Connect with us

Motivational

পাঁচটি ধাপে অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে

Published

on

A person who thinks all the time has nothing to think about except thoughts.-Alan Watts

 

আপনি কি অতিরিক্ত চিন্তা করেন? আপনি কি সবকিছুর মধ্যেই কোনো বিশেষ অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন? রাস্তায় হাঁটার সময় কেউ আপনার দিকে তাকালে আপনি কি বাকি পথ তার তাকিয়ে থাকার কারণ ভেবেই পার করে দেন? অথবা অফিসে কোনো সহকর্মী আপনার কোনো কাজ নিয়ে মজা করলে বাকিটা দিন সেটা নিয়েই ভাবতে থাকেন? আপনার কি যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটা সময় লেগে যায়? কখন কী কাজ করবেন তা ভেবে উঠতে পারেন না? কাজ করতে করতে প্রায়ই চিন্তার জগতে হারিয়ে যান?

 

যদি এ প্রশ্নগুলোর উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে আপনি প্রায় সবকিছু নিয়েই অতিরিক্ত চিন্তা করছেন, যা আপনার মানসিক অবস্থার জন্য খুব একটা ভালো নয়। কারণ অতিরিক্ত চিন্তা করার অভ্যাস ধীরে ধীরে আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নেবে। কোনো সাধারণ ব্যাপার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার পর আমাদের মধ্যে কাজ করতে পারে অপরাধবোধ। আর সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে যখন অতিরিক্ত চিন্তা করে আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করি।

 

ধরুন, আপনি কোনো কাজ করছেন। কিন্তু কাজটা করার সময় আপনি অনবরত কাজটা কেমন হচ্ছে, ঠিক হচ্ছে কি না, মানুষ এটা দেখে কী বলবে এসব ভেবে যাচ্ছেন। অনেক চিন্তা, অনেক রকম ভয় আপনার মাথায় কাজ করতে থাকে যা আপনার মনের অনেকটাই দখল করে ফেলে। আর সে কারণেই আপনি আপনার কাজটি হয়তো ঠিকভাবে করতে পারেন না, কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। কাজের ফলাফল হয়তো আশানুরূপ হয় না। এবং ধীরে ধীরে এই অভ্যাস আপনাকে বিষণ্ণতার দিকে নিয়ে যায়।

 

কিন্তু মাত্র পাঁচটি ধাপ ঠিকমত পালন করতে পারলে আমরা রক্ষা পেতে পারি এই বদভ্যাস থেকে। চলুন জেনে নেই সেই ধাপগুলো কী!

 

প্রথম ধাপ: নিজের চিন্তাগুলোকে বোঝা

 

আপনি কি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন? আপনি কি নেতিবাচক চিন্তা করছেন? শুরুতেই আপনাকে আপনার চিন্তার ধারাটা বুঝতে হবে।

 

আপনি হয়তো ভাবছেন এ আর এমন কী! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা অনেক সময়ই মনের অজান্তে অনেক নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে যাই যা আমরা পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ধরতেও পারি না। তাই একটু সময় নিয়ে নিজের চিন্তাগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। নিরপেক্ষভাবে আপনার মাথার ভেতরের জগতটাকে বোঝার চেষ্টা করুন। রাস্তায় হেঁটে যাওয়া অপরিচিত মানুষদের যেমন নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, ঠিক তেমনভাবে আপনার চিন্তাগুলোকেও পর্যবেক্ষণ করুন। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার চিন্তাগুলো ইতিবাচক না নেতিবাচক। ‘সবকিছু ঠিক আছে’ এই অভিনয় না করে বাস্তবটা মেনে নিন। কারণ নিজের সমস্যাগুলো মেনে নেওয়াই ব্যক্তিত্ত্বের উন্নয়নের প্রথম ধাপ। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত না হবেন, ততক্ষণ আপনি কোনো কিছুই পাল্টাতে পারবেন না।

 

Choose your thoughts carefully. Keep what brings you peace, release what brings you suffering. And know that happiness is just a thought away.

 

দ্বিতীয় ধাপ: চিন্তার ডায়েরি

 

আমাদের মস্তিষ্ক প্রতিদিন প্রায় ৭০,০০০ চিন্তা তৈরি করে। এতগুলো চিন্তা মনে রাখা নিশ্চয়ই কারও পক্ষে সম্ভব না। তাই আপনার চিন্তার প্রক্রিয়া আরো ভালোভাবে বুঝতে একটি ডায়েরি তৈরি করুন যেখানে আপনার প্রতিদিনের ভাবনাগুলো লিখে রাখতে পারবেন।

 

Concentrate all your thoughts upon the work at hand. The sun’s rays do not burn until brought to a focus. -Alexander Graham Bell

 

চেষ্টা করুন মনে উদয় হওয়ার সাথে সাথেই চিন্তাগুলো লিখে ফেলতে। অবশ্যই প্রত্যেকটা ক্ষুদ্র বিষয় লিখে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু অন্তত যেগুলো আপনাকে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সেগুলো লেখার চেষ্টা করুন। হয়তো এর মাঝে অনেক নেতিবাচক চিন্তা থাকবে। কিন্তু এই ডায়েরিটা আপনাকে আপনার মাথার ভেতর কী চলছে তার একটা পরিষ্কার ধারণা দেবে। এবং তার ফলে আপনি যে পরিবর্তন গুলো আনতে চান, তা অনেক সহজ হয়ে আসবে।

 

তৃতীয় ধাপ: মেডিটেশন

 

মেডিটেশন, যাকে আমরা বাংলায় বলি যোগব্যায়াম, আপনার শরীর এবং মন দুটোর জন্যই খুব ভালো। মেডিটেশন নিঃসন্দেহে আপনার চিন্তা ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

অতিরিক্ত চিন্তা করা বন্ধ করার জন্য আপনার নিজের মনকে অনেকটা প্রশিক্ষণ দিতে হবে বলা যায়। আপনার নিজের মনকে শেখাতে হবে তার কী ভাবা উচিত, কতটা ভাবা উচিত। নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে হবে আপনার চিন্তার ওপর। যখন আপনি মেডিটেশন করবেন, আপনার নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগটা থাকতে হবে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর। শুরুতে হয়তো এটা তেমন সহজ হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি আপনার মনোযোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে যাবেন। আপনার মস্তিষ্ক খুব সূক্ষ্ম বিষয়ের দিকেও পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া শিখবে। এবং যখন আপনি যে কোনো বিষয়ে পূর্ণ মনোযোগ দেবেন, অতিরিক্ত কোনো চিন্তা আপনার মনে ঠাঁই করে নিতে পারবে না। আপনার চিন্তাকে আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দেবেন না। বরং আপনি আপনার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। তাহলেই আপনি আপনার উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে পারবেন।

 

চতুর্থ ধাপ: কাজের প্রতি মনোযোগ

 

আপনার মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আরেকটা উপায় হলো নিজের প্রতিদিনের কাজগুলোর ওপর পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া এবং আপনার মাথার ভেতর চলতে থাকা চিন্তাগুলোকে আপনার মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া।

 

যখন যে কাজটা করছেন, সেই কাজটার মধ্যে পুরোপুরি ঢুকে যান। অন্য কোনো চিন্তা করার কোনো দরকার নেই। যদি কোনো চিন্তা করতেই হয় তাহলে কাজ শুরু করার আগে করুন। যে কোনো কাজ করার আগে তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিন। কী কী করবেন, কীভাবে করবেন, কত সময়ে করবেন সব একটি কাগজে লিখে ফেলুন। যাতে কাজ করার সময় আর কিছু ভাবতে না হয়। পুরোপুরিভাবে কাজে মনোযোগ দেওয়া যায়। কাজটা যখন করা হচ্ছে তখন সবটা মনোযোগ শুধুমাত্র কাজ করার ওপর দিন। পৃথিবীতে আর কোনো কিছুই নেই আপনার কাজটা ছাড়া এরকম একটা মানসিকতা নিয়ে কাজ শুরু করুন।

 

রাস্তায় হাঁটার সময় চিন্তার জগতে হারিয়ে না গিয়ে আপনার আশেপাশের পরিবেশের দিকে মনোযোগ দিন। টিভি বা কোনো ভিডিও দেখার মত সহজ কাজগুলো করার সময় মনোযোগ অন্যদিকে চলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। নিজের মনোযোগকে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সবটা মনযোগ দিয়ে ভিডিওটা দেখুন। প্রতিদিনের কাজের পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন যা আপনাকে মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখবে, যেমন গাড়ি চালানো অথবা ট্রেকিং, যেখানে আপনি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে বাধ্য। আপনার মস্তিষ্ককে আপনার বাস্তব সময়ের কাজে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য করুন।

 

মোট কথা নিজের মস্তিষ্ককে সবসময় ব্যস্ত রাখুন। আপনার মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দিতে এই অভ্যাসগুলো কাজে দেবে। দিনের পর দিন এভাবে চর্চা করতে থাকলে একদিন দেখবেন এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

 

পঞ্চম ধাপ: নিয়ন্ত্রণ

 

আরেকটা উপায় হচ্ছে নিজের অপ্রয়োজনীয় চিন্তা গুলোকে আপনার ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। এটা আসলে আপনার মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষণ দেওয়ারই একটি অংশ। যখনই আপনার মাথার ভেতর একটা কণ্ঠ আপনার মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে তখন নিজেকে বোঝান যে এটা শুধুমাত্র একটা কণ্ঠ যাকে আপনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন। আপনি চাইলেই সেই কণ্ঠটাকে দিয়ে যে কোনো কিছু বলাতে পারেন। আর এটা যদি রপ্ত হয়ে যায় তাহলে আপনি আপনার মনের ওপর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবেন।

 

চিন্তার প্রতিফলন ঘটে স্বভাব বা প্রকৃতিতে যদি কেউ মন্দ অভিপ্রায় নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে দুঃখ তাকে অনুগমন করে আর কেউ যদি সুচিন্তা নিয়ে কথা বলে বা কাজ করে সুখ তাকে ছায়ার মত অনুসরন করে -গৌতম বুদ্ধ

 

আপনি চাইলেই আপনার মাথার ভেতরের সেই কণ্ঠটাকে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে, নিজের উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে ব্যবহার করতে পারবেন। আর যদি না পারেন তাহলে আপনার জীবন আপনার ইচ্ছামতো চলার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই নিজের চিন্তাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা খুবই জরুরি। এবং এ কারণেই নিজের চিন্তাকে বোঝা এই পদ্ধতির প্রথম ধাপ ছিল।

 

যখনই আপনি আপনার মনের ভেতর কোনো নেতিবাচক চিন্তার উপস্থিতি টের পাবেন, তখনই ভাবুন কীভাবে এই চিন্তাটাকে ভালো কিছুর দিকে ঘোরানো যায়? কীভাবে এই চিন্তাটাকে আপনার লাভের জন্য ব্যবহার করা যায়? এই ছোট্ট পরিবর্তনটা প্রতিদিন অভ্যাস করলে তা আপনাকে প্রচণ্ড বিষণ্নতার জায়গা থেকে প্রায় কোনোরকম নেতিবাচক চিন্তা না করার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে।

 

আমি বলছি না চিন্তা করা খারাপ কিছু। কিন্তু সেই চিন্তাটাকে আপনার বাস্তব জীবনের ক্ষতি করতে দেবেন না। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত চিন্তা করা, বিশেষ করে যদি তা নেতিবাচক হয়, একটি বদভ্যাস যা আপনার জীবনকে পুরোপুরি অগোছালো করে দিতে পারে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

একাকীত্ব দূর করার ১০টি উপায়

Published

on

আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫টি সিগারেট খেলে শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় একাকীত্বের কারণেও শারীরিকভাবে ঠিক একই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এবার বুঝুন একাকীত্ব কতোটা মারাত্নক আমাদের শরীরের জন্য। আপনি যতো বেশি একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিবেন এটি ততো বেশি গ্রাস করতে থাকবে আপনাকে। ধীরে ধীরে এটা আপনাকে এতোটাই অসুস্থ করে তুলবে যে, এক পর্যায় গিয়ে আপনার সুইসাইড করার মন-মানসিকতার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু অসহ্য মনে হবে আপনার কাছে।

 

“Loneliness does not mean that there is no one beside you. Loneliness means that everyone is beside you, but the one you want beside you is not with you” -Humayun Ahmed

 

আপনি যদি একাকীত্ব সমস্যায় ভুগেন তাহলে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি কিছু টিপস মেনে চললে খুব সহজে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই আজকে আমি আলোচনা করবো এমন ১০টি টিপস নিয়ে, যা আপনাকে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

 

একাকীত্বের কারণ চিহ্নিত করুন

প্রথমে খানিকটা সময় নিয়ে চিন্তা করুন কেন আপনি প্রায় একাকীত্ববোধ করেন? ধরুন, আপনার উত্তর যদি হয় আপনার যথেষ্ট বন্ধু নেই তাই আপনি একাকীত্ববোধ করেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাঝে মাঝে ফ্রি সময়গুলো অসহায় শিশুদের সাথে কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাদেরকে কিছু উপহার দিন।

 

মেডিটেশন

আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার সকল হতাশা, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো, ‘টেনশন মুক্তি’। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না এবং শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ, যেমনঃ মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

“The more regularly and the more deeply you meditate, the sooner you will find yourself acting always from a center of peace.” J. Donald Walters

 

ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন

আপনি যখনই একা থাকবেন তখন আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। আপনি চিন্তা করতে পারেন কোন কাজটি আমার জন্য ভালো হতে পারে, চাকরি নাকি বিজনেস? কী করলে আমার ভালো হবে, ব্যাংকে চাকরি নাকি সরকারী চাকরি? আপনি যখন আপনার একাকীত্বের সময় এই সকল প্রশ্ন আপনার মনকে করবেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই আপনার একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসবেন। নিজেকে আর একা মনে হবে না এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি বেশ কিছু ভালো চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটবে। তাই নিজের একাকীত্ব দূর করতে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করুন।

 

বই পড়ার অভ্যাস

এটা আমরা সবাই জানি, বই পড়ার অভ্যাস পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন তখনই এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। তাই এরপর থেকে আপনি আপনার অবসর সময়ে বই পড়ে কাটাতে পারেন এবং নিজের একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। আপনি যখন উপন্যাসের চরিত্রগুলো পড়বেন তখন খারাপ সময়ে তারা নানা রকম অসুবিধাগুলো কীভাবে জয় করলো তা কল্পনায় উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মতো করে আপনিও আপনার খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

 

“The reading of all good books is like a conversation with the finest (people) of the past centuries.” – Descartes 

 

পছন্দের কিছু করা

আমাদের প্রত্যেকরই কিছুনা কিছু গুণ এবং ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা একা সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’লাইন কবিতা, এঁকে ফেলেন অসাধারণ একটি ছবি। নিজের একাকীত্বের সময় আপনি আপনার পছন্দের কাজটি করার মাধ্যেমেই এই একাকীত্বকে দূর করতে পারেন। আমরা যখন একা থাকবো তখন আমরা যদি আমাদের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দেই, তখন আমাদের একাকীত্ব জানালা দিয়ে পালাবে এবং নিজেকে আরো উৎফুল্ল মনে হবে।

 

বাস্তবতা নিয়ে ভাবা

আজ আপনার বন্ধুরা যেভাবে আপনার পাশে আছে তারা সময়ের তাগিদে ভবিষ্যতে আপনার পাশে এইভাবে নাও থাকতে পারে। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছেন তা সুদূর ভবিষ্যতে নাও পেতে পারেন। তাই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন। আপনি যতো মানুষের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তার অনুপস্থিতিতে আপনার একাকীত্বতা ততোগুণ বেশি হবে। এজন্য আপনি যতো বাস্তবমুখী চিন্তা করবেন, আপনার একাকীত্ব ততোটাই কমে আসবে।

 

“Life is not a problem to be solved
But a reality to be experienced.” -Søren Kierkegaard

 

প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান

এই পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে কাছের যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো, আপনার মা-বাবা। তাই যখনই একা অনুভব করবেন, তখন আপনি আপনার মা-বাবার সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে থেকেও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারেন।

 

সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ

আপনি আপনার ফ্রি সময় সমাজসেবামূলক কাজ করে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি সমাজ ও দেশের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিতি লাভ করবেন। আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং দিনশেষে আপনি আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারবেন।

 

“The happiest people I know are those who lose themselves in the service of others.” -Gordon B. Hinckley

 

নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে বদলানোর জন্য যদি পৃথিবীতে সহজ কোনো উপায় থাকে সেটি হচ্ছে, প্রতিদিন রাতে ১৫ মিনিট নিজের সাথে কথা বলুন। সারাদিন কী কী ভুল করেছেন সেগুলো মনে করুন এবং এগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে একই ভুল নাহ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। এভাবে আপনি আপনার ভিতর নতুন একজনকে আবিষ্কার করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের অবচেতন মন কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। তাই ঘুমানোর আগে ভালো ভাবুন এবং সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

সবশেষে যে কথাটি বলে শেষ করবো তা হলো, একাকীত্ব কোনো খারাপ বিষয় নয়। আপনি যখনই একা সময় কাটাচ্ছেন তখনই ভিন্ন কিছু করার জন্য সময় পাচ্ছেন। তাই নিজের সাথে যতোটা পারেন সময় কাটান, কিন্তু বিষণ্ণতায় ভুগবেন না। আপনি যখনই বিষণ্ণতায় ভুগবেন ঠিক তখনই আপনি একাকীত্বের ভেতর চলে যাবেন। তাই নিজের একাকীত্বকে কাজে লাগান।

 

“Walking with a friend in the darkness is better than walking alone in the light”– Helen Keller

Continue Reading

Motivational

সফল হতে এড়াতেই হবে যে বিষয়গুলো

Published

on

সফল হবার সুপ্ত ইচ্ছা আমাদের সকলের মাঝে আছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনেক কিছু এমন কিছু করে ফেলি যা আমাদের সফলতার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু সফলতা অর্জনের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সফলতা শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়ত ঠিকমত দু’বেলা খেতে পেয়ে সফল, কারো মতে দু-চারটি গাড়ি কিনে সে সফল।

সফলতার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জন ক্ষেত্রে একেক রকম হলেও, কিছু বিষয় যা আমাদের সফল হবার ক্ষেত্রে মেনে চললে খুব সহজেই সফলতাকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবো। সফলতা মানেই আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনেক বড় হতে হবে বা আপনার দু’চারটে গাড়ি থাকতে হবে এমন নয় বরং মানসিকভাবে শিক্ষিত হওয়া এমনকি মানসিক ভাবে সফল হওয়াটা হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বাস রাখতে হবে মানসিকভাবে সফল হতে পারলেই আপনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল। কেননা আপনি যখন একজন ভালো মানুষ, তখন সেই ভালো মনুষ্যত্বের কৃতিত্ব আপনার যেকোনো সফলতাকে ছাড়িয়ে যাবেই। একজন ভাল মানুষ হিসেবে সফল হবার জন্য যে বিষয়গুলো আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো জানাটা জরুরি। কেননা যখন আপনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, ঠিক তখনই আপনি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। জেনে নিতে পারেন একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

যে বিষয়টি হয়নি সেখানে আর ফিরে না যাওয়া

বিশ্বাস রাখতে হবে আপনার জীবনের যা ঘটছে তা আপনার ভালোর জন্যেই খুব হচ্ছে। আর তাই যে বিষয়টি আপনার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে বা যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে ঘটছে না সেগুলো নিয়ে অকারণ অহেতুক ভাবনায় সময় নষ্ট করবেন না। বরং সামনে কী নতুন করা যায় সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অযাচিতভাবে পুরানো ভাবনায় নিজেকে আটকে রাখা যাবে না। নতুন ভাবনাগুলোর জন্য দ্বার উন্মোচিত করে দিতে হবে। যা ঘটে গেছে তা নিয়ে পুনরায় ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

 

যা আপনার জন্য না তা করবেন না

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা যেকোন কাজ করার পূর্বে, ভেবে নেবেন সে কাজটির জন্য আপনি আসলেই যোগ্য কিনা। অথবা যে কাজটি আপনি আসলেই করতে যাচ্ছেন, তা কেন করছেন? অর্থাৎ এরকম অনেক কিছুই আছে যা আমরা অপরের খুশির জন্য বা অপরের মন রক্ষার জন্য করে থাকি। কিন্তু সবসময় মনে রাখতে হবে, নিজের আদর্শের সাথে কখনোই প্রতারণা করবেন না। আর তাই যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যায় না, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

হতে পারে আপনার আশেপাশের মানুষজন আপনাকে এক প্রকার বাধ্য করবে, সে বিষয়গুলোতে আপনাকে জড়াতে, তবুও নিজের আদর্শকে ঠিক রেখে সে বিষয়গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, যে বিষয়গুলো আপনি মনে করেন যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যাচ্ছে না।

 

অপরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না

কখনোই কোন কিছু করার জন্য, কাউকে বাধ্য করবেন না। কেননা প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অবস্থান রয়েছে, যেখান থেকে সে স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে। অবশ্যই আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানাতে পারেন কোন কাজগুলো তার জন্য ঠিক বা ঠিক নয়। কিন্তু সেগুলোকে পরিবর্তন করার জন্য আপনি তাকে জোর করতে পারেন না। আর তাই অপরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না, এতে করে আপনার স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হবে না। এমন কি নিজের আদর্শ কখনো জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

 

মানতে হবে সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়

সকলকে সুখী-খুশি করা সম্ভব নয়। সবার মন মত আপনি সবকিছু করতে পারবেন এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। সেই কাজগুলো করুন, যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখতে পারছে। অন্যকে খুশি করা অনেক বেশি কঠিন বরং নিজের সন্তুষ্টি আনাটা অনেক বেশি সহজ। আর তাই অপরকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। কারণ আপনার নিজের একার পক্ষে সকলকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয়।

 

ভালো কিছুকে বিশ্বাস করুন

ভালো আর পারফেক্ট এর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনি ভালোকে বিশ্বাস করতে পারবেন কিন্তু সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন কিছুকে বিশ্বাস করাটা ভুল। একেবারে নির্ভুল কেউ হতে পারে না, তবে চেষ্টা রাখতে হবে এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে হবে, যাদের থেকে আপনি ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আর অবশ্যই ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে।

 

সব কিছুকে বড় ভাবে দেখতে হবে

কোন কাজই ছোট নয়। সকল ব্যক্তিত্বরা কখনোই কোন কাজকে ছোট হিসেবে দেখেন না। মনে রাখতে হবে একজন মানুষ যত নিম্ন কাজই করুক না কেন, সে ওই কাজটি করে আনন্দ পাচ্ছে, একই সাথে তার জীবন জীবিকা চালাচ্ছে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে কোনো কাজই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না।

 

বাইরের চাকচিক্য বিবেচনা যোগ্য নয়

একটি বিষয় বাইরে থেকে যতটুকুই দৃষ্টিনন্দন দেখাক না কেন, আপনার জ্ঞানী মন-মানসিকতায় ভেতরের ব্যাপারটিকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আর তাই বাইরের চাকচিক্য দেখে সেই ব্যাপারটিকে ঠিক বা সঠিক বিবেচনা বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে ভেবে, সে বিষয়টির আসল দিকটি উন্মোচন করাই জ্ঞানী মনের কাজ। আর তাই বাইরে থেকে কোনকিছু বিবেচনা করা উচিত নয়।

 

”কেন” জিজ্ঞেস না করা

প্রতিটি বিষয়কে গভীরভাবে চিন্তা করে সে বিষয়ে সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আপনার জ্ঞানী মানসিকতাকে আরো বেশি দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে যে, কেন বিষয়টি এমন হয়েছে, কেন বিষয়টি এরকম নয়, তবে সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কখনোই গভীরভাবে জানতে পারবে না। আর সফল ব্যক্তিত্বরা সর্বদাই কেন প্রশ্নটি সাথে নিজের গভীর যোগাযোগ রাখে। কেননা শুধুমাত্র “কেন” থেকেই আপনি অনেক অজানা দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

 

 বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করে আপনি কতটুকু ভালো জীবন যাপন করছেন

আপনার বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে, আপনি কতটুকু শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। আর তাই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্তিপূর্ণ করাটা অনেক বেশি জরুরি। আপনার সফলতা তখনই আপনার কাছে আসবে, যখন আপনি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। আর তাই ব্যক্তিগত শান্তিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যে কাজগুলো করতে আপনি মানসিকভাবে শান্তি অনুভব করেন, সে কাজগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সাথে করাটা প্রয়োজন।

Continue Reading

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Trending