Connect with us

Inspirational

অতিরিক্ত চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত করুন ৮ টি উপায়ে

Published

on

আচ্ছা চিন্তা করা কি খারাপ কিছু?

আমাদের সকলের ক্ষেত্রে সেই ছোটবেলা থেকেই, এমনকি এখনও প্রায়ই শুনতে হয় যে– “একটু চিন্তা করে কাজ করো তো!” তাহলে চিন্তা করা খারাপ কেন হবে? বরং ভালোই তো! কিন্তু আসলে অতিরিক্ত যে কোনো জিনিসই কিন্তু খারাপ ঠিক তেমনি অতিরিক্ত চিন্তাও অনেক সমস্যার জন্ম দিতে পারে আপনার বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যাওয়া, নিজেকে গুটিয়ে ফেলা, মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আপনার পুরো জীবনটাই নাবোধক হয়ে যেতে পারে আর যদি তাই হয়, তাহলে নিচের ৮টি উপায়েই আপনি অতিরিক্ত চিন্তা দূর করতে পারেন

 

. যেকোন পরিবর্তনের শুরুতেই প্রয়োজন সচেতন হওয়া

 

অতিরিক্ত চিন্তার সাথে মানিয়ে নেয়ার আগে, শুরুতেই আপনাকে জানতে হবে কখন আপনি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন এরপর নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন চিন্তা করছেন, কি নিয়ে চিন্তা করছেন? সেই চিন্তা ঠিক কতখানি গুরুত্ব বহন করে কিংবা আদৌ কোনো গুরুত্ব আছে কি না! ঠিক সেই মূহুর্তে সচেতনতাই আপনার পরিবর্তনের বীজ হিসেবে কাজ করবে

 

“The first step toward change is awareness. The second step is acceptance.” – Nathaniel Branden

 

কি কি খারাপ হতে পারে সেটা না ভেবে কি কি ভাল হতে পারে সেটা ভাবুন

 

 

সবচেয়ে বেশি যে কারণে অতিরিক্ত চিন্তা হয় তার মধ্যেভয়অন্যতম এই ভয় থেকেই যখনি আপনি কি কি খারাপ হতে পারে চিন্তা করছেন ঠিক তখনি আপনি আটকে যাবেন আরো বেশি করে চিন্তার ভিতর ঢুকে যাবেন কিন্তু আর না, এবার থামুন এবার যা যা ভাল হতে পারে সেইসব নিয়ে ভাবুন, সব খারাপগুলোকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন আপনি চাইলে ভালখারাপ যাই ঘটুক না কেনো সবকিছুকেই ভাল চিন্তায় পরিণত করতে পারেন কারণ সবকিছু জীবনেরই অংশ একবার ভেবে দেখুন, আপনি কিন্তু প্রতিনিয়ত শিখছেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন সেটা যেমন ভাল থেকে ঠিক তেমনি খারাপটা থেকেও কিন্তু আর এগুলো ছাড়া আপনার জীবনের পরিপূর্ণতা কখনই আসবে না

 

নিচের উক্তিটি খেয়াল করুন

“No experience in life is wasted. Everything in life is happening to grow you up, fill you up, to help you become more of what you were created to be.” – Oprah Winfrey

 

. নিজের খুব ভালো লাগার কাজগুলো করুন

 

অনেক সময় নিজের ভালো লাগা, পছন্দের কাজগুলো করতে পারা খুব কাজে দেয় এমন কিছু যেটা আপনি অনেকদিন থেকে করতে চাচ্ছেন কিন্তু কোন কারণে করা হয়ে উঠে নি, সেটা এবার করে ফেলুন মেডিটেশন, নাচ করা, যেকোন বাদ্যযন্ত্র শেখা, গান শেখা, সেলাই করা, আঁকাআকি করা অতিরিক্ত চিন্তা দূর করার খুব ভাল কারণ হতে পারে সময়গুলোকে উপভোগ করুন, জীবনকে ভালবাসুন, দেখবেন সবকিছু আপনাআপনি ভাল লাগতে শুরু করবে

 

 

“I have found that if you love life, life will love you back.” – Arthur Rubinstein

 

. চিন্তাগুলোকে আর একটু সামনে এগিয়ে নিয়ে যান

 

অতি ক্ষুদ্র জিনিসকে অতি বৃহৎ বস্তুতে পরিণত করা এবং কোনো বিষয়ের খারাপটা চিন্তা না করে ভালোটা চিন্তা করার থেকে সহজ কাজ আর হয় না আপনি যখন চিন্তাই করছেন তখন আর একটু ভাবুন আগামী পাঁচ বছর পর জিনিসটার কি আসলেই কোনো মূল্য থাকবে আপনার জীবনে কিংবা আগামী মাস পর্যন্ত? তাহলে কেন এত চিন্তা করছেন, এই সময়ের বাঁধাই আপনাকে অতিরিক্ত চিন্তা করে সময় নষ্ট করা থেকে বাঁচিয়ে দিবে

 

 

. সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ছেড়ে দিন

 

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা এখনো সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা সেই আশা ছেড়ে দিতে পারেন উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা দোষের কিছু নয়, কিন্তু একই সাথে সবকিছু নিখুঁত আশা করা অবাস্তব আপনি যতক্ষন সেই অপেক্ষা করছেন ততক্ষন আপনি সময় নষ্ট করছেন জীবনে সবকিছু কখনই নিঁখুত হয় না বরং সবরকম প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াতেই জীবনের সফলতা তাই এটি কখনই কোন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে না নিচের কথাটিই দেখুন

 

“Life is not about waiting for the storms to pass. It’s about learning how to dance in the rain.” – Vivian Greene

 

. উপলব্ধি করুন আপনি ভবিষ্যৎ বলতে পারেন না

 

শুধু আপনি না কেউই ভবিষ্যৎ বলতে পারে না আপনি যখন নিজের বর্তমানের মূহুর্তগুলোয় ভবিষ্যতে কি হবে, না হবে এইসব নিয়ে চিন্তা করছেন তার মানে তখন আপনি নিজেই নিজের জন্য বরাদ্দ সময়গুলো নষ্ট করছেন আবার অতীতের কোন ভুলের ফলাফল যে সবসময় একই হবে এটা কখনই উর্বর চিন্তা নয় বরং বর্তমানের সময়গুলোকে নিজের আনন্দের উপভোগের কারণ বানিয়ে ফেলুন

 

“I try not to get involved in the business of prediction. It’s a quick way to look like an idiot.” – Warren Ellis

 

. নিজের সেরাটাকে মেনে নিতে শিখুন

 

আমি যথেষ্ট ভাল নই, পরিশ্রমী নই, কার্যক্ষম নই, উপযুক্ত নইঠিক এই কথাগুলোই নিজের ভিতর ভয় ঢুকিয়ে দেয় যখন আপনি নিজের সেরাটা দিচ্ছেন তখন এটিও মেনে নিন যে, সফলতা এমন কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে যার পুরোটার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে নেই আবার অনেক সময় সঠিক মানুষ পরিবেশের অভাবে সেরাটাই সবথেকে খারাপ এবং সবথেকে খারাপটাই সেরা হয়ে যায় কিন্তু মাথায় রাখুন আপনি আপনার সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছেন

 

নিচের কথাটাও কিন্তু সেটাই বলে

“At your absolute best, you still won’t be good enough for the wrong person. At your worst, you still be worth it to the right person.” – Karen Salmansohn

 

. কৃতজ্ঞ হোন

 

একই সময়ে কেউ সুখী দুঃখী উভয়ই হতে পারে না তাই সবার আগে সময়ের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা তালিকা করে ফেলুন আপনি কিসের কিসের জন্য এবং কাদের কাছে কৃতজ্ঞ এরপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন এবার আর একটা তালিকা করুন আপনি কি কি ভাল কাজ করেছেন বা ভাল কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন ভাল সময়ের রোমন্থন মন ভাল করে দেয় এভাবে দিনের শুরুতেই মনটা ভাল হয়ে গেলে দেখবেন সারাদিনটাও ভালভাবেই শেষ হবে

 

সবশেষে নিজের ঘড়ির দিকে তাকান, পাঁচ(৫) মিনিট সময় নিন। চোখ বন্ধ করে নিজের সমস্ত মনোযোগ দিয়ে চিন্তা করুন। এবার চোখ খুলে একটা পেপারে লিখতে শুরু করুন যে ঠিক কোন কোন জিনিস আপনাকে চিন্তায় ফেলে দেয়, উদ্বিগ্ন করে। এবার পেপারটা সুন্দর করে ভাঁজ করে ফেলে দিন। আসলে জীবনটা অনেক অনেক চিন্তা করার জন্য খুব ছোট। তাই পরের সময়টুকু শুধু উপভোগ করুন।

 

 

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: দুশ্চিন্তা দূর করার ৩টি কার্যকর কৌশল - Spike Story

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Inspirational

মাস্টার মাইন্ডের রহস্য

Published

on

“মাস্টার মাইন্ড” আপনি হয়তো নামটা প্রথম বারের মতো শুনেছেন। প্রথম শুনাটাই স্বাভাবিক। কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোথাও এ নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো সাফল্য অর্জনের মৌলিক পথ মাস্টার মাইন্ড নিয়ে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মাস্টার মাইন্ড কিঃ

দুই বা ততোধিক মানুষ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য একসাথে সম্মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা চালায়। তখন তাকে মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ বলে। মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ সর্ব প্রথম  নেপোলিয়ন হিল এবং এন্ড্রু কার্নেগি আবিষ্কার করেন। ১৯২৫ সালে হিল তার “দ্যা লো অব সাকসেস ” বইয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এন্ড্রু কার্নেগী ২৫ জন সদস্য নিয়ে তার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ গঠন করেছিলেন এবং স্টিলের ব্যাবসার মধ্য দিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিত্তবান হয়েছিলেন। তাছাড়া অতিথের অনেক সফল ব্যাক্তিরাই মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ ব্যবহার করে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করেছেন।

তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেনঃ

বিখ্যাত ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা – হেনরি ফোর্ড।

পৃথিবীকে আলোকিত করা বিজ্ঞানী – থমাস আলভা এডিসন।

মোবাইল ফোন আবিস্কারক – আলেকজেন্ডার গ্রাহামবেল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট – থিওডোর রুজভেল্ট। 

বিখ্যাত প্রকৌশলি – চার্লস এম শওয়াব।

মার্কিন উদ্যোক্তা – জন ডি রকফেলার। সহ আরো অনেকের সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মাস্টার মাইন্ড।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

কেন মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে একেক জন ব্যাক্তি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। যার ফলে যে কোনো উদ্দেশ্য দ্রুত সাধন করা যায়।

এ নিয়ে ওয়ালেস ডি ওয়াটলেন তার বেস্টসেলার বই “দ্যা সায়েন্স অব গেটিং রিচ” বইয়ে খুব সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন। উদাহরণটা ছিল এরকম – মনে করা যাক, একটা মাসিক পত্রিকার কথা। একটা মাসিক পত্রিকা বের করতে প্রয়োজন হয় একদল মানুষের। এই মানুষ গুলোর থাকবে নানা গুন। একজন সম্পাদনা করবেন, কেউ কম্পোজের কাজ করবেন, কেউ লেখা জোগাড় করবেন, কেউ লিখবেন, কেউ প্রুফ দেখবেন, কেউ বিজ্ঞাপন জোগাড় করবেন, কেউ ছাপাবেন, কেউ বাধাইয়ের কাজ করবেন, কেউ বা পত্রিকাটি বাজারজাত করবেন। তবেই একটা পত্রিকা পরিপূর্ণভাবে বের করা সম্ভব হবে।উপরের কাজ গুলো কোনো একজন মানুষের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে ১০ জন মানুষ ১০টি ভিন্ন কাজে দক্ষ। এভাবে যদি কোনো একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে একদল মানুষ নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কে কাজে লাগায় তাহলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

কিভাবে মাস্টার মাইন্ড তৈরি করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যে কোনো একজন মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এবং সবার সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এ গ্রুপে ফাটল ধরতে পারে। মাস্টার মাইন্ড তৈরি করার পূর্বে যে ৫ টি বিষয়ের উপর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তা হলোঃ

১। প্রথমেই আপনার পরিচত একদল মানুষের নামের লিস্ট করে নিন। যাদের আপনি আপনার গ্রুপে রাখতে চান।

২। তারপর লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তিকে নিয়ে গভীর ভাবে অনুধাবন করুন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। আমার লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তি কি যথেষ্ট পরিশ্রমী? তারা কি যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকবে? তাদের উপর কি বিশ্বাস করা যায়? কোন কোন কাজে তাদের বিশেষ দক্ষতা আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবেই তাদের আপনার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যুক্ত করতে পারেন।

৩। আপনাদের গ্রুপের উদ্দেশ্য কি? গন্তব্য কোথায়? এ প্রশ্ন গুলোর উত্তর পরিষ্কার করে নিন।

৪। যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে তাদের সাথে আলোচনা করে নিন এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক মিটিংয়ের ব্যাবস্থা করতে পারেন।

৫। মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ করার পর যদি কেউ নিজের কাজ নিয়ে উদাসীন থাকে, তাহলে তাকে গ্রুপ থেকে ছাটাই করে ফেলুন।

মাস্টার মাইন্ড ব্যবহার করে একজন মানুষ একাধিক মানুষের সাহায্য নিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন এবং এর ফল সবাই মিলে ভোগ করবেন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

বিখ্যাত স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কে গল্পগুলি প্রমাণ করে যে কিছুই অসম্ভব নয়

Published

on

সবাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে চায়, তা সে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু যোগ করতে চাই যা আমাদের জীবনকে সুন্দর করবে। সফল মানুষদের গল্পগুলো থেকে কিভাবে নিজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করতে হয় আমরা সেই শিক্ষাই পাই এবং বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপগুলোর মাধ্যমে নিজের স্বপ্নগুলো সফল করার পথ বেছে নিচ্ছে অনেক উদ্যমী তরুণ।

এই আর্টিকেলে আমি জানাবো বিখ্যাত কিছু স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিলো। আশা করি এটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে যা আপনার নিজের স্বপ্নের রাস্তায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফল হতে এড়াতে হবে যে বিষয়গুলো

Instagram

Kevin Systrom – Founder of Instagram

Kevin Systrom নামে একজন ব্যাক্তি প্রোগ্রামিং কোড শিখতে চাইছিলো, সে সিদ্ধান্ত নিল তার কাজের সময়ের পর নিজে নিজে শিখবে এবং সেই ইচ্ছা থেকেই সে কিছু মোবাইল অ্যাপ নিয়ে কাজ করা শুরু করলো। ফলাফল, সে Instagram নামে একটা ফটো অ্যাপ স্টোরে আপলোড করে সোমবার, যা কিনা ঠিক পরেরদিন মঙ্গলবারেই অ্যাপ স্টোরে জনপ্রিয় হয়ে যায়।

Uber

Uber suspends hundreds of accounts after rider diagnosed with ...
Source

একজন স্কুল ড্রপ আউট তার একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু অবৈধ লাভ গ্রহনের কারণে তাকে বেশ বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছিলো। এর পরও তার নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন এবং সাহস শেষ হয়ে যায়নি। ২০১০ সালে সে Uber নামে নতুন প্রকল্প শুরু করে যার জন্য সে অর্থায়ন পায় এবং বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।

Alibaba

Alibaba founder Jack Ma steps down as chairman - MarketWatch
Source

Jack Ma নামে একজন ব্যাক্তি যে কিনা তার কর্ম জীবনে প্রায় সবরকম চেষ্টা বিফলে গিয়েছিলো, ইংলিশ জানতোনা বলে তার অনেক কষ্ট করতে হয়েছিলো, এমনকি বলার মত তার এমন কোন বড় যোগ্যতাও ছিল না। কিন্তু এসবকিছুর পরও তার নিজস্ব চিন্তা থেকে তৈরি করা প্রতিষ্ঠান যার নাম “আলিবাবা”, ব্যাবসাক্ষেত্রে পৃথিবীকে এক নতুন ধারনা দেয়।

LinkedIn

How to view profiles anonymously on linkedin ? – Tech101
Source

একজন ব্যাক্তি সামাজিক মাধ্যমের এমন একটি ধারনা থেকে কাজ শুরু করে যা কিনা শুধুমাত্র প্রফেশনাল কাজে লাগবে এমন মানুষদের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে। শুরুতে সে তার পরিচিত ৩৫০ জন বন্ধুদের তার এই ওয়েবসাইটে জয়েন করায়। ২০০৩ সালে যখন সে আনুষ্ঠানিকভাবে LinkedIn শুরু করে তখন সকলেই তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় এবং বর্তমানে তার এই সম্পদের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশী।

Pinterest

Pinterest Reaches 60% of US Women; Here's What They're Searching ...
Source

একজন ব্যাক্তি চাকরী ছেড়ে দিয়ে তার আরও দুইজন বন্ধুর সাথে কাজ করা শুরু করে। তারা বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ বানায় যার যার কোনটাই কোন জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু তারা নতুন কিছু চিন্তা করা থামিয়ে দেয়নি। তারা নতুন কিছু করার চিন্তা এবং গবেষণা বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে Pinterest তৈরি করে যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২৫ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ ব্যবহার করে।

Airbnb

Airbnb policy lapse allows for human trafficking and modern slavery
Source

দুইজন বন্ধু তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারছিল না তাই তারা তাদের বাসায় অন্য মানুষদের থাকতে দিত যারা অল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন কাজে আসতো এবং তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিত। এতে যারা থাকতো তাদের হোটেলের মত এতো খরচ হতো না এবং দুইবন্ধু সময়মত তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারতো।

তাদের এই আইডিয়া দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পরে এবং তারা ১১২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পায় এই আইডিয়া এর উপর আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য।

Angry Birds

Angry Birds (game) | Angry Birds Wiki | Fandom
Source

৩ জন ব্যাক্তি ৫১টি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে যার জন্য তারা কোন সফলতাই পায়নি এবং তারা প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিল যে তাদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাদের ৫২ তম অ্যাপটি ছিল Angry Birds নামে একটি গেম যা ইতিহাস তৈরি করলো এবং তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিল।

এই স্টার্টআপ গুলোর বিস্তারিত ঘটনা আপনারা অনলাইন থেকে জেনে নিতে পারবেন কিন্তু ছোট এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো, আমরা কেউই আমাদের ভবিষ্যতে ঠিক কি হতে যাচ্ছে তা ঠিক করে বলতে পারি না এবং ঠিক কোন মুহূর্তে আমাদের জীবনে ভালো পরিবর্তন আসবে সেটা ধারনা করতে পারবো না। কিন্তু যা করতে পারবো সেটা হলো হাল না মেনে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের যোগ্যতা আরও বাড়ানো। এই মানসিকতাই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে এবং সফল হতে সাহায্য করবে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

৬ টি বিস্ময়কর জিনিস ঘটে যখন তুমি নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো

Published

on

তুমি কি একবার চিন্তা করেছো, তোমার প্রতিটি দিন যদি সেই কাজগুলো করে কাটতো যেগুলোতে তোমার সবচেয়ে বেশী উৎসাহ, তাহলে কত রোমাঞ্চক হতো জীবনটা? তোমার মানসিক উত্তেজনা ঠিক সেই সময়ের মত হতো যখন তুমি জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে গিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে মনের শ্রেষ্ঠ ইচ্ছার কথা ভাবতে।

কিন্তু এইরকমটা হয়না, কারণ আমরা বাস্তবতার মাঝে আমাদের উৎসাহগুলো পেছনে ফেলে আসি। কিন্তু এই “বাস্তবতা” বিষয়টা আসলে কি? এবং কেনই না বাস্তবতার কারণে আমাদের স্বপ্ন এবং মনের ইচ্ছাগুলোকে ভুলে যেতে হয়?

একটা জবাব প্রায়ই আসে যে সমাজ আমাদের স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের বেশিদূর আগাতে সাহায্য করে না। তাই আজকে তোমাকে জানাই, সমাজ যখন তোমার স্বপ্ন আর তোমার উৎসাহকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে বিভ্রান্ত করবে, ১০টি বিস্ময়কর জিনিস তোমার মধ্যে ঘটবে যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী জীবন ঠিক করবে।

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে

সবাই জানে যে মানুষ তার নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে সকলের কাছে পরিচিত হতে পছন্দ করে। কিন্তু এটাও সত্যি যে মানুষ নিজের পছন্দের কথা সকলের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যখন তুমি অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে, তোমার নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করতে কোন দ্বিধা বোধ করবে না।

প্রায় সময়েই তুমি যখন অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করতে পারো না, তোমাকে এমন একটা জীবন গ্রহণ করতে হয় যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য। তোমার নিজের উপর বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তুমি সমাজ, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কথামত চলতে শুরু করো। এটা হয় কারণ তুমি যা করছ তাতে তোমার খুবই কম নিয়ন্ত্রন থাকে। খুব সহজের এই কাজগুলো তোমার কাছে বোঝা বলে মনে হয় এবং ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণে সমাজে টিকে থাকার ভয় সবসময় তোমার মধ্যে তাড়া করতে থাকে।

কারণটা খুব সহজ, তুমি যখন এমন কাজ করে জীবন পাড় করছ যা তোমাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছেনা, সেই কাজে তুমি কখনোই তোমার সর্বোচ্চ দিতে পারবে না। ফলাফল, সাধারন এবং ভীত একটা জীবন তোমাকে সারাক্ষণ পীড়া দিতে থাকবে।

২. মানসিক অশান্তি কমে যাবে

চাকরী জীবনের অশান্তি হচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য রোগের মূল উৎস।

প্রথমেই মানসিক অশান্তির ব্যাপারটা তোমাদের কাছে একটু পরিষ্কার করি। ব্যাপারটা এমন নয় যে তোমার মনের ইচ্ছা মত কাজ করলে মানসিক অশান্তি হবে না। কিন্তু, নিজের ইচ্ছা থেকে যে কাজ তুমি করো, সে কাজে কোন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার একটা ইচ্ছাও তোমার মধ্যে জন্ম নেয় এবং সেটাই সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর।

আর যারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেনা তাদের কাছে প্রত্যেকটা কাজই বিরক্তিকর মনে হয় এবং কাজ করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজ শেষ হবার সময়ের দিকে বেশী নজর দেয়। চিন্তা করে দেখো, এরকম মানসিক অশান্তি আর আক্ষেপ নিয়ে প্রতিটা দিন পাড় করা কতটা যন্ত্রনাদায়ক।

৩. কাজের পরিপূর্ণতা

“বাঁচার জন্য কাজ করা” – এর থেকে ভয়ংকর বাস্তবতা আর হতে পারে না। তোমার নিজেকে সারাক্ষণ বন্দি মনে হবে কারণ, তোমার কাজ পাওয়া অর্থ থেকেই তোমার বাড়ি ভাড়া, খাওয়া দাওয়া থেকে সবকিছু নির্ভরশীল। তাই কাজ যতই অপছন্দের হোক না কেন, আমাদের নিজেকে সেই কাজের মধ্যেই রাখতে হয় আর যা করতে উৎসাহ ছিল সেটা জীবন থেকেই দূরে সরিয়ে দিতে হয়। এটা বাস্তবতা মেনেই সারাটা জীবন পাড় করে ফেলছি তাই না? কিন্তু একবারও কি এভাবে চিন্তা করে দেখেছো, তোমার এই কাজের কোন পরিপূর্ণতাই পাচ্ছে না শুধুমাত্র তুমি তোমার কাজটি উপভোগ করতে পারছ না তাই।

যারা নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করে তাদের দিকে লক্ষ্য করে দেখো, কাজ থেকে প্রাপ্তি কি হচ্ছে সেটা তাদের মূল মনোযোগের বিষয় নয় বরং সেটা আরও কিভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে তারা চিন্তা করতে থাকে। কাজের এই পরিপূর্ণতাই সময়ের সাথে এর সঠিক মূল্যায়ন করে।

৪. কর্ম জীবনে ভারসাম্য আনার দক্ষতা

বলা হয়, যদি তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো, তাহলে তোমার আর কর্ম জীবনের ভারসাম্য নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তার মানে হলো কর্ম জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে সমস্যা তখনই আসে, যখন আপনার কাজের সময়টা আপনাকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দেয় না।

যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করবে, তখন তোমার মনেই হবে না তোমার কাজের সময় তোমার জীবন থেকে আলাদা। আর এই মানসিকতাই তোমাকে শান্ত আর সুখী রাখবে।

৫. জীবন নিয়ে আক্ষেপ কম হবে

দিন শেষে, মানুষ সেই সকল কাজ নিয়ে আক্ষেপ করে না যা তারা করেছে, বরং সেই কাজগুলো নিয়ে আক্ষেপ করে যা তারা করতে পারেনি।

ভেবে দেখো, তুমি কাজের মাধ্যমে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছো। এবার ভেবে দেখো, তুমি অন্য কারো কাছে কি কি কারণে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহগুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে এই নিয়ে আক্ষেপ করছো। যা বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সাথেই হয়ে থাকে। সমাধান এখন তোমার কাছে। জীবন একটাই আর এই জীবন নিয়ে আক্ষেপ করে বেঁচে থাকাটা কোন সমাধান হতে পারে না।

৬. আত্ম উন্নতি ঘটবে

নিজের উৎসাহ এবং স্বপ্নের পেছনে না ছোটার মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা। অনেক সময়ই আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য আমি উপযুক্ত কি না অথবা আমার এই স্বপ্ন অর্থনৈতিকভাবে আমাকে স্বাবলম্বী রাখবে কি না।

তোমার এই চিন্তা সঠিকও হতে পারে কিন্তু, এর মানে এই না যে সত্যিটা মেনে নিয়ে তোমাকে হাল ছেড়ে দিতে হবে। তার বদলে তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে যতভাবে প্রস্তুত করা যায় সেদিকে সময় বেশী দিলে আত্ম উন্নতির মাধ্যমে অনেক অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করতে পারবে।

নিজের উৎসাহকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করে নাও তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তোমাকে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নিজেকে উপযুক্ত করে এগিয়ে যাও।

পরিশেষে আমার দিক থেকে আমি একটা কথাই বলবো, জীবনে আমাদের অস্তিত্ব অসীম সময়ের জন্য নয়। তাই নিজের উৎসাহকে গুরুত্ব কম দিয়ে এবং ভয়কে প্রাধান্য দিয়ে যদি তুমি এমন কোন একটা জীবন কাঁটিয়ে দাও যা আসলে তোমার জন্য নয়, তাহলে সেই আক্ষেপ থেকে পাওয়া কষ্ট থেকে তুমি কখনো মুক্তি পাবে না।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial