1086 Views

সুস্থ থাকার গুরুত্ব কতখানি, তা কেবলমাত্র অসুস্থ হলেই বোঝা যায় শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকে না তাই শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য আপনাকেই সচেষ্ট হতে হবে দেহকে সুস্থ, সবল আর কর্মক্ষম রাখতে হলে আমাদের জীবনের কিছু বাজে অভ্যাসসমূহকে চিরদিনের জন্য বিদায় জানাতে হবে

 

চলুন জেনে নেয়া যাক সুস্থ থাকতে চাইলে যে ১০টি অভ্যাস এখনই বদলানো উচিত:  

 

বাথরুমে বসে মোবাইল ব্যবহার করা 

 

বর্তমান সময়ে মোবাইল ছাড়া বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের এক মুহূর্তও চলে না। সারাক্ষণ  মোবাইলে গেমিং, চ্যাটিং, ফেসবুকিং চলতে থাকে। অনেকের আবার কমোডে বসে বসেই মোবাইল ঘাঁটার বাজে অভ্যাস আছে। কিন্তু জানেন কী এই বাজে অভ্যাস আপনার জন্য কত বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে?

 

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিস যতটা সম্ভব কম বাথরুমে নিয়ে যাওয়া উচিত কারণ আপনি যখনি কমোডে ফ্ল্যাশ করেন, বর্জ্য থেকে ছিটকে আসা পদার্থগুলি বায়ুর সাথে মিশে যায় যার মধ্যে জীবাণুও থাকে আপনি যদি আপনার মোবাইল ফোনটি বাথরুমে নিয়ে যান তাহলে বায়ুর সাথে মিশে থাকা জীবাণুগুলি আপনার ফোনের গায়ে লেগে যায় যা থেকে পরবর্তীতে মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে

 

সাবানের বার ব্যবহার করা

 

যে সাবান ব্যবহার করে আমরা জীবাণুমুক্ত হয়ে থাকি, সেই সাবানেই জীবাণু থাকতে পারে তা আমরা অনেকেই জানি না সাবান ব্যবহারের পর সাবানের উপরিভাগে যে পিচ্ছিল আবরন লেগে থাকে তার মাঝেও বাস করতে পারে ব্যাকটেরিয়া

 

সাবান অবশ্যই হাতকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করে, তবে একই সাবান যদি একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করে থাকেন তখন সে সাবানে  জীবাণু থাকতে পারে বিশেষ করে পাবলিক টয়লেটেরক্ষেত্রে  

 

পাবলিক টয়লেটে রাখা সাবান আপনার আগে কতো মানুষ ব্যবহার  করে গেছেন, তাদের হাতে কতো ধরণের জীবাণু আছে তা কেউ জানে না যদি একান্তই পাবলিক টয়লেটের সাবানটি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে ব্যবহারের আগে সাবানটি ভালো করে পানিতে ধুয়ে নিন তাই বার সাবানের পরিবর্তে লিকুইড সাবান ব্যবহার করাই শ্রেয়।  

 

হাত মোছার তোয়ালে শেয়ারিং করা

 

“Sharing is caring” এই কথাটি বিবেচনা করে আপনি যদি আপনার তোয়ালে অন্য কারো সাথে শেয়ার করে থাকেন অথবা অন্য কারো ব্যবহৃত তোয়ালে আপনি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার এই অভ্যাসটি আজকেই পরিত্যাগ করুন কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক ব্যক্তি একই তোয়ালে ব্যবহার করলে সে তোয়ালেতে জীবাণুর পরিমাণ বেশি থাকে তাই পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য আলাদা আলাদা তোয়ালের ব্যবস্থা করুন এবং সপ্তাহে একবার আপনার ব্যবহৃত তোয়ালে ধুয়ে দিন

 

হাত ধুতে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করা

 

ব্রিটিশরা হাত ধুতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা তাদের শরীরের জন্য উপকারী আমাদের দেশে এই সংখ্যাটা খুবই কম চিকিৎসকরা বলেছেন, মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে সময় নিয়ে হাত ধোয়া অন্যতম একটি বিষয়

 

কিন্তু আপনি কী জানেন কত সময় ধরে হাত ধুলে আপনি থাকবেন সুরক্ষিত? হাত ধুতে সময় নিন নূন্যতম ২০-৩০ সেকেন্ড চিকিৎসকরা বলেছেন, পরিষ্কারভাবে হাত ধুতে অন্ততপক্ষে সময় লাগে ৩০ সেকেন্ড সুতরাং জীবাণুমুক্ত থাকতে হলে যেকোনো ব্যক্তির উচিত ৩০ সেকেন্ড সময় হাত ধুতে ব্যয় করা

 

হ্যান্ড ড্রায়ারের ব্যবহার

 

পাবলিক টয়লেট মানেই জীবাণুর ছড়াছড়ি এসব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে পাবলিক টয়লেটের হ্যান্ড ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন লন্ডনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টমিনিস্টার সম্পাদিত গবেষণা অনুযায়ী, হ্যান্ড ড্রায়ার পেপার টাওয়ালের তুলনায় ১৯০ গুণ বেশি ভাইরাস ছড়ায়

 

কিন্তু যখন আপনি পেপার টাওয়াল দিয়ে হাত শুকাবেন, আপনার হাত দ্রুত শুকাবে ও আপনার হাতে ফ্রিকশন হবে যার ফলে ব্যাকটেরিয়া দূর হবে এবং হাত অধিকতর  পরিষ্কার হবে তাই হ্যান্ড ড্রায়ারের পরিবর্তে পেপার টাওয়াল ব্যবহার করুন এছাড়াও পাবলিক টয়লেটের কমোড, পানির ট্যাপ, দরজার হাতল ইত্যাদিতেও প্রচুর জীবাণু থাকে, এসব জিনিস ব্যবহারেও সতর্কতা অবলম্বন করুন

 

কমোডের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্ল্যাশ করা

 

অনেকেই জানেন না যে, কমোডের ঢাকনা খোলা রেখে ফ্ল্যাশ করা কতটা বিপদজ্জনক একটি টয়লেটের ফ্ল্যাশ, প্রায় দশ ফুট দূরে রাখা আপনার টুথব্রাশের ওপর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দিতে পারে তাই প্রত্যেকবার ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা নামিয়ে তারপর ফ্ল্যাশ করা উচিত

 

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাথরুমে রাখা টুথব্রাশে প্রচুর পরিমাণ জীবাণু পাওয়া যায় তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় যে, প্রতি মিনিটে কমোডের ফ্ল্যাশ থেকে মল মূত্রের জীবাণু নির্গত হতে থাকে এসব জীবাণু এসে বাসা বাঁধে বাথরুমে রাখা অন্যান্য জিনিসের উপরে তাই বাথরুম ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা বন্ধ করে ফ্ল্যাশ করুন

 

কলম মুখে দেয়া

 

আমাদের অনেকেরই কলম মুখে দেয়ার অভ্যাস আছে বিশেষ করে টেনশনে থাকাকালীন সময় মনের অজান্তেই হাতে থাকা কলমটি মুখে চলে যায়, সেইসাথে কলমের গায়ে লেগে থাকা জীবাণুও

 

আমরা অনেক সময় নোংরা জায়গায় কলম রেখে দেই, আবার অপরিষ্কার হাতে কলম ধরি, যার ফলে কলমে জীবাণু লেগে যায় আবার সেই জীবাণুযুক্ত কলম যদি আপনি মুখে দিয়ে থাকেন তাহলে আপনি বিপদের মধ্যে ফেলছেন নিজেকে

 

জন্মদিনের মোমবাতি নিভানো

 

আপনি নিশ্চয় চাইবেন না যে, আপনার জন্মদিনের কেকের উপর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ুক তাহলে কেকের উপর থাকা মোমবাতি ফু দিয়ে নিভানো থেকে বিরত থাকুন কারণ আপনি যখন মোমবাতিতে ফু দিবেন, তখন বাতাসের সাথে মুখের ভিতর থাকা জীবাণু ছড়িয়ে পড়বে যদিও এসব জীবাণু থেকে অসুস্থ হবার সম্ভাবনা খুবই সামান্য তারপরেও সুস্থ থাকতে হলে আমাদের এসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত

 

দাঁত দিয়ে যেকোনো জিনিসের ঢাকনা খোলা

 

আমরা অনেক সময় যেকোনো জিনিসের ঢাকনা বা বোতলের ছিপি খোলার জন্য দাঁতের ব্যবহার করে থাকি কিন্তু এর ফলে সে জিনিসের গায়ে লেগে থাকা জীবাণু আমাদের মুখের ভিতর চলে যায় এছাড়াও দাঁত দিয়ে শক্ত কিছু খোলার চেষ্টা করলে অনেক সময় দাঁত ভেঙ্গে যায়, ফেটে যায় ও ফাটল ধরে কমে যায় দাঁতের আয়ু

 

কম্পিউটার ডেস্কে বসে নাস্তা করা

 

আমরা অনেকেই কম্পিউটার ডেস্কে বসে খাওয়া দাওয়া করি, বিশেষ করে অফিসে থাকাকালীন সময় সম্প্রতি একদল মাইক্রোবায়োলজিস্ট গবেষণা চালান লন্ডনের অফিসগুলোতে সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় কীবোর্ডের নমুনা সেগুলো পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে কয়েকরকম পোকাসহ ই-কোলি এবং এস অ্যাউরিয়াস নামক দুটো ভয়ঙ্কর ব্যাকটেরিয়া যা চামড়ার উপর ক্ষত তৈরি করে মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে

 

বিজ্ঞানীরা কীবোর্ড এবং লন্ডনের একটি সাধারণ অফিসের বাথরুমের তুলনা করে দেখিয়েছেন যে, গবেষণায় ব্যবহৃত একটি  কীবোর্ডে বাথরুমের কমোডের চাইতে ৫ গুণ বেশি নোংরা এবং এর মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ সহনীয় মাত্রার ১৫০ গুণ বেশি

 

গবেষণায় এই জীবাণু দূষণের প্রথম কারণ হিসাবে বলা হয়েছে কম্পিউটার ডেস্কে বসে খাওয়া দাওয়া করাকে এতে বেশ কিছু খাদ্যকণা এবং পানীয় ফোঁটা কীবোর্ডের চাবিগুলোর ফাঁকে ঢুকে পরে যা পরবর্তীতে আর স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠে না ফলে এর সাথে বাতাসের আদ্রর্তা এবং ধুলো মিশে তৈরি হয় জীবাণু যা স্বাভাবিকভাবে খাবার সময় আমাদের হাতের মাধ্যমে পেটে ঢুকে পড়ে তাই কম্পিউটারের পাশে বসে পানাহারের অভ্যাস পরিত্যাগ  করুন।  

 

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল শরীর ঠিক তো সব ঠিক তাই উপরোক্ত অভ্যাসগুলি পরিত্যাগ করুন এবং সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করুন

 

আরও পড়ুনঃ নিয়মিত কম ঘুম হবার প্রভাব

Nabila Chowdhury

Blog Writer - SpikeStory

More Posts

Follow Me:
facebook LinkedIn twitter