Connect with us

Motivational

জীবনকে সহজ করে নেওয়ার ১০টি উপায়

Published

on

আমরা মাঝে মধ্যেই জীবন নিয়ে হতাশায় পরে যাই। অল্প কাজে অথবা অতিরিক্ত চিন্তায় হাঁপিয়ে পরি। এই ক্লান্তি ও হতাশা আমাদের সব ধরনের উন্নতিতে বার বার বাধা দিতে চায়। অনেক সময় মনোবল কমিয়ে আনে। কিন্তু এসব নিয়ে চিন্তা করা ছাড়া কখনও কি আমরা ভেবেছি যে, কোন ভাবে এই সমস্যা গুলোকে কমিয়ে জীবনকে সহজ করে নেওয়ার কোন উপায় আছে কিনা? আসলে আমরা তা কখনো করিনা। আজ তাহলে কিছু বিশেষ উপায় জেনে নেওয়া যাক যা আমাদের জীবনকে সহজ করে নেওয়ার মানসিক শক্তি দান করবে।

 

১) শান্ত থাকুন যখন কেউ আপনার সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলে

 

একসাথে আমরা প্রতিনিয়ত অনেকের সাথে ওঠা বসা করি, কাজ করি।  এক্ষেত্রে আমাদের সব সময় সবার সাথে মনমানসিকতা নাও মিলতে পারে।  অনেক ক্ষেত্রে মনোমালিন্যও হতে পারে। আপনার রাগও আসতে পারে, যা অতি স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে গৌতম বুদ্ধের একটি উক্তি আমরা মাথায় রাখতে পারি,

 

“Holding on to anger is like grasping a hot coal with the intent of throwing it at someone else, you are the one who gets burned.”

 

 

অর্থাৎ আপনি রাগটা পুষে রাখলে সেই রাগ অন্যের অপর প্রকাশের মাধ্যমে আপনি যতটা না অন্যের ক্ষতি করবেন তার চেয়ে বেশি ক্ষতি আপনার নিজের হবে। কারণ রাগ হচ্ছে একধরনের মানসিক ব্যাধি। এটি সেই ব্যাধি যা হচ্ছে সিগারেট এর মত। এক দুই দিনে কিছু করবে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে।

 

কেউ যদি আপনার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলে তখন তার কথার পাল্টা জবাব না দিয়ে নিজেকে সংযত রাখাটাই হচ্ছে আপনার ধৈর্যের প্রমাণ। এটি এক ধরনের মানসিক যুদ্ধ যা আপনাকে অন্যের তার্কিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। সেই সাথে আপনার মানসিক শান্তি রক্ষা করবে।

 

কারো সাথে তর্কে যাওয়ার আগে আমরা এটা মাথায় রাখতে পারি যে, আমাদে কাছে ২টি উপায় আছে, একটি হল তর্কে যোগ দেওয়া বা নিজের রাগকে বাড়ার সুযোগ দেওয়া যেটি ইতোমধ্যেই অনেক উত্তপ্ত অবস্থায় আছে অথবা দ্বিতীয়টি হচ্ছে এই অস্থায়ী ঝামেলাকে বাদ দেওয়া। আপনার কাছে যখন দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাহলে আপনি কেনই বা অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে সেই সুযোগটিকে  হারাবেন।

 

তাহলে এই সঠিক সিদ্ধান্তটা বা শান্ত থাকলে আপনি সহজেই একটি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

 

২) আপনার চিন্তা গুলো লিখে রাখুন যখন আপনি অনেক চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন

 

আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু পরিকল্পনা থাকে। দিনের শুরুর পরিকল্পনা থেকে অনেক সময় জীবনের শেষ পর্যন্ত কি করব এমন বৃহৎ পরিকল্পনাও থাকে। কিন্তু এ পরিকল্পনা তো আর একদিনে হয়ে ওঠে না। অনেকদিনের চিন্তা, কল্পনা, অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ দীর্ঘমেয়াদী বৃহৎ পরিকল্পনা করে। এই কল্পনা শুধু নিজের থেকে নাও আসতে পারে। অনেক সময় আমরা অন্যের দেখেও অনেক কিছু শিখি, তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়েও অনেক সিদ্ধান্ত নেই।

 

কখনো কখনো দেখা যায় যে আমরা কোন বিষয় নিয়ে অনেক চিন্তিত, অনেক ভাবছি। এতে করে দেখা যায় একই বিষয় বার বার ভাবতে ভাবতে বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমাদের মাথা থেকে অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় বের হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন সময়ে আমরা অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ কিছু খেয়াল করতে পারি যা পরে মনে নাও থাকতে পারে।

 

এক্ষেত্রে আমাদের সর্বপ্রথম যা করা দরকার তা হল লিখে রাখা। আমাদের ছোট বড় যে কোন ধরনের কল্পনাই আমাদের লিখে রাখা দরকার। কারণ এটি আমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে। আমাদের কি কি করতে হবে আমাদের বার বার মনে করায় দেয়।

 

 

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার ডোমিনিকান ইউনিভারসিটি একটি প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে, তারা যারা তাদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন লিখে রাখে তাদের সফলতার হার যারা লিখে রাখে না তাদের চেয়ে ৪২% বেশি!

 

এজন্য আমাদের লক্ষ্যসহ যে কেনো কিছু যে কোন সময়ে চিন্তা করা কোন গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের সাথে সাথেই লিখে রাখার অভ্যাস করা দরকার। এটি আমাদের জীবনের লক্ষ্যকে আরো পরিকল্পিত করে তুলবে।

 

৩) তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন যদি মনে হয় সে আপনাকে মিথ্যা বলছে

 

আজকালকার সময়ে মানুষ বিভিন্ন কারণে অকারণে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। নিজের স্বার্থ অর্জনের জন্যে বা অন্য যেকোন কারণে মানুষ মিথ্যা বলে। এই মিথ্যার শিকার আমরা যে কেউই হতে পারি। কর্মক্ষেত্রে বা স্কুল কলেজে যাদের সাথে আমাদের ওঠা বসা বা কাজকর্ম তারা যে সব সময়ই আমাদের সাথে সত্য কথা বলবে এমন নাও হতে পারে, নিজেদের স্বার্থের কারণে আমাদের সাথে প্রতারণা করার চেষ্টা করতে পারে। এতে আমাদের মাঝে অনেক ক্ষেত্রেই সন্দেহ থেকে যায়। যাদের নিয়ে আমাদের ওঠা বসা তাদের নিয়ে সন্দেহ থাকলে জীবন অনেকটা কঠিনই হয়ে দাঁড়ায়।

 

 

এক্ষেত্রে আমাদের যদি কাউকে নিয়ে সন্দেহ হয়েও থাকে, তাহলে তা আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারি।

 

যাকে নিয়ে সন্দেহ কথা বলার সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে তার কথার সত্যতা ধরা যায়। একজন মিথ্যাবাদীর চোখই তার সত্যতার প্রমাণ। এতে করে আমরাও সাবধান হয়ে যেতে পারি। আমাদের জীবনের জটিলতা কমিয়ে আনতে পারি।

 

৪) সবার নাম মনে রাখুন যদি আপনি সকলের মাঝে জনপ্রিয় হতে চান

 

জনপ্রিয়তা একই সাথে এমন একটি দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান বিষয় যা কম বেশি আমরা সবাই  চাই। আমাদের অনেকের মাঝেই নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যে গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় হল জনপ্রিয়তা। কর্মক্ষেত্রে বা অন্য যে কোন জায়গায় মানু্ষের দৃষ্টি কেউ তখনই আকর্ষণ করতে পারবে যখন সে তাকে তার নিজের নাম ধরে ডাকবে। এতে করে সেই মানুষটির আপনার প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। সে আপনাকে আপনার কাজে সহযোগিতা করবে। আপনাকে শ্রদ্ধা করবে। এভাবে যদি আপনি সবার সাথে চলতে পারেন তাহলে সবার মাঝেই আপনি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

 

একজন মানুষ সাধারণত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তার ব্যক্তিত্বের কারণে। এই সুন্দর ব্যক্তিত্বের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল যাদের সাথে কাজ করেন তাদের নাম মনে রাখা। এতে নাম মনে রাখলে তারা আপনাকে গুরুত্ত্বপূর্ণ ও পরিচিত ভেবেই কাজ করবে।

 

 

তাহলে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে আপনার অন্যের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতাও বাড়বে। সকলের সাথে সম্পর্ক সহজ রাখার এটি একটি সহজ উপায়।

 

৫) আক্রমণকারীর পাশে গিয়ে বসুন যদি তার সাথে সংঘর্ষ এড়াতে চান

 

ঝগড়া-বিবাদ-মনোমালিন্য এইসব প্রতিনিয়ত লেগেই আছে আমাদের কারো না কারো সাথে যদিও বা আমরা চাই সবার সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে। কিন্তু এক্ষেত্রে কখনো যদি এর ব্যতিক্রম হয়ে যায় তখন আমাদের কি করা উচিত? ব্যাপারটা কখনো ঠিকমত নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে সেটি আমাদের দিনটি সহ জীবনযাত্রাও কঠিন করতে পারে।

 

কখনো যদি আমাদের এমন মনে হয় যে পরিস্থিতি আমাদের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে বা বিবাদটা বেড়ে যাচ্ছে তখন আপনি ঝামেলা বাড়াতে না চাইলে সেই ব্যাক্তির পাশে গিয়ে বসতে পারেন যার সাথে আপনার ঝামেলা হচ্ছে। এতে সেই সময় সেই ব্যক্তির মানসিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আসতে পারে। তার রাগ বা ক্ষোভ কমাতে এটি অনেক সহায়ক হবে। এতটুকু সে বুঝতে পারবে যে আপনি তার সাথে বিবাদে যেতে চাচ্ছেন না বা সমোঝোতা চাচ্ছেন। আপনার এই একটি পদক্ষেপই আপনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পরিবর্তন করে আপনার মনকে নরম করে ফেলতে পারে। আপনাদের মাঝে সম্পর্ক ভাল করার সুযোগও আপনি পেতে পারেন।

 

কিন্তু আপনি যদি এভাবে সমোঝোতায় না গিয়ে পাল্টা কিছু করেন এতে করে আপনাকে নিয়েই বাজে ধারণা হবে এবং পরিস্থিতিও খারাপ হয়ে যাবে।

 

৬) কিছু কিছু বিকল্প সিদ্ধান্ত চিন্তায় রাখুন যখন আপনার সঠিক সমাধান জানা নেই

 

আমাদের জীবন কখন কোন দিকে যাবে এটা অনেকটাই নির্ভর করে আমরা কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি তার ওপর। জীবনের জন্যে বড় বড় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আমাদের ছোট ছোট বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনো কখনো সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী।

 

সব সময় পরিস্থিতি আমাদের হাতের মধ্যে থাকে না, আবার এমন কাজ হাতে পরে যায় বা বিপদে পরে যাই যে সেগুলোর সঠিক সমাধান আমাদের আন্দাজ করতে বা বুঝতে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

 

এমন ক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি? আমাদের সব সময়ই পরিস্থিতি আর আমাদের সুবিধা অনুযায়ী আমাদের কিছু বিকল্প ভেবে রাখতে হবে। প্রকৃত বিচক্ষণ তারাই যারা তাদের প্রতিটি পরিস্থিতি ও সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে আমাদের অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সময়ও বেশি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বিকল্প কিছু মাথায় থাকলে আমাদের সেই সময়টুকু বেঁচে যায়। ব্যাপারটাকে আমরা ” Think twice & do wise ” এভাবে দেখতে পারি। এভাবে ভেবে রাখলে আমাদের জীবনে জটিলতার সম্ভবনা কম থাকবে।

 

৭) স্থান অনুযায়ী সঠিক ভঙ্গি জরুরী, এতে আপনার আত্নবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে

 

একজন মানুষের পরিচয়, ব্যবহার, স্মার্টনেস এইসব কিছু অনুধাবন করতে শুরু করে মানুষ সেই মানুষের অঙ্গভঙ্গি দেখে। বিশেষ করে বিভিন্ন অফিসিয়াল ক্ষেত্রে, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজেদের সুন্দর করে উপস্থাপন করার প্রয়োজন পরে।

 

 

এইসব জায়গায় প্রতিটি মানুষই চায় নিজেদেরকে অন্যদের কাছে পরিপাটি, আকর্ষণীয়, স্মার্ট ভাবে উপস্থাপন করতে। আর আমরা যদি সেইভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারি তাহলে অন্যদের কাছে তো বটেই সেই সাথে নিজের কাছেও নিজের আত্নবিশ্বাস বেড়ে যায়। কাজটি তখন আমরা আরো পরিপক্কতা, দক্ষতা ও আত্নবিশ্বাসের সাথে করতে পারি। আর এই অভিজ্ঞতা আমরা পরবর্তীতে নিজেদেরকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করে। ব্যাপারটিকে একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যায়, আপনাকে যদি কোন প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপনা করতে দেওয়া হয় তাহলে আপনি প্রথমবার যদি নিজেকে ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারেন তাহলে আপনার সব জানা থাকলেও আপনার আত্নবিশ্বাস কমে যাবে।

 

কিন্তু আপনি যদি উপস্থাপনার শুরুতেই আপনার অঙ্গভঙ্গি ঠিক রাখেন আপনার মাথায় থাকবে যে আপনি ঠিকভাবে আগাচ্ছেন। এতে আপনার পরবর্তী ধাপ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করতেও আমাদের আর ভয় লাগবে না, আত্নবিশ্বাস বেড়ে যাবে।

 

৮) কিছু মানুষ তৈরি করুন যারা আপনার প্রয়োজনে সাহায্যে এগিয়ে আসবে সব সময়

 

“There is no man but can live without the help of others.”

 

– এই উক্তিটি জানে না, এমন কেউ আমাদের মাঝে নেই। ছোট থেকে শুনে আসা এ উক্তিটি যদি আমরা যথার্থভাবে বুঝতে পারি তাহলে তা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি মৌলিক সূত্রকে তৈরী করতে সাহায্য করবে।

 

আমাদের জীবনে বন্ধু বা এমন সম্পর্কের কারো প্রয়োজন অনেক, যারা রক্তের সম্পর্কের বাহিরেও সব সময় আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে, সাহায্য করবে। হ্যাঁ অনেকের হয়তোবা অনেক বন্ধুই রয়েছেন কিন্তু এমন কয়জনই বা আছে যারা নিঃস্বার্থভাবে যে কোন সময়ে আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবে? বাস্তব জীবনে আমাদের এমন কাউকেই বেশি প্রয়োজন পরে। হাজার হাজার বন্ধু বানিয়ে তারা যদি প্রয়োজনে আপনার পাশে এসে দাঁড়ানোর সাহস না দেখাতে পারে তাহলে সেই সম্পর্কই ব্যর্থ। কিন্তু আপনি যদি একজনই প্রকৃত বন্ধু খুঁজে নিতে পারেন তাহলে আপনার সেই বন্ধুই আপনাকে বার বার বিপদ থেকে উদ্ধার করতে চলে আসবে আর বিনিময়ে আপনাকে কিছুই করতে হবে না। বন্ধুর সাথে ব্যাপারটা যেন কখনো,

“A friend in need & a friend in deed.” -এমন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখলে এই মানুষগুলোও আপনার জীবন সহজ রাখতে সাহায্য করবে।

 

৯) কারো সাথে প্রথম দেখায় তার সম্পর্কিত কিছু মনে রাখুন এতে তার সাথে বন্ধুত্ব সহায়ক হবে

 

নিত্যদিনের প্রয়োজনে একজন সত্যিকারের বন্ধু বানাতে আমরা সবাই চাই। এখন আমাদের মধ্যে অনেকেই বেশি খোলামেলা, সহজে সকলের সাথে মিশতে পারে না। তাদের মধ্যে জড়তা থাকে। এক্ষেত্রে আমরা বন্ধু বানাতে চাইলেও কিভাবে বানাতে পারি?

 

কাউকে বন্ধু বানাতে চাইলে প্রথম দেখায় সে আপনার ভাল বন্ধু এমনকি বন্ধুই না হতে পারে। তাই আপনার যখন তার সাথে প্রথম দেখা হবে তখন তার বিষয়ে কোন গুরুত্ববপূর্ণ বা মজার বিষয় বা এমন কিছু যা আপনার ভাল লেগেছিল তা মনে রাখবেন। পরবর্তীতে যদি সে বুঝতে পারে বা খেয়াল রাখে যে আপনার তার এই ব্যাপারগুলো মনে আছে, এটি তার ভাল লাগবে। সেও তখন তার দিক থেকে একধাপ এগিয়ে আসবে। এমনকি এমন কিছু যা আপনাদের মধ্যে মিল রয়েছে তাও আপনি তাকে জানাতে পারেন।

 

“Friendship is born at that moment when one person says to another: “What! You too? I thought I was the only one.” – C.S. Lewis

 

আসলে সত্যি কথা তাই যে, বন্ধুত্ব শুরু তখনই যখন আপনি ঠিক আপনার মনের মত আরেকজনকে খুঁজে পাবেন। এই বিষয়গুলোও আপনি তার সামনে তুলে ধরতে পারেন বা নিজেই মনে রাখতে পারেন।

 

১০) কিছু মানুষের সাথে অপ্রয়োজনেও যোগাযোগ রাখবেন, তাদের কাছে আপনার মূল্যায়ন অনেক বেশি

 

আজকাল আমরা একটা জিনিস খুব ভালভাবেই মানিয়ে চলি আর তা হল ” নেটওয়ার্কিং “। হ্যাঁ সময়ের প্রয়োজনের সাথে সাথে আমাদেরও নিজস্ব দক্ষতা বাড়াতে অন্যদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। আমরা সকলেই এমনটা করি কেননা তারা আমাদের প্রয়োজনের আসেন।

 

কিন্তু কিছু মানুষ আছেন আমাদের জীবনে যাদের সাথে হয়তোবা আমাদের সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রয়োজন থাকে না। তাই হয়তোবা সময়ের ব্যস্ততার কারণে আমাদের তাদের সাথে যোগাযোগই থাকে না। কিন্তু সেই মানুষদের আমাদের কখনওই ভুলে যাওয়া উচিত না যারা প্রয়োজন ছাড়াও আমাদের মনে রাখে, আমাদের না ডাকা সত্ত্বেও আমাদের পাশে থাকে, যাদের কাছে সব সময়ই আমাদের উপস্থিতির মূল্য থাকে। এই মানুষগুলো সব সময় বিপদে- আপদে, আপনার সুখে-দুখে আপনার পাশে থাকবে। আর এই মানুষগুলো হতে পারে যে কেউই। হতে পারে আপনার কাছের বন্ধু, আবার হতে পারে এমন কেউ যাকে আপনি কোন এককালে সাহায্য করেছেন যার বিনিময়ে তার কাছে আপনার মূল্যবোধ বেড়ে গিয়েছে।

 

দিন শেষে, ব্যস্ততার আড়ালে এই মানুষগুলোই আপনার পাশে থাকে আর এরাই আপনার জীবনযাপন সহজভাবে করতে সাহায্য করে।

 

সত্যিকার অর্থে দৈনন্দিন জীবনে এমন কোন বস্তুময় জিনিস নাই যা আপনাদের আমাদের জীবনকে সহজ করে দিতে পারে। জীবন এমনই। ছোট বড় বন্ধুর পথে ঘেরা। এই জীবনকে সহজ করতে সত্যিকার অর্থে আপনার যা দরকাদ তা হল শক্তি। আপনার মানসিক শক্তি। আপনার বোধগম্যতা, কোন কিছুকে মানিয়ে ও চালিয়ে নেওয়ার দিক এবং আপনার  দৃষ্টিভঙ্গি। উপরোক্ত কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে সেগুলো আপনার মানসিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Motivational

একাকীত্ব দূর করার ১০টি উপায়

Published

on

আপনি কি একাকীত্বে ভুগছেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১৫টি সিগারেট খেলে শরীরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয় একাকীত্বের কারণেও শারীরিকভাবে ঠিক একই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে। এবার বুঝুন একাকীত্ব কতোটা মারাত্নক আমাদের শরীরের জন্য। আপনি যতো বেশি একাকীত্বকে প্রশ্রয় দিবেন এটি ততো বেশি গ্রাস করতে থাকবে আপনাকে। ধীরে ধীরে এটা আপনাকে এতোটাই অসুস্থ করে তুলবে যে, এক পর্যায় গিয়ে আপনার সুইসাইড করার মন-মানসিকতার সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর সব কিছু অসহ্য মনে হবে আপনার কাছে।

 

“Loneliness does not mean that there is no one beside you. Loneliness means that everyone is beside you, but the one you want beside you is not with you” -Humayun Ahmed

 

আপনি যদি একাকীত্ব সমস্যায় ভুগেন তাহলে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনি কিছু টিপস মেনে চললে খুব সহজে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। তাই আজকে আমি আলোচনা করবো এমন ১০টি টিপস নিয়ে, যা আপনাকে একাকীত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে।

 

একাকীত্বের কারণ চিহ্নিত করুন

প্রথমে খানিকটা সময় নিয়ে চিন্তা করুন কেন আপনি প্রায় একাকীত্ববোধ করেন? ধরুন, আপনার উত্তর যদি হয় আপনার যথেষ্ট বন্ধু নেই তাই আপনি একাকীত্ববোধ করেন, তাহলে আপনি বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাঝে মাঝে ফ্রি সময়গুলো অসহায় শিশুদের সাথে কাটান। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। তাদেরকে কিছু উপহার দিন।

 

মেডিটেশন

আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার সকল হতাশা, একাকীত্ব, বিষণ্ণতা খুব সহজে দূর করতে পারবেন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো, ‘টেনশন মুক্তি’। বলা হয়, টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না এবং শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আমরা জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ, যেমনঃ মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

 

“The more regularly and the more deeply you meditate, the sooner you will find yourself acting always from a center of peace.” J. Donald Walters

 

ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবুন

আপনি যখনই একা থাকবেন তখন আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। আপনি চিন্তা করতে পারেন কোন কাজটি আমার জন্য ভালো হতে পারে, চাকরি নাকি বিজনেস? কী করলে আমার ভালো হবে, ব্যাংকে চাকরি নাকি সরকারী চাকরি? আপনি যখন আপনার একাকীত্বের সময় এই সকল প্রশ্ন আপনার মনকে করবেন, তখন আপনি নিজের অজান্তেই আপনার একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসবেন। নিজেকে আর একা মনে হবে না এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি বেশ কিছু ভালো চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটবে। তাই নিজের একাকীত্ব দূর করতে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করুন।

 

বই পড়ার অভ্যাস

এটা আমরা সবাই জানি, বই পড়ার অভ্যাস পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ অভ্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি যখনই ফ্রি সময় পাবেন তখনই এই অভ্যাসটি চর্চা করতে পারেন। এই অভ্যাসটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার চিন্তায় আমূল পরিবর্তন এনে দিবে। তাই এরপর থেকে আপনি আপনার অবসর সময়ে বই পড়ে কাটাতে পারেন এবং নিজের একাকীত্ব থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। আপনি যখন উপন্যাসের চরিত্রগুলো পড়বেন তখন খারাপ সময়ে তারা নানা রকম অসুবিধাগুলো কীভাবে জয় করলো তা কল্পনায় উপলব্ধি করতে পারেন এবং তাদের মতো করে আপনিও আপনার খারাপ সময়গুলো অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

 

“The reading of all good books is like a conversation with the finest (people) of the past centuries.” – Descartes 

 

পছন্দের কিছু করা

আমাদের প্রত্যেকরই কিছুনা কিছু গুণ এবং ক্রিয়েটিভিটি রয়েছে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা একা সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’লাইন কবিতা, এঁকে ফেলেন অসাধারণ একটি ছবি। নিজের একাকীত্বের সময় আপনি আপনার পছন্দের কাজটি করার মাধ্যেমেই এই একাকীত্বকে দূর করতে পারেন। আমরা যখন একা থাকবো তখন আমরা যদি আমাদের পছন্দের কাজগুলোকে সময় দেই, তখন আমাদের একাকীত্ব জানালা দিয়ে পালাবে এবং নিজেকে আরো উৎফুল্ল মনে হবে।

 

বাস্তবতা নিয়ে ভাবা

আজ আপনার বন্ধুরা যেভাবে আপনার পাশে আছে তারা সময়ের তাগিদে ভবিষ্যতে আপনার পাশে এইভাবে নাও থাকতে পারে। তাই আপনি তাদের কাছ থেকে বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধাগুলো পাচ্ছেন তা সুদূর ভবিষ্যতে নাও পেতে পারেন। তাই আপনি নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করুন। আপনি যতো মানুষের প্রতি নির্ভরশীল হবেন তার অনুপস্থিতিতে আপনার একাকীত্বতা ততোগুণ বেশি হবে। এজন্য আপনি যতো বাস্তবমুখী চিন্তা করবেন, আপনার একাকীত্ব ততোটাই কমে আসবে।

 

“Life is not a problem to be solved
But a reality to be experienced.” -Søren Kierkegaard

 

প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান

এই পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে কাছের যদি কেউ থেকে থাকে তা হলো, আপনার মা-বাবা। তাই যখনই একা অনুভব করবেন, তখন আপনি আপনার মা-বাবার সাথে আনন্দঘন সময় কাটাতে পারেন। এভাবে আপনি আপনার প্রিয়জনদের সাথে থেকেও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারেন।

 

সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ

আপনি আপনার ফ্রি সময় সমাজসেবামূলক কাজ করে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এর ফলে আপনি সমাজ ও দেশের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিতি লাভ করবেন। আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে এবং দিনশেষে আপনি আপনার একাকীত্ব দূর করতে পারবেন।

 

“The happiest people I know are those who lose themselves in the service of others.” -Gordon B. Hinckley

 

নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে বদলানোর জন্য যদি পৃথিবীতে সহজ কোনো উপায় থাকে সেটি হচ্ছে, প্রতিদিন রাতে ১৫ মিনিট নিজের সাথে কথা বলুন। সারাদিন কী কী ভুল করেছেন সেগুলো মনে করুন এবং এগুলোর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চান। পরবর্তীতে একই ভুল নাহ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। এভাবে আপনি আপনার ভিতর নতুন একজনকে আবিষ্কার করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের অবচেতন মন কিন্তু ২৪ ঘন্টা কাজ করছে। তাই ঘুমানোর আগে ভালো ভাবুন এবং সব কিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

সবশেষে যে কথাটি বলে শেষ করবো তা হলো, একাকীত্ব কোনো খারাপ বিষয় নয়। আপনি যখনই একা সময় কাটাচ্ছেন তখনই ভিন্ন কিছু করার জন্য সময় পাচ্ছেন। তাই নিজের সাথে যতোটা পারেন সময় কাটান, কিন্তু বিষণ্ণতায় ভুগবেন না। আপনি যখনই বিষণ্ণতায় ভুগবেন ঠিক তখনই আপনি একাকীত্বের ভেতর চলে যাবেন। তাই নিজের একাকীত্বকে কাজে লাগান।

 

“Walking with a friend in the darkness is better than walking alone in the light”– Helen Keller

Continue Reading

Motivational

সফল হতে এড়াতেই হবে যে বিষয়গুলো

Published

on

সফল হবার সুপ্ত ইচ্ছা আমাদের সকলের মাঝে আছে। অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অনেক কিছু এমন কিছু করে ফেলি যা আমাদের সফলতার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সফলতার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু সফলতা অর্জনের জন্য অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলা উচিত। সফলতা শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ হয়ত ঠিকমত দু’বেলা খেতে পেয়ে সফল, কারো মতে দু-চারটি গাড়ি কিনে সে সফল।

সফলতার দৃষ্টিভঙ্গি একেক জন ক্ষেত্রে একেক রকম হলেও, কিছু বিষয় যা আমাদের সফল হবার ক্ষেত্রে মেনে চললে খুব সহজেই সফলতাকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবো। সফলতা মানেই আপনাকে শিক্ষাগত যোগ্যতায় অনেক বড় হতে হবে বা আপনার দু’চারটে গাড়ি থাকতে হবে এমন নয় বরং মানসিকভাবে শিক্ষিত হওয়া এমনকি মানসিক ভাবে সফল হওয়াটা হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বাস রাখতে হবে মানসিকভাবে সফল হতে পারলেই আপনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল। কেননা আপনি যখন একজন ভালো মানুষ, তখন সেই ভালো মনুষ্যত্বের কৃতিত্ব আপনার যেকোনো সফলতাকে ছাড়িয়ে যাবেই। একজন ভাল মানুষ হিসেবে সফল হবার জন্য যে বিষয়গুলো আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলো জানাটা জরুরি। কেননা যখন আপনি সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন, ঠিক তখনই আপনি নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। জেনে নিতে পারেন একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

 

যে বিষয়টি হয়নি সেখানে আর ফিরে না যাওয়া

বিশ্বাস রাখতে হবে আপনার জীবনের যা ঘটছে তা আপনার ভালোর জন্যেই খুব হচ্ছে। আর তাই যে বিষয়টি আপনার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে বা যে জিনিসগুলো আপনার জীবনে ঘটছে না সেগুলো নিয়ে অকারণ অহেতুক ভাবনায় সময় নষ্ট করবেন না। বরং সামনে কী নতুন করা যায় সেটা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অযাচিতভাবে পুরানো ভাবনায় নিজেকে আটকে রাখা যাবে না। নতুন ভাবনাগুলোর জন্য দ্বার উন্মোচিত করে দিতে হবে। যা ঘটে গেছে তা নিয়ে পুনরায় ভেবে সময় নষ্ট করবেন না।

 

যা আপনার জন্য না তা করবেন না

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে বা যেকোন কাজ করার পূর্বে, ভেবে নেবেন সে কাজটির জন্য আপনি আসলেই যোগ্য কিনা। অথবা যে কাজটি আপনি আসলেই করতে যাচ্ছেন, তা কেন করছেন? অর্থাৎ এরকম অনেক কিছুই আছে যা আমরা অপরের খুশির জন্য বা অপরের মন রক্ষার জন্য করে থাকি। কিন্তু সবসময় মনে রাখতে হবে, নিজের আদর্শের সাথে কখনোই প্রতারণা করবেন না। আর তাই যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যায় না, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

হতে পারে আপনার আশেপাশের মানুষজন আপনাকে এক প্রকার বাধ্য করবে, সে বিষয়গুলোতে আপনাকে জড়াতে, তবুও নিজের আদর্শকে ঠিক রেখে সে বিষয়গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন, যে বিষয়গুলো আপনি মনে করেন যে বিষয়গুলো আপনার সাথে যাচ্ছে না।

 

অপরকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না

কখনোই কোন কিছু করার জন্য, কাউকে বাধ্য করবেন না। কেননা প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অবস্থান রয়েছে, যেখান থেকে সে স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবে। অবশ্যই আপনি তার শুভাকাঙ্ক্ষী জানাতে পারেন কোন কাজগুলো তার জন্য ঠিক বা ঠিক নয়। কিন্তু সেগুলোকে পরিবর্তন করার জন্য আপনি তাকে জোর করতে পারেন না। আর তাই অপরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না, এতে করে আপনার স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ণ হবে না। এমন কি নিজের আদর্শ কখনো জোর করে অপরের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

 

মানতে হবে সকলকে খুশি করা সম্ভব নয়

সকলকে সুখী-খুশি করা সম্ভব নয়। সবার মন মত আপনি সবকিছু করতে পারবেন এমনটা কখনোই সম্ভব নয়। সেই কাজগুলো করুন, যেগুলো আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখতে পারছে। অন্যকে খুশি করা অনেক বেশি কঠিন বরং নিজের সন্তুষ্টি আনাটা অনেক বেশি সহজ। আর তাই অপরকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা না করে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। কারণ আপনার নিজের একার পক্ষে সকলকে একসাথে খুশি করা সম্ভব নয়।

 

ভালো কিছুকে বিশ্বাস করুন

ভালো আর পারফেক্ট এর মাঝে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আপনি ভালোকে বিশ্বাস করতে পারবেন কিন্তু সম্পূর্ণ পারফেক্ট কোন কিছুকে বিশ্বাস করাটা ভুল। একেবারে নির্ভুল কেউ হতে পারে না, তবে চেষ্টা রাখতে হবে এমন মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে হবে, যাদের থেকে আপনি ভালো কিছু শিখতে পারবেন। আর অবশ্যই ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে হবে।

 

সব কিছুকে বড় ভাবে দেখতে হবে

কোন কাজই ছোট নয়। সকল ব্যক্তিত্বরা কখনোই কোন কাজকে ছোট হিসেবে দেখেন না। মনে রাখতে হবে একজন মানুষ যত নিম্ন কাজই করুক না কেন, সে ওই কাজটি করে আনন্দ পাচ্ছে, একই সাথে তার জীবন জীবিকা চালাচ্ছে। কাজেই প্রত্যেকটি কাজকে সম্মানের সাথে দেখতে হবে কোনো কাজই ছোট হিসেবে দেখা যাবে না।

 

বাইরের চাকচিক্য বিবেচনা যোগ্য নয়

একটি বিষয় বাইরে থেকে যতটুকুই দৃষ্টিনন্দন দেখাক না কেন, আপনার জ্ঞানী মন-মানসিকতায় ভেতরের ব্যাপারটিকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। আর তাই বাইরের চাকচিক্য দেখে সেই ব্যাপারটিকে ঠিক বা সঠিক বিবেচনা বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে ভেবে, সে বিষয়টির আসল দিকটি উন্মোচন করাই জ্ঞানী মনের কাজ। আর তাই বাইরে থেকে কোনকিছু বিবেচনা করা উচিত নয়।

 

”কেন” জিজ্ঞেস না করা

প্রতিটি বিষয়কে গভীরভাবে চিন্তা করে সে বিষয়ে সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিঃসন্দেহে আপনার জ্ঞানী মানসিকতাকে আরো বেশি দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনার যদি জানার ইচ্ছা না থাকে যে, কেন বিষয়টি এমন হয়েছে, কেন বিষয়টি এরকম নয়, তবে সে বিষয় সম্পর্কে আপনি কখনোই গভীরভাবে জানতে পারবে না। আর সফল ব্যক্তিত্বরা সর্বদাই কেন প্রশ্নটি সাথে নিজের গভীর যোগাযোগ রাখে। কেননা শুধুমাত্র “কেন” থেকেই আপনি অনেক অজানা দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন।

 

 বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করে আপনি কতটুকু ভালো জীবন যাপন করছেন

আপনার বাহ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে, আপনি কতটুকু শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন। আর তাই ব্যক্তিগত জীবনকে শান্তিপূর্ণ করাটা অনেক বেশি জরুরি। আপনার সফলতা তখনই আপনার কাছে আসবে, যখন আপনি মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে পারবেন। আর তাই ব্যক্তিগত শান্তিকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যে কাজগুলো করতে আপনি মানসিকভাবে শান্তি অনুভব করেন, সে কাজগুলো অবশ্যই গুরুত্বের সাথে করাটা প্রয়োজন।

Continue Reading

Motivational

দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই বদলে যাবে জীবন!

Published

on

আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমি দেখি হতাশায় ভুগতে। তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। আজ তাই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে সুখী একটা জীবন পাবার তিনটি উপায় বলে বলে দিচ্ছি!

 

সবকিছুকে কঠিন করে না নিয়ে সহজভাবে চিন্তা করো

 

আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি।

 

প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে!

 

আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়!

 

কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের!

 

আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

 

নিজের জীবন থেকেই খুঁজে নাও সুখ

 

একটা গল্প বলি। দুটো বাচ্চার গল্প। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে!

 

আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে!

 

নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা”

 

পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়।

 

অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

 

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দাও

 

প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে।

 

চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।

 

কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Trending