সহজ সরল ভাষায় সাধারণ পাঠকদের জন্য লিখি। সাধারণ পাঠকরাই মূলত আমার অনুপ্রেরণা। কিশোর বয়সে পত্রিকা পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখতাম ছাপা অক্ষরে নিজের নাম দেখার। আজ দেশের প্রথম সারির প্রায় সব পত্রিকায় ছাপা অক্ষরে নাম আসে। শুধু নাম যে আসে এমন নয়, ছবিও ছাপা হতে দেখি মাঝে সাঝে! বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছি।

 

লেখালেখি যখন শুরু করেছিলাম তখন আমার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিছুই ছিল না। ছিল না ভালো কোনো মুঠোফোন। যে মুঠোফোনটা ছিল তাকে পুরোপুরি স্মার্টফোনও বলা যেত না। সে ফোন দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা টিপে টিপে টাইপ করে লেখা পাঠাতাম। কখনো সখনো বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কম্পিউটারে টাইপ করে লেখা পাঠাতাম। শুরুতে কেউ  ছাপা অক্ষরে নাম দেখার জন্য সাহায্য করতে চাইতো না। এক সাংবাদিক ভাই ৪ মাস ঘুরিয়ে বলেই দিয়েছিল “তোমার লেখা ভালো নয়, পত্রিকায় লেখালেখি করতে হলে অনেক ভালো লেখা হতে হয়, এত সহজ নয় পত্রিকায় লেখা।” তার দেড়মাস পর থেকে ইত্তেফাক, আমাদের সময়, সমকাল, যায়যায়দিন সহ বাংলাদেশের প্রথমসারির প্রায় সব পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। শুধু আমি যে লিখি তা নয়, আমার মাধ্যমেও অনেকে পত্রিকায় লেখা পাঠায়। আজ পর্যন্ত প্রায় ২০০জন মানুষকে তাদের নাম ছাপা অক্ষরে দেখার সুযোগ করে দিয়েছি (আলহামদুলিল্লাহ)। এই লেখাটি লিখছি যে ল্যাপটপে বসে সেটি আমার নিজের আয় করা টাকা দিয়ে কেনা। তাই বলি আপনি কি পারেন বা পারেন না তা অন্যকে ঠিক করে দিতে দিবেন না। স্বপ্ন যদি থাকে আর একান্ত প্রচেষ্টা থাকে তাহলে তা বাস্তবায়িত হয়। ভালোবাসি সফলদের জীবনী পড়তে, তাদের কথা শুনতে, লিখতে, নিজে স্বপ্ন দেখতে আর তা বাস্তবায়িত করতে। সময় পেলেই ঘুরতে চলে যাই আর বাসায় এসে তা নিয়ে ভ্রমন স্টোরি লিখি। বই কিনতে ও পড়তে ভালো লাগে। প্রকৃতি থেকে শিখতে আমার বড্ড বেশি ভালো লাগে। তাইতো নানান রকম মানুষদের সাথে মিশি। রিকশা চালক, জুতায় কালি যারা করেন সেই মুচি, চুল কাটা যাদের পেশা সেই নাপিতদের সাথেও গল্প করি। বুকের মধ্যে জমানো অজস্র গল্প আছে। ধীরে ধীরে বলে যেতে চাই। আসলে প্রত্যেক মানুষেরই বলার মতো গল্প থাকা দরকার। এতো সময় যা বললাম এগুলো সাধারণ একজন মানুষের গল্প। হয়তো মনের সাজানো ঘরের রুদ্ধদ্বার খোলার জন্য এ লেখা নয়। হয়তো জীবনের সৈকতের আবেগের খেলাঘরও এর মাধ্যমে গড়া হয়নি। যে নিঃশ্বাস চেপে বুকফাঁটা কান্না ধরে রাখতে হয়, এতে তার খবরও লেখা হয়নি। কিন্তু এ পত্রে আছে আরেকটি পত্র লেখার সান্ত্বনা। আরেকটি গল্প বলার অবকাশ। হৃদয়ের পূণ্য বেদিতে যার নিশ্চিন্ত নির্ভরতা। যার চোখের জলেই চোখ টলমল করে, তার অশ্রু ঝরার সাফল্য লেখা আছে এতে। এমনটি কখনোই চাইনা যে কারোর চোখ থেকে অশ্রু একেবারেই হারিয়ে যাক। স্বপ্নবোনার ভূমিকায় এই আমি আমার বেদনার স্বপ্নগুলো বেচে ফিরি শত শত চোখে।