Connect with us

Inspirational

সফল হবার জন্যে ওয়ারেন বাফেটের ৯ টি সেরা উপদেশ

Published

on

বিশ্বের সফল ব্যক্তিদের তালিকা করা হলে বিল গেটস, স্টিভ জবস, জেফ বিজোস ইত্যাদি ব্যক্তির নাম উঠে আসবে।  এই মানুষগুলোর প্রত্যেকের জীবনে সাফল্য ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এসেছে। তাই সাফল্যের সংজ্ঞাটা তাদের কাছে ভিন্ন রকম। এদের মধ্যে একজন হলেন ওয়ারেন বাফেট, যিনি নবীন উদ্যক্তাদের জন্য অনুপ্ররণা স্বরূপ। তিনি নবীনদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছেন। আজকে আমরা তাঁর সাফল্য অর্জনে ৯ টি পরামর্শ সম্পর্কে জানতে পারবো-

 

১. বড় চিন্তা নিয়ে নামুন:

 

ওয়ারেন বাফেট মনে করেন, ব্যবসায় লাভের জন্য একজন বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্য কেবল শেয়ার বিক্রি করে লাভবান হওয়াই না, পাশাপাশি যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন তার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন কিনা সেটা জানাও গুরুত্বপূর্ন।

 

ওয়ারেন বাফেট সব সময় সেই সব কোম্পানির শেয়ারই কিনতেন যেগুলো সম্বন্ধে তিনি ভালো জানতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতেন। তিনি মনে করেন একজন বিনিয়োগকরীর  শেয়ার তখনই বিক্রি করা উচিৎ যখন হাতে মূলধন দরকার, তখন না যখন সবাই বিক্রি করছে এবং আপনারও তাদেরকে অনুসরণ করতে হবে।

 

তার ব্যবসার মূলনীতি হলো, দীর্ঘ সময় শেয়ার ধরে রাখা এবং প্রয়োজন মতো যখন টাকা দরকার অথবা অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করলে বেশি লাভ পাওয়া যাবে মনে হবে কেবল তখনই বাজারে শেয়ার বিক্রি করো।

 

বাফেট বলেছেন, “Our favorite holding period is forever.”

 

২. নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন এবং বিনয়ী থাকুন:

 

ওয়ারেন বাফেট মনে করেন, সফলতা একদিনে আসা সম্ভব না। এজন্য প্রতিদিন নতুন কিছু জানা উচিৎ এবং ব্যবসায়ে তার প্রতিফলন করা উচিৎ। তবেই সাফল্য আসবে।

 

কিছুকাল আগে বাফেট একজন উদ্যোক্তাকে বলেছিলেন, প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতে, ব্যবসায়ে নিজের সুযোগ খুঁজে বের করতে কোন পদক্ষেপটি সময়োপযোগী হবে তা বুঝে বিনিয়োগ করতে এবং তিনি আরো বলেছিলেন সবসময় অংশীদার কিংবা ক্রেতাদের সাথে বিনয়ী হতে। বর্তমান সময়ের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন কৌশল আপনার ক্রেতা এবং অংশীদারদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা।

 

বাফেট এখনো প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়েন এবং চলমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।

 

এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেছেন, “That’s how knowledge works. It builds up, like compound interest.”

 

৩. নিজের মূলধন বিনিয়োগ করুন:

 

বাফেট তার ২০১৮ এর বার্ষিক চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছিলেন ধার করা অর্থে বিনিয়োগ করলে কী ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কিছুটা লাভের জন্য কেনা শেয়ারের জন্য একজন ব্যক্তিকে অহেতুক দুশ্চিতায় ভুগতে হয়। এছাড়া সঠিক সময়ে টাকা ফেরত দেয়ার বাড়তি একটা দুশ্চিন্তা তো থাকেই। পরবর্তী সময়ে সে অতিরিক্ত চাপে ভুল কিংবা দূর্বল সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা ব্যবসায়ে সুফল বয়ে আনবে না।

 

তিনি আরো মনে করেন, যখন ব্যবসায়িক মন্দা চলে তখন দায়মুক্ত এবং হাতে মূলধন আছে এমন বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় পড়তে হয় না এবং তাদের অধিক ক্ষতিরও সম্ভবনা থাকে না। ফলে এধরনের বিনিয়োগকারীরা খারাপ সময়েও টিকে থাকতে পারে। অধিক মুনাফা অর্জনের চেয়ে খারাপ সময়ও  টিকে থাকাটা অধিক গুরুত্বপূর্ন।

 

৪. সু-সম্পর্ক স্থাপন করুন:

 

ওয়ারেন বাফেট একবার আমেরিকার  “IOWA STATE UNIVERSITY” এর কিছু শিক্ষার্থীর সাথে জীবনে সফলতা অর্জনের ব্যাপারে কথা বলছিলেন। তাদের ম্যধ্যে একজন জানান বাফেট মনে করেন ব্যবসায়ে পণ্য/সেবা অনুকরণ  বা  প্রতিস্থাপন করা যায় কিন্তু সম্পর্ক প্রতিস্থাপন করা যায় না। 

 

বাফেটের মতে, সফলতা অর্জন এবং প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার জন্য ক্রেতা থেকে শুরু করে অংশীদার, যোগানদাতা সবার সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিশেষ একটি পয়েন্ট যোগ করবে। যা আপনার সাফল্যের দ্বারকে প্রশস্থ করবে।

 

৫. অতীতে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন:

 

“অবশ্যই অতীতের উন্নতি থেকে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে মুনাফা পাবে না”  ১৯৫১ সালে বাফেট লিখেছিলেন। তাঁর বলা প্রত্যেকটি কথা এতো বছর পরও সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।

 


বিনিয়োগকারীদের তিনি বরাবরই সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতের অগ্রগতির কথা ভাবতে বলেছেন এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। স্থায়ী নয় এমন অতীতের উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করেছেন। কেননা, ব্যবসায়ে যেকোনো সময়ে যেকোনো  পরিবর্তন  আসতে পারে, তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা উচিৎ।

 

৬. অধিক দাম মানে উত্তম সেবা/পণ্য নয়:

 

বাফেট সেই সব ধনী ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিলেন যারা অধিক দামে শেয়ার কিনে থাকেন। কোনো পণ্যের দাম বেশি হলেই যে সেটি ভালো হবে- বিষয়টা এমনটা না। তাই একজন বিনিয়োগকারীর উচিত পণ্যের গুণগত মান দেখে সেখানে বিনিয়োগ করা। উচ্চমূল্যকে পণ্যের মান নির্ধারণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ না।

 

৭. পুষে রাখার মানসিকতা এড়িয়ে চলুন:

 

বাফেট মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী লাভের জন্য যখন বাজারে শেয়ারের মূল্য থাকবে, তখন বিক্রি করা উচিৎ। তবে যখন দাম পড়ে যাবে এবং সবাই ভীত হয়ে শেয়ার বিক্রি করার প্রতিযোগীতায় নামবে- তখন নয়!

 

তিনি বলেছেন, “সবাই যখন মুনাফা লাভের আশায় শেয়ার বিক্রি করবে তখন তুমি ভয় পাও কারণ বাজারে ঘাটতি হওয়ার আশংকা আছে এবং তুমি তখন মুনাফা লাভের চিন্তা কর যখন অন্যরা বেশি লাভের আশায় শেয়ার বিক্রি করবে না।”

 

৮. কখন লোকসান কমাতে হবে জানুন:

 

বাফেট তার জীবনের একেবারে শুরুর দিকে, বুঝতে শুরু করেছিলেন ব্যবসায় কখন লোকসান বা ক্ষতির পরিমাণ আর বাড়ানো যাবেনা। তিনি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগীতায় টাকা লাগিয়ে প্রথমবার হারেন এবং পরবর্তিতে আবার হেরে যান। সেসময়ে বুঝতে পারলেন আর হারা যাবে না, নাহলে এভাবে করেই সর্বস্ব হারিয়ে ফেলবেন। তাই স্থির না হয়ে, হাতে ন্যূনতম মূলধন না রেখে তিনি কখনো বিনিয়োগ করেননি। কোনো জায়গায় বিফল হলে একটা সীমা পর্যন্ত সে জায়গায় শ্রম দেয়া উচিৎ বলেই তিনি মনে করেন।

 

এটি তরুণদের জন্য তাঁর খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। অনেক সময়ই তরুণ ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষেত্রে হেরে গেলে জিদ থেকে বার বার সফল হবার চেষ্টা করে। এতে করে একটা সময় হাতে মূলধনই থাকে না, এমনকি ধার/ দেনা করেও অনেককে পথে বসতে হয়। তাই বাফেট মনে করেন, পরবর্তী পরিস্থতি কী হতে পারে এর উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।

 

৯. আয়ের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিও না:

 

বাফেট মনে করেন, একজন মানুষ কতো বেশি সে আয় করছে সে দিকে অধিক খেয়াল থাকা উচিৎ নয় বরঞ্চ এই পর্যন্ত পৌঁছাতে যারা তাঁকে সাহায্য করেছে সেদিকে খেয়াল রাখা অধিক প্রয়োজন। তাহলে সাফল্যের সময়সীমা দীর্ঘমেয়াদী হবে। তিনি বলেন, ধনী হওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু গোড়া ভুলে গেলে চলবে না! নিজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইলে কীভাবে এই অবস্থানে এসেছেন, কারা পাশে ছিল সেটা মনে রাখতে হবে সবসময়!

 

ওয়ারেন বাফেট এমনই একজন ব্যক্তি যাঁর কর্মজীবনকে অনুসরণ করে অনেকেই সফলতা পেয়েছেন। তিনি নবীন উদ্যোক্তাদের জন্যে দারুণ কিছু পরামর্শ দিয়ে গেছেন যা নবীনদের সাফল্যের রূপরেখা স্বরূপ। সুতরাং কেবল ব্যবসা/ বিনিয়োগ করলেই হবে না, আরো কিছু ব্যাপার অবশ্যই একজন উদ্যোক্তার মাথায় রাখতে হবে যা তাঁর সাফল্য অর্জনের পথকে সুগম করবে।

 

আরও পড়ুনঃ সফল মানুষদের সকালের ৬টি অভ্যাস

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Inspirational

মাস্টার মাইন্ডের রহস্য

Published

on

“মাস্টার মাইন্ড” আপনি হয়তো নামটা প্রথম বারের মতো শুনেছেন। প্রথম শুনাটাই স্বাভাবিক। কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোথাও এ নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো সাফল্য অর্জনের মৌলিক পথ মাস্টার মাইন্ড নিয়ে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মাস্টার মাইন্ড কিঃ

দুই বা ততোধিক মানুষ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য একসাথে সম্মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা চালায়। তখন তাকে মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ বলে। মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ সর্ব প্রথম  নেপোলিয়ন হিল এবং এন্ড্রু কার্নেগি আবিষ্কার করেন। ১৯২৫ সালে হিল তার “দ্যা লো অব সাকসেস ” বইয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এন্ড্রু কার্নেগী ২৫ জন সদস্য নিয়ে তার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ গঠন করেছিলেন এবং স্টিলের ব্যাবসার মধ্য দিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিত্তবান হয়েছিলেন। তাছাড়া অতিথের অনেক সফল ব্যাক্তিরাই মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ ব্যবহার করে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করেছেন।

তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেনঃ

বিখ্যাত ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা – হেনরি ফোর্ড।

পৃথিবীকে আলোকিত করা বিজ্ঞানী – থমাস আলভা এডিসন।

মোবাইল ফোন আবিস্কারক – আলেকজেন্ডার গ্রাহামবেল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট – থিওডোর রুজভেল্ট। 

বিখ্যাত প্রকৌশলি – চার্লস এম শওয়াব।

মার্কিন উদ্যোক্তা – জন ডি রকফেলার। সহ আরো অনেকের সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মাস্টার মাইন্ড।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

কেন মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে একেক জন ব্যাক্তি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। যার ফলে যে কোনো উদ্দেশ্য দ্রুত সাধন করা যায়।

এ নিয়ে ওয়ালেস ডি ওয়াটলেন তার বেস্টসেলার বই “দ্যা সায়েন্স অব গেটিং রিচ” বইয়ে খুব সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন। উদাহরণটা ছিল এরকম – মনে করা যাক, একটা মাসিক পত্রিকার কথা। একটা মাসিক পত্রিকা বের করতে প্রয়োজন হয় একদল মানুষের। এই মানুষ গুলোর থাকবে নানা গুন। একজন সম্পাদনা করবেন, কেউ কম্পোজের কাজ করবেন, কেউ লেখা জোগাড় করবেন, কেউ লিখবেন, কেউ প্রুফ দেখবেন, কেউ বিজ্ঞাপন জোগাড় করবেন, কেউ ছাপাবেন, কেউ বাধাইয়ের কাজ করবেন, কেউ বা পত্রিকাটি বাজারজাত করবেন। তবেই একটা পত্রিকা পরিপূর্ণভাবে বের করা সম্ভব হবে।উপরের কাজ গুলো কোনো একজন মানুষের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে ১০ জন মানুষ ১০টি ভিন্ন কাজে দক্ষ। এভাবে যদি কোনো একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে একদল মানুষ নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কে কাজে লাগায় তাহলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

কিভাবে মাস্টার মাইন্ড তৈরি করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যে কোনো একজন মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এবং সবার সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এ গ্রুপে ফাটল ধরতে পারে। মাস্টার মাইন্ড তৈরি করার পূর্বে যে ৫ টি বিষয়ের উপর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তা হলোঃ

১। প্রথমেই আপনার পরিচত একদল মানুষের নামের লিস্ট করে নিন। যাদের আপনি আপনার গ্রুপে রাখতে চান।

২। তারপর লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তিকে নিয়ে গভীর ভাবে অনুধাবন করুন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। আমার লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তি কি যথেষ্ট পরিশ্রমী? তারা কি যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকবে? তাদের উপর কি বিশ্বাস করা যায়? কোন কোন কাজে তাদের বিশেষ দক্ষতা আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবেই তাদের আপনার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যুক্ত করতে পারেন।

৩। আপনাদের গ্রুপের উদ্দেশ্য কি? গন্তব্য কোথায়? এ প্রশ্ন গুলোর উত্তর পরিষ্কার করে নিন।

৪। যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে তাদের সাথে আলোচনা করে নিন এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক মিটিংয়ের ব্যাবস্থা করতে পারেন।

৫। মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ করার পর যদি কেউ নিজের কাজ নিয়ে উদাসীন থাকে, তাহলে তাকে গ্রুপ থেকে ছাটাই করে ফেলুন।

মাস্টার মাইন্ড ব্যবহার করে একজন মানুষ একাধিক মানুষের সাহায্য নিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন এবং এর ফল সবাই মিলে ভোগ করবেন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

বিখ্যাত স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কে গল্পগুলি প্রমাণ করে যে কিছুই অসম্ভব নয়

Published

on

সবাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে চায়, তা সে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু যোগ করতে চাই যা আমাদের জীবনকে সুন্দর করবে। সফল মানুষদের গল্পগুলো থেকে কিভাবে নিজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করতে হয় আমরা সেই শিক্ষাই পাই এবং বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপগুলোর মাধ্যমে নিজের স্বপ্নগুলো সফল করার পথ বেছে নিচ্ছে অনেক উদ্যমী তরুণ।

এই আর্টিকেলে আমি জানাবো বিখ্যাত কিছু স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিলো। আশা করি এটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে যা আপনার নিজের স্বপ্নের রাস্তায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফল হতে এড়াতে হবে যে বিষয়গুলো

Instagram

Kevin Systrom – Founder of Instagram

Kevin Systrom নামে একজন ব্যাক্তি প্রোগ্রামিং কোড শিখতে চাইছিলো, সে সিদ্ধান্ত নিল তার কাজের সময়ের পর নিজে নিজে শিখবে এবং সেই ইচ্ছা থেকেই সে কিছু মোবাইল অ্যাপ নিয়ে কাজ করা শুরু করলো। ফলাফল, সে Instagram নামে একটা ফটো অ্যাপ স্টোরে আপলোড করে সোমবার, যা কিনা ঠিক পরেরদিন মঙ্গলবারেই অ্যাপ স্টোরে জনপ্রিয় হয়ে যায়।

Uber

Uber suspends hundreds of accounts after rider diagnosed with ...
Source

একজন স্কুল ড্রপ আউট তার একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু অবৈধ লাভ গ্রহনের কারণে তাকে বেশ বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছিলো। এর পরও তার নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন এবং সাহস শেষ হয়ে যায়নি। ২০১০ সালে সে Uber নামে নতুন প্রকল্প শুরু করে যার জন্য সে অর্থায়ন পায় এবং বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।

Alibaba

Alibaba founder Jack Ma steps down as chairman - MarketWatch
Source

Jack Ma নামে একজন ব্যাক্তি যে কিনা তার কর্ম জীবনে প্রায় সবরকম চেষ্টা বিফলে গিয়েছিলো, ইংলিশ জানতোনা বলে তার অনেক কষ্ট করতে হয়েছিলো, এমনকি বলার মত তার এমন কোন বড় যোগ্যতাও ছিল না। কিন্তু এসবকিছুর পরও তার নিজস্ব চিন্তা থেকে তৈরি করা প্রতিষ্ঠান যার নাম “আলিবাবা”, ব্যাবসাক্ষেত্রে পৃথিবীকে এক নতুন ধারনা দেয়।

LinkedIn

How to view profiles anonymously on linkedin ? – Tech101
Source

একজন ব্যাক্তি সামাজিক মাধ্যমের এমন একটি ধারনা থেকে কাজ শুরু করে যা কিনা শুধুমাত্র প্রফেশনাল কাজে লাগবে এমন মানুষদের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে। শুরুতে সে তার পরিচিত ৩৫০ জন বন্ধুদের তার এই ওয়েবসাইটে জয়েন করায়। ২০০৩ সালে যখন সে আনুষ্ঠানিকভাবে LinkedIn শুরু করে তখন সকলেই তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় এবং বর্তমানে তার এই সম্পদের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশী।

Pinterest

Pinterest Reaches 60% of US Women; Here's What They're Searching ...
Source

একজন ব্যাক্তি চাকরী ছেড়ে দিয়ে তার আরও দুইজন বন্ধুর সাথে কাজ করা শুরু করে। তারা বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ বানায় যার যার কোনটাই কোন জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু তারা নতুন কিছু চিন্তা করা থামিয়ে দেয়নি। তারা নতুন কিছু করার চিন্তা এবং গবেষণা বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে Pinterest তৈরি করে যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২৫ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ ব্যবহার করে।

Airbnb

Airbnb policy lapse allows for human trafficking and modern slavery
Source

দুইজন বন্ধু তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারছিল না তাই তারা তাদের বাসায় অন্য মানুষদের থাকতে দিত যারা অল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন কাজে আসতো এবং তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিত। এতে যারা থাকতো তাদের হোটেলের মত এতো খরচ হতো না এবং দুইবন্ধু সময়মত তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারতো।

তাদের এই আইডিয়া দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পরে এবং তারা ১১২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পায় এই আইডিয়া এর উপর আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য।

Angry Birds

Angry Birds (game) | Angry Birds Wiki | Fandom
Source

৩ জন ব্যাক্তি ৫১টি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে যার জন্য তারা কোন সফলতাই পায়নি এবং তারা প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিল যে তাদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাদের ৫২ তম অ্যাপটি ছিল Angry Birds নামে একটি গেম যা ইতিহাস তৈরি করলো এবং তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিল।

এই স্টার্টআপ গুলোর বিস্তারিত ঘটনা আপনারা অনলাইন থেকে জেনে নিতে পারবেন কিন্তু ছোট এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো, আমরা কেউই আমাদের ভবিষ্যতে ঠিক কি হতে যাচ্ছে তা ঠিক করে বলতে পারি না এবং ঠিক কোন মুহূর্তে আমাদের জীবনে ভালো পরিবর্তন আসবে সেটা ধারনা করতে পারবো না। কিন্তু যা করতে পারবো সেটা হলো হাল না মেনে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের যোগ্যতা আরও বাড়ানো। এই মানসিকতাই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে এবং সফল হতে সাহায্য করবে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

৬ টি বিস্ময়কর জিনিস ঘটে যখন তুমি নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো

Published

on

তুমি কি একবার চিন্তা করেছো, তোমার প্রতিটি দিন যদি সেই কাজগুলো করে কাটতো যেগুলোতে তোমার সবচেয়ে বেশী উৎসাহ, তাহলে কত রোমাঞ্চক হতো জীবনটা? তোমার মানসিক উত্তেজনা ঠিক সেই সময়ের মত হতো যখন তুমি জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে গিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে মনের শ্রেষ্ঠ ইচ্ছার কথা ভাবতে।

কিন্তু এইরকমটা হয়না, কারণ আমরা বাস্তবতার মাঝে আমাদের উৎসাহগুলো পেছনে ফেলে আসি। কিন্তু এই “বাস্তবতা” বিষয়টা আসলে কি? এবং কেনই না বাস্তবতার কারণে আমাদের স্বপ্ন এবং মনের ইচ্ছাগুলোকে ভুলে যেতে হয়?

একটা জবাব প্রায়ই আসে যে সমাজ আমাদের স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের বেশিদূর আগাতে সাহায্য করে না। তাই আজকে তোমাকে জানাই, সমাজ যখন তোমার স্বপ্ন আর তোমার উৎসাহকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে বিভ্রান্ত করবে, ১০টি বিস্ময়কর জিনিস তোমার মধ্যে ঘটবে যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী জীবন ঠিক করবে।

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে

সবাই জানে যে মানুষ তার নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে সকলের কাছে পরিচিত হতে পছন্দ করে। কিন্তু এটাও সত্যি যে মানুষ নিজের পছন্দের কথা সকলের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যখন তুমি অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে, তোমার নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করতে কোন দ্বিধা বোধ করবে না।

প্রায় সময়েই তুমি যখন অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করতে পারো না, তোমাকে এমন একটা জীবন গ্রহণ করতে হয় যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য। তোমার নিজের উপর বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তুমি সমাজ, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কথামত চলতে শুরু করো। এটা হয় কারণ তুমি যা করছ তাতে তোমার খুবই কম নিয়ন্ত্রন থাকে। খুব সহজের এই কাজগুলো তোমার কাছে বোঝা বলে মনে হয় এবং ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণে সমাজে টিকে থাকার ভয় সবসময় তোমার মধ্যে তাড়া করতে থাকে।

কারণটা খুব সহজ, তুমি যখন এমন কাজ করে জীবন পাড় করছ যা তোমাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছেনা, সেই কাজে তুমি কখনোই তোমার সর্বোচ্চ দিতে পারবে না। ফলাফল, সাধারন এবং ভীত একটা জীবন তোমাকে সারাক্ষণ পীড়া দিতে থাকবে।

২. মানসিক অশান্তি কমে যাবে

চাকরী জীবনের অশান্তি হচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য রোগের মূল উৎস।

প্রথমেই মানসিক অশান্তির ব্যাপারটা তোমাদের কাছে একটু পরিষ্কার করি। ব্যাপারটা এমন নয় যে তোমার মনের ইচ্ছা মত কাজ করলে মানসিক অশান্তি হবে না। কিন্তু, নিজের ইচ্ছা থেকে যে কাজ তুমি করো, সে কাজে কোন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার একটা ইচ্ছাও তোমার মধ্যে জন্ম নেয় এবং সেটাই সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর।

আর যারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেনা তাদের কাছে প্রত্যেকটা কাজই বিরক্তিকর মনে হয় এবং কাজ করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজ শেষ হবার সময়ের দিকে বেশী নজর দেয়। চিন্তা করে দেখো, এরকম মানসিক অশান্তি আর আক্ষেপ নিয়ে প্রতিটা দিন পাড় করা কতটা যন্ত্রনাদায়ক।

৩. কাজের পরিপূর্ণতা

“বাঁচার জন্য কাজ করা” – এর থেকে ভয়ংকর বাস্তবতা আর হতে পারে না। তোমার নিজেকে সারাক্ষণ বন্দি মনে হবে কারণ, তোমার কাজ পাওয়া অর্থ থেকেই তোমার বাড়ি ভাড়া, খাওয়া দাওয়া থেকে সবকিছু নির্ভরশীল। তাই কাজ যতই অপছন্দের হোক না কেন, আমাদের নিজেকে সেই কাজের মধ্যেই রাখতে হয় আর যা করতে উৎসাহ ছিল সেটা জীবন থেকেই দূরে সরিয়ে দিতে হয়। এটা বাস্তবতা মেনেই সারাটা জীবন পাড় করে ফেলছি তাই না? কিন্তু একবারও কি এভাবে চিন্তা করে দেখেছো, তোমার এই কাজের কোন পরিপূর্ণতাই পাচ্ছে না শুধুমাত্র তুমি তোমার কাজটি উপভোগ করতে পারছ না তাই।

যারা নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করে তাদের দিকে লক্ষ্য করে দেখো, কাজ থেকে প্রাপ্তি কি হচ্ছে সেটা তাদের মূল মনোযোগের বিষয় নয় বরং সেটা আরও কিভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে তারা চিন্তা করতে থাকে। কাজের এই পরিপূর্ণতাই সময়ের সাথে এর সঠিক মূল্যায়ন করে।

৪. কর্ম জীবনে ভারসাম্য আনার দক্ষতা

বলা হয়, যদি তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো, তাহলে তোমার আর কর্ম জীবনের ভারসাম্য নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তার মানে হলো কর্ম জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে সমস্যা তখনই আসে, যখন আপনার কাজের সময়টা আপনাকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দেয় না।

যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করবে, তখন তোমার মনেই হবে না তোমার কাজের সময় তোমার জীবন থেকে আলাদা। আর এই মানসিকতাই তোমাকে শান্ত আর সুখী রাখবে।

৫. জীবন নিয়ে আক্ষেপ কম হবে

দিন শেষে, মানুষ সেই সকল কাজ নিয়ে আক্ষেপ করে না যা তারা করেছে, বরং সেই কাজগুলো নিয়ে আক্ষেপ করে যা তারা করতে পারেনি।

ভেবে দেখো, তুমি কাজের মাধ্যমে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছো। এবার ভেবে দেখো, তুমি অন্য কারো কাছে কি কি কারণে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহগুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে এই নিয়ে আক্ষেপ করছো। যা বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সাথেই হয়ে থাকে। সমাধান এখন তোমার কাছে। জীবন একটাই আর এই জীবন নিয়ে আক্ষেপ করে বেঁচে থাকাটা কোন সমাধান হতে পারে না।

৬. আত্ম উন্নতি ঘটবে

নিজের উৎসাহ এবং স্বপ্নের পেছনে না ছোটার মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা। অনেক সময়ই আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য আমি উপযুক্ত কি না অথবা আমার এই স্বপ্ন অর্থনৈতিকভাবে আমাকে স্বাবলম্বী রাখবে কি না।

তোমার এই চিন্তা সঠিকও হতে পারে কিন্তু, এর মানে এই না যে সত্যিটা মেনে নিয়ে তোমাকে হাল ছেড়ে দিতে হবে। তার বদলে তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে যতভাবে প্রস্তুত করা যায় সেদিকে সময় বেশী দিলে আত্ম উন্নতির মাধ্যমে অনেক অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করতে পারবে।

নিজের উৎসাহকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করে নাও তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তোমাকে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নিজেকে উপযুক্ত করে এগিয়ে যাও।

পরিশেষে আমার দিক থেকে আমি একটা কথাই বলবো, জীবনে আমাদের অস্তিত্ব অসীম সময়ের জন্য নয়। তাই নিজের উৎসাহকে গুরুত্ব কম দিয়ে এবং ভয়কে প্রাধান্য দিয়ে যদি তুমি এমন কোন একটা জীবন কাঁটিয়ে দাও যা আসলে তোমার জন্য নয়, তাহলে সেই আক্ষেপ থেকে পাওয়া কষ্ট থেকে তুমি কখনো মুক্তি পাবে না।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial