Connect with us

Psychology

বিষণ্ণতা দূরে রাখার জন্য প্রতিদিন যেই ১০টি জিনিস করতে পারেন

Published

on

‘বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন’ বর্তমান সময়ে নবজাতক শিশুটি ব্যতীত প্রায় সব বয়সের মানুষের কাছে এটি বহুল প্রচলিত একটি শব্দ। এই যান্ত্রিক জীবন ব্যবস্থায় প্রায় অধিকাংশ মানুষই কম-বেশি ডিপ্রেশনে ভুগে থাকে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ বয়সী মানুষের মাঝে এ ব্যাধিটি বেশি প্রকাশ পায়।

 

বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন হলো ইমোশনাল ইলনেস বা আবেগজনিত মানসিক ব্যাধি। যেকোনো উদ্বিগ্নতা যখন কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কর্মতৎপরতা ও পারষ্পারিক সম্পর্কসমূহের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তখন মস্তিষ্কের ‘সেরোটনিন’ জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের গুণগত ও পরিমাণগত তারতম্য ঘটে যা ব্যক্তিকে প্রচন্ড রকমভাবে ডিপ্রেশনে ভুগিয়ে থাকে। তবে, যেহেতু এটি একটি মানসিক ব্যাধি; তাই এর থেকে দূরে থাকতে হলে আপনার ইচ্ছাশক্তি ও পজিটিভ মানসিকতাই যথেষ্ট।

 

দেখে নিন যে ১০টি জিনিস আপনাকে ডিপ্রেশন হতে দূরে রাখবে-

 

ঘুম নিয়ন্ত্রন করুন

 

‘ঘুম’ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অপরিহার্য একটি অংশ। ঘুম ব্যতীত একটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। তবে শুধু কম ঘুমালেই নয়, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ঘুমালেও একজন ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক ব্যাধির সম্মুখীন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ থেকে ৬৫ বছর) মানুষের ৭ ঘন্টার কম অথবা ৯ ঘন্টার বেশি ঘুমানো উচিত নয়।

 

“When you suffer from depression “I’m tired” means a permanent state of exhaustion that sleep doesn’t fix.”

 

কম অথবা বেশি, দুটোই একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ক্ষতিসাধন করে থাকে। যা বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভোগাতে ভূমিকা পালন করে। মূলত ‘নিয়ন্ত্রিত ঘুম’ হলো সকল শারীরিক ও মানসিক সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্ত। তাই বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশন হতে দূরে থাকতে সর্বপ্রথম আপনার ঘুমকে নিয়ন্ত্রন করুন।

 

নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করুন

 

জীবন মানেই সংগ্রাম। জীবনের প্রতিটি পদে পদে সংগ্রাম করেই বেঁচে থাকতে হয়। একজন ব্যক্তি তার স্বপ্ন পূরণে বা লক্ষ্যে পোঁছাতেই সংগ্রাম করে থাকে। বিশাল জলসমুদ্রে একটি পালহীন নৌকার যেমন দিশেহারা হয়ে যায় ঠিক তেমনি লক্ষ্যহীন মানুষ তার জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না। লক্ষ্যহীন জীবন যখন পালহীন নৌকার মতো দিশেহারা হয়ে যায় তখনই একজন ব্যক্তি প্রচন্ড রকমভাবে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকে।

 

তাই জীবনটাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করুন এবং প্রতিদিন সেই লক্ষ্যে পোঁছাতে কাজ করুন। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আপনার প্রতিটা দিন সুন্দরভাবে পরিচালনা করার শক্তি সঞ্চয় করবে, ফলে বিষণ্ণতাও আপনাকে ঘিরে ধরতে পারবে না কখনোই।

 

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করুন

 

‘খাদ্য গ্রহন’ আমাদের জীবনের অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বেঁচে থাকার সর্বপ্রথম শর্ত হলো- খাবার গ্রহন করতে হবে। তবে খাবার গ্রহন যদি হয় অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর তাহলে তা আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে যা আমাদেরকে বিষণ্ণতায় ভুগিয়ে থাকে।

 

“সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল”

 

তাই বিষণ্ণতা হতে দূরে থাকতে আমাদেরকে প্রতিদিনই স্বাস্থ্যকর ও রুচিসম্মত খাবার গ্রহন করা উচিত। বিশেষত তরল ‘ভিটামিন ডি’ ও ‘ভিটামিন বি12’ গ্রহন করুন। সেইসাথে ভিটামিন কে 2, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনগুলো আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং ক্যাফেইন জাতীয় খাবার ও অ্যালকোহল হতে যথাসম্ভব দূরে থাকুন।

 

নিয়মিত মেডিটেশন করুন

 

নিজেদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য আমরা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে থাকি। যেমন- খেলা-খুলা, শারীরিক ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করা। তবে  এসবের পাশাপাশি ‘মেডিটেশন’ শারীরিক ও মানসিক সুস্থ্যতা বজায় রেখে বিষণ্ণতা হতে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মেডিটেশন হলো এমন একটি ব্যায়াম যা আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়াদি দূর করে বিষণ্ণতা হতে মুক্তি ও নিঁখুতভাবে মস্তিষ্কের কার্যসাধন করে থাকে।

 

বিষণ্ণতাকে দূরে রাখার অন্যতম একটি উপায় হলো ‘মেডিটেশন’। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রোফেসর Willem Kuyken এর মতে, বিষণ্ণতায় আক্রান্ত মানুষেরক্ষেত্রে মেডিটেশন ‘Anti-Depression’ ঔষধের মতো কাজ করে থাকে। এবং নিয়মিত মেডিটেশন করা একজন ব্যক্তির বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ৩১% কমে যায়। অতএব, ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা হতে নিজেকে মুক্ত রাখতে আপনার প্রতিদিনের ১৫-২০ মিনিটের মেডিটেশন হতে পারে অন্যতম সেরা একটি মাধ্যম।

 

ব্যর্থতা ও সফলতাসমূহ নোট করুন

 

জীবন যুদ্ধের পথচলায় ‘ব্যর্থতা-সফলতা’ একটি চক্রাকার বৃত্ত যা বারবার প্রতিটি মানুষের কাছে ফিরে আসে। তাই কোনো কাজে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। ব্যর্থতার পর সফলতা আসবেই। ব্যর্থতাগুলো সমাধান না করে সেগুলো নিয়ে যতো ভাববেন আপনি সফলতা হতে ততই পিছিয়ে পরবেন। একটা সময় পিঠ দেওয়ালে গিয়ে ঠেকবে। আর তখনই বিষণ্ণতা ঘিরে ধরবে চারপাশ হতে।

 

ব্যর্থতা অথবা সফলতা, মনের কথাগুলো প্রতিদিন লেখার অভ্যাস করুন। প্রতিদিনের ব্যর্থতাসমূহের লিস্ট করুন, ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠা বা কীভাবে মোকাবিলা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে  সেটাও লিখে রাখুন। এতে করে তাৎক্ষনিক সমাধান পেয়ে যাবেন এবং পরবর্তীতে একই সমস্যার সম্মুখীন হলে সেই সমস্যার সমাধানও করতে পারবেন খুব সহজে। এবং প্রতিদিনর সফলতাগুলোও আপনার মনে প্রশান্তি জোগাবে আর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ব্যর্থতাসমূহের দ্রুত ও সঠিক সমাধান এবং সফলতার অনন্য মিশেলে বিষণ্ণতা রবে ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে।

 

আপনজন ও বন্ধুদের সময় দিন

 

নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদেরই বিষণ্ণতা সবচেয়ে বেশি আকঁড়ে ধরে। সাধারণত আমরা যখন একা থাকি ঠিক তখনই আমাদের অতীতের যত কষ্ট-বেদনা ও ব্যর্থতাসমূহ মনে পড়ে যায়। নিজেকে তখন মূল্যহীন মনে হয়। জীবনের প্রতি কোনো ভালোবাসা থাকে না। তখন একজন মানুষ আত্মহত্যার মতো জঘন্য সিদ্ধান্ত নিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। যা জীবনের সবচেয়ের বড় ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।

 

“Getting better from depression demands a lifelong commitment. I’ve made that commitment for my life’s sake and for the sake of those who love me.” ~Susan Polis Schutz 

 

আপনাকে ভালোবাসার মতো অনেক মানুষ রয়েছে। বিশেষ করে আপনার পরিবারের মানুষগুলো। নিজের খারাপ সময়গুলোতে তাদের সাথে সঙ্গ দিন। তাদের মতো করে আর কেউ বুঝবেনা আপনাকে। এমনকি মন খারাপের সময়গুলোতে আপনার ভালো বন্ধুগুলোর সাথেও সময় কাটাতে পারেন। কিছু বন্ধু থাকে, যাদের সাথে সময় কাটালে মনটা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তাদেরকে ভালোবাসুন, দেখবেন তারাও আপনাকে বড্ড বেশি ভালোবেসে কাছে টেনে নিবে। আর ভালোবাসার মাঝে বিষণ্ণতা কখনোই ভাগ বসাতে পারে না।

 

সবসময় হাসিখুশি ও উৎফুল্ল থাকা

 

অল্প কিছুতেই কারো প্রতি মন খারাপ করে থাকা বর্তমানে আমাদের একটি ফ্যাশনে পরিনত হয়ে গেছে। মূলত ‘ইগোর’ কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। এছাড়াও হতাশা, ব্যর্থতা ও মনোমালিন্য অথবা অন্য কোনো কারণেও অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে রাখে। হাসতে ভুলে যায়, মনের উৎফুল্লতা হারিয়ে যায় অজানায়। এভাবে ধীরে ধীরে একজন ব্যক্তি বিষণ্ণতায় নিমজ্জিত হতে থাকে।

 

মন হচ্ছে মানুষের প্রধান চালিকা শক্তি। তাই মনকে সবসময় উৎফুল্লা রাখবেন। কেননা মনের উৎফুল্লতা আপনাকে সবসময় চাঙ্গা রাখবে। হাসি-খুশি ও উৎফুল্লতা ধীরে ধীরে আপনার জীবন হতে হতাশা ও একঘেয়ামী হতে মুক্ত দিবে। আর হ্যাঁ, শুধুই মুচকি হাসি নয়! অনুকূল অথবা প্রতিকূল, প্রতিনিয়ত প্রাণ ভরে হাসার চেষ্টা করবেন যদিও তা সব মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। তারপরও বিষণ্নতাকে দূরে সরাতে প্রাণ ভরে হাসবেন, যা আপনার স্ট্রেস হরমোনের রিলিজ কমে গিয়ে এন্ড্রোফিন রিলিজ বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

“Sometimes your joy is the source of your smile, but sometimes your smile can be the source of your joy.” ~Thich Nhat Hanh

 

ডাক্তারের পরামর্শ নিন

 

আমরা সাধারণত আমাদের অঙ্গীয় সমস্যাবলী সম্পর্কে যতটা সচেতন ঠিক ততটাই অসচেতন আমাদের মানসিক সমস্যাসমূহের প্রতি। মানসিক সমস্যা সমাধানে আমরা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার নূন্যতম গুরুত্বটুকুও দেই না। এমনকি আমরা আমাদের মানসিক সমস্যাসমূহ কারোও কাছে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করি না। কারণ আমাদের সমাজে মানসিক রোগী বলতে আমরা শুধু ‘পাগল’ই বুঝে থাকি। অথচ বর্তমান সময়ে আত্মহননের প্রধান কারণই এই ‘মানসিক ব্যাধি’, বিশেষত ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা।

 

‘ডিপ্রেশন’ বা ‘বিষণ্নতা’ মানসিক ব্যাধিসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আমরা বিষণ্ণতায় ভুগে থাকি। সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না করে আরো হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। ধীরে ধীরে ‘বিষণ্ণতা’ আমাদের ভেতর মারাত্মক ব্যাধী হিসেবে ধারণ করে যা ব্যক্তিকে একটা সময় আত্মহনের দিকে ধাবিত করে। সম্প্রতি ‘বিষণ্ণতা’ ব্যাধিটি এদেশের তরুন-তরুনীদের মাঝে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, বাড়ছে আত্মহননের সংখ্যাও। তাই বিষণ্নতায় ভুগলে এটাকে অবহেলা না করে একজন সাইক্রাটিস্টের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত। একজন সাইক্রাটিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে সহজেই এই মারাত্মক ব্যাধী হতে রক্ষা পাওয়া যায়। এবং নিজেদের মাঝেও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন

 

বর্তমানে সময়ের এই যান্ত্রিক জীবন পরিচালানায় আমরা নিজেরাও যেন একটি যন্ত্রে পরিণত হতে চলছি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হাতের কাছেই পেয়ে যাচ্ছি সব, অলসতা আকঁড়ে ধরে বসেছে আমাদের। শুধু তাই নয়, অলসভাবে কাটানো সময়টুকুও যেন আমরা বিভিন্ন অহেতুক কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখছি। যা আমাদের সামান্য ব্যর্থতাতেই প্রচন্ডরকমভাবে বিষণ্ণতায় ভুগিয়ে থাকে। তখন জীবনটা আমাদের কাছে হয়ে পরে দুর্বিষহ সাথে একঘেয়ামিতা আকঁড়ে ধরে ভীষণভাবে। 

 

ব্যস্ততম শহরের জীবনযাত্রায় হতাশা, অলসতা ও ব্যর্থতার আদলে আকঁড়ে ধরা বিষণ্ণতা হতে দূরে থাকতে কিছু সময়ের জন্য ইট-পাথরের এই যান্ত্রিক শহর হতে কিছুটা দূরে কোথায় প্রাকৃতির সান্নিধ্যে চলে যান। প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, প্রকৃতিও আপনাকে ভালোবেসে তার অপরূপ মহিমায় সাজিয়ে তুলবে আপনাকে।

 

“Study nature, love nature, stay close to nature. It will never fail you.”~ Frank Lloyd Wright

 

প্রার্থনা করুন

 

‘ধর্ম’ আমাদের জীবনে সর্বোৎকৃষ্ট একটি জিনিস। প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই তার নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধের সহিত জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করে থাকে। প্রত্যেকটি মানুষই তার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দৃঢ় বিশ্বাস করে থাকে যে, সকল বিপদ-আপদ হতে রক্ষা করার মালিক একমাত্র আমাদের সৃষ্টিকর্তা এবং এই বিশ্বাসটুকু প্রতিটি মানুষের মাঝে থাকা উচিত, যা হতাশাগ্রস্ত একজন মানুষকে হতাশামুক্ত হতে সাহায্য করে। যেহেতু আমরা এটাও বিশ্বাস করে থাকি যে, ‘সৃষ্টি যা করেন তা আমাদের ভালোর জন্যই করেন’।

 

মূলত প্রার্থনা হলো সৃষ্টিকর্তার সাথে যোগাযোগ করার অন্যতম মাধ্যম। শত প্রতিকূল পরিবেশেও সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করলে হতাশা হতে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। University of Mannmeim এর জার্মান মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন যে, ‘প্রার্থনা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে’। এমনি প্রার্থনা আপনার মনের স্থিরতা, মানব মনের সতেজতা ও শক্তি বহাল রাখে। তাই, আপনি যে ধর্মালম্বীর অনুসারীই হোন না কেন; নিয়মিত প্রার্থনা আপনাকে বিষণ্ণতা হতে দূরে রাখবে।

 

মোটকথা, বিষণ্নতাকে দূরে সরিয়ে জীবনকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হলে আপনাকে প্রতিনিয়ত নিজের কাজগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তবেই আপনি সব বাঁধা-বিপত্তিসমূহকে দূরে সরিয়ে একজন সুখী মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারবেন জীবনাবসান অবধি।

Psychology

কীভাবে মোকাবিলা করবেন মানসিক চাপ

Published

on

দিন যতোই যাচ্ছে আমাদের ব্যস্ততা ততোই বেড়ে চলেছে। অবসরের যেন কোনো ফুরসতই নেই! সময়ের সাথে পাল্লা দিতে হলে এমন ব্যস্ততা থাকবেই এবং সেইসাথে বাস্তবতাকেও মেনে নিতে হবে। কিন্তু ব্যস্ততার সাথে সাথে আমাদের মানসিক চাপও বাড়ে। আমরা অনেকেই এটাকে সহজে মেনে নিতে পারিনা যার ফলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হই এবং কোনো কিছুই ঠিকমতো হয়ে উঠেনা। তাই বলাই বাহুল্য, শারীরিক সুস্থতায় মানসিক সুস্থতাও অনেকাংশে জড়িত। সেজন্যই মানসিকভাবে ভালো থাকতে হলে নানান কাজের মাঝেও থাকতে হবে চাপমুক্ত। তাহলে চলুন চাপমুক্ত থাকার কিছু উপায় জানা যাক:

 

টু-ডু লিস্টের ব্যবহার

প্রতিদিন আমরা কেমন যেন ম্যারাথন দৌড়ের মধ্যে আছি। ঘুম থেকে উঠেই নিজ নিজ কর্মব্যস্ততায় আটকে থাকি এবং দিনশেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে যদি এমন কাজের মধ্যেই ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে আগেরদিন রাতের বেলায় একটা কাজের লিস্ট করতে হবে। সেই লিস্টে তারপরের দিন কী কী কাজ করতে হবে তার একটা তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকাটিকে ’টু ডু লিস্ট’ বলে। আগের রাতে যদি এটা তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে সকালে উঠে প্রথমেই এই লিস্টটি বানিয়ে নিতে হবে। এ লিস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সবার প্রথমে রাখতে হবে। এভাবেই কাজের গুরুত্ব বিচার করে একটার পর একটা কাজ সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে কাজের পাশে নির্দিষ্ট সময়সীমা লিখে রাখতে পারলে ভালো হয়। এভাবে তালিকা তৈরি করলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো করা হয়ে যাবে। ফলে মানসিক চাপও কমবে এবং সময় না পেলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি না করলেও অতোটা সমস্যা হবেনা।

 

নিখুঁত হওয়া বন্ধ করুন

যারা সব সময় সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করে, তারা সুখী হতে পারে না। সব সময়ই একটা চাপের মধ্যে থাকে। তারা যে কাজে যায়, সে কাজেই খুঁতখুঁতে ভাব তৈরি হয়। তাই সব কাজে নিখুঁত হওয়ার চিন্তাভাবনা থেকে আজই বেরিয়ে আসুন। যে কাজটি করবেন সে কাজে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করুন। আকাশ কুসুম কল্পনা করবেন না। আত্মসমালোচনা  করুন এবং নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে কাজে লাগান। তাহলে এক সময় নিজেই অবাক হবেন কতোটা স্বাধীনভাবে আপনি আপনার কাজগুলো করতে পারছেন। তখন যেমন আনন্দ লাগবে, তেমনি অযথা চাপ থেকেও মুক্তি পাবেন।

 

দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলুন

মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষ, সহকর্মী বা বন্ধুর সাথে ঝগড়া অথবা মনোমালিন্য হওয়া। চাপমুক্ত থাকতে হলে যথাসম্ভব দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। কারোর সাথে কোনো রকম ঝামেলা হলে তার সাথে নিজ থেকে সুন্দরভাবে কথা বলার মাধ্যমে তা সমাধান করুন। অনেকেই সুন্দরভাবে কথা না বলে উল্টো ইগো নিয়ে চুপচাপ থাকেন। কিন্তু এতে করে কেউ শান্তি পায় না বরং মানসিক চাপটাও আরো বেড়ে যায়।

 

প্রয়োজনে ‘না’ বলুন

প্রয়োজনের সময় ’না’ বলতে জানাটা একটা আর্ট। আমরা অনেকেই অন্যকে খুশি করার জন্য ‘না’ বলতে পারিনা। ফলে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিপত্তিতে পড়ি। তাই প্রয়োজনের সময় ‘না’ বলতে শিখতে হবে। এমনকি আপনার বসও যদি আপনাকে অযথা বেশি কাজ চাপিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রেও না বলাটা শিখতে হবে। কেননা অযৌক্তিকভাবে বেশি কাজ করতে গেলে আপনি মানসিক চাপে থাকবেন ফলে কাজটা সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে না। তাই যথাসময়ে ‘না’ বলতে শিখুন।

 

গড়িমসি থেকে বিরত থাকুন

অলসতার কারণে আমরা অনেকেই কাজের ক্ষেত্রে গড়িমসি করি। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখি। অথচ আমরা ভুলে যাই যে, আগামীকালের জন্যও আমার কাজ বরাদ্দ রয়েছে। তাই আজকের কাজ আজই করতে হবে। গড়িমসি এবং অলসতাকে জীবন থেকে যতো তাড়াতাড়ি মুছে ফেলতে পারবেন, আপনার ভালো থাকার সময়গুলো ততোই বাড়বে। তাই আর নয় গড়িমসি, কাজের সময় কাজ সম্পন্ন করুন আর থাকুন চাপমুক্ত ।

 

নিজের জন্য ছুটি নিন

প্রতিদিন অজস্র কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন? তাহলে কিছুদিন পরপর ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিন। কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। খুব বেশি দূরে যেতে না পারলেও আপনার বাড়ির আশেপাশে অবকাশ যাপনের কিংবা দর্শনীয় বিভিন্ন জায়গা আছে সেখান থেকে ঘুরে আসুন। এতে করে চাপ অনেক কমে যাবে। আবার নতুন উদ্যমে কাজও শুরু করতে পারবেন। যদি কর্মব্যস্ততার মাঝে ছুটি নাও পান তবুও হতাশ হবেন না, প্রতিদিন নিজের জন্য অল্প কিছু সময় বের করুন- যে সময়টা শুধুমাত্র আপনার উপভোগ করার জন্যই কাটাবেন। নিজের পছন্দের কোনো বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা ভালো লাগার যেকোনো কাজ করতে পারেন। এতে করে যেমন আপনার মন সতেজ থাকবে, তেমনি হবেন চাপমুক্ত।

 

নিয়ম মাফিক চলাফেরা

সুস্থ এবং চাপমুক্ত থাকতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের এবং পরিমিত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বলা যেতে পারে- স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, চাপমুক্ত জীবন চালান। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ও ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং অবশ্যই গড়ে ৭-৯ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। কেননা, ঘুম আমাদের জীবনের অন্যতম বড় অনুষঙ্গ। পরিমিত ঘুম না হলে আমাদের মন ও দেহঘড়ি কোনোটাই ঠিকমতো কাজ করবে না। আর ঘুম কম হলে আমাদের মস্তিষ্কও কম কাজ করে। তাই সবসময় ব্যালেন্সড ডায়েট মেইন্টেইন করার পাশাপাশি চাপমুক্ত থাকতে ঘুমও বেশ বিবেচ্য বিষয়।

 

শখের সাথে সখ্য

প্রত্যেক মানুষেরই কিছু শখ থাকে। আর সে শখের কাজ স্বেচ্ছায় করে আনন্দ লাভ করে। কোনো আর্থিক লাভ না আসলেও শখের কাজটি করে থাকে। এখন আপনি যদি মনে করেন যে আপনার কোনো শখ নেই, তাহলে আজই শখ আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। যে ভালো কাজটি করলে আপনাকে কেউ টাকা কিংবা বাহবা দিবেনা কিন্তু আপনি মন থেকে ভালোবেসে করবেন- এমন কোনো কাজই হতে পারে আপনার শখ। শখের কাজ চাপ কমায়। তাই চাপমুক্ত থাকতে হলে আজই শখের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন।

 

ভালোবাসুন নিজেকে

নিজেকে সঠিকভাবে ভালোবাসতে জানা মস্ত বড় একটা আর্ট। তাই এই আর্ট রপ্ত করুন। আপনি নিজেই যদি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে অন্যরা আপনাকে কীভাবে ভালোবাসবে? তাই নানা কাজের মাঝে শত ব্যস্ত থাকলেও নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের আবেগ, অনুভূতিকে ভালোবাসুন। নিজের পরিবর্তন এবং ব্যর্থতাকে ভালোবাসতে শিখুন। সেই সাথে অভ্যাস গড়ে তুলুন নিয়মিত প্রার্থনার এবং মেডিটেশনের, কেননা- ‘প্রার্থনায় আয়ু বাড়ে’। তাই প্রার্থনা ও মেডিটেশন করলে আপনার শরীর-মন দুটোই সতেজ ও প্রফুল্ল থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে।

সবশেষে সদয় হোন নিজের প্রতি। গুটিয়ে নয়, চুটিয়ে বাঁচুন। নিজের স্বার্থেই নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাই আর দেরি না করে উপরের উপায়গুলোকে কাজে লাগানো শুরু করুন এবং উপভোগ করুন মানসিক চাপমুক্ত সুন্দর একটি জীবন!

Continue Reading

Psychology

ফেসবুক যেভাবে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ

Published

on

অভ্র ভেবেছে আজ সে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে। কিন্তু কিছুক্ষণ পড়েই সে ভাবলো, এখন একটু বিরতি নেওয়া দরকার, অনেকতো পড়েছি। তাই, ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে সে আবার পড়া শুরু করবে। ব্যস! বিরতির অজুহাতে সে চলে গেলো ফেসবুকের দুনিয়ায়। ওমা! কখন যে সময় ফুঁড়িয়ে মিনিটকে পিছনে ফেলে ঘন্টার কাটাকে ছুঁয়ে ফেলেছে, সে বিন্দুমাত্র টের পায়নি। আর এই গল্পটি শুধু অভ্রের নয়। আমার-আপনার মতো অনেকেরই প্রত্যেহ গল্পের একাংশ বলা চলে। আর  এভাবেই কাজের ফাঁকে, ট্রাফিক জ্যামে বা যেকোনো অবসরেই আমরা ফোনের টুং-টাং নোটিফিকেশনে সঙ্গী করে নেই ফেসবুককে।

লাইক, কমেন্ট, স্ট্যাটাস, শেয়ার এই শব্দ পুঞ্জিমালার প্রতি আকৃষ্ট নেই এমন ব্যক্তির সংখ্যা বর্তমান যুগে কমই মেলে। কারণ, আমরা মানসিক প্রশান্তি বা অবসরে বিনোদনের খোঁজেই হয়ে পড়ি ফেসবুকের নীল আকাশের সাদা গাঙচিল। কিন্তু, আমরা অনেকেই হয়তো জানি না ক্ষণিকের এই বিনোদন জগৎ আমাদের ‘মানসিক বিষণ্ণতার’ একটি উৎস। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, ফেসবুক কীভাবে আবার মানসিক বিষণ্ণতার কারণ হয়? ব্যাপারটা কিন্তু আসলেই তাই। তবে না হয় আপনি নিজেই দেখে নিন ফেসবুক যেভাবে হয়ে ওঠে মানসিক বিষণ্ণতার কারণ:

 

ফেসবুক

উল্কার বেগে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। তার পেছনে কারণেরও শেষ নেই। যেমন:  সুদূর বিদেশে আপনার কোনো আত্মীয় বা স্কুল বদলের কারণে হারিয়ে ফেলা কোনো বন্ধু এবং জানাশোনা পরিচিতজনদের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে নিমিষেই। পোস্টকার্ডের আর কোনো খরচের দরকার হয় না। সেই বিদেশি আত্মীয়ের মেয়ে সকালে কী খেয়েছে বা সেই পুরানো বন্ধুর কুকুরটা নতুন কী কাণ্ড করল – একটি ক্লিকেই সব জানা যাচ্ছে।

আপনি লক্ষ্য করলেই দেখবেন আপনার পরিবারের ছোট্ট সদস্যটিও কিছুটা হলেও ফেসবুকের প্রতি আসক্ত। আর এভাবেই ফেসবুক জনপ্রিয়তায় আমরাও ফেসবুক আসক্ত হয়ে পড়ছি। তবে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের সুবিধা-উপকারের মতোই এক্ষেত্রেও দিতে হয় কিছু অদৃশ্য মানসিক মূল্য। একটি বিষদ গবেষণায় দেখা গেছে, খুব বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা আর বিচার ক্ষমতা সময়ের সাথে সাথে কমে যায়। শুধু তাই নয়, এর সাথে আরো কিছু মানসিক সমস্যাতো রয়েছেই।

 

ফেসবুক আসক্তি

চা, সিগারেট, মদ সমাজের মানুষের অন্যতম আসক্তি হিসেবে ধরা হলেও সম্প্রতি DSM-V (Diagnostic and Statistical Manual) বিতর্কিত এক নতুন আসক্তি তালিকায় যুক্ত হয়েছে- ‘ইন্টারনেট আসক্তি’। এর মধ্যে ফেসবুক আসক্তি মিডিয়া নিউজের কল্যাণে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গবেষক হফম্যান এবং তার সহকর্মীরা বাছাইহীনভাবে অনেককে ম্যাসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কোনটি ছাড়া একদিনও চলবে না?’ দেখা গেছে, সিগারেট বা কোনো মাদকদ্রব্যের চেয়ে যে উত্তরটি বেশি এসেছে তা হলো, ‘সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক’। আর এই অতিরিক্ত আসক্তির ফলে দেখা দেয় নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো। তাই নিজেকে লক্ষ্য করুন আর মিলিয়ে নিন উপসর্গগুলো। যদি আপনার সাথে মিলে যায়, তাহলে দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি আপনিও ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার (Facebook Addiction Disorder) বা “ ফেসবুক আসক্তি সংকটে”– আসক্ত হয়ে পড়েছেন। যেমন:

 

১। বিষণ্ণতা

২। অস্থিরতা

৩। নিজেকে হীনমন্য মনে করা

৪। চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাওয়া

৫। অল্পতে ভয় পাওয়া

৬। অল্পতে রেগে যাওয়া

৭। অহেতুক সন্দেহ করা

৮। ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় পরিবর্তন আসা

৯। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা, ইত্যাদি।

এছাড়াও মন খারাপ হলে অনেকে ফেসবুকে গিয়ে সুখ খোঁজেন। কিন্তু অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার করলে সুখ পাওয়া যায় না বরং বাড়ে আরো দুঃখ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহারে দুঃখ যেমন বাড়ে, তেমনি এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা, ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ নিয়ে গবেষণা করেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ২০৮ জনের ওপর ফেসবুক ব্যবহারের ধরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। যে দিকগুলো আরো বেশি প্রভাব ফেলছে তা হলো: 

 

আমার জীবন অন্যদের মতো ভাল নয়

সমাজ বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক লিওন ফেস্টিঞ্জার  দেখেছেন, সহজাতভাবেই অন্যের সাথে সামাজিক অবস্থানের তুলনার ঝোঁক রয়েছে মানুষের মধ্যে। ‘আমার গড়পড়তা অন্য সবার চেয়ে ভাল না খারাপ?’ – এই প্রশ্নের উত্তরে দেখা গেছে মানুষ নিজেদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা শুরু করে দিচ্ছে। আর বিনা পরিশ্রমে এই তুলনার ভালো একটি  মাধ্যম ফেসবুক।

ফেসবুক নিউজফিডেই দেখা মেলে কোনো বন্ধুর বড় কোনো রেস্তোরাতে খাবার ছবি বা হয়তো পেশাগত পদক পাওয়ার ছবি বা চাকরিতে পদোন্নতি। নয়তো, নতুন গাড়ি কেনার খবর বা সেন্টমার্টিন অথবা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার খবর। মোবাইলের ঝলমলে স্ক্রিনে এসব দেখতে দেখতে তখন মনে হয় সবাই হয়তো ভালোভাবে জীবন পার করছে। আমার প্রতিই ভাগ্য এতোটা নিষ্ঠুর। ওরা এতো ভালো অবস্থানে আছে, এতো জায়গাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর ‘আমি’ কিছুই করতে পারছি না! এভাবেই মনের অজান্তে দীর্ঘদিন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা গড়ে ওঠে। আর তখনই মনের গহীনে শুরু হয় বিষণ্ণতা-হতাশার আনাগোনা।

 

সঙ্গীর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতা

আমরা অনেক সময় বলে থাকি, ভালোবাসায় সবকিছুর মাঝে একটু ‘জেলাসি’ তো থাকবেই। আর এই একটু একটু থেকেই যখন বড় আকারে রূপ নেয় ঠিক তখনই দেখা দেয় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য। অতঃপর আরকি! শুরু হয় মানসিক বিষণ্ণতা। আবার, সঙ্গীর স্ট্যাটাস বা ছবিতে তার কোনো প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা বিপরীত লিঙ্গের অন্য কেউ মাঝে মাঝেই লাইক বা লাভ রিয়েক্ট দিচ্ছে বা কমেন্ট করছে। তার সঙ্গীও হয়তো আন্তরিকভাবেই প্রতিউত্তর করছে বা কারো সাথে বেশি যোগাযোগ করছে। এই বিষয়গুলো যে কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীর মনে তার সঙ্গীর জন্য ঈর্ষাপরায়ণতার সৃষ্টি করে দিতে পারে। ‘ফেসবুক এন্ড ইওর ম্যারিজ’ এর লেখিকা ক্রাফস্কি  বলেন, দাম্পত্য জীবন বা প্রেমঘটিত সম্পর্কের অনেক সমস্যাই আজকাল কারণ হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকে বলা যায়।  

 

ব্যক্তিজীবনের অপ্রয়োজনীয় কিছু কার্যক্রম

বন্ধুদের সাথে চায়ের আড্ডা, পারিবারিক আড্ডা, বা হোক না সারাদিনের কর্ম-ব্যস্ততার পরে আপনার প্রিয় মানুষটির যখন প্রয়োজন ‘আপনাকে’; ঠিক সেই মুহূর্তগুলোতে আমরা অনেকেই পড়ে থাকি সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে। আর এভাবেই আমরা নষ্ট করে ফেলি আমাদের ভালো কিছু মূহুর্ত এবং সম্পর্ক। আবার অনেক ক্ষেত্রে, কোনো সম্পর্কের শেষ পরিণতি ঘটে একজন অপরজনের ব্লকের তালিকায়। পরক্ষণেই হাজারো প্রশ্নের সমাহারে, মানসিক উদগ্রীবতায় অনেকেই শরণাপন্ন হয়ে পড়ি ফেক-আইডির। আর এভাবেই শুধু শুধু বাড়ে মানসিক অশান্তি।  শুধু তাই নয় দেখা গেছে, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকা বা স্বামী বা স্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলার চেয়ে ফেসবুকে মাঝে মাঝে তার ওয়ালে যাওয়া, কারো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর।

এভাবে যতো যাই বলা হোক না কেন বর্তমানে আমরা কেউ পারবো না প্রযুক্তির একটি উদ্ভাবনকে এড়িয়ে জীবন চালাতে। তাই ফেসবুকও ব্যবহার করতে হবে, তবে সেটা পর্যাপ্ত পরিমাণে। যেমন ধরুন, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি কম খাওয়াও। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বাস্তবতায় হয়ে পড়ছি অসামাজিক। তাই বিষণ্ণতা বা অবসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নয়, সময় দিন আপনার সামাজিক জীবনে আর গড়ে তুলুন বিষণ্ণতামুক্ত সুন্দর একটি জীবন।  

Continue Reading

Psychology

পড়ার চাপ? জেনে নিন এই মানসিক চাপ কমানোর উপায়

Published

on

পড়া কদ্দুর?

 

-ধুররররররর, কিচ্ছু মনে নাই। একদিক দিয়ে পড়ি, আরেকদিক দিয়ে ভুলে যাই। তোর কি অবস্থা?

 

-কি যে একটা অবস্থা আর বলিস না। টেবিলে বসে আছিই তো আছি, পড়া আগানোর বদলে পিছায়।

 

এইচএসসি পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর এই কথোপকথনের সাথে কোথাও কী নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন? কোথাও কী মনে হচ্ছে এই গল্পটা আপনার? ভুল ভাবছেন; গল্পটা আপনার একার নয়, আমাদের সবার। পরীক্ষার দুয়েকদিন আগে এই ধরণের পরিস্থিতির শিকার আমাদের সবাইকে হতে হয়। যে যত ভালো স্টুডেন্টই হোক না কেন, যতোই সবকিছু কয়েকবার করে রিভাইস করা থাকুক, একেবারে ঠোঁটস্থ মুখস্থও যদি থাকে পরীক্ষার আগে সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। বার বার পড়া জিনিস দেখলেও মনে হয় ‘আরে, এইটাও আছে নাকি সিলেবাসে?’ পরীক্ষা ভীতি মস্তিষ্ক থেকেই তৈরি হয় মানসিক চাপ, আর ফলাফল হিসেবে- ‘ভুলে যাই’, ‘ঘুম আসে না’, ‘ক্ষুধা নাই’, ‘ভাল্লাগেনা’র মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

আজকে তাহলে পরীক্ষার আগের এই চাপ কমানোর উপায়গুলো একটু জেনে নিই-

 

পর্যাপ্ত ঘুম

 

পরীক্ষার টেনশনে ঘুম না হওয়াটা আজকালকার ট্রেন্ড বলা চলে। যেন, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি ফেললেই পাশ নিশ্চিত। কিন্তু এই সময় পর্যাপ্ত ঘুম যে কত জরুরি তা বলে বোঝানো যাবে না। পরীক্ষার আগের দিন রাত জেগে পড়লে পড়া কতটুকু আগাবে তা আমি জানি না, সেই প্রশ্ন পরীক্ষায় আসবেই এমন নিশ্চয়তাও আপনাকে কেউ দিতে পারবে না। তবে ছয় থেকে আট ঘন্টার নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম যে আপনার নরমাল ব্রেইন ফাংশন বজায় রাখতে খুবই দরকার এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আমারই এক বন্ধু পরীক্ষা এলেই যেন অনিদ্রা রোগে পেয়ে বসে। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকেই সেই ছেলের ঘুমটুম সব যে কোথায় পালায় কে জানে! এই সমস্যার বেশ বড়সড় একটা ইংরেজি নামও আছে, Pre exam anxiety syndrome. আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, হলে বসে ঘুমিয়ে পড়তে! তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম যেন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।  

 

পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার খান

 

মা যতই খাবারের থালা নিয়ে আপনার পিছনে দৌড়াক, পরীক্ষার সময় একটু-আধটু অনিয়ম হয়েই যায়। এমনিতেই পরীক্ষা সংক্রান্ত স্ট্রেসের কারণে এনজাইম সিক্রেশন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অনেকেরই পরীক্ষার আগে বা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পেটে গোলমাল দেখা যায়। এসময় তেল মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে প্রচুর পানি পান করুন, ফল খান, আর সহজে হজম হয় এমন কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ এই অজুহাতে তেল-ঝোলঅলা খাবারের দিকে একদম হাত বাড়াবেন না, একদমই না। তা সে ফুসকা, চটপটিই হোক কিংবা ডমিনো’স এর পিজ্জা। পরীক্ষার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এইসব খাদ্য থেকে দূরে থাকা উচিত।

 

একবার চোখ বুলিয়ে যান শুধু

 

অনেকেরই অভ্যাস থাকে, পরীক্ষার আগের দিন সবটা রিভাইস দেয়ার। যদি আপনারো তেমন অভ্যাস থাকে, তবে সেই অভ্যাস বদলে ফেলার জন্য আমি বলবো না। তবে আমার মনে হয়, সবটা মাথায় ঢুকানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে শুধু ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট এবং সব চ্যাপ্টারের হাইলাইটস দেখে নেওয়াটাই ভালো হবে। এজন্য নিয়মিত পড়ার সময়ই নোট করে রাখুন বা বইয়ে দাগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্ট মার্ক করে রাখতে পারেন। যাতে পরীক্ষার সময় শুধু সেইটুকুতে চোখ বুলিয়েই আপনি পুরো বিষয়ে একটা সম্যক ধারণা পান। পরীক্ষার দু’একদিন আগে নতুন কিছু পড়ার চেষ্টা করলে তাতে লাভ তো হবেই না বরং যা পারেন, যতটুকু পারেন, সেটুকুও ভুলে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেবে। অনেক সময়, পরীক্ষার হলে রেসিডুয়াল নলেজ দিয়েই কাজ চালাতে হয়। শুধু চোখ বুলিয়ে যান, সবটা একবার দেখে যান, তাতেই হবে।

 

অন্যের সাথে তুলনা

 

‘তোর রিভাইস দেয়া শেষ? আমার তো এখনো অনেক পড়া বাকি!’

 

নিজের পড়া না হলে চিন্তা হয় ঠিকই, তবে বন্ধু-বান্ধবের পড়া শেষ এই খবর শুনলে ব্রেইনে শর্ট-সার্কিট হয়না এমন শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সবচেয়ে ভালো হয়, যদি পরীক্ষার আগে অন্যের সাথে তুলনা দেয়ার এই কাজটা না করেন। অন্যের পড়ার বৃত্তান্ত শুনলে আপনার পড়া একটুও আগাবে না, বরং পিছিয়ে যেতে পারে। তাই কারো সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করবেন না। নিজের নিয়মে, নিজের রুটিনে পড়ে যান। অনেকে আবার হলে ঢুকার আগে ‘এটা পড়েছিস? ওটা কোথা থেকে পড়লি? এটাও পড়তে হবে? কই আগে বলিস নি তো!’ এই ধরণের কথাবার্তায় জড়িয়ে যান। ফলাফল? প্রশ্ন হাতে পাবার আগেই এমনকি হলে ঢুকার আগেই আপনার কনফিডেন্স লেভেল একেবারে তলানিতে।

 

যা করতে ভাল লাগে তাই করুন

 

এমনটা হতেই পারে যে, হঠাৎ আপনার মোটেও পড়ার মুড নেই। কিন্তু আপনি চেষ্টা করছেন নিজেকে চেয়ার টেবিলে আটকে রাখতে। কী মনে হয়, এতে লাভ হয় কোনো? নাকি বসে থাকাই ব্যস?

 

প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মেথড থাকে রিলাক্স করার। কেউ গান শুনতে ভালোবাসে, কেউ টিভি দেখতে, কেউবা পড়ার ফাঁকে এক পাক নেচে নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে পড়তে বসেন। যেটাই হোক, যা করতে আপনার ভালো লাগে কিছুটা সময় যদি সেভাবে রিলাক্স করে নেন তাতে আপনার সময় নষ্ট হবে না, বরং দ্বিগুণ গতিতে পড়া আগাবে আমি আপনাকে লিখে দিতে পারি।

 

গোছগাছ যা করার আগের রাতেই করে রাখুন

 

পরীক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছু আগেই গুছিয়ে রাখুন। কলম, পেন্সিল, রাবার, শার্পনার, জ্যামিতি বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব রাতেই গুছিয়ে একপাশে রেখে দিন। পরীক্ষার দিন সকালে এসব খুঁজে সময় বা শক্তি কোনোটাই নষ্ট করা যাবে না। হলে যাবার ক্ষেত্রে যানবাহনের ব্যাপারটিও মাথায় রাখুন। যদি পায়ে হেঁটেই চলে যাওয়া যায়, তাহলে তো খুবই ভালো। আর তা না হলে রিকশায় যাবেন নাকি গাড়িতে নাকি কিছুটা সময় বাসের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই ব্যাপারগুলো আগেই ভালোভাবে বুঝে নিন। দরকার হলে ব্যাকআপ কোনো ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

 

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার মতো পাব্লিক পরীক্ষার আগে খানিকটা চাপ থাকা খুবই স্বাভাবিক। আর যদি ভর্তি পরীক্ষার মতো লাইফ চেঞ্জিং কোনো কিছু হয়, তবে চাপ যেন জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে। অনেকের জন্য আবার সাধারণ ক্লাস টেস্টও পাহাড় ডিঙ্গানোর সমান চ্যালেঞ্জিং। এই চাপকে সরিয়ে রেখে ঠিকমত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে আপনাকেই। শুধু একটা কথা মাথায় রাখুন, আপনি যা পারেন, যতটুকু পড়েছেন সেটুকুই যথেষ্ট। শেষ সময়ে এসে হা-হুতাশ না করে যা পারেন সেইটুকু ঠিকভাবে লিখে আসতে পারলেই আপনাকে আর ঠেকায় কে! আর যদি অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়, তবে একটু উপরের কথাগুলো মিলিয়ে নিন। 

Continue Reading

Trending