Connect with us

Productivity

নিজের কর্মক্ষমতা বাড়াতে চাইলে যে ১০টি অভ্যাস বদলানো উচিত

Published

on

আপনার কর্মক্ষমতা কী দিন দিন কমে যাচ্ছে? আপনি কী আগের মত কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না? আমরা অনেকেই জানি না যে, কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পিছনে আমাদের নিজেদেরই কিছু বাজে অভ্যাস দায়ী। সুতরাং কর্মক্ষমতা বাড়াতে চাইলে কিছু অভ্যাসসমূহকে  চিরদিনের জন্য বিদায় জানাতে হবে।

 

তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক নিজের কর্মক্ষমতা বাড়াতে চাইলে যে ১০টি অভ্যাস বদলানো উচিত:

 

অতিরিক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করলে মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য নানা উপহার নিয়ে এসেছে তবে সেইসাথে এই প্রযুক্তিগুলো কেড়ে নিচ্ছে মানুষের মনোযোগ। গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে কোনো মেইল বা নোটিফিকেশন কাজের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে।

 

কিন্তু শুধু একটি ফোন কল বা একটি মেইলই কী মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে? মনোসংযোগে ব্যাঘাতের ফলে আমাদের কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে কী? যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেলি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের মনোসংযোগে ক্রমাগত ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, অফিসে কাজের সময় প্রতি ১১ মিনিট অন্তর কাজের মনোসংযোগে বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু একবার মনোসংযোগ বিঘ্ন হলে আবার মনোসংযোগ ফিরিয়ে আনতে গড়ে ২৫ মিনিট সময় লাগে।

 

তার মানে হচ্ছে, আপনি যদি আপনার কাজ রেখে বার বার আপনার মোবাইল বা মেইল চেক করেন, তাহলে নতুন করে আপনার কাজের প্রতি মনোসংযোগ ফিরিয়ে আনতে ২৫ মিনিট সময় লাগবে। কাজের সময় এভাবে বার বার মনোসংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে অবশ্যই আপনার কর্মদক্ষতার উপর খারাপ প্রভাব পড়বে।

 

কাজের সময় ইমেল চেক করা

 

অনেকেই কাজের সময় ই-মেইল চেক করে থাকেন যা কাজের মধ্যে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। আপনার আসা ই-মেইলগুলোর জবাব দিতে কতটুকু সময় ব্যয় করবেন তা আগেই ঠিক করে নিন। একদিনে আপনি অনেক ই-মেইল পেতে পারেন কিন্তু এর মধ্যে সবগুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে না নিশ্চয়ই। গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে ই-মেইলগুলোর জবাব দিন। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় এতে ব্যয় করবেন না কখনোই।

 

ঘুমের সময় ঠিক না রাখা

 

এই ব্যস্ত জীবনে কম বেশি সবারই রাতে দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া হয়। কর্মক্ষমতা বাড়াতে চাইলে প্রথমে এই অভ্যাসটি দূর করতে হবে। কারণ রাতে দেরিতে ঘুমাতে গেলে ঘুম পুরো হয় না, যার ফলে পরের দিন কাজের উপর ফোকাস দেয়া যায় না। আবার একেকদিন একেক সময় ঘুমোতে গেলে ঘুমের পরিমাণ ও সময় উল্টাপাল্টা হয়ে একটি বদ অভ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাই চেষ্টা করুন, রাতে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে ঘুমাতে যাবার। আর তা থেকে ঠিক ৬-৭ ঘণ্টা পর ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন। নিয়মিত একটু তাড়াতাড়ি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে গেলে ও ভোরে ঘুম থেকে উঠলে তা একসময় অভ্যাসে পরিণত হবে।

 

মাল্টিটাস্কিং

 

গবেষকরা মনে করেন, একসঙ্গে একাধিক কাজ করলে মস্তিষ্কের পক্ষে কোনো কাজই ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না এবং মস্তিষ্ক কোনো কাজেই মনোসংযোগ করতে পারে না। আমাদের মস্তিষ্ক যখন একসাথে একাধিক কাজে মনোযোগ দিতে থাকে, তখন মস্তিষ্কে চাপের সৃষ্টি হয় যার ফলে কাজের মান খারাপ হয় এবং ভুল করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

 

অতিরিক্ত কাজ করা

 

আপনার সামর্থ্যের চেয়ে অধিক কাজ করবেন না। অনেকেই আছেন যারা কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পরলেও বিরতি নিতে চান না। একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, একদিনে অত্যাধিক কাজ করলে শুধুমাত্র আপনার কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় না বরং আপনার পরের দিনের কাজের গতিকেও রোধ করে। যখন কাজের চাপে অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়বেন তখন সকল প্রকার কাজ থেকে কিছুক্ষনের জন্য নিজেকে বিরত রাখুন।

 

ঘুমানোর সময় ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করা

 

অনেকেই বুঝতে পারেন না, এই বাজে অভ্যাসটি তাদের কর্মক্ষমতা আর উৎপাদনশীলতার উপর কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। অনেকেই ঘুমানোর সময় ট্যাব, ল্যাপটপ বিশেষ করে মোবাইল ফোন বিছানায় নিয়ে ঘুমাতে যান। এসব থেকে যে নীল রঙের আলো নির্গত হয় তা মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে বলে ঘুম নষ্ট হয়। রাতের অন্ধকারে স্ক্রিনের আলো আমাদের চোখের রেটিনার জন্য ক্ষতিকর। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা যায়, অধিক রাত পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারের ফলে পরবর্তী দিনের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

 

অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস

 

যদি মনে করেন, চিনি এনার্জি বাড়ায় তাহলে আপনি ভুল জানেন। চিনি ঠিক তার উল্টোটা করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অতিরিক্ত চিনি খেলে কমে যায় কর্মক্ষমতা। এছাড়াও হতাশা, ভুলে যাওয়া, মস্তিষ্ক কম কাজ করা ইত্যাদি সবকিছু অতিরিক্ত চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার সাথে জড়িত।

 

সব সময় নেতিবাচক চিন্তা করা

 

আপনার চিন্তা-ভাবনা ইতিবাচক হতে হবে। সারাক্ষণ নেতিবাচক চিন্তা করতে থাকলে আপনি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন যা আপনার কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে দিবে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনের সবকিছুই সহজ ও সুন্দর করে তোলে। যখন আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে, পড়াশোনা বা অন্য কোনো ব্যাপারে কর্মদক্ষতার কমতি অনুভব করবেন তখন ইতিবাচকভাবে সবকিছু চিন্তা করার চেষ্টা করুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে আপনার কর্মক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

 

কম পানি পান করা

 

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে আপনার শারীরিক কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি আপনার শরীর থেকে যদি মাত্র দুই শতাংশ পানি কমে যায় তাহলে আপনার কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। একারণে আপনি অল্পতেই ক্লান্ত বোধ করবেন। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সকল কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কোন কাজই করতে ইচ্ছা করে না।

 

ধূমপানের কারণে কর্মকক্ষমতা হ্রাস পায়

 

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই ধূমপান করে থাকি। ধূমপান মানুষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্টের রক্তনালী সরু হয়ে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা, যৌন ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা ক্ষতিকর দিক রয়েছে। শুধু ধূমপান নয়, সব ধরণের নেশাজাতীয় দ্রব্য আমাদের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

 

সুতরাং, কর্মক্ষমতা বাড়াতে চাইলে উপরোক্ত অভ্যাসগুলো বদলানোর চেষ্টা করুন, দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার কর্মক্ষমতা আগে থেকে আরো বৃদ্ধি পাবে। আর যদি কর্মক্ষমতা বাড়ে তাহলে কাঙ্ক্ষিত সফলতা নিঃসন্দেহে আপনার হাতে ধরা দিবে। 

Productivity

যানজটে কাটবে সময় দারুণ ৩টি উপায়ে!

Published

on

কেবল ঢাকা শহরেই প্রতিদিন যানজটে নষ্ট হয় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা! যানজট আমাদের জীবনে নিত্যদিনের এক ভোগান্তির নাম। কিন্তু কিছু কৌশল কাজে লাগালে যানজটের এই সময়টিই চমৎকার গঠনমূলকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এমনই তিনটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে লেখাটিতে।

 

অডিও বুক

যানজটে সময় পার করতে সচরাচর কী করি আমরা? গান শুনি! কেমন হয় যদি গান শোনার বদলে বই শুনি?

আগে আমিও যানজটে বসে বসে গান শুনতাম। কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা হলো – বিনোদন ছাড়া গান শোনার তেমন উপযোগিতা নেই। অথচ বই শোনায় বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে জানার, শেখার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

বাংলার বদলে ইংরেজি অডিও বুক শোনার অভ্যাস করলে ভাল, শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও একবার অভ্যাস হয়ে গেলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে – বইটাও শোনা হয়ে গেল, ইংরেজির দক্ষতাও বৃদ্ধি পেল। বেশিরভাগ ইংরেজি বইয়ের অডিওবুক একটু গুগল করলেই পেয়ে যাবে। ইউটিউবেও মিলবে চমৎকার সব অডিও বুকের খোঁজ।

অডিও বুকের ব্যাপারে জানা হলো, কিন্তু কোন বই শুনবো সেটি কীভাবে ঠিক করবো? আমার পরামর্শ হচ্ছে অহেতুক গল্পের বই না শুনে গঠনমূলক কিছু শোনা। হতে পারে সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্পগাঁথা (Biography), অথবা সফল ব্যক্তিদের অনুপ্রাণিত করেছে যেসব বই।

বিল গেটসের প্রিয় বই সম্পর্কে গুগল করলেই একসাথে দারুণ অনেকগুলো বইয়ের খোঁজ মিলবে। আমি নিজের পছন্দের কিছু বই, এবং যেগুলো পড়বো ঠিক করেছি এমন কিছু বইয়ের নাম তুলে ধরছি-

 

The Alchemist

The Art of War

Rich Dad Poor Dad

Drive

Think and Grow Rich

Eat that Frog!

The Power of habit

Blink

Tools of Titans

Long Walk to Freedom

Wings of fire

When Breath Becomes Air

এ তো গেল বইয়ের কথা। বই শোনার চেয়েও আমার বেশি পছন্দ পডকাস্ট শোনা। (পডকাস্ট মানে রেডিও বা অনলাইনে একরকম শো, যেখানে অনেকটা আড্ডার মতো করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।) হয়তো তোমার পছন্দ মুভি দেখা, সুতরাং গুগল করতে পারো তোমার প্রিয় পরিচালকের ইন্টারভিউ শোনার জন্য।

যেমন Eli Roth একজন হরর মুভি নির্মাতা, আমার বেশ পছন্দের মানুষ। আমাজন জঙ্গলের নরখাদকদের নিয়ে তাঁর একটি মুভি রয়েছে। সেটি বানাতে গিয়ে তাঁকে আমাজনে দুর্গম অঞ্চলে সভ্যতা বিবর্জিত আদিবাসীদের সাথে অনেকদিন কাটাতে হয়েছে – সেই রোমাঞ্চকর গল্প যেন কল্পনাকেও হার মানায়!

পডকাস্ট ছাড়াও আরেকটি চমৎকার জিনিস রয়েছে – বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল। তোমরা অনেকে নিশ্চয়ই Ted talk সম্পর্কে জানো। এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা, জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা ইত্যাদি শেয়ার করে।

আমার মনে আছে একটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল রাউন্ডে আমার প্রেজেন্টেশন, আমি কিছুতেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল কেবল হাল ছেড়ে দেই! উপায়ান্তর না দেখে এক বন্ধুকে মেসেজ দিলাম। সে কিছু বললো না, শুধু একটা লিঙ্ক পাঠালো, একটি টেড টকের- “A dialogue to kill the fear of public speaking” by Animesh Gupta.

মাত্র বিশ মিনিটের সেই ভিডিওটি আমার মানসিকতার খোলনলচে বদলে দিলো! প্রেজেন্টেশনের ভয়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে জয় করার একটা প্রবল তাগিদ চেপে বসলো মনে। এরকম হাজার হাজার টেড টক রয়েছে ইউটিউবে, যেগুলোর যেকোন একটিই যথেষ্ট তোমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য।

Ted Talk ছাড়াও আমার খুব প্রিয় কিছু চ্যানেল- Impact Theory, Goalcast, Gary Vee, Be Inspired, Evan Carmichael। তোমরাও তোমাদের পছন্দের ইউটিউব চ্যানেলের কথা কমেন্টে লিখে শেয়ার করো সবার সাথে।

 

ভোক্যাবুলারি

বছরের শুরুতে আমরা সবাই কিছু না কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করি। অনেকেরই লক্ষ্যের তালিকায় প্রথম সারিতে থাকে – “ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া”। দক্ষ হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ ভোক্যাবুলারির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।

ডিকশনারি ধরে “প্রতিদিন ১০টা শব্দ শিখবো, তাহলে বছরে সাড়ে তিন হাজার শব্দ শেখা হবে!” – এভাবে আসলে বেশিদূর আগানো হয় না! আমাকে ভোক্যাবুলারি শেখায় সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে দুটো জিনিস।

Word Smart নামে দুই খণ্ডের একটি বই আছে। সেখানে প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ, অর্থ এবং ব্যবহার দেখিয়ে অসাধারণ হাস্যরস সম্বলিত একেকটি বাক্য রয়েছে। বইটি পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয়নি ভোক্যাবুলারি শিখছি, মনে হয়েছে যেন গল্পের বই পড়ছি!

বইটি মোটামুটি সবখানেই পাওয়া যায়, আরো সহজ হয় PDF ডাউনলোড করে নিলে।

Vocabulary Course নামে ইউটিউবে Farhad Hossain Masum ভাইয়ের অসাধারণ একটি ভিডিও সিরিজ রয়েছে (এটির কথা আমি সুযোগ পেলেই বলে থাকি!) উনি একদম সহজ করে, অনেক মজার মজার উদাহরণ দিয়ে অনেকটা গল্প করার মতো করে ভোক্যাবুলারি শিখিয়েছেন ভিডিও গুলোয়। এটি নিয়ে Vocabuilder নামে একটি বইও রয়েছে।

ভোক্যাবুলারি শেখার জন্য বই আর ভিডিওর খবর জানলাম, কিন্তু যতো শিখি ততোই যে ভুলে যাই তার সমাধান কী? ফ্ল্যাশকার্ড এক্ষেত্রে দারুণ কাজে দিতে পারে। একটি ছোট কাগজে একটি শব্দ লিখে কাগজের উল্টো পাশে সেটির অর্থ লিখতে পারো।

‘অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই?’

আমার এক বন্ধু এরকম শ’খানেক ফ্ল্যাশকার্ড সাথে নিয়ে ঘুরে সবসময়! আরো সহজ উপায় স্মার্টফোনের ডিকশনারি। আমি নতুন কোন শব্দ শিখলেই সেটি ডিকশনারিতে বুকমার্ক করে রাখি। সময় পেলেই বুকমার্কের শব্দগুলো দেখে নিই, যতোদিন না সেগুলো একদম অন্তরে গেঁথে যায়।

 

ফেসবুক

ফেসবুক ব্যবহার করো না এমন কেউ কি এখানে আছো? খুব সম্ভবত, এই লেখাটির খোঁজও তুমি ফেসবুক থেকেই পেয়েছো! ফেসবুকে প্রচুর সময় নষ্ট হয় – এটি নিয়ে সবারই কম-বেশি অনুযোগ আছে, আবার এটি ছাড়া চলেও না – মহা মুসিবত! কেমন হয় যদি ফেসবুক হয়ে উঠে তোমার শিক্ষক?

যেমন ধরো, আমি টুকটাক ব্লগ লিখি। অনেকে জিজ্ঞেস করে লেখার রসদ কোথায় পাই? ফেসবুকের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তুমি যে জিনিস সার্চ করবে, যেরকম পেইজে লাইক দেবে – ওরা ঘুরেফিরে সেরকম আরো কনটেন্ট তোমাকে সাজেস্ট করতে থাকবে।

আমি ঘুরে ঘুরে লেখালেখির কাজে আসে এমন অনেক পেইজে লাইক দিয়ে রেখেছি, তাই ফেসবুকে ঢুকলেই দারুণ কিছু না কিছু টপিক পেয়ে যাই!

আরেকটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ – তোমার ফ্রেন্ডলিস্ট। ফেসবুকে সৃজনশীল যেই মানুষগুলো আছে, যারা ছবি আঁকে, গান গায়, লেখালেখি করে, বিতর্ক করে, ভিডিও বানায়, নিজেই ব্যবসা চালায়, নানারকম গঠনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করে – আমি খুব চেষ্টা করি এমন মানুষদের সাথে কানেক্টেড হতে।

সুতরাং ফেসবুক আমার জন্য সময় নষ্ট নয়, বরং চমৎকার শিক্ষামূলক একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুকে ঢুকলেই দেখি এতো এতো মেধাবী মানুষজন অসাধারণ সব কাজ করে চলেছে – সেগুলো শেখার পাশাপাশি অনুপ্রেরণা যোগায় অনবরত।

Continue Reading

Productivity

অফিস মিটিং সফল করার কৌশলাদি

Published

on

আপনি রবিবার সকালে অফিসে আসলেন এবং এসেই জানতে পারলেন কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার মিটিং শুরু হবে। কিন্তু আপনার কিছুই গোছানো হয়নি। কী করবেন এই মূহুর্তে আপনি? আমরা মিটিংয়ে প্রায়ই বেশ কিছু ভুল করি যা মোটেও কাম্য নয়। যার ফলে অনেক সময় নষ্ট হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফলও পাওয়া যায় না।

 

মিটিংগুলোতে আমরা মূলত যে সমস্যাগুলোতে পড়ি

 

ব্যবসায় লাভ অথবা বিক্রি কতো হলো এইসব বিষয়ে যখনই কোনো মিটিং হয় কিছু বিষয় বরাবরই একই থাকে সেগুলো হলো, কেমন সেলস হলো, কাদের সাথে মিটিং হয়েছে, কাজটি কেমন ছিল ইত্যাদি। এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে একজন যদি কম করে হলেও ৬ মিনিট নেয় তবে মিটিংয়ে ৬ জন উপস্থিত থাকলে এক ঘন্টা সবার অভিব্যক্তি শুনতেই শেষ হয়ে যাবে। এটাই কী একজন কর্মীর সময়ের সঠিক ব্যবহার!

 

বার্ষিক সেলসের উপর যে মিটিং হয় তাতে বিগত সময়ে কী কী করা হয়েছিল সে সম্বন্ধে কথা বলা হয়। প্রত্যেক কর্মী যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিট মিটিং কী নিয়ে এবং সেজন্য কী কী করা হয়েছিল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকে, তবে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দেখা যায়, একদম শেষে এসে মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা নিয়ে কথা শুরু করা হয়, কিন্তু সময়ের অভাবে আসল বিষয় নিয়েই কথা শেষ করা সম্ভব হয় না। প্রজেক্ট মিটিংয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু ভবিষ্যতে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে অন্যদের কাছ থেকে অভিমত নেয়ার সময় হয় না।

 

বোর্ড মিটিংয়েও একই ধরণের সমস্যা হয়। কে কী করেছে এইসব প্রশ্ন ও উত্তরের মাঝখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নিয়ে একদম শেষে কথা বলা হয় যখন হাতে আর সময় থাকে না।

 

মিটিং কখন সফল হবে?

 

এবার আসা যাক তাহলে মিটিংয়ে কী নিয়ে আলোচনা করা উচিত। মিটিং মূলত খুব ছোট সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করা উচিত যেন বর্তমান অবস্থা, তাতে কী সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা যায়। কেননা সময় খুবই মূল্যবান সেটা কর্মকর্তা আবার পরিচালক যেই হোক না কেন। তাই মূল বিষয় নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত জরুরি।

 

সহকর্মীদের সাথে আগেই শেয়ার করুন

 

আপনি বর্তমানে কী করছেন, অতীতে কী করেছেন অথবা কোন কাজটি আপনি ভবিষ্যতে করবেন সেই বিষয়ে আপনার সহকর্মীদের জানিয়ে দিন। মিটিং আলাদা করে রিপোর্ট পড়ে সময় নষ্ট করার কী দরকার! আপনি কোন কাজগুলো করেছেন তার দিকে দৃষ্টি দেয়া থেকে কাজটি অর্জনে আপনার কী করা উচিত সেদিকে ফোকাস করুন। তাহলে সহকর্মীরাও বুঝতে পারবে আপনার দায়িত্বগুলো। এছাড়া আপনার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও আপনার দায়িত্বগুলো সম্পর্কে অবগত থাকবেন। পরবর্তীতে আপনাকে কতটুকু দায়িত্ব দেয়া উচিত, আপনার যোগ্যতা কতটুকু তাও বুঝে যাবে। এর ফলে নতুন কাজের দায়িত্ব বন্টণ করাও সহজ হয়। কারণ, এক বসায় কে কোন কাজ করছে সহজে নোট করে ফেলা যায়।

 

সমস্যা এবং সমাধানের নোট তৈরি করে ফেলুন

 

আপনি যখন আপনার কাজের রিপোর্ট তৈরি করবেন আগে থেকেই নোট করে রাখুন কোন জায়গাটায় আপনি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অথবা কোথায় আপনার সাহায্য লাগবে। যেমন ধরুন, আপনার সেলস রিপোর্ট তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে যার জন্য সেই কাজটিতে সহকর্মীদের সাহায্য লাগবে। সে ব্যাপারে মিটিংয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কথা বলুন। আবার এমনও হতে পারে, আপনার বার্ষিক বাজেট তৈরি করতে হবে কিন্তু কিছু হিসাব মিলছে না এ ব্যাপারগুলো মিটিংয়ে তুলে ধরুন।

 

তাহলে অহেতুক সময় নষ্ট হবে না। সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে আপনার কাজটি আরো সুন্দর করে করতে পারবেন।

 

ভবিষ্যত পদক্ষেপের লিস্ট করে ফেলুন

 

মনে রাখবেন, একটি ফলপ্রসূ মিটিংয়ে আপনি বর্তমানে কী অবস্থানে আছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং ভবিষ্যতে কী করতে চান বা কোম্পানিকে কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে চান সে বিষয়ে আলোচনা করুন। মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা এটাই হওয়া উচিত যে, কোম্পানির লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কেমন হবে। হতে পারে, আগামী মাসে সেলস কতো আশা করছেন অথবা কোন কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি করবেন এ বিষয়গুলো সহকর্মীদের জানিয়ে রাখুন।  

 

আপনি যদি পরিচালক হোন তাহলে আপনার লক্ষ্যগুলো কর্মীদের সামনে আবার পরিষ্কার করুন।  এতে করে তারাও বুঝতে পারবে আপনি তাদের কাছ থেকে কী চাচ্ছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কী করা প্রয়োজন তার সঠিক গাইড লাইনও পাবে৷ অনেকে মিলে যখন আইডিয়া দেয় তখন কম সময়ে অনেক নতুন নতুন বিষয় সামনে চলে আসে৷

 

বিভাগ ভিত্তিক অগ্রগতি নিয়ে কথা বলুন

 

মিটিং বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। কোনোটা বিশেষ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে, কোনোটা আবার নির্দিষ্ট বিভাগ ভিত্তিক হয়ে থাকে। যখন মিটিংগুলো হয় সহকর্মীরা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করার, বিশেষ করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার একটি পাইপলাইন পায়। বিভিন্ন বিভাগগুলো যখন ঠিক মতো কাজ করে তখনই একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়। তাই মিটিংয়ে বিভিন্ন বিভাগগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলুন। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে জানার চেষ্টা করুন। সকল বিভাগ একটি আরেকটির সাথে ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটি নিশ্চিত করুন।

 

পরিবর্তনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা

 

আপনার কোম্পানির লোকসান হচ্ছে অথবা বাজারে শেয়ার পড়ে গেছে কিংবা কর্মীরা সন্তুষ্ট নয়! এধরণের বিষয়গুলোতে সমাধানে আসার জন্য মিটিং হতে পারে খুব সুন্দর একটি মাধ্যম। সকলের অভিমত জানুন। আপনি কী ভাবছেন তাও পরিষ্কার করুন৷ এতে করে আপনার ও তাদের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল তা আর থাকবে না এবং খুব অল্প সময়ে সহজ সমাধানে আসা যাবে। পরিবর্তন নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে অথবা কোম্পানির কালচারেও হতে পারে। তাই নতুন কোনো পরিবর্তন আনার আগে সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করুন। তারা কী চাচ্ছে জানুন, তারা কী আদৌ সে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত কিনা বুঝার চেষ্টা করুন। কেননা পরিবর্তনটা তাদের নিয়েই এবং তাদের দিয়েই সম্ভব।

 

কর্মক্ষেত্রে প্রতিটা মুহূর্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রত্যেকটা কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হয়। তাছাড়া আপনার প্রতিযোগী তো আছেই তাদের টক্কর দেয়ার জন্য হলেও আপনাকে যথেষ্ট সচেতন এবং বুঝে পদক্ষেপ নিতে হবে। মিটিং হচ্ছে একটি অন্যতম মাধ্যম যেখানে সিনিয়র-জুনিয়র একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মতামত বিনিময়ের সুযোগ পায়। তাই মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি সেগুলো নিয়েই কেবল আলোচনা করা উচিত। তাহলে একদিকে সময় যেমন অপচয় হবে না, তেমনি মিটিংয়ের উদ্দেশ্যও বাস্তবায়িত হবে। 

Continue Reading

Productivity

সামনে পরীক্ষা! চিন্তিত? জেনে নাও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল

Published

on

ধরো কাল তোমার পরীক্ষা, রাত জেগে পড়ার টেবিলে বসে আছো।
ঘুম আসছে না তোমার
হঠাৎ করে ভয়ার্ত কন্ঠে উঠে আমি বললাম-
ভালোবাসো? তুমি কি রাগ করবে?

 

– ভালোবাসি, ভালোবাসি
                       সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

 

কবিতাটা সুন্দর না? প্রতিউত্তরে নাহয় আপনার ‘হ্যাঁ’ টাকেই ভেবে নিচ্ছি! কিন্তু, একটা ব্যাপার একটু লক্ষ্য করলেই আপনি দেখবেন, পরীক্ষার ঠিক আগে আপনার পছন্দের সাথে অপছন্দের সারির সব জিনিসগুলোও করতে আপনার বেশ ভালোই লাগছে। যেমনটা ধরুন, অবসরে টিভির সবকটা চ্যানেল ঘুরে পছন্দসই কোনো কিছু না পেলেও, পরীক্ষার আগে সব আপনার পছন্দের প্রোগ্রাম পেয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তখন যেন রাজ্যের সবার ঘুম জড়ো হয় দু’চোখের পাতায় বা অযথা আনমনে ভাবনার আনাগোনাও যেন বেড়ে যায়। মোটকথা, এভাবেই আমাদের সবার পরীক্ষার একাংশ চিত্রের সূচনার সমাগম ঘটে।  

 

যাকগে, আমরা আবার কবিতায় ফিরে যাই। এখন কবিতার সেই কথাগুলো আবার ভাবুনতো, আপনি কী রাগ করবেন নাকি করবেন না? তবে এখানে রাগ করাটাই স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায়। কারণ, পরীক্ষা যখন দরজার করিডোরে কড়া-নাড়ে তখন সারা বছর কী করেছি না ভেবে রাত জেগে কারো শেষ প্রস্তুতি হয়, মশার ন্যায় গুঞ্জনে বা করো নীরবে। তবে অনেক সময়ই  সারাবছর খুব পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থী তাদের আশানুরূপ ফল পায় না। এর কারণ হতে পারে, পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র লেখার কিছু কৌশল অবলম্বন না করা। তাই আপনার পরীক্ষার শেষ প্রস্তুতির সাথে ঝালাই করে নিন কিছু কৌশল:

 

উওরপত্রের টুকিটাকি

 

আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন যারা উওরপত্র পাওয়ার সাথে সাথেই লিখা শুরু করে দেন। পরবর্তীতে বেশখানিকটা লিখতে লিখতে আবিষ্কার করলেন, খাতাটাই ছেড়া বা এতে অন্য কোনো সমস্যা আছে। অথচ এই দিকে পরীক্ষার অনেকটা সময়ও শেষ আর আপনাকে নতুন করে আরেকটা উওরপত্র দেওয়াও যাচ্ছে না। তাই পরে হায়-হুতাশ না করে প্রথম কাজই হচ্ছে, লেখা শুরু করার পূর্বে উত্তরপত্র যথাযথ আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখে নেয়া। ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কেননা কোনো কোনো সময় এ ধরণের উত্তরপত্র জমা দিলে অসৎ উপায় অবলম্বন করা হয়েছে বলে পরীক্ষক সন্দেহ করতে পারেন। যেটা পরীক্ষার্থীদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে এবং কোনো কোনো সময় রেজাল্টেও সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

 

তথ্যসমূহ নির্ভুলভাবে পূরণ

 

‘কিরে বন্ধু! প্রিপারেশন কেমন? আমি তো ঠিক মতো সবটা পড়তেই পারিনি’ বা অপরিচিত কারো সাথে বসলে ‘কোন প্রতিষ্ঠান/ নাম কি?’ এমন নানা খোশগল্পে উওরপত্র পূরণের সাথে সাথে পরীক্ষার শুরুতেই আমরা অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি। অথচ কখনো কখনো দেখা যায়, উত্তরপত্রে রোল নম্বর না লেখা, ভুল লেখা, সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট না করার কারণে পরীক্ষার খাতায় ভালো লিখেও নাম্বার পাওয়া যায় না বা অনেকক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল স্থগিত হয়ে যায়। তাই, উত্তরপত্রের নির্ধারিত স্থানে পরিষ্কারভাবে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ভালোভাবে লিখতে হবে ও সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কিনা তা চেক করে বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করতে হবে। সুতরাং, এই বিষয়টাতে পরীক্ষার্থীকে অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন থাকতেই হবে।

 

হাতের লেখার সমান গুরুত্ব

 

কমবেশি আমরা সবাই সুন্দরের পূজারী, এক্ষেত্রেও তার উল্টোটা নয়। কিন্তু, হাতের লেখা সুন্দরই হতে হবে এমনটাও নয়। তবে হ্যাঁ, হতে হবে পরিষ্কার। ধরুন, আপনি আর আপনার একজন বন্ধু কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন। আপনি বেশ পরিপাটি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েই গেলেন, অন্যদিকে অপরজন বাসার পুরোনো কোনো পোশাকে কোনো রকমে বেরিয়ে পড়লেন। এখন বলুন, সবচেয়ে ভালো আকর্ষণ কাজ করবে কার প্রতি? অবশ্যই আপনার! ঠিক পরীক্ষার খাতায়ও পরীক্ষক যখন অনেক উওরপত্রের মধ্যে যেগুলোর লেখা পরিষ্কার বা সুন্দর দেখেন তারও তখন একটা আলাদা মনোভাব তৈরী হয়। তাই চেষ্টা করতে হবে সঠিক দূরুত্ব বজায় রেখে এবং একটু কাটা-ছেঁড়া কম করে লেখার। কারণ, অনেকেই আবার কাটা গেলে সেটা বারবার কাটতেই থাকেন এতে লিখার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। তাই কিছু ভুল হলে সেটা ঘষামাজা না করে কাটতে হবে একটানে।

 

লিখার কিছু কৌশল

 

“এতো ভালো পরীক্ষা দিলাম তারপরও কী নাম্বার পেলাম, মনে হয় আমার খাতাটাই ঠিক মতো দেখেনি!”  আশানুরূপ ফলাফল না পেয়ে আমরা অনেকেই এই ধরণের কথা বলে থাকি। কিন্তু আমাদের কোথাও না কোথাও যে একটু হলেও ঘাটতি ছিলো আমরা সেটাই ভুলে যাই। তাই, ভালো প্রিপারেশনের সাথে তার উপস্থাপনাও সমান তালে বিবেচ্য। তাই জানতে হবে লিখার কৌশল। যেমন:

 

১। প্রশ্ন পাওয়ার পূর্বেই অবশ্যই বায়ে ও উপরে ১ স্কেল (এক/সোয়া এক ইঞ্চি) মার্জিন রাখতে হবে। তবে লুজ সীটে সময় না থাকলে মার্জিনের পরিবর্তে শুধু ওপরে ও বাঁয়ে ভাঁজ করে নিন।

 

২। হিবিজিবি ভাবে লিখলে শিক্ষকের চোখে মূল বিষয় বস্তুগুলো পরে না। তাই চেষ্টা করুন প্যারা, পয়েন্ট, কোটেশন বা রেফারেন্স দিয়ে লিখার। এক্ষেত্রে, ব্যবহার করুন নীল/সবুজ কালি। এতে পরীক্ষকের সহজে চোখে পড়ে। তবে নানা রকম অতিরঞ্জিত কালি ব্যবহার না করাই ভালো। কেননা, অনেকে সময় সেটা খাতায় বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

৩। কোনো প্রশ্নের উওর এক পৃষ্ঠার অধিক জায়গা লাগলে তখন অসম্পূর্ণ উত্তরে বাংলার ক্ষেত্রে অ.পৃ.দ্র. এবং ইংরেজির ক্ষেত্রে To be continued লিখতে হবে । কেননা অনেক সময় পরীক্ষকও  হয়তো উওরটি এখানেই শেষ ভেবে নাম্বার দিয়ে ফেলতে পারে কিন্তু পরে দেখলেন অপর পৃষ্ঠায়ও আছে। তাই এই কাজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণই।

 

প্রশ্নপত্রে নজরদারি

 

প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথেই পুরো প্রশ্নটি না পরে লিখা শুরু করে দেওয়া অনেক শিক্ষার্থীরই  বদভ্যাস। কিন্তু, সময় বেশি লাগলেও ধৈর্য সহকারে প্রশ্নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে এবং উত্তর উপস্থাপনের সময় প্রশ্নের সাথে প্রসাঙ্গিক উত্তর করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা, যত পৃষ্ঠা লিখা যাবে ততই নাম্বার। তাই উওর বড় করার জন্য এককথাই ইনিয়ে-বিনিয়ে বারবার লিখেন। তবে এই ধারণাটি একদমই ঠিক নয়। অবশ্যই প্রশ্নে কী চেয়েছে সেই অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক উওরটুকুই লিখতে হবে। আর ছেড়ে আসা যাবেনা কোনো উওরই। কারণ, পরীক্ষায় খালি খাতা জমা দিয়ে আসার চাইতে কিছু লিখে যদি নাম্বারের ঝুলিতে একও বাড়ে তাইবা খারাপ কি, বলুন? তাই পুরো প্রশ্ন পড়ে সময় অপচয় হবে এমনটা চিন্তা না করে ঠান্ডা মাথায় সব উত্তর করার চেষ্টা করুন।

 

“সময় বেশি লাগলেও ধৈর্য সহকারে কাজ করো, তাহলেই প্রতিষ্ঠা পাবে।” —ডব্লিউ এস ল্যান্ডের

 

সময়জ্ঞান

আপনি সব প্রশ্নের উত্তর জানেন, কিন্তু সেগুলো যদি পরিমিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারেন তাহলে সে জানার কোনো মূল্যই রইলো না। তাই বলা যায়, পরীক্ষার হলে সময়টাই সব। অথচ, অনেকেই পরীক্ষার প্রথমে সুন্দর করে ধীরে ধীরে লিখতে গিয়ে শেষে সময়ের অভাবে তাড়াহুড়ায় আর সবটা ভালো করে শেষ করতে পারে না। তখন অনেকেই বলেন, “ইশ! শেষের উওর যে কি লিখেছি আমি নিজেই জানিনা, আর একটু যদি সময় পেতাম!” তাই প্রথমেই এমন প্রশ্নের উওর করুন যেগুলো সম্পর্কে আপনি ভালো লিখতে পারবেন। কেননা, সহজ প্রশ্নগুলো ঝটপট দিয়ে কঠিন প্রশ্ন উওর করলে তাতে সময় ব্যালেন্স হয়ে সম্পূর্ণটুকু শেষ হয়ে যায় এবং ফলাফলও ভালো হয়। তাই প্রত্যেক প্রশ্নের জন্য সময় বণ্টন এবং সেই সময়ের মধ্যে শেষ করার তাড়না থাকা প্রয়োজন।

 

পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশা কে না করে! তাই শুধু পরিশ্রম করলেই হবেনা, সঠিক কৌশল অবলম্বনে পথ পেরুতে হবে সম্পূর্ণ আত্নবিশ্বাসে। তাই আত্নবিশ্বাস রাখুন নিজের প্রতি ‘আমিও পারবো’। তাছাড়া, ‘সব মনে থাকবে তো?’; ‘আমি কি পারবো?’ এমন নানান বিষণ্ণতায় যা পড়েছেন যদি তা খাতায় সঠিকভাবে উপস্থাপনা নাই করতে পারেন তাহলে আপনার সব পরিশ্রমই বৃথা। তাই মনে রাখবেন, “Alls well that ends well অর্থাৎ শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।”  

Continue Reading

Trending