।

 

প্রয়োজনে ‘না’ বলুন

প্রয়োজনের সময় ’না’ বলতে জানাটা একটা আর্ট। আমরা অনেকেই অন্যকে খুশি করার জন্য ‘না’ বলতে পারিনা। ফলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিপত্তিতে পড়ি। তাই প্রয়োজনের সময় ‘না’ বলতে শিখতে হবে। এমনকি আপনার বসও যদি আপনাকে অযথা বেশি কাজ চাপিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রেও না বলাটা শিখতে হবে। কেননা অযৌক্তিকভাবে বেশি কাজ করতে গেলে আপনি মানসিক চাপে থাকবেন ফলে কাজটা সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে না। তাই যথাসময়ে ‘না’ বলতে শিখুন।

 

গড়িমসি থেকে বিরত থাকুন

অলসতার কারণে আমরা অনেকেই কাজের ক্ষেত্রে গড়িমসি করি। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখি। অথচ আমরা ভুলে যাই যে, আগামীকালের জন্যও আমার কাজ বরাদ্দ রয়েছে। তাই আজকের কাজ আজই করতে হবে। গড়িমসি এবং অলসতাকে জীবন থেকে যতো তাড়াতাড়ি মুছে ফেলতে পারবেন, আপনার ভালো থাকার সময়গুলো ততোই বাড়বে। তাই আর নয় গড়িমসি, কাজের সময় কাজ সম্পন্ন করুন আর থাকুন চাপমুক্ত ।

 

নিজের জন্য ছুটি নিন

প্রতিদিন অজস্র কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন? তাহলে কিছুদিন পরপর ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিন। কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। খুব বেশি দূরে যেতে না পারলেও আপনার বাড়ির আশেপাশে অবকাশ যাপনের কিংবা দর্শনীয় বিভিন্ন জায়গা আছে সেখান থেকে ঘুরে আসুন। এতে করে চাপ অনেক কমে যাবে। আবার নতুন উদ্যমে কাজও শুরু করতে পারবেন। যদি কর্মব্যস্ততার মাঝে ছুটি নাও পান তবুও হতাশ হবেন না, প্রতিদিন নিজের জন্য অল্প কিছু সময় বের করুন- যে সময়টা শুধুমাত্র আপনার উপভোগ করার জন্যই কাটাবেন। নিজের পছন্দের কোনো বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা ভালো লাগার যেকোনো কাজ করতে পারেন। এতে করে যেমন আপনার মন সতেজ থাকবে, তেমনি হবেন চাপমুক্ত।

 

নিয়ম মাফিক চলাফেরা

সুস্থ এবং চাপমুক্ত থাকতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের এবং পরিমিত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বলা যেতে পারে- স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, চাপমুক্ত জীবন চালান। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং অবশ্যই গড়ে ৭-৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। কেননা, ঘুম আমাদের জীবনের অন্যতম বড় অনুষঙ্গ। পরিমিত ঘুম না হলে আমাদের মন ও দেহঘড়ি কোনোটাই ঠিকমতো কাজ করবে না। আর ঘুম কম হলে আমাদের মস্তিষ্কও কম কাজ করে। তাই সবসময় ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করার পাশাপাশি চাপমুক্ত থাকতে ঘুমও বেশ বিবেচ্য বিষয়।

 

শখের সাথে সখ্য

প্রত্যেক মানুষেরই কিছু শখ থাকে। আর সে শখের কাজ স্বেচ্ছায় করে আনন্দ লাভ করে। কোনো আর্থিক লাভ না আসলেও শখের কাজটি করে থাকে। এখন আপনি যদি মনে করেন যে আপনার কোনো শখ নেই, তাহলে আজই শখ আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। যে ভালো কাজটি করলে আপনাকে কেউ টাকা কিংবা বাহবা দিবেনা কিন্তু আপনি মন থেকে ভালোবেসে করবেন- এমন কোনো কাজই হতে পারে আপনার শখ। শখের কাজ চাপ কমায়। তাই চাপমুক্ত থাকতে হলে আজই শখের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন।

 

ভালোবাসুন নিজেকে

নিজেকে সঠিকভাবে ভালোবাসতে জানা মস্ত বড় একটা আর্ট। তাই এই আর্ট রপ্ত করুন। আপনি নিজেই যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে অন্যরা আপনাকে কীভাবে ভালোবাসবে? তাই নানা কাজের মাঝে শত ব্যস্ত থাকলেও নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের আবেগ, অনুভূতিকে ভালোবাসুন। নিজের পরিবর্তন এবং ব্যর্থতাকে ভালোবাসতে শিখুন। সেই সাথে অভ্যাস গড়ে তুলুন নিয়মিত প্রার্থনার এবং মেডিটেশনের, কেননা- ‘প্রার্থনায় আয়ু বাড়ে’। তাই প্রার্থনা ও মেডিটেশন করলে আপনার শরীর-মন দুটোই সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে।

সবশেষে সদয় হোন নিজের প্রতি। গুটিয়ে নয়, চুটিয়ে বাঁচুন। নিজের স্বার্থেই নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাই আর দেরি না করে উপরের উপায়গুলোকে কাজে লাগানো শুরু করুন এবং উপভোগ করুন মানসিক চাপমুক্ত সুন্দর একটি জীবন!

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Psychology

ফেসবুক যেভাবে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ

Published

on

অভ্র ভেবেছে আজ সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কিন্তু কিছুক্ষণ পড়েই সে ভাবলো, এখন একটু বিরতি নেওয়া দরকার, অনেকতো পড়েছি। তাই, ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে সে আবার পড়া শুরু করবে। ব্যস! বিরতির অজুহাতে সে চলে গেলো ফেসবুকের দুনিয়ায়। ওমা! কখন যে সময় ফুঁড়িয়ে মিনিটকে পিছনে ফেলে ঘন্টার কাটাকে ছুঁয়ে ফেলেছে, সে বিন্দুমাত্র টের পায়নি। আর এই গল্পটি শুধু অভ্রের নয়। আমার-আপনার মতো অনেকেরই প্রত্যেহ গল্পের একাংশ বলা চলে। আর  এভাবেই কাজের ফাঁকে, ট্রাফিক জ্যামে বা যেকোনো অবসরেই আমরা ফোনের টুং-টাং নোটিফিকেশনে সঙ্গী করে নেই ফেসবুককে।

লাইক, কমেন্ট, স্ট্যাটাস, শেয়ার এই শব্দ পুঞ্জিমালার প্রতি আকৃষ্ট নেই এমন ব্যক্তির সংখ্যা বর্তমান যুগে কমই মেলে। কারণ, আমরা মানসিক প্রশান্তি বা অবসরে বিনোদনের খোঁজেই হয়ে পড়ি ফেসবুকের নীল আকাশের সাদা গাঙচিল। কিন্তু, আমরা অনেকেই হয়তো জানি না ক্ষণিকের এই বিনোদন জগৎ আমাদের ‘মানসিক বিষণ্ণতার’ একটি উৎস। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, ফেসবুক কীভাবে আবার মানসিক বিষণ্ণতার কারণ হয়? ব্যাপারটা কিন্তু আসলেই তাই। তবে না হয় আপনি নিজেই দেখে নিন ফেসবুক যেভাবে হয়ে ওঠে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ:

 

ফেসবুক

উল্কার বেগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। তার পেছনে কারণেরও শেষ নেই। যেমন:  সুদূর বিদেশে আপনার কোনো আত্মীয় বা স্কুল বদলের কারণে হারিয়ে ফেলা কোনো বন্ধু এবং জানাশোনা পরিচিতজনদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে নিমিষেই। পোস্টকার্ডের আর কোনো খরচের দরকার হয় না। সেই বিদেশি আত্মীয়ের মেয়ে সকালে কী খেয়েছে বা সেই পুরানো বন্ধুর কুকুরটা নতুন কী কাণ্ড করল – একটি ক্লিকেই সব জানা যাচ্ছে।

আপনি লক্ষ্য করলেই দেখবেন আপনার পরিবারের ছোট্ট সদস্যটিও কিছুটা হলেও ফেসবুকের প্রতি আসক্ত। আর এভাবেই ফেসবুক জনপ্রিয়তায় আমরাও ফেসবুক আসক্ত হয়ে পড়ছি। তবে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের সুবিধা-উপকারের মতোই এক্ষেত্রেও দিতে হয় কিছু অদৃশ্য মানসিক মূল্য। একটি বিষদ গবেষণায় দেখা গেছে, খুব বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা আর বিচার ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়। শুধু তাই নয়, এর সাথে আরো কিছু মানসিক সমস্যাতো রয়েছেই।

 

ফেসবুক আসক্তি

চা, সিগারেট, মদ সমাজের মানুষের অন্যতম আসক্তি হিসেবে ধরা হলেও সম্প্রতি DSM-V (Diagnostic and Statistical Manual) বিতর্কিত এক নতুন আসক্তি তালিকায় যুক্ত হয়েছে- ‘ইন্টারনেট আসক্তি’। এর মধ্যে ফেসবুক আসক্তি মিডিয়া নিউজের কল্যাণে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গবেষক হফম্যান এবং তার সহকর্মীরা বাছাইহীনভাবে অনেককে ম্যাসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কোনটি ছাড়া একদিনও চলবে না?’ দেখা গেছে, সিগারেট বা কোনো মাদকদ্রব্যের চেয়ে যে উত্তরটি বেশি এসেছে তা হলো, ‘সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক’। আর এই অতিরিক্ত আসক্তির ফলে দেখা দেয় নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো। তাই নিজেকে লক্ষ্য করুন আর মিলিয়ে নিন উপসর্গগুলো। যদি আপনার সাথে মিলে যায়, তাহলে দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি আপনিও ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার (Facebook Addiction Disorder) বা “ ফেসবুক আসক্তি সংকটে”– আসক্ত হয়ে পড়েছেন। যেমন:

 

১। বিষণ্ণতা

২। অস্থিরতা

৩। নিজেকে হীনমন্য মনে করা

৪। চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাওয়া

৫। অল্পতে ভয় পাওয়া

৬। অল্পতে রেগে যাওয়া

৭। অহেতুক সন্দেহ করা

৮। ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় পরিবর্তন আসা

৯। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, ইত্যাদি।

এছাড়াও মন খারাপ হলে অনেকে ফেসবুকে গিয়ে সুখ খোঁজেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার করলে সুখ পাওয়া যায় না বরং বাড়ে আরো দুঃখ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহারে দুঃখ যেমন বাড়ে, তেমনি এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা, ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ নিয়ে গবেষণা করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ২০৮ জনের ওপর ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। যে দিকগুলো আরো বেশি প্রভাব ফেলছে তা হলো: 

 

আমার জীবন অন্যদের মতো ভাল নয়

সমাজ বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক লিওন ফেস্টিঞ্জার  দেখেছেন, সহজাতভাবেই অন্যের সাথে সামাজিক অবস্থানের তুলনার ঝোঁক রয়েছে মানুষের মধ্যে। ‘আমার গড়পড়তা অন্য সবার চেয়ে ভাল না খারাপ?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে দেখা গেছে মানুষ নিজেদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা শুরু করে দিচ্ছে। আর বিনা পরিশ্রমে এই তুলনার ভালো একটি  মাধ্যম ফেসবুক।

ফেসবুক নিউজফিডেই দেখা মেলে কোনো বন্ধুর বড় কোনো রেস্তোরাতে খাবার ছবি বা হয়তো পেশাগত পদক পাওয়ার ছবি বা চাকরিতে পদোন্নতি। নয়তো, নতুন গাড়ি কেনার খবর বা সেন্টমার্টিন অথবা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার খবর। মোবাইলের ঝলমলে স্ক্রিনে এসব দেখতে দেখতে তখন মনে হয় সবাই হয়তো ভালোভাবে জীবন পার করছে। আমার প্রতিই ভাগ্য এতোটা নিষ্ঠুর। ওরা এতো ভালো অবস্থানে আছে, এতো জায়গাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর ‘আমি’ কিছুই করতে পারছি না! এভাবেই মনের অজান্তে দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা গড়ে ওঠে। আর তখনই মনের গহীনে শুরু হয় বিষণ্ণতা-হতাশার আনাগোনা।

 

সঙ্গীর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতা

আমরা অনেক সময় বলে থাকি, ভালোবাসায় সবকিছুর মাঝে একটু ‘জেলাসি’ তো থাকবেই। আর এই একটু একটু থেকেই যখন বড় আকারে রূপ নেয় ঠিক তখনই দেখা দেয় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য। অতঃপর আরকি! শুরু হয় মানসিক বিষণ্ণতা। আবার, সঙ্গীর স্ট্যাটাস বা ছবিতে তার কোনো প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা বিপরীত লিঙ্গের অন্য কেউ মাঝে মাঝেই লাইক বা লাভ রিয়েক্ট দিচ্ছে বা কমেন্ট করছে। তার সঙ্গীও হয়তো আন্তরিকভাবেই প্রতিউত্তর করছে বা কারো সাথে বেশি যোগাযোগ করছে। এই বিষয়গুলো যে কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনে তার সঙ্গীর জন্য ঈর্ষাপরায়ণতার সৃষ্টি করে দিতে পারে। ‘ফেসবুক এন্ড ইওর ম্যারিজ’ এর লেখিকা ক্রাফস্কি  বলেন, দাম্পত্য জীবন বা প্রেমঘটিত সম্পর্কের অনেক সমস্যাই আজকাল কারণ হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকে বলা যায়।  

 

ব্যক্তিজীবনের অপ্রয়োজনীয় কিছু কার্যক্রম

বন্ধুদের সাথে চায়ের আড্ডা, পারিবারিক আড্ডা, বা হোক না সারাদিনের কর্ম-ব্যস্ততার পরে আপনার প্রিয় মানুষটির যখন প্রয়োজন ‘আপনাকে’; ঠিক সেই মুহূর্তগুলোতে আমরা অনেকেই পড়ে থাকি সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে। আর এভাবেই আমরা নষ্ট করে ফেলি আমাদের ভালো কিছু মূহুর্ত এবং সম্পর্ক। আবার অনেক ক্ষেত্রে, কোনো সম্পর্কের শেষ পরিণতি ঘটে একজন অপরজনের ব্লকের তালিকায়। পরক্ষণেই হাজারো প্রশ্নের সমাহারে, মানসিক উদগ্রীবতায় অনেকেই শরণাপন্ন হয়ে পড়ি ফেক-আইডির। আর এভাবেই শুধু শুধু বাড়ে মানসিক অশান্তি।  শুধু তাই নয় দেখা গেছে, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলার চেয়ে ফেসবুকে মাঝে মাঝে তার ওয়ালে যাওয়া, কারো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।

এভাবে যতো যাই বলা হোক না কেন বর্তমানে আমরা কেউ পারবো না প্রযুক্তির একটি উদ্ভাবনকে এড়িয়ে জীবন চালাতে। তাই ফেসবুকও ব্যবহার করতে হবে, তবে সেটা পর্যাপ্ত পরিমাণে। যেমন ধরুন, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি কম খাওয়াও। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বাস্তবতায় হয়ে পড়ছি অসামাজিক। তাই বিষণ্ণতা বা অবসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়, সময় দিন আপনার সামাজিক জীবনে আর গড়ে তুলুন বিষণ্ণতামুক্ত সুন্দর একটি জীবন।  

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Psychology

পড়ার চাপ? জেনে নিন এই মানসিক চাপ কমানোর উপায়

Published

on

পড়া কদ্দুর?

 

-ধুররররররর, কিচ্ছু মনে নাই। একদিক দিয়ে পড়ি, আরেকদিক দিয়ে ভুলে যাই। তোর কি অবস্থা?

 

-কি যে একটা অবস্থা আর বলিস না। টেবিলে বসে আছিই তো আছি, পড়া আগানোর বদলে পিছায়।

 

এইচএসসি পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর এই কথোপকথনের সাথে কোথাও কী নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন? কোথাও কী মনে হচ্ছে এই গল্পটা আপনার? ভুল ভাবছেন; গল্পটা আপনার একার নয়, আমাদের সবার। পরীক্ষার দুয়েকদিন আগে এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার আমাদের সবাইকে হতে হয়। যে যত ভালো স্টুডেন্টই হোক না কেন, যতোই সবকিছু কয়েকবার করে রিভাইস করা থাকুক, একেবারে ঠোঁটস্থ মুখস্থও যদি থাকে পরীক্ষার আগে সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। বার বার পড়া জিনিস দেখলেও মনে হয় ‘আরে, এইটাও আছে নাকি সিলেবাসে?’ পরীক্ষা ভীতি মস্তিষ্ক থেকেই তৈরি হয় মানসিক চাপ, আর ফলাফল হিসেবে- ‘ভুলে যাই’, ‘ঘুম আসে না’, ‘ক্ষুধা নাই’, ‘ভাল্লাগেনা’র মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

আজকে তাহলে পরীক্ষার আগের এই চাপ কমানোর উপায়গুলো একটু জেনে নিই-

 

পর্যাপ্ত ঘুম

 

পরীক্ষার টেনশনে ঘুম না হওয়াটা আজকালকার ট্রেন্ড বলা চলে। যেন, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি ফেললেই পাশ নিশ্চিত। কিন্তু এই সময় পর্যাপ্ত ঘুম যে কত জরুরি তা বলে বোঝানো যাবে না। পরীক্ষার আগের দিন রাত জেগে পড়লে পড়া কতটুকু আগাবে তা আমি জানি না, সেই প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবেই এমন নিশ্চয়তাও আপনাকে কেউ দিতে পারবে না। তবে ছয় থেকে আট ঘন্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম যে আপনার নরমাল ব্রেইন ফাংশন বজায় রাখতে খুবই দরকার এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমারই এক বন্ধু পরীক্ষা এলেই যেন অনিদ্রা রোগে পেয়ে বসে। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সেই ছেলের ঘুমটুম সব যে কোথায় পালায় কে জানে! এই সমস্যার বেশ বড়সড় একটা ইংরেজি নামও আছে, Pre exam anxiety syndrome. আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, হলে বসে ঘুমিয়ে পড়তে! তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম যেন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।  

 

পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খান

 

মা যতই খাবারের থালা নিয়ে আপনার পিছনে দৌড়াক, পরীক্ষার সময় একটু-আধটু অনিয়ম হয়েই যায়। এমনিতেই পরীক্ষা সংক্রান্ত স্ট্রেসের কারণে এনজাইম সিক্রেশন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনেকেরই পরীক্ষার আগে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পেটে গোলমাল দেখা যায়। এসময় তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর পানি পান করুন, ফল খান, আর সহজে হজম হয় এমন কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ এই অজুহাতে তেল-ঝোলঅলা খাবারের দিকে একদম হাত বাড়াবেন না, একদমই না। তা সে ফুসকা, চটপটিই হোক কিংবা ডমিনো’স এর পিজ্জা। পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এইসব খাদ্য থেকে দূরে থাকা উচিত।

 

একবার চোখ বুলিয়ে যান শুধু

 

অনেকেরই অভ্যাস থাকে, পরীক্ষার আগের দিন সবটা রিভাইস দেয়ার। যদি আপনারো তেমন অভ্যাস থাকে, তবে সেই অভ্যাস বদলে ফেলার জন্য আমি বলবো না। তবে আমার মনে হয়, সবটা মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে শুধু ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট এবং সব চ্যাপ্টারের হাইলাইটস দেখে নেওয়াটাই ভালো হবে। এজন্য নিয়মিত পড়ার সময়ই নোট করে রাখুন বা বইয়ে দাগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট মার্ক করে রাখতে পারেন। যাতে পরীক্ষার সময় শুধু সেইটুকুতে চোখ বুলিয়েই আপনি পুরো বিষয়ে একটা সম্যক ধারণা পান। পরীক্ষার দু’একদিন আগে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা করলে তাতে লাভ তো হবেই না বরং যা পারেন, যতটুকু পারেন, সেটুকুও ভুলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেবে। অনেক সময়, পরীক্ষার হলে রেসিডুয়াল নলেজ দিয়েই কাজ চালাতে হয়। শুধু চোখ বুলিয়ে যান, সবটা একবার দেখে যান, তাতেই হবে।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

‘তোর রিভাইস দেয়া শেষ? আমার তো এখনো অনেক পড়া বাকি!’

 

নিজের পড়া না হলে চিন্তা হয় ঠিকই, তবে বন্ধু-বান্ধবের পড়া শেষ এই খবর শুনলে ব্রেইনে শর্ট-সার্কিট হয়না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি পরীক্ষার আগে অন্যের সাথে তুলনা দেয়ার এই কাজটা না করেন। অন্যের পড়ার বৃত্তান্ত শুনলে আপনার পড়া একটুও আগাবে না, বরং পিছিয়ে যেতে পারে। তাই কারো সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করবেন না। নিজের নিয়মে, নিজের রুটিনে পড়ে যান। অনেকে আবার হলে ঢুকার আগে ‘এটা পড়েছিস? ওটা কোথা থেকে পড়লি? এটাও পড়তে হবে? কই আগে বলিস নি তো!’ এই ধরণের কথাবার্তায় জড়িয়ে যান। ফলাফল? প্রশ্ন হাতে পাবার আগেই এমনকি হলে ঢুকার আগেই আপনার কনফিডেন্স লেভেল একেবারে তলানিতে।

 

যা করতে ভাল লাগে তাই করুন

 

এমনটা হতেই পারে যে, হঠাৎ আপনার মোটেও পড়ার মুড নেই। কিন্তু আপনি চেষ্টা করছেন নিজেকে চেয়ার টেবিলে আটকে রাখতে। কী মনে হয়, এতে লাভ হয় কোনো? নাকি বসে থাকাই ব্যস?

 

প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মেথড থাকে রিলাক্স করার। কেউ গান শুনতে ভালোবাসে, কেউ টিভি দেখতে, কেউবা পড়ার ফাঁকে এক পাক নেচে নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে পড়তে বসেন। যেটাই হোক, যা করতে আপনার ভালো লাগে কিছুটা সময় যদি সেভাবে রিলাক্স করে নেন তাতে আপনার সময় নষ্ট হবে না, বরং দ্বিগুণ গতিতে পড়া আগাবে আমি আপনাকে লিখে দিতে পারি।

 

গোছগাছ যা করার আগের রাতেই করে রাখুন

 

পরীক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আগেই গুছিয়ে রাখুন। কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব রাতেই গুছিয়ে একপাশে রেখে দিন। পরীক্ষার দিন সকালে এসব খুঁজে সময় বা শক্তি কোনোটাই নষ্ট করা যাবে না। হলে যাবার ক্ষেত্রে যানবাহনের ব্যাপারটিও মাথায় রাখুন। যদি পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়, তাহলে তো খুবই ভালো। আর তা না হলে রিকশায় যাবেন নাকি গাড়িতে নাকি কিছুটা সময় বাসের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই ব্যাপারগুলো আগেই ভালোভাবে বুঝে নিন। দরকার হলে ব্যাকআপ কোনো ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

 

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার মতো পাব্লিক পরীক্ষার আগে খানিকটা চাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি ভর্তি পরীক্ষার মতো লাইফ চেঞ্জিং কোনো কিছু হয়, তবে চাপ যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। অনেকের জন্য আবার সাধারণ ক্লাস টেস্টও পাহাড় ডিঙ্গানোর সমান চ্যালেঞ্জিং। এই চাপকে সরিয়ে রেখে ঠিকমত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে আপনাকেই। শুধু একটা কথা মাথায় রাখুন, আপনি যা পারেন, যতটুকু পড়েছেন সেটুকুই যথেষ্ট। শেষ সময়ে এসে হা-হুতাশ না করে যা পারেন সেইটুকু ঠিকভাবে লিখে আসতে পারলেই আপনাকে আর ঠেকায় কে! আর যদি অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়, তবে একটু উপরের কথাগুলো মিলিয়ে নিন। 

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial