Connect with us

Motivational

দুশ্চিন্তা দূর করার ৩টি কার্যকর কৌশল

Published

on

আচ্ছা,আপনি কি জানেন,এমন কোন নেশা আছে যেটার মধ্যে পৃথিবীর ঌঌ.৯% মানুষ আসক্ত? কি উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না?

 

ঠিক আছে আমি বলছি। সেটা হচ্ছে,Addiction to thinking”  অর্থাৎ চিন্তা করার প্রতি আসক্তি”। একজন মানুষের চিন্তা-শক্তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। হোক সে ছোট শিশু, মধ্যবয়সী বা প্রবীণ। একটি ছোট্ট শিশু একটার বেশি চকলেট কিভাবে পাবে বা তার মা-বাবার আদরের ভাগটা তার অন্য কোনো ভাইবোনের চেয়ে কিভাবে বেশি পাবে সেটা নিয়েও চিন্তা করে। কিন্তু প্রশ্ন আসে তখনি যখন কেউ কোনো বিষয়ে অত্যাধিক পরিমাণে চিন্তায় আসক্ত হয়ে পড়ে। কোনো ভাবেই রেহাই পায় না, ঠিক তখনি সেটা হয় “দুশ্চিন্তা”

 

আচ্ছা, আপনি কি পারবেন ১০ সেকেন্ড কোন রকম চিন্তা না করে মনের ভেতর কোনো রকম একটাও কথা না বলে থাকতে? কি পারছেন না তো!! দুঃখের কিছু নেই। আমাদের মধ্যে ৯৯% মানুষই আপনার দলে। কখনও কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা, কখনও সিদ্ধান্ত না নিতে পারায় মানসিক দোলাচল, কখনও থাকে  উদ্বেগ। আর এভাবেই দুশ্চিন্তা থেকে শুরু হয় নানা রকম মানসিক এমনকি শারীরিক সমস্যাও। তাই নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে দেখে নিন ৩টি কৌশল:

 

১.মেডিটেশন:

 

মেডিটেশন বা ধ্যান মনের এমন এক অবস্থা যখন মন অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারে। আর মানসিক চাপের ছুটির ঘন্টা বাজানোর জন্য মেডিটেশন অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম। শুধুমাত্র চোখ বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোনিবেশ করলেই মানসিক স্থিরতা আসে। তাই যখন মাথায় প্রচুর কাজের চাপ থাকবে, অথবা কোনো কারণে উৎকণ্ঠায় ভুগবেন তখন একটু সময় বের করুন নিজের জন্য। শুধু প্রয়োজন একটা “শান্ত স্থান ও উন্মুক্ত মন”। দু’মিনিটের মনসংযোগও চিন্তা-ভাবনা স্বচ্ছতা বাড়াতে সক্ষম।

 

কার্নেগী মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে- ২৫ মিনিট করে টানা ৩ দিন মেডিটেশন করলে তা হতাশা এবং দুশ্চিন্তা অনেকখানিই দূর করতে সহায়তা করে।

 

২.দুশ্চিন্তার তালিকা:

 

দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হলো এলোমেলো ভাবনা। আপনার মনে হতে পারে আপনি শত শত সমস্যায় ভুগছেন। তাই তৈরি করুন আপনার দুশ্চিন্তা গুলোর একটি তালিকা। দেখবেন অল্প কয়েকটির পর আর খুঁজেই পাচ্ছেন না। মানুষ দুশ্চিন্তা করে এর পেছনে থাকে হাজারো কারণ। কিন্তু দুশ্চিন্তা কি তার সমাধান করে দেয়?উত্তরটি হবে ‘না’। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন:

 

১. কি নিয়ে দুশ্চিন্তা করছি?

২. এটা নিয়ে চিন্তা করে আমি কি করতে পারি?         

 

উপলব্ধি করুন এভাবে। দেখবেন, আপনার দুশ্চিন্তার বোঝা কিছুটা হলেও কমছে। আর আপনি পাচ্ছেন মানসিক প্রশান্তি।

 

SHANTIDEVA বলেছিলেন,

“If you can solve your problem

Then what is the need of worrying,

If you can’t solve it

Then what is the use of worrying?”

 

৩.ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ:

 

জীবনটা উপভোগ করতে হয় প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে, প্রতিটি ছোট্ট ছোট্ট স্মৃতি আনন্দে উপলক্ষ্যে। কিন্তু অনেকেই যে কোন ঘটনা বা ভবিষ্যতে কি ঘটতে পারে এ আশঙ্কায় অযথা উৎকণ্ঠিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাই  দুশ্চিন্তার ধোঁয়াশা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে গ্রহন করুন ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ।

 

যেমন:

১. দুশ্চিন্তা দূর করতে চাইলে একটুকরো চকলেট মুখে পুড়ে নিন।কেননা,চকলেটের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সেরিটেনিন নামক হরমোন উৎপন্ন হয় যা মস্তিষ্কে ভালোলাগার অনুভূতির সৃষ্টি করে এবং মস্তিষ্ক শিথিলে কাজ করে।

২. নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।

৩. হয়ে উঠুন বাস্তববাদী ।

৪. ক্যাফেইন নেওয়া কমিয়ে দিন।

 

পরিশেষে জীবনটা আপনার, একান্তই আপনার। নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রেখে হাস্যজ্বল জীবনযাপনের দায়িত্বটাও আপনার। তাই কৌশল গুলো অবলম্বন করে ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি নিয়ে আপনিও আপনার জীবন থেকে বিদায় করুন ‘দুশ্চিন্তাকে’।

 

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত চিন্তা দূর করার উপায়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Motivational

সফলতার শীর্ষে পৌছাতে কেন একজন পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন?

Published

on

পথ প্রদর্শক বলতে আমরা এমন একজন ব্যক্তিকে বুঝি যিনি মানুষের জীবনে সাফল্যের পথ দেখিয়ে দেন। সর্বাধিক সফল ব্যক্তিদের সফলতার পেছনে কারো না কারো অবদান থেকেই যায়। যাদের অনুপ্রেরণার মাধ্যমে তারা আজ সফলতা লাভ করেছেন। যেমন: মহান বিজ্ঞানী এডিসনের একমাত্র অনুপ্রেরণার উৎস ছিলো, ‘তাঁর মা’।  

 

ছোটবেলায় পরিবার থেকে আমরা নম্রতা, ভদ্রতা, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় শিখে থাকি। এক্ষেত্রে পরিবার আমাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ পরিবার আমাদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে। পরবর্তিতে স্কুল, কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি লাইফে পর্যায়ক্রমে কিছু মানুষ প্রতিনিয়ত আমাদের পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন। ঠিক তেমনি জীবনে সফল হতে হলে প্রশিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে আপনার সাহায্যকারী সকল ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাথমিক যেই উপদেশটি শুনতে পাবেন তা হলো প্রশিক্ষক, পরামর্শদাতা বা ভূমিকা মডেলটি সাফল্যের দ্রুততম উপায় যা আপনার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে। টনি রবিন্স, ব্রায়ান ট্রেসির মতো অসংখ্য বিখ্যাত ব্যক্তিরা একই উপদেশটি দিয়েছেন। কারণ, একজন প্রশিক্ষক আপনাকে আপনার লক্ষ্য এবং স্বপ্নগুলো বুঝতে সহায়তা করবে। প্রশিক্ষণের সৃষ্টি হয় একজন প্রশিক্ষকের সাথে আপনার অংশীদারিত্বের জন্য, যাতে আপনি তার থেকে আপনার ব্যক্তিগত অথবা কর্মজীবনের লক্ষ্যে পরামর্শ এবং উৎসাহ পেতে পারেন।

 

ওপরাহ উইনফ্রে, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও এবং সেরেনা উইলিয়ামসের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও পথ প্রদর্শক আছে। কেননা বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সবসময় মনে করে তারা খুব কম জানেন। তাই তাঁরাও তাদের জীবনে পথ প্রদর্শক খুঁজে নিয়েছেন। একজন পথ প্রদর্শক একটি জীবন পরিবর্তনে অংশীদারিত্ব প্রদান করেন যা মানুষকে তাদের সম্ভাব্যতা অর্জনে সাহায্য করে। ঠিক তেমনি আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে এগিয়ে নিতে হলে পথ প্রদর্শক, পরামর্শদাতা বা প্রশিক্ষকের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কিছু মানুষ পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। আপনি যেই মানুষটা থেকে সামান্য পরিমান অনুপ্রেরণা পাবেন, গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাবেন সেই মানুষটা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করবে।  

 

জীবনকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য যে কারণে একজন পথ প্রদর্শক প্রয়োজন- 

 

জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজা

 

আমরা আমাদের জীবনের কাছ থেকে কী চাই সেটাই যদি জানতে না পারি, তাহলে সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যাই। যখন নিজেকে প্রশ্ন করি, ‘আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী? আমার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ? কেন গুরুত্বপূর্ণ?’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর হয় ‘বিভিন্ন কারণে উদ্দেশ্যে পরিবর্তন আসতে পারে’। কিন্তু এভাবে জীবনকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। সর্বপ্রথম আপনাকে জানতে হবে এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে। সেক্ষেত্রে একজন পরামর্শদাতা আপনার পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। সে হতে পারে আপনার বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, প্রোফেশনাল কোনো কোচ অথবা পরামর্শদাতা। আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য লাভের জন্য, কর্ম সম্পাদনের যোগ্যতা অর্জনের জন্য একজন পথ প্রদর্শক আপনাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে। যেমন: সফল ব্যক্তিগুলো তাঁদের ‘মানসিক স্বাস্থ্যবিধি’ তে অনেক সময় ব্যয় করেন। কারণ, চ্যালেঞ্জ এবং ব্যর্থতা মোকাবেলা করার জন্য মানসিক শক্তির বিকাশে কী করা লাগে তা তাঁরা জানেন। ঠিক তেমনি উদ্দেশ্য নির্বাচন করার জন্য কেমন কৌশল প্রয়োগ করা উচিত সেই সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে।

 

Womacks বলেছেন, “আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনাকে কী করতে হবে তা আপনাকে দেখিয়ে দিতে পারে এমন মানুষ খুঁজুন (এবং সময় ব্যয় করুন)।”

 

জীবনের উপর স্পষ্টতা অর্জন

 

জীবনের স্পষ্টতা বলতে বোঝায় জীবন অথবা জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা। আমরা অনেকেই এই বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখতে পারি না। আমরা বুঝতে পারি না আমরা ঠিক কতটুকু পারবো, আর কতটুকু পারবো না। মোটকথা, আমরা আমাদের ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে পারি না। তাই আমরা না বুঝে অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। যার ফলে আমাদের পড়তে হয় বিভিন্ন সমস্যায় এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে লক্ষ্যার্জনেও ব্যর্থ হতে হয়। তাই জীবনের স্পষ্টতা অর্জন একান্ত জরুরী। একজন পথ প্রদর্শক আমাদের সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তিনি আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্টতা অর্জনে আপনাকে আশা দেখাতে পারেন। তিনি তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যেই পরামর্শগুলো দিবেন সেই অনুযায়ী এগিয়ে গেলে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই অপরাহ উইনফ্রে বলেছেন, “একজন পরামর্শক এমন কেউ হবে, যিনি আপনাকে নিজের ভিতরে আশা দেখতে পারবেন।”

 

আপনি যদি ভেবে থাকেন, প্রত্যেকটা মানুষ জানে যে তারা জীবন থেকে কী চায়, তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। মানুষের সামনে অনেকগুলো উদাহরণ এবং সুযোগ খোলা থাকে। তারা সেটা অর্জনের তাড়নায় প্রায়ই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে না। সেক্ষেত্রে একজন পথ প্রদর্শক আপনাকে অগ্রাধিকার নির্বাচন করতে সাহায্য করবেন। তিনি আপনাকে জীবন নিয়ে চিন্তা করার জন্য অনুপ্রেরণা দিবেন যাতে আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করতে পারেন। স্পষ্টতা একটি চমৎকার শক্তি যা আপনাকে দ্রুত আপনার কাজ সম্পাদন করতে সাহায্য করে। এটি আপনার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর মূল কেন্দ্রবিন্দু।

 

সময় সংরক্ষণ করা

 

সময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান একটি বিষয়। জীবনকে সঠিকভাবে সাজাতে হলে সময়ের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। কথায় আছে, ‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’। তাই জীবনের সফলতার সময়ে যদি পরিশ্রমী না করে সময় নষ্ট করেন তাহলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক কষ্ট পেতে হবে। যদিও সফল হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, কিন্তু সেই সফলতা পাওয়ার জন্য তরুণ বয়স থেকেই পরিশ্রম করে যেতে হয়। কেননা, একজন তরুণের যতটুকু শক্তি, সামর্থ্য, মনোবল ও আকাঙ্খা থাকে, পরবর্তীতে তা আর থাকে না। তাই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সেই বয়সটাকে কাজে লাগাতে হয়। এছাড়াও মানুষ যখন সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়, তখন তারা আরো সময় পেতে চায়। যাতে তারা আবার নতুন উদ্যমে কাজটি করতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি কাজটি করা শুরু করবে ততো বেশি জীবনকে গোছানোর সুযোগ পাবে। কথায় আছে, ‘ব্যর্থতার পরেই সফলতার দেখা মেলে’।

 

আবার, আপনি যদি দ্রুত লক্ষ্য অর্জন করতে চান তখন আপনাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কেননা তাড়াহুড়ো করে কোনো কিছু করলে ফলপ্রসু হয় না। এছাড়া আপনি যদি কাজটি একা করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন আপনার নিজের কাছে অতিরিক্ত দায়িত্ব এসে পড়বে। যার ফলে আপনি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন না। তাই আরো সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে কাজ করা উচিত। আমাদের প্রায়ই কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। যখন আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাই, তখন কারো সমর্থন ও পরামর্শ আশা করি। কারণ, সেই মুহূর্তে এটা সবচেয়ে বড় সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে। আমরা যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগতভাবে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হই, তাহলে আরো বেশি ভুল করার সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে পরামর্শদাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আপনার সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে গবেষণা করেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করেন। সেই সাথে আপনাকে বুঝিয়ে দেয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার মাধ্যমে কীভাবে দক্ষতা অর্জন করা যায়। যার ফলে আপনার সময় সঞ্চয় হবে, সাথে আপনার লক্ষ্যও বাস্তবায়ন হবে।

 

নতুন উদ্ভাবনী ধারণা দেয়া

 

Womacks বলেছেন, “একজন পরামর্শদাতা এমন একজন ব্যক্তি যিনি ব্যবসায় বা জীবনে অভিজ্ঞতার সাথে নতুন কিছু করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আপনাকে আপনার দক্ষতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারেন।”

 

পরামর্শদাতারা আপনাকে নৈতিক সমর্থন করবে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের ধারণা দিবে। পরামর্শদাতা এমন একজন ব্যক্তি যিনি আপনাকে থামতে দেবেন না। বরং আপনার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা অনুযায়ী উৎসাহ ও নির্দেশনা প্রদান করবেন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করার অনুপ্রেরণা দিবেন এবং আপনাকে আপনার লক্ষ্যার্জনে মানসিকভাবে এগিয়ে দিবেন।

 

মনে রাখবেন, এখন আমরা যেটাকে ভালো পরামর্শ বলে মনে করছি সেটিও একজন ব্যক্তির সাহসী মনোভাবের ফল। তাঁরা নিজ থেকে যেই সামান্য পরামর্শ দিয়েছে তা এখন আমাদের কাছে অনেক গুরুত্ববহ। ঠিক তেমনি, আজকে যদি আপনি যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো উদ্ভবনী পরামর্শ দিতে পারেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ বলে বিবেচিত হবে।

 

অর্থ সংরক্ষণ করা

 

ভুল আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আপনার কর্মজীবনকে উল্ল্যেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মানুষ যখন উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন তারা প্রায়ই তাদের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে এবং বিনিয়োগগুলি কার্যকর করতে ভুলে যায়, যা ভবিষ্যতের জন্য তাদের কোনো লাভ দেয় না। জীবনে প্রশিক্ষকের সৃষ্ট শীর্ষ সুবিধাগুলোর একটি হল, ‘তাঁরা জানেন যে জীবন হলো কার্যকর পরিকল্পনাগুলির একটি গৌরবময় সমষ্টি।’

 

সাধারণত, আমরা যখন কোনো ব্যবসা শুরু করি তখন নির্দিষ্ট কিছু মূলধন বিনিয়োগ করতে হয়। সেক্ষেত্রে আমারা সাবধানতা অবলম্বন করার চেষ্টা করি। কারণ এতে ঝুঁকি থাকে। কোনো কারণে যদি ব্যবসায়ে লোকসান হয় তাহলে ব্যবসায়ের সাথে সাথে মূলধনও হারাতে হবে। তাই, প্রশিক্ষকরা কখনো আপনাকে দ্রুত বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দিবেন না। তারা প্রথমত একটি কর্ম পরিকল্পনা সরবরাহ করবেন যা আপনি ধাপে ধাপে আপনার কর্মজীবনে কাজে লাগাতে পারবেন। তাই এক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকি না নিয়ে একজন ভালো পরামর্শক খুঁজে নেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। ফলস্বরূপ, আপনি কম ঝুঁকিতে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। সুতরাং একজন প্রশিক্ষকের একটি ছোট ধারণা আপনাকে ব্যবসায়ে পছন্দসই ফলাফল দিতে পারে।

 

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, “আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মুখোমুখি হই, সেগুলি একই স্তরের চিন্তাভাবনায় সমাধান করা যায় না”

 

অর্থাৎ, কিছু কিছু ব্যতিক্রম বিষয় আছে যেগুলো আমাদের সাধারণ মানসিকতা দিয়ে সমাধান করা যায় না। তার জন্য দরকার হয় অভিজ্ঞ ব্যক্তির। যেমন, একজন ব্যক্তি যখন কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করার কথা ভাবে তখন তাকে কিছু অভিজ্ঞ ব্যক্তির স্মরণাপন্ন হতে হয়। যার ফলে ঝুঁকি প্রবণতা কমে যায়। এক্ষেত্রে আইনস্টাইনের এই উক্তিটি খুব কার্যকর, কারণ আপনি এটির মধ্যে আপনার জীবনের চিত্রটি পরিষ্কারভাবে দেখতে পাবেন।

 

কাজের প্রতি আরো দায়বদ্ধতা প্রকাশ

 

জীবনে পথ প্রদর্শকের সর্বাধিক সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হলো, তারা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে যে আপনি যদি সঠিক কৌশলগুলি ব্যবহার করেন তবে আপনি সঠিক ফলাফল অর্জন করতে পারবেন। যেমন: স্কুল জীবনে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী থাকে। কারণ তারা জানে যে পরদিন ঠিকই শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ঠিক তেমনি, একজন প্রশিক্ষক অথবা পরামর্শক থাকলে তিনি আপনাকে সেই বিষয়টি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট জ্ঞান দিবেন এবং কাজ করার জন্য তাগাদা দিবেন। যার ফলে আপনার মধ্যে একধরণের আগ্রহ কাজ করবে এবং আপনি সেই কাজটি আগ্রহের সাথে সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে পারবেন।

 

তাছাড়া আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ জানেন যে তার কী করা উচিত, আবার অনেকে জানে না। এক্ষেত্রে একজন পথ প্রদর্শকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। কারণ, তিনি আপনাকে কিছু আবিস্কার করার সুযোগ দিবেন এবং আপনাকে বুঝিয়ে দিবেন যে উন্নতি করার একমাত্র উপায় হল সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। যখন আপনি কেবল নিজের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, তখন আপনি নিজের মাঝে বিভিন্ন অজুহাত নিয়ে এসে বলতে পারেন কেন আপনি এটা করেন নি! কারণ এতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। কিন্তু প্রশিক্ষকের কাছে জবাবদিহি করতে হলে কোনো জিনিসই বাদ দেওয়া যায় না। বরং একটা ভয় থাকে যে আমাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। সুতরাং, আপনি একটি কাজে বিলম্ব করতে, অজুহাত দেখাতে এবং আপনার নিজের উদ্যোগের জন্য দায়বদ্ধ না মনে করার অভ্যাস থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

 

নিজের সর্বোচ্চটা অর্জনে সহায়তা

 

আমরা সকলেই চাই জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে। কিন্তু শুধুমাত্র কিছু ভুল পদক্ষেপের কারণে অনেকেই তা পারি না। আমাদের জীবনটা পরিবর্তনশীল। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের প্রতিকূলে, আমাদের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা যা চাই তা পাওয়ার মতো মানসিক শক্তি আমাদের নেই। তাই সেটা অর্জনের চেষ্টা না করে অযথা পরিবেশকে দোষারোপ করি। কারণ, আমাদের নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস নেই। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবেন সত্যিই জীবন থেকে আপনি কী চান। তিনি আপনার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করবেন যাতে আপনার এসব বিষয়গুলোর প্রতি নিয়ন্ত্রণ থাকে। যার ফলে, যখন আপনি আপনার কাজের দায়বদ্ধতা গ্রহণ শুরু করবেন তখন জীবনের সমস্ত ঘটনাগুলি নির্দিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে গড়ে উঠবে। পথ প্রদর্শকগুলো আপনার স্ব-আবিস্কারের দায়িত্ব নেয় এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সেরা বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বের করে।

 

ব্রায়ান ট্রেসি বলেন, “আপনি যদি নিজেকে একটি সম্পদে পরিণত করতে চান, তবে আপনার আয়ের ৩% সবসময় নিজের জ্ঞান ও দক্ষতার উন্নয়নের পেছনে খরচ করুন।”

 

বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি যেমন: টাইগার উডস, মাইকেল জর্ডান, বারাক ওবামা, ওয়েইন গ্রেটস্কি, ল্যান্স আর্মস্ট্রং, অপরাহ উইনফ্রে, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, ওয়ারেন বুফে, রিচার্ড ব্রান্সন, টনি রবিনস, আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার, এবং পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় বিনোদনকারী, সঙ্গীতজ্ঞ, অভিনেতা, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং নেতাদের সকলের প্রশিক্ষক বা পথ প্রদর্শক রয়েছে। সুতরাং, আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছাতে হলে পথ প্রদর্শকের গুরুত্ব অপরিসীম।

Continue Reading

Motivational

পাঁচটি কাজ যা উচ্চ আত্মবিশ্বাসী মানুষেরা কখনোই করেন না

Published

on

ধরুন, আপনার কাছে একটি আর আপনার এক বন্ধুর কাছে আরেকটি গাড়ি আছে। আপনার গাড়িটি নিয়ে আপনি ১০০ কি.মি পথ যেতে চান আর আপনার বন্ধু তার গাড়িটি নিয়ে ১ কি.মি যেতে যায়। এখন মনে করুন কোনো গাড়িতেই যদি জ্বালানী দেওয়া না হয় তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানোটা কার জন্য বেশি অসম্ভব হবে? অবশ্যই আপনার, কারণ আপনার লক্ষ্যটা আপনার বন্ধুর লক্ষ্যের চাইতে অনেক বড়। আর বড় বলেই আপনার গাড়ির জন্য জ্বালানী বেশি প্রয়োজনআর জীবনে ‘আত্মবিশ্বাসী’ নামক শব্দটিও ঠিক এমনই এক মানবীয় জ্বালানী যা আপনাকে সাহায্য করবে আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে দিতে। পৃথিবীর তুচ্ছ চিন্তার মানুষদের তুচ্ছ লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়ত আত্মবিশ্বাসের তেমন প্রয়োজন নেই, কিন্তু যারা বড় বড় চিন্তা করতে অভ্যস্ত, স্বপ্ন দেখেন বড় সফলতার- তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা রাখতে হয় অনেক উপরের দিকে।

 

আত্মবিশ্বাস মোটেই কোনো জন্মগত বিষয় কিংবা বিশেষ কোনো ব্যক্তির ‘সুপার পাওয়ার’ নয়। নিজের মেধা আর বিচার-বুদ্ধির যথাযথ ব্যবহার করেই একজন মানুষ হয়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসী। আর এজন্যই রবার্ট কিয়োসাকি একবার বলেছিলেন- “আত্মবিশ্বাস আসে কঠোর অভ্যাস আর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে।”

 

একজন ব্যক্তিকে উচ্চমানের আত্মবিশ্বাসী হতে হলে অনেক সদগুণ যেমন অর্জন করতে হয়, তেমনি এড়িয়ে চলতে হয় অনেক ভুল কাজ। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক এমনই কিছু কাজ যা প্রকৃত আত্মবিশ্বাসসম্পন্ন মানুষেরা কখনোই করেন না।

 

তাঁরা অন্যের সমালোচনা/বিচার করেন না

 

একটা কথা আমাদের সবসময়ই মনে রাখা উচিত যে, অন্যের বাড়িতে কাদা ছুঁড়ে মারলে কখনো নিজের বাড়ি সুন্দর দেখায় না। নিজের বাড়িকে সুন্দর করে তুলতে হলে নিজেকেই তা সুন্দর করে সাজাতে হয়। আর এমনটা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন বলেই উচ্চ আত্মবিশ্বাসী লোকেরা কখনোই অন্যের সমালোচনা করার চেষ্টা করেন না, তারা বরং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। বিশ্লেষণাত্মক মনোবিজ্ঞানের জনক, সুইস মনোবিদ, কার্ল ইয়ুং বলেছিলেন- “চিন্তা করাটা কঠিন আর তাই বেশিরভাগ মানুষই নিজের ধারণা দিয়ে অন্যকে বিচার করে বসে।” আত্মবিশ্বাসহীন তুচ্ছ লোকেরাই অন্যকে তুচ্ছ করে নিজের তুচ্ছতাকে ঢেকে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃত আত্মবিশ্বাসী লোকেরা নিজেদের কখনোই অন্যদের থেকে ছোট মনে করেন না এবং নিজের ধারণা দিয়ে কাউকে তুচ্ছ করে বিচার করার চেষ্টা করেন না।  

 

তাঁরা অজুহাত দেখান না

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ফাউন্ডিং ফাদার বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেছিলেন- “যে লোক অজুহাত বানাতে পারদর্শী, সে অন্য কাজে কমই পারদর্শী।” অসফল মানুষদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তাদের সবসময় তিনটি হাতের ব্যবহার থাকে- একটি ডান হাত, একটি বাম হাত আর অন্যটি অজুহাত। যেকোনো সিচুয়েশনে তারা শেষের এই হাতটি (অজুহাত) ব্যবহার করে থাকে। নিজের ভুলের জন্য তারা কখনো অন্যকে, কখনো কোনো পরিস্থিতিকে দায়ী করে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী লোকেরা নিজের ভুলকে অজুহাত দিয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা করেন না, তারা শুভ পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তারা নিজেদের ত্রুটি স্বীকার করে তা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে নিজেদের সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে চলেন।

 

তাঁরা আরামপ্রদতা খুঁজে বেড়ান না  

 

প্রকৃত শিকারীরা যেমন জঙ্গলের হিংস্র জন্তুর ভয়ে শিকার করা বাদ দিয়ে ঘরে বসে থেকে আরামপ্রিয় জীবন যাপন করেন না, তেমনি একজন প্রকৃত আত্মবিশ্বাসী লোক কখনোই আরামপ্রিয় জীবনে বিভোর হয়ে সফল হওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোকে হাতছাড়া করেন না। প্রবাদ আছে- “কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না”আর কষ্ট করার ভয় কখনোই প্রকৃত আত্মবিশ্বাসীদের লক্ষ্যে পৌঁছতে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাঁরা জানেন, সফলদের পথ যুগে যুগে সর্বদাই অমসৃণ ছিল। আর তাই সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অলসদের মতো আরামপ্রিয় জীবনে না থেকে তাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন।

 

তাঁরা কখনোই নিজেকে অযোগ্য মনে করেন না

 

বিল গেটস একবার বলেছিলেন- “তুমি যদি অভাবী হয়ে জন্মাও এটা তোমার দোষ নয়, কিন্তু তুমি যদি অভাবী হয়ে মারা যাও তাহলে এটা তোমার দোষ।” তেমনই পৃথিবীতে কোনো মানুষই অর্থ, দক্ষতা আর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। চেষ্টা আর মেধার দ্বারাই তা অর্জন করতে হয়। আর আত্মবিশ্বাসী লোকেরা সর্বদাই উপায় উদ্ভাবনে দক্ষ। তাঁরা কখনোই নেতিবাচক চিন্তাকে প্রশ্রয় দেন না। তাঁরা বিশ্বাস করেন নিজেদের সক্ষমতার উপর। অর্থ, দক্ষতা কিংবা জ্ঞানের ঘাটতি থাকাকে ব্যর্থতা মনে করার বদলে নিজ যোগ্যতার উপর বিশ্বাস করে তাঁরা তা অর্জনের চেষ্টা করে যান। আত্মবিশ্বাসী লোকেরা কখনই অতীতের কথা ভেবে নিজের ভবিষ্যত সম্ভাবনাকে নষ্ট করেন না। প্রতিনিয়তই নিজের সময়কে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে যান।

 

তাঁরা প্রতিকূলতাকে এড়িয়ে যান না

 

ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে- “What hurts you today makes you stronger tomorrow”. অর্থাৎ, “আজ যেটা তোমাকে আঘাত দিচ্ছে কাল সেটাই তোমাকে সবল করে তুলবে”। আর এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বলেই একজন আত্মবিশ্বাসী লোক কখনোই ভীত হয়ে কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হন না। তাঁরা আঘাতকে আলিঙ্গন করেন আহত হওয়ার জন্য নয়, আরো সবল হওয়ার জন্য। তাঁরা প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তোলেন। আর এইভাবেই একজন আত্মবিশ্বাসী লোক নিজের আত্মবিশ্বাসকে প্রতিনিয়ত করে তোলেন আরও মজবুত।

 

হার্বার্ট স্পেন্সার যেমন বলেছিলেন- “শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য শুধু জ্ঞান আহরণ নয় বরং জীবনে তার প্রয়োগ”, তেমনি এসব বিষয় শুধুমাত্র পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের জীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমেই একসময় মিলবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত সফলতা!   

Continue Reading

Trending