বিজয়ী হওয়ার ৮ টি উপায়

আজকাল এই প্রতিযোগিতার যুগে প্রতিনিয়ত আমরা অনেক কিছু করে যাচ্ছি সফলতা অর্জনের জন্যে। আর সফলতা জীবন যাত্রায় বিজয়ী হওয়ার জন্যে। 

 

কিন্তু বিজয়ী হওয়ার জন্যে আমরা সাধারণত বিভিন্ন পন্থা যেমন লেখাপড়া, কাজকর্মকে বেছে নিলেও সত্যিকার অর্থে একজন মানুষ তখনই বিজয়ী হতে পারে যখন সে নিজের প্রতিবন্ধকতার সাথে বিজয়ী হতে পারে। বিজয়ী হওয়ার বিশেষ কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখলেই আসলে তা আমাদের বিজয়ী হওয়ার পথটাকে আরো বেশি সহজ করে দেয়। চল তাহলে আমরা জেনে নেই আমাদের সেই উপায়গুলো-

 

অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করবে না:

 

আমরা আজকাল অনেক কাজ করি। লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা সহ আরো অনেক কিছু। কিন্ত আমাদের এসব বিশাল কাজকর্ম অনেকটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে যখনই কিনা আমরা আমাদের সেই কাজকে, আমাদের নিজেকে নিয়ে অন্যের সাথে তুলনা করি। হ্যা, আমরা জানি আমাদের আশেপাশের মানুষজন, মাবাবা, পাড়া প্রতিবেশী তারা প্রতিনিয়তই আমাদের সাথে বা আমাদের কাজ কর্মের সাথে অন্যের বা অন্যের কাজকর্মের বিভিন্নভাবে তুলনা দিয়ে থাকেন। কিন্তু কাদের সাথে আমাদের কি তুলনা দেওয়া হচ্ছে তা আমাদের দেখার বিষয় না।

 

 

এই জীবনযুদ্ধটা আমাদের। এই জীবনযুদ্ধে সফল বা বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারটাও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আর এজন্যে অন্যের মত আমরা নিজেরা সে কাজ করতে পারি না। আমাদের কখনই অন্যের সাথে নিজেদের তুলনা করা উচিত না। কেননা, আমরা মানুষ। সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এজন্যে প্রতিটা মানুষেরই চিন্তাচেতনা, কথাবার্তা, কাজ করার ধরন আলাদা। হ্যা, আমরা নিজেদের সুবিধার জন্যে বা জ্ঞান অর্জনের জন্যে অন্যের  বৈশিষ্ট্য বা কাজ করার ধরন খটিয়ে দেখতে পারি তাই বলে সরাসরি অন্যের সাথে নিজেদের তুলনা করতে পারি না। কারণ এটিই হয়ে যাবে তোমার হেরে যাওয়ার প্রথম লক্ষণ। 

 

কেননা, অন্যের সাথে নিজের তুলনা দিয়ে আসলে বাস্তব জীবনে নতুন কিছু শেখা যায় না, কিছু অর্জন করা যায় না। বরং, তা আমাদের মনে প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। নিজেদের দূবর্ল করে তোলে ধীরে ধীরে। এজন্যে, সে কতটুকু পারে, আমি কতটুকু পারি এইসব দিকে খেয়াল না রেখে আমাদের বরং তাদের কাছে থেকে শেখা উচিত। আর এটিই হবে আমাদের বিজয়ী হওয়ার প্রথম শর্ত।

 

সবসময় তোমার দ্বারা যা করা সম্ভব তার চেয়ে একটু হলেও বেশি করার চেষ্টা করবে:

 

কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের সবারই আমাদের কার কতটুকু কি কাজ করার ক্ষমতা, যোগ্যতা, সামর্থ আছে তা আগেই জেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু এই জেনে নেওয়া মানে এই না যে আমরা সেই সামর্থের বাহিরে কিছু করব না। ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। নিজের সামর্থের বাহিরেও আমরা আমরা নিজেদের কাজ কতটা সক্ষমতার সাথে করতে সক্ষম সেটাই এখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 

আমাদের কখনই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বিজয়ী হওয়ার একটি অন্যতম শর্ত হল সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে দেওয়া। নিজেদের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে কাজ করা। এজন্যে সব সময়ই আমরা যতটুকু পারি তার চেয়ে একটু হলেও বেশি করার চেষ্টা করব। কারণ কেননা অনেক যতটুকু পারি শুধুমাত্র ততটুকু করলে কাজটাও অনেক সময় পূর্ণতা পায় না। সফলতাও সীমাবদ্ধ হয়ে পরে। তাই আমরা যদি আমাদের সাধ্যের একটু বেশি কাজও করে ফেলি তাহলে তা আমাদের কাজের কোন ক্ষতি করে না। ববং তা কাজের ফিনিশিং বা পূর্ণতা সঠিকভাবে এনে দেয়।

 

তোমার কাজের বা শখের যে কোন নতুন বিষয় আগ্রহ নিয়ে জানার চেষ্টা করবে:

 

বাস্তব জীবনে মানুষ ভিন্ন হওয়ার খাতিরে প্রতিটি মানুষের লক্ষ্য, শখ ভিন্ন হয়। কিন্তু সেই কাজ, লক্ষ্য  বা শখ শুধুমাত্র লোক দেখানো হলে চলবে না। নিজের পছন্দের কাজের প্রতি নিজে থেকেই আগ্রহ, ভালোলাগা  থাকতে হবে।

 

 

আর সেই ভাললাগা থেকে যখন কাজ করা হয় তখনই সেই কাজে আনন্দ পাওয়া যায়। কাজে ভুল কম হয়। কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। এজন্যে ভাল লাগার কাজগুলো সম্পর্কে যখনই নতুন কিছু জানার থাকে তখনই আমাদের সেগুলো অন্যের কথায় নয় বরং নিজের আগ্রহ নিয়েই সে কাজ সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। তাহলে আমাদের সেই কাজটা নিয়ে জ্ঞানও বাড়বে। আর এভাবে যদি আমাদের কাজের সম্পর্কে সঠিকভাবে জ্ঞান নিয়ে কাজ করতে থাকি তাহলে সেই কাজে পূর্ণতা, পরিপক্বতা আসবেই। সেই কাজ তখন তোমার  নিজের থেকে আর কেউ করতে পারবে না। সেই কাজ সম্পর্কে তোমার চেয়ে আর কারো থাকবে না।

 

কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেও আমরা অবশ্যই সেই কাজ সম্পর্কে জানা বন্ধ করে দিব না। কারণ, আমরা যতই জানবো ততই আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। কেননাশেখার আসলে কোন শেষ নেই।

 

কাজের প্রতি মনোযোগ বেশি রাখবে আর বাহিরের অন্যান্য চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবে: 

 

মনোযোগ। অনেক গুরুত্ববহ একটু শব্দ হলেও এই জিনিসটা ধরে রাখা আসলে অনেকের জন্যে অনেক কঠিন। আর এইটা বুঝি সবচেয়ে বেশি কঠিন হয় যখন আমরা ক্লাসে থাকি। কিন্তু সেই ক্লাসটা যদি আমাদের পছন্দের হয় তাহলে মনোযোগ ধরে রাখা আসলে এতটাও কঠিন হয় না। আর মনোযোগ দিয়ে কাজটা করলে পরে দেখা যায় সেই বিষয়টা অতি সহজেই বোঝা যায় আর পরে সেই বিষয়টা আর এতটা বেশি পড়তে সময়ও লাগে না।

 

 

ক্লাসে যেমন মনোযোগটা জরুরী কাজের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। যদি মনোযোগের সাথে আমরা কোন কাজ করি তাহলে সেই কাজটা করতেও আমাদের বেশি সময় লাগবে না। আর মনোযোগের সাথে করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। এমনকি তাহলে কাজের খুঁটিনাটি সব কিছু মনে থাকবে। 

 

কিন্তু একটা সমস্যা সব সময়ই হয় যে, প্রয়োজনীয় পড়াশোনা বা কাজের সময় যাবতীয় অন্যান্য কাজ কর্মের কথা মনে আসে বা অন্যায় বিষয় মাথায় চলে আসে। যার ফলে আমাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমাদের সব সময় উচিত অন্যান্য সমস্যা মিটিয়ে বা অন্যান্য সমস্যা মাথা থেকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা। আর আমাদের উচিত প্রয়োজনের বাহিরের অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কম ভাবা। যত বেশি মন পরিষ্কার রাখা সম্ভব ততটাই আমাদের কাজের জন্যে তা উপকারী।

 

হেরে যাওয়াকে আবার নতুন করে শুরু করা মনে করো, শেষ হয়ে যাওয়া নয়

 

সফলতা সহজলভ্য নয়। কোন কাজ শুরু করলে সেটাতে একবারে সফলতা নাও আসতে পারে। আর সত্যি বলতে অনেক কম ক্ষেত্রেই সফলতা একবারে নাও আসতে পারে। 

 

আর আমাদের জীবনে বিশেষ করে ছাত্রজীবনে আমাদের এই বিষয়টা জেনে রাখা অনেক বেশি প্রয়োজন। কেননা দীর্ঘ লেখাপড়া জীবনে কখনো রেজাল্ট ভাল হবে, আবার কখনো কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট নাও পেতে পারি। এমনকি ফেইল আসাটাও মানে না যে তার দ্বারা আর লেখাপড়া সম্ভব না।

 

 

প্রতি ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে। কর্মকক্ষেত্রেও আমাদের বরাবর লেগে থাকতে হবে। আর নতুন কিছু করার ইচ্ছা থাকলে তো কোনভাবেই থেমে যাওয়া যাবে না। যে বাধা আসবে তা থেকে নতুন শিক্ষা নিয়ে আবার নতুনভাবে চেষ্টা করতে হবে।

 

ব্যর্থতা মানে অপরাগতা নয়, বরং সেই কাজটা আরো ভাল মত করার আরো একটু সুযোগ। কোন একসময় দেখা যাবে যে এই সুযোগই কাজটিতে তোমার দক্ষতা আরো বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। তোমার ভয়কে কাটিয়ে ওঠার একটি সুবর্ণ সুযোগ তোমার সেই ব্যর্থতা। তাই কখনওই আমাদের পরাজয় মেনে নিয়ে বসে থাকা উচিত না।

 

কাজের পূর্বে বেশি আশা না করে, যে কোন সমস্যায় প্রশ্ন করো:

 

সময় পরিস্থিতিভেদে আমাদের প্রতিনিয়ত অনেক উদ্যোগ বা নতুন নতুন কাজ শুরু করতে হয়। কখনো নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর জন্যে। কখনো নতুন কিছু শেখার জন্যে। আবার কখনো অর্জিত অভিজ্ঞতাকে বাস্তবে প্রয়োগ করার জন্যে।

 

স্বাভাবিকভাবেই সেই কাজ নিয়ে আমাদের অনেক আগ্রহ থাকে, আশা থাকে। কিন্তু নতুন কিছুর শুরুতে বেশি ভাল কিছু আশা করা কিছুটা বোকামি। কেননা, এতে আশা ভঙ্গের সম্ভবনা থাকে। আর অনেক সময় অতিরিক্ত আশা করা কিছু ঠিক মত না হলে নিজের প্রতিও আত্নবিশ্বাস ভেঙে যায়, সাহস কমে যায়। আর এই ভেঙে যাওয়া আত্নবিশ্বাস আবার আগের মতন দাঁড় করানো অনেকটা কঠিন হয়ে পরে। অনেক সময় যেন এমনও মনে হয় যে, আমার দ্বারা আর সম্ভব না, আমি আর কখনওই কিছু পারব না

 

অথচ অসফলতা অনেক স্বাভাবিক একটা বিষয়। আজ পর্যন্ত অনেক বড় বড় সফল মানুষ আছেন যারা জীবনে অনেকবার অসফল হওয়ার পরও শেষপর্যন্ত বিজয়ী হয়েছেন। আর এটা তখনই সম্ভব হয়েছে যখন তাদের নিজেদের প্রতি আত্নবিশ্বাস বজায় ছিল। এটি সম্ভব হয়েছিল কারণ তারা আগে থেকেই বেশি আশা না করে সেই কাজ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, কাজটির পেছনে সময় দিয়েছিলেন।

 

 

 

বেশি চিন্তা না করে, কাজ শুরু করায় মনোযোগী হও: 

 

আমাদের চিন্তা ভাবনার একটা বড় অংশই থাকে আমাদের কাজ কর্মকে কেন্দ্র করে। প্রায় সারাটা সময়ই আমরা ভাবতে থাকি যে, কিভাবে কাজটা করলে ভাল হয়, কার সাথে করলে ভাল হয়, আরো কি কি করলে কাজের মানকে আরো উন্নত করা যায় এমনই কিছু কাজ সম্পর্কিত চিন্তা ভাবনা। 

 

কিন্তু অনেক সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা মাথায় দ্বিধার সৃষ্টি করে। এতে মাথায় কাজের ভাল দিক বাদ দিয়ে আশঙ্কাজনক প্রশ্নই বেশি মাথায় আসে। সব মিলিয়ে আমাদের কাজের গতি কমে যায়। এমনকি অনেক সময়ই দেখা যায় যে ভাবতে ভাবতে আর কাজই শুরু করা হয় না। 

 

 

এজন্য বেশি চিন্তা না করে কাজটা শুরু করে দেওয়া ভালো এতে কাজের সাথে সাথে কাজের গতির সাথে মিলিয়ে আমরা চিন্তার সুযোগ পাবো। এটাও বুঝতে পারব যে কাজের এই পর্যায়ে আমাদের কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাই মাত্রাতিরিক্ত চিন্তাভাবনা না করে এখনই কাজ শুরু করে দাও।

 

আমাদের অনেকেরই প্রশ্ন করা নিয়ে ভয় থাকে। কি বলব? কিভাবে জিজ্ঞাসা করব? সবাই কি ভাববে? ইত্যাদি ইত্যাদি  কিন্তু কথা কি আমরা জানি যে, প্রশ্ন না করলে কোন বিষয়ের জ্ঞান পূর্ণতা পায় না? প্রশ্ন না করলে যে কোন কাজের সমাধান সঠিকভাবে জানা যায় না এজন্যই প্রশ্ন কে ভয় না করে বার বার প্রশ্ন করে সব কিছু সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে। তাহলে আমাদের সেই বিষয়ে জ্ঞান পরিষ্কার হবে।

 

নিজের দাম্ভিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করো:

 

আজকাল আমাদের অনেকেরই ব্যক্তিত্ব নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা হচ্ছে। অনেকে অনেক সময় মনে বসে যে, বেশি কথা না বলে, চুপ চাপ থাকাই যেন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এটি যে একেবারেই একটা ভ্রান্ত ধারণা। কেননা, সবার থেকে আলাদা থাকা বা সবার সাথে কথা না বলা, এতে আসলে কোন ব্যক্তিত্বই প্রকাশ পায় না। বরং এটি হল তার দাম্ভিকতা।

 

 

দাম্ভিকতা বিজয়ী হওয়ার অন্যতম একটি অন্তরায়। এখনকার সময়ে সফল হওয়ার জন্যে মানুষজনের সাথে যোগাযোগ রাখার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দাম্ভিকতা বজায় রাখলে কাজ করতে ঝামেলা হয়ে যায়। আবার বেশি দাম্ভিক মানুষদের অনেক সময় মানুষ এড়িয়ে চলতে চায়। আবার অনেক সময় ইম্প্রেশন খারাপ হয়ে যায়। যতটা বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার রাখা যায় ততই ভাল। 

 

তাই কেউ যদি দাম্ভিক হয়েও থাকি তবুও কাজের সুবাদে আমাদের দাম্ভিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

 

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের বিজয়ী হওয়ার পথটা আসলে একটু দীর্ঘ তবে অসম্ভব নয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো যদি আমরা উপলব্ধি করতে পারি এবং সেগুলোকে বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে পারি তাহলে বিজয়ী হওয়া এখন আর অসম্ভব কিছুই না। তাহলে চল আজ এবং এখন থেকেই আমরা এই বিষয়গুলোকে আমাদের জীবনে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করি।

 

https://www.facebook.com/spikestoryOfficial/videos/544723092533163/

 

 

 

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *