সাতটি লক্ষণ যা আপনাকে জানতে সাহায্য করবে যে আপনার সম্পর্কটি কোনদিকে যাচ্ছে

সম্পর্ক একটি ভঙ্গুর ব্যাপার। কখন কী হয় তা বোঝা খুব মুশকিল। আজ হয়ত আপনি আপনার বিশেষ মানুষটির পাশে বসে ভাবছেন যে এই সম্পর্ক চিরদিনের আর কাল হয়ত একে অন্যের দিকে ভারী ভারী জিনিস ছুঁড়ে মারবেন। সম্পর্কে খুশি থাকা আর কোনো সম্পর্ককে চিরস্থায়ী করা ভিন্ন এক বিষয়।

 

আসুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে বোঝা যাবে আপনার সম্পর্কটি কোন দিকে যাচ্ছে।

 

১. একে অন্যকে সাহায্য করা

 

একে অপরকে সাহায্য করার মনোভাব খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। যেমন, একজন রান্না করলেন তো অন্যজন প্লেটগুলো ধুয়ে তুলে রাখলেন। একজন কাপড়গুলো ধুয়ে দিলে আরেকজন তা শুকিয়ে ইস্ত্রি করে সঠিক জায়গায় তুলে রাখলেন। এমন নয় যে একজনের ওপরই সংসারের সমস্ত দায়িত্ব দিতে হবে কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে বা বাসায় এমন কিছু কাজ থাকে যা একজন নিজে থেকেই করবে যাতে আরেকজনের করতে না হয়। হয়ত আপনার সহধর্মিণী মশাড়ি টানাতে পছন্দ করেন না তাই আপনি নিজেই টানালেন, সকালে না হয় উনি ভাঁজ করে রাখলেন। সময়ের সাথে সাথে এটাকে আর দায়িত্ব বলে মনে হবে না, অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

 

২. পরস্পরের একই পৃষ্ঠায় থাকা

 

একটি সুস্থ সম্পর্কে পরস্পরের অগ্রাধিকার থাকবে একই বিষয়ে। কিন্তু আপনি সঠিক ব্যক্তির সাথে সম্পর্কে না থাকলে তা হবে আলাদা। আপনি হয়ত যখন ক্যারিয়ারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন তখন আরেকজন হয়ত একটি ফুটফুটে বাচ্চার স্বপ্ন দেখছে। উনি হয়ত এখনো বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটিয়ে, ঘুরে বেড়িয়ে দিন কাটাচ্ছেন আর আপনি চাচ্ছেন সম্পর্কে থিতু হতে। কিন্তু কোনো সম্পর্ক তখনই দৃঢ় হবে যখন আপনাদের অগ্রাধিকার একই বিষয়ে হবে, সম্পর্কে থিতু হওয়া থেকে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাদের মত একই হবে।  

 

৩. পারস্পরিক যোগাযোগ

 

 

পপুলার ইংলিশ সিরিজ ‘How I meet your Mother’ এখানে কখনো লিলি আর মার্শলের কথোপকথন খেয়াল করে দেখেছেন কী? একটা সুস্থ সম্পর্কে দুইজন ব্যাক্তি পরস্পরের সাথে কথা বলবে। খাবারের মেন্যু বা মুভি নিয়ে কথা নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন জীবনের কোনো  গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কী ভালো লাগে, কী খারাপ লাগে এসব বিষয়ে আলোচনা করবে। যেই জুটি কথা বলে, সেই জুটিই একসাথে থাকে। কারণ কোনো সমস্যা বড় হওয়ার আগেই তারা সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলে।

 

৪. নিজের ভুল নিজেই স্বীকার করে নেয়া

 

মানুষ মাত্রই ভুল করে। ভুল করা এক বিষয় আর ভুল স্বীকার করে শুধরানোর চেষ্টা করা ভিন্ন এক বিষয়। তবে অবশ্যই যেকোন ভুলের একটা সীমা থাকে। ছোটখাটো ব্যাপারে মেজাজ গরম করা হয়ত ক্ষমা করা যায় কিন্তু শারীরিক আঘাত হয়ত আপনার ক্ষমা করা উচিত হবে না।

 

আর এই ধরনের ছোটখাটো দুর্ঘটনাগুলো সম্পর্কে ফাটল আনতে পারে খুব সহজেই।

 

৫. ‘সেই ভুল’  না করা

 

‘সেই ভুল’ বলতে সেসকল ভুলকে বোঝানো হয়, যা ক্ষমা করা কঠিন কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমার অযোগ্য। শারীরিকভাবে আঘাত করা, প্রতারণা করা, পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি সেসব ভুলের মধ্যে ধরে নেয়া যায়, যা থেকে মানুষ সহজে বের হয়ে আসতে পারে না। এ ধরণের ভুলে ভরা সম্পর্কে কেউই থাকতে চায় না। যদি দুইজনই কোন সম্পর্ককে স্থায়ী করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে কখনোই কেউ এ ধরনের ভুল করে না। কারণ তাদের কাছে পরস্পরের মূল্য অনেক বেশি।

 

৬. উভয়ই সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা

 

 

আপনার হয়ত মনে হচ্ছে যে এটা বলার কী আছে? এটাই তো স্বাভাবিক। হ্যাঁ, এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে এমন অনেক সম্পর্ক আছে যা তৃতীয় কোনো ব্যাক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং তার ফলাফল কখনোই ভালো হয় না। কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী আপনার ভালো চাওয়া আর কেউ আপনার সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এমনকি এই কথাটি মা-বাবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে তারা আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন এবং আদর-ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলেন কিন্তু ১৮ বছরের পর আপনি একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যাক্তি এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করতে সক্ষম এবং দুইজন ব্যক্তির সম্পর্ক তৃতীয় কারো দ্বারা বোঝা কখনোই সম্ভব না। সুদৃঢ় কোনো সম্পর্কেও ভাঙন ধরাতে সক্ষম তৃতীয় কোন নিয়ন্ত্রণকারী ব্যাক্তি, হোক সে শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা বন্ধু বা স্বয়ং মা-বাবা।

 

৭. ভাঙনের আরম্ভেই বাধা  দেয়া

 

বর্তমান সময়ে কোনো কিছু ভেঙে গেলে আমরা তা ফেলে দিয়ে নতুন কিনে নেই। জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস যথার্থ হলেও মানুষের ক্ষেত্রে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানবজীবন সমুদ্র স্রোতের মতো, জোয়ার ভাটা থাকবেই। কখনো সময় ভালো যাবে আর কখনো বা খারাপ। খারাপ সময়ে হাল না ছেড়ে সমস্যা নির্ধারণ করে তা সংশোধনের চেষ্টা করতে হয়। ভাঙা ফোনটা হয়ত ছুঁড়ে ফেলা যায় কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে না।

 

দিনশেষে প্রতিটি সম্পর্কই অনন্য। আমরা এখানে মূল বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সত্যি বলতে মানবমন খুব বিচিত্র। বিচিত্রভাবে তারা একে অন্যের কাছে আসে, একে অন্যকে ভালোবাসে ও চিরকাল ঠিক সেই ভালোবাসা নিয়েই জীবন কাটিয়ে দেয়। আর আপনি যদি তা পারেন, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই জানেন কিভাবে তা করতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *