Connect with us

Inspirational

৬ টি বিস্ময়কর জিনিস ঘটে যখন তুমি নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো

Published

on

তুমি কি একবার চিন্তা করেছো, তোমার প্রতিটি দিন যদি সেই কাজগুলো করে কাটতো যেগুলোতে তোমার সবচেয়ে বেশী উৎসাহ, তাহলে কত রোমাঞ্চক হতো জীবনটা? তোমার মানসিক উত্তেজনা ঠিক সেই সময়ের মত হতো যখন তুমি জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে গিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে মনের শ্রেষ্ঠ ইচ্ছার কথা ভাবতে।

কিন্তু এইরকমটা হয়না, কারণ আমরা বাস্তবতার মাঝে আমাদের উৎসাহগুলো পেছনে ফেলে আসি। কিন্তু এই “বাস্তবতা” বিষয়টা আসলে কি? এবং কেনই না বাস্তবতার কারণে আমাদের স্বপ্ন এবং মনের ইচ্ছাগুলোকে ভুলে যেতে হয়?

একটা জবাব প্রায়ই আসে যে সমাজ আমাদের স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের বেশিদূর আগাতে সাহায্য করে না। তাই আজকে তোমাকে জানাই, সমাজ যখন তোমার স্বপ্ন আর তোমার উৎসাহকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে বিভ্রান্ত করবে, ১০টি বিস্ময়কর জিনিস তোমার মধ্যে ঘটবে যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী জীবন ঠিক করবে।

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে

সবাই জানে যে মানুষ তার নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে সকলের কাছে পরিচিত হতে পছন্দ করে। কিন্তু এটাও সত্যি যে মানুষ নিজের পছন্দের কথা সকলের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যখন তুমি অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে, তোমার নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করতে কোন দ্বিধা বোধ করবে না।

প্রায় সময়েই তুমি যখন অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করতে পারো না, তোমাকে এমন একটা জীবন গ্রহণ করতে হয় যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য। তোমার নিজের উপর বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তুমি সমাজ, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কথামত চলতে শুরু করো। এটা হয় কারণ তুমি যা করছ তাতে তোমার খুবই কম নিয়ন্ত্রন থাকে। খুব সহজের এই কাজগুলো তোমার কাছে বোঝা বলে মনে হয় এবং ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণে সমাজে টিকে থাকার ভয় সবসময় তোমার মধ্যে তাড়া করতে থাকে।

কারণটা খুব সহজ, তুমি যখন এমন কাজ করে জীবন পাড় করছ যা তোমাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছেনা, সেই কাজে তুমি কখনোই তোমার সর্বোচ্চ দিতে পারবে না। ফলাফল, সাধারন এবং ভীত একটা জীবন তোমাকে সারাক্ষণ পীড়া দিতে থাকবে।

২. মানসিক অশান্তি কমে যাবে

চাকরী জীবনের অশান্তি হচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য রোগের মূল উৎস।

প্রথমেই মানসিক অশান্তির ব্যাপারটা তোমাদের কাছে একটু পরিষ্কার করি। ব্যাপারটা এমন নয় যে তোমার মনের ইচ্ছা মত কাজ করলে মানসিক অশান্তি হবে না। কিন্তু, নিজের ইচ্ছা থেকে যে কাজ তুমি করো, সে কাজে কোন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার একটা ইচ্ছাও তোমার মধ্যে জন্ম নেয় এবং সেটাই সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর।

আর যারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেনা তাদের কাছে প্রত্যেকটা কাজই বিরক্তিকর মনে হয় এবং কাজ করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজ শেষ হবার সময়ের দিকে বেশী নজর দেয়। চিন্তা করে দেখো, এরকম মানসিক অশান্তি আর আক্ষেপ নিয়ে প্রতিটা দিন পাড় করা কতটা যন্ত্রনাদায়ক।

৩. কাজের পরিপূর্ণতা

“বাঁচার জন্য কাজ করা” – এর থেকে ভয়ংকর বাস্তবতা আর হতে পারে না। তোমার নিজেকে সারাক্ষণ বন্দি মনে হবে কারণ, তোমার কাজ পাওয়া অর্থ থেকেই তোমার বাড়ি ভাড়া, খাওয়া দাওয়া থেকে সবকিছু নির্ভরশীল। তাই কাজ যতই অপছন্দের হোক না কেন, আমাদের নিজেকে সেই কাজের মধ্যেই রাখতে হয় আর যা করতে উৎসাহ ছিল সেটা জীবন থেকেই দূরে সরিয়ে দিতে হয়। এটা বাস্তবতা মেনেই সারাটা জীবন পাড় করে ফেলছি তাই না? কিন্তু একবারও কি এভাবে চিন্তা করে দেখেছো, তোমার এই কাজের কোন পরিপূর্ণতাই পাচ্ছে না শুধুমাত্র তুমি তোমার কাজটি উপভোগ করতে পারছ না তাই।

যারা নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করে তাদের দিকে লক্ষ্য করে দেখো, কাজ থেকে প্রাপ্তি কি হচ্ছে সেটা তাদের মূল মনোযোগের বিষয় নয় বরং সেটা আরও কিভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে তারা চিন্তা করতে থাকে। কাজের এই পরিপূর্ণতাই সময়ের সাথে এর সঠিক মূল্যায়ন করে।

৪. কর্ম জীবনে ভারসাম্য আনার দক্ষতা

বলা হয়, যদি তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো, তাহলে তোমার আর কর্ম জীবনের ভারসাম্য নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তার মানে হলো কর্ম জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে সমস্যা তখনই আসে, যখন আপনার কাজের সময়টা আপনাকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দেয় না।

যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করবে, তখন তোমার মনেই হবে না তোমার কাজের সময় তোমার জীবন থেকে আলাদা। আর এই মানসিকতাই তোমাকে শান্ত আর সুখী রাখবে।

৫. জীবন নিয়ে আক্ষেপ কম হবে

দিন শেষে, মানুষ সেই সকল কাজ নিয়ে আক্ষেপ করে না যা তারা করেছে, বরং সেই কাজগুলো নিয়ে আক্ষেপ করে যা তারা করতে পারেনি।

ভেবে দেখো, তুমি কাজের মাধ্যমে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছো। এবার ভেবে দেখো, তুমি অন্য কারো কাছে কি কি কারণে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহগুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে এই নিয়ে আক্ষেপ করছো। যা বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সাথেই হয়ে থাকে। সমাধান এখন তোমার কাছে। জীবন একটাই আর এই জীবন নিয়ে আক্ষেপ করে বেঁচে থাকাটা কোন সমাধান হতে পারে না।

৬. আত্ম উন্নতি ঘটবে

নিজের উৎসাহ এবং স্বপ্নের পেছনে না ছোটার মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা। অনেক সময়ই আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য আমি উপযুক্ত কি না অথবা আমার এই স্বপ্ন অর্থনৈতিকভাবে আমাকে স্বাবলম্বী রাখবে কি না।

তোমার এই চিন্তা সঠিকও হতে পারে কিন্তু, এর মানে এই না যে সত্যিটা মেনে নিয়ে তোমাকে হাল ছেড়ে দিতে হবে। তার বদলে তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে যতভাবে প্রস্তুত করা যায় সেদিকে সময় বেশী দিলে আত্ম উন্নতির মাধ্যমে অনেক অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করতে পারবে।

নিজের উৎসাহকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করে নাও তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তোমাকে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নিজেকে উপযুক্ত করে এগিয়ে যাও।

পরিশেষে আমার দিক থেকে আমি একটা কথাই বলবো, জীবনে আমাদের অস্তিত্ব অসীম সময়ের জন্য নয়। তাই নিজের উৎসাহকে গুরুত্ব কম দিয়ে এবং ভয়কে প্রাধান্য দিয়ে যদি তুমি এমন কোন একটা জীবন কাঁটিয়ে দাও যা আসলে তোমার জন্য নয়, তাহলে সেই আক্ষেপ থেকে পাওয়া কষ্ট থেকে তুমি কখনো মুক্তি পাবে না।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Inspirational

মাস্টার মাইন্ডের রহস্য

Published

on

“মাস্টার মাইন্ড” আপনি হয়তো নামটা প্রথম বারের মতো শুনেছেন। প্রথম শুনাটাই স্বাভাবিক। কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় কোথাও এ নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো সাফল্য অর্জনের মৌলিক পথ মাস্টার মাইন্ড নিয়ে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মাস্টার মাইন্ড কিঃ

দুই বা ততোধিক মানুষ যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য একসাথে সম্মিলিত ভাবে প্রচেষ্টা চালায়। তখন তাকে মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ বলে। মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ সর্ব প্রথম  নেপোলিয়ন হিল এবং এন্ড্রু কার্নেগি আবিষ্কার করেন। ১৯২৫ সালে হিল তার “দ্যা লো অব সাকসেস ” বইয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেন। এন্ড্রু কার্নেগী ২৫ জন সদস্য নিয়ে তার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ গঠন করেছিলেন এবং স্টিলের ব্যাবসার মধ্য দিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিত্তবান হয়েছিলেন। তাছাড়া অতিথের অনেক সফল ব্যাক্তিরাই মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ ব্যবহার করে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করেছেন।

তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেনঃ

বিখ্যাত ফোর্ড মোটর কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা – হেনরি ফোর্ড।

পৃথিবীকে আলোকিত করা বিজ্ঞানী – থমাস আলভা এডিসন।

মোবাইল ফোন আবিস্কারক – আলেকজেন্ডার গ্রাহামবেল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট – থিওডোর রুজভেল্ট। 

বিখ্যাত প্রকৌশলি – চার্লস এম শওয়াব।

মার্কিন উদ্যোক্তা – জন ডি রকফেলার। সহ আরো অনেকের সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মাস্টার মাইন্ড।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

কেন মাস্টার মাইন্ড গ্রুপ করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে একেক জন ব্যাক্তি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। যার ফলে যে কোনো উদ্দেশ্য দ্রুত সাধন করা যায়।

এ নিয়ে ওয়ালেস ডি ওয়াটলেন তার বেস্টসেলার বই “দ্যা সায়েন্স অব গেটিং রিচ” বইয়ে খুব সুন্দর একটি উদাহরণ দিয়েছেন। উদাহরণটা ছিল এরকম – মনে করা যাক, একটা মাসিক পত্রিকার কথা। একটা মাসিক পত্রিকা বের করতে প্রয়োজন হয় একদল মানুষের। এই মানুষ গুলোর থাকবে নানা গুন। একজন সম্পাদনা করবেন, কেউ কম্পোজের কাজ করবেন, কেউ লেখা জোগাড় করবেন, কেউ লিখবেন, কেউ প্রুফ দেখবেন, কেউ বিজ্ঞাপন জোগাড় করবেন, কেউ ছাপাবেন, কেউ বাধাইয়ের কাজ করবেন, কেউ বা পত্রিকাটি বাজারজাত করবেন। তবেই একটা পত্রিকা পরিপূর্ণভাবে বের করা সম্ভব হবে।উপরের কাজ গুলো কোনো একজন মানুষের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এখানে ১০ জন মানুষ ১০টি ভিন্ন কাজে দক্ষ। এভাবে যদি কোনো একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে একদল মানুষ নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কে কাজে লাগায় তাহলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

কিভাবে মাস্টার মাইন্ড তৈরি করবেনঃ

একটা মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যে কোনো একজন মানুষকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এবং সবার সাথে সমান ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এ গ্রুপে ফাটল ধরতে পারে। মাস্টার মাইন্ড তৈরি করার পূর্বে যে ৫ টি বিষয়ের উপর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। তা হলোঃ

১। প্রথমেই আপনার পরিচত একদল মানুষের নামের লিস্ট করে নিন। যাদের আপনি আপনার গ্রুপে রাখতে চান।

২। তারপর লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তিকে নিয়ে গভীর ভাবে অনুধাবন করুন। এ ক্ষেত্রে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। আমার লিস্ট করা প্রত্যেকটা ব্যাক্তি কি যথেষ্ট পরিশ্রমী? তারা কি যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকবে? তাদের উপর কি বিশ্বাস করা যায়? কোন কোন কাজে তাদের বিশেষ দক্ষতা আছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবেই তাদের আপনার মাস্টার মাইন্ড গ্রুপে যুক্ত করতে পারেন।

৩। আপনাদের গ্রুপের উদ্দেশ্য কি? গন্তব্য কোথায়? এ প্রশ্ন গুলোর উত্তর পরিষ্কার করে নিন।

৪। যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্বে তাদের সাথে আলোচনা করে নিন এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক মিটিংয়ের ব্যাবস্থা করতে পারেন।

৫। মাস্টারমাইন্ড গ্রুপ করার পর যদি কেউ নিজের কাজ নিয়ে উদাসীন থাকে, তাহলে তাকে গ্রুপ থেকে ছাটাই করে ফেলুন।

মাস্টার মাইন্ড ব্যবহার করে একজন মানুষ একাধিক মানুষের সাহায্য নিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেন এবং এর ফল সবাই মিলে ভোগ করবেন।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

বিখ্যাত স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কে গল্পগুলি প্রমাণ করে যে কিছুই অসম্ভব নয়

Published

on

সবাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে চায়, তা সে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু যোগ করতে চাই যা আমাদের জীবনকে সুন্দর করবে। সফল মানুষদের গল্পগুলো থেকে কিভাবে নিজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করতে হয় আমরা সেই শিক্ষাই পাই এবং বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপগুলোর মাধ্যমে নিজের স্বপ্নগুলো সফল করার পথ বেছে নিচ্ছে অনেক উদ্যমী তরুণ।

এই আর্টিকেলে আমি জানাবো বিখ্যাত কিছু স্টার্টআপ কীভাবে শুরু হয়েছিলো। আশা করি এটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে যা আপনার নিজের স্বপ্নের রাস্তায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও পড়তে পারেনঃ সফল হতে এড়াতে হবে যে বিষয়গুলো

Instagram

Kevin Systrom – Founder of Instagram

Kevin Systrom নামে একজন ব্যাক্তি প্রোগ্রামিং কোড শিখতে চাইছিলো, সে সিদ্ধান্ত নিল তার কাজের সময়ের পর নিজে নিজে শিখবে এবং সেই ইচ্ছা থেকেই সে কিছু মোবাইল অ্যাপ নিয়ে কাজ করা শুরু করলো। ফলাফল, সে Instagram নামে একটা ফটো অ্যাপ স্টোরে আপলোড করে সোমবার, যা কিনা ঠিক পরেরদিন মঙ্গলবারেই অ্যাপ স্টোরে জনপ্রিয় হয়ে যায়।

Uber

Uber suspends hundreds of accounts after rider diagnosed with ...
Source

একজন স্কুল ড্রপ আউট তার একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু অবৈধ লাভ গ্রহনের কারণে তাকে বেশ বড় অংকের জরিমানা দিতে হয়েছিলো। এর পরও তার নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন এবং সাহস শেষ হয়ে যায়নি। ২০১০ সালে সে Uber নামে নতুন প্রকল্প শুরু করে যার জন্য সে অর্থায়ন পায় এবং বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।

Alibaba

Alibaba founder Jack Ma steps down as chairman - MarketWatch
Source

Jack Ma নামে একজন ব্যাক্তি যে কিনা তার কর্ম জীবনে প্রায় সবরকম চেষ্টা বিফলে গিয়েছিলো, ইংলিশ জানতোনা বলে তার অনেক কষ্ট করতে হয়েছিলো, এমনকি বলার মত তার এমন কোন বড় যোগ্যতাও ছিল না। কিন্তু এসবকিছুর পরও তার নিজস্ব চিন্তা থেকে তৈরি করা প্রতিষ্ঠান যার নাম “আলিবাবা”, ব্যাবসাক্ষেত্রে পৃথিবীকে এক নতুন ধারনা দেয়।

LinkedIn

How to view profiles anonymously on linkedin ? – Tech101
Source

একজন ব্যাক্তি সামাজিক মাধ্যমের এমন একটি ধারনা থেকে কাজ শুরু করে যা কিনা শুধুমাত্র প্রফেশনাল কাজে লাগবে এমন মানুষদের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হবে। শুরুতে সে তার পরিচিত ৩৫০ জন বন্ধুদের তার এই ওয়েবসাইটে জয়েন করায়। ২০০৩ সালে যখন সে আনুষ্ঠানিকভাবে LinkedIn শুরু করে তখন সকলেই তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় এবং বর্তমানে তার এই সম্পদের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারের বেশী।

Pinterest

Pinterest Reaches 60% of US Women; Here's What They're Searching ...
Source

একজন ব্যাক্তি চাকরী ছেড়ে দিয়ে তার আরও দুইজন বন্ধুর সাথে কাজ করা শুরু করে। তারা বেশ কিছু মোবাইল অ্যাপ বানায় যার যার কোনটাই কোন জনপ্রিয়তা পায়নি। কিন্তু তারা নতুন কিছু চিন্তা করা থামিয়ে দেয়নি। তারা নতুন কিছু করার চিন্তা এবং গবেষণা বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে Pinterest তৈরি করে যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২৫ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ ব্যবহার করে।

Airbnb

Airbnb policy lapse allows for human trafficking and modern slavery
Source

দুইজন বন্ধু তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারছিল না তাই তারা তাদের বাসায় অন্য মানুষদের থাকতে দিত যারা অল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন কাজে আসতো এবং তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিত। এতে যারা থাকতো তাদের হোটেলের মত এতো খরচ হতো না এবং দুইবন্ধু সময়মত তাদের বাসা ভাড়া দিতে পারতো।

তাদের এই আইডিয়া দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পরে এবং তারা ১১২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পায় এই আইডিয়া এর উপর আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য।

Angry Birds

Angry Birds (game) | Angry Birds Wiki | Fandom
Source

৩ জন ব্যাক্তি ৫১টি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে যার জন্য তারা কোন সফলতাই পায়নি এবং তারা প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিল যে তাদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাদের ৫২ তম অ্যাপটি ছিল Angry Birds নামে একটি গেম যা ইতিহাস তৈরি করলো এবং তাদের জীবন পরিবর্তন করে দিল।

এই স্টার্টআপ গুলোর বিস্তারিত ঘটনা আপনারা অনলাইন থেকে জেনে নিতে পারবেন কিন্তু ছোট এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো, আমরা কেউই আমাদের ভবিষ্যতে ঠিক কি হতে যাচ্ছে তা ঠিক করে বলতে পারি না এবং ঠিক কোন মুহূর্তে আমাদের জীবনে ভালো পরিবর্তন আসবে সেটা ধারনা করতে পারবো না। কিন্তু যা করতে পারবো সেটা হলো হাল না মেনে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের যোগ্যতা আরও বাড়ানো। এই মানসিকতাই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে এবং সফল হতে সাহায্য করবে।

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20

Continue Reading

Inspirational

দ্যা আলকেমিস্ট বই থেকে ১০টি জীবন শিক্ষা

Published

on

পাওলো কোয়েলহো নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীর একজন গুণী লেখক। অবশ্যই তাঁর লেখনীর সৃজনশীলতা তৈরি হয়েছে গত ৫০ বছরে, কিন্তু তাঁর জ্ঞান এবং যুক্তিবাদীতা নিঃসন্দেহে বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বর্তমানে মানুষ ভোগবাদী এবং প্রগতিশীল জীবনযাত্রার জেলে আবদ্ধ। মানুষ ভুলে যেতে বসেছে যে তাদের একটি আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে এবং তারা চাইলেই তাদের আত্মা থেকে দূরে সরে যেতে পারবে না। এবং আমরা জেনে হোক না জেনে হোক, কেন যেন কৃত্রিমতার মাঝে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে বেশি ভালোবেসে আসছি।

 

অগাধ জ্ঞানের অধিকারী পাওলো আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ভান্ডার যা কিনা আমাদের সকলের সামনে “দ্যা আলকেমিস্ট” নামে পরিচিত। এই বইটি জীবন দর্শনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়কে তুলে ধরেছে। তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর প্রবল ইতিবাচক মানসিক চিন্তাধারা কিছু সুন্দর বিষয় আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। যা প্রমাণ করেছে, বই শুধু চিত্তবিনোদনের জন্য নয়, বরং জীবন দর্শন এবং জীবন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখে।

 

সাধারণত আমরা বই পড়ে থাকি সময় কাটানোর জন্য। আবার অনেকের ক্ষেত্রে বই পড়ার বিষয়টি জ্ঞান অর্জন করার জন্য হয়ে থাকে। কিন্তু আসলে একটি বই, যা কিনা জীবন দর্শন এবং জীবনকে আরো বেশি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে সে বইটিকে নিঃসন্দেহে একটি জ্ঞানভাণ্ডার ছাড়া আর অন্য কোন নামে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। আজকে আমি তোমাদের জানাবো পাওলোর বিখ্যাত বই “দ্যা আলকেমিস্ট” বইয়ের কিছু জীবন দর্শন বা শিক্ষা যা তোমার জীবনকে আরও উন্নত করতে এবং পূর্ণাঙ্গ করতে সহায়তা করবে।

 

ভয় হচ্ছে তোমার জীবনের অন্যতম বাধা অন্য যেকোন দর্শনীয় বাধার চেয়েও ভয়ংকর বাধা হচ্ছে ভয়

 

ভয়ের কষ্ট নিজের সাথে লড়াই করা যেকোন কষ্টের চেয়ে ভয়ংকর। জীবনে কষ্ট ছাড়া কোনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সফলতাকে না খুঁজলে সফলতা কখনো ধরা দেবে না। সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রেখে, ভয়কে দূরে সরিয়ে সফলতা খোঁজার জন্য বেরিয়ে পড়ো।

 

অজানা যেকোনো বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে ভয় কাজ করে। কিন্তু একই সাথে নতুন যে কোন বিষয় স্বাগতম জানানোর ব্যাপারটি আমাদের মাঝে উৎফুল্লতার সাথে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। বিশ্বাস রাখতে হবে, মানুষ হিসেবে আমাদের মাঝে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া একই সাথে যে কোন নতুন বিষয় জানার ব্যাপারটি অনেক ভালোভাবেই কাজ করে।

 

তাই অজানা কোন কিছু নিয়ে ভয় না পেয়ে নতুনকে বরণ করে নাও, স্বাগতম জানাও। একই সাথে ভয়কে জয় করে প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করবে করবে এমন একটি ইচ্ছা নিজের মাঝে পোষণ করো।

 

সত্যের জয় সব সময় হয়

 

তুমি যদি যেকোন পরিস্থিতিতে সত্যকে সবসময় গুরুত্ব দাও, তাহলে কেউ যদি তোমাকে ভুল বুঝে থাকে, তবুও সে কোন না কোন সময় তোমার সত্যটাকে অনুধাবন করে তোমার কাছে আসবে। ঠিক একই রকমভাবে তুমি যদি সাময়িকভাবে খুব ছোট এবং ক্ষণস্থায়ী আলোক রশ্মির মত মিথ্যাটাকে বেশি গুরুত্ব দাও, তাহলে জেনে রেখো কেউ যদি তোমাকে ভুল বুঝে থাকে, সে তোমাকে সাময়িক সময়ের জন্য সঠিক তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

 

সত্যকে কখনোই নতুন করে ভিন্ন রূপ দেয়া সম্ভব নয়। সত্য সব সময় অনেক বেশি মূল্যবান এবং শক্তিশালী। আর তাই যখনই তুমি সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সন্ধান করবে, সব সময় সত্যটাকেই বেশি গুরুত্ব দেবে। সেই সাথে অপরের সাথে সব সময় সত্যবাদী থাকায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। কারণ, একমাত্র সত্যই তোমাকে যে কোন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে একমাত্র কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আর পরিস্থিতি যতই নেতিবাচক থাকুক, মিথ্যার আশ্রয় নেবে না।

 

একঘেয়েমি বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলো

 

যখন কারো জীবনের প্রতিটি দিন একই রকম থাকে, তার মানে সে ভুলে গেছে যে, তার জীবনে প্রতিদিনই একটি চমৎকার নতুন বিষয় হচ্ছে আর তা হচ্ছে প্রতিদিনই নতুন সূর্য উঠবে নতুন সম্ভাবনা জাগ্রত হচ্ছে।

 

অর্থাৎ জীবনটাকে কোনোভাবেই একঘেয়ে করে ফেলা যাবে না। আমাদের আশেপাশে প্রতিটি দিনই নিত্য নতুন সম্ভাবনা, নিত্যনতুন অনেক কিছু ঘটছে প্রতিনিয়তই। মনে রাখতে হবে একঘেয়েমি হচ্ছে অনেকটা নীরব ঘাতকের মতো। তুমি যখন নিজের জীবনে কোন আনন্দ খুঁজে পাবে না বা নতুন কিছু করার মতো খুঁজে পাবে না, তার মানে তুমি তোমার জীবন থেকে সকল ধরনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছো।

 

আর কোন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা মানে, নতুন কোন কিছু নিয়ে সামনে এগোবার মত কোন প্রাণশক্তি তোমার মাঝে আর অবশিষ্ট নেই। বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবতে গেলে অনেক ভয়ঙ্কর যে, নতুন কিছু করবার মতো যখন প্রাণশক্তি আমাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকে না, তখন কিন্তু নতুন কোন সফলতাও আমরা দেখতে পাই না। আর তাই জীবন থেকে একঘেয়ে ব্যাপারগুলোকে সরিয়ে ফেলো, পরিবর্তনকে স্বাগতম জানাও, নিত্যনতুন কাজের মাধ্যমে নিজের আগ্রহকে ধরে রাখার চেষ্টা করো।

 

বর্তমানকে আলিঙ্গন কর

 

অতীতে না, ভবিষ্যতে না, সব সময় বাঁচার চেষ্টা করো বর্তমানে। তুমি যদি সব সময় তোমার বর্তমান সময়ের দিকে মনোযোগী হও তাহলে নিঃসন্দেহে তুমি অনেক সুখী একজন মানুষ হবে।

 

মনে রাখতে হবে, তোমার অস্তিত্ব বর্তমানে এবং এখনই। অর্থাৎ নিজের বর্তমানকে যদি গুরুত্ব না দাও, তাহলে একটি উজ্জ্বল আগামীকাল তোমার সামনে ক্ষীণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, অতীত বা ভবিষ্যৎ কোনটাই তোমাকে রাতারাতি কোন ফলাফল এনে দেবে না, তারপর তুমি যদি ভবিষ্যৎ নিয়েই পড়ে থাকো তাহলে তোমার আগামীকালটি সুন্দর হবে না।

 

মনে রাখতে হবে, যদি আগামীকালকে সুন্দর করতে চাও তাহলে বর্তমানেকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীত নিয়ে পড়ে থাকার কোন মানে নেই, কেননা অতীতের চিন্তা তোমাকে দুশ্চিন্তা ছাড়া আর কিছুই দেবে না। অপরদিকে ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আকাশ কুসুম কল্পনা তোমাকে বাস্তব পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। আর তাই বর্তমানকে দাও বেশি গুরুত্ব ।

 

সফলতার ঢেউয়ের মতো প্রভাব রয়েছে

 

যখন তুমি সংগ্রাম করবে, নিজেকে আরও বেশি উন্নত করবে তখন দেখবে তোমার আশেপাশের সব কিছুই আরো বেশি উন্নত এবং মনমত মনে হচ্ছে। অর্থাৎ তুমি যখন নিজের প্রচেষ্টায় নিজেকে সফলতার শীর্ষস্থানে দেখতে চাইবে তখন খেয়াল করবে তোমার আশেপাশের প্রতিটি জিনিসকে তুমি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছো।

 

একই সাথে তোমার সব কিছুই আগের চেয়ে অনেক ভালো লাগছে, অর্থাৎ আমাদের সফল হবার ইচ্ছা শুধু যে আমাদেরকে উন্নত জীবন দান করে তাই নয়, বরং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও উন্নত করে। যাতে করে আমরা আমাদের চারপাশের সব কিছুকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারি।

 

মনে রাখবে তোমার পরিবর্তন হচ্ছে তোমার নিজেরই বিবর্তন। অর্থাৎ, তুমি যখন নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইবে তখন আশেপাশের জিনিসগুলোকেও তুমি পরিবর্তিতভাবে গ্রহণ করতে শিখবে। আর তাই নিজেকে নিত্যনতুন কাজের সাথে খাপ খাইয়ে নাও। একই সাথে নিজেকে সফল করার জন্য উন্নত  স্বপ্ন দেখো। দেখবে আশেপাশের সব কিছুই তোমার সফলতার সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

 

স্পষ্টবাদী হও

 

যখনই আমরা কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাই, তখনই আমরা এমন কিছু পরিস্থিতি বা সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হই, যা পূর্বে কখনো ভাবিনি। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পরিস্থিতি আমাদের সামনে আসতে পারে। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে, তুমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দেরি করলে বা অতিরিক্ত ভাবলে তাতে করে যে তোমার সিদ্ধান্ত অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে, তা নয় বরং যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপাতদৃষ্টিতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

 

কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পষ্টবাদী মনোভাব যদি তোমাকে সাপোর্ট করে, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে সে  সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলা উচিত। অর্থাৎ যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে তোমারস স্পষ্টবাদী মনোভাবের পাশাপাশি তোমার বিবেককেও জাগ্রত করো। নিজেকে জিজ্ঞেস করো, যে সিদ্ধান্তটি নিতে তুমি যাচ্ছো তা আদৌ ফলপ্রসূ কিনা। আর যদি সেটা ফলপ্রসূ না হয়, তবে সে ধরনের সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে চলে সাহসিকতার সাথে সামনে এগিয়ে যাও।

 

তোমার কল্পনাকে মুক্ত করে দাও

 

কল্পনাশক্তিকে কোনভাবেই আবদ্ধ না রেখে বরং তোমার কল্পনাশক্তিকে মুক্ত করে দাও। আরো বেশি স্বাধীনভাবে কল্পনা করবার জন্য তুমি যখন স্বাধীনভাবে তোমার ভবিষ্যৎ বা আগামী নিয়ে কল্পনা করতে পারবে, তখন তুমি অনেক সফল এবং সুখী জীবনযাপন করতে পারবে।

 

আমাদের অন্যতম সমস্যা হল আমরা কল্পনা করতে গিয়েও কিপটেমি করে বসি। ভাবি, “এটা কল্পনা করে আমাদের কী লাভ? এরকম তো আর হবে না!” কিন্তু তুমি যদি স্বপ্ন বড় না দেখো, তাহলে বড় কিছু কিন্তু অর্জন করতে পারবে না। তোমার কল্পনাকে যদি তুমি স্বাধীন করে না দাও, তাহলে বড় কিছু অর্জন করা তোমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আর তাই তোমার কল্পনা শক্তিকে মুক্ত করে দাও। নিজের মত করে কল্পনা করো। তাহলে সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য তোমার ভেতরে আকাঙ্ক্ষার জন্ম হবে।

 

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যহত রাখো

 

জীবনে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলো সাতবার পড়ে গিয়েও আটবারের বেলায় উঠে দাঁড়াতে হবে।

 

কখন আত্মসমর্পন করো না, কখনো হেরে যেও না। তোমার বিশ্বাসই তোমার সফলতা নির্ধারণ করবে। আর তাই যত সমস্যায়ই পড়ো না কেন, যত বিপদই সামনে থাকুক না কেন, যদি তা তোমার সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নিজের ভেতর রাখতে হবে।

 

মনে রেখো, ঘরে বসে থাকলে কোন সফলতা তোমার সামনে আসবে না। সেজন্য তোমাকে লড়াই করতে হবে। তুমি বারবার পড়ে যাবে কিন্তু তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। জীবনে যদি সফল হতে চাও নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। এই বিশ্বাস রাখো, যত সমস্যাই হোক তুমি ঘুরে দাঁড়াবেই। এটা আশা করোনা যে অন্য কেউ সব সময় তোমার উপর বিশ্বাস রাখবে। নিজের বিশ্বাস তোমাকে নিজের উপরই রাখতে হবে।

 

নিজের পথ অনুসরণ কর

 

নিজের সম্পর্কে যদি তোমার নিজের কোনো স্পষ্ট ধারণা না থাকে, কোন পথ যদি তোমার নিজের তৈরি না থাকে, তাহলে অন্যরা কতক্ষণ তোমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারবে? আমাদের সবারই কিছু ভ্রান্ত বিষয়ে থাকে, অপরের ব্যাপারে অগাধ জ্ঞান থাকে, অপরের রাস্তা সম্পর্কে আমরা খুব বেশি অবগত থাকি। কিন্তু নিজে আসলে কোন পথে হাঁটতে চাই সেই ব্যাপারে অবগত হতে পারি না।

 

অন্যেরা তাদের অভিজ্ঞতা তোমার সাথে শেয়ার করবে। অবশ্যই আরেকজনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা ভালো। তাতে করে তোমার নিজের পথকে তুমি কীভাবে আরো মসৃণভাবে চলতে পারবে সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। কিন্তু মনে রেখো তোমাকে সবসময় নিজের পথেই হাঁটতে হবে। অন্যের বিশ্বাস বা অন্যের স্বপ্নকে পুঁজি করে তুমি বেশি দূর এগোতে পারবে না।

 

অন্যের রাস্তায় নিজের শক্তি দিতে গেলে বারে বারে তুমি শক্তিশূন্য হয়ে যাবে। আর তাই অপরের পথের চেয়ে নিজের পথকে ভালোভাবে অনুসরণ করা শেখো। সেই সাথে নিজেকে জানার চেষ্টা কর, তুমি আসলে কোন পথে হাঁটতে চাও, সেই পথকে কীভাবে আরো মসৃণ করা যেতে পারে সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করো।

 

নিজের পথে হাঁটতে গেলে অনেক সময়ই তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে অপরের সামনে সমালোচনার মাধ্যমে সঠিক প্রমাণ করতে হবে। আর তাই নিজের পথটিকে ভালোভাবে চেনার চেষ্টা করো এবং নিজের পথে হাঁটার চেষ্টা করো।

 

শুধু কথা নয় বরং কাজ শুরু করবে এমন কেউ হওয়ার চেষ্টা করো

 

অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নতুন কিছু শেখার অন্যতম মাধ্যম হল চেষ্টা করা। আমাদের মাঝে এরকম অনেকেই আছে, যারা শুধু বলেই যায়, তারা এটা করবে, ওটা করবে, কিন্তু শুরু আর করতে পারেনা। তুমি নিজে থেকে নিজেকে তাদের দলভুক্ত করো না। বরং তুমি যে কোন কাজ করার কথা বললে সেটা করে দেখানোর চেষ্টা করো।

 

অথবা যে কোন উদ্যোগ নিজে নেওয়ার চেষ্টা করো। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা তোমাকে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত করে দেবে। মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে তার অভিজ্ঞতা। তুমি হয়তো চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে পারো, কিন্তু বিশ্বাস রেখো তোমার এই ব্যর্থতা একপ্রকার সফলতা। কারণ, যে চেষ্টা করেনি তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি, কিন্তু তুমি অভিজ্ঞতাকে তোমার অর্জনের খাতায় লিখে রাখতে পারবে।

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Please follow and like us:
error0

Tweet
20
fb-share-icon20

Continue Reading

Trending

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial