Connect with us

Inspirational

নিজেকে সব সময় অনুপ্রাণিত রাখুন ১০টি উপায়ে

Published

on

পৃথিবীর সব থেকে বড় মোটিভেশন হল সেল্ফ মোটিভেশন (Self Motivation)। সারাদিন ফেইসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করে ছেলেটি দিন পার করে। অথচ মনে অনেক আশা জীবনে ভাল পজিশনে যাওয়ার। আধাঘন্টা খানেক আলাপ হল… অনেক কিছু বুঝানোর পর সে এক সময় বলে উঠে “আপু , এগুলো সবই তো বুঝি, তবুও পড়াশুনা করতে ইচ্ছে করে না”।

 

মানুষের মোটিভেশনাল কথা, লেকচার শুনে আমরা মোটিভেট হই ঠিকই, কিন্তু তার স্থিতি খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে… যখন শোনা হয়, তখন হয়তো উজ্জীবিত হই, চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে… কিন্তু খানিক পরেই আবার সেই আগের মত।

 

জীবনে সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি দরকার তা হল সেল্ফ মোটিভেশন (Self Motivation) ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কোন মোটিভেশনই আপনার জীবনে কাজে লাগবে না।

 

বিখ্যাত আমেরিকান লেখক এবং মোটিভেশন স্পিকার Stephen R. Covey বলেন “মোটিভেশন নিজের ভেতরের আগুন, যদি অন্য কেউ তা জ্বালানোর চেষ্টা করে তবে তা খুব কমই জ্বলবে “  এর মানে হচ্ছে কেউ আপনাকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে আপনার লহ্ম্য অর্জন করতে , কিন্তু লহ্ম্য অর্জনে আপনাকেই এগিয়ে যেতে হবে । আপনার হয়ে অন্য কেউ সেটা করে দিবে না।

 

মোটিভেশন কি ?

 

মোটিভেশন দুই রকমের হয় ।

 

১। Intrinsic : Intrinsic বা স্বকীয় । যা প্রাকৃতিকভাবে  একজন মানুষের নিজের ভেতর থেকেই আসে। পরীহ্মায় ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য সারারাত পড়াশুনা করা , একটি নির্দিষ্ট লহ্ম্য অর্জনের জন্য নিজের ভেতরের ইচ্ছাশক্তিই intrinsic মোটিভেশন ।

২। Extrinsic : Extrinsic বা বহিঃস্থ । অর্থাৎ যখন আমরা একজন মোটিভেশন স্পিকারের কথা শুনে ভা ভিডিও দেখে অনুপ্রেরণা পাই। যেমন অন্য কারো সফলতার গল্প শোনার পর মনে হয় , এটা আমাদেরও করতে হবে ।

 

সহজ কথায়, মোটিভেশন হচ্ছে এমন এক উৎস যা আপনার মন-মানসিকতাকে  আপনার লহ্ম্য অর্জনে প্রস্তুত করবে। সঠিক মোটিভেশন আপনাকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে যা আপনি কল্পনাও করেননি ।

তাই প্রতিনিয়ত নিজেকে মোটিভেট রাখতে কিছু উপায় আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন । তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো ।

 

লক্ষ্য নির্ধারণ :

 

পরীক্ষায় যখন লিখতে দেয়া হয় “তোমার জীবনের লক্ষ্য” রচনা লিখো অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী বেশি নাম্বার পাওয়ার জন্য লিখে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই । একদম মুখস্থ লেখা যাকে বলে।  এভাবেই আসলে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হয় , নিজেরাই জানে না কি হতে চায়। সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।

 

 

বিখ্যাত সেলস ট্রেইনার রাজিব আহমেদ স্যারের বইয়ে  লিখেছিলেন, “আপনার পিতার ৫০ কোটি শুক্রাণুর মধ্যে একটি শুক্রাণু বিজয়ী হয়ে আপনার মা’র গর্ভাশয়ে পৌঁছেছিলো, সেই শুক্রাণুটিই আজকের আপনি। সুতরাং, স্রষ্টা আপনাকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন বিজয়ী করে। আপনি কেন হেরে যাবেন? স্রষ্টা আপনাকে বিজয়ী করে তার কাছে ফেরত নিতে। আপনি যদি হার না মানেন, আপনাকে হারানোর হ্মমতা কারো নেই ।

 

জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। Think big, be big। বাস্তবের চেয়ে বড় স্বপ্ন দেখুন। সব সময় নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখতে এটা একটি পরীক্ষিত উপায় ।

 

Our goals can only be reached through a vehicle of a plan, in which we must fervently believe, and upon which we must vigorously act. There is no other route to success.” —Pablo Picasso

 

লক্ষ্য নির্ধারণ তিন রকম হতে পারে :

 

১। স্বল্প মেয়াদী : এমন কোন লহ্ম্য যা কিছু সপ্তাহ অথবা মাসে অর্জন করা যায় ।

২। মধ্যম মেয়াদী : এক অথবা দুই বছর সময় লাগতে পারে এমন কোন লহ্ম্য ।

৩। দীর্ঘ মেয়াদী : ক্যারিয়ার প্লান , বাড়ি অথবা গাড়ি কেনা এই ধরনের লহ্ম্যগুলোকে দীর্ঘ মেয়াদী বলা

 

 

সঞ্চয়ী হোনঃ

 

ধরুন আপনি একটি ব্যবসায় শুরু করলেন, কিছুদিন পর দেখা গেল ব্যবসার জন্য যে টাকাটা আপনার দরকার সেটা আর জোগাড় করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় আপনি কাজ করার অনুপ্রেরণা হারাবেন আর কাজ করতেও ইচ্ছা করবে না।  তাই অবশ্যই প্রতি মাসে আপনার উপার্জন থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করুন।সঞ্চয় থাকতে আপনি আত্নবিশ্বাস হারাবেন না কখনই নিজেকে সবসময় মোটিভেট রাখতে সঞ্চয়ী হওয়া খুব জরুরী।

 

ঋণকে না বলুনঃ

 

নিঃসন্দেহে যে সব মানুষ অনেক বেশি ঋণ নিয়ে থাকেন তারা হতাশায় ভোগেন বেশি। কারণ তাদের উপার্জনের সিংহ ভাগই চলে যায় ঋণ পরিশোধ করতে । তাই খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কখনই ঋণ নেবেন না।

 

 

ইতিবাচক মানুষের সাথে থাকুনঃ

 

আরে ধুর, তোকে দিয়ে হবে না। তুই জিতবি কম্পিটিশন? বাদ দে, তুই পারবি না। এই ধরনের নেতিবাচক কথা বলা মানুষের থেকে সব সময় দূরত্ব বজায় রাখুন। পজেটিভ চিন্তার মানুষ বেস্ট মোটিভেটর হয়।যখনই আপনার মনে কোন নেতিবাচক চিন্তা আসবে , এমন একজন পজেটিভ চিন্তা-ভাবনার মানুষের সাথে কথা বলবেন যে আপনার আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে ।  তাই সবসময় চেস্টা করুন ইতিবাচক চিন্তা করে এমন মানুষের সাথে থাকতে ।

 

 

নিজেকে সম্মান করতে শিখুন ঃ

 

আমরা কম বেশি সবাই যে কাজটি করি সেটা হচ্ছে   নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করি । আরে ওর রেজাল্ট তো আমার থেকে ভালো , তাহলে জবটা ওরই হবে। “ পাশের বাসার হাবলু ভাত খায়,তুইও ভাত খাস” তাহলে তুই নাম্বার কম কেন পাস? এই কথাগুলো আমরা শুনি বা বলি , তাই না?   যে কাজটা কখনই করা উচিত না। এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আপনার আত্নবিশ্বাস কমিয়ে দিবে । যখনই মনে করবেন আপনার আত্নবিশ্বাস কমে যাচ্ছে আপনার আগের অর্জনগুলোর কথা ভাবুন, ভাবুন সেগুলো অর্জন করতে কতটা কষ্ট আপনি করেছেন। কতগুলো রাত আপনি জেগেছেন । Be your own kind of perfect! এতে করে আপনার হারানো আত্নবিশ্বাস আবার ফিরে পাবেন , নতুন উদ্যমে নিজের লহ্ম্য পূরণে এগিয়ে যেতে পারবেন ।

 

“When you’re trying to motivate yourself, appreciate the fact that you’re even thinking about making a change. And as you move forward, allow yourself to be good enough.” – Alice Domar  

 

ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুনঃ

 

ভুল আমাদের জীবনের খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কম বেশি , জেনে বা না জেনে  ভুল আমরা সবাই করি ।  এটা খারাপ কিছু নয়, স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যাটি তখনই হয় যখন আমরা ওই ভুল থেকে শিক্ষা না নিই। পৃথিবীতে যত সফল মানুষ আছেন বা ছিলেন  সবার মধ্যে একটা   মিল আছে। সেটা হচ্ছে  ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া। পৃথিবীতে কোন মানুষই ১০০% সঠিক না । ভুল মানুষ করবেই যারা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে তারাই সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।  

 

“There is nothing known as “Perfect”. It’s only those imperfections which we choose not to see!!” Albert Einstein 

 

নিজের উদ্দেশ্য সঠিক রাখুনঃ

 

যখন  কোন কাজ করছেন আপনি তার উদ্দেশ্য ঠিক আছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে দেখবেন ।ভুল  মানুষের মোটিভেশন আপনাকে অনেক বড় বিপদেও ফেলতে পারে। তাই আপনি ঠিক পথে এগোচ্ছেন নাকি ভুল হচ্ছে কোথাও তা পরীহ্মা করে নেয়া জরুরী ।  আপনার কাজের উদ্দেশ্য আপনাকে সব সময় মোটিভেট থাকতে সাহায্য করবে।

 

“The key to motivation lies in the motive itself” -Dr. Stephen R. Covey

 

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাকে না বলুনঃ

 

সবসময় অতিরিক্ত চিন্তা করলে  নেতিবাচক দিকগুলোই সামনে আসবে। আমরা সবাই জানি যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত কিন্তু এর মানে শুধু এই না যে আমরা যা চাচ্ছি ভবিষ্যতে তার চেয়ে খারাপ কিছুই অপেক্ষা করছে। আগামীকাল কি হবে সেটা ভেবে আজকের দিনটা কেন নষ্ট করছেন?

 

এমনটাও হতে পারে যে, ভবিষ্যতে আমাদের জন্য এত ভাল কিছু অপেক্ষা করছে, যা আমরা কখনো চিন্তাও করিনি। তাই ভবিষ্যতে ভাল কিছুই হবে এই চিন্তা মাথায় রেখে এগুতে হবে।

 

মেডিসিন এ নোবেলজয়ী ডক্টর Dr. Alexi’s carrel একটি কথা বলেন, কথাটা ছিল অনেকটা এ রকম “যে ব্যবসায়ী জানে না কিভাবে দুশ্চিন্তার সাথে যুদ্ধ করতে হয়, সে যুবক অবস্থাতেই মারা যায়।”

 

সুখী থাকতে শিখুনঃ

 

সমস্যা সবার জীবনেই থাকে কিন্তু তার মানে এই না সেই সমস্যার  কথা ভেবে আপনাকে হতাশ হতে হবে । হতাশা , দুশ্চিন্তা কখনই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। যত বেশি সমস্যা নিয়ে ভাববেন , ততই নিরাশ হবেন ।  আপনার এমন হতে পারে  আপনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন, আপনার চাকুরী চলে গিয়েছে কিন্তু একবার ভেবে দেখুন আপনার জীবন কিন্তু শেষ হয়ে যায় নি। এই চিন্তাটাই আমরা করি না। তাই যা হয়েছে সেটা কে মেনে নিন। তাতে আপনি এই পরিস্থিতিটা কে সহজেই জয় করতে পারবেন।

 

Hal Elrod – The author of “The miracle morning”   মনে করতেন, ‘৫ মিনিটের বেশি নেতিবাচক চিন্তা পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তোলে ,তাই তিনি নেতিবাচক চিন্তাগুলো মন থেকে সরিয়ে সামনের কথা চিন্তা করা উচিত’ । ‘যা হয় ভালোর জন্য হয়’ কথাটা আপনাকে মোটিভেট থাকতে সাহায্য করবে।

 

সুখ তৈরী কিছু না, এটা আপনার নিজের কর্মের থেকে আসে” দালাই লামা

 

প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা করুনঃ

 

আপনার মোটিভেশন কে ধরে রাখতে প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা করুন। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা আপনার লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সহায়ক হবে। রাতে ঘুমানোর আগে  মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করুন সারা দিনের পরিকল্পনা করতে।

 

এটি শুধুমাত্র আপনার একটি খসড়া পরিকল্পনা যেন আপনি কি কি করবেন সারাদিন তা মনে রাখতে পারেন। এমন যেন না হয় যে আপনি ঘর থেকে বের হলেন আর আপনি জানেন না যে কোথায় যাবেন আর কি করবেন।

 

“I am happy because I’m grateful. I choose to be grateful. That gratitude allows me to be happy.” – Will Arnett

 

অনুপ্রেরণাই আসলে আমাদের সাফল্য অর্জনের জাদুর মত কাজ করে। তাই নিজেকে অনুপ্রেরিত করুন। আর আমাদেরকে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন, আপনি কিভাবে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখছেন ।  

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Inspirational

দ্যা আলকেমিস্ট বই থেকে ১০টি জীবন শিক্ষা

Published

on

পাওলো কোয়েলহো নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীর একজন গুণী লেখক। অবশ্যই তাঁর লেখনীর সৃজনশীলতা তৈরি হয়েছে গত ৫০ বছরে, কিন্তু তাঁর জ্ঞান এবং যুক্তিবাদীতা নিঃসন্দেহে বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বর্তমানে মানুষ ভোগবাদী এবং প্রগতিশীল জীবনযাত্রার জেলে আবদ্ধ। মানুষ ভুলে যেতে বসেছে যে তাদের একটি আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে এবং তারা চাইলেই তাদের আত্মা থেকে দূরে সরে যেতে পারবে না। এবং আমরা জেনে হোক না জেনে হোক, কেন যেন কৃত্রিমতার মাঝে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে বেশি ভালোবেসে আসছি।

 

অগাধ জ্ঞানের অধিকারী পাওলো আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ভান্ডার যা কিনা আমাদের সকলের সামনে “দ্যা আলকেমিস্ট” নামে পরিচিত। এই বইটি জীবন দর্শনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়কে তুলে ধরেছে। তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর প্রবল ইতিবাচক মানসিক চিন্তাধারা কিছু সুন্দর বিষয় আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। যা প্রমাণ করেছে, বই শুধু চিত্তবিনোদনের জন্য নয়, বরং জীবন দর্শন এবং জীবন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখে।

 

সাধারণত আমরা বই পড়ে থাকি সময় কাটানোর জন্য। আবার অনেকের ক্ষেত্রে বই পড়ার বিষয়টি জ্ঞান অর্জন করার জন্য হয়ে থাকে। কিন্তু আসলে একটি বই, যা কিনা জীবন দর্শন এবং জীবনকে আরো বেশি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে সে বইটিকে নিঃসন্দেহে একটি জ্ঞানভাণ্ডার ছাড়া আর অন্য কোন নামে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। আজকে আমি তোমাদের জানাবো পাওলোর বিখ্যাত বই “দ্যা আলকেমিস্ট” বইয়ের কিছু জীবন দর্শন বা শিক্ষা যা তোমার জীবনকে আরও উন্নত করতে এবং পূর্ণাঙ্গ করতে সহায়তা করবে।

 

ভয় হচ্ছে তোমার জীবনের অন্যতম বাধা অন্য যেকোন দর্শনীয় বাধার চেয়েও ভয়ংকর বাধা হচ্ছে ভয়

 

ভয়ের কষ্ট নিজের সাথে লড়াই করা যেকোন কষ্টের চেয়ে ভয়ংকর। জীবনে কষ্ট ছাড়া কোনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সফলতাকে না খুঁজলে সফলতা কখনো ধরা দেবে না। সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রেখে, ভয়কে দূরে সরিয়ে সফলতা খোঁজার জন্য বেরিয়ে পড়ো।

 

অজানা যেকোনো বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে ভয় কাজ করে। কিন্তু একই সাথে নতুন যে কোন বিষয় স্বাগতম জানানোর ব্যাপারটি আমাদের মাঝে উৎফুল্লতার সাথে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। বিশ্বাস রাখতে হবে, মানুষ হিসেবে আমাদের মাঝে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া একই সাথে যে কোন নতুন বিষয় জানার ব্যাপারটি অনেক ভালোভাবেই কাজ করে।

 

তাই অজানা কোন কিছু নিয়ে ভয় না পেয়ে নতুনকে বরণ করে নাও, স্বাগতম জানাও। একই সাথে ভয়কে জয় করে প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করবে করবে এমন একটি ইচ্ছা নিজের মাঝে পোষণ করো।

 

সত্যের জয় সব সময় হয়

 

তুমি যদি যেকোন পরিস্থিতিতে সত্যকে সবসময় গুরুত্ব দাও, তাহলে কেউ যদি তোমাকে ভুল বুঝে থাকে, তবুও সে কোন না কোন সময় তোমার সত্যটাকে অনুধাবন করে তোমার কাছে আসবে। ঠিক একই রকমভাবে তুমি যদি সাময়িকভাবে খুব ছোট এবং ক্ষণস্থায়ী আলোক রশ্মির মত মিথ্যাটাকে বেশি গুরুত্ব দাও, তাহলে জেনে রেখো কেউ যদি তোমাকে ভুল বুঝে থাকে, সে তোমাকে সাময়িক সময়ের জন্য সঠিক তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

 

সত্যকে কখনোই নতুন করে ভিন্ন রূপ দেয়া সম্ভব নয়। সত্য সব সময় অনেক বেশি মূল্যবান এবং শক্তিশালী। আর তাই যখনই তুমি সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সন্ধান করবে, সব সময় সত্যটাকেই বেশি গুরুত্ব দেবে। সেই সাথে অপরের সাথে সব সময় সত্যবাদী থাকায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। কারণ, একমাত্র সত্যই তোমাকে যে কোন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে একমাত্র কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আর পরিস্থিতি যতই নেতিবাচক থাকুক, মিথ্যার আশ্রয় নেবে না।

 

একঘেয়েমি বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলো

 

যখন কারো জীবনের প্রতিটি দিন একই রকম থাকে, তার মানে সে ভুলে গেছে যে, তার জীবনে প্রতিদিনই একটি চমৎকার নতুন বিষয় হচ্ছে আর তা হচ্ছে প্রতিদিনই নতুন সূর্য উঠবে নতুন সম্ভাবনা জাগ্রত হচ্ছে।

 

অর্থাৎ জীবনটাকে কোনোভাবেই একঘেয়ে করে ফেলা যাবে না। আমাদের আশেপাশে প্রতিটি দিনই নিত্য নতুন সম্ভাবনা, নিত্যনতুন অনেক কিছু ঘটছে প্রতিনিয়তই। মনে রাখতে হবে একঘেয়েমি হচ্ছে অনেকটা নীরব ঘাতকের মতো। তুমি যখন নিজের জীবনে কোন আনন্দ খুঁজে পাবে না বা নতুন কিছু করার মতো খুঁজে পাবে না, তার মানে তুমি তোমার জীবন থেকে সকল ধরনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছো।

 

আর কোন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা মানে, নতুন কোন কিছু নিয়ে সামনে এগোবার মত কোন প্রাণশক্তি তোমার মাঝে আর অবশিষ্ট নেই। বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবতে গেলে অনেক ভয়ঙ্কর যে, নতুন কিছু করবার মতো যখন প্রাণশক্তি আমাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকে না, তখন কিন্তু নতুন কোন সফলতাও আমরা দেখতে পাই না। আর তাই জীবন থেকে একঘেয়ে ব্যাপারগুলোকে সরিয়ে ফেলো, পরিবর্তনকে স্বাগতম জানাও, নিত্যনতুন কাজের মাধ্যমে নিজের আগ্রহকে ধরে রাখার চেষ্টা করো।

 

বর্তমানকে আলিঙ্গন কর

 

অতীতে না, ভবিষ্যতে না, সব সময় বাঁচার চেষ্টা করো বর্তমানে। তুমি যদি সব সময় তোমার বর্তমান সময়ের দিকে মনোযোগী হও তাহলে নিঃসন্দেহে তুমি অনেক সুখী একজন মানুষ হবে।

 

মনে রাখতে হবে, তোমার অস্তিত্ব বর্তমানে এবং এখনই। অর্থাৎ নিজের বর্তমানকে যদি গুরুত্ব না দাও, তাহলে একটি উজ্জ্বল আগামীকাল তোমার সামনে ক্ষীণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, অতীত বা ভবিষ্যৎ কোনটাই তোমাকে রাতারাতি কোন ফলাফল এনে দেবে না, তারপর তুমি যদি ভবিষ্যৎ নিয়েই পড়ে থাকো তাহলে তোমার আগামীকালটি সুন্দর হবে না।

 

মনে রাখতে হবে, যদি আগামীকালকে সুন্দর করতে চাও তাহলে বর্তমানেকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীত নিয়ে পড়ে থাকার কোন মানে নেই, কেননা অতীতের চিন্তা তোমাকে দুশ্চিন্তা ছাড়া আর কিছুই দেবে না। অপরদিকে ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আকাশ কুসুম কল্পনা তোমাকে বাস্তব পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। আর তাই বর্তমানকে দাও বেশি গুরুত্ব ।

 

সফলতার ঢেউয়ের মতো প্রভাব রয়েছে

 

যখন তুমি সংগ্রাম করবে, নিজেকে আরও বেশি উন্নত করবে তখন দেখবে তোমার আশেপাশের সব কিছুই আরো বেশি উন্নত এবং মনমত মনে হচ্ছে। অর্থাৎ তুমি যখন নিজের প্রচেষ্টায় নিজেকে সফলতার শীর্ষস্থানে দেখতে চাইবে তখন খেয়াল করবে তোমার আশেপাশের প্রতিটি জিনিসকে তুমি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছো।

 

একই সাথে তোমার সব কিছুই আগের চেয়ে অনেক ভালো লাগছে, অর্থাৎ আমাদের সফল হবার ইচ্ছা শুধু যে আমাদেরকে উন্নত জীবন দান করে তাই নয়, বরং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও উন্নত করে। যাতে করে আমরা আমাদের চারপাশের সব কিছুকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারি।

 

মনে রাখবে তোমার পরিবর্তন হচ্ছে তোমার নিজেরই বিবর্তন। অর্থাৎ, তুমি যখন নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইবে তখন আশেপাশের জিনিসগুলোকেও তুমি পরিবর্তিতভাবে গ্রহণ করতে শিখবে। আর তাই নিজেকে নিত্যনতুন কাজের সাথে খাপ খাইয়ে নাও। একই সাথে নিজেকে সফল করার জন্য উন্নত  স্বপ্ন দেখো। দেখবে আশেপাশের সব কিছুই তোমার সফলতার সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

 

স্পষ্টবাদী হও

 

যখনই আমরা কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাই, তখনই আমরা এমন কিছু পরিস্থিতি বা সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হই, যা পূর্বে কখনো ভাবিনি। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পরিস্থিতি আমাদের সামনে আসতে পারে। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে, তুমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দেরি করলে বা অতিরিক্ত ভাবলে তাতে করে যে তোমার সিদ্ধান্ত অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে, তা নয় বরং যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপাতদৃষ্টিতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

 

কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পষ্টবাদী মনোভাব যদি তোমাকে সাপোর্ট করে, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে সে  সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলা উচিত। অর্থাৎ যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে তোমারস স্পষ্টবাদী মনোভাবের পাশাপাশি তোমার বিবেককেও জাগ্রত করো। নিজেকে জিজ্ঞেস করো, যে সিদ্ধান্তটি নিতে তুমি যাচ্ছো তা আদৌ ফলপ্রসূ কিনা। আর যদি সেটা ফলপ্রসূ না হয়, তবে সে ধরনের সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে চলে সাহসিকতার সাথে সামনে এগিয়ে যাও।

 

তোমার কল্পনাকে মুক্ত করে দাও

 

কল্পনাশক্তিকে কোনভাবেই আবদ্ধ না রেখে বরং তোমার কল্পনাশক্তিকে মুক্ত করে দাও। আরো বেশি স্বাধীনভাবে কল্পনা করবার জন্য তুমি যখন স্বাধীনভাবে তোমার ভবিষ্যৎ বা আগামী নিয়ে কল্পনা করতে পারবে, তখন তুমি অনেক সফল এবং সুখী জীবনযাপন করতে পারবে।

 

আমাদের অন্যতম সমস্যা হল আমরা কল্পনা করতে গিয়েও কিপটেমি করে বসি। ভাবি, “এটা কল্পনা করে আমাদের কী লাভ? এরকম তো আর হবে না!” কিন্তু তুমি যদি স্বপ্ন বড় না দেখো, তাহলে বড় কিছু কিন্তু অর্জন করতে পারবে না। তোমার কল্পনাকে যদি তুমি স্বাধীন করে না দাও, তাহলে বড় কিছু অর্জন করা তোমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আর তাই তোমার কল্পনা শক্তিকে মুক্ত করে দাও। নিজের মত করে কল্পনা করো। তাহলে সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য তোমার ভেতরে আকাঙ্ক্ষার জন্ম হবে।

 

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যহত রাখো

 

জীবনে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলো সাতবার পড়ে গিয়েও আটবারের বেলায় উঠে দাঁড়াতে হবে।

 

কখন আত্মসমর্পন করো না, কখনো হেরে যেও না। তোমার বিশ্বাসই তোমার সফলতা নির্ধারণ করবে। আর তাই যত সমস্যায়ই পড়ো না কেন, যত বিপদই সামনে থাকুক না কেন, যদি তা তোমার সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নিজের ভেতর রাখতে হবে।

 

মনে রেখো, ঘরে বসে থাকলে কোন সফলতা তোমার সামনে আসবে না। সেজন্য তোমাকে লড়াই করতে হবে। তুমি বারবার পড়ে যাবে কিন্তু তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। জীবনে যদি সফল হতে চাও নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। এই বিশ্বাস রাখো, যত সমস্যাই হোক তুমি ঘুরে দাঁড়াবেই। এটা আশা করোনা যে অন্য কেউ সব সময় তোমার উপর বিশ্বাস রাখবে। নিজের বিশ্বাস তোমাকে নিজের উপরই রাখতে হবে।

 

নিজের পথ অনুসরণ কর

 

নিজের সম্পর্কে যদি তোমার নিজের কোনো স্পষ্ট ধারণা না থাকে, কোন পথ যদি তোমার নিজের তৈরি না থাকে, তাহলে অন্যরা কতক্ষণ তোমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারবে? আমাদের সবারই কিছু ভ্রান্ত বিষয়ে থাকে, অপরের ব্যাপারে অগাধ জ্ঞান থাকে, অপরের রাস্তা সম্পর্কে আমরা খুব বেশি অবগত থাকি। কিন্তু নিজে আসলে কোন পথে হাঁটতে চাই সেই ব্যাপারে অবগত হতে পারি না।

 

অন্যেরা তাদের অভিজ্ঞতা তোমার সাথে শেয়ার করবে। অবশ্যই আরেকজনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা ভালো। তাতে করে তোমার নিজের পথকে তুমি কীভাবে আরো মসৃণভাবে চলতে পারবে সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। কিন্তু মনে রেখো তোমাকে সবসময় নিজের পথেই হাঁটতে হবে। অন্যের বিশ্বাস বা অন্যের স্বপ্নকে পুঁজি করে তুমি বেশি দূর এগোতে পারবে না।

 

অন্যের রাস্তায় নিজের শক্তি দিতে গেলে বারে বারে তুমি শক্তিশূন্য হয়ে যাবে। আর তাই অপরের পথের চেয়ে নিজের পথকে ভালোভাবে অনুসরণ করা শেখো। সেই সাথে নিজেকে জানার চেষ্টা কর, তুমি আসলে কোন পথে হাঁটতে চাও, সেই পথকে কীভাবে আরো মসৃণ করা যেতে পারে সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করো।

 

নিজের পথে হাঁটতে গেলে অনেক সময়ই তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে অপরের সামনে সমালোচনার মাধ্যমে সঠিক প্রমাণ করতে হবে। আর তাই নিজের পথটিকে ভালোভাবে চেনার চেষ্টা করো এবং নিজের পথে হাঁটার চেষ্টা করো।

 

শুধু কথা নয় বরং কাজ শুরু করবে এমন কেউ হওয়ার চেষ্টা করো

 

অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নতুন কিছু শেখার অন্যতম মাধ্যম হল চেষ্টা করা। আমাদের মাঝে এরকম অনেকেই আছে, যারা শুধু বলেই যায়, তারা এটা করবে, ওটা করবে, কিন্তু শুরু আর করতে পারেনা। তুমি নিজে থেকে নিজেকে তাদের দলভুক্ত করো না। বরং তুমি যে কোন কাজ করার কথা বললে সেটা করে দেখানোর চেষ্টা করো।

 

অথবা যে কোন উদ্যোগ নিজে নেওয়ার চেষ্টা করো। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা তোমাকে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত করে দেবে। মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে তার অভিজ্ঞতা। তুমি হয়তো চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে পারো, কিন্তু বিশ্বাস রেখো তোমার এই ব্যর্থতা একপ্রকার সফলতা। কারণ, যে চেষ্টা করেনি তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি, কিন্তু তুমি অভিজ্ঞতাকে তোমার অর্জনের খাতায় লিখে রাখতে পারবে।

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Inspirational

ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো – স্টিভ জবস

Published

on

অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের সাফল্যের কথা জানেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। আর এ কারণেই তার মৃত্যুর পরও প্রযুক্তি বিশ্ব তাকে আগের মতোই স্মরণ করে। অ্যাপেলের মতো একটি সফল প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো খুব একটি সহজ ব্যাপার কিন্তু নয়। কিন্তু স্টিভ জবস তার জীবদ্দশায় এই কাজটিকেই সম্ভব করে গিয়েছেন। প্রায় সব বিষয়ই তিনি দেখতেন গভীরভাবে। আর এই গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে গেছেন যা সবাইকেই যুগিয়েছে উৎসাহ। তরুণদের  জন্য জবসের রেখে যাওয়া শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো তিনি সফলতার জন্য যে উপায়গুলো মেনে চলতেন

 

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কী ছিল সেই উপায়গুলো। 

 

আপনি যা ভালোবাসেন তাই করুন

আপনি যদি আপনার কাজকে ভালবাসতে না পারেন তাহলে সেই কাজে কোনোদিনই সফলতা আসবে না। যেমন- আপনার যদি পড়াশুনা করতে ভালো না লাগে, হাজার চেষ্টা করেও আপনাকে দিয়ে পড়াশুনা হবে না আর সেখানে রেজাল্ট ভালো করার তো কোনো প্রশ্নই উঠে না। আর যদি পড়তে ভালো লাগে আপনার বাসায় ১০জন মেহমান আসলেও আপনি পড়তে বসবেন, সেটা আপনার কাছে কোনো বাধাই মনে হবে না। একমাত্র কাজের প্রতি প্রচন্ড আবেগই পারে সফলতা নিয়ে আসতে।

 

জবস একবার বলেছিলেন, প্রচন্ড আবেগ থেকে একজন মানুষ পুরো পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি কি উপদেশ দিয়ে গেছেন তা যদি বলতে বলা হয় তবে তিনি বলেছেন, ‘আমি হয় বাসে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ নেব বা অন্যকিছু করবো, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি সত্যিই কী করতে চাই তা খুঁজে বের করতে পারবো।’ বিষয়টি তার কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই এখন থেকে নিজের কাজকে ভালোবাসুন। 

 

ইতিবাচক চিন্তা করুন

 

‘ইতিবাচক চিন্তা সফলতার মেরুদন্ড’। জীবনের খারাপ সময়গুলোতে সাহসের সাথে মোকাবেলা করার প্রধান সহায়ক ব্যাপার হলো- ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, আশা, উদ্যমতা জীবনের সবকিছুকেই সহজ করে তোলে। আমরা প্রতিদিন যা নিয়ে চিন্তা করি আমাদের Subconscious mind তাই গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে। উদাহরণ দিয়ে যদি বলি তাহলে ব্যপারটা এমন যে, আপনি যদি ভাবেন আপনি “সুখী” তাহলে আপনার Subconscious mind সেটাই মনে করবে। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন ‘আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না’ তাহলে আপনার Subconscious mind তাই কমান্ড হিসেবে গ্রহণ করবে এবং সেই অনুযায়ী ‘Reality’ বা বাস্তবতা তৈরি করবে। তাই সবসময়  Positive বা ইতিবাচক চিন্তা করুন। যখন আপনি আপনার পড়াশুনা, অফিস বা অন্য কোনো ব্যাপারে কর্মদক্ষতার ঘাটতি দেখবেন তখন ইতিবাচক মনোভাব আপনার মনে মোবাইলের ১০০% চার্জের মতো কাজ করবে। 

 

ব্যর্থতা মানেই পথের শেষ নয় বরং এটাই শুরু

 

একটা ছোট বাচ্চা যখন হাঁটতে শেখে সে বারবার পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। এইভাবেই কিন্তু সে একটা পর্যায় গিয়ে হাঁটতে শেখে। কিন্তু সে যদি পড়ে যাবো এটা চিন্তা করে বসেই থাকতো তবে কখনোই হাঁটতে শিখতে পারতো না। পড়ে যাওয়া মানে শেষ হওয়া নয়পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোই হল ‘জীবন’। আমেরিকান লেখক ডেভিড শেংক একটি বই বের করেছিলেন, “দ্য জিনিয়াস ইন অল অব অ্যাস”। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আইনস্টাইন, পিকাসো, বেটোফেনের জিন আছে। আমরা সবাই জিনিয়াস, কিন্তু প্রকৃত জিনিয়াসরা একটা বিষয়ে এত মনযোগ দেন, এত সাধনা করেন, এত চেষ্টা করেন যে তার ওই জিনিসটা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

 

স্টিভ জবস একবার বলেছিলেন, জীবন মাঝে মধ্যে তোমাকে ইট পাটকেল মারবে, বিশ্বাস হারিয়ে ফেলো না। স্টিভ জবস জীবনের প্রতিটি পথে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে সাফল্যের চূড়ায় আরোহন করেছেন। নিজের হাতে গড়ে তোলা অ্যাপেল কোম্পানি থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তবুও কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। তার এই অদম্য মানসিকতাই তাকে করে তুলেছিল সবার থেকে আলাদা। স্টিভ জবস নিজের জীবনকে উপলব্ধি করেছিলেন।

 

“অ্যাপল থেকে চাকুরীচ্যুত হওয়ার ঘটনা ছিল আমার জীবনে ঘটে যাওয়া শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমার জীবনের সেরা একটি সময়ে প্রবেশের পথ করে দিয়েছিল এই ঘটনাটি।”   – স্টিভ জবস

 

একসাথে হাজারটা জিনিসকে না বলুন

 

অ্যাপেল যা করেছে তা নিয়ে জবস যতটা গর্ববোধ করতেন ঠিক ততটাই গর্ববোধ করতেন অ্যাপেল যা যা এখনো করতে পারেনি। ১৯৯৭ সালে তিনি যখন অ্যাপেলে ফিরে আসেন তখন ৩৫০টি পণ্যসহ কোম্পানিটি গ্রহণ করেন এবং দুই বছরে পণ্যের সংখ্যা কমিয়ে ১০ নিয়ে আসেন। কিন্তু কেন করেছিলেন এমনটা? যাতে তিনি তার টিমকে দিয়ে সব পণ্যের উপর কাজ করাতে পারেন। আমাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা  ঠিক এমনই। আমরা মনে করি যে একসাথে অনেক কাজ করতে পারাটা গর্বের। আসলে মোটেও তা নয়। মানুষের ব্রেন মাল্টিটাস্কিং উপযোগী নয়। মানুষের ব্রেন এক সময়ে একটা কাজেই ফোকাস করতে পারে। তাই এখন থেকে একটা সময় একটি কাজই করুন।

 

“অনেক কিছু করার জন্য যেমন আমি গর্বিত, তেমনি অনেক কিছু না করার জন্যও আমি গর্বিত। উদ্ভাবন মানেই হলো হাজারটা জিনিসকে ‘না’ বলা।” – স্টিভ জবস

 

বিশ্ব ভ্রমণ করুন

 

বিজ্ঞানীরা একবার গবেষণা করেছিলেন, ভ্রমণে মস্তিষ্কের পরিবর্তন কীভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে। তারা একটি ভোলেন্টিয়ার টিমকে  শহরের বাইরে কিছুদিন অবস্থানের জন্য পাঠালেন। তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজেদের সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে রাখার। ফিরে আসার পর তাদেরকে বেশ কিছু জটিল এবং সৃজনশীল কাজ করতে দেওয়া হয়। দেখা যায়, তাদের সৃজনশীল ভাবনার ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। কাজ শেখা কখনোই ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মাঝে বা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং চারপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক কিছু যা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। আজকাল আমরা ঘুরতে যাই শুধু ফেইসবুকে ছবি শেয়ার করার জন্য বন্ধুরা দেখতে পাবে বলে।

 

ভ্রমণে বাড়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। একটু বেশি সময় ধরে একটানা পড়াশুনা করলে দেখা যায় আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে আসে অর্থাৎ মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন যতই চেষ্টা করা হোক না কেন মস্তিষ্ক যেন আর কথায় শুনতে চায় না। কারণ সে তখন চাইছে বিশ্রাম। তখন মস্তিষ্কের বিনোদনের জন্য কাছের কোনো জায়গা থেকে একটু বেড়িয়ে আসা উচিত।

 

অন্যের কাছ থেকে শিখতে লজ্জা পাবেন না

 

ধরুন সামনে পরীক্ষা, আপনি একটা ম্যাথ পারছেন না কিন্তু আপনার বন্ধু আপনার থেকে ভালো ম্যাথ পারেন। এখন আপনি কি করবেন বন্ধুর থেকে ম্যাথ শিখে নিবেন নাকি ইগো দেখিয়ে বলবেন, আমি ওর থেকে কম নাকি? কখনোই এই ভুল করতে যাবেন না, এতে করে ক্ষতি আপনারই বেশি হবে। আমাদের একটা অভ্যাস হলো আমরা অন্যের কাজ থেকে শিখতে লজ্জা পাই,আমাদের ইগোতে লাগে। জীবনে সফল হতে চাইলে শেখার শেষ নেই। আপনি অন্যের কাছ থেকে যত পারেন নতুন কিছু  শিখতে থাকুন, যা আপনাকে সাফল্যের আরো কাছাকাছি পৌঁছে দেবে। 

 

স্টিভ জবস যখন ছাত্র ছিলেন তখন তিনি কম্পিউটার প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্লাসে সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। তিনি ২০ বছর বয়সে বিভিন্ন কোম্পানি যেমন এইচপিতে  কাজ শিখেছেন।

 

সফল  মানুষদের সাথে থাকুন

 

স্টিভ জবস শুধু Steve Wozniak এর সাথেই  কাজ করতেন তা কিন্তু নয়। তিনি আরো অনেক সফল মানুষদের সাথে উঠা বসা করতেন। যেমন- পিক্সার সিইও, টিম কুক। ফলে তাঁর জীবনে সফলতার পথটা খুব একটা কঠিন হয়নি। মনবিজ্ঞানীদের মতে- আমরা প্রতিদিন যেমন মানুষের সাথে থাকবো আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক সেভাবেই কাজ করবে। আমাদের আশেপাশের মানুষের কথার প্রভাব আমাদের জীবনে পড়ে। আপনার চারপাশ যদি সফল মানুষের বা ইতিবাচক  চিন্তাভাবনা করে এমন মানুষের আনাগুনা বেশি থাকে তাহলে আপনি ভবিষ্যতে  সফল হতে সহযোগিতা পাবেন আর অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী, কৌশলী এবং সৃজনশীল হতে পারবেন। সেহেতু সফল এবং ইতিবাচক মানুষদের সাথে থাকুন যতো পারবেন।

 

ঝুঁকি নিন

আপনি চিন্তা করলেন আপনি একজন উদ্যোক্তা হবেন। তাহলে আপনাকে ঝুঁকি নিতেই হবে।  আত্মবিশ্বাসী মানুষজন খুব সহজেই ঝুঁকি নিতে পারেন, নিতে পারেন দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্তও কারণ তারা নিজের উপর অনেক আস্থা রাখেন। এবং এই গুনটিই তাদেরকে সফল করে তোলে।  স্টিভ জবস তাঁর নতুন প্রডাক্ট প্রসারের জন্য অনেক রিস্ক নিয়েছিলেন। তিনি আইফোন বের করার সময় অনেকে তাকে  নিষেধ করছিলেন কিন্তু তিনি রিস্ক নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। এবং তাতে তিনি সফলও হন।

 

আপনি যদি জীবনে সঠিক সময়ে ঝুঁকি না নিতে জানেন তবে আপনার সফলতা একটু দেরিতেই আসবে।

 

সংযোগ তৈরি করুন

 

স্টিভ জবস  ক্যালিগ্রাফি শিখেছিলেন।  কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না এটা তার কোনোদিন কাজে লাগবে কিনা। কারণ ম্যাকিনটশ (এক ধরনের ব্যক্তিগত কম্পিউটার) বানানোর আগ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত জীবনে এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ ছিল না। অ্যাপেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার সময়ে এই ক্যালিগ্রাফি বাস্তব জীবনে তার কাজে এসেছিল। 

 

জবস একবার বলেছিলেন,বিভিন্ন বিষয়কে যুক্ত করাই হচ্ছে সৃজনশীলতা”। তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন, জীবনে প্রচুর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তি এমন অনেক কিছুই দেখেন এবং বুঝতে পারেন যা অন্যরা পারে না।  জবস ভারত এবং এশিয়া ভ্রমণ করেছেন। তিনি ডিজাইনিং এবং আতিথেয়তা শিখেছেন। আপনি যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তার বাইরের বিষয়গুলোও শিখুন। যেমন- ডিবেটিং, প্রেজেন্টেশন স্লাইড তৈরি, ইত্যাদি। আপনার এই সমস্ত বিষয়ের পারদর্শিতাই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে।

 

নেক্সটে কাজ করার সময় জবস্বলেছিলেন, আমি যখন বেঁচে থাকব না, তখন আমার সৃজনশীল কাজের জন্য সবাই বাহবা দেবে। কিন্তু কেউ জানবে না যে আমিও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারি।

 

২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন- “আজ আমার পালা ফুরোল। তোমাদের সামনে আজ এক নতুন দিগন্ত। এগিয়ে যাও নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। তোমাদের কাছে আমার শুধু একটাই চাওয়া।”

  

Continue Reading

Inspirational

সুখী হবার জন্যে দালাই লামার ১০ টি উপদেশ

Published

on

সুখ, জীবনের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত একটি শব্দ। এটি শুধুই কি শব্দ? সৃষ্টির শুরু থেকেই অধরা এই শব্দের পিছনে আমরা ছুটে চলেছি। বিখ্যাত টিভি ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে একবার দালাই লামাকে প্রশ্ন করেছিলেন – ‘ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয় এমন কাজ কি কখনো করেছেন?’ উত্তরে তুমুল আলোচিত এই আধ্যাত্মিক মানুষটি বলেছিলেন – ‘মশা এবং ছারপোকার প্রতি আমি ততোটা সহানুভূতিশীল নই।’ ধর্মীয় নেতা হবার পাশাপাশি দালাই লামা তার অসাধারণ জীবনবোধ, অসামান্য জ্ঞান এবং জীবন সংশ্লিষ্ট উপদেশের জন্য বিখ্যাত। সুখী হবার জন্য আমাদের যে নিরন্তর প্রচেষ্টা আদিকাল থেকেই চলে আসছে, তা সফল করতে এবার তাহলে এই মহান মানুষটির দেয়া কিছু উপদেশ জেনে নেয়া যাক –

 

অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হন

 

“The topic of compassion is not at all religious business; it is important to know it is human business, it is a question of human survival.” -Dalai Lama

 

শুধুমাত্র মানসিক উন্নতির জন্য নয়, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব আমাদের স্বাভাবিক হার্টবিট এবং দেহের কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার জন্যও খুব প্রয়োজন। গবেষণাটিতে আরো দেখা গেছে, আমরা খাওয়াদাওয়া করলে কিংবা কোথাও ঘুরতে গেলে যে ধরণের আনন্দ পাই- ঠিক সেই ধরণের আনন্দ আমরা অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার মাধ্যমে খুঁজে পেতে পারি। অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে  অসুস্থ বন্ধু, শোকসন্তপ্ত পরিবার কিংবা গৃহহীন কোনো স্বজনের সাথে কথা বলুন। তাদের সমস্যার সমাধান করতে যদি নাও পারেন তবুও চেষ্টা করুন তাদের মানসিক শক্তির যোগান দিতে।

 

অপরকে সাহায্য করুন

 

“Be kind whenever possible. It is always possible.” -Dalai Lama

 

জীবনের আসল অর্থটা অন্যকে সাহায্য করার ভেতর দিয়েই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এর জন্য কোনো মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা কিংবা জটিল কোনো ধর্মশাস্ত্র বা দর্শনশাস্ত্রের দরকার পড়ে না। নিজের হৃদয় দিয়ে যখন আপনি কাউকে সাহায্য করেন, তখন অদ্ভুত একটা ভালোলাগা এবং প্রশান্তি আপনাকে ছুঁয়ে যাবে; কোনো কিছুর সাথেই যার পাবেন না। খোঁজ নিয়ে দেখুন, হয়তো আপনারই কোনো এক প্রতিবেশী আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ক্লাসের কোনো সহপাঠী হয়তো অজান্তেই ডুবে যাচ্ছে হতাশায়, টিউশনির টাকায় পড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে ডিপার্টমেন্টের কোনো ছোট ভাই। দরকার শুধু একটা সাহায্যের হাত, আর সে হাতটি হতে পারে আপনারও।

 

নিজের সুখ নিজেই খুঁজে নিন

 

“The purpose of our lives is to be happy.” -Dalai Lama

 

রেডিমেড পোশাক, রেডিমেড খাবারের মত রেডিমেড সুখ খুঁজতে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকি। এসব করতে করতে আমরা ভুলেই যাই যে সুখ জিনিসটা আসলে ব্যাংকের চেকবইয়ে, বড় বড় শপিংমলে কিংবা পাঁচ তারকা হোটেলের মেনুকার্ডে নেই! বরং সুখ খুঁজে পাওয়া যায় ছোট ছোট দুটো ভালমন্দ কথায়, একটু-আধটু সাহায্যতে। সুখ দামি ঠিকই, কিন্তু দাম দিয়ে যে সব সময় সুখ কেনা যায় না -এই কথাটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

 

আত্মিক শান্তির প্রতি মনোযোগী হোন

 

দালাই লামার মতে, দিনের কিছুটা সময় আমাদের নিজেদের জন্য একান্তই কিছু সময় কাটানো উচিত। দিনের খানিকটা সময় চারপাশের ক্রমাগত নেতিবাচকতা থেকে নিজেকে বের করে আনার জন্য নিজের সাথে ভাল বোঝাপড়া থাকাটাও খুব দরকার। আমাদের মনই আমাদের চালিকাশক্তি। কী যেন নেই, কী যেন বাকি রয়ে গেল- এই ধরনের চিন্তাভাবনাগুলোই আমাদের যাবতীয় অশান্তির কারণ। তাই ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন, আত্মিক শান্তির উপর গুরুত্ব দিন। দিনশেষে ধোঁয়া ওঠা এককাপ গরম চা, হাতে প্রিয় গল্পের বই সাথে পছন্দসই কোনো গান – এই নিয়ে বারান্দার এক কোণে বসে যান। চাওয়া-পাওয়ার সব হিসাব ভুলে গিয়ে শুধু নিজের সাথে কিছুটা সময় কাটান।

 

অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন

 

“If you can, help others; If you cannot do that, at least do not harm them.” -Dalai Lama

 

যতটা সম্ভব হয়, চেষ্টা করুন অন্যকে সাহায্য করতে। যদি সেটা না পারেন, অন্ততপক্ষে আপনার কারণে যেন কারোর কোনো ক্ষতি না হয় এটা লক্ষ্য রাখুন। আপনার পরনিন্দা, পরচর্চা, গুজব ছড়ানো বা মিথ্যা বলার মত কাজ অন্যের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এটা মাথায় রাখবেন। অন্যের কাছে নিজেকে অনর্থক জাহির করার ব্যপারটিকে বন্ধুদের ভাষায় অনেকে ‘ফাঁপর নেয়া’ বলে। নিছক মজা করার উদ্দেশ্যে অন্যের উপর ‘ফাঁপর’ নিতে গিয়ে আমরা যেন কারোর মনে কষ্টের কারণ হয়ে না দাঁড়াই।

 

বন্ধু এবং বন্ধুত্বকে সম্মান করুন

 

একজন ভালো বন্ধু জীবনে আশীর্বাদের মতো। ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ, হিংসা, রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বন্ধুত্বকে বিচার করবেন না। বন্ধুত্ব এগুলোর সবকিছুর উর্দ্ধে। ‘ও তো আছেই’ ভেবে যে বন্ধুকে আজ আপনি অবহেলা করছেন, অহেতুক ব্যস্ততায় তাকে কখন যে হারিয়ে ফেলবেন বুঝতেই পারবেন না। আর এই ধরনের পরিস্থিতিতেই জীবনে আসে ডিপ্রেশন। তাই বন্ধুদের গুরুত্ব দিন, বন্ধুত্বকে সময় দিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক নিউজফিড স্ক্রল না করে বন্ধুরা মিলে বরং কাছাকাছি কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। অনেক সময় হয়তো সবাই মিলে একসাথে হওয়া সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে ভিডিও কল কিংবা কনফারেন্স কলের মতো প্রযুক্তি তো আছেই।

 

প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করুন, প্রযুক্তি যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে

 

আপনি কি জানেন দালাই লামা নামক সম্পূর্ণ সাদামাটা এই মানুষটির আট মিলিয়নের অধিক টুইটার ফলোয়ার রয়েছে? প্রতিদিন সেই সংখ্যা বাড়ছে। প্রচুর লোক রোজ তাঁর বিভিন্ন বাণী, বিভিন্ন টুইট রিটুইট করে থাকে। কিন্তু খুব কম লোক আছে যারা তাঁর এই বাণীগুলোকে নিজের জীবনে কাজে লাগায়। প্রযুক্তি আজকাল জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ, সৌজন্য এবং সৌহার্দ্য। তাই প্রযুক্তি আপনাকে পুরোপুরি গ্রাস করার আগেই লাগাম টানুন, যতোটুকু না হলেই নয় ঠিক ততোটুকুই ব্যবহার করুন।

 

সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করুন, ঝগড়া বিবাদ বা গায়ের জোরে নয়

 

ধরে নিন, রাস্তায় একটা পাথর পড়ে আছে। আপনি চাইলে পাথরটা এড়িয়ে পাশ দিয়ে চলে যেতে পারেন, আবার পাথরটা ভেঙে রাস্তা করে নিতে পারেন। কোনটা করবেন আপনি?

 

যেকোনো সমস্যা সামনে এলে চেষ্টা করুন শান্তিপূর্ণ সমাধান করার। গায়ের জোরে সমাধান করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হতে পারে। যে সমস্যার সমাধান হাসিমুখে, দুটো ভালো কথায় করা সম্ভব, সেখানে শুধু শুধু গলাবাজি করা বা গায়ের জোর দেখানোটা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই না!

 

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন

 

“When you lose, don’t lose the lesson.” -Dalai Lama

 

নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিন। কতোবার ব্যর্থ হয়েছেন তা মনে রাখার চেয়ে কেন ব্যর্থ হয়েছেন সেটা মনে রাখা বেশি জরুরি। কোথায় ভুল ছিল আর কীভাবে সেই ভুলগুলিকে এড়ানো যায় সেইদিকে মনোযোগ দিন। আমরা সবসময় চেষ্টা করি খারাপ মুহূর্তগুলোকে ভুলে যেতে। অথচ খারাপ সময়ই আমরা জীবনের সবচেয়ে দামি শিক্ষাটা পাই। খারাপ সময় কেন এসেছিল, কীভাবে সেই সময়টাকে কাটিয়ে উঠলাম, কে কে সেই সময়ে পাশে ছিল আর কারা সেই দু:সময়ে ন্যূনতম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি-এই শিক্ষাগুলি নিজের জীবন থেকে নিতে হবে, কোনো ক্লাসরুমের ব্ল্যাকবোর্ডে এগুলো পাওয়া যায় না।

 

তাহলে? কি মনে হয়? দালাই লামার এই উপদেশগুলো কি একটু হলেও আপনাকে সাহায্য করবে সুখী হতে? এক কাজ করুন, আজ থেকেই বরং চেষ্টা করুন এই কথাগুলো মেনে চলার এবং আপনার প্রিয়জনকেও জানিয়ে দিন সুখী হওয়ার এই উপদেশগুলো। প্রথমদিকে হয়তো সবগুলো মেনে চলতে পারবেন না, কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন সুখী হওয়ার জন্য আসলে খুব বেশি কিছু লাগে না। সততা, হৃদয়ের উষ্ণতা আর অন্যের প্রতি সহমর্মিতা…..ব্যস,আর কি চাই! 

Continue Reading

Trending