3248 Views

“পাগলও নিজের ভালোটা বোঝে”- কথাটি শুনেছেন নিশ্চয়ই?? ব্যাপারটা কিন্তু আসলেই তাই। কারণ বৈচিত্র্যময় এই সুন্দর পৃথিবীতে এই একটা ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আমাদের কারো কাম্য নয়- আমরা কেউই চাই না ব্যর্থ হতে। আচ্ছা,আপনি কি পারবেন এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে যে কিনা চায় না জীবনে সফলতা অর্জন করতে?? হয়তো পারবেন না। কারণ, এমন ব্যক্তির সংখ্যা নেহাত নেই বললেই চলে। কেননা, আমারা সবাই চাই উন্নতির সিঁড়িতে আরোহণ করে সাফল্যের ছোঁয়া পেতে। কিন্তু, শেষ অবধি আমারা সবাই কী পারি সাফল্যকে স্পর্শ করতে নাকি ডুবে যাই ব্যর্থতার চোরাবালিতে। হয়তো কেউ পারি আবার কারো জীবন কেটে যায় সাফল্যের মরীচিকার সন্ধানে।

 

সাফল্যের পথে অনেক বাধা জেনেও আমারা বারংবার ছুটি সাফল্যের পানে। সব চেষ্টার পরেও যখন ব্যর্থতাই ছুঁয়ে যায়, ঠিক তখনি কাজ করে হতাশা। তখন কেউ কেউ রাত জেগে চিন্তার চোখে কালশিটে দাগে হয়ে পড়ি রাত জাগা ক্লাউন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার সফলতা অর্জনের প্রয়াসসমূহ আদৌ কি ঠিক ছিলো? নাকি একটু হলেও খামখেয়ালীপনারও আনাগোনা ছিলো। যদি তাই হয়, তাহলে সাফল্যকে অর্জন করতে হলে আপনাকে শুরু  করতে হবে সূর্যোদয়ের প্রথম প্রহর থেকেই। ভাবছেন! কীভাবে শুরু করবেন? তাহলে জেনে নিন দিন শুরু করার ৩টি পদ্ধতি যাতে ব্যর্থতা নয়, আপনার জীবনে আসবে সফলতা।

 

মেডিটেশন:

 

প্রযুক্তি নির্ভর এই যুগে ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই আমাদের হাত যেন খুঁজে বেড়ায় বালিশের এপাশ-ওপাশে পড়ে থাকা সেলফোনটিতে। তারপর আরকি স্মার্টফোনের দুনিয়ায় একটু ঘুরতে না গেলেই যেন নয়।

 

অথচ পৃথিবীর সব সাফল্যবান ব্যক্তিরা কিন্তু তাদের দিন শুরু করেন মেডিটেশনের মাধ্যমে। এখন আপনি যদি আপনার দিনের পাঁচ থেকে দশ মিনিট মেডিটেশনের জন্য বের করতে না পারেন, তাহলে আর যাই হোক সাফল্য পাওয়া আপনার জন্য মুশকিল। কারণ মেডিটেশন বা ধ্যান মনের এমন এক অবস্থা, যখন মন অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারে। Psychology Today”- এর একটি অনুচ্ছেদে মেডিটেশনের যেসব গুনগুলো তুলে ধরেছে তা হলো:

 

১। হ্রাস  পায় বিষন্নতা
২। মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
৩। ইতিবাচক ভাবনা বৃদ্ধি করে।
৪। নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।

 

তাই মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন শুধুমাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনি নিজেই দেখতে পারবেন আপনার অমূল পরিবর্তন। মেডিটেশন নিয়ে জ্যাকুয়েস বলেছেন,

 

“When you are at home, even if the chicken is a little burnt, what’s the big deal? Relax.” – Jacques Pepin

 

ঠাণ্ডা পানিতে প্রাতঃস্নান:

 

আপনি যদি কাউকে বলেন আপনার সকালটা আপনি  ঠাণ্ডা পানিতে প্রাতঃস্নানের মাধ্যমে শুরু করেন, তাহলে অনেকেই আপনাকে পাগল ভাবতে পারে। তবে মনে রাখবেন, সফল ব্যক্তিরা এমন কিছু সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য বা কাজ করেন যা সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় পাগলামি  মনে হয়। তাই ইতিহাস পড়লে দেখবেন, এই পাগলাটে মানুষগুলোই পৃথিবী বদলে দিয়েছে। আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মানুষগুলোর না আছে কোনো অর্জন, না আছে কোনো অবদান। তাই কে কী ভাবলো সেসব না ভেবে এগিয়ে যান নিজের মতো। এমনকি, ঠাণ্ডা পানিতে প্রাতঃস্নানের ফলে  যেসব উপকারীতা পাওয়া যাবে সেই সম্পর্কে মেডিকেল ডেইলিতে”  কিছু বিষয় তুলে ধরে ছিলেন :

 

১। প্রবাহের উন্নতি ঘটে : স্নান করার সময় ঠান্ডা পানির স্পর্শ লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে একদিকে যেমন হার্টের পাশাপাশি দেহের ভাইটাল অর্গানদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি অন্যদিকে রক্তচাপও কমতে থাকে।

 

২। কর্ম চনমনে ভাব বৃদ্ধি পায়।

৩। চাপ কমাতে সাহায্য করে ।

৪। অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি পায়।

৫। ক্রনিক ব্যাথা উপশম করে।

 

তাই দিনের শুরুটা প্রাতঃস্নান দিয়েই শুরু করেই দেখুন না। সাথে কিছু সময় প্রার্থনা করুন আপনার সৃষ্টিকর্তার। দেখবেন অন্যরকম চনমনে মনোভাব কাজ করছে আপনার ভেতর। যা সাফল্যকে আপনার জীবনে বয়ে আনতে কতটা সাহায্য করবে তা না হয় নিজেই দেখুন ।

 

কৃতজ্ঞতা ও লক্ষ্যের তালিকা: 

 

আপনার প্রভাত রুটিনের কিছু সময়ে যোগ করুন  কৃতজ্ঞতা ও লক্ষ্য তালিকার জন্য। কোনো একটি ডায়েরিতে টুকে রাখুন আপনি কী নিয়ে কৃতজ্ঞ বা আগের দিনের আপনার ভালো কোনো প্রাপ্তি যা নিয়ে আপনি কৃতজ্ঞ। তাহলে দেখবেন কোনো একটি দিন খারাপ গেলেও আপনার আগের প্রাপ্তিটি একটু হলেও আপনাকে প্রশান্তি এনে দিবে।  

 

অপরদিকে “লক্ষ্য” শব্দটি পুরো জীবন জুড়েই আমাদের ভাবায়। ‘তোমার জীবনের লক্ষ্য কী’? – এই কথাটির সাথে আমরা শিক্ষাজীবনের একদম শুরু থেকে পরিচিত। এমনকি লেখাপড়া শেষে কর্মজীবনেও “জীবনের লক্ষ্য” নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তাই স্থির করুন আপনার লক্ষ্যটি। আপনার বর্তমান অবস্থান ও কাঙ্খিত লক্ষ্যের অবস্থানের দূরত্বটা মাথায় রাখুন। এর মাঝে যেসব বাধা আসবে ঐগুলো চিহ্নিত করে কোথাও লিখে রাখুন এবং দূর করার উপায় ভাবুন। এভাবে আপনি  রোজ সকালে আপনার ছোট ছোট লক্ষ্যগুলো আপনার মনে স্থির করুন এবং অর্জন করুন, দেখবেন ছোট ছোট অর্জনগুলো একসাথে বড় সফলতা পেতে সাহায্য করবে। তাই, নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাস নিয়ে বাঁচুন। কারণ, আত্নবিশ্বাস আর সীমাহীন স্বপ্ন যদি পথ চলার সাথী হয় তাহলে সাফল্য সুনিশ্চিত।

 

Orison Swett Marden বলেছিলেন, 

“All who have accomplished great things have had a great aim, have fixed their gaze on a goal which was high, one which sometimes seemed impossible”.

 

“যদি পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হতো, তাহলে গাঁধাই বনের রাজা হতো, সিংহ নয়” এমন একটি কথা বেশ প্রচলিত রয়েছে। সাফল্য অর্জনেও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রচেষ্টা আর সাধারণ কিছু কৌশল অবলম্বন করা। অথচ, অনেক সময় আমরা অনেকেই বলি, সবই ভাগ্যের খেলা, আবার কেউ দোহাই দেই মেধা, সুযোগ, সম্ভাবনার। আসলেই কী তাই? একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন একজন সফল আর ব্যর্থ মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অভ্যাস, কাজের ধরনে ছোট ছোট অনেকগুলো পার্থক্য রয়েছে। দিন শেষে এই পার্থক্যগুলোই গড়ে তোলে ব্যবধান। তাই, এই তিনটি পদ্ধতি চেষ্টা করে ব্যর্থতার তিক্ততা নিয়ে নয় বরঞ্চ বেঁচে থাকুন সফলতার মিষ্টি স্বাদটুকু অনুভব করে। 

Nabanita Das

আমি নবনীতা । "নতুন কিছু করা" বা "নতুন জীবন" আমার নামের অর্থটা বহন করে । আমি খুব সাধারণ একজন যে কিনা খুব অল্পতেই আকাশ সমান খুশি হতে পারে । ভালবাসি হাসতে তবে সেটা অট্টহাসিও বলা চলে যার ফলস্বরুপ মাঝে মাঝে বকুনি খেলেও কিন্তু "হাসি" আমায় ছেড়ে যায় না । শিক্ষার্থীর তকমাটা ধরে আছি এখনো । কেননা, ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে অনার্স ২য় বর্ষে পড়ছি ।

More Posts

Follow Me:
facebook LinkedIn twitter